জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :১০
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ
🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অ’কথ্য ভাষা এবং স”হিং’সতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সং’বে’দনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
ইফান চৌধুরীর বলা শেষ বাক্যটি কানে আসতেই আমার হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়ে আবার দ্বিগুণ বেগে ধুকপুক করতে শুরু করল। তার মানে, যে লোকটিকে আমি অসভ্য বলে ঘৃণা করেছি, সে গত রাতটি কোনো নারীর সাহচর্যে নয়, বরং রাজনৈতিক কাজে বাইরে কাটিয়েছে।
এক গভীর ভাবনার আবর্তে তলিয়ে যাচ্ছি আমি। আমাদের মধ্যকার সম্পর্কটা তো এক চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর আবহে গড়ে উঠেছে। আমার কারণে তাকে সারা দেশের সামনে নিজের ইমেজ খোয়াতে হয়েছে, সইতে হয়েছে তিল তিল করে গড়ে তোলা ব্যক্তিত্বের অবমাননা। অথচ আজ এতকিছুর পরেও সে কেন আমার সাথে এমন অবিশ্বাস্যভাবে স্বাভাবিক আচরণ করে যাচ্ছে ? এই স্বাভাবিকতার অন্তরালে ঠিক কোন রহস্য লুকানো, তা ভেবেই আমি কূলকিনারা পাচ্ছি না।
গতকাল থেকে লোকটির আচরণে রুক্ষতার লেশমাত্র নেই, একটিবারের জন্যও সে আমার সাথে কোনো খা’রাপ ব্যবহার করেননি। বরং তার প্রতিটি কাজ আর অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছে, আর পাঁচটা সাধারণ বিয়ের মতোই যেন আমাদের চার হাত এক হয়েছে। এই মুহূর্তে ইফানকে নিয়ে আমার মনের গহিনে হাজারটা প্রশ্ন ডালপালা মেলছে।
ফোনে কথা বলতে বলতে ইফান যখন হঠাৎ পিছন ফিরল, ঠিক তখনই তার দৃষ্টি স্থির হলো আমার ওপর। ইসসস! এতক্ষণ যে আমি আড়ালে দাঁড়িয়ে তার কথা শুনছিলাম, সেটা কি সে ধরে ফেললেছে? তার সেই তীক্ষ্ণ চাউনি দেখে আমি ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম। ইফান যেন তার দুচোখ দিয়ে আমাকে আপাদমস্তক মেপে নিল। তারপর আমার চোখের ওপর চোখ পড়তেই হুট করে একটা চোখ মা’রল। শুধু চোখ মে’রেই ক্ষান্ত হলো না, তার ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত নোংরা হাসিটা ফুটে উঠল। মুহূর্তেই আমার মনের সবটুকু নমনীয়তা বিলীন হয়ে গেল, আমি নিজের মুখাবয়বকে এক কঠোর আবরণে ঢেকে নিলাম। দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ালাম,
–“অ’সভ্য ব’দমাইস।”
আমি বিরক্তিভরা এক মুখ ঝামটি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে উদ্যত হতেই কানে এল তার সেই উদাসীন গা ছাড়া হাসির ঝংকার। রা’গে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আমি এক খ্যা’পাটে দৃষ্টি নিয়ে তার দিকে পিছন ফিরে তাকালাম। কিন্তু তার যেন ভ্রুক্ষেপ নেই, সে ঠোঁট গোল করে অবলীলায় আমায় এক ফ্লাই কিস ছুঁড়ে দিলো। রাগে-ঘৃণায় আমি ঠিক কয়েকটা খাপছাড়া গালি দিতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু তার আগেই সে ফোনের ওপাড়ে থাকা ব্যক্তির উদ্দেশ্যে নিজের পরবর্তী বাক্য ছুঁড়লো,
–“ফোন রাখ শা’লা খা’ইস্টা। এখন থেকে যখন তখন ফোন দিবি না। মনে রাখবি তর ভাবি মাইন্ড করে।”
হাহ্! যেন আমার আর খেয়েদেয়ে কোনো কাজ নেই যে তার কথা শুনে আমি মাইন্ড করতে যাবো। যত্তসব ফাউল নাটক। ইফান ফোন পকেটে ঢুকিয়ে আমার দিকে এগিয়ে এলো। ইফান এখনো ঠোঁট টিপে শা’য়তানি ক্রুর হাসি হাসছে। আমার দিকে এভাবে এগিয়ে আসায় আমিও পিছিয়ে যেতে থাকি।একপর্যায়ে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকে। আর ইফান আমার উপর ঝুঁকে পড়ে, দেয়ালে দু হাত আমার দু পাশে রেখে । ইফান জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলতে ঠেলতে ঠোঁট বাকিয়ে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বলল,
–“কি ম্যাডাম সকাল থেকে শাড়ি পড়ে ঘুরছেন কেন? ওহো বুঝলাম স্বামী সোহাগ খেতে ইচ্ছে করছে তাই তো?”
–“তর সা”উয়া খেতে ইচ্ছে করছে,,,,”
রাগে হিতাহিত হয়ে তৎক্ষনাৎ প্রতিত্তোরে বাক্যটা শেষ করেই বুঝতে পারলাম ভুল গা’লি দিয়ে দিয়েছি। তাই সাথে সাথে চোখ খিচকে জিহ্বায় কামড় দিয়ে ইফান চৌধুরীর দিকে তাকালাম। শ’য়তানটার ঠোঁটে কি বি’চ্ছিরি হাসি। আমি জোরে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইলাম, কিন্তু এক চুলও সরাতে পারলাম না। বরং দুই হাত দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো।আমার কানের কাছে ফিসফিস করে হাস্কি স্বরে বললো,
–“রিয়েলি! এতই যখন খেতে ইচ্ছে করছে তাহলে সকালে ছোট ভাইকে হাঁটু মে’রে পালিয়েছিলে কেন? আমিই তো তোমাকে খাওয়ার সুযোগ করে দিতাম। যে জোরে হাঁটু মে’রেছিলে তাতে ছোট ভাই কত ব্যথা পেয়েছে তা জান?”
–“তর ছোট ভাই পঙ্গু হয়ে যেতে পারলো না।” দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ালাম।”
–“দু”ষ্টু, পঙ্গু হয়ে গেলে তো স্বামী সোহাগ থেকে তুমি বঞ্চিত হব। আর আমি তোমার সাথে এত বড় অ’ন্যায় করতে পারবো না।”
কত বড় জাওরা হলে এমন ধরনের কথা বলতে পারে? আমার সাথে এত বড় অন্যায় করে এখন বলছে আমার সাথে অন্যায় হবে।”না না মাথা গরম করা যাবে না।” মনের কথা মনে রেখে ইফানের চোখে চোখ রাখলাম। শীতল কন্ঠে বললাম,
–“আমার ওপর থেকে সরে দাঁড়ান। গায়ে পড়ে কথা বলা ছাড়া কি আপনি থাকতে পারেন না?”
ওমা এটা কি হলো! আমি বলার সাথে সাথে ইফান ভদ্রলোকের মতো আমার ওপর থেকে সরে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো। আমি অবাক নয়নে তার দিকে তাকিয়ে দেয়াল ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম। এতক্ষণ আমি তাকে ভালো ভাবে লক্ষ করিনি এখন হঠাৎই তার শরীরে চোখ পড়লো। শরীরে টাউজার ছাড়া আর কিছুই নেই। তবে ল’জ্জাজনক ব্যাপার হলেও বলছি এই লোকটার টাউজার নামতে নামতে এমন নিচে নেমে গেছে যে পান থেকে চুন খসলেই খুলে নিচে পরে যাবে। আর সকল সিনারি ক্লিয়ার দেখা যাবে। কারণ নিচে কোনো জাঙ্গিয়া পড়ে নি। কি নি’র্লজ্জ লোক, নিজের প্যান্ট যে বিপদ সীমার নিচে নেমে গেছে তার কোনো হেলদোল নেই।
আমার দৃষ্টি অনুযায়ী ইফান নিজের দেহের দিকে দৃষ্টিপাত করলো। তারপর সেই আগের মতোই ঠোঁটের কোণে নোংরা হাসিটা ঝুলিয়ে রেখেই দু হাত মেলে শরীর টানা দিলো। তাতে করে টাউজারটা আরেকটু নিচে নিমে গেলো। মানে পড়ে যাবে যাবে এমন অবস্থা। আমি চোখ মুখ কুঁচকে দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম। আমার মুখের অবস্থা দেখে ইফান শব্দ করে হেসে দিলো। আমি খ্যা’পাটে দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বললাম,
–“আপনার কি জাঙ্গিয়ার অভাব পড়ছে? পড়লে আমাকে বলেন, আমি কিনে দিই। তবু দয়া করে শুধু প্যান্ট পড়ে থাকবেন না । নিচে একটা সেইফটিও রাখবেন। নি’র্লজ্জ বেহায়া বেটা ছেলে।”
–“কিভাবে পড়বো বেইব? যদি বউ আমার জাঙ্গিয়া নিজের সেইফটির জন্য পড়ে ফেলে। তবে তুমি এখন খুলে দিলে এখনই পড়ে নিতে পারি।”
ইফানের কথা শুনেই মনে পড়ে গেল সকালের কথাটা। শাড়ি পড়ার অভ্যাস নেই বলে কাভার্ড থেকে ইফানের নতুন একটা আন্ডার প্যান্ট পেটিকোটের নিচে পড়েছিলাম সেফটির জন্য। কিন্তু ইফান কি করে জানলো? প্রশ্নটা মাথায় আসতেই আঁতকে উঠলাম।চোখ বড় বড় করে ইফানের দিকে তাকাতেই সে ভ্রু নাচিয়ে আমার আরেকটু কাছে আসলো। কানের কাছে ঠোঁট এনে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
–“ট্রাস্ট মি ঝাঁঝওয়ালি, তোমার বুকের নিচে কালো কুচকুচে তিলটা কিন্তু জোসস।”
চলবে,,,,,
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ১৭+১৮
-
জাহানারা পর্ব ২
-
জাহানারা পর্ব ৫৯+৬০
-
জাহানারা পর্ব ৫৩+৫৪
-
জাহানারা পর্ব ৬৩+৬৪
-
জাহানারা পর্ব ১১+১২
-
জাহানারা পর্ব ১৯+২০
-
জাহানারা পর্ব ১
-
জাহানারা পর্ব ৪
-
জাহানারা পর্ব ৬১+৬২