Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ২৫]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

টিমটিমে লাইটের আলো জ্ব’লছে। নদীর ধারে একটা ছেলের লা’শ দেখতে পেয়ে চমকে উঠে জেলেরা। ভোর রাতের দিকেই তারা সর্বদা মাছ ধরতে আসে। আজকেও এসেছে সেই উদ্দেশ্যে।

জেলেরা অদূরে পড়ে থাকা লাশটার কাছে ছুটে গেল। তাঁদের মধ্যে একজন বয়স্ক জেলে আতংকিত কন্ঠে বলল।

“এইডা তো আলিফ রে ,নাজমার বড় পোলা।”

কথাটা শুনে উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত। তাকে খুন করলো কেন? ধরে টরে রাতবিরেতে পাশের গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নাজমা খাতুন সবে রান্না বসিয়েছেন। তার আদরের ছেলেটা খেতে আসবে। বড় ছেলেটা তো শহরে থাকে। কিন্তু আলিফ? সে দু দিন অন্তর অন্তর গ্রামে এসে নাজমার সাথে দেখা করে যায়।

এই ভোর রাতে ঘরের বাইরে লোকজনের আলোচনা শুনে বিচলিত হলেন নাজমা খাতুন। চামচ টা রেখে বাইরে এলেন। খাঁটিয়ায় শুয়ে আছে কেউ একজন ,সাদা কাফনে ডাকা। বেশ অবাক হলো নাজমা খাতুন। বুড়ো লোকটার উদ্দেশ্যে আওড়াল।

“কি গো সুন্দর মিয়া কি হইছে? এইডা কি?”

সুন্দর মিয়া চোখের পানি ছেড়ে কেঁদে ফেললেন , গলা খাঁকারি বলেন।

“নাজমা মা তোর পোলাডারে কেডা জান মা’ইরা লাইছে।”

ছেলেকে মেরে ফেলছে কথাটা বিশ্বাস করতে পারলেন না নাজমা খাতুন। ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হেসে বলে উঠেন।

“ঢঙ করবার জায়গা পাও না? এইসব ঢঙ নিজের কাছে রাইখা যাও তো এইহান থাইকা। আমার ওখনো রান্না হয়নাই। আলিফ আইলে তো খাইবো আবার।”

বুড়ো লোকটা নাজমার হাত ধরে টেনে খাঁটিয়ার সামনে বসালেন।

“দেখ মা একটা বার দেইখা লা।”

মুখের উপর থেকে কাপড়টা সরানো হলো ,নাজমা খাতুন দেখলেন শুকনো কাঁদায় মাখো মাখো মুখখানি। হাতটা বাড়িয়ে ছুঁয়ে ফেললেন কপালে।

“আব্বা? আব্বা উঠ? দেখ আম্মায় তোর লাইগা রান্না করতেছি। খাবি না বাজান? উঠ আব্বা? উঠ না। আম্মার কথা শুনবি না তুই?”

নিথর দেহ খানা ওভাবেই পড়ে রইলো। সাড়াশব্দ নেই। প্রিয় মায়ের বুকে হামলে পড়ে আবদার করলো না। জড়িয়ে ধরে বলল না “আম্মা তুমি কাছে থাকলে পেটের খিদা বোঝা যায় না।” সব কিছু কেমন নিস্তেজ হয়ে আছে। নাজমা খাতুন ছেলের মাথায় হাত বুলাতে লাগলেন।
ফিসফিসিয়ে বললো।

“আম্মারে কও বাজান তোমারে কেডায় মারছে? আমি জালিবেত লইয়া গিয়া মাইরা আসবো। কও না বাপ।”

সুন্দর মিয়া অঝোরে কেঁদে ফেললেন। নাজমা খাতুন গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে।তার সাত রাজার ধন আজকে আর নাই ,যারে কোলে পিঠে করে বড় করেছে সে আর আম্মা বলে ডাকছে না তাকে। দেহ খানা পড়ে আছে অথচ প্রাণ নেই।

“আমার পোলাডারে কেডা মারলো রে , আল্লাহ রে আমার আদরের সোনার টুকরা টারে কেডা শেষ করলো? আইনা দে আমার সাত রাজার ধন রে আইনা দে রে তোরা।”

মায়ের আহাজারি পুরো গ্রাম শুনলো। অথচ তার ক্ষত সারবার নয় । যতই প্রলেপ লাগানো হোক এ ক্ষ’ত যে সারবার নয়।

🌿____________🌿

🌿থাইল্যান্ড…..

কটেজ থেকে কিছুটা দূরে কোহ চ্যাং এর ঘন জঙ্গলের আঁধারে পথ চলতে চলতে হঠাৎ করেই চোখে পড়ে এক অদ্ভুত জিনিস। গাছের ফাঁক গলে ঢুকতে থাকে লতাপাতা, আকাশ ঢেকে দিয়েছে সবুজ ছাতার মতো। ঠিক সেই নির্জনতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙাচোরা এক কাঠের রিসর্ট। একটা সময় পর্যটকদের ভিড়ে সিঁড়িগুলো ধ্বনিত হতো পায়ের শব্দে। কিন্তু এখন সবকিছু সময়ের কাছে হেরে গিয়ে যেনো মৃত্যু পুরিতে বন্দী। কাঠের বারান্দা পচে নুইয়ে পড়েছে, ভাঙা জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকে ভিতরে অন্ধকারকে নাড়া দেয়। মেঝেতে পড়ে আছে শুকনো পাতার স্তূপ, ফাঁক দিয়ে মাঝে মাঝে সাপ , টিকটিকি ছুটে যায়। বাড়িটার ভেতরটা ঠিক যেন এক দমবন্ধ কারাগার। স্যাঁতসেঁতে গন্ধে ভরপুর, পুরোনো আসবাবপত্র অর্ধেক ভাঙা, আর দেয়ালে লতাগুল্ম গায়ে পেঁচিয়ে রেখেছে অদ্ভুত এক ছায়া। রাত হলে এখানকার নীরবতা আরও ঘন হয়ে ওঠে শোনা যায় শুধু দূরের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর অচেনা রাতচর পাখির আওয়াজ।

কাঠের রিসর্টের ভেতরটা অন্ধকার আর স্যাঁতসেঁতে। ভাঙা জানালা দিয়ে আসা হালকা চাঁদের আলোয় কেবল ধূসর ছায়া নড়ে ওঠে। সেই ছায়ার ভেতর মাঝখানে পড়ে আছে এক কাঠের চেয়ার চেয়ারের সাথে হাত পা শক্ত করে বাঁধা এক লোক। মুখে ধুলোমাখা, চোখ দুটো শুকনো আ’তঙ্কে টলমল করছে।

আফরিদ এহসানের হাতে বাঁচার কোনো দয়া নেই। লোকটা একসময় তার স্ত্রীর দিকে কুকথা ছুঁড়ে দিয়েছিল তাকে কিনা মা”””” বলেছিল? অ’,শ্লীলভাবে ছুঁতে গিয়েছিল। চড় কষিয়েছিল অবলীলায়। আজ তাই এই দমবন্ধ ঘরে সে বন্দি। আফরিদের চোখে তীব্র প্রতিশোধের আগুন যেন শিকারীর হাতে ধরা পড়া জন্তু শেয়ালকে উপ’হাস করছে।

পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ঈশান। ভাঙা টেবিলের উপর লোহার কোনো বস্তু আগুনে গরম করছে সে। আগুনের লেলিহান শিখায় মাঝে মাঝে তার মুখের অর্ধেকটা লালচে আলোয় জ্বলে ওঠে। ভেতরে ভেসে আসছে কাঠ পোড়ার গন্ধ, বাতাসের সাথে মিশে গেছে শিরশিরে অস্বস্তি।

হঠাৎ আগুনের ঝলক থেকে এক ঝাপটা উড়ে এসে লাগে বাঁধা লোকটার মুখে। জ্বলন্ত উত্তাপে আঁতকে উঠে সে হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে গলায় যেন হাড়ভাঙা আর্তনাদ। নিস্তব্ধ রিসর্ট কেঁপে ওঠে সেই শব্দে।

হুঙ্কার ছাড়ে আফরিদ এহসান।
“কুত্তার বাচ্চা জানোয়ারের বাচ্চা বেজন্মা কোথাকার। আমার বউরে তুই কি বলছিস? মা””” তোর এত সাহস? এত বড় কলিজা? আজকে সেই কলিজাটা আমি দেখব। ঠিক কতখানি বড় সেটা আমি দেখবো। ঈশান ক্লিভার ,কাটানা দুটোই দে।”

ক্লিভার আর কাটানার ঝলক চোখে পড়তেই লোকটা আঁতকে উঠল। বাঁধা অবস্থায় দম বন্ধ হয়ে আসা গলায় ভয়ার্ত আর্তনাদ ভেসে উঠল।

“আমাকে মাফ করে দেন দয়া করেন।”

কিন্তু আফরিদ থামেনি। চোখে যেন শয়তানি। তেজি কণ্ঠে গর্জে উঠল‌

“আজ তোর কলিজা বের করব!”

এরপর শুরু হলো দুঃস্বপ্নের মতো দৃশ্য। ধারালো ধাতবের কষা’ঘাতে দেহ একে একে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে লাগল। টুকরো টুকরো মাংস ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। কাটা অঙ্গের টানাপোড়েনে লোকটা গলা কাটা মুরগির মতো ছটফট করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস ছেড়ে দিল।

কিন্তু এখানেই শেষ নয় পুরুষ থামল না। র’,ক্তে ভেজা আঙুল দিয়ে বীভৎস তৃপ্তিতে টেনে বের করল কলিজা। হঠাৎ চাপড়ে বের হওয়া রক্ত ছিটকে গিয়ে পড়ল পাশে দাঁড়ানো ঈশানের গায়ে।

ঈশানের বুক কেঁপে উঠল, শিরা-উপশিরা ঠাণ্ডা হয়ে এলো। কারণ সে জানে শুধুমাত্র তার চোখেই ধরা পড়ছে আফরিদের সেই আরেক রূপ। যে রূপে নেই প্রেম, নেই দুষ্টুমি, নেই হাস্যরস আছে শুধু হিং’স্রতা, আছে ক’সাইখানার শীতল নির্মমতা।

ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা তার কাছে পুরুষ কেবলই এক প্রেমিক, বখাটে, অশ্লীল দুষ্টু মানুষ। অথচ ঈশান আজ প্রত্যক্ষ করছে তার ভেতরের রা’ক্ষস, সেই ভয়ংকর চেহারা যা দুনিয়ার কাছে অজানা।

“এইটারে জায়গা মতো সেট কর। আর হ্যাঁ ওর মাথাটা সুন্দর করে সাজা , আমি আমার বউকে গিফট করব।”

হতবম্ব ঈশান , কোন ব্যাডা নিজের বউ কে কাঁটা মাথা গিফট করে?

“বস ,ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড একটা প্রশ্ন করি?”

“কর।”

“আচ্ছা বস মাথা আবার কে গিফট করে?”

“আমি আফরিদ এহসান।”

ঈশান চিন্তায় পড়ে গেল ,এই মাথাটা থাকবে কই ভাবিজান?

🌿_____🌿

সবুজে ঢাকা থাইল্যান্ডের নির্জন উপসাগরের কোলে দাঁড়িয়ে আছে কটেজটি।
খেজুরপাতার ছাউনি দিয়ে বানানো ছাদের নিচে সোনালি কাঠের খোদাই করা দেয়াল দূর থেকে দেখলেই মনে হয় যেন কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা অপূর্ব সৌন্দর্য।
সিল্কের পর্দা হালকা বাতাসে নাচে, মেঝেতে ছড়িয়ে আছে মেহগনির কাঠের মসৃণ উজ্জ্বলতা। খাটের চারপাশে মশারি নয়, বরং ঝালরের মতো সূক্ষ্ম নকশা করা কাপড় ঝুলে আছে।

কটেজের পেছনেই রয়েছে ব্যক্তিগত সুইমিং পুল। নীল জলের আভা রাতের আকাশে তারার মতো ঝলমল করে। আর দূরে দিগন্তে যখন সূর্য অস্ত যায়, কটেজের প্রতিটি জানালায় আগুনরঙা আলো প্রতিফলিত হয়ে এক অন্যরকম অনুভুতি।
ঘুমন্ত মুখখানি কতটা স্নিগ্ধ লাগছে ।বউ যদি হয় এমন গরম গরম তাহলে মনটা তো উসখুস করবেই!
আফরিদের হয়েছে এক দশা। না পারছে বউকে কাছে টানতে ,না পারছে দূরে ঠেলতে। এই যে বউকে কাছে টানলেই যদি ব্যাথা পায়? কিন্তু কাছে না টানলে যে তার গলুমলু গুলো আসতে লেইট করে ফেলবে! না না সেসব করা যাবে না। এত কিছু ভেবে একটুখানি বউয়ের কাছাকাছি গেছিল কিন্তু খবিশ বিলাইয়ের ঘরের বিলাই কিনা তার পিঠে কামড় বসালো?
ছে শা’লার জিন্দেগি ,সব কিছু আবা’লের ঘরের বা’ল। কাইট্যান কে কোন দুঃখে সে নিয়ে এসেছিল?
এখন আফসোস করতে করতে জীবনটা তার শেষ হয়ে যাচ্ছে।

কাল রাতে ন্যান্সি কে স্পর্শ করার অপরাধে কাইট্যান পিঠে কা’মড়ে দিয়েছে । আফরিদের এক মূহুর্তের জন্য মনে হয়েছে বিড়াল টাকে তুলে একটা আছাড় দিতে। কিন্তু সেটাও করতে পারলো না। করবে কি করে তার বউয়ের ঘরের বউ করতেই দেয়নি।

সুইমিং পুলে সাঁতার কা’টতে ব্যস্ত আফরিদ। এই দিক থেকে ওইদিকে সাঁতার কে’টে চলেছে।

ম্যাও ম্যাও ডাক শুনতেই চকিতে ঘুরে তাকালো আফরিদ। কোলে করে কাইট্যান কে নিয়ে সুইমিং পুলের দিকে আসছে ন্যান্সি।

পরণে সেট ঢিলাঢালা টপস আর প্যান্ট। কোলে সাদা বিড়াল কি মায়াবী লাগছে তাকে। সুইমিং পুলে ভেজা আফরিদ কে দেখে কিঞ্চিৎ ভড়কালো। সে তো ভেবেছিল আফরিদ কটেজে নেই তাই তো এদিকটায় এসেছিল।

“হেই জানকি বাচ্চা আয় সুইমিং করি একসাথে।”

লজ্জায় সেঁটে গেল ন্যান্সি। আমতা আমতা করে বলল।

“আমার এত রং লাগেনি যে সকাল সকাল সুইমিং করতে যাবো।”

অধর বাঁকিয়ে হাসলো আফরিদ।

“আসো তোমাকে কারেন্ট সাপ্লাই দেই তারপর দু’জনে একসাথে সুইমিং করব। এবং কি পানিতে আগুন লাগিয়ে দেব।”

আফরিদের কথায় নাক ছিটকায় ন্যান্সি। লাউঞ্জার গিয়ে পা তুলে বসলো। আফরিদ আবারো এপাশ থেকে ওপাশে সাঁতার কে’টে যাচ্ছে। ন্যান্সি গভীর দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে। মুগ্ধ হয় আফরিদ কে দেখলে , অত্যন্ত সুদর্শন পুরুষ। বুকের ঠিক মাঝখানে ওই যে গোল মতোন ট্যাটু টা? একদম সূর্যের মতো। সে শার্টের বোতাম যদি খুলে রাখে তাহলে ট্যাটু টা স্পষ্ট দেখা যায়!

ন্যান্সি কইট্যানের শরীরে হাত বুলাতে লাগলো। আলগোছে ঝুঁকে চুমু খেলো তার মাথায়।
কর্কশ গলায় ভেসে এলো।

“তোর কারণে এই বিলাই আমারে কামড় দিছে আর তুই কিনা ওরে চুমু দিলি? ছিহ্ নি’র্লজ্জ কোথাকার।”

একপেশে হেসে ফেলল ন্যান্সি।
“আমি আপনাকে শায়েস্তা না করতে পারলেও আপনার বাবু ঠিকই শায়েস্তা করেছে। বিড়াল বউ ছেড়ে পর নারী কে স্পর্শ করেছে তাই আপনার বিড়াল বাচ্চা ক্ষেপে গেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা আপনার বাবু একদম আপনার মতো হয়েছে চোখ গুলোও সেইম সেইম তার মানে বুঝতে পারছেন জিনগত বৈশিষ্ট্যগুলো একদম খাপে খাপে মিলছে।”

গর্জে ওঠে আফরিদ , বিরক্তিকর কন্ঠে বলল ‌।

“আমি কোন দুঃখে এটাকে জন্ম দিতে যাবো বল? তোর কি মনে হয় আমার ইয়েএ এতই সস্তা? যে শেষমেশ বিড়ালকে ডোনেট করতে যাবো?”

শব্দ করে হেসে উঠলো।
“আমি যদি পারতাম তাহলে একদিন আপনার ঠোঁটে টেপ লাগিয়ে দিতাম।”

ঘাড় বাঁকালো আফরিদ এহসান , সুইমিং পুল থেকে উঠে এলো , বাথরোব নিয়ে জড়ালো।

ধীরে ধীরে এগুলো ন্যান্সির দিকে , এতটাই কাছে এলো কিঞ্চিৎ ঘাবড়ে গেল ন্যান্সি। গোল গোল চোখ করে তাকালো আফরিদের মুখপানে। আফরিদ কে নিজের দিকে ঝুঁকতে দেখে পিঠ বাঁকিয়ে পিছনে সরতে লাগলো। লম্বা সিল্কি চুল গুলোর ভাঁজে হাত গলিয়ে টেনে ধরে আফরিদ।
তার কোঁকড়ানো ঢেউ খেলানো চুল গুলো থেকে টুপটুপ করে পানি ঝরতে লাগল ন্যান্সির স্নিগ্ধ মুখে।

“শুন মাতা’রি তুই যদি চান তাহলে অবশ্যই আমি আমার এ টু জেড ,ডিএনএ থেকে শুরু করে স্পেশাল অনেক কিছুই তোকে ডোনেট করতে পারি।‌ আমি আবার তোর বেলায় দানশীল ব্যক্তি।”

চিকন নাকের ডগা একটুখানি ফুলে উঠে ন্যান্সির।
“আপনার শরীরের পঁচা ডিএনএ থেকে শুরু করে স্পেশাল সবকিছু কুত্তা কে গিফট করুন।”

“কোন দুঃখে?”

“দুঃখে না বলুন সুখে।”

আফরিদ ভেজা মুখটা ন্যান্সির গালে ঘষে। শিরশির করে উঠল মেয়েটার তনু মন। ভেজা ভেজা গালে গাল স্পর্শ হতেই কেমন অনুভূতি হচ্ছে তার। আফরিদ ভুবন ভোলানো হাসি টেনে আওড়াল।
“এত আদর আদর কেন বে তুই?”

সরু চোখ করে তাকালো ন্যান্সি। আদর আদর?
“বিড়াল বাচ্চা জন্ম দিছেন এখন একটা কুত্তার বাচ্চা জন্ম দিন , দুটোকে পেলে পুষে বড় করলে আমার পূর্ণ হবে।”

শান্ত মেজাজ টা অশান্ত হয়ে গেল আফরিদের।
“থাপ্পড় দিতে দিতে যে ত্রিশ টা দাঁত উঠেছে সব গুলো ফেলে দিব শা’লী মা’তারি কোথাকার।”

আফরিদ কে রেগে যেতে দেখে ভীষণ মজা পেলো ন্যান্সি ,হো হো করে হেসে উঠলো। কাইট্যান কে তুলে আফরিদের গালে ছুঁয়ে দেয়। নাক ছিটকে দূরে সরে এলো আফরিদ ।

“চুমু খান একটা।”

“ওরে মা’ঙ্গের নাতি ওরে না দিয়ে তুই নিজেই চুমু দিতে পারতি। তোর চুমু আমি অনায়াসে গ্রহণ করতাম।”

ন্যান্সি আশ্চর্য হলো,কি দুষ্টু এই লোক তাকে পঁচাতে এক চুলও ছাড় দেয় না। আফরিদ ন্যান্সি কে আরেক দফা অবাক করে দিয়ে ভেজা চুল গুলো হাত দিয়ে ঝেরে দিতেই সবটুকু পানি গিয়ে তার চোখে মুখে পড়লো। পিটপিট করে তাকাচ্ছে মেয়েটা।

“আপনি এরকম কেন? লাগছেন কেন আমার সাথে?”

আফরিদ মুচকি হাসলো , চমৎকার সেই হাসি।যেকেউ মোহিত হবে সেই হাসিতে। মন মেজাজ দুটোই তার ফুরফুরে হয়ে আছে। খানিকটা ঝুঁকে ন্যান্সির মুখ পানে ফিসফিসিয়ে বললো।

“গিভ মি অ্যা নাইট, লেটস মেক ইট ডিপ।”

অধরষ্টো ফাঁক হয়ে এলো ন্যান্সির ,সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরে এলো সে। আফরিদ হো হো শব্দে হেসে উঠলো।

চলবে…………।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply