Golpo Love or hate romantic golpo

Love or Hate পর্ব ২৭


Love_or_Hate

|#পর্ব_২৭|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

🚫মধ্যিখানে কিছু আঞ্চলিক ভাষা আর স্লাং ব্যবহার করা হয়েছে।এবং পরবর্তী কয়েকটা পার্ট অত্যধিক সেন্সেটিভ হতে পারে।মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় ঘটানো আমার লক্ষ্য নয়।🚫

এমন বিভীষিকাময় দৃশ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়লো পুরো ফ্যাসিলিটিতে।ইউভানের জন্যে ইমার্জেন্সি ওটির ব্যবস্থা করা হলো চতুর্থতলায়।ইউভানের কথা অনুসর করে রায়হান মির্জাকে অবিলম্বে বিডির রাজধানীতে পাঠানো হচ্ছে।ক্ষতবিক্ষত শরীরটা যেনো ঠান্ডায় জমে উঠেছে,তবে তার নিঃস্বাস পুরোপুরি বন্ধ হয় নি।পার্লস রক্ত চলাচল বিদ্যামান।

অপরদিকে ইউভানের বুক ভেদ করে তাজা রক্তে ভিজে উঠেছে তার দে’হ। অঁধরের কোণে লেপ্টে থাকা র*ক্তকণিকা আঙুলের ডগা দিয়ে মুছে নিলো নিষ্ঠুর মানব।, তবে প্রখর চোখে ধরা পরলো না কোনো শারীরিক যন্ত্রনার ছাপ,তবে ভাবনার অনলে ডুবে থাকা পুরুষটার ভাবনা জগৎ ভেদ করে ক্রন্দনরত রোজের দিকে ভেসে এলো দুটো গানের লাইন-

~তোমার নামের রোদ্দুরে~
~আমি ডুবেছি সমুদ্দুরে~
~জানি না যাবো কত-দূরে ~
~এখনো~
~আমার পোড়া কপালে ~
~আর আমার সন্ধ্যা সকালে ~
~তুমি কেনো এলে জানি না ~
~এখনো~
~ফন্দি আটে মন পালাবার~
বন্দি আছে কাছে সে তোমার~
~যদি সত্যি জানতে চাও~
~তোমাকে চাই~
~যদি মিথ্যে মানতে চাও ~
~তোমাকে চাই~

নিঝুম নিস্তব্ধতার মাঝে সবার আতংকে ভরা দৃষ্টিকে হতভম্বে রূপ দিয়ে ইউভান বুকের থেকে হাত সরিয়ে নিজের ফোন বের করে ভয়েস রেকর্ডার অন করলো।অতঃপর রোজের হাত টেনে ধরতেই রোজ হুমড়ি খেয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়।হঠাৎ এমন কান্ডে রোজের ঠোঁটের ফাক গলে ব্যথাতুর শব্দ “আহহ!”বের হতেই, ইউভান ভয়েস দেয় বড়বড় শ্বাস টেনে সমগ্র নির্লজ্জতা মিশিয়ে –

–“বেশি ব্যথা পাচ্ছিস সুইটহার্ট। ক্যান আই ডো’ স্লো’লি??”

ভয়েসটা আদ্রিয়ান উরুফে ভোলকভের টু’ইটার একাউন্টে ই-মেইল করার পর ইউভান কি-বোর্ডে আঙুল ঘুরিয়ে লিখলো।
—“চল অ্যাস’হোল একটু hide and seek খেলা যাক।”
“রিক এখন বেডে চু’মু খাওয়ায় ব্যস্থ, তুই খুঁজে বের কর আগে তারপর না-হয় ম’দ খেতে খেতে একসঙ্গে ওয়ে’ডিং প্ল্যানিং করবো।দরকার পরলে বাংলাদেশের বাংলা মা*ল খাওয়াবো”

শুনে রাখ!রিকের মধুর চাকের মধু শুধু রিক আলবার্ট টেস্ট করার ক্ষমতা রাখে। শালা মাদারচু*।”

নেটওয়ার্কের সিগন্যাল না থাকায় ফলস্বরূপ মেসেজ্ গন্তব্যঅব্দি না পৌছালেও টাল সামাল দিতে না পেরে ইউভান রোজের ঊরুর উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তেই রোজের অবয়বে ঝাপসা দৃষ্টি ফেললো।অতঃপর র’ক্তমিস্রিত লালাসমেত কেঁশে উঠলো ইউভান।কিন্তুু ভেতরের মন্সটার সত্তার তে’জ কমলো না একবিন্দু অব্দি।রোজের হাতে জখম হয়েও কোনো বিপরীত প্রতিক্রিয়া করলো না নরপিশাচটা।আর না হিংস্রতা ফুটে উঠলো তার মাঝে।ইউভানের এহন কান্ডে হতবাক প্রত্যেকে। রোজ ফ্লোরে হাত ভর দিয়ে রেখেছে তাকালো না ইউভানের চক্ষুপানে আর না ধরলো তাকে একবারের জন্যেও।ইউভানের দেহের নির্গত র*ক্তে ভিজে উঠেছে রোজের জামা।পরমুহূর্তেই ইউভান তার অক্ষিপল বন্ধ হতে হতে বিকৃত হাসির রেখা টানল ঠোঁটের কোনে, বিড়বিড়িয়ে উঠলো–

—“শালী।মা*রবেও আবার কাঁদবেও।রিক তোকে না নিয়ে ম’রবে না ডার্করোজ।তুই আমার রক্ত দিয়ে মুখ ভিজিয়েছিস, আমি তোর র’ক্তে সর্বাঙ্গ ভিজাবো।যাস্ট ও’য়েট সাদা নাগিন।”

–“চুপ করুন।আপনার জন্যে আমার চোখে অশ্রু ঝরছে না,আর না কখনো ঝরতে দিবো।রোজের চোখে অশ্রু শুধু তার নিয়তির নিষ্ঠুরতার ফল।”

–“চিন্তা নেই আমার র*ক্তের হিসেব না নিয়ে যাচ্ছি না কোথাও।”

–“দয়া করে আমার রক্ত আমার রক্ত করবেন না।যদি কোলে পেতাম,ছোট্ট আদুরে দুটো আঙুল ধরার সৌভাগ্য হতো, আমি কখনোও তাকে আপনার ছায়া অব্দি মা’রাতে দিতাম না।বুঝতে পেরেছেন??কলঙ্ক হিসেবেই রেখে দিতাম।দরকার পরলে আপনার অশুভ ছায়ার আড়ালে রাখতাম।”

ইউভান হাসলো–
“ডিল ডান মিসেস ইউভান, পরবর্তীতে না-হয় হা’সিল টা একটু বেশি করেই করবো।তবে আড়াল??উহুম!নেভার!”

–“আগে বেঁচে ফিরুন।”

–“কষ্ট হচ্ছে??”

“–না”

ইউভান পুনরায় হাসলো।কি জানি সেই হাসির কারণটুকু কি তা হয়-তোবা এই পাষানটা আর তার সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারোর বোধগম্য নয়!

*
এদিকে ক্রোধের তাড়নায় গর্জে উঠলো রাহা।ইউভানের অবস্থা গুরুতরো পর্যায় চলে গিয়েছে।শরীর থেকে অনেকটা রক্তপাত হওয়ায় ইমার্জেন্সি ওটিতে নেয়া হয়েছে।তবে অন্ধকার জগৎতে এসব নতুন সূচনালগ্ন না,এক দেহে বহু আঘাতের চিহ্ন থাকলেও এই লগ্নের আঘাতটা যেনো ভিতর থেকে গভীর ক্ষত ফেললো সকলের দৃষ্টিতে। রিক আলবার্ট জখম হয়েছে আর জখমকারী বেঁচে গিয়েছে এমন ঘটনা বিরল।তবে সৃষ্টিজগৎ তে কিছু আঘাতে হিংস্রতা থাকে না, থাকে এক রাশভারী যন্ত্রণার দহন।যা নিমিষেই সব জ্বালিয়ে ভৎস করতে সক্ষম।

রাহা প্রথমেই চর্তুথফ্লোরে না গিয়ে সোজা রোজের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকা অবয়বে চড়াঘাত করতেই রোজ ছিটকে পড়লো ফ্লোরে।চড়ের মাত্রা এতোটাই তীব্র বেগে আঁচড়ে পড়লো যে রোজের গোলাপি অঁধরে নিলাভ হয়ে মুহূর্তেই ফুলে উঠে।দাঁতে দাঁত পিষে রাহা রোজের চুলের মুঠি চেপে ধরলো।

—“এই মেয়ে না ম’রে গিয়েছিলো, বেঁচে উঠলো কি করে???আমার ভাইয়ের গায়ে হাত দেয়ার সাহস হয় কি করে এমন নিচু মেয়ের।আমার ভাইয়ের যদি কিছু হয় তোমাকে আমি খু*ন করবো।নোং/রা স্ল্যাটার একটা”

রাহার হঠাৎ আক্রমণে বোধশক্তি খোয়ে বসে আছে রোজ।চুলের মাঝে রাহার হাতটা চেপে ধরলো মেয়েটা। অতঃপর বিক্ষোভ ভরা কন্ঠ ছেড়ে বললো।

–“সাহস??তোমার ভাই যেমন করে আমার গায়ে হাত দেয় আমিও ঠিক সেভাবেই দিয়েছি।আর হ্যাঁ আমি কোনো নোং/রা স্ল্যাটার না।বয়সে আমি তোমার ছোট হতেই পারি বাট সম্পর্কে আমি তোমার অনেক বড়।চুল ধরার সাহস দেখাবে না আর।না-হলে আমি যদি চুল ধরি না মাথায় যে ক’টা চুল আছে সেগুলোও আর থাকবে না।”

দু’পক্ষের ঝামেলার মাঝে দামিয়ান এসে রাহার হাত খপ করে ধরে টানতে থাকে।

—“কি করছিস রাহা, ছেঁড়ে দে। “

–“দামি ভাই তুমি এই মেয়ের পক্ষ নিয়ে কথা কেন বলছো।একে বাঁচিয়ে রাখাই উচিৎ না।কিল হার রাইট নাও।”–রাহা দামিয়ানকে ধাক্কা দিয়ে সাইক্লোনবেগে দামিয়ানের রিভালবার প্যান্টের পকেট থেকে টেনে বের করেই রোজের দিকে গুলি ছুঁড়ে দিলো তবে রাহার দুর্ভাগ্যবশত কোনো গুলিই দামিয়ানের বন্দুকে ছিলো না।দামিয়ান চট করে রাহার হাত থেকে রিভলবারটা নিয়ে হালকা মাথা চুলকালো।

—“লোড নিতে মনে নেই সি’স্টার। বাই দ্যা ওয়ে তুই কি তোর ভাইকে বি’ধবা বানাতে চাস??–পরক্ষণেই দাঁত দিয়ে জিভ কেটে পুনঃরায় বলল-

–“ধুররর বা’ল।পুরুষ বি’ধবা হয় নাকি।স’রি আরেকটা বিয়ে করাতে চাস রিক কে??”

–“একশোটা করাবো দরকার পরলে,হ’ট এন্ড সে*ক্সি মেয়েদের লাইন লাগিয়ে দিবো 365 দিনে 365 টা বউ নিয়ে ঘুরবে তাও এই অযোগ্য মেয়ে না।ডি’জগাস্টিং একটা।”

রাহা রাগে কটমটিয়ে দামিয়ানের দিকে তাকালো।চোখের বিনাশ ঘটিয়েই ঠোঁট উল্টোলো মেয়েটা।ইউভান ছাড়া কে আছে দুনিয়ায় তার আর??এই একজন ব্যক্তিকেই তো দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।ক্রোধে সর্বাঙ্গ ঝলসে যাওয়ার ন্যায়।কিছু মানুষ রাগের মাঝে যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখে যেমন রাহাও শত চেষ্টা করেও শেষমেশ হাউমাউ করে কেঁদে উঠে।কর্ণার টেবিলে রাখা একটা অশ্বর সপি’স হাতে নিয়ে রোজের উপর ছুঁড়ে ফেলে হনহনিয়ে রুম ত্যাগ করে ফোর্থফ্লোরে যেতে উদ্ধত হয়।স’পিসের আঘাতে রোজের ললাট ফেঁটে দু-ভাগ হ’য়ে চিরচিরে রক্ত ঝরতে রোজ তালু চেপে ধরলো। রোজ কেমন যেনো নিস্তব্ধ হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো, কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ না করেই গ্লাস ডোরের কাছে পাঁ ফেলতেই গার্ডরা তার পথআটকে ধরলো।

“পালাবো না!যেতে দিন।”

দামিয়ান গার্ডদের সুক্ষ্ম নজরে মাথা নাড়িয়ে রোজকে যেতে দিতে বললো।রোজ হাতে থাকা উড়নাটা গায়ে জড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতে লাগলো।দামিয়ান ভেবেছিলো রোজ ইউভানের কাছে যেতে চাইবে তবে তার ভাবনাকে ভুল প্রমাণিত করলো রোজ।হাত জোড়া কেমন কেঁপে উঠছে মেয়েটার।সাদা ফ্লোরা’ল প্রিন্টের ফ্র’গটা র*ক্তে রক্তিম হয়ে আছে।দামিয়ান এক মুহূর্ত দেরি না করে রোজের পিছু পিছু আসতে লাগলো।তবে থামালো না একবারো।রোজ ফ্যাসিলিটির বাহিরে বের হয়ে গেলো।তবে সামনে থাকা একটা বড় পাইন গাছের নিচে স্যাঁত স্যাঁতে পাথরে ধপ্ করে বসে রইলো।রাত্রির স্নো’ফল তার বাদামিকেঁশে জমতে শুরু করলো।পথরের খন্ডতে বসেই মুখে দু’হাতে চেপে কেঁদে উঠলো রোজ।

দূর থেকে চাঁদের আলোয় রোজের মসৃণ অবয়বটার দিকে এগুতে লাগলো দামিয়ান।পকেটে এক হাত গুঁজে আরেক হাতে একটা ওয়াটার বো’টল।পিছন থেকে হাত বাড়ালো।

“পানি খেয়ে নাও। ভালো লাগবে।”

পেছনে কারোর কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে রোজ চ’ট করে চোখের জল মুছে নিলো।হিমশীতল হাওয়ায় অঁধর তিরতির করে কাঁপছে মায়াবতীর।

“দেখো সরাসরি একটা কথা বলি, তোমাকে আমাও ভালো লাগে রোজ।তবে তার মানে এই-না যে আমি ভালোবাসি সামথিং লাইক দ্যাট।”

কথাটা এই কারণেই বলা পৃথিবীতে মানুষ প্রেমে পড়ে বহুবার,ভালোলাগা তৈরি হয় সীমাহীন, তবে ভালোবাসা যায় শুধু একবার একজনকে।যাকে ভালোবাসা যায় তার প্রেমে আমরা বারবার পড়ি। “

“এসব কেন আমাকে বলছেন।চলে যান এখান থেকে।”

দামিয়ান এবার পাইন গাছের নিচে তুষারে ভেজা সবুজঘাসের উপর বসে পড়লো।

“তুমি তো রিকের হার্টের লাল বাত্তি জ্বালিয়ে দিয়েছো।সি’জার নাই’ফটা বড় হলে কি হতো ভেবে দেখেছিলে একবার?ম’রে গেলে তারপর কি করতে??

শুধু রিকের বউ বিধায় বেঁচে গিয়েছো নাহলে তুমি যার গায়ে হাত তুলেছো,তার ফলস্বরূপ তোমার চিহ্ন দুনিয়া থেকে মুছে দিতাম।”

“মুছে দিন দয়া করে প্লিজ! অধৈর্য হয়ে গিয়েছি।”

দামিয়ান রোজের মুখশ্রির পানে দৃঢ় দৃষ্টি ফেললো।নাকের ঢগা লাল হয়ে আছে টমেটোর মতোন।ফুলো ফুলো চোখ দুটি যেনো ভারীকষ্টে খোলে রেখেছে।দামিয়ান দু’হাতে ব্যাক পাশে হেলিয়ে দিলো ঘাসের উপর।কুয়াশাচ্ছন্ন অর্ধবৃত্ত চাঁদে দিকে চেয়ে অবিলম্বে বলে উঠলো।

❝পুরুষ যদি কোনো নারীর মধ্যে তার জন্মধাত্রীর প্রতিচ্ছবি দেখতে পায় সেই রমণীর প্রতি আকৃষ্ট হয়।তবে সেই জন্মদাত্রী যদি ঘৃণার পাত্রী হয় তা কখনোই শুভকর হয় না।❞

মানে??

দামিয়ান হাসলো।কথা পাশ কাটিয়ে পুনঃরায় তার চঞ্চলাত্য মিশিয়ে বলল।

আমি জন্মের পরও রিক কে এতো কথা বলতে দেখিনি যত কথা তোমার সাথে বলেছে। হউক না মন্দ। বাঈ দ্যা ওয়ে আমার জিগারের পার্সোনালিটিও এমন লাগামহীন কোনো কালে ছিলো না।সবি তোমার লীলাখেলা।

বাক্যক্তি শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ রোজ উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো তবে টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নিলে দামিয়ান ধরে নিলো মেয়েটার হাত।জ্বরের তাড়নায় পুরো শরীর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।গাঁ পুড়ে যাচ্ছে।


গরম সরিষার তেলের কড়াইয়ে পেঁয়াজ আর মশলা কষানোর তীক্ষ্ণ ঘ্রাণে পুরো তূর্জ হাউস যেন মৌ মৌ করে উঠেছে। তেলের ভেতর পেঁয়াজের সোনালি রং ধীরে ধীরে গাঢ় হয়ে উঠতেই তিশা সাবধানে ইলিশ মাছের মোটা টুকরোগুলো ছেড়ে দিলো কড়াইয়ে…পাশের চুলায় কুঁকাড়ে বসানো মাষকলাইয়ের ডাল টগবগ করে ফুটছে,ডালটা নাড়ছেন রোমেনা বানু,,,রোজের বয়স আর তূর্জ হাউসে রোমেনা বানুর কাজ করার বয়স সম্পূর্ণ সমান। ডাল বাগার দেওয়ার সময় কড়াইয়ে শুকনো মরিচ আর রসুনের ফোঁড়ন পড়তেই রোমেনা বানু হায় হোতাশ করে উঠলেন,

–“আমাগো রোজ ম্যাডামের তো সরিষা ইলিশ আর এই মাষকলাই, লগে চিংড়ি মাছের মালাইকারি মেলা পছন্দের। ম্যাডাম রে দেহিনা কতোটা দিন পার হইয়া গেলো।ম্যাডামরে বাদ দিয়া তার পছন্দের খানা ডি ক্যান যে আমার গলা দিয়া যায় না আপা।”

তিশা কোনো প্রতিউত্তর না করেই শাড়ির আঁচল কোমড়ে গুঁজে নিলো।সাক্ষাৎ ঘরোয়া গিন্নিদের মতো।তবে রোমেনা বানু রোজকে যেহেতু তিনি ছোটবেলা থেকে বড় হতে দেখেছেন তাই তার রোজের কথা মনে পড়বার কথা প্রতিনিয়ত।রোজ ছাড়া যে তূর্জ হাউস শূন্য।রোমেনা বানু যখন সাপ্তাখানিক এর জন্যে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন ছুটি কাটাতে দূর্ভাগ্যেবশত এসো আর রোজকে দেখতে পাননি। রোমেনা বানু পুনঃরায় বলল।

“আপা রোজ ম্যাডামের লগে কোনো যোগাযোগ নাই ক্যান?।ম্যাডামের জামাইও কোনোদিন আহে না আর না ম্যাডাম রে আইতে দেয়।বড় সাহেব কি এমনে পর কইরা দিলো ম্যাডামরে??”

তিশা কপালের কোণে জমে থাকা ঘাম হাতের উল্টো পীঠে মুছে নিলো।
“দেখো বানু।দেশের বাহিরে থাকলে এমনি।আর রোজের হাসবেন্ড চায় না বিধায় রোজের সাথে যোগাযোগ নেই আর না সে আসে।আর আমি তোমাকে সেদিনও বলেছি রোজের সাথে আমি যোগাযোগ করতে চেয়েছিলাম তবে রোজ তো আমায় ব্লকলিস্টে ফেলে রেখেছে। “

রোমেনা বানু তিশাকে পাশ কাটিয়ে রান্নারুমের সেল্ফ থেকে ধনিয়া গুঁড়া নামাতে গিয়ে ঠোঁট বাকালো।ফিসফিসানি শব্দ বের হলো তার ঠোঁটের মধ্যেখান থেকে।
“করবোই তো।ভালোই হইছে।কেমনে পাড়লেন নিজের সই এর বাপের গলায় ঝুইল্লা পড়তে”
বাক্যে বিড়বিড় করে আওড়ালেও বাতাসচক্রে ধ্বনিগতিতে ঠিকি তা তিশার কানে পৌছে গিয়েছে। তবে ক্ষিপ্ত হলো না একটুও।ডাগরডাগর আঁখি মেলে তাকালো রোমেনা বানুর পানে।

“রোজের তো ভালো লাগার কথা যে তার বাবা আমাকেই বিয়ে করেছেন।অন্যে পর মহিলা সৎ মা হওয়ার চেয়ে নিজের বান্ধবীকে সৎ মা হিসেবে মেনে নেয়া কি শ্রেয় না??বাড়িটাকে কতো সুন্দর করে আগলে রাখি আমি।তার বাবার খেয়াল রাখি।এটা কি যথেষ্ট না?”

তিশার মুখথেকে আগত কথা গুলো শুনে রোমেনা বানু যেনো নিজে লজ্জায় মাখামাখি। শুকানো ঢুক গিলে মনে মনে আওড়ালেন।

–“এ কেমন মাইয়া বা’পু।লাজ লজ্জার মাথা খাইয়া বইছে।শরীরখানে কতো-না বি’ষ ভরা থাকলে এমন এক কান্ড ঘটাইয়া আবার মুহে কইতে পারে।আমার মাইয়া হইলে নির্গাত এইডার প’শ্চাৎতে বিষ কচু লাগাই দিতাম।”

রোমেনা বানু যেহেতু এই বাড়ির গৃহকর্মী তাই আর কথা বাড়ালেন না।খানিক ভেবেচিন্তে পরক্ষণেই রোমেনা বানু মিটমিটিয়ে হাসতে লাগলেন।তার এহন হাসির রেশ্ দেখে তিশার বোধগম্য হয়ে উঠলো না কিসের তাগিতে এমন খিলখিলানি পড়েছে রান্নারুমজুড়ে।

“কি গো বানু??”

“রোজ ম্যাডাম যে বিয়া’ত্তা তা তো সাহেবের কোনো শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানে না।তো ম্যাডামের লেইগা এহোনো সমন্ধ আইয়ে মেলা।ম্যাডামের খোঁজ করে।”

“তো এইখানে হাসার কি আছে বানু।”

“আমনের মনে নাই আপা! রোজ ম্যাডাম থাকতে যে ম্যাডাম কি কান্ড বাঁধাইতো।ঐ যে একটা মেয়রের পোলা বিয়া করতে চাইছিলো,বেডার ত্রিশ বছর শুইন্না কতোই না বুই’ড়া আদ দা’মড়া কইয়া তারে আপমান করছিলো রোজ ম্যাডাম।”

“শুধু তাই! শার্টের মধ্যে বি’চুটি পাতা ঢু’কাই দিছিলো।”

“হুহ!রোজের হাসবেন্ডর বয়সও তো ত্রিশ প্লাস হবে।যদিও আমি দেখিনি তাকে সরাসরি তবে ঐ বিয়ের রেজিস্ট্রার প্যাপারে দেখেছিলাম”১৯৯৫”

“হায়!হায় ক’ন কি।ম্যাডাম তারে না আবার বি’চুটি পাতা লাগাই দেয়।”–কথাটা বলেই রোমেনা বানু ফি’ক করে হেসে ফেলেন।

রোমেনা বানু হাসলেও, তিশার মধ্যে কোনো অভিব্যক্তি লক্ষ্য করা গেলো না।অনমনে একনাগাড়ে কি যেনো ভাবতে লাগলো।প্রস্ফুটিতো মস্তিষ্ক যেনো ভাবনা ছেদ করে বিস্ফোরিত হলো তাতে।

“আচ্ছা বানু।তুমি তো আঠারো বছর যাবৎ এই বাড়িতে কাজ করো।”

“হুহ!”
“ক্যান”??

” না তেমন কিছু না বাদ দাও।–পরক্ষণেই রান্না রুম ত্যাগ করে উপরের সিঁড়ির দিকে পাঁ বাড়ালো।দু’তালায় না গিয়ে সোজা চলে এলো তূর্জ হাউজের ছাদের কার্ণিশে অবস্থিত চিলেকোঠার রুমে।মূলত এটাকে স্টোর রুম করে রাখা হয়েছে।পুরনো যাবতীয় যত আসবাবপত্র এখানে তালাবদ্ধ করে। কয় যুগ ধরে এখানে কেউ আসে না কে জানে।তিশা দরজার উপর থেকে ধুলো ঝাড়তে লাগলো।অনেক দিন কারোর আসা হয় না স্টোর রুমে।তাই ধুলো জমে গিয়েছে। কোমড় থেকে একগুচ্ছ চাবির রিং বের করে খুঁজতে লাগলো শ্যামবতী ঠিক কোন চাবিটা এই তালার সাথে মিলে যায়।একের পর এক চাবি ঘুড়ালো তবে তালা খোলার নাম গন্ধ নেই।হয়তো-বা তালাটা ঝং ধরে মরিচা পরার ফলস্বরূপ খোলছে না।তবে তিশা চেষ্টায় অটুল থাকলো।পাঁচেক মিনিট গুতোগুতি করার পর আচমকা তালা খুলে পড়ে আর তিশার হাতের ধাক্কায় দরজাটা খোলে যায়।


অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে চারটি দিন। দীপ্তিমান সময় কালস্রোতের অনল ভেদ করে নির্বাক সাক্ষীর মতো বয়ে গিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে ধীরে ধীরে অস্তমিত হচ্ছে দিবাকর র’ক্তিম আলো ছুঁয়ে যাচ্ছে বনভূমির প্রান্ত। গোধূলি লগ্ন থেকেই ঠান্ডার প্রলেপ ঘন হতে শুরু করে এখানে, হিমেল বাতাস গায়ে কাম’ড় বসায়। ফরেস্ট লাইনের সরু রাস্তা তুষারপাতে ঢাকা, পায়ের নিচে জমে থাকা বরফে চাপ পড়লেই কচমচে শব্দ ওঠে।

।রাহা একটা গোলাপি রঙের টপের উপরে লং কটির সাথে জিন্স প্যান্ট পড়ে হেঁটে চলেছে রাস্তার পানে।পাখি শিকারে বের হয়েছে তুষার দূর্বার পরিস্থিতির সম্মুখীন থাকায় শিকারে বের হওয়া হয় না অনেকটা দিন। রাহা দু’হাতে পিছনে গুটিয়ে এক পাঁ দু পাঁ করে এগিয়ে যেতে লাগলো।

তার পিছনে তুষার,হাতে হান্টিং স’টগান,চোখ সরু করে ম্যাপল গাছের লাল পাতায় তাক করে করে হাঁটছে।রাহা কণ্ঠে শীতল দৃঢ়তা,

— আমি কোনোদিনও ঐ মেয়েটাকে আমার ভাইয়ের বউ হিসেবে মেনে নেবো না।

রাহার এহন কথায় তুষার থামে না, হাঁটতে হাঁটতেই উত্তর দেয়,
— যার বউ, সে মেনে নিলে হল। তোমার মেনে নেওয়ার দরকার নেই।

মূহূর্তেই রাহার কণ্ঠে জমে থাকা ক্ষোভ ফেটে পড়ে,মনে মনে একনাগাড়ে তুষারকে কয়েকটা অকাট্য ভাষায় গালাগালি করলো।

— আপনার কি মনে হয় না ভাইয়ের অসুস্থতার জন্য মেয়েটাই দায়ী? আপনাদের চোখের সামনেই ভাইকে আঘাত করতে পারলো কী করে?

তুষার এক মুহূর্ত থেমে যায় মাথার চারকোল ডার্ক অলিভের ফ্লিপ ক্যাপটা ঠিক করে নিলো। তারপর গভীর, ভারী স্বরে বলে,

— তোমার ভাই চেয়েছিল বলেই পেরেছে। আর রোজেরও তো কয়েকদিন যাবৎ জ্বর। অসুস্থতার কারণটাও নিশ্চয়ই এতদিনে জানা হয়ে গিয়েছে তোমার।
রাহা চুপ মেরে গেলো।তুষার যে তাকে ইনডিরেক্ট’লি রোজের প্রেগন্যান্সির ব্যপারে ইঙ্গিত দিয়েছে তা বুঝতে পারলো।সামনে ঘুরে হাঁটা দিলো পুনরায়।ঘন অরণ্যের পথ বেয়ে এগোচ্ছে দু’জন। দু’পাশে রেডউড গাছগুলো সারি সারি দাঁড়িয়ে আকাশ ছুঁয়ে থাকা এই বৃক্ষগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ গাছগুলোর অন্যতম।

“হুয়াট দ্যা হেল ইজ্ দিস্! “আরে—!
রাহার শরীর মুহূর্তেই নিচের দিকে হেলে যায়। চোখের পলকে সে বুঝে ওঠার আগেই বরফঢাকা পাতার নিচে লুকিয়ে থাকা একটা গর্তে পা ঢুকে পড়ে ছন্নছাড়া মেয়েটার। ভারসাম্য হারিয়ে সে পড়ে যেতে নেয়।

“চোখ কি পকেটে নিয়ে হাঁটো??”—-তুষারের সঙ্গে সঙ্গেই শক্ত এক হাতে রাহার কোটের কলার চেপে ধরে। রাহার আধা শরীর গর্তে ঝুলে , পা দুটো বাতাসে দুলছে।চোখ মুখ খিচে রাহা বিড়বিড়ালো—

—–“হা…হাত ছাড়বেন না বলছি,যদি ম’রে যাই ভুত হয়ে প্রথম আপনার রক্ত চুষবো।”

তুষার ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি টানে।একটানে রাহাকে উপরে তুলে হাত ছেড়ে দিয়ে ভাবলেশহীন সামবে এগুতে থাকে।তবে রাহা হঠাৎ নিজের ভর নিজে সামাল দিতে না পেরে ভিঁজা মাটিতেই লেপ্টে পড়ে একাকার অবস্থা বাঁধিয়ে বসে।রাহা দাঁত কটমট করলো।

—– “উফফ!বন-পাঠা একটা,you are full of a shi*t!কোমড় টা মনে হয় ভেঙ্গে গেলো আমার।আপনার সাথে আসাই ভুল আমার। “

–“আসতে কে বলেছে?আমি তো বলিনি।”

রাহা ধীরে ধীরে গাছে ভর দিয়ে উঠে নিজের হিল জুতো গুলো হাতে নিয়ে এগুতে থাকে।মনে মনে বলতে থাকে, এই পাঠার মতো দামড়া লোকের মে’শিনে নির্গাত সমস্যা আছে,না-হলে ঘন জঙ্গলে এতো হ’ট একটা মেয়েকে একা রেখে যেতে পারে কেউ।শীট!!!”


|Empire of DARK Y.V|

ইউভানকে ওটি রুম থেকে সরাসরি তার ম্যাট ব্ল্যাকের লাক্সারিয়াস ফার্ম হাউজে নিয়ে আসা হয়।তবে রোজ ইউভানের মাস্টার বেডরুমের দরজাটার দিকে পাঁ অব্দি বাড়ায়নি একবারের জন্যেও। ফার্মহাউজের নিচতলায়, মূল সিঁড়ির বাঁদিকে থাকা রুমটাতে তার অবস্থান।ঠিক যেমন করে আলবার্ট ম্যানশনে থাকতো মেয়েটা।ম্যানশনে যেহেতু মে’ইডদের রুমে তার জায়গা হয়েছিলো তাহলে এখন কেন তা পরিবর্তন হবে।এখনো সে এভাবেই থাকবে।রোজ নিজেই নিজেকে এই রুমের ভেতর বন্ধ করে নিয়েছে।যদিও দরজার বাহিরে সর্বক্ষণ গার্ডের কড়া পাহাড়ায় বন্দী মেয়েটা।দরজার এপাশেই তার দিন রাত্রি থমকে আছে।ইউভানের হুঁশ ফিরলে সে তাকে আবারো বন্দিনী বানাবে এই ভয়টুকু তার মনে আসেনি তা নয়।কিন্তু তার চেয়েও ভয়ংকর সত্য হলো, সে আগেই নিজেকে বন্দী করে ফেলেছে।তবে হিসাব এখনো শেষ হয়নি বরং বাকি আছে অনেক।

ক’দিন যাবৎ সহ্যসায়ী শরীরটা নিয়ে বিদ্রোহ করছে।জ্বরের উত্তাপে শরীর পুড়েছে, মাথা ভারী হয়ে আছে অদ্ভুত এক ঝিমুনিতে।
বিছানা ছাড়ার শক্তিটুকুও যেন আর অবশিষ্ট নেই।
চাদরের ভেতর কুঁকড়ে পড়ে ছিলো রোজ। হাঁটু ভাঁজ করে, শীত আর জ্বরের দ্বৈত আক্রমণে কাঁপতে কাঁপতে।বে’লকনির জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া শীতল বাতাসও তাকে টানতে পারেনি উঠে দাঁড়া করাতে পারেনি।

সূর্য পশ্চিম দিগন্তে লাল আভা ফেলতেই রোজ খানিকটা আড়মোড়া হয়ে বিছানা ছেড়ো উঠে পড়লো।অত্যন্ত তীক্ষ্ণ নজরে পরখ করতে লাগলো বেলকনির ফাক গলে বহিঃপরিবেশটাকে।ভেতরটা দম্ বন্ধ করা হলেও বাহির টা দারুণ চমৎকার। রোজ বেডের পাশ থেকে একজোড়া স্লিপার পড়ে দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। প্রতিবারের মতো ভাবলো হয়তো-বা হাতির ন্যায় কালো পোশাকধারী লোকগুলো তাকে আটকিয়ে দিবে তবে তা হলো না, রোজকে যেতে দিলো।

বিশাল গম্বুজ আকৃতির হলরুমের মধ্যিখানি ডায়মন্ডকা’টের বিশাল ঝাড়বাতির নিচে সোফায় এক রমণী বসে আছে উত্তর কোণে ফায়ারপ্লেসের পাশে বড় টিভির স্ক্রিনে লাগানো ইন্দোনেশিয়ান হরর ফিল্ম।কৌতূহলের বশীর্ভূত রোজ জানতে ব্যাকুল হয়ে পড়লো কে সে।কেননা মেয়োটার চুল ঘন কালো।আর রাহার চুল তো সোনালী রঙা তাহলে এই রমণী নিশ্চয়ই রাহা হবে না সেই ভেবে এগিয়ে যেতে লাগলো রোজ।

হঠাৎ উপর থেকে কিছু একটা পড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ বিষাদিনীর রন্ধ্রে ঢুকতেই রোজ উল্টো ঘুরে উপরে যেতে লাগলো।কার্ভের অধঃনমনের সোপান পারি দিয়ে রোজ উঠতে লাগলো।উপরের বামদিকে সব মাস্টার বেড রুম গুলো।আর রোজে রন্দ্রে যে শব্দটা এসেছে তা মূলত ইউভানের যে কক্ষে তা থেকে।ইউভানের মাস্টার বেডরুমের সামনে এসে পাঁ থামিয়ে দেয়।

ঢুকবে কি ঢুকবে না তা নিয়ে দ্বিধায় ভুগে উদ্যমী ভঙ্গিমায় ঢুকলো।তবে সাউন্ড প্রুফ রুম থেকে যে শব্দ বাহিরে যায় না তা বুঝতে পারলো না রোজ।ভাবলো এখানে কিছু হ’য়েছে।

চাত’ক পাখির ন্যায় রুমটাতে চক্ষুবুলালো।একটা শুকনো ঢুক গিলে আরেকটু সামনে এগুতে দেখলো কিং সাইজ ম্যাট বেডে ইউভান শুয়ে আছে।ছ’য় তাক বিশিষ্ট বুকে সাদা ব্যান্ডেজের প্রলেপ।রোজ একটা ভারী শ্বাস টেনে তাচ্ছিল্য হাসলো।

“প্রত্যেকটা মানুষকে তার কর্মের শাস্তি ভোগ করতে হয় ইউভান।যতটা যন্ত্রণা আপনি আমাকে দিয়েছেন, তার একাংশও আমি আপনাকে দিতে পারি নি। উঠুন!”

বেডের পাশে কর্ণার টেবিলে গোল্ডেন ল্যামম্পের পাশে একটা হেক্সিসল এর বোতলের উপর চোখ পড়তেই রোজের মস্তিষ্কে হানা দেয় পুরনো ঘটনা।ততক্ষণাৎ হেক্সিস’লের বোতলের ছিপি খুলে ইউভানের মুখের উপর ঢেলে দেয় পুরোটা।ফর্সা মুখটা ভিজে সিল্কি চুলগুলো ললাটে লেপ্টে পড়ে। রোজ হালকা ঝুঁকলো, ইগলের মতো তীক্ষ্ণ ধারযুক্ত দৃষ্টি ফেলে ইউভানের কথাই তাকে রিপিট করলো।

–“I am not a heroin! i am a villain..
if you are a game changer then i am a game creator!…

বাহিক্যদূরত্ব খণ্ডিত করতে পারলো না রোজ। পিছন ঘুরতেই তপ্ত সরোবরের একটা অবউষ্ণ হাত চেপে ধরলো তার কব্জি।রোজের সরু হাতের কব্জির মধ্যেখানের হাড় যেনো মুহূর্তেই কটমট শব্দ করে উঠলো।

চলবে??

পরবর্তী পর্ব পেতে অবশ্যই রেসপন্স করবেন। এবং গঠনমূলক মন্তব্য করবেন।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply