Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ০৮](স্পেশাল ওয়ান)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়)

ন্যান্সি কে আজ পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে। বিষয়টা খুব তাড়াতাড়ি ঘটেছে। ন্যান্সি এ বিষয়ে কিছুই জানে না। আশ্চর্যের বিষয় হঠাৎ করে তার বিয়ের জন্য এত তাড়াহুড়া কেন বুঝলো না?

ছাদে বেতের চেয়ারে বসে আছেন মামুন হায়দার। বড় আয়েশ করে চায়ের কাপে একের পর এক চুমুক দিয়ে চলেছেন। ন্যান্সি তড়িঘড়ি করে ছাদে গেল।‌ কন্ঠনালি কাঁপছে তার , নিজেকে কোনো ভাবেই শান্ত করতে পারছে না সে। কি আশ্চর্য তার বিয়ে অথচ সে কিছুই জানে না। বিষয়টা বড্ড বেশী বাড়াবাড়ি হয়ে গেল।

“বাবা।”

ঘাড় কাত করে ছাদের দরজার দিকে তাকালেন মামুন হায়দার।

“ন্যান্সি,আয় আমার কাছে।”

“বাবা এসব কি হচ্ছে? আমাকে নাকি পাত্র পক্ষ দেখতে আসছে। আমার বিয়ে অথচ আমি কিছুই জানি না? এসব কখন কিভাবে হলো?”

ন্যান্সি কে উত্তেজিত হতে দেখে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেললেন মামুন হায়দার। তিনি প্রথম থেকেই জানতেন এমন কিছু হবে।

“ন্যান্সি এদিকে আয় মামুনি , আমি তোকে আজ কিছু কথা বলব।”

ন্যান্সি ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে বসলো তার পাশের বেতের চেয়ারে।
“দেখ মা ছেলেটা ভালো, তোকে বেশ পছন্দ করে। বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এছাড়া তোর পরে তো তোর বোনটাও আছে। ওর বিয়েটাও তো দিতে হবে।”

এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে থামলেন মামুন হায়দার। বুকের ভেতর ধুকপুক করছে ন্যান্সির। তার কত স্বপ্ন নিজের কিছু একটা করার। সে করতে চায় না ওই বেকারিতে চাকরি, শুধু ঠেকায় পড়ে করছিল। কিন্তু এখন তো তার জীবনটাই শেষ! মনটা খারাপ করছে না,অবশ্য তাও ঠিক এই পরিবারে তার নয় কিন্তু তাকে আদর যত্ন দিয়ে বড় করেছে। তাহলে কি ন্যান্সির এটুকু দায়িত্ব নেই তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার গুরুত্ব দেওয়া?

“কি রে মামুনি, কিছু বল?”

ন্যান্সি লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে বলল।
“ঠিক আছে, তবে পাত্র পছন্দ না হলে কিন্তু আমি বিয়ে করব না।”

হেসে ফেললেন মামুন হায়দার। ন্যান্সির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন।
“চিন্তা নেই,তোর বাবা কি খারাপ ছেলে পছন্দ করবে?”

মৃদু হাসার চেষ্টা করলো ন্যান্সি।
🌿______

সুইমিং পুলের পানিতে সুইমিং করছে এক বলিষ্ঠ দেহের শক্তপোক্ত পুরুষ। সুইমিং পুলের স্বচ্ছ পানি কেমন লালচে হয়ে উঠেছে!বাহু থেকে টুপটুপ করে র’ক্ত ঝরে পড়ছে।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশান অস্থির কন্ঠে বলে উঠে।
“বস আপনার ইমিডিয়েটলি ফাস্টএইড করতে হবে।”

ঈশানের কথায় খুব একটা ভাবান্তর হলো না সেই পুরুষটির।
সুইমিং পুলের পাশেই নিথর হয়ে পড়ে আছে একটি দেহ! জ্বি ঠিকই শুনেছেন একটি দেহ! যার মধ্যেখান প্রাণ নেই। কিছুক্ষণ পূর্বেই এই লোকটার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সেই পুরুষটি। ঝাঁ’ঝ’ড়া করে দিয়েছেন তার বক্ষপিন্ড।
দীর্ঘ সময় পর উঠে এলো সেই পুরুষটি।
ফোনের টুং শব্দ হতেই ইশান এগিয়ে গেল।

“বস আপনার ফোন..

ফোন এগিয়ে দিতেই ভেজা হাত টাওয়েলে মুছে রিসিভ করলো।

“হ্যালো আফরিদ স্পিকিং।”

আফরিদ এহসান শুধু বাংলাদেশে নয়, আরো অনেক গুলো দেশে খুব বড় একজন বিজনেজ ম্যান। উঁহু শুধু বিজনেস ম্যান বললে ভুল হবে অ্যা সিক্রেট মাফিয়া কিং। যাকে ধরার জন্য পুলিশ ঠিক কত বার নাকানিচোবানি খেয়েছে তার ঠিক নেই। অত্যন্ত পাওয়ারফুল একজন লোক হওয়ার দরুন সরকার তাকে সিকিউরিটি দিতে বাধ্য। এখন পর্যন্ত তার পক্ষে পাকাপোক্ত প্রমাণ পাই বিদায় কোনো অ্যাকশন নিতে পারেনি। মানুষ মা’রা তার পক্ষে খুব একটা ক’ঠিন ব্যাপার নয়! এই যে সামনে পরে থাকা লোকটি!তার মৃত্যুর কারণ বেঈ’মানি।এই ছোট্ট একটা কারণই যথেষ্ট তার জন্য!
ঘটনা চ’ক্রে, লোকটি প্রাণঘা’তী হামলা করেছিল আফরিদ উপর, ফলস্বরূপ বাহুতে ক্ষ’ত তৈরি হয় তার।

“বস প্লিজ আপনি ব্যান্ডেজ করে নিন র’ক্ত পড়ছে!”

তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই নত মস্তকে দাঁড়িয়ে রইল ঈশান। পকেট থেকে সফেদ রুমালখানা বের করে বেঁধে নিল সে। বাঁধতে কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে তাকে, ফলস্বরূপ ইশান এগিয়ে এসে তা বেঁধে দিল।

“হেলিকপ্টার রেডি কর ইশান।আই হ্যাভ টু গো।”

“কিন্তু কোথায় বস?”

চমৎকার হাসলো আফরিদ, চক্ষু কৌটায় থাকা নীলাভ মনি জোড়া একটুখানি এদিক সেদিক ঘুরিয়ে বাঁকা হেসে আওড়ালো।

“গেলেই দেখতে পাবি।”

বড়সড় একটি বিল্ডিংয়ের রুফটপে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য গার্ড। তাদের সামনে আছে আফরিদ। ব্ল্যাক স্যুট,চোখে গগল্স ।হাত দুটো বেশ আয়েশী ভঙ্গিতে পকেটে গুঁজে রেখেছে। বাতাসের তীব্রতা বাড়িয়ে দূর থেকে এগিয়ে আসছে হেলিকপ্টার। চারিদিকে সব কিছু কেমন উড়ছে!

হেলিকপ্টার যথাযথ স্থানে নেমে এলো। ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো আরো একজন লোক। চেহারা জুড়ে স্পষ্ট দাম্ভিকতা।লোকটার নাম স্টিফেন।তার সাথেও রয়েছে অনেক গুলো গার্ড।

“হ্যালো আফরিদ ।”

“হ্যালো মিস্টার স্টিফেন।”

“আমাকে এখানে ডেকে আনার বিশেষ কারণ?”

অদ্ভুত রহস্যময় মিশ্রিত হাসি টেনে বলে উঠে আফরিদ ।

“লুক ওই যে পুল দেখতে পাচ্ছো? ওখানে আমার কিছু কিউট পিরানহা আছে। মাই পিরানাস আর ভেরি হাংগ্রি। দে নিড ফুড।”

স্টিফেন কিঞ্চিৎ ভয় পেলো,তবে তা রয়ে গেল অচিরেই। নিজেকে একটুখানি অন্য রকম ভাবে দেখানোর সহিতে আওড়ালো।

“সো হোয়্যাট?এই সামান্য ব্যাপার টুকুর জন্য আমাকে..

“নো নো স্টিফেন। এমনি এমনি নয়।আর এই ব্যাপারটাও সামান্য টুকু নয়। ইউ নো না আফরিদ এহসান কখনো এমনি এমনি কিছু করে না?”

এবারে ভয় পেলো স্টিফেন।কপাল বেয়ে ঘাম ঝরে গেল। দু’টো ফাঁকা ঢোক গিলে আওড়ালো।

“হোয়্যাট ডু ইউ মিন বাই দ্যাট আফরিদ?”

“আই মিন টু সে, ইউ উইল বি দ্য ফুড ফর মাই পিরানহা ফিশ।”

“হোয়্যাট?”

তৎক্ষণাৎ রিভলবার থেকে একটি বুলেট গেঁ’থে গেল। দাঁড়িয়ে থাকা গার্ড গুলো কিছু করবে তার পূর্বেই কালো ড্রেস পরিহিত লোক গুলো তাদের উপর ফা’য়ার করে।গগন কাঁপিয়ে হেসে উঠলো আফরিদ।কী ভ’য়ংকর সেই হাসি! উপস্থিত ইশান এবং তাদের সঙ্গীদের রিতিমত বুক কাঁপছে।
প্রতিটি লা’শের দু’টো টুকরো করে সামনের পুলে সেগুলো কে ফেলতে লাগল আফরিদ। নিরেট কন্ঠে বিড়বিড় করে আওড়াল।
“বিশ্বাসঘা’তক শাস্তি এটা। এগুলো হলো নমুনা। এরপর কখনো কেউ আফরিদ এহসানের সাথে বি’শ্বাসঘা’তকতা করবে না।”

আবারো হাসিতে ফে’টে উঠলো আফরিদ। ভ’য়ংকর পিরানহা মাছ গুলো সেই টুকরো মাংস গুলো ছিঁ’ড়ে খেতে লাগল। কী ভয়াবহ সেই দৃশ্য! সিটি বাজাচ্ছে আফরিদ ।পুলের চারিদিকে রাউন্ড রাউন্ড চক্কর চালাচ্ছে। ‘আফরিদ এহসান’ ধ্বং’সের আরো একটি নাম।তার সাথে বিশ্বা’সঘাত’কতা মানেই মৃ’ত্যু।পাশে থাকা প্রতিটি গার্ডের ব্ল্যাক স্যুটের উপর একটি করে বো’ম ফিট করা ভেতর থেকে।যা একদম হার্ট বিটের সঙ্গে কানেক্ট করা বললে বোধহয় ভুল হবে না। পার্সোনাল প্রতিটি গার্ডের পরণেই এমন ব্ল্যাক স্যুট। অবশ্য থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। প্রতিটি স্যুটের সাথে ট্যুটু করা গলার কাছে।যার মাঝ বরাবর একটি বাটন ফিট করা আছে।এটার রিমোট কন্ট্রোল আফরিদের পার্সোনাল ট্যাবে।যা বরাবরই তার সাথে থাকে। একটা ক্লিক দেহ ঝাঁ’ঝ’ড়া হয়ে যাবে। জীবনের পরোয়া করলে আফরিদের সাথে কাজ করতে পারবে না।এই ব্ল্যাক ওয়াল্ডে কারো নিজের জীবনের প্রতি মায়া নিষিদ্ধ।

সূর্যটা যেন হালকা কমলা রঙে ঢেকে দিচ্ছে এহসান মঞ্জিলের ছাদ, আর ছায়াগুলো ক্রমেই লম্বা হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বাড়িটা স্তব্ধ। কোথাও নেই কোলাহল, নেই চেনা কোনো হাসির শব্দ। প্রাচীন দেয়ালের গায়ে জমে উঠেছে শেওলা।

এহসান মঞ্জিল এখন আর বাড়ি নয়, শুধু একটা নামমাত্র আশ্রয়। তাদের আসল মঞ্জিল রয়েছে , যেখানে আফরিদের ফুল ফ্যামিলি আছে।
এখানে আফরিদ আসে কেবলই প্রয়োজন মেটাতে। অফিসের কিছু কাগজ, আর নিজের ডিল গুলো ফুলফিল করতে।

আজও এসেছে সে, হাতে পুরনো এক ফোল্ডার, চোখে খানিকটা ক্লান্তি। বিরক্ত হয়ে বসলো কাউচের উপর। জুতো সহ ডান পা তুলে দিলে সেন্টার টেবিলের উপর।

“ঈশানের বাচ্চা হুইস্কির বোতল টা নিয়ে আয়।”

ঈশান দ্রুত পায়ে গিয়ে হুইস্কি সিগারেট সব কিছু নিয়ে এলো। হুইস্কির বোতল খুলে অর্ধেক টা খেয়ে ফেলল সে।‌ পরপরই সিগারেটে টান দিলো।

“কিরে আবুলের নাতি মুখটা পাংশুটে করে রাখছিস কেন?”

ঈশান আইঢাঁই করে বলল।
“এহসান মঞ্জিলে সবাই আপনার অপেক্ষায় আছে বস। ওখান থেকে ফোন কল আসে প্রচুর।”

বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করে লম্বা নিঃশ্বাস টানলো আফরিদ। দু’টো সিগারেট ইতিমধ্যেই টান দিয়ে শেষ করলো সে।

ঈশান কাঁপা স্বরে বলল।
“বস, আপনাকে আরেকটা কথা বলার ছিলো ‌।”

আফরিদ সেই একই ভাবে চোখ বন্ধ করেই বলল।
“মাইয়া গো মতন নাটক না করে বলে ফেল।”

ঈশান কাঁচুমাচু করে বলল।
“বস ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা ম্যাডামের আজকে বিয়ে!”

বিদ্যুৎ বেগে উঠে দাঁড়ালো আফরিদ।
“হোয়্যাট?”

“ইয়েস বস। আজকে ওই মামুন হায়দার ওর বিয়ে দিচ্ছে। অথচ ওকে বলা হয়েছে পাত্র পক্ষ ওকে শুধু দেখতে আসবে।”

কথাটা শুনে মাথায় রীতিমতো আ’গুন জ্বলে উঠলো আফরিদের।
“ওহ্ আচ্ছা তাহলে অ্যাঞ্জেলিনার বিয়ে?”

ঈশান উপর নিচে মাথা দোলায়। আকস্মিক ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলো আফরিদ।

“আহা বহুদিন বিয়ে খাই না। চল ঈশান বিয়ে খেয়ে আসি।”

ঈশান থতমত খেয়ে গেল। বোকা বোক ভাব করে শুধোয়।
“কিন্তু ভাই ওরা তো আমাদের দাওয়াত দেয় নাই?”

“সো হোয়্যাট,আমরা গোয়িং খাবার সামনে আসিং হাতে নিয়ে পেটে চালান করিং ।”

ভুলভাল ইংরেজি শুনে ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে গেল ঈশানের।
🌿______🌿

লাল রঙের একটা শাড়ি পড়েছে ন্যান্সি। হাত ভর্তি স্বর্ণের চুড়ি। সে বুঝতে পারছে না তাকে তো দেখতেই আসবে শুধু। তাহলে এত সাজগোজের কি আছে? এই বিষয়টা সে বুঝতেই পারছে না। তবে আফিয়া হায়দার নিজ দায়িত্বে তাকে সাজিয়ে দিয়েছে।

“দেখি দেখি লিপস্টিক টা দেই তো একটু।”

ন্যান্সি চমকালো আফিয়া হায়দারের ব্যবহারে। তিনি তো কখনোই তার সাথে খুব একটা ভালো কথা করে কথা বলে না! তাহলে এরকম করছে কেন আজকে?

বাইরে আরো কিছু নতুন মুখ দেখতে পেয়েছে সে। যাদের এর আগে কখনোই দেখেনি ন্যান্সি। তারা নাকি আত্মীয় হয়, অথচ ছোট থেকে এই বাড়িতেই বড় হওয়া তার। কিন্তু সেই নাকি আত্মীয়ের চিনে না।

কাজি সাহেব চলে এসেছে ইতিমধ্যেই। মামুন হায়দার ঘামছেন। কপালে জমেছে অনেক ঘামের বিন্দু ,কানের পাশ গড়িয়ে পড়ছে ঘামের বিন্দু বিন্দু জল।

“তা পাত্রী কোথায়?”

বয়স্ক কাজি সাহেব ভারি স্বরে বললেন। মামুন হায়দার মলিন হেসে বললেন।
“এখুনি আসছে।”

সামনে বসে থাকা এক যুবক রাহুল,তার সাথেই বিয়ে আজকে ন্যান্সির। পরিবার বলতে শুধু তার বাবাই এসেছে।

ন্যান্সি কে সবে ড্রয়িং রুমে নিয়ে এসেছে আফিয়া হায়দার আর তন্বী মিলে। সোফায় বসানো মাত্র সদর দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো কিছু সংখ্যক লোক।

হনহনিয়ে এসে ঢুকলো বাড়িতে।‌ আচানক এত আপতিত মানুষের আগমণে সবাই চমকে উঠে। তবে পিছন থেকে বেরিয়ে এলো সেই অনাঙ্ক্ষিত পুরুষ ,নীলাভ মনি জোড়ায় চোখ পড়তেই থমকে গেল ন্যান্সি।

“একি আপনারা এখানে কেন?”

“হায় মেরি বান্দি।”

আফরিদের মুখে এমনতর কথায় উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত। ন্যান্সি অবাক নেত্রে পল্লব ঝাপটায়।

মামুন হায়দার এগিয়ে গেলেন , ক্ষিপ্ত মেজাজে বলে উঠেন।
“একি আপনারা কারা আর এভাবে ভেতরেই বা এসেছেন কেন?”

মামুন হায়দার কে মোটেও পছন্দ হলো না আফরিদের।
“উফ্ ঈশান।”

ঈশান দু কদম এগিয়ে এসে বলল।
“ইয়েস বস।”

“আমার মোটেও এই প্রতিবেশী বুড়ো কে পছন্দ হয়নি,মালটাকে সাইড কর।”

ঈশান চেপে ধরলো মামুন হায়দার কে। ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেলেন আফিয়া হায়দার। আহাজা’রি করে বলে উঠে।

“কি করছো তোমরা? ছাড়ো আমার স্বামী কে।”

“উফ্ ঈশান,এই প্রতিবেশী বুড়ি বেশী কথা বলে।মুখ বন্ধ কর।”

পেছনের গার্ড গুলো চেপে ধরেছে মামুন হায়দার কে। ঈশান চট করে এসে মুখে টেপ আটকে দিলো আফিয়া হায়দারের। তন্বী রীতিমতো নির্বাক। ন্যান্সি কম্পিত স্বরে শুধোয়।

“কি করছেন এসব? কারা আপনারা? কি চাই এখানে?”

এক গাল হাসলো আফরিদ ,লাল শাড়িতে ন্যান্সি কে দেখে ফুরফুরে মেজাজে বলে উঠে।

“হায় মেরি অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা। শাড়িতে নায়িকা লাগছে। ইস্ কারেন্টের শক খেলাম।

ন্যান্সি ভ্রুদ্বয় কুঞ্চিত করে নিল। এই লোকটার সাথে তো সেদিন রাতের কোনো মিলই খুঁজে পাচ্ছে না সে।
আফরিদ আবারো বলল।
” Jub Chhuti hai tu
Dill mein Wajti Guitar hai
Jawani Teri Bijli ki taar hai
Jawani Teri Bijli ki taar hai
26 Taarikh Se Bukhar hai
Jawani Teri Bijli ki taar hai

অশ্লীল গানটা শুনে ঘেন্নায় শরীর শিউরে উঠছে।
আফরিদ বেশ আয়েশ করে গিয়ে সোফায় বসলো , বুকের শার্টের বোতাম দুটো খুলে আছে। ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে তার সূর্য ট্যাটু টা। এক হাত সোফার উপর ভর দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসেছে। ওষ্ঠো বাঁকিয়ে এক গাল হাসলো ন্যান্সির দিকে তাকিয়ে। থরথরিয়ে কাঁপছে মেয়েটা , মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখে লোকটাকে।
আফরিদ হাস্যোজ্জ্বল স্বরে বলল।

“দেখাদেখি শেষ? চল পরিচয় দেই।
আমি তোমার বান্দা,
তুমি আমার বান্দি।
আমি তোমার জান,
তুমি আমার পরাণ।
তুমি হবা বউ,
আমি হবো তোমার এক মাত্র জামাই আফরিদ এহসান।”

চলবে………..✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply