Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩


কিস অফ বিট্রেয়াল

পর্ব_০৩

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
মেহেরীণের ছোট ভাই আলতাফ মাহমুদ এসেছিলেন কক্সবাজার কিছু কাজে। যেহেতু তিনি আজ রাত কাজের জন্য এখানে থাকবেন তাই তিনি মেহেরীণ, কায়ান শহ বাকিদের সাথে দেখা করতে তাদের হোটেলে আসে।
কায়ান মিটিং শেষ করে রেস্টুরেন্টের বাহিরে আসার পর মেহেরীণের কল আসে।
মাহমুদের কথা শুনে কায়ান বেশি একটা খুশি নয়। তবে সেটা কায়ান মেহেরীণকে বুঝতে দেয়না৷

“সেরিনকে বিরক্ত করো না৷”

“আজব সেরিনকে কেন বিরক্ত করব কায়ান? আমরা আমাদের রুমে আছি৷”

” ওকে দ্যাট’স গুড। আমি আসছি৷”

“ওকে।”

মেহেরীণ কল কেটে দেয়। কায়ান বিরক্তি নিয়ে সোজা হেটে পার্কিং এড়িয়াতে চলে আসে।
তার ব্লাক মার্সিডিজ টা সেখানেই দাঁড় করানো। কায়ান পকেট থেকে চাবি বের করে গাড়িতে উঠে বসে।

রাস্তাটা নীরব। শহরের মত কোন কোলাহল নেই এই রাস্তায়, আছে শুধু শান্তি আর নীরবে বয়ে চলা বাতাসের সাথে নিস্তব্ধ প্রহর।
গাড়ি গুলোতে কোন হর্ণ নেই তেমন।
এমন একটা শান্ত পরিবেশ প্রতিটা কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য সর্গের মত। কোলাহল থেকে দুরে তাইত মানুষ একটু শান্তি খুজতে এসব জায়গায় আসে।
কায়ানেরও ইচ্ছে আছে এই রাস্তায় সে লং ড্রাইভে যাবে তবে পাশে থাকবে তার সব থেকে প্রিয় মানুষটা। অবশ্যই যাকে সে ভালোবাসে।
কায়ান বাঁকা হাসে। স্টেয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে বিরবির করে,

“তুমি যদি আমাকে বাধ্য না করো তোমাকে বন্দি বানাতে তবে অবশ্যই এমন একটা ড্রাইভে তোমাকে আমি নিয়ে আসব৷
কিন্তু তোমাকে অবশ্যই আমার বাধ্য হতে হবে।”


ডিনার শেষ করে শিমুল এবং জেবরান কায়ান এবং মেহেরীণের রুমে এসেছে৷
মাহমুদ তখন ভাগনে দু’টোকে নিয়ে খেলছে।
মামার ভীষণ পছন্দের জারিফ এবং জিনু।
জেবরান এবং শিমুলকে দেখে মাহমুদ হেসে দিলেন,

“আরে জেবরান আর মিসেস জেবরান যে। বিয়ের পর এটা আমাদের দ্বিতীয় বার দেখা তাই না?”

“জি ভাইয়া৷”

“বসো বসো। কেমন আছো তোমরা? “

“আলহামদুলিল্লাহ আপনি?”

“এই আছি।
মামারা তোমরা যাও ওদিকে চকলেট আছে৷”

“ওকে মামা৷”

দু ভাই দৌড়ে চলে যায়৷
মেহেরীণ তা দেখে ভাইয়ের পাশে বসতে বসতে বলে,

“তুই ওদের অভ্যাস খারাপ করবি কিন্তু ভাই।”

“আরে আপু। মামাত আমি একটাই ওদের৷ ওদের আবদার আমি রাখব নাত কে রাখবে।
কি শিমুল তুমিই বলো?”

শিমুল মৃদু হেসে উত্তর দেয়,

“জি ঠিক বলেছেন।”

“তারপর বলো, জেবরান কি করছো আজকাল?”

“আমিত প্রাইভেট ব্যাংকে আছি। কিছুদিন পর কায়ান ভাইয়ার বিজনেসে জোগ হবো। ইনভেস্ট করে। এমনিতেও ভাইয়া একা একা সব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।”

কথাটা শোনা মাত্র মাহমুদের মুখের হাসিটা উড়ে গেল। সে প্রকাশ না করতে চাইলেও কেন জানিনা প্রকাশ হয়ে যাচ্ছিল এই বিষয়টা নিয়ে সে যে খুশি নয়৷ মাহমুদ আড় চোখে মেহেরীণের দিকে চায়৷
মেহেরীণ পরিস্থিতি বুঝে মুখে মিথ্যা হাসির রেখা টেনে জেবরানকে জিজ্ঞেস করে,

“কই জেবরান তুমিত ভাবিকে সব বলো। প্লান প্লট সবত তোমার জন্য ভাবিই সেট করে। তাহলে এ বিষয়ে কেন কিছু বলো নি যে। ভুলে গেছিলে?”

“না না ভাবি বিষয়টা তেমন না। আম্মাও চাইছিলেন ভাইয়ার সাথে বিজনেস করি আমি। আমি জাস্ট ভেবেছি। ইনশাআল্লাহ বাকিটা দেখা যাক।”

মাহমুদ কিছু বলবে তার আগেই দরজা ঠেলে কায়ান প্রবেশ করে ভেতরে।
কায়ানকে দেখে মাহমুদ উঠে দাঁড়ায় বসা থেকে,

“আরে কায়ান, আমার ভাই । কেমন আছো?”

মাহমুদ, কায়ানের সাথে কোলাকুলি করে।
কায়ান না চাইতেও হেসে জাবাব দেয়,

“জি ভাইয়া আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?’

” আমিও ভালোই আলহামদুলিল্লাহ। তবে যতক্ষণ তুমি ভাই আমার আপুর সাথে ভালো আছো ততক্ষণ আমিও ভালো।’

কায়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায়। মেহেরীণ, ভাইকে ইসারা করছে বার বার।

“কি বিষয়ে কি বলতে চাইছেন ভাইয়া?”

“তেমন কিছু না। আমার বোনের জায়গা দখল করতে কেউ আসলে তাকে আমি পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দিতে পারি। তাই আমার বোন যতোদিন ভালো আছে তত দিন আমিও ভালো।
কি তাইনা শিমুল।’

শিমুল এত ঘোর প্যাচ বোঝা মেয়ে না৷ ওদিকে মাহমুদের কথা বার্তা শুনে কায়ানের প্রচন্ড রাগ উঠেছে। কিন্তু নিজের ক্রোধ কে নিজের ভেতর দমিয়ে রেখেছে সে। কপালের সিরা গুলো ফুলে উঠছে তার।
মেহেরীণ পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উঠে মাহমুদের পাশে এসে দাঁড়ায়।

” আরে ভাই এমন বলছিস কেন? তোর দুলাভাই হয় ভুলে জাস৷”

মাহমুদ হেঁসে, কায়ানের কাঁধে হাত রাখে,

“এই জন্যইত ইয়ারকিটাও বেশি বেশি করি।”

কায়ান ইচ্ছে না থাকা স্বত্তেও জোরপূর্বক হাসে।


মেহেরীণদের রুম থেকে বের হয়ে আসার পর থেকে শিমুল কিছু নিয়ে ভেবেই চলেছে ভেবেই চলেছে। এ বিষয়টা খেয়াল করে জেবরান, শিমুল জিজ্ঞেস করল,

“শিমু কি হয়েছে?”

“কি হবে?”

“তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি কিছু ভাবছো।”

“ও হ্যা। ভাবছিত আমি৷ আচ্ছা জেবরান, মাহমুদ ভাইয়া মেহেরীণ আপুর ছোট হলে কায়ান ভাইয়ার বড় কিভাবে?”

“এটাত সিম্পল, মেহেরীণ ভাবির বয়স ৩৯, কায়ান ভাইয়ার ৩২ আর মাহমুদ ভাইয়ার ৩৮।”

শিমুলের চক্ষু চড়কগাছ। সে কি শুনল দু কানে নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

“কি বলো, তোমার ভাবি তোমার ভাইয়ের থেকে ৭ বছরের বড়?”

“হ্যাঁ তুমি জানতে না? “

“না। ওনাকে দেখে কত ইয়াং লাগে এখনো। “

“ভাবি ডক্টর না। এই জন্য বয়স বোঝা যায় না৷”

“ওনাদের বিয়ের বয়স কত?”

“৬ বছর।”

“বাচ্চা দু’টোর বয়সও ৬ বছর৷ কিভাবে সম্ভব? “

“আরে সম্ভব এত প্রেসার কেন নিচ্ছো।”

শিমুল চুপ হয়ে যায়। তবে এ সত্যি তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে রেখেছে।
মেহেরীণ একজন সেলফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওমান। এবং সে একজন ডক্টর। সব কিছুই জানত শিমুল। কিন্তু মেহেরীণ, কায়ানের থেকে বয়সে এত বড়। এটাত জীবনে আন্দাজই করতে পারেনি সে।


রাতের প্রহর গুলো কেটেছে কোন এক ভাবে।
এখন মধ্যেরাত। সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসা বাতাসে জানালার পর্দা গুলো উড়ছে।
রাত নিস্তব্ধ ঠিক পরিবেশের মতই। রাতের সময়টা বেশ নীরবেই বয়ে চলে। মানুষ বিহীন পৃথিবীকে উপভোগ্য করতে হলে রাতের প্রহর গুলোকেই কাজে লাগাতে হবে। উপকূলীয় এলাকায় ঠান্ডাটা একটু বেশিই পড়ে। এখানেও বেতিক্রম নয়।

হাতের সিগারেট খানা প্রায় শেষের পথে।
কায়ানের বিজনেস মিটিং এর জন্য প্রায় প্রায় হাজার আসা হয়। আর সে কক্সবাজার এলেই এই রুমটা বুক করে নিজের জন্য। এখান থেকে সৌন্দর্য এবং সময় দুই সুন্দর ভাবে উপভোগ করা যায়।
আর নিজের বাড়ি থেকে আলাদা এসে কায়ান সব সময় শান্তির খোজেই থাকে।
কায়ান কিছু একটা নিয়ে খুবই ডিসটার্ব। তাইত এত লেট নাইট পর্যন্ত স্মোক করছে।
কায়ানের ঠিক পেছনে বেডের উপর ঘুমিয়ে আছে সেরিন৷
সেরিন সাউন্ডলেসলি ঘুমায়। তার উপরে সে গভীর ঘুম দেয়। ঘুমের মাঝে কি ঘটে গেল এর খোঁজ সে রাখেনা। সেরিনের পাশে কেউ ঘুমালে সে ডিসটার্ব হবেনা এটা কায়ান সিওর৷

হটাৎ করেই তীব্র গরম অনুভব হচ্ছে সেরিনের। ঘেমে গিয়েছে তার পুরো শরীর। জ্বরটা বোধহয় পরে গিয়েছে। সেরিন শরীরের উপরে থাকা কম্ফোর্ট টা শহ নিজের ওড়না খুলে পাশে রাখে। তার জামাটা ঘামে ভিজে লেপ্টে আছে শরীরের সাথে।
মাথাটা আপাততঃ একটু সাভাবিক ঠেকছে।
সেরিন বেডের দু পাশে বালিশ দেখে বুঝতে পারে শিমুল হয়ত বালিশ রেখে গিয়েছে।
সেরিনের গাল শুঁকিয়ে এসেছে। প্রচন্ড তৃষ্ণা পেয়েছে তার৷ সেরিন এদিক ওদিক পানির খোঁজ করতেই যাবে এমন সময় কেউ গ্লাস ভর্তি পানি তার সামনে ধরে।
সেরিন মাথা না উঠিয়ে সেটা নিয়ে পুরোটা পান করে।
তৃষ্ণা মিটলে শান্তি লাগল তার।

“সেরিন ড্রেস বদলে নেও। এটা ভিজে গিয়েছে।”

হটাৎ করেই কায়ানের কন্ঠ শুনে সেরিন ভয়ে বিছনার কোণায় সরে যায়৷ অপর দিকে কায়ানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে অবাক হয়ে তাকায়।

“আ আপনি এখানে কি করছেন?”

“পাহারা দিচ্ছি৷”.

” কেন পাহারা দিচ্ছেন আপু কোথায়?”

“এসব ড্রামা পরে করিও। দ্রুত গিয়ে ড্রেস করে এসো।”

“না না আপনি চলে জান। আমি একা থাকতে পারব আমার কাউকে প্রয়োজন নেই।”

কায়ান ক্রোধে চোখ জোরা বুঁজে নেয়। এমনিতেও তার মাথাটা খরাপ হয়ে আছে। মাহমুদ পারলে তার ব্রেণ টাকে চিবিয়ে খায়। আর এখন এই মেয়ে নাটক শুরু করেছে।

“ফর গট সেক সেরিন। আমি যা বলছি তাই করো। ড্রেস বদলে এসে শুয়ে পড়ো। নাকি চাইছো শুভ কাজটা আমি করি।
আমাকে যদি আর দ্বিতীয় বার নিজেকে রিপিট করতে হয়না। তাহলে এবার থাপ্পড় মেরে বোঝাব কি করতে হবে তোমাকে।”

সেরিন ভয় পেয়ে যায়। আসলেইত লোকটা তাকে ভয়ঙ্কর থ্রেট দিচ্ছে। যা সে করতেই পারে। এই মুহুর্তে কায়ান যা বলতে এটা শোনাই শ্রেয়।
সেরিন উঠে ওয়াসরুমে চলে যায়।
কায়ান বিরক্তির শ্বাস ফেলে।

কিছুক্ষণ পর সেরিন ড্রেস বদলে চলে আসে।
কায়ান তখনো বসে আছে বেডের কোণায়।
সেরিন ধিরে সোফার দিকে এগোতে নিলে কায়ান হাত ধরে সেরিনকে বেডে পুস করে।
সেরিন গিয়ে বেডের মাঝে পড়ে,

“ক কি করছেন?”

“চুপচাপ ঘুমা। আমাকে জ্বালাস না। তুই জানিসও না আমাকে জ্বালালে আমি তুই শহ সব কিছু ভস্ম করে দেব।”

সেরিন নিজের কম্ফোর্ট টেনে নেয় মাথা পর্যন্ত। ভয়ও করছে আবার বিরক্তও লাগছে।

কায়ান কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেরিনের দিকে।
কিছুক্ষণ পর সেরিন কোন হালচাল না অনুভব করে মাথাটা বের করে কম্ফোটের নিচ থেকে।
কায়ানের চোখে চোখ পড়তে সেরিন পুনরায় কম্ফোর্ট টেনে নেয়৷

“আপনি জান না। সমস্যা কি আপনার?”

কোন জবাব এলোনা৷
সেরিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কম্ফোর্ট খানা উধাও হয়ে গেল।
সেরিন সোজা হয়ে সিলিং এর দিকে গোলগোল চোখ করে তাকিয়ে থাকে৷

“উঠো।”

সেরিন উঠে বসে।

“চলো আমরা হাঁটতে যাই৷”

“কেন?”

কায়ান, শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
সেরিন, এদিক ওদিক তাকায়৷

“আমি রুমেই ঠিক আছি৷”

“বের হ দুই মিনিটে। আমি বলেছি তুই বাহিরে যাবি মানে যাবিই৷”

কায়ান কথা গুলো বলে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল।
সেরিন তাকিয়ে আছে ফ্যাল ফ্যাল করে।
সেরিন মাথায় হাত দিয়ে কিছুক্ষণ ভাবে। এরপর পাশ থেকে শীতের চাদর জড়িয়ে বেরিয়ে আসে।
কায়ান, সেরিনকে দেখে হাতের সিগারেট টা ফেলে দেয় ডাস্টবিনে।
কায়ান, এক হাতে সেরিনের হাতটা শক্ত করে ধরে।
কায়ান সোজা হাঁটা শুরু করে।
কিছুক্ষণের ব্যবধানে ওরা সমুদ্র পাড়ে চলে আসে।
কায়ান, ঠিকঠাক করে সেরিনের মাথায় কাপড় উঠিয়ে দেয়।
সেরিন গভীর রাতের সমুদ্র সুন্দরী কে দেখে নিজের ভেতরের সব রাগ অভিযোগ ভুলে গেছে।
সেরিনের দৃষ্টি সমুদ্রের দিকে স্থির৷
আর কায়ানের দৃষ্টি সেরিনের দিকে।

“ওয়াউ, রাতের সমুদ্র এত সুন্দর।”

সেরিন হেঁটে যায় আরও কাছে।
সমুদ্রের ডেউ আছড়ে পড়ছে কিনরায়।
কায়ান, পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে৷
তার পাখিটাকে চারিদিকে ডানা ঝাপটে উড়তে দেখছে।
সেরিন মহা খুশি। সে ভুলেই গেছে তার শরীর খারাপ ছিল। আসলে সেরিনের এখন বেশ ভালোই লাগছে।
চাঁদের মিটিমিটি আলো সমুদ্রের বুকে এসে পড়ায় পানি চিকচিক করে ওঠে।
মিটমিট তারা গুলো অপরূপ সৌন্দর্য্য ছাড়াচ্ছে।
কায়ান, হাসে মনে মনে ভাবে।

“চোখে চোখে রেখেও প্রেম হয় । প্রেমকে আগলে রাখাটা সবথেকে বড় ভালোবাসার প্রকাশ৷”

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply