Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৪


কী ভয়ংকর মায়া তোর

পার্ট_১৪

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌🚫]

রাত ১০ টার কাছাকাছি সুনশান নিরব একটা নদীর ধারে দাড়িয়ে অদূরে কোথাও চেয়ে আছে রৌদ্র।আদ্রের জন্য অপেক্ষা করছে। জীবন বড্ড কঠিন কখন কাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করায় একমাএ সেই জানে।আজকের মতো এমন একটা দিনের মুখোমুখি হতে হবে তা রৌদ্র কখনোই কল্পনা করেনি।আজকে কী হবে তার জানা নেই তবে ভালো কিছু যে হবে না তা খুব ভালো করেই জানে সে।সকালের সেই মূহুর্তটা মনে পড়ে গেলো রৌদ্রের।

সকালে—

আদ্র যখন নিজের মোবাইল বের করে আহির ছোট্ট বেলার পিক দেখায় রৌদ্র’কে। ছবিটা দেখার সাথে সাথেই রৌদ্র থ মেরে বসে শুধু ছবিটার দিকেই চেয়ে থাকে।

—এবার অন্তত চুপ করে থাকিস না বল না আমার বার্বিডল কে তুই কোথায় পেয়েছিস? আর আমাকে কেন বললি না একবারও?তুই তো জানিস আমি ও”কে কতটা ভালোবাসি!আর ও আমাকে চিনতে পারছে না কেন?কলেজে যখন প্রথম দেখা হলো তখনও কেন চিনতে পারেনি?

অধৈর্য্য স্বরে প্রশ্ন করলো আদ্র। রৌদ্র সবই জানতো আদ্র আহিকে ঠিক কতটা ভালোবাসে।এমন কী আহি হারিয়ে যাওয়ার থেকে শুরু করে সব জানে।রৌদ্র আহিকে কখনোই দেখেনি।আহি যখন নেওয়াজ বাড়িতে প্রথমবার আসে তখন রৌদ্র দেশের বাহিরে ছিলো সে দেশে আসতে আসতে আদ্র দেশ ছাড়ে আদ্র দেশ ছাড়ার নয় মাস পর রৌদ্র দেশে ফিরে আদ্র না থাকায় রৌদ্র আর নেওয়াজ বাড়িতে যায়নি।তাই আর আহিকে দেখা হয়নি তবে সব সময় আদ্রের মুখে ওর বাচ্চামির কথার গুলো শুনতো।আদ্রের কথায় রৌদ্রের ধ্যান ভাঙ্গে।নিজেকে সামলে বলল —

—আমার প্রতি যদি তোর বিন্দু পরিমাণ বিশ্বাস থাকে তাহলে এখন আমাকে বনুকে নিয়ে এখান থেকে যেতে দে।আমি তোকে রাতে সব বলবো।

রৌদ্রের প্রতি আদ্রের নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস আছে। এতক্ষণ সে রোদের দিকে ভালো করে খেয়াল করে নি এবার তাকালো নিজের বুকে পড়ে থাকা মেয়েটার দিকে।সে কল্পনাও করেনি বড় হয়ে তার ছোট্ট ফুলটা এতটা কিউট হবে।মনে মনে শখানেক বার মাশাল্লাহ বলে ফেলল আদ্র।যেন আস্ত এক পরী তার বুকে শুয়ে আছে।আর কিছু না ভেবে রৌদ্রের দিকে রোদের মাথাটা এগিয়ে দেয় রৌদ্র বোনকে কোলে তুলে নেয়।

বর্তমান

কথাগুলো ভেবে রৌদ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেললো সত্য কখনো চাপা থাকে না কথাটা আসলেই সঠিক তা আজ রৌদ্র হারে হারে বুঝতে পারছে।রৌদ্রের সব কিছু বিষাদময় লাগছে।আকাশের দিকে তাকালো রৌদ্র চাঁদ আছে অনেক তাঁরা চাঁদের চারপাশে জ্বলছে হঠাৎ রৌদ্র ধরে আসা কন্ঠে বলে উঠলো —

—কিছু সত্য গোপনে থাকাই শ্রেয়।সামনে আসলেই বিপদ,সম্পর্কের বিচ্ছেদ।ভুল বুঝাবুঝি,দোটানায় ভুগা,আজ আমি সেই দোটানায় ভুগচি এক দিকে নিজের ছোট বেলার বন্ধুত্ব অন্য দিকে নিজের প্রাণ ভোমরা।
কাকে খুশি করবো কাকে দুঃখ দিবো দু’জনই যে আমার প্রিয়জন!

রৌদ্রের কান্না আসছে কিন্তু ছেলেদের যে কাঁদতে নেই ওদের সাথে কান্না বেমানান।নিজেকে সামলে নিলো।পিছন থেকে গাড়ির আওয়াজ পেয়ে সেদিকে তাকালো আদ্র আসছে।ছেলেটাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে তাড়াহুড়ো করে এসেছে সব সময় পরিপাটি থাকা ছেলেটা আজকে ভীষণ এলোমেলো। রৌদ্র এমন আদ্রকে কখনোই দেখেনি ছোট বেলা থেকেই আদ্র ভীষণ পরিপাটি থাকতে পছন্দ করে রৌদ্র চুল এলোমেলো করে স্কুলে আসলে আদ্র বকাবকি করে নিজেই ঠিক করে দিতো।আর আজ সেই আদ্রের একি হাল চুল এলোমেলো হয়ে কপালে পড়ে আছে।গলায় কাছে শার্টের বোতাম খোলা শার্ট কুঁচকানো মুখ ফ্যাকাশে চোখমুখ শুকনো।

—এই অবস্থা কেনো তোর আদ্র?

মলিন মুখে কথাটা বলল রৌদ্র।সে জানে আদ্রের এই অবস্থার কারণ তবুও জিজ্ঞেস করলো।আদ্র রৌদ্রের কথা বলল

—আমার কিছু হয়নি ঠিক আছি আমি!আগে তুই আমাকে সব খুলে বল কোথায় পেয়েছিস ও”কে আর কেন বললি না আমাকে?আমার বার্বিডল আমাকে চিনতে পারছে না কেন কী করেছিস তুই?

আদ্রের শক্ত কন্ঠের কথা গুলো শুনে রৌদ্র বাক্য হারা হয়ে যায় সেই সাথে আদ্রের শেষের কথাটা আদ্র তাকে ভুল বুঝছে?এই ভয়টাই তো সে পেয়েছিলো। আদ্রের ভুল বুঝা স্বাভাবিক ওর জায়গায় রৌদ্র থাকলেও একি কাজ করতো!

—তুই আমাকে ভুল বুঝছিস তাতে আমার একটুও কষ্ট লাগেনি।তবে একটু খারাপ লাগলো এত বছরে তুই আমাকে এই চিনলি?আমি তোর খারাপ চাইতে পারি এটা কীভাবে ভাবলি তুই আদ্র?

রৌদ্রের কথায় আদ্র অসহায় চোখে রৌদ্রের দিকে তাকায় সে আসলে এভাবে বলতে চায়নি।মাথা ঠিক ছিলো না উল্টাপাল্টা বলে দিয়েছে এখন নিজের প্রতিই আদ্রের রাগ লাগছে। আগে তো সব শুনতো একবার তার পর না হয়!

—সরি ভাই আমি আসলে সেভাবে বলতে চায়নি জানিসই তো ও’কে কতটা ভালোবাসি!

শীতল কন্ঠে কথা গুলো বলল আদ্র!রৌদ্র আদ্রের হাত টেনে নদীর ধারে বসালো সেও বসলো তার পর অদূরে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো

—তোর কথায় আমি কখনোই কিছু মনে করি না।এখনও কিছু করিনি।তোর এসব বলা দোষের কিছু না।এবার শুন আমি রোদকে কীভাবে পেয়েছি—


১৫ বছর আগে—

(সরি সন্ধ্যায় দাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু কারেন্ট নেই ফোনে চার্জও নেই এজন্য দিতে পারিনি।আরো লিখে দিতাম বাট সময় লাগবে এজন্য কালকে আরেকটা পাট দিবো।কারেন্ট আসার সাথে সাথেই ফোন চার্জে দিয়ে খুলে পার্ট টা আপলোড দিয়েছি)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply