Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১


কী ভয়ংকর মায়া তোর

লেখিকা:আরিফা তাসনিম তামু

সূচনা পার্ট

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]

(কাজিন রিলেটিভ + থ্রিলার + ভার্সিটি +ব্যবসা+ভালোবাসা আর ভয়ংকর মায়া নিয়ে লেখা অতিরিক্ত ভালোবাসা আর পাগলামি যাদের পছন্দ না তারা এড়িয়ে চলুন প্লিজ)

আজ ১৪ বছর পর বাড়ি ফিরছে নেওয়াজ বাড়ির বড় ছেলে ফাইজান নেওয়াজ আদ্র,তাও কাউকে না জানিয়ে
সারপ্রাইজ দিবে বলে,সব সময় গম্ভীর আর চুপচাপ থাকা ছেলেটার মুখ থেকে হাসি যেন সরছেই না,আজ থেকে ১৪ বছর আগে যেদিন সে বাড়ি ছাড়ে সেদিনের কথা মনে পড়ে গেলো

অতীত

দিনটা ছিলো শুক্রবার আদ্র মাএ নামাজ পড়ে বাড়িতে ঢুকলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠবে তখনি পিছন থেকে কেউ একজন তার পান্জাবি টেনে ধরলো আদ্র ভালো করেই জানে এটা কে হতে পারে পিছনে না পিরেই মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করলো

—কে?

তখনি পিছন থেকে আধো আধো কন্ঠের উওর এলো

—আমি আহি তুমার ছোত্ত পু
(আমি আহি তোমার ছোট ফুল)

আদ্র পিছন ফিরে তাকাতেই থমকে যায় লাল গোল ফ্রক পড়া আহিকে দেখে ছোট ফর্সা গোলগাল মুখ ছোট ছোট চোখে বড় বড় পাপড়ি চুল থেকে টুপটুপ পানি পড়ছে সব মিলিয়ে তার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অতিক্রম,নিজেকে সামলে আহির দিকে চেয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল:

—কী চাই আমার ছোট ফুলের?

—আমার চকিট কোতা’ই দাও
(আমার চকলেট কোথায় দাও)

আদ্র আহির দিকে চেয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল—

—আনি নি কারণ আমার ছোট ফুল আমার কথা শুনে না সে পঁচা মেয়ে

—আমি তুমার তব কতা তুনি আমি গুল গাল।
(আমি তোমার সব কথা শুনি আমি গুড গার্ল)

আদ্র তার পান্জাবির দিয়ে আহির চুল গুলা মুছে দিতে দিতে বলল:

— কই শুনো? কতবার বলেছি গোসল করে ভালো করে চুল মুছবে না হলে ঠান্ডা লেগে জাবে।

—তুল কেও মুছে দেয় না,আর আমি একা একা মুছতে পাই না (চুল কেউ মুছে দেয় না আর আমি একা একা মুছতে পারি না)

আহির কথায় আদ্রর চোয়াল শক্ত হয়ে আসে,এ বাড়িতে এতো গুলা মানুষ থাকে একজন কী পারতো না এই বাচ্চার খেয়াল রাখতে আদ্র চেঁচিয়ে তার মা’কে ডাকে আদ্রের ডাকে আহি ভয় পেয়ে আদ্রকে জাপ্টে ধরলো,আদ্র সে দিকে এক পলক চেয়ে আবারও মাকে ডাকল আতিয়া নেওয়াজ রান্না ঘর থেকে দ্রুত বের হলেন আসলেন ছেলের ডাকে, ছেলের রাগ সম্পর্ক ভালো করেই জানেন নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে তাই এমন চেচামেচি করছ,তিনি শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে জিজ্ঞেস করলেন

—কি হয়েছে আদ্র এভাবে চেঁচাচ্ছিস কেন?

আদ্র মায়ের দিকে চেয়ে বলল— আহি’কে গোসল করিয়েছে?

আতিয়া নেওয়াজ ভয়ে কাঁপতে থাকা আহির দিকে একপলক চাইল বুঝলেন আদ্রের চেঁচামেচিতে মেয়েটা ভয় পাচ্ছে

—কেন কী হয়েছে?পারুল করিয়েছে।

মায়ের উওর আদ্রের একদম পছন্দ হয়নি,বিরক্ত নিয়ে বলল

—আম্মু তুমি ভালো করেই জানো কাকিয়া আহি’কে পছন্দ করে না,তাহলে কেন গোসল করাতে দিলে, মাথাটা ঠিক মতো মুছেও দেয় নাই,এভাবে থাকলে তো ওর ঠান্ডা লেগে যাবে?।

আতিয়া নেওয়াজ কিছু বলতে যাবে,তার আগেই পিছন থেকে আজিজ নেওয়াজ ছেলের উদ্দেশ্যে বললেন

—আদ্র তোমার দাদির ঘরে এসো এক্ষুনি

তার পর স্ত্রীর দিকে চেয়ে বললেন—তুমি আহি আম্মু’কে খাবার খাইয়ে দাও ওর দায়িত্ব অন্য কারো হাতে দিবে না নিজ হাতে পালন করবে

স্বামীর কথাতে শায় দিয়ে আহি’কে নিয়ে চলে গেলেন

আদ্র বাবার পিছু পিছু দাদি ঘরে এসো দাঁড়ালো দাদি আর বাবার দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো

—ডেকেছো কেন?

—দাদুভাই তোমার মনের অবস্থা আমি বুঝতে পারছি, তুমি এখনো ছোট এখন তোমার আবেগের বয়স তোমার যদি আহি’কে চায় তাহলে একটা শর্ত তোমাকে রাখতে হবে।

দাদির কথায় আদ্র একটু অবাক হলো,একবার বাবার দিকে চেয়ে তার পর দাদির উদ্দেশ্য বলল

— শর্তটা কী ?

—আজকেই তোমাকে দেশ ছাড়তে হবে,পড়ালেখা প্লাস প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাড়ি ফিরবে আহি’র যোগ্য হয়ে উঠতে হবে কী পারবে না?দেখো আদ্র আমরা সবাই জানি আহি তোমার জন্য কতটা পাগল ও তোমাকে ছাড়া কিছু বুঝে না। আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি আহি’কে আমি দেখে রাখবো তুমি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যখন বাড়ি ফিরবে তখন আহি’কে তোমার হাতে তুলে দিবো শর্তে কী রাজি?

বাবার কথা শুনে আদ্রের বুক কেঁপে উঠলো,সে কীভাবে তার বার্বিডল কে ছেড়ে এতো দূরে থাকবে?যেখানে সে স্কুলে গেলেও চটপট করে কখন বাড়ি এসে তার ছোট ফুলটাকে এক নজর দেখে তার মন শান্ত করবে,তার মনে হচ্ছে গলায় কিছু আটকে গেছে মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না,বুক টা কেমন যন্ত্রণা করছে।

আজিজ নেওয়াজ ছেলের কষ্ট বুঝতে পারলেন কিন্তু উনার তো কিছু করার নেই। মেয়েটাকে যে তার ছেলের জন্য ছোট ভাইয়ের কাছে চাইবে সে মুখ যে এখন উনার নেই ছেলেটা আহির যোগ্য হয়ে আসলে তো বড় মুখ করে চাইতে পারবে। তিনি ছেলের কাঁধে হাত রেখে বললেন

—মন’কে শক্ত রাখো আর আহি’কে চাওয়া জেদে পরিনত করো দেখবে জেদটাই তোমাকে জিতিয়ে দিবে,বাবা আছি তো তোমার পাশে আহি’কে ঠিকি তোমার করে দিবো ও’কে পেতে হলে তো ওর যোগ্য হতে হবে, না হলে তোমার চাচ্চু আহি’কে দিবে না শুধু তোমার চাচ্চু না পৃথিবীর কোনো বাবাই যোগ্য পাএ ছাড়া মেয়ে দিবে না,আমার বিশ্বাস আমার ছেলে পারবে ইনশাআল্লাহ, সন্ধ্যায় তোমার ফ্লাইট নিজের সব গুছিয়ে নাও।

আদ্র কিছু না বলে চুপচাপ দাদির ঘর থেকে নিজের ঘরে চলে এলো,বুক পেটে কান্না আসছে তার তবে পারছে না কাঁদতে,নিজেকে শক্ত রেখে সব গোছানো শুরু করলো,আহির ছোট একটা ওরনা নিলো এটা সব সময় ওর কাছে থাকে,তার পর কিছু ছবি নিলো যেগুলোতে সে আহির পাশে বা আহির তার লোকে নয়তো সে আহির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে আর আহি গাল ফুলিয়ে তার দিকে চেয়ে আছে

দুপুরে খাবার টেবিলে জানতে পারে সবাই আজ সন্ধ্যায় আদ্র
বাড়ি ছাড়বে সেই থেকে আতিয়া নেওয়াজ কান্না করেই চলছে, আদ্রের দেশ ছাড়ার কথা শুনে সবাই একটু অবাক হয়ে ছিলো,তবে আজিজ নেওয়াজ সবাইকে বুঝিয়ে সব সামলে নিলেন। সেদিন আদ্রের গলা দিয়ে আর খাবার নামে নি কোনো রকম কয়টা খেয়ে দৌড়ে এলো আহির ঘরে মেয়েটা কী সুন্দর ঘুমিয়ে আছে চুপটি করে কি যে মায়াবী লাগছে ঘুমন্ত আহি’কে। আদ্র ধীর পায়ে হেঁটে আহি’র মাথার কাছে বসলো অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে ঘুমন্ত আহির কানে ফিসফিস করে বলে উঠলো

—ঘুমালে তোকে অনেক মায়া লাগে বার্বিডল,মন চায় খেয়ে ফেলতে,উম এখন তো সেটা সম্ভব না আমার ফুলটা যে এখনো ছোট, তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যা না প্লিজ বার্বিডল

তার পর আহির কাপলে চুমু দিয়ে বলল

—ঘুম থেকে উঠে একদম আমার জন্য কান্না করবি না, উঁহু কান্না করবি তুই শুধু আমার জন্য কাঁদবি আর কারো জন্য না যত ইচ্ছে কাঁদবি কথা দিচ্ছি ফিরে এসে তোর সব কয়টা চোখের পানি সুখে পরিনত করবো,তখন এক পোঁটা পানিও ফেলতে দিবো না ভালো থাকিস আমার ছোট ফুল কিউট বার্বিডল

অতঃপর ঘুমন্ত আহি’কে রেখে আদ্র দেশ ছাড়ে।

বর্তামন

অতীতের কথা গুলা মনে করতেই আদ্রের হাসির আরো ছড়া হয়, আসার পর শুনে ছিলো তার ছোট ফুল তার জন্য অনেক কান্না করে ছিলো খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে টানা এক সাপ্তাহ জ্বরে বিচানায় পড়ে ছিলো

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর

আদ্র দাঁড়িয়ে আছে আশপাশ দেখছে কতগুলা বছর পর নিজের মাতৃভূমিতে পা রাখলো,নিজের আপনজনদের দেখবে বিশেষ করে তার বার্বিডলকে আচ্ছা তার ছোট বার্বিডলটা দেখতে কেমন হয়েছে?আগের থেকে সুন্দর? নাকি আগের মতই আছে,দেখতে যেমনি হোক না আদ্রের তার ছোট ফুলটাকেই চায় কখন যে এক নজর দেখবে এতো গুলা বছর একটা বার দেখা তো দূরে থাক কন্ঠটাও শুনতে পারে নি সে, বাড়িতে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করলে বলতো আহি রাগ করেছে তাই আর কথা বলবে না ছবি চাইলে কেউ দিতো না বলতো একবারে বাড়িতে এসে দেখতে পারবে। আদ্রও মেনে নেয় সব কিছু

(নতুন গল্প কেমন হয়েছে জানিও,লেখায় ভুল হয়ে ক্ষমা করে দিও)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply