Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৩


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ১৩]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

খট খট খট করে কিছু একটা শব্দ হচ্ছে। শব্দটা এতটাই প্রকট ছিলো ঘুমন্ত ন্যান্সি জেগে উঠেছে। কি আছে বাইরে? কীসের শব্দ হচ্ছে? ধড়ফড়িয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ন্যান্সি। মনে হচ্ছে খুব কাছেই কিছু একটা কাঁ’টা হচ্ছে? এই রাতবিরেতে কি কাঁ’টা হচ্ছে? ভেতরের উত্তেজনা সামলাতে পারছে না ন্যান্সি। ওড়না জড়িয়ে দরজাটা খুলে বাইরে পা রাখলো। পুরো বাড়ি অন্ধকারে ডু’বে আছে। পা টিপে টিপে শব্দ অনুসরণ করে করিডোর পার করে সামনের দিকে এগুতে লাগলো।‌ প্রথম রুমটা আফরিদ এহসানের। ওদিক থেকেই তো শব্দটা আসছে? ওদিকে আর কোনো রুম নেই ,বড় একটা বেলকনি রয়েছে তার ঠিক মাঝখানে ইয়া বড় অ্যাকুরিয়াম রাখা।

“কে আপনি?”

ঘুরে দাঁড়ালো লোকটা ,নীলাভ মনি জোড়া চিনতে ভুল হয়নি ন্যান্সির। আফরিদ এহসান।

“আপনি এত রাতে এখানে?”

মাথার কোঁকড়ানো ঢেউ খেলানো চুলে আঙ্গুল বুলায় আফরিদ।
“কাম।”

ন্যান্সি গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল। এত রাতে আফরিদ কে দেখে বেশ অবাক লাগছে তার।

“আপনি বললেন না এত রাতে কি করছেন এখানে?”

“মাই পিরানহা ফিশ আর হাংরি।”

হাত থেকে মাং’সের বড় থালাটা তুলে রাখলো আফরিদ।র’ক্তে রাঙানো মুখশ্রী, হৃদপিন্ড ধুকপুক করছে ন্যান্সির। পিঠের শিরদাঁড়া রেখা অনুযায়ী ঘাম গড়িয়ে গেল।
কালো প্যান্ট এবং নেভি ব্লু টিশার্ট পরা আফরিদ। শরীরের বেশিরভাগ অংশই র’ক্ত লেগে আছে। ন্যান্সি পিছুতে লাগল।দু কদম পিছিয়ে গিয়ে থাই গ্লাসের সাথে ধাক্কা খেল।আফরিদ তাকিয়ে আছে।
লম্বা চুল গুলো টান দিয়ে খুলে দিল বলিষ্ঠ হাতের পুরুষটি। অকস্মাৎ এহেন কান্ডে দৃষ্টি মেলে তাকালো ন্যান্সি। যেই না সে মুখ তুলে তাকায় ঠিক পর মূহুর্তে খিঁচিয়ে বুঁজে এলো আঁখিদয়। ঠোঁটের ভাঁজে আরো একটি অধর যুগলের প্রবেশ করা অনুভব করলো সে।থমকে গেল কিয়ৎক্ষণের জন্য। নিঃশ্বাস আটকে এলো তার,কী হচ্ছে তার সাথে?ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে আফরিদ ।ধীরে ধীরে স্পর্শ গুলো গভীর হতে লাগল, মিনিটের পর মিনিট চলে গেল।ছেড়ে দিল আফরিদ , ন্যান্সি স্তম্ভের ন্যায় বসে আছে। গালের দুপাশে আঙ্গুল চেপে ধরে আফরিদ কিছুটা হিসহিসিয়ে বলল।

“লিপস্টিক চেঞ্জ কর বে বান্দি। টেষ্ট টা ভালো লাগেনি।নেক্সট টাইম যেনো এই টেষ্ট না পাই। ছে ফার্স্ট কিসিংয়ের মজাই নষ্ট হয়ে গেল ধ্যাত বা’ল।”

আফরিদ কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল ন্যান্সি। গালি স্বরূপ ছুঁড়ে দিল তীক্ষ্ণ বাক্য।
“নষ্ট পুরুষ।”

গা দুলিয়ে হেসে উঠলো আফরিদ। এগিয়ে গেল অ্যাকুরিয়ামের দিকে। পিরানহা ফিশ , এগুলো মাং’স খেকো মাছ। মানুষের মাংস পর্যন্ত খায়!
ন্যান্সি ঠোঁট মুছে আইঢাঁই করে শুধোয়।

“এগুলো কে পালে?”

মাছ গুলো কে দেখলেই ভয় হচ্ছে ন্যান্সির ।আফরিদ হাসলো, হাসিটা একমাত্র ন্যান্সির জন্য। নয়তো তাকে কখনোই হাসতে দেখা যায় না , ন্যান্সির সান্নিধ্য পেলেই ভুবন ভোলানো হাসি টা ঠোঁটের কোণে লেপ্টে থাকে তার। হাতের একটি গ্লাপস খুলে ন্যান্সির হাতে পড়িয়ে দিতে দিতে বলল।

“এগুলো ইদ্রান আর আফরিদ পালে।”

ন্যান্সি চকিতে দৃষ্টি তুলে তার দিকে তাকায়।
“ইদ্রান? সে কে?”

“আমি।”

আফরিদের কথার অর্থ বুঝে উঠতে পারছে না ন্যান্সি। ইদ্রান নামটা প্রথম শুনলো সে।
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।

“আপনি কি জানেন আপনি খুব অভদ্র এবং অস’ভ্য।আপনাকে আমার ভয় লাগছে!”

এবারেও হাসলো আফরিদ । নিজের কাজটা শেষ করে হাত সরিয়ে নিল। ন্যান্সি ফাঁকা ঢোক গিলে।

আফরিদ কিছুই বলল না, শিথিল দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ন্যান্সির পানে।পাশে থাকা পাত্রটি ফের তুলে নিল। এগিয়ে এসে ন্যান্সির দিকে দেয়, অর্থাৎ এখান থেকে মাং’স তুলে মাছ গুলোকে দিতে। ন্যান্সি তাই করলো। ছোট ছোট পিস করা মাং’স গুলো একে একে পিরানহা মাছ গুলোকে দিতে লাগল। পানিতে দেওয়া মাত্রই মাছ গুলো কে কার আগে খাবে এরকম তাড়াহুড়ো করছে।
আফরিদ গম্ভীর স্বরে বলল।

” যতটুকু দেখেছো তুমি তারচেয়ে বেশি আমি খারাপ! তোর ভাবনার থেকেও বেশী অ্যাঞ্জেলিনা। হতে পারে তুই ভাবতেও পারবি না ঠিক কতটা খারাপ আমি।এই যে মাং’স গুলো দেখতে পাচ্ছো?এগুলোও হতে পারে কোনো মানুষের মাং’স।

হাতে নেওয়া পাত্রটি বি’ক’ট শব্দ করে নিচে পড়ে গেল। ভয়ে আঁ’তকে উঠে ন্যান্সি । আফরিদ একপেশে হেসে উঠলো।
“চিল । মজা করছিলাম। ধ্যাত মা’তারি এটুকুতে এত ভয়?”

দু’টো ফাঁকা ঢোক গিললো ন্যান্সি ।এ কেমন মজা? এখন তো তার আরও বেশী ভয় করছে এই লোকটাকে!
আফরিদ এক পা এগুতেই চেঁচিয়ে উঠলো ন্যান্সি।

“কাছে আসবেন না বলে দিচ্ছি তাহলে কিন্তু আমি..

হেসে কুটিকুটি অবস্থা আফরিদ। পরণের সফেদ জ্যাকেট টা খুলে ছুঁড়ে ফেলে অদূরে। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বলল।

“হটনেস ডিয়ার। ডু সামথিং না। তুমি কিছু করো আর নয়তো আমি করি?”

তম মে রে গেল ন্যান্সি। তড়িৎ গতিতে সরে এলো।তোতলে বলল।

“যদি কিছু করতে আসেন তাহলে আপনার জায়গা মতো কিক করব।”

এবারে পেট ফেটে হাসি বেরিয়ে এলো আফরিদের ধীরে ধীরে শার্টের উপরের বোতাম গুলো খুলতে খুলতে বলল।

“আমার জায়গা মতো কিক করলে তো তোরই সমস্যা বান্দি।পরে আমি…

“চুপ করুন অস’ভ্য কোথাকার।”

আফরিদ থামলো তো নাই উল্টো বড় বড় কদম ফেলে এগিয়ে এলো। টেনে ধরলো ন্যান্সির পরণের ঢিলা ঢালা টি শার্টের সামনের অংশ। ভেতরের মেয়েলি অংশ টুকু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।কানের লতিতে ঠোঁট ঠেকিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো।

“ইনারের কালার পছন্দ হয়নি।”

লজ্জায় ভয়ে মুখ কুঞ্চিত করল ন্যান্সি।হাত চেপে ধরে আফরিদের।

“দেখুন ছাড়ুন বলছি। একদম ফাজলামি করবেন না।”

“ফাজলামি করব না আমি। আমি তো অন্য কিছু করব। সব কিছু নিশপিশ করছে। কাল বিয়ে রাতে বাসর। ফিলিংস কেমন?”

ন্যান্সি ব্যঙ্গ করে বলল।
” কচু গাছে দড়ি দিয়ে ম’রে যাওয়ার মতো ফিল হচ্ছে।”

ফিচলে হেসে উঠলো আফরিদ , হাসলে নীলাভ মনি জোড়ার চোখ খানিকটা বুঁজে আসে। আজও তাই হয়েছে।

🌿______🌿
গায়ে হলুদ হয়েছে সকালে , জোরপূর্বক হলুদের অনুষ্ঠান করেছে আফরিদ। এখন আবার মেহেদি অনুষ্ঠান।
গান বাজছে দেদারসে , বিরক্ত হচ্ছে ন্যান্সি। আচানক আফরিদ কে দেখতে পেলো ন্যান্সি হাতে মেহেদি দিচ্ছে।
আফরিদ নিজেও ন্যান্সির নামটা মেহেদি দিয়ে হাতে লিখিয়ে ফেলেছে।

আচানক আফরিদ চেঁচিয়ে উঠলো।
“ঈশানের বাচ্চা। বা’লের ঘরের অবা’ল বিয়ে আমার আমার ফেবারিট গানটা বাজা শালা।।”

ঈশান ঠোঁট টিপে হেসে ফেলল। সাউন্ড বক্সে বেজে উঠল অদ্ভুত সিলেটের ট্রেন্ডিং গানটা সাথে সাথে ঠোঁট মেলায় আফরিদ এহসান।

“হাতো মাখসইন মেন্দি
লগে ব্র্যান্ডের দামি ওয়াচ
শরমের ঠেলায় রুমাল মুখে সবো দিরা নাচ
নতুন বউরে দেখতা
তান হার্টে মারের ফাল
চান্দর লাখান কইন্ন্যা দেখিয়া
দামান্দ বেসামাল।
সিলেটিয়া রঙিলা দামান
যাইতা শ্বশুর বাড়ি
যাইতা শ্বশুর বাড়ি

আফরিদের চাহনিতে ফোঁস ফোঁস করছে ন্যান্সি ,বধূ কে দেখে ফিচলে হাসে আফরিদ।
মনে মনে ভাবুক হয় ন্যান্সি ,এই লোকটা সিলেটি ভাষায় কথা বলে কেন? অনেক কিছুই সিলেটি টাইপ।

বিয়ের লেহেঙ্গা পড়েছে ন্যান্সি , মাথায় ইয়া বড় একটা লাল দোপাট্টা ,দুহাত ভর্তি মেহেদি আর চমৎকার মেহেদী দেওয়া হয়েছে। গলায় একটা প্লাটিনামের নেকলেস বিশেষ করে বিয়ে উপলক্ষে আনানো হয়েছে।
ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজেকে দেখছে ন্যান্সি। মনে হচ্ছে সে যেন একটা কাটের পুতল, তাকে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে নাচানো হয়েছে। আঁখি জোড়া টুই টুম্বর করছে, মামুন হায়দার কে ভীষণ মনে পড়ছে তার। লোকটা বাবা না হয়েও তার বাবা। তার সবচেয়ে আপনজন। অথচ আজকের দিনে সে কাছে নেই।

“ওয়াও ন্যান্সি ,ইউ আর লুকিং সো প্রীটি।”

কল্পনার কথায় ঘুরে দাঁড়ালো ন্যান্সি। কল্পনা আর ফাহমিদা একত্রে আছে।
ফাহমিদা চটজলদি গিয়ে ন্যান্সির‌ কয়েকটা ফটো তুলে ফেলল।

“ছোট ভাবি আসলেই তোমার দারুণ লাগছে।”

জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করলো ন্যান্সি। কল্পনা ন্যান্সির গলার নেকলেসে হাত বুলিয়ে বলল।
“লাকি গার্ল , না হলে তো..

বাকি কথা সম্পূর্ণ করতে পারলো না তার পূর্বেই মাইমুনা এহসান ভেতরে প্রবেশ করলেন।

“তাড়াতাড়ি চলো সবাই অপেক্ষা করছে।”

আজকেও তিনি স্লিভলেস ব্লাউজ পড়েছেন পিছনের দিকটাও অতিরিক্ত খোলামেলা। ন্যান্সি বুঝে উঠতে পারেন না এই মহিলা কেমন!

মাইমুনা এহসান কল্পনার উদ্দেশ্যে বলল।
“ওকে তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো। হারিআপ।”

ফাহমিদা আর মাইমুনা এহসান বের হতেই কল্পনা হাইলাইটস করতে চাইল ন্যান্সির গালে। ন্যান্সি সরে এলো। রিনরিনে গলায় বলল।

“আমার গাল এমনিতেই লাল প্লিজ।”

কল্পনা লক্ষ্য করেছে এই মেয়েটার গাল মাত্রারিক্ত লাল।
“হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। হাইলাইটস করলে বোধহয় ভূত দেখাবে।”

নিজের কথাতেই খিকখিক করে হেসে উঠলো। ন্যান্সি নিশ্চুপ। হাসি থামিয়ে ভাবলেশহীন ভাবে বলল কল্পনা।

“চলো যেতে হবে , না হলে দেখা যাবে দেবরজি উপরেই চলে আসবে।”

ন্যান্সি নড়ল না ,তাকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দিহান কন্ঠে শুধোয় কল্পনা।
“তুমি হাত লোকাচ্ছো কেন? এই তোমার হাতে ওটা কি? আরে ওটা…

ঠাস করে মাথায় আঘাত করতেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো কল্পনা। হাতে থাকা ফ্লাওয়ার বাস টা ফেলে লেহেঙ্গা তুলে জানালার কাছে এগিয়ে গেল। নিচে অসংখ্য সিকিউরিটি গার্ড দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ন্যান্সি তো এখানে থাকবে না , তাকে পালাতেই হবে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। নিচের দিকে নামার আগেই তাড়াহুড়ো করে দরজাটা শক্ত করে বন্ধ করে দিল ন্যান্সি। বুকের ভেতর ধকধক শব্দ যেন কানে বাজছে, সারা শরীর ঘামে ভিজে একাকার। ভয় তার চোখে-মুখে স্পষ্ট যদি আফরিদ তাকে ধরে ফেলে? না, সেটা যেন না হয়! আফরিদের হাতে ধরা পড়া মানেই তার শেষ। কাঁপা কাঁপা হাতে কাবার্ড খুলে টেনে নিল আরেকটা সাদা চাদর, আঁটসাঁট করে পেঁচিয়ে নিল নিজের গায়ে। ভেতরে ভেতরে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে পালাতেই হবে, এই মুহূর্তেই। তার নিঃশ্বাস য ভারী হয়ে উঠছে, তবুও দৃঢ় চোখে তাকিয়ে সে খুঁজছে বেরোনোর পথ।

মিনিট পাঁচেক পরেও ন্যান্সি নিচে আসছে না বিষয়টি ভাবাচ্ছে আফরিদ কে।
ভারিক্কি কন্ঠে বলল সে।

“মম, কোথায় অ্যাঞ্জেলিনা?”

মাইমুনা এহসান তটস্থ ভঙ্গিতে বললেন।
“কল্পনা কে পাঠিয়েছি নিয়ে আসতে , এখুনি এসে যাবে।”

ফাহমিদা মিনমিনে গলায় বলল।
“একটু অপেক্ষা করো ভাইয়া এখুনি ছোট ভাবি চলে আসবে।”

কালো স্যুট পরিহিত নীলাদ্রি ব্যঙ্গ করে বলল।
“দেখো ব্রো তোমার বউ আপনার পালিয়েছে কিনা?”

অগ্নিদগ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদ ,মিহিয়ে গেল নীলাদ্রির কন্ঠস্বর। বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো আফরিদ।‌ শেরোয়ানির প্রথম দুটো বোতাম টেনে খুলে ফেলল। দাঁতে দাঁত পিষে বলল।

“কু’ত্তার বাচ্চা শুধু ঘুরায়। আজকে ধরলে ওরে খাইছি।”

রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দোতলার দিকে পা বাড়ায় আফরিদ। তৎক্ষণাৎ ঈশান দৌড়ে এলো।
ব্যস্ত কন্ঠে বলল।

“বস ম্যাম পালাচ্ছে?”

কথাটা যেন বজ্র মেঘের মতো আঘাত আনে আফরিদের কর্ণ গোচরে।

“শাউ*য়্যার ছ্যাঁচড়া দাঁড়ায় আছিস কেন নাকি আমার বাল ছেঁড়ার অপেক্ষায় আছিস? গাড়ি বের কর।”

ঈশান নত মস্তকে দৌড়ে বাইরে গিয়ে গাড়ি বের করল ,পাশে থাকা ফুলদানিটা ছুঁড়ে ফেলল আফরিদ। মূহুর্তের মধ্যে ঝড় উঠেছে বাড়িতে। ঈশানের চোখ কে ফাঁকি দিয়ে তারই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছে
ন্যান্সি। গাড়ি চালাতে সে আগে থেকেই জানে। যতটা সম্ভব দ্রুত স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে। হাতে রিভলবার আফরিদের , তাদের কালো গাড়িটা পিছু করছে ন্যান্সির সাদা রঙের গাড়িটার। হাত কাঁপছে ন্যান্সির। পিছনেই গাড়িটা আসছে , কান্নায় আঁখিপুট ঝাপসা হয়ে আসে। সে ভয় পাচ্ছে আফরিদ কে ,তাকে মে’রে ফেলবে লোকটা। পরপর নিশানা লাগিয়ে সাদা গাড়ির দিকে রিভলবার তাক করে আফরিদ। ঈশান আঁতকে উঠে।

“বস, ম্যামের লেগে যাবে।”

“তুই গাড়ি চালা ঈশান। আমার না হলে বেঁচে থেকে লাভ নাই র’ক্ত চুষি ডা’ইনির

আফরিদের আদেশে যতটা সম্ভব দ্রুত স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে সে। ঠায় ঠায় করে দুটো বুলেট ছুড়তেই কন্ট্রোল হারালো ন্যান্সি। দিশেহারা মেয়েটা। দিকবিদিক হারিয়ে থামাতে হলো গাড়িটা। সজোরে মাথাটা গিয়ে ভারী খেল স্টিয়ারিংয়ে। ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলো মেয়েটা। ইতিমধ্যেই গার্ড রা ঘিরে ধরেছে তাকে। কম্পিত ন্যান্সি কে টেনে বের করে আফরিদ। চেঁচিয়ে উঠলো ন্যান্সি।

“ছাড়ুন আমায় আফরিদ , প্লিজ ছাড়ুন।”

“বান্দির বাচ্চা তুই আমাকে রেখে পালিয়ে আসার সাহস দেখাস? এত সাহস? তোর কলিজা মেপে দেখব ঠিক কতটা বড়!”

হুহু শব্দে কেঁদে ফেলল ন্যান্সি।
“ছেড়ে দিন না।”

“পারব না।”

“প্লিজ।”

“নট পসিবল।”

কালো গাড়ির সামনে চেপে ধরে আছে আফরিদ।‌ কপাল বেয়ে ঘাম ঝরে তার।
অশ্রুসিক্ত নয়নে চোখ তুলে এক পলক তাকালো আফরিদের মুখ টা। এক গাল হাসলো আফরিদ ,এত ক্লান্তির মধ্যে তবুও সেই হাসিটা কত স্নিগ্ধ লাগছে!

“কু’ত্তার বাচ্চা কতটা দৌড় করাইছস হ্যাঁ? ওই শা’লী কথা বল!”

ফুঁপিয়ে কাঁদছে ন্যান্সি , এই বেয়াদবের সঙ্গে সে পেরে উঠবে না কখনোই।

“আমি,,,, আমি আপনাকে ভালবাসি না।”

হেসে উঠলো আফরিদ।
“ছোট বেলায় কটা থাপ্পড় খেয়েছিস সেটা বল!”

আফরিদের অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকায় ন্যান্সি।
“বল কটা থাপ্পড় খেয়েছিস!”

“একটাও না , কখনো কেউ মারেননি!”

দীর্ঘ শ্বাস ফেলল আফরিদ।
“তাহলে বোধহয় সূচনা টা আমাকেই করতে হবে। তোর লাল নরম নরম গালে,গরম গরম থাপ্পড় দিতে বহু কষ্ট হবে।”

থাপ্পড়ের কথা শুনে চকিতে সরে এলো ন্যান্সি। বিস্ফোরিত কন্ঠে বলল।

“মানে? কি বলতে চাচ্ছেন?”

আফরিদ ঈশান কে ইশারা করতেই গাড়ি থেকে গ্লাভস নিয়ে এলো। সেগুলো হাতে পড়তে লাগলো আফরিদ ।
ভাবলেশহীন ভাবে বলল।

“নিজের হাতে তোকে থাপ্পড়াইতে কষ্ট হবে তাই পরের হাতের গ্লাভস দিয়ে থাপ্পড়াইলে কষ্ট হবে না।”

আতংকিত ন্যান্সি পিছুতে লাগল।
“প্লিজ প্লিজ ছেড়ে দিন।”

আফরিদ ঈশানের উদ্দেশ্যে ঘাড় বাঁকিয়ে বলল।
“গোনা স্টার্ট কর।”

বেচারা ঈশান অসহায় মুখ করে তাকালো ন্যান্সির দিকে।

সপাটে একটা থাপ্পড় বসালো আফরিদ ,এক থাপ্পর খেয়েই মাথা ঘুরছে ন্যান্সির। কিন্তু আফরিদের থামার নাম নেই , একের পর থাপ্পড় দিয়েই চলেছে ন্যান্সির তুলতুলে লালচে রঙা গালে।
দু’হাতে নিজের গাল চেপে ধরে কেঁদে ফেলল মেয়েটা।

“সরি সরি আর পালাবো না।”

বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হেসে উঠলো আফরিদ।
“সবে আটটা হয়েছে, দাঁড়া আরো দু’টো দিয়ে ষোল কলা পূর্ণ করি।”

চলবে……??

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply