প্রণয়ে_গুনগুন
পর্ব_১১
মুন্নিআক্তারপ্রিয়া
চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আছে গুনগুন। জানালা দিয়ে সকালের নরম আলোটা ঘরে ঢুকেছে। মৃদুমন্দ বাতাসে জানালার সাদা রঙের পর্দাটি হালকা দুলছিল। গুনগুন নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে সেদিকেই। মন মস্তিষ্ক তখন দুশ্চিন্তার ঘরে। দুশ্চিন্তা বলবে নাকি নিজের জন্য চিন্তা বলবে ঠিক বুঝতে পারছে না গুনগুন। মানুষের সরাসরি রিজেকশনও বোধ হয় এতটা কষ্ট দেয় না, যতটা কষ্ট দেয় মানুষের অবহেলা এবং এড়িয়ে চলা।
মনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে গুনগুন এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। সেই সাথে সে ভীষণ হতাশ। এতগুলো দিন সে কার অপেক্ষায় ছিল, কার জন্য অনুভূতির পশরা সাজিয়ে রেখেছিল সেই হিসাব গুনগুন কোনোভাবেই মেলাতে পারছিল না। মাহবুবের একটা কল ও মেসেজের আশায় থাকতে থাকতে গুনগুন পাথর হয়ে গিয়েছে। অনুভূতিগুলোও ম’রে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। রাগ ও ক্ষো’ভ হচ্ছে নিজের প্রতি। গুনগুনের এটা বুঝতে আর আপত্তি নেই যে, সে এতটাদিন একটা মরিচিকার পেছনে ছুটছিল। একটা মোহ তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল গোলকধাঁধায়, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। শুধু ছিল আটকে যাওয়ার রহস্যময় পথ। মায়ার পথ। এই মিছে মায়ায় জড়িয়ে যে আর কাজ নেই গুনগুন সেটাও বুঝতে পেরেছে। তবুও অবুঝ মন মাঝে মাঝে খুব পাগলামি করে। মানতে চায় না। বেশি কিছু না, শুধু একটু ক্ল্যারিফিকেশন চায়। কারণ জানতে চায়। মাহবুব যেন সেটুকু জানাতেও ব্যর্থ! গুনগুনের বুকের অতল গহিন থেকে ভারী দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। সে মাহবুবকে আর কিছুই বোঝাতে চায় না। কারণ সে এখন নিজেকে বোঝাতে শুরু করেছে।
ফোনের রিংটোন বেজে উঠতেই ভাবনার ঘোর কাটে গুনগুনের। সে সোজা হয়ে বসে টেবিলের ওপর থেকে ফোন নিয়ে দেখে প্রণয় কল করেছে। গত পরশুর পর থেকে প্রণয়ের সাথে ওর সম্পর্কটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে আগের মতো কিছুই নেই। প্রণয় এখন আর আগের মতো নিয়ম করে কল করে না। গুনগুনও এটা আশা করে না। তার এখন একা থাকতেই ভালো লাগে। যদিও গুনগুনের এখন কথা বলার মতো মানসিকতা নেই, তবুও গুনগুন কলটা রিসিভ করবে ভাবছিল। কারণ প্রণয়ের অনিয়মিত কল যেহেতু আসে, হতে পারে এখন কোনো প্রয়োজনেই কল করেছে।
গুনগুন কল রিসিভ করতেই প্রণয় বেশ স্বাভাবিক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“কেমন আছো গুনগুন?”
গুনগুন নিস্তেজ কণ্ঠে জবাব দিল,
“ভালো। আপনি?”
“আমিও ভালো আছি। আজ সকাল থেকে উঠেই তোমার কথা মনে পড়ছিল। তাই কল দিয়েছি। বিরক্ত করার জন্য সরি। নাস্তা করে নিও। রাখছি।”
গুনগুন চুপ করে রয়েছে। প্রণয়ও নিশ্চুপ। রাখছি বললেও প্রণয় কল কাটেনি। নিরবতা পালন করার পরও গুনগুনও যখন কল কাটছে না খেয়াল করল প্রণয়, তখন জিজ্ঞেস করল,
“তোমার কি মন খারাপ?”
গুনগুন জবাব দিতে পারল না তৎক্ষণাৎ। শুধু ভারী দীর্ঘশ্বাস নিল। সময় নিয়ে বলল,
“না।”
“ছোটো একটা উত্তর ‘না’। তবুও এটা বলতে যখন তোমার এত সময় লাগল, তখন এখানে আর সন্দেহ নেই যে তোমার মন খারাপ। কী হয়েছে বলো? অন্তত বন্ধু ভেবে তো বলতেই পারো। তোমার মন খারাপ কী নিয়ে?”
“মন খারাপ না। সময় খারাপ।”
“খারাপ সময়ের পরেই ভালো সময় আসে।”
গুনগুন হাসল। প্রণয় এই হাসির মানে বুঝতে পেরেছে। নিজের প্রতি হতাশ ও তাচ্ছিল্য মিশে ছিল হাসিতে। তবে কিছু বলল না তখনই। গুনগুনকে সময় দিল নিজেকে সামলানোর এবং নিজ থেকেই কিছু বলার।
গুনগুন চেয়ার ছেড়ে উঠে জানালার পাশে দাঁড়াল। সূর্যের নরম আলোটা এখন গুনগুনের মুখে পড়ছে। জানালার গ্রিলে হাত রেখে গুনগুন বলল,
“আমার জীবনে ভালো বলে কিছু নেই। কোনো ভালো হয়ও না আমার সাথে।”
“তুমি নিজেই তো ভালো, গুনগুন। সবার জন্য তুমি ভালো। তোমার সাথেও ভালো হবে একদিন।”
“আচ্ছা।”
“তোমার খারাপ সময়টা খুব বেশি দিন স্থায়ী থাকবে না। তুমি ভালো থাকবে। আগের মতো হাসবে, প্রাণবন্ত হবে।”
“সেই দিনটা কবে আসবে?”
প্রণয় কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
“জানিনা। তবে এটা জানি, তুমি আগের চেয়েও বেশি ভালো থাকবে।”
“আমার আর ভালো দিন চাই না। খারাপ সময়ের সাথেই আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি এখন।”
“তুমি যে এত অভিমানি জানতাম না।”
গুনগুন জবাব দেওয়ার আগে সুমনা বেগম এলেন রুমে। ভেতরে ঢুকে বললেন,
“তোর আব্বু ডাকছে। শুনে যা।”
গুনগুন বলল,
“আসছি।”
প্রণয় শুনেছে দুজনের কথাই। তাই নিজে থেকে বলল,
“ঠিক আছে। পরে ফোন দেবো তাহলে।”
“আচ্ছা।”
প্রণয় কল কেটে দিয়ে চুপ করে বসে আছে। গুনগুনের হঠাৎ এমন উদাসীনতা তাকে পীড়া দিচ্ছে। এর কারণ কী সে জানে না। এমনকি গুনগুন কেন এতটা ভেঙে পড়েছে এটাও সে জানে না। জিজ্ঞেসও করেনি। মাহবুবের বিষয়েও সে কোনো প্রশ্ন করেনি গুনগুনকে। প্রণয়ের সবসময় মনে হয়েছে, সীমা লঙ্ঘন না করাই ভালো। গুনগুন তার অনেক উপকার করেছে। সেও গুনগুনের উপকার করেছে। তার মানে এই নয় যে, কেউ কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার অধিকার পেয়ে গিয়েছে। গুনগুন নিজেও কখনো প্রণয়ের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেনি। জানতে চায়নি কিছু। এমনকি কোনো কৌতুহলও দেখায়নি। প্রণয়ও এটা শিখেছে গুনগুনের থেকেই। যদিও সে গুনগুনকে ভালোবাসে, ভীষণ করে চায়। তবে সেটা এক তরফা। গুনগুন হয়তো কখনো জানতেও পারবে না, এলাকার সেই একরোখা বখাটে ছেলেটা গুনগুনকে ঠিক কতটা চায়!
গুনগুন রুম থেকে বেরিয়ে দেখে ওসমান গণি ড্রয়িংরুমে বসে আছেন রেডি হয়ে। দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে একবার সময় দেখল গুনগুন। বাবার তো এতক্ষণে অফিসে চলে যাওয়ার কথা। যায়নি কেন এখনো? নাকি গিয়েছিল, আবার কোনো দরকারে এসেছে?
গুনগুন কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই ওসমান গণি বললেন,
“ওহ এসেছিস! তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।”
গুনগুন নিশ্চুপ। তিনি বললেন,
“ক্লাস নেই?”
“আছে।”
ওসমান গণি আর কিছু বললেন না তখন। সোফার ওপর একটা সাদা কাগজের প্যাকেট ছিল। গুনগুন অবশ্য এতক্ষণ খেয়াল করেনি এটা। ওসমান গণি প্যাকেটটি হাতে নিয়ে কিছু ছবি বের করে গুনগুনের দিকে ছুঁড়ে মারলেন। অনেকগুলো ছবি এসে পড়ল গুনগুনের পায়ের কাছে। কিছু ছবি সোজা হয়ে পড়েছে, আবার কিছু ছবি উলটো হয়ে। সোজা করা একটা ছবিতে মাহবুবের মুখ দেখে গুনগুনের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। ছবিতে মাহবুবের পাশে বউ সাজা একটা মেয়ে। দুজনে হাত ধরে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। গুনগুন কাঁপা কাঁপা হাতে ছবিটা তুলল ফ্লোর থেকে। মুহূর্তেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল গুনগুনের।
ওসমান গণি বসা থেকে উঠতে উঠতে বললেন,
“টাকা খরচ করে এতগুলো ছবি বের করেছি, তোকে দেখাব বলে। শুধু একটা ছবি দেখছিস কেন? এগুলোও দেখ।”
তিনি বাকি ছবিগুলোও ফ্লোর থেকে তুলে একটা একটা করে গুনগুনকে দেখাতে লাগলেন। গুনগুন কোনো কথা বলতে পারছে না। পায়ের নিচে মাটি নেই মনে হচ্ছিল। অসহনীয় যন্ত্রণায় শরীর ও মন পু’ড়ে যাচ্ছিল।
ওসমান গণি বললেন,
“দেখেছিস? মন ভরেছে এবার? বারবার তোকে বলেছিলাম, এই ছেলের জন্য অপেক্ষা করিস না। ও তোকে বিয়ে করবে না। ও তোকে ভালোবাসে না। তুই শুনিসনি তখন আমার কথা। দিনের পর দিন ভালো ভালো বিয়ের প্রস্তাবগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিস। এখন ভালো লাগছে? এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলি?”
গুনগুন কথা বলছে না। কথা বলতে পারছে না। কণ্ঠস্বর রোধ হয়ে গিয়েছে। চোখ থেকে পানি পড়ছে অনবরত। ওসমান গণি ধমক দিয়ে বললেন,
“কথা বলছিস না কেন? জবাব দে এখন।”
গুনগুনের কথা বলার মতো মুখ নেই। বাবার চোখে চোখ রাখতে পারছে না সে। একদিকে প্রতারণা আর অন্যদিকে পরিবারের কাছে ছোটো হওয়া। অথচ একটা সময় মাহবুবকে নিয়ে গুনগুন কত গর্ব করত। কতটা বিশ্বাস করে সে মাহবুবের জন্য পরিবারের বিপক্ষে গিয়ে কথা বলত। অথচ আজ সেই মানুষটাই গুনগুনকে কতটা বাজেভাবেই না ঠকাল! গুনগুনের বিশ্বাস ভেঙে চুরমার করে দিল। ছোটো করল পরিবারের কাছে। গুনগুনের ইচ্ছে করছিল ম’রে যেতে। এই অসহনীয় যন্ত্রণা ও অপমানের চেয়ে ম’রে যাওয়াও ঢের ভালো।
ওসমান গণি বললেন,
“জানি, তোর কাছে কোনো উত্তর নেই। থাকবে যে এটা আমি আশাও করিনি। শান্তি লাগতেছে তোকে ভুল প্রমাণ করতে পেরে। মান-সম্মান অনেক খাইছিস আমার। যেই ভালোবাসার জন্য যু’দ্ধ করেছিস এতদিন সেই যু’দ্ধ আশা করি আজ শেষ হয়েছে। এবার বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নে। আর ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকিস না। নিজেও শান্তিতে থাক, আর আমাকেও একটু শান্তি দে।”
কথা শেষ করে তিনি অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়ে গেলেন। গুনগুনের হঠাৎ এমন পরিবর্তন তিনি শুরু থেকেই লক্ষ্য করেছিলেন। তাই মাহবুবের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেছিলেন তিনি। গত পরশুই সে জানতে পেরেছে, মাহবুব বিয়ে করেছে তিনদিন আগে। অনেক চেষ্টা-প্রচেষ্টার পর গতকাল রাতে তিনি মাহবুবের বিয়ের কিছু ছবি জোগাড় করতে পেরেছেন। তবে ছবিগুলো পেয়েছিলেন আজ সকালেই অফিসে যাওয়ার পর। তাই আর দেরি না করে অফিস থেকে গেইট পাশ নিয়ে তিনি বাসায় এসেছেন। আসার পথে স্টুডিও থেকে ছবিগুলো তিনি বেরও করে এনেছেন। গুনগুনের গর্ব, মনোবল ভেঙে তিনি যে সঠিক; এটা প্রমাণ করতে পেরে মনে মনে পুলকিতও হচ্ছেন তিনি। মেয়ের মন ভাঙায় তার কিছু যায় আসে না। তিনি যে গুনগুনকে মাথা নত করতে দেখতে পেরেছেন এটাতেই তার শান্তি।
.
.
কুলসুম আজ পিঠা বানিয়েছে। পাটিসাপটা পিঠা বিপ্লবের অনেক পছন্দ। সাথে তেলের পিঠাও বানিয়েছে। প্রণয় ও মাসুদকেও দাওয়াত করেছে পিঠা খাওয়ার জন্য। গুনগুনকে কল করেছিল, রিসিভ করেনি। মেসেজ করলেও সীন করে না। উত্তর দেয় না। কুলসুমের একটু অভিমানও হয় এজন্য। গুনগুন মাঝে মাঝেই এমন করে।
পিঠা খাওয়ার সময় কুলসুম প্রণয়কে জিজ্ঞেস করল,
“গুনগুনের সাথে তোর কথা হয়েছে?”
প্রণয় দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“না। দুদিন আগে সকালে একবার কথা হয়েছিল।”
“এরপর আর কল দিসনি?”
“না। মেসেজ করেছিলাম গতকাল রাতে। উত্তর দেয়নি।”
“আমার মেসেজও দেখে না। কল দিলেও ধরে না। কী হয়েছে ওর?”
প্রণয় দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,
“জানি না। কিছুদিন ধরেই ওর মন খারাপ।”
“কেন? জিজ্ঞেস করিসনি কিছু?”
“না। আর জিজ্ঞেস করলেও হয়তো বলত না কিছু। ওকে তো মোটামুটি চিনিসই ও কেমন।”
“তাই বলে কিছুই জিজ্ঞেস করবি না এটা কেমন কথা?”
“হয়তো জিজ্ঞেস করতাম। কিন্তু ওর জীবনে যেহেতু কেউ আছে, তাই আমার এত আগ বাড়িয়ে কিছু জিজ্ঞেস না করাই ভালো। আমার জীবনে গুনগুন বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে আছে আমি এটুকুতেই খুশি।”
কুলসুম, বিপ্লব দুজনই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখল প্রণয়কে। যতটা সহজে কথাগুলো প্রণয় বলল, ঠিক ততটাই যেন ব্যথা লুকিয়ে আছে ওর বুকের ভেতর।
বিপ্লব তখন কুলসুমকে বলল,
“তুমি সন্ধ্যায় গুনগুনদের বাসায় পিঠা দিয়ে এসো। আর ওর খোঁজ-খবরও নিয়ে এসো।”
কুলসুম মাথা নাড়িয়ে বলল,
“ঠিক আছে।”
এরপর প্রণয়কে জিজ্ঞেস করল,
“যাবি নাকি আমার সাথে?”
“না, না পাগল! ওর বাসায় সমস্যা হবে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে কল দিস কোনো সমস্যা হলে।”
“আচ্ছা।”
সন্ধ্যায় বাটিতে করে অনেকগুলো পিঠা নিয়ে কুলসুম গুনগুনদের বাসায় গেল। কলিংবেল বাজানোর পর দরজা খুলে দিল শিহাব। কুলসুমকে শিহাব চেনে। তাই ওকে দেখে খুশি জড়িয়ে ধরে বলল,
“কেমন আছো আপু?”
কুলসুম শিহাবের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
“ভালো আছি। গুনগুন কোথায়?”
শিহাব তখন ফিসফিস করে বলল,
“ভেতরে আসো। বলতেছি।”
এরপর ভেতর থেকে দরজা লক করে পুনরায় ফিসফিস করে বলল,
“আপু বাসাতেই আছে। আজকে ছেলেপক্ষ এসেছে আপুকে দেখতে।”
কুলসুম অবাক হওয়ার পূর্বেই সুমনা বেগমের গলা ভেসে এলো ড্রয়িংরুম থেকে,
“কে এসেছে শিহাব?”
কুলসুম নিজেকে ধাতস্থ করে বলল,
“আন্টি, আমি। গুনগুনের জন্য পিঠা এনেছিলাম।”
ড্রয়িংরুম ভরতি লোকজন। মাথায় ঘোমটা দিয়ে একটা চেয়ারে বসে আছে গুনগুন। পাথুরে মূর্তির মতো নির্জীব ও চুপচাপ মেয়েটা। গুনগুন বাদে উপস্থিত সবার দৃষ্টিই এখন কুলসুমের দিকে। সবাইকে সালাম দিল কুলসুম। সুমনা বেগম, ওসমান গণি দুজনই ওকে চেনেন। প্রণয়ের সাথে ওকে দেখেছেন অনেকবার। এজন্যই কুলসুমকেও তাদের পছন্দ না। কিন্তু মেহমানদের সামনে তো আর কিছু বলা যায় না। তাই সুমনা বেগম হাসি মুখে বললেন,
“এসবের আবার কী দরকার ছিল, মা? আচ্ছা তুমি গিয়ে গুনগুনের রুমে বসো। শিহাব, ওকে তোমার আপুর রুমে নিয়ে যাও।”
কুলসুম শিহাবের সাথে গুনগুনের রুমে গিয়ে থম মেরে চেয়ারে বসে পড়ল। গুনগুনের বিয়ে? এজন্যই কি গুনগুন সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে? ব্যাগ থেকে ফোন বের করে প্রণয়কে কল করল কুলসুম। প্রণয় কল রিসিভ করে বলল,
“বল।”
কুলসুম রুদ্ধশ্বাসে বলল,
“গুনগুনকে আজ পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে।”
চলবে…
Share On:
TAGS: প্রণয়ে গুনগুন, মুন্নি আক্তার প্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৭
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৮
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৩
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১০
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১২
-
প্রণয়ে গুনগুন গল্পের লিংক
-
তুমি অজান্তেই বেঁধেছ হৃদয় গল্পের লিংক
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৯
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১