কী ভয়ংকর মায়া তোর
লেখিকা:আরিফা তাসনিম তামু
পার্ট:০৪
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
আতিয়া নেওয়াজ একধারে আদ্রের দরজায় কড়া নাড়ছে। তবে ভিতর থেকে কোনো রেসপন্স আসছে না। ছেলে বাড়িতে এসেছে এই খবর উনাকে কাজের মহিলা দিয়েছে। খবর পাওয়া মাএই তিনি ছুটে আসেন একটু পর সবাই দুপুরে খাবার খেতে টেবিলে বসবে। ছেলে যে সারাদিন কিছু মুখে তুলে নি তা তিনি ভালো করেই জানেন।মা হয়ে কীভাবে তিনি সন্তানের কষ্ট না বুঝেন?ছেলে না খেয়ে থাকলে উনার গলা দিয়ে কীভাবে খাবার নামবে তিনি তো একজন মা। এইদিকে স্বামীকে দেখে আসলেন রুমময় পায়চারি করছে আজকে অফিসেও যায় নি গম্ভীর মুখে কিছু ভাবছে আর পায়চারি করছে।স্বামীকে কিছু জিজ্ঞেস করেন নি তিনি তো জানেন সবার চিন্তা কী নিয়ে।
মাএই ওয়াশরুম থেকে শাওয়ার নিয়ে বের হলো আদ্র। শরীরটা ক্লান্ত সাথে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করায় ধুলোবালি শরীরে গিজগিজ করছে। তাই সময় নিয়ে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বের হলো। পোরনে একটা কালো টাউজার গায়ে কিছু নেই গলায় সাদা টাওয়াল জুলানো চুল থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ছে।ফর্সা আর জীম করা শরীরে বিন্দু বিন্দু পানি জমে আছে যা মুক্তোর মতো চিকচিক করছে। এই মুহূর্তে কোনো মেয়ে আদ্রকে দেখলে নিশ্চিত প্রেমে পড়তে বাদ্য হতো। আদ্র আগে যথেষ্ট ফর্সা ছিলো তবে বিদেশ যাওয়ার পর আগের থেকে অনেক বেশি ফর্সা হয়ে গেছে সাথে হ্যান্ডসাম।
তার কারণ যত্ন আদ্র বিদেশ যাওয়ার পর তার লক্ষ্য শুধু পড়ালেখা প্লাস প্রতিষ্ঠিত হওয়া ছিলো না আরো একটা ছিলো সেটা হচ্ছে তার বার্বিডলকে তার প্রেমে পাগল করা।
সে চায় তার বার্বিডল যেনো অন্য কারো দিকে না তাকায়।শুধু তাকেই দেখে এইজন্য সে নিজেকে হ্যান্ডসাম বানাতে কোনো অংশে কম রাখে নি। ৬ ফুট লম্বা ফর্সা আর জীম করা বডি,চোখে বড় আর ঘন পাপড়ি, মুখে খোঁচাখোঁচা চাপ দাড়ি, গোলাপি অধর, আর থুতনিতে ছোট একটা কালো তিল যা ফর্সা মুখে আরো সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে।
ঠৌঁট কালো হবে বলে সিগারেট কখনো চুয়েও দেখে নি সে। সব মিলিয়ে মেয়েদের পাগল করার মতো সুন্দর ও হ্যান্ডসাম সে।
বিদেশ থাকা কালিন কতো মেয়ের crush ছিলো আদ্র। কত শত চিঠি গোলাপের তোড়া তার গেটের কাছে পড়ে থাকতো।সেগুলো ছোঁয়া তো দূরে থাক আদ্র ভালো করে তাকিয়ে ও দেখেনি কখনো।তার মনে হতো ওগুলোর দিকে তাকালেও তার ভালোবাসাকে অপমান করা বা ছোট করা হবে। তার মনে এক নারীই রাজত্ব চলে এবং সেটা সারাজীবন চলবে।
এতক্ষণ আদ্র ভাবনায় ডুবে ছিলো। কীভাবে আহিকে খুঁজবে কোথায় গেলে পাবে কী করবে এসব। দরজার কড়া নাড়ার শব্দে ভাবনার চেদ ভাঙ্গে।
—আদ্র বাবা দরজাটা খোল।
মায়ের গলার আওয়াজ পেয়ে আদ্র একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে,গায়ে টি-শার্ট জড়িয়ে নিয়ে দরজা খুলে দেয়।
আতিয়া নেওয়াজ টলমলে চোখে ছেলের দিকে চেয়ে আছে।
চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে, চোখ লাল মুখ ফ্যাকাশে একজন মা হয়ে সন্তানের এই অবস্থা দেখে কোনো মা’ই নিজেকে শক্ত রাখতে পারে না। আতিয়া নেওয়াজ পারেনি কেঁদে উঠলেন। আদ্র মাকে বুকে টেনে জড়িয়ে ধরে বলল
—কাঁদছো কেন আম্মু?আমি ঠিক আছি দেখো কিছু হয়নি আমার।
আতিয়া নেওয়াজ ছেলের বুকে কাঁদতে কাঁদতে বললেন
—মা’কে পারলে ক্ষমা করে দিস। আজ আমার জন্য তুই কষ্ট পাচ্ছিস আমি যদি একটু খেয়াল রাখতাম তাহলে আজ আহি হারিয়ে যেতো না।
—আম্মু এভাবে বলিও না আমার কষ্ট হয়তো। আমি জানি তুমি আহিকে কতটা ভালোবাসো ওর যথেষ্ট যত্ন করতে খেয়াল রাখতে। যা হয়েছে তা ভুলে যাও আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি আমি আমার আহিকে খুঁজে বের করবো।
আতিয়া নেওয়া ছেলের বুক থেকে মাথা তুলে ছেলের দিকে চেয়ে বলল
—মেয়েটাকে যেভাবে পারিস যেখানে পাস খুঁজে নিয়ে আয় বাপ। মেয়েটাকে ছাড়া যে এই বাড়ি শূন্য।কতগুলো বছর ওর মিষ্টি কন্ঠের বড়মা ডাক টা শুনি না। মেয়েটা তখন ছোট হয়েও কী সুন্দর পাকা পাকা কথা বলতো। জানিস তুই চলে যাওয়ার পর মেয়েটা এক সাপ্তাহ জ্বরে ভুগেছে বিচানায় পড়ে ছিলো চোখ ও মেলেনি ঠিক মতো। জ্বর ভালো হওয়ার পর আমাকে বলে
“বড়মা আদ্র ভাইয়া আমাতে লেকে তলে গেতে আমার তাথে হাইড আন্ড সিত খেলায় না আমিও এতদিন লুকিয়ে তলে তাবো আমাতেও ভাইয়া আর কুতে পাবে না তাই নাতকন ভাইয়ার কও হবে আমার মতো)
(বড়মা আদ্র ভাইয়া আমাকে রেখে চলে গেছে।আমার সাথে হাইড আন্ড সিক খেলায় না,আমিও একদিক লুকিয়ে চলে জাবো আমাকেও ভাইয়া আর খুঁজে পাবে না তাই না তখন ভাইয়ারও কষ্ট হবে আমার মতো)
এইটুকু বলে আতিয়া নেওয়াজ থামে।ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখে ছেলেটা কেমন পাথরের মত দাঁড়িয়ে আছে।তিনি ছেলের গায়ে হাত রাখলে। আদ্র মায়ের হাত টেনি নিয়ে খাটের উপর বসিয়ে মায়ের কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে বলল
—আম্মু দেখো আজ মেয়েটা সত্যি হারিয়ে গেছে। আমি তো ওর সাথে লুকোচুরি খেলিনি তাহলে ও কেন এমন করলো?এইটুকুনে মেয়ের এত অভিমান ছিলো আমার উপর যে তার শাস্তি এতো কঠোর ভাবে দিচ্ছে আমাকে। এইটুকু বয়সে মেয়েটা সব কিছু বুঝতো তাহলে আমাকে কেন বুঝে নি?ও যে আমার প্রাণ, অক্সিজেন, আমার পৃথিবী এতটুকুও কি বুঝতে পারতো না?নাকি ইচ্ছে করে বুঝতে চায়নি আমাকে?
আতিয়া নেওয়াজ ছেলের প্রশ্নের কী উওর দিবেন ভেবে পাচ্ছে না। এসব প্রশ্ন উওর কী আছে উনার কাছে?কিছু না বলে চুপচাপ ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। আদ্রও আর কিছু বলে নি চোখ বুজে রাখলো
সোফায় বসে চিপস খাচ্ছে আর টিভি দেখছে রোদ আর সাইফা সম্পর্কে চাচাতো বোন দুজন। রোদ্র আর রোদ এই বাড়ির বড় ছেলে সায়ান খানের সন্তান।সাইফ আর সাইফা এই বাড়ির ছোট ছেলে সাদিফ খানের সন্তান।দুইভাই স্ত্রী সন্তান নিয়ে এক বাড়িতেই আছে যৌথ পরিবার উনাদের। উনারা দুই ভাই একবোন বোনটা উনাদের ছোট। বোন বর্তমানে লন্ডনে আছে।বাবা -মা গ্রামের বাড়িতে আছে শহরে উনাদের নাকি ভালো লাগে না দুই ভাই জোর করেও শহরে আনতে পারে না। তাই মাঝেমধ্যে দুইভাই স্ত্রী সন্তান নিয়ে গ্রামে ঘুরে আসেন।
রোদ আর সাইফা সমবয়সী এমনকি একি কলেজে পড়ছে ওরা।রোদ্র পড়ালেখা শেষ করে বাপ চাচার ব্যাবসা দেখছে। সাইফ রোদ্রের দুই বছরের ছোট তার কোনো কাজ কাম নাই সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া মন চাইলে ভার্সিটিতে গেলে গেলো না চাইলে যাবে না। ছেলেকে নিয়ে সাদিফ খান আর পারভিন খানের চিন্তার শেষ নেই অথচ সাইফের এসবে কোনো মাথা ব্যাথা নেই।
রোদ্র সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে বোনেদের দিকে একপলক চাইল। ওরা টিভিতে কাটুন দেখছে বাচ্চাদের মতো।রোদ্র সোফায় গিয়ে বসলো
—কলেজে না গিয়ে দুজন ফুসকা খেতে গিয়ে ছিলি আম্মু আর কাকিয়া জানলে কী করবে জানিস তো?
রোদ্রের কথায় রোদ আর সাইফার চিপস খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো বেচারিরা বুঝতে পারছে না রোদ্র এসব জানলো কীভাবে?
—তুমি জানলে কীভাবে?
রোদের কথায় রোদ্র বোনের মাথায় গাট্টা দিয়ে বলল
—পৃথিবীতে তোর আগে আমি এসেছি তাই আমার এসব জানতে হয় না। খবর হেঁটে হেঁটে আমার কাছে চলে আসে বুঝলি।
ভাইয়ের কথায় দুইবোন ঘাবড়ে যায়। রোদ বোকা হেঁসে বলল
—প্লিজ ভাইয়া কাউকে বলিও না।
সাইফাও তাল মিলিয়ে বলে
—হ্যা ভাইয়া বলিও না প্লিজ আর এমন হবে না।
—কী হবে না ওরা কিসের কথা বলছে ভাইয়া?
সাইফের কন্ঠ শুনে তিনজনই পিছন ফিরে চাইল।সাইফ সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে বলল কথাটা। রোদ্র হাতের ফোনটা সোফায় রেখে কিচেনের দিকে যেতে যেতে সাইফের উদ্দেশে বলল
—এটা সিক্রেট তোকে বলা যাবে না তাই না বনুরা?
রোদ্রের কথায় রোদ আর সাইফা একসাথে চেঁচিয়ে বলল
—ইয়েসস
তারপর সাইফের দিকে চেয়ে মুখ বেঁকিয়ে দুজন কাটুক দেখায় মন দিলো।
সাইফ সোফায় বসতে বসতে বলল
—কী বাচ্চাদের মতো এখনো এসব দেখিস বিয়ে দিলে এতো দিন জামাইয়ের বাড়িতে গিয়ে রান্না বান্না করতি। এখন কী তোদের এসব দেখার বয়স। এখন তোরা রান্না বান্না করবি বাসন মাজবি তা না করে বাচ্চাদের মতো কাটুন দেখছিস। ছ্যাহ।
রোদ কিছু বলতে নিবে তখনি সোফায় রোদ্রের ফোনটা বেজে উঠে
—ভাইয়া তোমার কল এসেছে।
রোদ্র কপি হাতে এগিয়ে আসতে আসতে বলল
—ধরে লাউডে দে।
রোদ তাই করলো কলটা রিসিভ করে সঙ্গে সঙ্গে ওপাশে একজন মেয়ে ন্যাকা কান্না করতে করতে বলল
—জান,বাবু, কলিজা তুমি এখনো আমার উপর রাগ করে আছো। জানো আমি সারাদিন তোমার জন্য কিছু খাই নি।
এমন বাক্যে জহুরি নজরে তিন জোড়া চোখ রোদ্রের উপর এসে পড়ে। ছেলেটা নিজেও বোকা বনে গেলো।
রোদ, সাইফ, সাইফা একসাথে চেঁচিয়ে বলল
—ভাইয়া তুমি প্রেম করছো অথচ আমাদের ট্রিট দাও নি।
রোদ্র পড়েছে মহা বিপদে প্রথম মতো মেয়েটা কে সে নিজেই জানে না। দ্বিতীয়ত এই তিন গাধা কী আর তার কথা বিশ্বাস করবে?
— আসতাগফিরুল্লাহ আমার ২৬ বছর জীবনে প্রেম তো দূরে থাক, মেয়েদের দিকে চোখ তুলে পর্যন্ত তাকায়নি।
ভাইয়ের কথা শুনে রোদ চেঁচিয়ে বলে উঠলো
—কিহ এ হতে পারে না আমার ভাই সিঙ্গেল এটা কী জাতি মেনে নিবে?তুই চিন্তা করিস না। আমি তো আছি আজই লেঙরা,কানা, অন্ধ,প্রতিবন্ধী যা পাই তোর সাথে প্রেম করিয়ে দিবো।আগেই বলে রাখি ধন্যবাদ দিয়ে আমাকে ছোট করিস না ৫০০০ টাকা দিয়ে মুখ উজ্জ্বল করিস আমার।
রোদের কথায় সাইফ আর সাইফা হো হো করে হেঁসে উঠলো।
রোদ্র অসহায় মুখ করে বলল
—প্রয়োজনে সারাজীবন সিঙ্গেল থাকবো তবুও তোর খুঁজে দাওয়া মেয়ের সাথে প্রেম করবো না।
আর মাইয়া কোথায় থেকে উড়ে এসে আমাকে অশুদ্ধ করে দিলো আমার ২৬ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে শুনতে হলে আমি প্রেম করি এটা কী জাতি মেনে নিব?
তার পর চারজনই একসাথে হো হো করে হেঁসে উঠলো বুঝল কলটা ভুলে এসেছে হয়তো।
রোদ্রের কথা শেষ হতেই সাইফ গর্ভ করে বলে উঠলো
—আমি ভাই প্রেম-টেম জীবনেও করিনি। তবে প্রেম আমার জীবনেও এসেছিলো সেদিন আমি বাড়িতে ছিলাম না,।সে থেকে মাইয়া মানুষে আমার এলার্জি তাই আজও আমি সিঙ্গেল।
সাইফের কথা শেষ হতেই রোদ আর সাইফা একসাথে চেঁচিয়ে বলে উঠলো
—এটা কি শুনলাম? বিড়াল যেন বলছে আমি মাছ খাই না।এখন কী সেটা আমরা বিশ্বাস করে নিবো?
সাইফ বোকা হেঁসে মাথা চুলকালো,আসলে সে একটা মেয়েকে ভালোবাসতো মেয়েটাও তাকে পছন্দ করতো ২ বছরের রিলেশন ছিলো তাদের কিন্তু মেয়েটা তাকে ধোঁকা দিয়ে অন্য আরেক জনের সাথে পালিয়ে যায়।মেয়েটার জন্য কতশত পাগলামি করেছে সে। সেটা বাড়ির সবারই জানা।
(অনেক বড় পার্ট দিলাম রেসপন্স না করলে সহজে গল্প দিবো না। লিখতে যে কষ্ট হয় যারা চুরি করে পড়ে চলে যায় তারা কীভাবে বুঝবে)
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৫
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর গল্পের লিংক
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৪