Golpo romantic golpo জাহানারা

জাহানারা পর্ব ৪৩+৪৪


জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :৪৩
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

    🔞 সতর্কবার্তা:

এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

★রাত আট’টার ঘটনা,,,,,,
*


  • *
    সিআইডি অফিসে কিছুক্ষণ আগে উপস্থিত হয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী ইকবাল চৌধুরী।তার সাথে আছে উনার ভাই ইরহাম চৌধুরী এবং কনিষ্ঠ পুত্র ইমরান চৌধুরী। অফিস কার্যালয়ের বাইরে দলের লোকদের উপচে পড়া ভীড়।পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্মরত আছে।দলের সকলেই অপেক্ষায় আছে কখন মন্ত্রী সাহেব বাইরে বেড়িয়ে আসবে।

মন্ত্রী সাহেব মানে আমার শ্বশুর মশাইয়ের সামনে বসে আছে সিআইডি অফিসার এসপি আরমান শেখ জিতু।তার দু পাশে দাঁড়িয়ে আছে বাকি সিআইডি অফিসার’রা।মন্ত্রী সাহেব জিতু ভাইয়ার উদ্দেশ্য বললো,
–অফিসার আজ আপনারা সময় মতো না আসলে হয়তো আমরা এখনো বেঁচে থাকতাম না।

জিতু ভাইয়া উনার কথা শুনে মুচকি হেসে ইমরানের দিকে তাকালো।ইমরানের কপালে ব্যান্ডেজ।সাদা গজে র*ক্তে ভিজে লালছে হয়ে গেছে।আজ পার্টির সাথে মিটিং শেষ করে তিনজন যখন বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়, তখনই মাঝ পথে বিরোধী দলের লোকেরা রাস্তা আটকায়।ইমরানদের পেছনের গাড়িতে ওদের বডি গার্ডরা ছিলো।যা বিরোধী দলের ছেলেপুলেদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক কম।তবুও নিজেদের প্রাণ বাজি রেখে মন্ত্রী সাহেবকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে।তখনই ইমরানের উপর হামলা হয়।হকি স্টিক দিয়ে মাথার এক সাইডে আঘাত করা হয়।তখন সাথে সাথে ইমরান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।এদিকে দ্বিতীয় আঘাত আনার আগেই পুলিশ সহ সিআইডি টিম উপস্থিত হয়।অফিসার আবির সেই নেতার হাতে শুট করে।তাই দ্বিতীয় আঘাত ইমরানের উপর পড়ে নি।

ইমরান ব্যান্ডেজের উপর হাত রেখে জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে।জিতু ভাই হেসে বললো,
–কি ব্যপার, এই টুকুই সহ্য করতে পারছেন না__তাহলে ভাবেন বুকে পরপর নাইফ বসালে কেমন যন্ত্রণা হতে পারে।

জিতু ভাইয়ার আচমকা এমন অদ্ভুত কথা শুনে ইমরান নিজের ব্যথা ভুলে জিতু ভাইয়ার দিকে তাকালে।এদিকে ইকবাল চৌধুরী সহ ইহরাম চৌধুরীও আশ্চর্য হলো।তিনজনের এমন প্রশ্নাত্মক চাউনি দেখে জিতু ভাইয়া সহ সকল অফিসাররা ঠোঁট টিপে হাসলো।ইমরান সকলকে দেখে জিতু ভাইয়াকে প্রশ্ন করলো,
–সরি অফিসার। আমি আপনার কথার মানে বুঝতে পারছি না।

ইমরানের কথা শুনে অফিসার হিমন হো হো করে হেসে দিলো।এতে সকলের দৃষ্টি হিমনের দিকে স্থির হলো।অফিসার হিমন কৌতুক স্বরে বললো,
–পারবেন পারবেন সবই বুঝতে পারবেন।প্রথম প্রথম সকল অপরাধীরাই কিছু বুঝতে পারে না।পরে আরমান স্যারের চুমু খেয়ে সব সুর সুর করে বুঝে যায়।আ,,,,,,

অফিসার হিমন মুখের কথা আর বের করতে পারলো না।তার আগেই জিতু ভাইয়ার কড়া চাউনি নজরে পরে। অফিসার হিমন হালকা হেসে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে অফিসার আবিরের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো।পিছন থেকে অফিসার কণা, অফিসার হিমনকে ফিসফিস করে বললো,
–স্যার এভাবে উচিৎ কথা বলবেন না।যতই হোক মন্ত্রী হয়।আমাদের চাকরিও খেয়ে নিতে পারে।

কণার ফিসফিস কথা অফিসার অরণা শুনতে পেয়ে ফিসফিস করে বললো,
–কণা তোমার মুখ বন্ধ রাখ।এখানে অনেক ইম্পর্ট্যান্ট কাজ হচ্ছে।সো অযৌক্তিক কথাবার্তা না বলায় শ্রেয়।

অরনার কথা শুনে কণা গাল ফুলিয়ে হিমনের দিকে তাকালো।উনিও বললেন আর কথা ন বাড়াতে। এদিকে ইকবাল চৌধুরী উঠে দাঁড়ালেন।উনি অনেক শান্ত এবং ভদ্রলোক। তাই হিমনের কথায় বেশ অপমানবোধ করলেন।তিনি বিরক্তি নিয়ে বললো,
–এটা কি ধরনের আচরণ এসপি?

জিতু ভাইয়া বসে থেকেই বললো,
–স্যর আপনি শান্ত হয়ে বসুন প্লিজ।

–কিভাবেই শান্ত হব বলেন?আপনার অফিসার’রা যথারীতি আমাকে অসম্মান করে কথা বলছে।

পিছন থেকে ইমরান আর ইরহাম চৌধুরী, ইকবাল চৌধুরী কে বলে বসালো।এদিকে অফিসার কবির একটা ফাইল টেবিলের উপর রাখলো।মন্ত্রী সাহেব ফাইলটার দিকে এক নজর তাকিয়ে জিতু ভাইয়ার দিকে তাকাতেই__জিতু ভাইয়া হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝালো ফাইটা খুলে দেখতে।ইমরান ফাইলটা খুলে দিলো।অতঃপর তিনজন ফাইলটায় একবার চোখ বুলালো। মন্ত্রী সাহেব জিতু ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
–এখানে তো মিস্টার আব্দুল হোসাইনের তথ্য দেওয়া।

মন্ত্রী সাহেবের কথা শুনে জিতু ভাইয়া সহ সকল অফিসাররা একে অপরের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসলো।অতঃপর জিতু ভাইয়া স্টেট কাট উত্তর করলো,
–ইয়েস,ইনি আপনার বিরোধী দলের নেতা, সাবেক মিনিস্টার আব্দুল হোসাইন।যিনি বর্তমানে মৃত।

–কিহ্!!!

জিতু ভাইয়ার কথা শুনে অবাক তিনজন।জিতু ভাইয়া তিনজনের অবাক হওয়ার সীমা আরেকটু বাড়াতে বললো,
–সাবেক বানিজ্য মন্ত্রী আব্দুল হোসাইন কে গতরাতে মা*র্ডার করা হয়েছে উনার নিজ ভবনে।আজ সন্ধ্যায় উনার ডেড বডি সি আই ডি টিম উদ্ধার করেছে।আর সেই নিউজ ছড়িয়ে পড়তেই সাবেক মন্ত্রীর দলের লোকরা আপনাদের কে সন্দেহ করে রাস্তায় আটকায়। আমরা না পৌঁছালে আপনাদের কি অবস্থা হতো বুঝতে পারছেন।

জিতু ভাইয়ার কথা শুনে তিন জন যেন আকাশ থেকে পড়লো।এরই মাঝে অফিসার আবির বললো,
–খু*নের পিছনে আপনাদের হাত নেই তো?

আবিরের কথায় আরেক দফা হোটচ খেলো তিনজন। ইমরান অবিশ্বাস্য স্বরে বললো,
–এসব কি বলছেন আপনারা।উনি যে খু*ন হয়েছে সে খবর মাত্রই আপনাদের থেকে পেলাম।

অফিসার কবির বললো,
–এই নিউজ তো সন্ধ্যার পরই ছড়িয়ে পড়েছে। আর আপনারা বলছেন শুনেননি?

ইহরাম চৌধুরী বললো,
–আজ আমাদের পার্টির জরুরি মিটিং ছিলো সারে ছয়টার দিকে।আমরা সেখানেই ছিলাম।আর বাড়ি ফিরার পথেই আমাদের উপর হামলা করা হয়।এর মাঝে আমাদের ফোনও অফ ছিলো।তাই হয়তো নিউজ আমাদের পর্যন্ত আসেনি।

ইকবাল চৌধুরী এখনো বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না, আব্দুল হোসাইন খু*ন হয়েছে।তিনি জিতু ভাইয়াকে বললো,
–এটা কি ভাবে হতে পারে অফিসার? গতকাল রাতেও সাবেক মিনিস্টার আমাকে ফোনে হুমকি দেয় যাতে আমি পদ ছেড়ে দেই।আরও অনেক হুমকি দেয় আমাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার।

ইকবাল চৌধুরীর কথা শুনে সিআইডি অফিসাররা অবাক হলো।অফিসার আবির বললো,
–তার মানে আপনি স্বীকার করছেন যে গতরাতে আপনার সাথে উনার কথা হয়েছিলো।

–এসব কি ধরনের কথা অফিসার?অস্বীকার যাওয়ার কি আছে। সাবেক মন্ত্রীর সাথে হাঠাৎ হঠাৎ ফোনকলে কথা হতো।যেখানে তিনি নিজে থেকে সবসময় আমাকে ফোন দিত।কখনো দুইদলের মিমাংসার জন্য, তো কখনো উনার রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলতো।

অফিসার কবির বললো,”আপনি কি জানেন আপনাদের কথোপকথনের কল লিস্ট আমাদের হাতে আছে?”

কবিরের কথায় না চাইতেও কিছুটা হাসলো ইমরান। সে কবিরকে উদ্দেশ্য করে বললো,
–এটা আধুনিক যুগ।আর কল লিস্ট আপনাদের কাছে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

জিতু ভাইয়া হেসে__উঠে দাঁড়িয়ে বললো,”সেই তো।যাইহোক, এই বিষয়ে আপনারা কি আছেন? “

ইকবাল চৌধুরী উঠে দাঁড়িয়ে বললো,”অফিসার আপনি কিন্তু সরাসরি আমাদের দিকে আঙুল তুলছেন।যেখানে এই বিষয়ে আমরা কেন, আমাদের দলের কোনো সদস্যই জানে না।”

জিতু ভাইয়া ইকবাল চৌধুরীর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে, মৃদু হেসে বললো,”সবদিক বিবেচনা করলে আঙুল সরাসরি আপনাদের দিকেই যায়।যদিও প্রমাণ ছাড়া আমরা আপনাদের কোনো দোষারোপ করবো না।আমরা আইনের লোক।আমাদের কাজই জেরা করা।যাইহোক, আপনি কিন্তু সউরলি বলতে পারেন না,যে আপনার লোকদের মধ্যে কেউ করে নি।”

ইহরাম চৌধুরী বললো,”একশো ভাগ নিশ্চিত নই ঠিকই। তবে আমাদের লোক হলে অবশ্যই খবর আগে আমাদের নিকট আসতো।আশা করছি আমাদের লোকের কেউ এমন অপরাধ মূলক কাজ করবে না।আপনারা ইনভেস্টিগেশন করে বের করুন, কে এত বড় অপরাধ করলো।”

জিতু ভাইয়া জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলতে ঠেলতে বললো, “সে আপনারা না বললেও খুঁজে বের করবো।আর যদি জানতে পারি এর মাঝে আপনারা জড়িত__তাহলে কিন্তু ক্ষমতা দেখিয়ে পার পাবেন না।”

ইকবাল চৌধুরী কিছু বলার আগেই পিছন থেকে ইমরান উত্তর করলো,”একশোভাগ নিশ্চিত থেকে তদন্ত চালান,আমরা এই ক্রাইমে নেই আর না তো কোনোদিন ছিলাম।আর অপরাধীর অবশ্যই দণ্ডনীয় শাস্তি পেতে হবে।যদি আমাদের লোকরাও সেখানে থাকে তাহলেও সাজা মাফ নেই। “

সিআইডি অফিসার’রা আবারও একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখাচোখি করলো।অতঃপর জিতু ভাইয়া বললো,”আশা করছি এসবে আপনারা থাকবেন না।এতক্ষণ এখানে সময় দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আপনারা এবার আসতে পারেন।আর সেইফে থাকবেন।বিরোধী দল আবারও আপনাদের উপর হামলা চালাবে।”

ইকবাল চৌধুরী জিতু ভাইয়ার সাথে হ্যান্ডশেক করে বললো,”এটা আপনাদের সাথে আমাদেরও কর্তব্য, অপরাধীদের খুঁজতে আপনাদের সাহায্য করা।কোনো প্রয়োজন হলে আবার ডাকবেন। আমরা যথাযত সাহায্য করার চেষ্টা করবো।”

ইমরান আর ইহরাম চৌধুরীও হ্যান্ডশেক করলো।অতঃপর জিতু ভাইয়া বললো,”আপনার নিশ্চিন্তে যান।পুলিশের একটা ফোর্স আপনাদের কে নিরাপদে দিয়ে আসবে।”

কথা শেষ করে তিনজন বেড়িয়ে যায়। এদিকে তিনজনের যাওয়ার দিকে সকল অফিসার’রা তাকিয়ে থাকে।কবির ভাবুক হয়ে বললো,
–স্যার উনাদের কেন জানি আমার সন্দেহ হচ্ছে না।মনে হচ্ছে সত্যি কথাই সব বলেছে।

অফিসার হিমনও একই সুর নিলো।অফিসার আবির জিতু ভাইয়ার দিকে তাকালো উত্তরের জন্য। জিতু ভাইয়া কিছুক্ষণ ভেবে বললো,
–তারপরও কাউকে সন্দেহ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।কথায় আছে সরষের মধ্যেই ভূত আছে।

আবির বললো,”স্যার এমনও হতে পারে আসল মাস্টার মাইন্ড চৌধুরীদেরকে আমাদের চোখে বারবার ফেলতে চাইছে।যাতে আমরা একই জায়গায় আঁটকে থাকি।”

জিতু ভাইয়া একটা ব্রু উঁচিয়ে বললো,”হতেও পারে।”

আরেক পাশ থেকে অফিসার অরনা বললো,”স্যার আপনার বোনের রিপোর্ট অনুযায়ী কারও উপর তেমন সন্দেহ প্রবণ কিছু পাওয়া যায়নি।তবে ইফান চৌধুরীর উপর অনেক বেড রিপোর্ট। একটা রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা ড্রা*গস রাখার আসল ঠিকানা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলাম।কিন্তু সেখানে আচমকা আগুন লেগে সব প্ল্যান মাঝ পথেই বেস্তে যায়। আরও একটা বেড রিপোর্ট পঙ্কজ নামের লোকটার উপর।”

জিতু ভাইয়া অরনার কথায় বললো,”ইটস এ বিগ পয়েন্ট অরনা।পঙ্কজ ছেলেটার উপর নজর রাখতে হবে।”

কথা শেষ করে সকলে নিজেদের কাজে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হলেই, হিমনের কথায় থেমে যায়,
–স্যার আমার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরছে!!

জিতু ভাইয়া পিছন ফিরে হিমনকে চোখের ইশারায় বলতে বললো।অনুমতি পেয়ে হিমন বললো,
–স্যার ইকবাল চৌধুরী তো আপনার বোনের শ্বশুর, তাহলে আপনার সাথে এমন ভাবে কথা বললো যেন আপনাকে চিনেন না।

জিতু ভাইয়া যেতে যেতে উত্তর দিলো,
–চিনেন। সেটা জিতু নামে।এসপি আরমান শেখকে নয়।


ঘড়ির কাটা ঘুরতে ঘুরতে একটায় এসে থামলো।জুই আর ইতি ঘুমে হেলে পড়তে পড়তেও নিজেকে সামলে নিচ্ছে।এদিকে দুজনেই মাঝখানে বসে থাকা নোহা নিজের অসীম সাহসীকতার গল্প শুনিয়ে যাচ্ছে জ্ঞান ফেরার পর থেকে।ইতি সেগুলো বিশ্বাস করলেও জুই বিশ্বাস করছে না।জুইয়ের ভীষণ রাগ হচ্ছে নোহার প্রতি। অতিথি বলে কিছু বলতেও পাচ্ছে না।এদিকে জুই আর ইতিকে কিছু বলতে না দেখে, নোহা দুই দিকে দুজনকে হালকা ধাক্কা দিলো।সাথে সাথে ইতি আর জুই একই সুরে বলে উঠলো,,

–ওওওওও,,,,,,

দু’জনের থেকে উত্তর পেয়ে নোহা খুশিতে গদগদ করতে করতে বলে উঠলো,
–ছেলেগুলো যখন আমাকে ধরতে চেয়েছিলো তখনই আমি পাঞ্চ মেরে মুখ বাকিয়ে দিয়েছি।তারপর বাকি বেড বয়গুলো আমাকে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।বিপদের সময় এভাবেই স্ট্রং থাকতে হয় বুঝতে পেরেছ।

নোহার কথা কিছু শুনলো কি শুনলো না মেয়ে দু’টো। তবুও একই সুরু বলে উঠলো,

–ওওওও।

নোহা নিজের প্রশংসা করে ভিষণ গর্ববোধ করছে।এদিকে জুই আর ইতি ঘুমের মধ্যে থেকেই “ওওও” বলে নোহাকে উত্তর করছে।নোহা নিজের শর্টকাট চুলগুলো এক আঙ্গুল দিয়ে সরিয়ে একটু ভাবসাব নিলো।মূহুর্তেই মেয়েটার কিছু একটা মনে পড়ে গেলো।ফলে হাসি মুখটা নিভে এসেছে।নোহা তৎক্ষণাৎ নেকামি করে কেঁদে দিলো।হঠাৎ অদ্ভুত আওয়াজ কানে যেতেই ইতি আর জুই ভয়ে তাড়াহুড়ো করে সোজা হয়ে বসতে নিলে দু’জনই বিছানার দুই প্রান্ত দিয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়।নোহা আবার দুজনকে টেনে তুললো।জুই বুকে থুথু দিয়ে ভয় দূর করে নোহাকে বললো,,,
–তু তুমি এমন অদ্ভুত আওয়াজ করছিলে কেন?এখনই তো আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতো।

ইতি ভয়ে জড়সড় হয়ে খুব কষ্টে একটা ঢুক গিলে বললো,”নোহাপু আমার ভীষণ ভয় লাগছে।তুমি আর এভাবে কেঁদো না।আমার ভীষণ ভয় লাগে।”

–কেন?কেন ভয় লাগবে আমি আছি তো।লিটিল গার্ল আমার ভীষণ সেড লাগছে,,,,

নোহা আবার নেকামি করে কাঁদতে লাগলো।এটা দেখে ইতির ঘুম পালিয়েছে।তার মনটাও নোহার দুঃখ দেখে কেঁদে উঠলো।এদিকে জুই অসহায় চোখে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো একটার উপরে বেজে গেছে। অথচ নোহা ওদের কে কিছুতেই ঘুমাতে দিচ্ছে না।জুই আবার নোহা আর ইতির দিকে তাকালো।ইতি নোহাকে শান্তনা দিয়ে বলছে,
–ও আপু, আমার লক্ষী আপু প্লিজ কেঁদো না।তোমার কি কষ্ট হচ্ছে আমাকে বল।

নোহার নাক দিয়ে সর্দি বেড়িয়ে আসছে।সে আসেপাশে তাকিয়ে টিস্যুর খোঁজ করলো। অতঃপর না পেয়ে হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করে আবার নিজের জামাতে মুছে নিলো।এটা দেখে জুই নাক ছিটকে বিছানা থেকে উঠে টিস্যুর বাক্স নিয়ে আসলো।নোহা সেখান থেকে টিস্যু নিয়ে নাকের একটা ছিদ্রে গুঁজে দিলো যাতে আর সর্দি না পড়ে।অতঃপর দুঃখী মন দিয়ে নেকামি করে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
–ইউ নো লিটল গার্ল, আমি একজনকে লাইক করি।বাট সে আমার সাথে একটুও কথা বলে না,মিশেও না।আমার অনেক কান্না পাচ্ছে। এখন একটা সেড গান গাইতে ইচ্ছে করছে।

ইতি নাক টেনে বললো,”তাহলে গেয়ে মনটা হালকা কর।”

জুই অসহায় চোখে দুই বলদকে দেখে যাচ্ছে। সে ইতিকেও একটা টিস্যু এগিয়ে দিলো।নোহা হঠাৎ শান্ত হয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললো।অতঃপর মাথা দুপাশে দুলাতে লাগলো।সে হাতে মুদ্রা দেখিয়ে সঙ্গীত শিল্পীদের মতো সুর তুলার জন্য হাত নাড়াতে লাগলো।নোহাকে দেখে জুই এবার একটু সুন্দর করে বসলো।তার কাছে মনে হচ্ছে আজাইরা গল্প শুনার থেকে নোহার গান শুনা ডের ভালো।নোহা আগের ন্যয় বসে থেকে সুর তুললো।যা শুনে জুইয়ের চোখ কঠোর থেকে বেড়িয়ে আসার উপক্রম। ওর জীবনে এমন বেসুরো কন্ঠে গান হয়তো আর কোনোদিন শুনে নি।নোহা বেসুরা কন্ঠে সুর দিয়ে গান ধরলো,

❝ওগো ললিতে,আর যাবো না বেগুন তুলিতে।হাতে নাতে পড়লাম ধরা, শরম লাগে বলিতে।আর যাব নো বেগুন তুলিতে,,,,,❞

নোহা মনের সুখে বেসুরে গান গাইতে লাগলো।এদিকে ইতি শক্ত করে নিজের দুহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে রেখেছে।যাতে হাসি আটকাতে পারে।জুই চোখ বড় বড় করে নোহার দিকে তাকিয়ে বিরবির করলো,
–ওও উপরওয়ালা। তুমি আমাকে কি মাইনকার চিপায় ফেললা গো।


নিজের কাজ সেরে ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জ আসতে জিতু ভাইয়ার অনেকটা রাত হয়ে গেছে।তিনি ক্লান্ত শরীরটাকে টেনে টেনে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ কারো খিলখিল হাসির আওয়াজ শুনেই থেমে গেলো পা জোড়া। তিনি জুইয়ের রুমের দিকে তাকাতেই দেখলো, ওদের রুমে এখনো লাইট জ্বলছে। জিতু ভাইয়া একই জায়গায় দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ সেই হাসির শব্দ শুনে।হঠাৎই হাসির আওয়াজ বন্ধ হয়ে যেতেই যেন হুঁশে ফিরলো।তিনি আবার চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই, একই হাসির আওয়াজ শুনতে পেল।তা আবার মূহুর্তেই বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি কিছু একটা ভেবে জুইয়ের রুমের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।

এদিকে ইতি আবারও দু’হাত দিয়ে নিজের মুখ চেপে ধরছে।তবুও মেয়েটার হাসি বেড়িয়ে আসছে।নোহাকে গাল ফুলাতে দেখে আবার থেমে যায়।তখন নোহা আবার মনের সুখে গান কন্টিনিউ করতে থাকে।এবার ইতির সাথে জুইও দু’হাত দিয়ে মুখ চেপে বসে আছে।ওদের দু’জনের চোখ দেখলেই যে কেউ বলে দিতে পারবে, ওরা কত কষ্ট করে হাসি চেপে বসে আছে।হঠাৎই রুমের দরজায় কেউ নক করলো।জুই সাথে সাথে স্বাভাবিক হয়ে ইতি আর নোহাকে বললো,
–ইশশশ দেখেছ, তোমাদের কারণে সবার ঘুম ভেঙে গেছে।

আবার দরজায় কেউ নক করলো।জুই আর এক মূহুর্ত দেরি করলো না।আসছি বলে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলো।তক্ষুনি দেখলো জিতু ভাইয়া দাঁড়িয়ে। জিতু ভাইয়া চোখ মুখ অন্ধকার করে রেখেছে। এটা দেখে জুই মনে মনে দোয়া করছে যাতে বকা না দেয়।কিন্তু জুইয়ের ধারণা বদলে দিয়ে জিতু ভাইয়া ঠান্ডা কন্ঠে বললো,
–এত রাত জেগে থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়।ঘুমিয়ে পড়।

শেষ কথাটা বিছানায় বসে থাকা ইতির দিকে তাকিয়ে বললো।ইতি এতক্ষণ ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো।যেই ভাইয়া ওর দিকে আচমকা তাকালো।অমনি ভয়ে জড়সড় হয়ে গেলো।এদিকে জিতু ভাইয়ার কন্ঠ শুনে বিছানা থেকে ছুটে আসলো নোহা।জিতু ভাইয়াকে দেখে খুশিতে গদগদ করছে সে।নোহা ভাইয়াকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে বললো,
–ওয়াও ওয়াও একেবারে ওয়াও।

নোহার এমন আচরণ দেখে দাঁত কটমট আওয়াজ করলো জিতু ভাইয়া।সেটা জুই শুনে ভয়ে একটা ঢুক গিললো।এদিকে জিতু ভাইয়া রাগে বললো,
–এই মানসিক ভার্সাম্যহীন প্রাণী তোদের সাথে কি করছে?

জুই কোনো উত্তর দিতে পারলো না।ইতি চোরের মতো এদিকে তাকিয়ে দেখতে গিয়ে আবার জিতু ভাইয়ার সাথে চোখাচোখি হয়।ইতির লজ্জায় গাল লাল বর্ণ ধারন করেছে।জিতু ভাইয়া ইতির এই বিষয় টা দেখে ভীষণ অবাক হলো।মেয়েটা এত লাজুক, তাও আবার এই জেনারেশনে?জিতু ভাইয়া ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কিছুক্ষণ ভেবে বিরবির করলো,

–লজ্জাবতী।।।

জিতু ভাইয়ার মনযোগ ক্ষুন্ন হয় নোহার কন্ঠে,
–ওমমম কোথায় জানি এই শার্টটা দেখেছি?কোথায় জানি??

নোহা জিতু ভাইয়াকে দেখে দাঁত দিয়ে নখ কামড়াতে লাগলো।নোহার আচরণ বরাবরই জিতু ভাইয়ার বিরক্তির কারণ।এদিকে কিছুক্ষণ ভাবার পর নোহা হটাৎ লাফিয়ে উঠলো,
–ওহ্ হলি।এই শার্টটা তো ঐইই নটি পুলিশটা পড়েছিলো সেদিন। ইয়েএএএ আমি পেরেছি।আমি মনে করতে পেরেছি।সেদিন ক্লাবে তুমিই আমর পু*টকিতে লাটি মেরেছিলে।ইয়েএএএ,,,

নোহা খুশিতে লাফিয়ে উঠেছে। এদিকে জুই একবার ভাইয়াকে আরেকবার নোহাকে দেখে, ভয়ে ওর গলা শুকিয়ে আসছে।জিতু ভাইয়া এতক্ষণ শান্ত থাকলেও আর পারলো না।নোহাকে ধমক দিবে তার আগেই কানে আসে ইতির খিলখিল করা হাসির আওয়াজ। মূহুর্তে তিনি থমকে যান।আস্তে আস্তে ইতির দিকে তাকাতেই দেখলো লজ্জাবতী মেয়েটা মুখে হাত ধরে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু বৃথা হচ্ছে।ইতি মুখে হাত ধরে হাসতে হাসতে সামনে তাকাতেই আবার দুটো শান্ত চোখের সাথে তার দৃষ্টি স্থির হলো।মূহুর্তেই মেয়েটা আবার লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো।আস্তে আস্তে পিছন ফিরে বসতে লাগলো।ভাইয়া ওর অস্বস্তি বুঝে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।তিনি আর কিছু না বলে চলে যেতে নিলে নোহা পথ আটকায়। ভাইয়া জুইয়ের দিকে তাকায়।জুই বুঝতে পারে ভাইয়া নোহাকে সামনে থেকে সারাতে বলছে।জুই নোহাকে হাতে ধরে ভাইয়ার সামনে থেকে সরাতে নিলে নোহা বাঁধা দেয়।অতঃপর জিতু ভাইয়ার সামনে দাড়িয়ে সারা শরীর দোলাতে দোলাতে বললো,
–জান জিতু বেইবি,আমি খুব ভালো সিংগিং করি।এই তো এতক্ষণ লিটিল গার্লদের গান শুনচ্ছিলাম।

জিতু ভাইয়া চোখমুখ শক্ত করে নোহার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে রইলো।এতে নোহা লজ্জার ভং ধরে মুখ ঢেকে নিলো।অতঃপর নিজেই বললো,
–আমি না একটা বেঙ্গলি রোমান্টিক সং শিখেছি। জাস্ট ফর ইউ।

নিজের কথা বলেই নোহা আবার নখ কামড়াতে লাগলো।মনে তো হচ্ছে মেয়েটা বিশ্বের সবচেয়ে লজ্জাবতী।জিতু ভাইয়া নিজের রাগ কমাতে চোখ বন্ধ করে একটা দম নিলো।অতঃপর আবার রুম থেকে চলে যেতে নিলে,নোহা পথ আটকায়।জিতু ভাইয়া কিছু বলার আগেই নোহা শুকনো কাশলো,
–এহেম এহেম,,,

অতঃপর কয়েকটা ঢুক গিলে চোখ বন্ধ করে আত্নবিশ্বাসের সাথে গান ধরলো,
❝খা খা খা আমায় চুষে চুষে খা, আমা,,,,,,,❞

বেসুরা কন্ঠে বাকি গান আর গাওয়া হলো না মেয়েটার। তার আগেই জিতু ভাইয়ের শক্ত হাতের থাপ্পড় নোহার গালে পড়ে।নোহা তাল সামলাতে না পেরে, গালে হাত ধরে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।মেয়েটা বুঝতে পারছে না তার সাথে কি হয়েছে।এদিকে জুই আর ইতি ভয়ে জড়সড়। নোহা চোখ খুলে জিতু ভাইয়ার দিকে তাকাতেই দেখলো,ভাইয়া শার্টের হাতা হাতের কব্জি পর্যন্ত গুটিয়ে নিচ্ছে। অতঃপর ভাইয়ার মুখের দিকে তাকাতেই দেখলো কাঠিন্যে চেহারা।জিতু ভাইয়া বিরবির করে অশ্রাব্য ভাষায় নোহাকে গালি দিলো, –দ্যা ফাকিং বি*চ।

জিতু ভাইয়া বলেই রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।এদিকে ভাইয়াকে চলে যেতে দেখে জুই আর ইতি ছুটে নোহার কাছে এসে বসলো।নোহা গালে হাত দিয়ে এখনো দরজার দিকে তাকিয়ে। জুই বললো,
–আপু তুমি ঠিক আছ?

নোহা আনমনে পেটে গুরগুর করতে থাকা গানের বাকি অংশটাও গেয়ে পূরণ করলো,
❝আমায় গিলে গিলে খা,,,❞


❝চল একটা গেইম খেলি,,,❞

ইফানের কথায় আমি উত্তর করলাম না।ইফান আমার উত্তর না পেয়ে নিজেই আবার বললো,
–গেইমে যদি আমি জিতি তাহলে আজ না করতে পারবে না।আর তুমি জিতলে যা বলবে তাই করবো।

ইফানের অফরটা শুনে আমি চোখ মেলে তাকালাম।মনে মনে ভাবলাম এই সুযোগ তো আর হাতছাড়া করা যায় না।আমি মনের কথা মনে চেপে ওর দিকে ফিরে বললাম,
–আমি যা চাইবো তাই করবে?

–গেইমে আমি হারলে অবশ্যই শুনবো।

–তাহলে আমার শর্ত হচ্ছে, আমি জিতলে আগামী এক মাসের মধ্যে আমার সাথে ডলাডলি করতে পারবে না।

আমার কথা শুনে ইফান ব্রু কুঁচকালো। অতঃপর মুখে হাত ধরে হাই তুলতে তুলতে বললো,
–এক রাতের জন্য একমাস সেক্রিফাইস করা ইম্পসিবল। থাক বউ আজ রাত আমি ম্যানেজ করে নিতে পারবো।

ইফান চোখের উপর হাত ধরে শুয়ে পড়েছে। আমি মাথা উঁচিয়ে ওকে দেখে মনে মনে ভাবলাম,”এত বড় একটা অফার পাচ্ছিস এটা হাতছাড়া করিস না, আর কদিন কমিয়ে দে। তবুও তর শান্তি আসবে।” আমি কিছুক্ষণ ভেবে শুকনো কাশলাম,
–এহেম এহেম।।বিশ দিন, রাজি?

ইফান চোখের উপর হাত রেখেই উত্তর করলো,”বেশি হয়ে গেছে। “

–তাহলে পনেরো দিন?

–চলবে না।।

আমি দাঁতে দাঁত পিষে বললাম,”দশদিন, এর চেয়ে একটা দিনও কমাবো না।”

ইফান আবার নড়েচড়ে শুয়ে ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর করলো,”থাক বউ আজ তোমায় লাগবে না।আগামীকাল কালের জন্য নিজেকে রেডি রেখো।একদিনে আবার আমার হরমোনের পাওয়ার বেড়ে যায়।এনার্জির ঠেলায় আবার জ্ঞান হারিও না।”

ইফানের কথায় রাগে শরীর জ্বলছে।আমি চোখ বন্ধ করে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললাম,
–এক সপ্তাহ,,,,

এবার ইফান চোখ থেকে হাত সরিয়ে বালিশে মুখ গুজে শুয়ে পড়তে পড়তে বললো,
–ধুর শালি, রাত হইসে ঘুমা।আমাকে আর নাড়া দিস না।

–তিনদিন???

ইফান মাথা তুলে আমার দিকে তাকালো।আমি শান্ত চেহারা দেখিয়ে বললাম,
–এটাই শেষ আমি আর কমাবো না।

ইফান আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঠোঁট কামড়ে হাসলো।আমি নিজের রাগ আর ধরে রাখতে পারছি না।তাই আবার শুইয়ে পড়তে নিলে ইফান হাত ধরে আামকে নিয়ে উঠে বসতে বসতে বললো,
–ওকে আমি রাজি।এবার তাহলে খেলার নিয়ম টা বলি??

আমি অন্যদিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে সায় দিলাম।অতঃপর ইফান বলতে লাগলো,
–আমি তোমাকে লাভ বাইট দিব।আর তুমি আমাকে দিবে।যে আগে “ও” “আ” আওয়াজ করবে সেই আউট।

–এ্যা,,,!!

–এ্যা নয় হ্যা।।

ইফানের এমন কথায় আমি চোখ সুর করে বললাম,”এটা কোনো গেইম?”

আমার কথা শুনে আামর ঠোঁটে এক আঙ্গুল দিয়ে হাত বুলাতে বুলাতে কৌতুক করে বললো,
–কেন আমার হাই ভল্টেজ ঝাঁঝওয়ালি কি ভয় পাচ্ছে?

ইফানের কথায় তাচ্ছিল্য করে হেসে বললাম,”ভয় আর আমি?হাহ্ চল আমিও দেখি কে জিতে? “

অতঃপর দু’জন কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে থেকে খেলার প্রস্তুতি নিলাম। ইফান নিজের মেইন পয়েন্টে হাত বুলিয়ে সেই হাত মাথায় ছুইয়ে একটা ভাব নিলো।তারপর বাঁকা হেসে বললো,

–বুলবুলি লেট’স স্টার্ট দ্যা গেইম।

আমি দুহাতে থুথু দিয়ে ঘষতে ঘষতে বললাম,❝বিসমিল্লাহ্।।❞

অতঃপর ইফানের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম।আমি ইফানের ঘাড়ে শক্ত করে দাঁত বসিয়ে দিলাম।এদিকে লুচ্চা লোকটা আামর সুযোগ নেওয়া শুরু করেছে।আমার শাড়ির ফাঁকে উন্মুক্ত কোমরে হাত ঢুকিয়ে তার সাথে মিশিয়ে নিয়েছে।এরপর আমার ঘারে চুমু খেতে আরম্ভ করেছে।আমিও সমান তালে দাঁত বসিয়ে দিচ্ছি। আমার কামড়ের তরে ইফান নিজের ব্যথা ভুলতে আমার কোমর শক্ত করে চেপে ধরে ঘারে সেও দাঁত বসিয়ে দিলো।আমি নিজের ব্যথা ভুলতে ওর ঘারের একটার পর একটা জায়গায় কামড়াতে লাগালাম।এক পর্যায়ে ইফানের ঘাড় থেকে রক্ত বেড়িয়ে আসলে।অথচ ইফান দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিচ্ছে। এদিকে ইফানের কামড়ের ফলে আমার গলা,ঘারের সবটা জুড়ে লালচে লালচে কামড়ের দাগ তৈরি হয়েছে।আমি কামড়াকামড়ি তে না পেরে ইফানকে কিল ঘুষি দিতে লাগলাম।ইফান আমাকে শক্ত করে চেপে ধরে ঠোঁটে হামলে পড়লো।রুলস অনুযায়ী কোনো আওয়াজ বের করা যাবে না।এদিকে আমি একেবারে ক্লান্ত হয়ে গেছি।ইফানকে সরাতে ওর বুকে ধাক্কা মেরে ফেলে, তার পেটের উপর উঠে বসলাম।আমার ঠোঁটে রক্ত লেগে আছে।ইফান হাত বাড়িয়ে সেটা মুছে দিতে দিতে বললো,
–ধুর শালি,দুই নাম্বার মাল নিয়া ঘুরস।তর দাঁতের চেয়ে তো আমার ইয়ের ধার আরও বেশি।ও আ শব্দ করাতে বেশ এক্সপার্ট।

আমি রাগে দাঁত কিরমির করতে করতে ইফানকে উরাধুরা মারতে লাগলাম।এদিকে আমার এমন কান্ডে ইফান হা হয়ে গেছে।আমি ইফানকে আবার কামড়ে দিতে গেলে ইফান আমাকে বিছানায় ফেলে, আমার উপর উঠে আসে।এক পর্যায়ে আমি নিজের শরীরের ব্যথার জ্বালা মিটাতে ইফানকে বালিশ দিয়ে মারতে লাগলাম।ইফান আমাকে আঘাত না করলেও তার বন্য স্পর্শ দিয়ে বারবার কাবু করার চেষ্টা করছে।কিন্তু আমি সব সহ্য করে নিচ্ছি। ইফানও এটা দেখে অনেকটা অবাক। ও ভেবেছিলো আমি একটুতেই হাঁপিয়ে উঠবো।কিন্তু ঘটলো তার বিপরীত। এদিকে ইফান আমাকে থামাতে চাইছে,আর আমি বালিশ দিয়ে ওকে পিটিয়েই যাচ্ছি।এক পর্যায়ে বালিশ ছিড়ে ভেতরের সব তুলা বেড়িয়ে এসে সারা বিছানা ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে।বালিশ ছিড়ে যাওয়ায় ইফান হো হো করে শরীর কাঁপিয়ে হেসে দিলো।রাগ আমার আরও বাড়লো তাতে।আমাকে পাগলের মতো দেখাচ্ছে। চুলগুলো সব এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে।শাড়ির আচল কোথায় আছে সেই খবর নেই আমার।আমি আবার ইফানের উপর হামলে পড়তে নিলে, ইফান আমাকে ঝাপটে ধরে শুইয়ে দিলো।অতঃপর আমাকে শান্ত করতে বললো,
–থাক বউ আজ না-হয় একটু মুচরামুচরি নাই বা করলা।চল তিন জন ঘুমিয়ে পড়ি।

ইফানের কথা শুনে আমি হতবাক।তাই শান্ত হয়ে চোখ সরু করে প্রশ্ন করলাম,
–তিন জন??

আমার কথায় লোকটা ঠোঁট কামড়ে হাসলো।অতঃপর আমার সাথে আরেকটু ঘেঁষে শুইয়ে পড়ে বললো,
–ইয়ে মানে তুমি,আমি আর ছোট ভাই
আরকি,,,,,,,

আমি আবার ক্ষেপে উঠলাম। তাই আবারও ইফানের সাথে ধস্তাধস্তি আরম্ভ করলাম।ইফান আমাকে বলতে লাগলো,
–বুলবুলি, মেরে জান শান্ত হও।তুমি জিতেছ যাও।

কে শুনে কার কথা।আমার সারা গলার অংশে জ্বালা করছে। সেটা যতক্ষণ না কমবে আমার শান্তি নেই। এদিকে ইফানের অবস্থাও খারাপ।ওর ঘার কামড়ে র*ক্তাক্ত করে দিয়েছি।ওর সারা বুকে পিটে আমার নখের আচরে ক্ষতবিক্ষত।এভাবে বিছানাতেই ওর সাথে গড়াগড়ি করে__ধস্তাধস্তি করতে করতে এক সময় খাট ভেঙে পড়ে, সাথে আমি আর ইফানও।হঠাৎ খাট ভেঙে পড়ার শব্দে আমারই আতংক ধরে গেছে। ইফান আমাকে নিজের উপর জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে ফেলতে বললো,
–এবার শান্তি হয়েছে জান?

আমি কিছু আর বলালম না।রাগে রিরি করতে করতে জোরে শ্বাস নিচ্ছি।


আমাদের রুমের আওয়াজ সকলে একটু আধটু পাচ্ছিল।কিন্তু স্বামী স্ত্রীর ব্যপার বলে কেউ আসেনি।এদিকে এত জোরে শব্দ হওয়ায়,জিতু ভাই, ইনান, আর আলাল দুলাল ছুটে আসলো।আমি আর ইফান এখনো নিচেই পড়ে আছি।আমার রাগ কমাতে ইফান এখনো আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে,তখনই দরজায় শব্দ হয়।আমি বুঝতে পারছি বাইরে বাড়ির সকলে এসে জড়ো হয়েছে।কি লজ্জাজনক বিষয়?এখন রাগে দুঃখে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।এদিকে বাইরে থেকে জিতু ভাইয়া সহ বাকিদের কন্ঠ কানে আসছে।জিতু ভাইয়া বলছে,,,
–জাহান কি হয়েছে? তুই ঠিক আছিস?জাহান,,,

জিতু ভাইয়ার ডাকে বিরক্ত হয়ে ইফান অশ্রাব্য গালি দিলো, –শালার ভাই বোধা নাকি ? বুঝে না মাঝ রাতে জামাই বউ খাট ভাঙ্গার মিশনে নামে?

–বাঙ্গির পোয়া তর মুখ বন্ধ কর।

আমি ইফানকে বকতে বকতে উঠে দাঁড়ালাম।আমাকে পাগলের চেয়ে কম দেখাচ্ছে না।এদিকে দরজায় ডাকের শব্দ বেড়েই চলেছে।সেখানে আব্বু আম্মুরাও যুক্ত হয়েছে।আমি তাড়াতাড়ি শাড়ির আচল দিয়ে মাথা থেকে শুরু করে গলাও ঢেকে নিলাম।তারপর তাড়াতাড়ি দরজা হালকা খুলে দিলাম।আমাকে সুস্থ দেখে সকলে একটু স্বস্তি পেল।কেউ কিছু বলার আগেই ইফানও আমার পাশে এসে দাঁড়াল। ইফানের এমন বিধস্ত অবস্থা দেখে বড়রা আর এক মূহুর্ত দাঁড়াল না।লজ্জায় আমার মরি মরি অবস্থা।এদিকে জিতু ভাইয়াও অস্বস্তি তে পড়ে গেলো।ইফান রাগে বিরবির করলো,
–শালা কালই বউ নিয়ে বিদায় হব।ভালোই বুঝতে পারছি, সাউন্ড প্রুফ ঘর ছাড়া এই ঝাঁঝওয়ালিকে সামলানো যাবে না।

ইফান বিরবির করতে করতে আবার ভেতরে যাওয়া ধরলো।এদিকে জিতু ভাইয়া সহ সকলের চোখ কপালে।কারণ মারামারির সময় ইফানের পশ্চাতের লুঙ্গির অনেকটা ছিড়ে গেছে।পিছন সাইডের এমন এক অবস্থা, আরেকটু হলেই মান ইচ্ছতের পতাকা উড়ে যেতো।

চলবে,,,,,,,,,,,

(মাত্র লেখা শেষ করলাম।ভুল ত্রুটি থাকতে পারে, কষ্ট করে বুঝে পড়ে নিও।হ্যাপি রিডিং 🥳🫶)

জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :৪৪

★চৌধুরী মেনশন__

ভোরের আলো ফুটেছে সবে।সূর্য সম্পূর্ণ রুপে উদয় হয়নি এখনো।গতরাত থেকে অঘুমে আছে পলি।ঘুম যেন তার চোখ হতে পালিয়েছে।সারারাত স্বামীর মাথার পাশে বসে থেকে অঝোরে চোখের জল ফেলে গেছে।ইমরান ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে আছে,তবুও রাতে বেশ কয়েকবার প্রেয়সীর কান্নার আওয়াজ শুনে জেগে উঠেছে।তারপর একহাত বাড়িয়ে অর্ধাঙ্গিনীর চোখের অশ্রুটুকু মুছে শান্তনা দিয়ে বলেছে,
–কি হয়েছে বোকা মেয়ে?আমি ঠিক আছি তো নাকি?তাহলে এভাবে কাঁদছ কেন?তুমি জান না, তোমার কান্না আমি সহ্য করতে পারি না।তোমার কষ্ট দেখে আমার যতটুকু কষ্ট হচ্ছে তার চেয়ে একবিন্দু পরিমাণও শরীরে ব্যথা অনুভব হচ্ছে না।বাবু কান্না থামাও প্লিজ।

ইমরানের নরম কন্ঠ শুনে মেয়েটা আরও ফুপিয়ে উঠে।অতঃপর নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে জড়িয়ে ধরে ভেজা কন্ঠে বলতে থাকে,
–আপনি কেন আমার কথা শুনেন না?আজ যদি আপনার কিছু হয়ে যেতো, তাহলে আমার কি হতো?আমি নিজের বাপ হারিয়ে একবার এতিম হয়েছি।তারপর আপনাকে মাথার ছাঁদ হিসেবে পেয়েছি। এখন আপনিও চলে গেলে আমি তো বিধবা হয়ে যাব।আবারও ছাঁদ হারা নিঃস্ব হয়ে যাবো।কিভাবে একা একা এই নি*ষ্ঠুর দুনিয়ায় বাঁচবো?

পলি কান্নায় ভেঙে পড়ে।ইমরান মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দেয়।ইমরান ঘুমিয়ে পড়লেও পলি ঘুমায় নি।এদিকে ওদের রুমে আজ বেশ অনেক রাত পর্যন্ত নাবিলা চৌধুরী ছিলো।তিনি গম্ভীর মানুষ, অন্য নারীদের থেকে বড্ড আলাদা। কখনো অনুভূতি প্রকাশ করে না।তিনি ইফানের এ*ক্সিডেন্টের পর আরও গম্ভীর হয়ে গেছেন।এই যে গতকাল যতটুকু সময় আদরের ছোট ছেলের কাছে ছিলো,ততটুকু সময় এক দৃষ্টিতে ছেলেটাকে দেখে গেছে। তারপর রুম থেকে বেড়িয়ে আসার সময় ছেলের বেন্ডেজ করা কপালে একটা চুমু খায়।আর পলিকে খুব সংক্ষিপ্ত করে বলে,
–ছেলেটার খেয়াল রেখো।


পলি হাঁটুতে মাথা রেখে ঘুমন্ত ইমরানের শান্ত চেহারাটাকে আপন মনে দেখে যাচ্ছে। তখনই রুমে কেউ নক করে।পলি নাক টেনে শাড়ির আচলটা অপর কাঁধে তুলে নিলো।অতঃপর মিহি কন্ঠে বললো,
–দরজা খোলা আছে।ভেতরে আসতে পারেন।

পলির উত্তর পেয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো রোকেয়া বেগম।তিনি সব দিনের মতো আজও শাড়ির উপর হিজাব পড়ে আছেন। আর হাতে তছবি নিয়ে একটা একটা পুঁতি গুনছেন। পলি দাদিকে দেখতে পেয়ে বিছানা থেকে নেমে আসলো।অতঃপর দাদির বাহু ধরে বিছানায় বসালো।দাদি ইমরানের দিকে তাকিয়ে পলিকে বললো,
–কিরে ছোট বউ, আমার নাতিটার শরীর এখন কেমন?

পলি ইমরানের দিকে তাকিয়ে মুখ ভারী করে,নাক টেনে উত্তর করলো,
–ঐ যেমন দেখছেন আরকি।মানুষটার ওপর কয়দিন পর পর ফারা যায়।আল্লাহর রহমতে এখনো সুস্থ আছে এটাই অনেক। কত করে বলি বাবা, কাকাইরা রাজনীতি করুক __আপনি এসব থেকে সরে আসেন।কিন্তু উনি কোনো কথা শুনে না।উনার কথা, “আমি আব্বুর পাশে না থাকলে কে থাকবে?ভাইয়া তো বিজনেসেই বেশি সময় দেয়। আমাকেই উনাদের দেখে রাখতে হবে।”

সারারাত কান্না করার ফলে মেয়েটার গলা বসে গেছে। পলির কথা শুনে দাদিরও চেহারাটা দুঃখে ছেয়ে গেছে।দাদি পলিকে বললো,
–থাক বোইন আর কাঁদিস না।সব আল্লাহর লীলাখেলা।মাবুদ ভালো মানুষেরই পরীক্ষা নেয় বেশি করে।ধৈর্য ধরে থাক।আল্লাহর ইবাদত কর।মোনাজাতে পড়ে কাঁদবি, দেখবি আল্লাহ সব মুশকিল আসান করে দিবে।

পলি আর দাদির কথোপকথনের মধ্যেই ইমরানের ঘুম ভেঙে যায়।সে চোখ খুলে তাকাতেই দেখতে পেলো দাদি তার পাশে বসে আছে।ইমরান উঠতে নিলে মাথায় ব্যথা অনুভব হয়।পলি গিয়ে ধরে আবারো শুইয়ে দিতে দিতে বললো,
–আপনি উঠবেন না।আপনার শরীর এখনো দুর্বল।

ইমরান পলির হাতটা ধরে মৃদু হেসে বললো,
–সারারাত বউ সেবা খেয়ে আমি চাঙ্গা হয়ে গেছি।

দাদি হেসে বললো,”তর বউ আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে,না হলে এই বউয়ের সেবা খেয়ে এখন দৌড়াতি।” দাদির কথা শুনে ইমরান হাসলো,”এত সকলে আমাকে দেখতে এলে নাকি।তোমাকে তো এখন আর রুমের বাহিরে পাওয়ায় যায় না।নাকি বড় জামাই নাই বলে দুঃখ পালন করছ?”

ইমরানের কথায় দাদির মনে পড়ে গেলো ইফান আর আমার কথা।দাদি পলিকে জিজ্ঞেস করলো,আমি কবে বাপের বাড়ি থেকে চৌধুরী বাড়িতে আসবো?পলি বললো ওর সাথে আমার কথা হয়েছে। তবে ফিরবো সেটা জানায়নি।পলির কথা শুনে দাদি আর কিছু বললো না।তারপর কিছুটা সময় ইমরানের সাথে কথাবার্তা বলে পলির রুম থেকে বেরিয়ে যায়।


★শেখ বাড়ি,,,,,

সকাল হতে না হতেই ইফানের লোকেরা নতুন খাট নিয়ে হাজির।আমি ভোরেই রুম থেকে বেড়িয়ে জুইদের রুমে চলে এসেছি।আজ আর শাড়ি পড়িনি। বহুদিন পর সেলোয়ার-কামিজ পড়েছি।আর ওড়নাটা ভালোভাবে মাথায় পেচিয়ে নিয়েছি।গলায় অনেক দাগ সৃষ্টি হয়েছে।যা কেউ দেখলে আমার জন্য অস্বস্তিকর।আমি কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম ইমরান আহত হয়েছে।পলি আমাকে কল করে খবরটা দিলো।ইমরানের জন্য একটু খারাপও লাগছে।ছেলেটা বড্ড চঞ্চল প্রকৃতির।মানুষের সাথে খুব তাড়াতাড়ি মিশে যাই।আমি আর ভাবলাম না।এবার নিচে গিয়ে আম্মু’দের একটু সাহায্য করলে তাদের কাজ আরেকটু সহজ হবে।আমি রুম থেকে বের হতে নিলেই পিছন থেকে ইতির কন্ঠ ভেসে আসে,
–বড় ভাবি, চল আজ আমরা চলে যাই। আমার ছোট ভাইয়ার জন্য মন কেমন করছে।

আমি পিছনে তাকাতেই দেখলাম ইতির চোখ দুটো জলে টইটম্বুর। বিছানার এক কোণায় চুপ করে বসে আছে।তার পাশে নোহা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। আমি ইতির কাছে গিয়ে ওর গালটা টেনে দিলাম। অতঃপর হেসে বললাম,
–তোমার ভাইয়া ঠিক আছে।এত চিন্তা করার কিছু নেই।আর তবুও যদি চলে যেতে মন চায় তাহলে তোমার বড় ভাইকে গিয়ে বল নিয়ে যেতে।আমি আপাতত ঢাকা ফিরছি না।আমার ভার্সিটি আবার খোলা হলে এখানে আরেকবার কবে আসবো সেটা ধারণা করতে পারছি না। তাই আরও কিছু দিন এখানে থাকবো।

–তুমি না থাকলে আমার ভালো লাগে না তো।আর এখানোও তো থাকা যাবে না। পরীক্ষার তারিখও এগিয়ে এসেছে।

ইতি মুখ গোমড়া করে বললো।আমি বাচ্চা মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,
–এটাও ঠিক।আগে পড়াশোনা পরে বাকি কাজ। তোমাদের পরীক্ষা তো খুব কাছেই চলে এসেছে।আর বেড়ানো লাগবে না।পরীক্ষা দাও ভালো করে। পরে না হয় আবার এখানে বেড়াতে আসবে।জুই তো এখানে আছেই।

আমাদের কথার মাঝেই রুমে জুই আসলো।জুইয়ের হাতে নাস্তার ট্রে।সে টেবিলের উপর ট্রেটা রেখে বললো,
–ইতি চল আমরা পড়তে পড়তে ব্রেকফাস্ট সেরে নিই।

আমি বিষয়টা পছন্দ করলাম না।পড়তে পড়তে আবার কিসের খাওয়া।আমি জুইকে নাকচ করে বললাম,
–তুই রুমে খা।ইতি তুমি নিচে চল।

–এখানেই খাই না জুইয়ের সাথে। অনেক মজা হবে।আর জুইও আমাকে পড়ার অনেক টপিক বুঝিয়ে দিবে।

আমি আর কিছু বললাম না ইতি কে।আমি ওদের কে একা রেখে নিচে আসলাম।ইফানের লোকেরা রুমে আমাদের খাট সেটিং করে দিচ্ছে। আর ইফান ড্রয়িং রুমে বসে আছে পায়ের উপর পা তুলে।সে আব্বুর হাতের নিউজ পেপার কেড়ে নিয়ে তা নিজের চোখের সামনে ধরে রেখেছে। এমন ভাব ধরছে যেন নিউজ পড়ায় খুব মনযোগী।বড় আব্বু ছুপছুপ বসে চা খাচ্ছে।আর আব্বু চা হাতে নিয়ে বসে আছে।কিছুক্ষণ পরপর মেয়ের জামাই নামক অসভ্য লোকটাকে আড় চোখে দেখে নিচ্ছে। ইফান আর আব্বু পাশাপাশি বসে আছে।মূলত আব্বুই আগে বসে নিউজ পেপার পড়ছিল।আর ইফান আচমকা এসে নিউজ পেপার টান মেরে নিয়ে আব্বুর পাশে ঘেঁষে বসে পড়ে।আমি ইফানের কর্মকান্ড চোখ ছোট করে দেখছি।ইফানের হঠাৎ চোখ আটকায় আমার দিকে।মূহুর্তেই যেন ইফানের নেশা লেগে যায়।বিয়ের পর থেকে আমাকে শাড়ি পড়েই দেখেছে আজ হঠাৎ কালো সেলোয়ার-কামিজে দেখে অনেক অবাক হয়েছে।ইফান আমাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিলো।আমি ইফানের এমন বেহায়া চাউনি দেখে দাঁতে দাঁত পিষে রান্না ঘরের দিকে চলে গেলাম।ইফান আমার যাওয়া দেখতে দেখতে আব্বুকে ফিসফিস করে বললো,
–সেই এক আগুনের মতো সুন্দরী পয়দা করেছিস ভাই।

ইফানের কথায় আব্বু রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো,”আমি তোমার শ্বশুর হই।” আব্বুর কথায় ইফান চোখ আব্বুর দিকে ঘুরালো। তারপর ভাবুক চেহারা করে বললো,
–ঠিকই তো বলেছেন।নাহ্,এই সুন্দরী কে পয়দা করার জন্য হলেও আপনাকে এক পেকেট আকিজ বিড়ি উপহার দিতে হচ্ছে।

আব্বুর চোয়াল আরও শক্ত হয়ে আসলো।তিনি রাগে রিরি করতে করতে বললো,
–অসভ্য ছেলে, ভদ্রতার কোনো ছিটে ফোটায় নেই তোমার মধ্যে।

আব্বু আর বসলো না।সোজা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো।ইফান আব্বুর রাগ দেখে চোখমুখ উল্টে বললো,
–যা বাবা শ্বশুর আব্বাও দেখছি আমার বউয়ের মতো ভং ধরা শুরু করেছে।

নিজের কথা বলতেই নজরে পড়লো বড় আব্বুর দিকে।তিনি ভদ্রতার খাতিরে মৃদু হেসে স্থান ত্যাগ করলো।এতে ইফান নাক ছিটকালো।তখনই ইনান এসে মোবাইলে কিছু একটা দেখালো।ইফান মূহুর্তেই নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখা সত্তায় বেরিয়ে আসলো।তার চোখমুখ শক্ত হয়ে গেছে।ইফান ইনানের উদ্দেশ্যে বললো,
–তাহলে শা*লা আব্দুইল্লা উপরে টপকে গেছে। ভালোই হয়েছে রে।শালা সব মাইয়া একাই খেয়ে দিচ্ছিল।এদিকে তরুণ যুবকরা বেডি হীনতায় ভুগছে।এবার এই প্রতিবন্ধী গুলোও একটু খাওয়ার সুযোগ পাবে।

ইনান মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,”জি ভাই ঐ প্রতিবন্ধীর কাতারে আমিও ছিলাম।এবার মনে হয় ভাগ্য খুলবে।” ইফান শয়তানি হেসে জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলতে ঠেলতে ইনানকে কিছু বলতে যাবে তখনই চোখ পড়ে জিতু ভাইয়ার দিকে। তিনি ফর্মাল ড্রেসআপে পরিপাটি হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। ইফানের সাথে জিতু ভাইয়ার চোখাচোখি হলো।ইফান বাঁকা হেসে ইনানকে জিতু ভাইয়ার দিকে ইশারা করে বললো,
–তুই একা নারে পাগলা।আমার শালাও প্রতিবন্ধীর কাতারে আছে।

ইফানের এসব কথায় জিতু ভাইয়ার চোখ সরু হয়ে আসলো।তিনি ইফানকে জহরি চোখে দেখে চলে যেতে নিলে, পিছন থেকে ইফান বলে,
–মান্নার মতো ভাব দেখিয়ে জীবনে কি করলি?এখনো তো কারো কোনো বালই ছিঁড়তে পারলি না।

ইফানের খুঁচা মারা কথা জিতু ভাইয়ার কান অব্ধি যেতেই পা থেমে গেলো।অতঃপর তিনি পিছনে ফিরে পকেটে দু’হাত গুঁজে ইফানকে দেখে তাচ্ছিল্য করে হেসে বললো,
–বাল ছিঁড়লে আবার গজানোর সম্ভাবনা থাকে।আর আমি ছিঁড়ে সেই চান্স টুকু দিবো না।তাই একেবারে আগুন লাগিয়ে আগা থেকে গুড়ি সবটাই ধ্বংস করে দিব।

জিতু ভাইয়া নিজের কথা শেষ করে নিঃশব্দে বাঁকা হাসতে হাসতে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো।ইফানও বাঁকা হেসে ব্রু নাচালো।অতঃপর উপরে যেতে যেতে ইনানকে উদ্দেশ্য করে বললো,
–সব রেডি রাখ আজই ঢাকা ফিরছি।


রান্নাঘরে আম্মু আর বড় আম্মু রান্না করছে।এত আয়োজন সামলাতে হিমসিম খাচ্ছিল দুজনে।তাই রাকিব ভাইয়ের আম্মাও এসেছে তাদের সাহায্য করতে।রাকিব ভাইয়ের আম্মা__মদিনা চাচি মশলা কুটছে।বড় আম্মু কাটা-বাছা করছে।আমি আর আম্মু দুজনে দুই চুলায়, দুই রকম আইটেম রান্না করছি।আম্মু মাংস কষিয়ে সিদ্ধ হওয়ার জন্য পরিমাণ মত পানি ঢেলে পেন ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিলো।আমি মাছের ভাজি গুলো উল্টে দিচ্ছি।আম্মু শাড়ির আচলে হাত মুছতে মুছতে ফিসফিস করে বললো,
–জাহান কি বলেছিলাম মনে আছে?

আম্মুর হঠাৎ এহেন কথা মাথায় ঢুকলো না।আমি আরেকটা পিস উল্টে আম্মুর দিকে তাকিয়ে জিগ্যেস করলাম,
–কি বলেছিলে?

আমার কথায় আম্মু চোখ সুরু করে ফেললো।অতঃপর আমার পাশে আরেকটু চেপে ফিসফিস করে বললো,
–চৌধুরী বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি তোকে একটা কাজ দিয়েছিলাম।করেছিস,নাকি ভুলে গেছিস?

আম্মুর কথা শুনে এবার মাথায় আসলে কিসের কথা বলছে।আমি আবার রান্নায় মনযোগ দিয়ে ভাবুক চিত্তে বললাম,
–সবই মনে আছে।শুধু একটু সময় দাও আমায়।যত তাড়াহুড়ো করতে চাইছি,ততই সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। যতটুকু অংক কষেছি ততটুকুও ঘেটে যাচ্ছে। তাই এবার আর মাথা গরম করবো না।এই শেষবার আমি আবারও চৌধুরী বাড়িতে ফিরে যাব।আমার উপর ভরসা রাখ।


ঘড়ির কাটা বিকাল তিনটার ঘরে।দুপুরে পুরুষদের খাওয়ানোর পর আমাদের খেতে বসতে আড়াইটা বেজে গেছে।তারপর রান্নাঘরে আম্মুদের সাথে একটু গল্প করলাম।সারাদিন এত ব্যস্ততার মধ্যে খেয়ালই হয়নি আজ সারাদিন জিয়াদ বাড়িতেই ছিলো।তাই ছেলেটার সাথে কথা বলতে আসলাম।

রুমে ঢুকেই দেখি জিয়াদ বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে আছে।গতকাল রাতে রুম যেমন দেখে গিয়েছিলাম। আজ তার আরও অধপতন হয়েছে।সব কিছু এলোমেলো অগোছালো। আমি তপ্ত শ্বাস ছাড়তেই চোখে পড়লো বিছানার এক কোণে পড়ে থাকা আমার পুড়ানো গিটার’টার উপর।মূহুর্তেই বুকের ভিতর কেঁপে উঠলো।হঠাৎই শ্বাস ফেলা বড় দায় হয়ে উঠেছে।এটা তো সেই গিটার, যা আমাকে জায়ান ভাই কিনে দিয়েছিলো।এটা এখানে কি করছে?আমি তো খুব যত্ন করে জায়ান ভাইয়ের রুমে রেখে দিয়েছিলাম। আমি ভাবতে ভাবতে জিয়াদের কাছে গিয়া বসলাম।তারপর ছেলেটার এলোমেলো চুল গুলোতে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম।জিয়াদ কিছু বললোও না,আর কোনো নাড়াচাড়াও করলো না।আমি আস্তে করে ডাক দিলাম,
–ভাই,এই ভাই, তুই ঘুমাচ্ছিস?

জিয়াদের থেকে উত্তর আসলো না।আমি ধরে নিলাম ছেলেটা ঘুমাচ্ছে। তাই উঠে যেতে নিলে জিয়াদ আমার কোমর জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লো।আমি আশ্চর্য হলাম!হঠাৎ এটা কি হয়ে গেলো?ছেলেটা কাঁদছে কেন?আমি জিয়াদকে সান্তনা দিতে লাগলাম,
–কি হয়েছে তোর ভাই? তুই তো এমন ছিলি না।তাহলে হঠাৎ এত পরিবর্তন কেন তোর মাঝে? আমাকে বল তোর কি হয়েছে?

জিয়াদ আমাকে ছেড়ে আবার উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো।অতঃপর ভেজা ব্যথাতুর কন্ঠে বললো,
–তোমায় বললে যদি কষ্ট কমে যেত,তাহলে সত্যিই তোমাকে বলতাম।কিন্তু এমনটা তো হবে না। তাই কিছু কথা আড়াল থাকায় শ্রেয়।

আমি আরও কিছুক্ষণ বুঝালাম। কিন্তু কোনো কাজ হলো না।তখনই রুমে ইতি ছুটে এসে বলতে লাগলো,
–ভাবি ভাইয়া ডাকছে তাড়াতাড়ি যাও।

–কেন ডাকছে?

–আমাকে বলছে তোমাকে ডেকে দিতে। আর কিছু জানি না।

ইতি নিজের কথা শেষ করে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।আমি সেদিকে কয়েক মূহুর্ত তাকিয়ে থেকে ভাবলাম কি আবার হলো!অতঃপর জিয়াদকে বলে নিজের রুমের উদ্দেশ্য যাওয়া ধরলাম।


আমি রুমে আসতেই দেখি ইফান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।একদম নতুন প্যান্ট-শার্ট, ব্লেজার পড়ে পরিপাটি হয়ে। সে আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে দেখতে বেড়ে উঠা চুলগুলো তে ব্রেক ব্রাশ করছে।অতঃপর হাত ঘড়িটা ঠিকটাক করে,সারা বডিতে পারফিউম মেখে নিলো।আমি বড় বড় পা ফেলে ওর কাছে গিয়ে জিগ্যেস করলাম,
–কি সমস্যা ডেকেছেন কেন?

আমার কন্ঠ শুনে নিজের কাজ থামালো ইফান।অতঃপর শেষবারের মতো মিররে নিজেকে দেখে, আমার দিকে তাকালো।আমি একটা ব্রু উঁচিয়ে তার দিকে তাকিয়ে।ইফান গলার টাই’টা হালকা ঢিলে করে মাদকীয় কন্ঠে বললো,
–মন কোথায় পড়ে থাকে বুলবুলি?ডু ইউ হ্যাভ এনি আইডিয়া, আমি তোমার জন্য কতক্ষণ ধরে ওয়েট করছি?

–সেটাই তো জিজ্ঞেস করছি কেন?

ইফান দুই আঙ্গুল দিয়ে আমার থুতনি ধরে, মুখটা উপরে তুললো।অতঃপর তার ঠোঁট গোল করে চুম্মা দেখিয়ে,আমার উপর হালকা ঝুঁকে হাস্কি স্বরে বললো,
–কেন আবার কি?জামাই রেডি হলে বউকে শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিতে হয় জান না?

আমি ইফানের হাতটা সরিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বললাম,
–ফাইজলামি না করে আসল কথ বলেন।চলে যাচ্ছেন কি?দেখেতো তাই মনে হচ্ছে। যাইহোক ভালো করছেন।অন্যের বাড়িতে পড়ে থাকা ভালো ব্যপার না।

আমার কথা শুনে ইফান কপাল কুঁচকে ”হিশশশ” আওয়াজ করে থামিয়ে দিলো।অতঃপর আমার গালে হালকা থাপড়ে বললো,
–দিনদিন সব সাইজই তো বেড়েছে!তাহলে ঘিলুটা বাড়ছে না কেন বুলবুলি?

আমি দাঁত কটমট করে কোনো কিছু না বলেই চলে যেতে নিলে__ইফান আমার হাত ধরে ফেলে। আমি চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই ছেড়ে দিলো।অতঃপর বিছানার দিকে ইশারা করলো।আমি ইফানকে সুক্ষ্ম নজরে পরক করে সেদিকে তাকালাম।বিশাল বড় বিছানার উপর সবটা জুড়ে নতুন সেলোয়ার-কামিজ আর শাড়ি রাখা।আমি কিছুটা অবাক হলাম। তারপর ইফানের দিকে প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকাতেই ইফান বাঁকা হাসলো।ইফান আমার ঠোঁটে হালকা চুমু খেয়ে বললো,
–রেডি হয়ে যাও, জান।

আমি কপাল কুঞ্চিত করে অতন্ত্য বিরক্তি নিয়ে বললাম,
–রেডি হব মানে?

–সারাজীবন কি বাপের বাড়িতে পড়ে থাকবে? নাকি শ্বশুর বাড়িতেও যাবে কোনটা?

আমি ইফানের থেকে চোখ সরিয়ে তিক্ততার সাথে উত্তর করলাম,
–আমি যখন এখানে এসেছি একা,তাহলে নিশ্চয়ই একাই যাব!তাহলে আপনার সাথে যাব কেন?

ইফান চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলতে থাকে।হয়তো রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।কয়েক মূহুর্ত যেতেই ইফান চোখ খুলে আমার দু’গালে হাত রেখে হাস্কি স্বরে বললো,
–রেডি হয়ে যাও জান,যেতে হবে।

আমিও নিজের কথায় অটুট থেকে বললাম,
–আমি এখন যাব না,আমর একটা কাজ আছে,,,

–হিশশশ,,,,

ইফান আমাকে থামিয়ে দিলো।মূহুর্তেই সে নিজের রাগ প্রকাশ করে বসলে আমার দু’গাল একহাতে চেপে ধরে।ইফান এতক্ষণ দেখানো সকল নমনীয়তা দূরে ঠেলে দিয়ে__চোয়াল শক্ত করে আমাকে হিসহিসিয়ে বললো,
–সেই কাজটাই তো করতে দিতে চাইছিনা, বুঝনা?

আমি ওর শক্ত থাবা থেকে নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলালম,
–আমি কোন কাজের কথা বলছি, তুমি কিভাবে বুঝলে?

ইফানের ঠোঁটের কোণে ভেসে উঠলো সেই চিরচেনা পৈশাচিক হাসির রেখা।সে সেভাবেই ক্রুর হেসে উত্তর করলো,
–আই গেট ইট অল,মাই ডিয়ার ফা*কিং বুলবুলি।

–আমি যাব না।কি করবে তুমি?

ইফান আমার দিকে আরেকটু ঝুঁকে পড়লো।আমার গালে রাখা হাতটা আস্তে আস্তে চুল ভেদ করে পিছনে নিয়ে আচমকা ঘার শক্ত করে ধরে তার কাছে টেনে নিলো।আগের ন্যায় হিসহিসিয়ে বললো,
–যেতে না চাইলে কাঁধে তুলে নিয়ে যাব।আমাকে তো চেনই, শালা এক বা*লের মুড__যখনতখন বিগরে যায়।আমি নিজের রাগের উপর আতংকিত! না জানি কখন তোমার গায়ে হাত তুলে বসি।আমায় রাগিও না জান।মেজাজটা এমনিতেই বিগড়ে আছে।

আজ আমি বেশ অবাক হচ্ছি ইফানের কথায়।সবই তো আজ ঠিকটাক ছিলো!! তাহলে হঠাৎ লোকটা গিরগিটির মতো রং বদলাচ্ছে কেন?আমি তবুও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে নড়চড় হলাম না।আমি আবার শক্ত গলায় উত্তর করলাম,
–কতবার বলতে হবে তোমায়, ভয় জিনিস টা আমাকে দেখাতে এসো না।আমি কোনো কিছুকে ভয় পাই না।আর হঠাৎ আসল রুপে চলে আসার কারণ কি?

ইফান হাসলো।অতঃপর ঘার বাকিয়ে, সেখানে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,
–আমি আবার নকল রুপেই কবে ছিলাম?আমার তো রুপ একটাই। অন্তত তোমার মতো দুমুখী সাপ নয়।যাও বউ রেডি হয়ে নাও।আর একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, এভাবে মাথায় উড়না পেছিয়ে রেখেছ যে দেখেই তোমাকে, আমার লেডি ফিল আসছে।

ইফান আমার চুপ করে থাকা দেখে, আমার ঠোঁটে পুনরায় তার সিগারেটে পোড়া খসখসে ঠোঁট দুটো ছুঁয়াল।অতঃপর আবারও হাস্কি স্বরে বললো,
–যাও সোনা রেডি হয়ে নাও।

আমি শীতল নয়নে ইফানের দিকে তাকিয়ে বেশ খানিকটা সময় ভাবলাম।অতঃপর ঠোঁট বাকিয়ে হিসহিসিয়ে বললাম,
–নিজের ধ্বংসকে আলিঙ্গন করার জন্য তোমাকে ওয়েলকাম ইফান চৌধুরী।

ইফান মাথা নাড়িয়ে হেসে হিসহিসিয়ে বললো,
–তোমাকে আলিঙ্গন করে আমি বারবার ধ্বংস হতে প্রস্তুত।বাট আমি বেঁচে থাকতে আমার জিনিস কে কারো হতে দিবো না। আই রিপিট তোমাকে আমি কারো হতে দিব না।পৃথিবীর সব কিছু সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও ইউ আর জাস্ট মাইন।অনলি মাইন।


ইতির ব্যাগ গোছানো শেষ।সে জুইয়ের সাথে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে।এক দু’দিনে জুইয়ের সাথে ভালোই বন্ধুত্ব হয়ে গেছে ইতির।বান্ধবী চলে যাচ্ছে দেখে জুইয়ের মনটাও খারাপ। অন্য দিকে নোহা নাকে টিস্যু গুঁজে নিজের ছোট্ট ব্যাগে যা ছিলো তা সব ইতির ব্যাগে ঢুকচ্ছে।ইতি নিজের দুঃখ সাইডে রেখে নোহাকে প্রশ্ন করলো,
–ও নোহাপু তোমার ব্যাগতো এখন খালি হয়ে গেছে। সবকিছুই তো আমার ব্যাগে ভরে নিয়েছ!!

নোহা ইতির ছোট ব্যাগে ভালোভাবে সব চেপে চেপে ব্যাগের চেইন লাগিয়ে বললো,
–আর বলো না লিটিল গার্ল, আমার ব্যাগে এখনো ইম্পর্ট্যান্ট জিনিস রাখার আছে।তোমরা একটু ওয়েট কর আমি আসছি।

নোহা দৌড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলে।পেছনে ইতি আর জুই একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখাচোখি করে নিলো।দুজনেই বুঝতে পারছে না নোহার মতি গতি কি?


নোহা এক ছুটে জিতু ভাইয়ার রুমে এসেছে।আসেপাশে কাউকে দেখতে না পেয়ে টুক করে ঢুকে পড়েছে।তারপর কাভার্ড ঘেটে ভাইয়ার ইউজ করা কয়েকটা টিশার্ট আর কয়েকটি আন্ডার প্যান্ট টুকটুক করে নিজের ছোট্ট ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলো।অতঃপর এক ছুটে রুম থেকে বেড়তে নিলেই কোনো শক্তপোক্ত বস্তুর সাথে সজোরে ধাক্কা খায়।নোহার হালকা শরীরে তার তাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লো।তারপর হাত পা ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাঁড়াল। মেয়েটা সামনে তাকাতেই চোখ কপালে। দানবের মতো দেহের জিতু ভাইয়া নিজের শার্টের হাতা গুটিয়ে কনুই অব্ধি তুলছে।ভয়ে নোহা একটা ঢুক গিললো।জিতু ভইয়া চোখমুখ শক্ত করে এক পা এক পা করে নোহার দিকে এগোতে লাগলো।নোহাও সমান তালে পিছিয়ে যাচ্ছে।নোহা পিছিয়ে যেতে যেতে দেয়ালের সাথে আটকালো। জিতু ভাইয়া নোহার সামনে এক হাত দূরে দাঁড়িয়ে শক্ত গলায় বললো,
–আমার রুমে আসার পারমিশন কে দিয়েছে?

নোহা ভয়ে কাঁপতে লাগলো।গত রাতের চর খাওয়ার পর থেকে জিতু ভাইয়াকে বাঘের মতো ভয় পেতে আরম্ভ করেছে।জিতু ভাইয়া ভয়ার্ত নোহাকে উপর নিচ একবার চেয়ে নাক ছিটকালো।কারণ নোহা একটা শর্ট প্যান্ট আরেকটা টপ পড়ে আছে।জিতু ভাইয়া আরেক হাত দূরে সরে গিয়ে কঠোর স্বরে বললো,
–আমি যাতে তোমাকে আমার আসেপাশে না দেখি।তোমাকে দেখলে অনেক গিল্টি ফিল হয়।আই থিংক ইউ নো দ্যা রিজন ভেরি ওয়ল।

নোহা এতক্ষণ জিতু ভাইয়াকে ভয় পেলেও এখন আর পাচ্ছে না। তার চোখদুটো জ্বলজ্বল করছে।নোহার মনে আজ বড্ড কষ্ট অনুভব হচ্ছে।তাকে কেউ এতটা ঘৃণা করে?সে নিজের প্রশ্নে নিজেই য*ন্ত্রণা অনুভব করছে।বোকা মেয়েটা ঠোঁট ভেঙে, নাক টানতে টানতে বললো,
–আই উইল বি গুড,,,,,

–গেট আউট অফ হেয়ার।।

বাকি কথা না শুনেই চেঁচিয়ে উঠলো জিতু ভাইয়া।নোহার চোখ দিয়ে টপটপ করে নোনাজল গড়িয়ে পড়লো।তবুও নোহা নিজের ভেতরে সাহস সঞ্চার করে কিছু বলতে যাবে,তখনই আবার জিতু ভাইয়া চেঁচিয়ে উঠতে নিলেও ব্যর্থ হয়।কারণ একটা রিনরিন মেয়েলি কন্ঠ তাকে থামতে বাধ্য করে।

–আমার নোহাপুকে বকবেন না প্লিজ।

নোহা আর জিতু ভাইয়া দুজনেই দরজার দিকে তাকালো।ইয়েলো কালার গাউন পড়া ইতি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। নোহার কষ্টে তার চোখ দু’টোও জলে টইটম্বুর। জিতু ভাইয়া এভাবে ইতিকে দেখে কিছু না বলে বেলকনিতে চলে যায়। ইতি দৌড়ে গিয়ে নোহাকে ঝাপটে ধরে কাঁদু কাঁদু কন্ঠে বলে,
–কেঁদো না আপুন।তুমি কাঁদলে আমার কান্না লাগে অনেক।

–আমি কাঁদছি না তো লিটিল গার্ল।

নোহা নিজের চোখ মুছে ইতির চোখও মুছিয়ে দিলো।অতঃপর বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য সামনে তাকাতেই দেখতে পেল অসহায় চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে জুই।নোহাও বাচ্চাদের মতো চেহারা করে জুইয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো।জুই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বললো,
–নিচ থেকে তোমাদের কে ডাকছে।


শেখ বাড়ির সামনে সারি করে এক সাথে নয় দশটার মতো ব্ল্যাক মার্সিডিজ দাঁড়িয়ে। আসেপাশের প্রতিবেশীরা আড়াল থেকে এদিকে তাকিয়ে দেখছে।তারা তো আমার জামাই নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেউ আর মনে রাখেনি তিন-চার মাস আগের সেই বিবৎস ঘটনা।ইনান আর আলাল দুলাল ইতি আর নোহাকে নিয়ে একটা গাড়িতে উঠে পরেছে।আম্মু আর বড় আম্মু মুখে আচল ধরে কান্না করছে।আব্বু এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে নির্জীব। হয়তো চোখে স্পষ্ট দৃশ্যমান আদরের কন্যার অন্ধকার ভবিষ্যৎ। বড় আব্বু শেষ বারের মতো গার্ডিয়ানের দায়িত্ব অনুযায়ী ইফানের বাহুতে হাত রেখে বললো আমাকে দেখে রাখতে।বড় আব্বুর সাথে ইফান বাজে ব্যবহার করে নি।বরং প্রথম থেকেই বড় আব্বুকেই একটু মেনে চলেছে।ইফান বড় আব্বুকে আশ্বাস দেয় আমার খেয়াল রাখবে,যত্ন নিবে।

ইফান কোনো একটা বিষয় নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। সেই তখন থেকে কানে ইয়ার প্যাড লাগিয়ে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে। সাথে এদিকটাও দেখে নিচ্ছে। আমি আজ ইফানের আনা একটা এশ কালার থ্রিপিস পড়েছি।ওড়নাটা সুন্দর করে মাথায় পেচিয়ে পিনআপ করে নিয়েছি।যাতে গলার অ*শ্লীল চিহ্নগুলো আড়ালে থাকে।আমি সবাইকে শেষ বারের মতো বলে বিদায় নিলাম।ইফান আমার আসতে লেইট হচ্ছে দেখে বড্ড বিরক্ত হচ্ছে। সে গাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছে।কপাল কুঞ্চিত করে হাত ঘড়িটায় সময় দেখে আমায় ডাকলো,

–জান হারি আপ।

আমি কয়েক পা হেঁটে গিয়ে আবারও পিছনে ফেলে যাওয়া মানুষগুলোর দিকে তাকালাম। সবাই কত অসহায় নয়নে আমার পানে চেয়ে।সবার মাঝে হঠাৎ চোখ আটকালো দোতলার জিতু ভাইয়ার রুমের বেলকনিতে।সেখানে দাঁড়িয়ে প্যান্টের দু পকেটে দু’হাত গুঁজে জিতু ভাইয়া আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। আমাদের চোখাচোখি হলো।জিতু ভাইয়ার চোখ মুখ খুবই শান্ত দেখাচ্ছে।আমি চোখের ইশারায় দোয়া চাইলাম। তিনি উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে সায় দিলেন।লোকটা এতটা শক্ত দেখালেও আজ কেন জানি ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছে।হয় তো আমার জীবনের অনিশ্চয়তার কথা ভেবেই। জিতু ভাইয়া আমার চোখে চোখ রেখে না বলা কথাগুলো, মনে মনেই উগড়ে দিলো,

❝আমি জানি বনু তুই ভালো নেই।তোর সামনে কি অপেক্ষা করছে তা জানা নেই। তবে এটুকু আমি নিশ্চিত, ভালো কিছু অপেক্ষা করছে না।তোর জন্য অনেক অনেক দোয়া।আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোর বড় ভাইয়ের দায়িত্ব পালন করে যাব।ভালো থকিস।বিদায়।❞

আমি জিতু ভাইয়ার থেকে দৃষ্টি সরাতেই চোখ আটকানো ছাঁদে দাঁড়িয়ে থাকা জিয়াদের উপর।ছেলেটার জন্য বড্ড খারাপ লাগছে।আর কদিন এখানে থাকলে হয় তো ছেলেটার চেপে রাখা কথাগুলো জানতে পারতাম।জিয়াদ আমাকে চোখের ইশারায় আশ্বাস দিলো।আমি চোখ বন্ধ করে তাকে ভরসা দিলাম।এরই মাঝে ইফানের কন্ঠ কানে আসে,,

–জাহান লেইট হয়ে যাচ্ছে, কাম অন।

আমি আবার শেখ বাড়িতে একবার চোখ বুলাতে লাগলাম।মনটা যন্ত্রণায় খা খা করছে।নিজের মন নিজেকেই জানান দিচ্ছে,

❝হইতো এটাই শেষ আসা।এই অপবিত্র দেহ মন নিয়ে এই বাড়িতে আর কখনো আসা হবে না।❞

কন্ঠ নালী কেমন যেন ভেঙে আসছে। চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার দেখাচ্ছে। সবকিছুর মাঝেও কাঙ্ক্ষিত মুখ ভেসে উঠছে।তাকে খুব করে জানাতে মন চাইছে,

❝আমি কিন্তু আমার হৃদয়ে আপনি ছাড়া আর কাউকে স্থান দেই নি।আপনি আমার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা।❞

হঠাৎ কেউ আমার হাত ধরে নিলো।আমি অনুভব করলাম।তবে সেদিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করলাম না।ইফান আমার হাত টেনে নিয়ে যাওয়া ধরেছে। আমার এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাটা এখন ওর ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে।তাই তো আর আমার ইচ্ছে জানার আগ্রহ দেখালো না।আর না তো আামকে বুঝার চেষ্টা করছে।সকলে চারপাশ থেকে তাকিয়ে এই দৃশ্য দেখছে।কেন জানি চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই অন্ধকার দিনটার কথা।আমি অসহায় চোখ শেখ বাড়ির দিকে তাকিয়ে। ইফান আমার হাতে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎই আমার দিকে কেউ একজন হাত বাড়িয়ে দিলো।আমি তাকে চিনি।সে আমার দেহ আমার আত্মা। আমি যাকে উজাড় করে ভালোবাসি,সেই পুরুষটা আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।আমি তার দিকে অবুঝ শিশুদের মতো তাকিয়ে থাকায় লোকটা মৃদু হাসলো।অতঃপর সেই মাদকীয় পুরুষালী কন্ঠে ডেকে উঠলো,

❝আমার হাতটা ধর পাখি।❞

কেন জানি নেশা ধরে গেলো।পৃথিবীর সকল বাস্তবতা আমাকে যেন ছুঁতে পারছে না আর।আমি সেই বাড়ানো হাতটা ধরতে চাইলাম। তবে পারলাম না। চোখের সামনে উধাও হয়ে গেলো।আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছি না।হঠাৎই বাতাসের সাথে ভেসে আসলো জায়ান ভাইয়ের সেই মিষ্টি কন্ঠ স্বর,

❝চলে যাচ্ছিস পাখি আমার?আর কি হবে না দেখা?তুই কি সত্যিই অন্য কারো হয়ে গেলি।❞

কলিজা ফেটে যাচ্ছে আমার।আমার কানে উনার কথাগুলো বারবার বারি খাচ্ছে। আমার বুক আরও বিষিয়ে যাচ্ছে। আমার মন চিৎকার করে কেঁদে বলে উঠছে,

❝আমি অন্য কারো হইনি জায়ান ভাই। আমার সবটা জুড়ে আপনার বিচরণ।আমার শরীর জ্বলে যায় স্বামী নামক ঘৃ*ণিত লোকটার বন্য স্পর্শে।মনে হয় আমাকে কেউ আগুনে পোড়াচ্ছে।আমি বেঁচে থেকেও মৃত।আমার আত্মা প্রতি মূহুর্ত আপনার সন্ধানে নিয়জিত।আমি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই।আমি তো অপবিত্র হয়ে গেলাম।আপনি কি আর চাইবেন না আমায়?বলুন না জায়ান ভাই।আমি কি আপনার চোখেও অপবিত্র_

আবারও কোথা থেকে যেন জায়ান ভাইয়ের কন্ঠ স্বর কানে ভেসে আসছে,

❝আমি কি বলেছিলাম ভুলে গেছিস জানপাখি।আমি তো সবসময় তোর কাছেই আছি।তোর ছোট্ট বুকে।যেখানে আমি ছাড়া আজও কেউ পৌঁছাতে পারে নি।তাহলে তুই অপবিত্র হলি কিভাবে?❞

আমি কিছু ভাবতে পারছি না।সবকিছু আমার চেতনার বাহিরে চলে গেছে।আমি বারবার থেমে পড়ছি।ইফান এতে বড্ড বিরক্ত হচ্ছে। সে আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আসেপাশে সকলে সেই দৃশ্য মন খোলে দেখছে।অথচ আমি একটা ভ্রমে মগ্ন। চোখের সামনে সব অন্ধকার। শুধু আলোকিত এক শ্যাম বর্ণের চেহারার প্রতিচ্ছবি। যে হাসছে, আমাকে হাত বাড়িয়ে ডাকছে।আমি পারলাম না তার ডাক ফিরিয়ে দিতে।আবারও হারিয়ে গেলাম এক বিবৎস অন্ধকার অতীতে_

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

[শেষ অংশটা পড়ে হয়তো অনেক বুঝতে পারনি।এখানে জারা জায়ানকে হ্যালুসিনেশন করছে।আর পরের পর্বে অতীত ক্লোজ করবো।৪৫ পর্বের দুটো অংশ হবে।আর তাহলে জাহানারা গল্পের ১ম খন্ড শেষ হবে।হ্যাপি রিডিং🥳🫶 ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply