(📌এলার্ট)
“শাউ’য়্যার নাতি,তুই কবুল বলবি তোর দাদী কবুল বলবে।”
“তাহলে আমার দাদী-কেই বিয়ে করে নিন না।”
ন্যান্সির ত্যাড়া কথায় ক্ষিপ্ত হলো আফরিদ এহসান। সহসা বসা থেকে উঠে এসে গলা চেপে ধরে ন্যান্সির।
রুষ্ট কন্ঠে,তেজ দেখিয়ে বলে উঠে।
“বলবি না তুই কবুল? বলবি কি না?”
নিশ্ছিদ্র নীরবতা ভেদ করে উঠলো কাশির শব্দ। গলায় বলিষ্ঠ হাতের চাপ পড়তেই নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে আসছিল ন্যান্সির । ছটফট করছে সে, শরীরজুড়ে আত’ঙ্কের কম্পন। চোখজোড়া বিস্ফারিত, যেন কণ্ঠে আটকে থাকা প্রাণটুকু মুক্ত করার চেষ্টা করছে।
তার এই কষ্টভরা ছটফটে এক টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে আফরিদ এহসানের বুকের জেদী রাগ। কিন্তু নিজের ক্রো’ধকে সংযত করতে পারে না সে,প্রতিবার এমনই হয়। চায় না কষ্ট দিতে, তবুও দিয়েই ফেলে। তার আঙুলের শক্তির ছাপে যখন ন্যান্সির শ্বাসরুদ্ধ প্রায়, তখনই আঁতকে উঠলো আশেপাশের সবাই।
চেঁচিয়ে উঠলেন মাইমুনা এহসান।
” আফরিদ,কি করছিস তুই?”
চারদিক স্তব্ধ। ন্যান্সি কেশে উঠছে কষ্টে। ঠিক তখনই আফরিদের ছোট বোন ফাহমিদা ছুটে এলো, হাতে এক গ্লাস পানি।
“ভাবি, পানি খাও।”
কিন্তু ন্যান্সি পানি খেলো না, উল্টো ছুঁড়ে ফেলল সেই কাঁচের গ্লাস মেঝেতে। ঝনঝন শব্দে ছড়িয়ে পড়লো গ্লাসের টুকরো সেই শব্দে কেঁপে উঠলো চারদিক।
ভ্রু কুঁচকে তাকালো আফরিদ।
“কু’ত্তার বাচ্চা এত নাটক করছিস কেন? চুপচাপ কবুল বলে দে কাহিনী শেষ।”
কথাটা বলতেই ক্ষেপে গেল ন্যান্সি।
“তুই কু’ত্তা, তোর চৌদ্দ গুষ্টি কু’ত্তা। জানো’য়ারের বাচ্চা।”
এত এত গালি দিয়ে ন্যান্সি দাঁড়ায়নি। ভারি লেহেঙ্গার বাঁধা উপেক্ষা করে চুড়ির ঝংকারে, চোখে ক্রো’ধের জ্ব’লন্ত আগু’ন নিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেল সে সদর দরজা পেরিয়ে।
সবাই থ হয়ে তাকিয়ে রইলো। যেন এক বজ্রপাতে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়েছে পুরো প্যালেস।
কারো বোঝার উপায় নেই, এই মুহূর্তে কী ঝড় আসবে তার জীবনে। আফরিদ ঠায় দাঁড়িয়ে রইল কিয়ৎক্ষণ।
ফাহমিদা বাইরে যেতে চাইলো ন্যান্সি কে নিয়ে আসতে। অথচ তার পূর্বেই গর্জে ওঠে আফরিদ এহসান।
“কেউ যাবে না,ওর ব্যবস্থা আমি করছি।”
কথাটা বলে হনহনিয়ে পা বাড়ালো বাইরের দিকে।
গাড়ির চাবি নিয়ে কোনো রকমে গাড়িতে উঠে বসলো ন্যান্সি। যেই গাড়ি স্টার্ট দিবে তার আগেই হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে ঢুকে এলো আফরিদ। আফরিদ কে দেখে আত্মা কেঁপে উঠে ন্যান্সির।
“যান, আমি বিয়ে করব না আপনাকে।”
কথাটা বলেই তাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির ভেতরে ফেলে দিল আফরিদ। নিজের ভারি দেহটা রীতিমতো চাপিয়ে দিলো ন্যান্সির ছোটখাটো দেহের উপর। গাল চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে উঠে।
“একটু আগে কি বললি? আমি জা’নোয়ারের বাচ্চা? আমি কু’ত্তার বাচ্চা?”
চোখের পাতা কাঁপছে ন্যান্সির,দম নিতেও কষ্ট হচ্ছে তার। বেয়াদব পুরুষ একশো টা গালি দিলেও সমস্যা নেই,অথচ ন্যান্সি একটা গালি দিয়েছে তাতেই দোষ?
“বা রে আপনি গালি দিতে পারেন তাতে দোষ নেই,আর আমি দিলেই দোষ? মানে আপনার সাত খু’ন মাফ আর আমার বেলায় ফাঁ’সি?”
প্রত্যুত্তরে কিছু বলল না আফরিদ, আবারও তাকিয়ে আছে ন্যান্সির দিকে।
পিনপতন নীরবতা ভেঙ্গে শান্ত কন্ঠে বলল।
“চুপচাপ ভেতরে যাবি আর ভালো মেয়ের মতো কবুল বলবি।”
কেঁপে উঠে ন্যান্সি,নাক বোচা করে বলল।
“ভালো করে বলেন।”
ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো আফরিদ।
“আমার জানকি বাচ্চা চল কবুল টা বলে দে।”
এবারেও নড়লো না ন্যান্সি।
“পায়ে ধরে ক্ষমা চান তারপর কবুল বলব।”
আফরিদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। ন্যান্সি তাকে আশ্চর্যের সীমান্তে পৌঁছে দিয়ে পা দিয়ে ঠেলে গাড়ির গ্লাসের সাথে চেপে ধরে আফরিদ কে।বুকের উপর লম্বালম্বি ভাবে পা মেলে দিয়ে বলল।
“ধরুন পা।”
আফরিদ তাকিয়ে আছে নির্নিমেষ কম্পিত ন্যান্সির দিকে। হাত পা কাঁপছে তারপরেও কতটা সাহস নিয়ে তার বুকের উপর পা রেখেছে!
বাঁকা হাসলো আফরিদ,পায়ের পাতার ছোট্ট করে চুমু দিয়ে বলে।
“মাফ চাই জান এবার অন্তত আয়।”
এত সহজে যেতে চায় না সে , মাফিয়া কিং কে বিয়ে করা যায়?
“দেখুন চলে যান এখান থেকে, আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই না। আর না আপনাকে ভালোবাসি। যাকে ভালোবাসি না তাকে কেন বিয়ে করব?”
এতক্ষণে ভেতরে চেপে রাখা রাগ ফেটে বেরিয়ে এলো আফরিদের। পা সরিয়ে ন্যান্সি কে চেপে ধরে আফরিদ।
চিবিয়ে চিবিয়ে বলে।
“শাউ’য়্যার ভালোবাসা লাগবে না আমার। আমার তোকে চাই।”
ভয়ে কাঁপতে থাকা ন্যান্সি আইঢাঁই করে আওড়াল।
“দেখুন এভাবে আমার দেহ পাবেন, কিন্তু মন কখনোই পাবেন না।”
গা দুলিয়ে হেসে উঠলো আফরিদ।
“আপাতত তোর দেহ চাই,মন ধুয়ে কি আমি পানি খাবো? রাখ তোর মন তোর কাছেই।”
কথাটা বলেই গলদেশে শক্ত একটা কামড় বসলো আফরিদ। অঝোরে কেঁদে ফেলল ন্যান্সি।
“ব্যথা পাই আমি।”
“বিয়ে করবি কি না? যদি কবুল না বলিস তাহলে গাড়ি কাঁপবে।”
গাড়ি কাঁপবে কথাটা শুনে থমকে গেল ন্যান্সি , মস্তিষ্ক কথাটা ধরতে পারলো না। মুখ তুলে হাসি হাসি চোখ করে তাকালো আফরিদ।
“সোজাসাপ্টা কবুল না বললে গাড়ি কাঁপবে তাও আবার অন্য ভাবে।”
কথাটার অর্থ বুঝতে পেরেই চেঁচিয়ে উঠলো ন্যান্সি।
“করব বিয়ে,সরুন আপনি।”
ভাবলেশহীন ভাবে সরে গেল আফরিদ। নেমে এলো গাড়ি থেকে, ন্যান্সি কে নামতে বলে।
“স্টপ ইউর ফা’কিং ড্রামা অ্যান্ড কাম।”
হাঁসফাঁস করতে করতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি। পিটপিট চোখ করে বার বার দেখছে আফরিদ কে। বেয়াদব পুরুষ তার জীবন টা শেষ করে দিলো।
গালে হাত দিয়ে বসে আছেন মাইমুনা এহসান। কি যে হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। তার ছেলে কিনা সাধারণ একটা মেয়ে কে বিয়ে করার জন্য ম’রিয়া হয়ে উঠেছে। এত জোরজবরদস্তি কেন?
সদর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে ঈশান অপেক্ষা করে চলেছে তার বস আসার। মনে মনে বার বলছে “আমি শিওর বস ভাবি কে এতক্ষণে উপরে পাঠিয়ে দিয়েছে। যেখানে বসের রুব্বানে নাচে কোমড় দুলাইয়া গানটাই পছন্দ করে না মেয়েটা। সেখানে আস্ত বস কে কিভাবে সহ্য করবে? আহারে মেয়েটার জন্য বড্ড মায়া হলো উনার।
হনহনিয়ে ন্যান্সি কে ধরে বাড়িতে প্রবেশ করলো আফরিদ। ন্যান্সি কে জীবিত দেখে আকাশ থেকে পড়ল ঈশান। ভেতরে ঢুকেই কাজির উদ্দেশ্যে বলে।
“এই কাজি তাড়াতাড়ি বিয়ে পড়ান, ফাস্ট ফাস্ট।”
কাজি সাহেবের অবস্থা বেগতিক। লুঙ্গি ধরে ছটপট এগিয়ে এলেন। নিজের খাতাকলম খুলে বসলেন। ন্যান্সি কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। কাঁদো কাঁদো মুখ করে আফরিদ কে বলে উঠে।
“আমি এভাবে বিয়ে করব না।”
কথাটা রীতিমতো কানে ঝংকার তুলল আফরিদের। দাঁতে দাঁত পিষে বলে।
“আর একবার নাটক করলে বা’লের বিয়ে পরে করব,আগে বাসর সারবো।”
ন্যান্সি কাঁপা স্বরে বলে।
“আমি মেকআপ করব। ব্রাইডাল মেকআপ। একটাই বিয়ে সাজগোজ না করে আমি বিয়ে করব না।”
আফরিদ ভ্রু উঁচিয়ে বলল।
“ওকে ফাইন, ফাহমিদা ওরে ব্রাইডাল মেকআপ করা।”
কথাটা বলে দু’পা এগুলো আফরিদ , ন্যান্সির কান স্পর্শ করে ফিসফিসিয়ে বললো।
“যত ইচ্ছে ব্রাইডাল মেকআপ কর জান ,রাতে সব মেকআপ উঠিয়ে ফেলব।”
ন্যান্সি অপেক্ষা করলো না ,তাকে নিয়ে ফাহমিদা ডিরেক্ট উপরের রুমে যেতে লাগলো। প্রাসাদের মতো বাড়িটা সবচেয়ে সুন্দর এবং বড় রুমটাই হচ্ছে দ্য গ্রেট মাফিয়া কিং আফরিদ এহসানের।
মেকআপ প্রায় শেষের দিকে।আয়নার দিকে তাকিয়ে আছে ন্যান্সি। ফাহমিদা মিনমিনে গলায় বলল।
“ও ভাবি তাড়াতাড়ি করে ফেলো না বিয়ে। আমার ভাইটাকে কেন কষ্ট দিচ্ছ?”
রাগে ফুঁসছে ন্যান্সি। ওদিকে অপেক্ষা করছে আফরিদ।আর অপেক্ষা করা সম্ভব নয় তার। আচমকা উঠে ড্রয়িং রুমে থাকা সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো সে।
“কুত্তার বাচ্চা আমাকে খালি ঘোরায়।”
কথাটা বলে হনহনিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে রুমের দিকে গেল আফরিদ। ঈশান বিড়বিড় করে আওড়ালো।
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।”
রুমে যেতেই ফাহমিদা বেরিয়ে গেল। ন্যান্সি ভয়ে সেটে গেছে রীতিমতো।
“চল।”
আফরিদের গর্জন শুনে বুক ধড়ফড় করে উঠে ন্যান্সির। পারে না হাত পা ছড়িয়ে কেঁদে ফেলতে।
“আমি করব না বিয়ে। আমাকে ছেড়ে দিন। আম্মু আব্বু বাঁচাও আমাকে।”
তার আকুতি কান্না শুনলো না আফরিদ।
“বান্দির বাচ্চা তুই বিয়ে করবি তোর ঘাড় বিয়ে করবে।”
ন্যান্সির নরম হাতটা টেনে ধরলো আফরিদ। এগুতে লাগলো দরজার দিকে। দরজার কপাট টেনে ধরে ন্যান্সি।
“যাব না আমি। ছেড়ে দিন।”
ঘাড় বাঁকালো আফরিদ , এগিয়ে এসে পাঁজা কোলে তুলে নিল ন্যান্সি কে।
বিদ্রুপ করে বলল।
“কোলে উঠবি আগে বলবি না? এমনিতেই তো রাতে কোলে নিতাম।”
কথাটা শুনে লজ্জায় সেঁটিয়ে যাচ্ছে ন্যান্সি।
চলবে…….।✨
অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
সূচনা_পর্ব
লেখিকাফারহানানিঝুম
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৫(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩২(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪