Golpo কষ্টের গল্প খাঁচায় বন্দী ফুল

খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৬


কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️

খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৬

jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস

পর্ব – ২৬

বারান্দার উপর পরে আছে জেবার নিথর দেহ। আদৌ শ্বাস চলছে কিনা কেউ বলতে পারবেনা। লতিফা নিজের গায়ের শালটা মেয়েটার গায়ের উপর ছড়িয়ে দিল। মিনিট দশেকের মধ্যেই মানিক ডাক্তার সাথে করে চলে এসেছে। ডাক্তার এসে জেবার নাড়ি পরীক্ষা করে বলল
“আরে উনি তো বেঁচে আছেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন”

ডাক্তারের কথায় হচকচিয়ে উঠলো সবাই। হাজার হোক বাড়ির অতিথি। এমন অবস্থায় জেবার কোনো ক্ষতি হয়ে গেলে হাবিব মুখ দেখাবে কি করে শ্বশুর বাড়িতে। তুযা মানিককে গলা করে ডাকে
“ওই মানিক, জলদি গাড়ি বাইর কর”

তুযা আর সাইফ জেবাকে গাড়িতে তোলে। শরীরটা একদম নিস্তেজ। গ্রামের হাসপাতাল তুযাদের বাড়ি থেকে প্রায় আধা ঘণ্টার পথ। সঙ্গে আর কাউকে নিলো না। অদিতি যেতে চাইলেও সাইফে যেতে বারণ করল। তুযা যত দ্রুত সম্ভব গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছে। গ্রামের রাস্তা এত জোরে গাড়ি ছুটানো যায় না। বাড়ির সকলে চিন্তিত হঠাৎ করে জেবার কি এমন হয়ে গেল। বাড়ির কেউ আর ঘুমাতে পারল না। দেখতে দেখতে ফজরের আযান পড়ে গেছে। বাইরে রান্নাবান্না শুরু হয়ে গেছে। অদিতি কবিতাকে গোসল করিয়ে জামা পরিয়ে দিল।

বাড়িতে নদী দীঘির কি অবস্থা কল দিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় না কাল থেকে। আঞ্জুমান কল করে নদীর সাথে কথা বলে নিলো। বেলা 9 টা দশটার দিকে সাইফ বাড়িতে আসলো। জেবার জ্ঞান ফিরেছে। হাতে স্যালাইন লাগানো। বাড়ি থেকেও লোকজন এসেছে জেবার কাছে। তুযা একটু পর আসবে। সাইফ গোসল করে পাঞ্জাবি টুপি পরে মিলাদে বসলো। দোয়া – মাহফিল শেষ হলে গ্রাম বাসি কে খাবার পরিবেশন করা হলো। সারাদিন চলে গেলো ব্যাস্ততায়। তুযা বাড়ি ফিরেছিলো দুপুরে। এদিকের খাওয়া-দাওয়া সব কিছু মিটে গেলে সকলে সব গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ২০- ২২ জন কাজের লোক মিলে সব তাড়াতাড়ি গুছিয়ে ফেলল।

কবিতা সন্ধ্যা থেকে বায়না ধরেছে দোকানে যাবে মজা কিনতে। তুযা বাবার সাথে জরুরী আলাপ আলোচনা করতে ব্যস্ত। বাধ্য হয়ে ছাইফি নিয়ে গেল কবিতাকে জাবেদের দোকানে। কবিতার গায়ে একটা উলের সোয়েটার আর সাইফের গায়ে একটা কালো রঙের মোটা শাল। সাইফ যেতে যেতে কবিতাকে বলল,
“স্কুলে ভর্তি হয়েছো?”

“ হ”
“কোন ক্লাসে?”
“ওয়ানে”

হঠাৎ বাচ্চা সুলভ রিনরিনে কন্ঠে কবিতা বলে উঠলো
“জানো চাচ্চু আব্বায় কইছে আমারে জ্যোৎস্নার মত শিক্ষিত বানাইবো। তুমি কি জানো জোসনা কেডা?”

সাইফ মুচকি হাসলো। কিছুটা সময় নিয়ে বলল
“জোৎস্না বুবুর মতো শিক্ষিত হওয়া মা। কিন্তু তারপর আর আমার দাদাভাইরে ধোকা দিও না। তুমি প্রমাণ করে দিও, শিক্ষিত হলেই মেয়ে মানুষ বেইমান হয় না”

কবিতা ছোট ছোট চোখ করে সাইফের দিকে তাকায়
“চাচ্চু বেইমান কি?”

সাইফ প্রসঙ্গ পাল্টায়। ততক্ষণে তারা জাবেদের দোকানে চলে এসেছে
“কি খাবে আম্মা? ওইখান থেকে নাও যেটা ভালো লাগে”

কবিতা এগিয়ে গিয়ে বড়দের মতো করে জাবেদ কে বলতে লাগলো
“ও জাবেদ মামা, মুরগির গোশত দিয়ে চপ ভাজছো নি?”

জাবেদ কাজে খুব ব্যস্ত, গলা উঠিয়ে বলল
“দশটা মিনিট বহো আম্মা। এই যে হয়ে গেছে আমার।”

কবিতা তুযার সাথে এসেছে প্রায় আট নয় দিন হলো। এর মধ্যে অনেকবার এসেছে জাবেদের দোকানে। পরিচিত হয়ে গেছে দুজন। কবিতা গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে সাইফের সামনে দাঁড়িয়ে বলল
“তুমি খাবা গোশতের চপ? ম্যালা ভালো হয় কিন্তু জাবেদ মামার সব”

সাইফ হেসে কবিতার গাল টিপে দিয়ে বলে
“আমার আম্মা যখন বলেছে, খেয়ে তো দেখতেই হয়। এ জাবেদ ভাই আমারেও দিও”

“হ দিমু ছোট ভাই, একটু বহেন”

সাইফার কবিতা মাচালের উপর বসলো। কবিতা বাহ দুলিয়ে দুলিয়ে নানা রকম ছড়া কাটছে আর সাইফকে শোনাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জাবেদ চপ ভেজে একটা ঠোঙায় করে দিল সাইফের হাতে। সাইফ টাকা দিয়ে কবিতার হাত ধরে বাড়িতে নিয়ে গেল।

অদিতি ব্যাগ পত্র গোছাচ্ছে। কালই চলে যাবে তারা। গোছানোর মধ্যে শুধু সাইফের জামা কাপড়। অদিতির যে বাকি তিনটা শাড়ি ছিল সবগুলোই জেবা কুটি কুটি করে কেটে দিয়েছে। ওগুলো ফেরত নিয়ে বা কি করবে অদিতি। সাইফ এসে আচমকা পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। অদিতি পুরোপুরি অন্যমনস্ক হয়ে কাজ করছিল হঠাৎ সাইফ এমন ধরায় চমকে উঠলো।
“আআআআআআ”

সাইফ ওমনি অদিতির মুখ চেপে ধরল।
“আমার ইজ্জতের বারোটা বাজাবে নাকি?”

অদিতি নিজের মুখ থেকে সাইফের হাতটা সরিয়ে বলল
“ওহহ আপনি। এমন হুটহাট চলে আসেন কেন? ভয় পেয়ে গেছিলাম আমি”

অদিতি ফের পিছনে ঘুরে আবার জামা কাপড় ব্যাগে ভরে মন দিল। সাইফ অদিতির ঘাড়ের চুলগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে সেখানে আলতো করে চুমু খেয়ে বলে
“বউ, ওওওওও বউ”

অদিতি বেশ বুঝতে পারছে সাইফের গলার স্বরে, কি উদ্দেশ্যে এসেছে সে। তাই পাত্তা দিল না সাইফ কে। চলে গেল আলমারির কাছে। ওখানে সাইফের ঘড়ি, কিছু দরকারি ওষুধ, আর মোবাইলে চার্জার। সেগুলোও ব্যাগে ভরে নিল। অদিতি যেখানে যাচ্ছে সাইফও আঁচল ধরে পিছনে পিছনে যাচ্ছে। অদিতি সাইফের এমন বাচ্চা পনা দেখে বলল।
“কি করছেন টা কি? আমার আঁচল ধরে এমন করছেন কেন?”

সাইফ অদিতির আঁচল কামড় দিয়ে ধরল।
“কতদিন তোমায় আদর করি না বউ বলো?”

“ঢং করবেন না। কালই আমরা বাড়িতে যাব। আপনার এসব নাটক আপাতত বন্ধ রাখুন”

সাইফ অদিতির কোমর টেনে ধরে নিজের দিকে আরো মিশিয়ে নিয়ে বলল
“তুমি তার মানে বলতে চাইছো বাড়িতে গিয়ে…..”

অদিতি সাইফের কথা শেষ করতে দিল না,মুখ চেপে ধরল। বুকের ধুপ ধাপ কতগুলো কিল বসিয়ে বলল
“নষ্ট মন মানসিকতা নিয়ে থাকে। নষ্ট লোক একটা। যান সরুন”

সাইফ আরো টেনে ধরলো অদিতিকে। জোর করে জড়িয়ে ধরে কতগুলো চুমু খেলো। অদিতি রাগ করতে করতে শেষমেশ নিজেও হেসে ফেলল।
“ছাড়ুন বলছি, কেউ দেখলে কি ভাববে ছি”

সাইফ সরে দাঁড়ালো। নিজের কলার টা ঠিক করে বলল
“ওকে তাহলে বাড়ি গিয়ে সব হবে কেমন”

—-

বিকেল থেকে নদী এক নাগাড়ে কে কল করে চলেছে তুমুলকে। ধরার নাম নেই। নদী চিন্তিত হয়ে এদিক ওদিক পায়চারি করছে। রাত 9 টা বেজে গেছে এখনো কল ধরছে না তুমুল। নদী ফোনটা সোফার উপর রেখে মনমরা হয়ে কুশনটা হাতে নিয়ে বসলো। ওমনি কল আসলো তুমুলের। নদী রিসিভ করে কানে নিলো। হ্যালো বলার আগে তুমুল বলল
“দরজা খোলো”

নদীর চোখ বড় বড় হয়ে আসে। একটু আগে আঞ্জুমানের সাথে কথা হয়েছে। কালকে ভোর বেলায় বাড়িতে ফিরে আসবে তারা। এই লোকটা এর মধ্যে কেন এসেছে? নদীর দ্রুত গিয়ে দরজা খুলে দেয়। কিন্তু তুমুল ভিতরে ঢুকতে নিলে দু হাত দিয়ে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
“দাঁড়ান দাঁড়ান। সকালে বাড়ির সকলে ফিরে আসবে। আপনি আজ থাকবেন না। প্লিজ জান প্লিজ প্লিজ।”

তুমুল নদীর হাত সরিয়ে দিয়ে গটগট করে ভিতরে ঢুকে এলো। বাধ্য হয়ে নদী ও দরজা বন্ধ করে তুমুলের পিছন পিছন গেল। তুমুল ড্রয়িং রুমে এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না সোজা চলে গেল নদীর ঘরে। নদী দৌড়ে এসে তোমার সামনে দাঁড়ালো। খানিকটা চেতেই বলল
“কি বলছি শুনতে পাচ্ছেন না আপনি? আপনি আপনি কি চান আমার বাড়িতে কোন সমস্যা হোক? বলছি তো সকালে সবাই ফিরে আসবে। আপনি এখন জান আজকে থাকবেন না”

তুমুল কেমন অসহায় ভাবে তাকালো নদীর দিকে। মাথা নিচু করে ছোট ছোট করে বলল
“আমার তো আমার বউয়ের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছে করে। এটা কি দোষের কিছু”

নদী এবার একটু দমে আসে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে
“দেখুন আমিও জানি এটা দোষের কিছু না। আমি আপনার বিবাহিত হালাল স্ত্রী। কিন্তু এখন পরিস্থিতিটা এমন…..”

তুমুল নদীর কথা শেষ করতে দেয় না। হাত ইশারা করে থামতে বলেন নদীকে। হাতে থাকা প্যাকেটটা নদীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে
“ভালবাসলে পরিস্থিতি বুঝতে হয় না। পরিস্থিতির দোহায় খুব জঘন্য একটা জিনিস আমার কাছে। পরবর্তীতে এমন এক্সকিউজ আমাকে দেবে না।”

তুমুল বেরিয়ে যেতে লাগলে নদীর তুমুলের বাহু টেনে ধরল।
“শুনুন….আপনি”
তুমুল এক ঝটকা নদীকে নিজের থেকে সরিয়ে দিল
“ব্যাস আর কোন কথা বলবে না তুমি। আমি চাইলে তোমাকে এতদিন আমার নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারতাম। তোমার বাড়ির লোকের সাথে আমাদের বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে পারতাম। কিন্তু আমি বলিনি, কারণ তুমি চাওনি। সবকিছু তো নিজের মন মত হয় না নদী। জীবনটা তো আমাদের দুজনের, এখানে দুজনের মতামত ই থাকা উচিত। আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাকে বিয়ে করেছি, স্ত্রী তুমি আমার। তোমাকে ছাড়া থাকতে পারিনা আমি।”

নদী মাথা নিচু করে ফেলে। এর বিপক্ষে যুক্তি দেয়ার মতো কোনো কথা নদীর নেই। তুমুল আবারো বলে
“তোমার যদি কখনো মনে হয় যে আমাকে ছাড়া তুমি থাকতে পারছো না। আমাকে কল দিও। আমি সেদিন আসবো। তার আগে আর তোমার চোখের সামনে আমি আসব না।”

তুমুল যখন দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে যায় তখনই নদী কেঁদে ফেলে। তুমুল নদীর কান্নার শব্দে আবার ফিরে আসে । নদী ভাবে তুমুল চলে গেছে। ফ্লোরে বসে কান্না করতে লাগলো। তুমুল এসে নদীর সামনে দাঁড়ায়। নদী তুমুলের পা দেখে কান্না বন্ধ করে ফেলে। উপর দিকে তাকিয়ে দেখে তুমুল ওর দিকে তাকিয়ে আছে। নদীকে টেনে তুললো তুমুল। আলতো করে বুকে জড়িয়ে নিলো। ভালোবাসার মানুষের উষ্ণতা পেয়ে নদীর কান্না যেন আরো ফেটে পড়ল। তুমুলের বুকের শার্ট খামচে ধরে আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো।

তুমুলের ঠোঁটে মিটিমিটি হাসি। নদীর মাথায় ছোট ছোট কয়েকটা চুমু খেয়ে বলল
“সরি বাবুই। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।”

নদীকে দিয়ে চলেছে। তুমুল নদীর পিঠে আলতো হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল
“সরি পাখি। আর বকবো না, কখনো না।”

নদী কান্না করতে করতেই বলল
“বললেন কেনো আসবেন না আর?”

“রোজ আসবো আমি বাবুই। আমার পাখিকে না দেখে কি আমি থাকতে পারি নাকি?”

নদী চোখ মুছে তুমুলের থেকে একটু দূরে সরলো। মাথা নিচু করে বলল
“ওরা যদি ভোরে চলে আসে আর আপনাকে দেখে ফেলে। তাই জন্যে…..”

“আমি তোমাকে ঘুম পারিয়ে দিয়েই চলে যাবো। প্রমিস”

নদী কথা বলে না। আগের মতোই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
“কাল আসলেন না কেন? আজ না এসে গতকাল আসতেন”

“গতকাল তো তোমার শরীর ব্যাথা ছিলো”

নদী চোখ বড় বড় করে তাকায় তুমুলের দিকে। তুমুল চোখ মারে। নদী রেগে বলে
“থাকা ক্যান্সেল। যান চলে যান”

“সত্যি যাবো?”
“না”

তুমুল শব্দ করে হেসে জড়িয়ে ধরে নদীকে।
“আমার মিষ্টি বউ”

—–

সকাল সকাল প্রধান বাড়িতে ফের কান্নাকাটি পরেছে। বাড়ির ছেলে বউরা ঢাকায় পেয়েছে আবার। লতিফা চেয়েছিল আরো গোটা কয়েকদিন তারা থাকুক। কিন্তু বাড়িতে মেয়ে দুটো একা আছে। তার ওপর তাদের কাজবাজ সব ফেলে চলে এসেছে। সেগুলো করতে হবে গিয়ে। তুযা মন মরা হয় বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। কবিতা কান্না জুড়েছে ছোট মাকে যেতে দিবে না।

সকলকে গাড়িতে তুলে দিয়ে লতিফা বেগম গেটের কাছে দাঁড়িয়ে কান্না করতে লাগলো। তুযা মাকে ভিতরে নিয়ে আসে। লতিফা কান্না করতে করতে বলে
“ মা তো চইলা গেলো গা। এই ঘরে আর আমার মন বইবো না। তুই এক কাম কর বাবা, তুই জেবা রে বিয়া কর”

তুযার আত্মা ছিটকে যায় আরেক জায়গায়। ওঔ ধারি খাসি রে বিয়ে করবে তুযা? জীবনেও না। জেবার কথা মনে হতেই তুযার মনে পড়লো জেবা তো হাসপাতালে এখনো।
“ওকে দেখে আসা উচিত। কিন্তু মা কে এই কথা জানানো যাবে না। নইলে ওই মোডা রে আমার ঘারে গছাই দিবে”

“আইচ্ছা আম্মা কবিতারে দেইখো যেনো বাড়ির বাইর হয় না। আমি যামু এক জায়গায়”

লতিফা ঘরে গিয়ে ওয়াহাব এর পাশে বসলো। মানুষটা বড় শোক পেয়েছে।

সাইফ দের বাড়ি পৌছাতে ১০ টা বাজলো। দীঘি ড্রইং রুমে বসে বসে পড়ছে। কলিং বেল বাজতেই দরজা খুললো গিয়ে। সবাই ভিতরে আসে একে একে। আঞ্জুমান দীঘিকে বলে
“ নদীকে বলতো তোর চাচ্চুর ওষুধ টা একটু দিয়ে যেতে”

দীঘি কাল তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গেছিলো। তুমুল যে এসেছে বলতেই পারবে না। আঞ্জুমান কে বলল
“কিন্তু আপু তো ঘুমাচ্ছে”

আঞ্জুমান ও সায়রা দুজনের কপালেই চিন্তার ভাঁজ পড়লো। নদী তো এত বেলা অব্দি ঘুমায় না কখনো।
“শরীর খারাপ করলো নাকি? ও তো ভোরবেলা উঠে”

দীঘি উঠে যেতে লাগলে নদী বলল
“আপু তুমি পড়ো আমি দেখে আসছি”

অদিতি গেলো নদীর ঘরে নদীকে ডাকতে। দরজা টুকাচ্ছে অনেকক্ষণ হলো কিন্তু ভেতর থেকে সারা শব্দ আসছে না। নদী তখনো ঘুমন্ত অবস্থায় তুমুলের নগ্ন বুকে শুয়ে। দরজার ঠকঠকানিতে কপাল কুচকায় নদী। তুমুলেরও ঘুম ভেঙ্গে যায়। তুমুল ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে
“এই সাত সকালে কে চলে এলো আবার আমাদের ডিস্টার্ব করতে?”

নদী ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলল
“দিঘি ছাড়া কে আর হবে? দাঁড়ান দরজা খুলে আসছি”

নদী আরমোড়া ভেঙে উঠে যায়। চোখ ডলতে ডলতে গিয়ে দরজা খোলে। দরজা খুলতে দুজনেই চমকে ওঠে। নদীর চোখ যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম। ভুলে গিয়েছিল যে সকালে সবাই বাড়ি আসবে। দরজার সামনে অদিতও দাঁড়িয়ে আছে। অদিতিও দেখলো বিছানায় তুমুল খালি গায়ে শুয়ে আছে। নদী কাপা কাপা গলায় বলল
“ভা….ভাবি…আ.আসলে”

সাইফ পেছন থেকে ডাকলো আদিতিকে
“কই উঠেছে নদী?”

অদিতিও গলা উচিয়ে বলল
“হ্যাঁ উঠেছে। আপনি রুমে যান আমি আসছি।”

অদিতি শক্ত চোখে নদীর দিকে তাকিয়ে। ভাড়ি গলায় বলে
“তোমাকে তো ভালো ভেবেছিলাম নদী আপু। তুমি এতটা নোংরা? বাড়ির কেউ বাড়িতে নেই এই সুযোগে অন্য একটা ছেলেকে নিয়ে রুমের মধ্যে…. ছিঃ ছিঃ আমার বলতেও লজ্জা করছে।”

নদী অদিতির হাত ধরে বলল
“তুমি যেমনটা ভাবছো তেমনটা আসলে নয়। একবার শোনো…..”

অদিতি এক ঝটকায় সরিয়ে দেয় নদীর হাত
“তোমার এরূপ তো বাড়ির সকলের দেখা উচিত। আমি মা বাবা, কাকা কাকি সবাইকে ডাকছি”

চলবে?

একিইইইই 😯 কমেন্ট হচ্ছে না কেন আগের মতোওওও। দিবো নাকি নদী আর তুমুলের ঝামেলা পাকিয়ে হু 🌚👀

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply