Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৫


কী ভয়ংকর মায়া তোর

লেখিকা:আরিফা তাসনিম তামু

পার্ট:০৫

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌]

পুরো শহরে মিসিং পোস্টার লাগিয়ে দশটা থানার পুলিশ এক করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে এমন কোনো পদ্ধতি বাদ রাখেনি আদ্র আহিকে খুঁজার জন্য। পোস্টার এটাও লেখি দিছে যে সন্ধান দিতে পারবে তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে।

কেটে গেছে দুটো দিন এই দুইদিনে আকাশ পাতাল এক করে ফেলেছে আদ্র। ঢাকা শহরের এমন কোনো অলি-গলি নেই যে আহিকে খুঁজেনি।আদ্র নিজেকে সেই ভাবেই প্রতিষ্ঠিত করে এসেছে যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে সে তার ছোট ফুলের কোটি টাকার স্বপ্নও পূরণ করতে পারবে।

অবাক করা বিষয় হচ্ছে মিসিং পোস্টারে আহির ছোট বেলার ছবি লাগিয়ে ছিলো আর রাতারাতি পুরো শহরের সব পোস্টার উধাও হয়ে গেছে। এতে আদ্র একটু নয় অনেক বেশি অবাক হয়েছে।তবে সে ভালো করেই বুঝলো কেউ তো যে যাচ্ছে না আদ্র তার ছোট ফুলকে খুঁজে পাক।কে সে?পরিবারের কেউ?নাকি বাইরের কেউ?

আদ্র আর ভাবতে পারছে না গত দুদিন দু’চোখের পাতা এক করেনি ছেলেটার চোখ মুখের অবস্থা করুন। আজিজ নেওয়াজ ছেলের দিকে তাকাতে পাচ্ছে না ফারদিনা নেওয়াজের একি অবস্থা তাকাবে কীভাবে? উনারা তো কথা দিয়ে কথা রাখতে পারিনি।উনাদের জন্য আজ এতো কিছু হচ্ছে।

ফাইজ আদ্রের ২ বছরের ছোট ফিহা আর পারুল নেওয়াজ আহি’কে পছন্দ না করলেও ফাইজ নিজের বোনের মতোই আহিকে ভালোবাসতো আদর করতো।না করে কী উপায় আছে?ফাইজের ও প্রথমে আহির উপর রাগ লাগতো
খেলা শেষ করে বাড়িতে এসে যখন ফিহার মুখ থেকে এসব শুনেছিলো তখন মন চেয়েছে আহিকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে। কোথায় থেকে উঠে এসেছে তাদের বাবার ভালোবাসার ভাগ নিতে। তবে সব ভুল প্রমাণ করে দিলো ছোট্ট আহি যখন ফাইজ প্রথম বারের মতো আহিকে দেখেছিলো তখন সে নিজেই অবাক হয়েছে।এই পুতুলের মতো দেখতে মেয়েটা তার বোন?এত কিউট কেন তার বোন?
সেই সাথে আরো ভালো লাগে যখন আহির আধো আধো কন্ঠের কথা শুনে।আহি শুধু তার বাবা,বড় আব্বু, দাদি আর বড় মা,ছোট চাচ্চু,ইয়ানা আর আদ্রের সাথে কথা বলতো হাসতো। কিন্তু ফাইজ,ফিহা আর পারুল নেওয়াজের সাথে কথা বলতো না কারণ ফিহা আর পারুল নেওয়াজ আহির দিকে কেমন করে তাকায় এতে করে ছোট্ট আহি ভয় পেতো, ফাইজ নিজ থেকে আহিকে কোলে নিতে চাইলে তার মায়ের কড়া দৃষ্টি দেখে আর এগোলোনা নিতে।তবে আহির মুখ থেকে ভাইয়া ডাক শুনার লোভ লাগে ফাইজের।তাই সে আড়ালে চকলেট দিয়ে আহিকে বলতো তাকে ভাইয়া ডাকার জন্য ফাইজ কতশত চুমু মেয়েটা গালে খেয়েছে মাথায় হাত ভুলিয়ে দিয়েছে ছোট্ট আহি এতো আদর পেয়ে ভাইয়া বলে নিজ থেকে ফাইজকে জড়িয়ে ধরে।সেদিন ফাইজ খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেছে। সেই থেকে আহি তার জীবনের একটা অংশ হয়ে উঠে তার ছোট পরী। খেলতে গেলে বা ইস্কুলে গেলে আসার সময় আহির জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসতো।

আহি হারিয়ে যাওয়ার পর পরই ফাইজ অসুস্থ হয়ে পড়ে টানা ১ মাস হসপিটালে ভর্তি হয়ে পড়ে ছিলো।সুস্থ হওয়ার পর ১৩ বছরের ফাইজ হয়ে উঠে একজন দায়িত্বশীল বড় ভাই।কথায় আছে না ভাই বড় হোক কিংবা ছোট বোনের বেলা সে ভীষণ দায়িত্বশীল।ফাইজের ক্ষেএেও তাই হয়েছে।সবাই আহির খোঁজা বন্ধ করে দিলেও ফাইজ আজও গোপনে খুঁজে যায় তার ছোট বোনটাকে।আজ সে কলেজের একজন টিচার পড়ালেখার পাশাপাশি কলেজে ক্লাস নেয়, প্রতিদিন বিকালে তার কাজ তার বোনকে খুঁজা।

এই যে এখন আদ্র বাড়িতে আসায় আদ্রের সাথে ফাইজ নিজেও খাওয়া দাওয়া ঘুম সব বাদ দিয়ে বোনকে খুঁজছে।
আদ্র আর ফাইজের খুব ভালো সম্পর্ক বন্ধুর মতো আহি হারিয়ে যাওয়ার খবরটা সবার আগে সে আদ্র দিতো তবে বড় আব্বুর কথা রাখতে আর দিতে পারেনি।


আকাশ ঘন কালো মেঘে ডেকে আছে।যার দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকারে হয়ে আসছে।আকাশ ডাকছে চারদিকে প্রচন্ড বাতাস যেকোনো সময় ঝড় শুরু হবে। এখন বিকেল ৫টা আদ্র আহিকে খুঁজার জন্য বের হয়েছিলো কিন্তু এই ঝড় গাড়ি চালানো সম্ভব না বাতাসে মনে হচ্ছে মানুষ সহ উঠিয়ে নিবে।আদ্র গাড়ি থেকে বের হয়ে একটা ছাওনির নিচে দাঁড়ালো কারণ এতক্ষণে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে।

আদ্র রাস্তায় দিকে তাকিয়ে আছে মানুষজন ছোটাছুটি করছে ঝড়ের কারণে।এমন সময় আদ্র দৃষ্টি আটকে একটা রমণীর উপর যে কালো শাড়ি সাথে মেসিং হিজাব পড়েছে মুখটা মাক্স দিয়ে ডাকা মাথা নিচু করে শাড়ি ধরে রাস্তা পার হচ্ছে।মেয়েটা মাথাটা উঁচু করে তাকাতেই আদ্র দৃষ্টি আটকে সেই বাদামি ঘন পাপড়ির চোখ জোড়ায় যে চোখে ঠায় পেয়েছে কালো কাজল।
তখনি দূর থেকে ভেসে এলো গানের কয়েকটি লাইন

—ঝড়ের ভেসে এলো কে সে —

“” কাজল সে চোখ দুটি””

—দিলো কঠিন কথার বিষন্নতার ছুটি—

গানের লাইন গুলা যেন ওদের ঘিরেই ছিলো।

হঠাৎ আদ্রের কী হলো কে যানে ছেলেটা ঝড়ের মধ্যে হাওয়ার গতিতে দৌড়াতে শুরু করলো ততক্ষণে মেয়েটি একটা সাদা রঙ্গের গাড়িতে উঠে চলে গেলো। গাড়ির অনেকটা দূরে চলে গেলো পিছনে থেকে আদ্র চেঁচিয়ে বলে উঠলো

—স্টপ দ্যা কার।

এতো এতো বাতাসে সাথে কয়েকটা গাড়ির আওয়াজে আদ্রের কথাটা সে গাড়ি পর্যন্ত পৌছায়নি আর কীভাবে পৌঁছাবে গাড়ি তো অনেকটা দূরে চলে গেলো।

ফাইজ এই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলো রাস্তার মাঝখানে আদ্রকে ভিজতে দেখে ছুটে আসলো

—ভাই কী হয়েছে তোমার রাস্তার মাঝখানে কী করছো এভাবে?

আদ্র পিছন ফিরে ফাইজকে দেখে জড়িয়ে ধরলো,আদ্রের শরীর কাঁপছে ফাইজ অবাক হলো আদ্র জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল

—আমি আমার আহিকে দেখেছে মাএই চলে গেলো।আমি আবারও ব্যার্থ হয়েছি ওর কাছে অপদি পৌঁছাতে পারিনি ও চলে গেছে।

—কিন্তু ভাই তুমি ওকে দেখে চিনলে কীভাবে না মানে ও তো এখন বড় হয়েছে দেখতে কেমন হয়েছে সেটাও আমরা জানি না।

আদ্র ফাইজকে ছেড়ে মুচকি হেসে বলল

—আমাকে যদি চোখ বেঁধে হাজারও নারীর ভিড়ে ছেড়ে দাওয়া হয়। আমি ওই চোখ বন্ধ অবস্থাও হাজারো নারীর ভিড়ে থেকে আমার ছোট্ট ফুলকে খুঁজে বের করতে পারবো।
তার নিশ্বাসের শব্দেও শুনেও বলে দিতে পারবো এটাই আমার বার্বিডল।

ভাইয়ের কথায় ফাইজ হাসলো ইস তার ছোট পরীটা যদি জানতে পারতো তার আদ্র ভাই তাকে কতটা ভালোবাসে।নিজেকে কতটাই না ভাগ্যবতী মনে করতে।

আদ্র এই উম্মাদের মতো ভালোবাসা শিখেছে তার ছোট চাচ্চুর কাছ থেকে। নেওয়াজ বাড়ির ছোট ছেলে তাহমিদ নেওয়াজ মানে আদ্রের ছোট চাচ্চু যিনি এখন পেশায় একজন ডক্টর।যুবক বয়সে তিনিও এক রমনীর প্রেমে পড়েন তবে ভাগ্যে উনাদের আলাদা করে দেয়।তাতে কী আজ পর্যন্ত তাহমিদ নেওয়াজ বিয়ে করেনি আজও সেই রুমণীকে মনে গেঁথে রেখেছে আজও ভালোবেসে যান। আর চাচ্চুর সব কিছু আদ্রের জানা আদ্র তার চাচ্চু থেকেই ভালোবাসার এই শক্তিটা পেয়েছে। নিজের সবটা দিয়ে সে আহিকে ভালোবেসে।

(রেসপন্স না করে শুধু গল্প দেন গল্প দেন করলে হবে?ভালো রেসপন্স না পেলে লিখতে ভালো লাগে না

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply