Golpo romantic golpo জাহানারা

জাহানারা পর্ব ৪


জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :০৪
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

     🔞 সতর্কবার্তা:

এই গল্পে অ’কথ্য ভাষা এবং স”হিং’সতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সং’বে’দনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

সেইদিন বিয়ে বাড়ি থেকে বর ঠিকই চলে গিয়েছিল, কিন্তু রেখে যায় বউ সেজে থাকা মুক্তার নামে এক বোঝা ক’লঙ্ক। শুরু হয় গানা-বাজনা “মেয়ে চরিত্রহী’ন অ’পবিত্র। শেষে কি না বরের বন্ধুর সাথে ন’ষ্টা’মি। ছি ছি ছি।”

বরযাত্রী চলে যাওয়ার পর শুরু হয় মুক্তাকে নিয়ে সমালোচনা। মুক্তা সহ্য করতে না পেরে সু’ইসাইড করতে চায়।কিন্তু আমরা সবাই সময় মতো ঘরের দরজা খুলতে সক্ষম হওয়ায় তেমন কোনো ক্ষ’তি হয়নি। তারপর মুক্তার থেকে জানতে পারি ইফান চৌধুরীর সাথে ছয় মাসের রিলেশনের পর রুম ডেইটে গিয়েছিলো সে। তাও আবার এক প্রকার বাধ্য হয়ে। ঐ শয়তানটা সম্পর্ক ভেঙে দিবে, এই ভয়ে নিজের ভালোবাসাকে আটকে রাখতে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দেয়। কে জানতো লোকটা এত বড় চরিত্রহী’ন ল’ম্পট। সেই দিন মুক্তার এই অবস্থা দেখে তার মামাতো ভাই মুস্তাকিম বিয়ে করে। সে নাকি ছোট থেকেই মুক্তাকে পছন্দ করতো। ছেলেটা ভেদ্র নাজুক হওয়ায় কখনো কাউকে বলতে পারে নি। তাই নিজের অনুভূতিগুলো চেপে ছিল।

তারপর সময়ের স্রোতে কেটে যায় আরো দু’মাস। জীবনের নতুন এক অধ্যায়ে— অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পা দিই আমি। শৈশব থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছি পড়াশোনায়, যার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমার বাবার; তাঁর কঠোর নিয়মনীতিই আমাদের ভাই-বোনদের আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আমি ঢাকা ভার্সিটির সাহিত্য বিভাগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি।

দিনটি ছিল বুধবার। প্রতিদিনের অভ্যাসমতো ক্লাস শেষে বিকেলের ম্লান আলোয় পাঠাগারের শান্ত পরিবেশে বই পড়ছিলাম। সেদিনের সেই উপন্যাসটি আমায় এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে, পাঠাগার কখন জনশূন্য হয়ে গেছে তা ঠাহরই করতে পারি নি। সংবিৎ ফিরতেই তড়িঘড়ি করে বইটি বন্ধ করে হাতের ওয়াচটিতে তাকিয়ে দেখি— আর কিছুক্ষণ পরই সন্ধ্যা নামবে। মুহূর্তকাল দেরি না করে দ্রুত পায়ে আমি পাঠাগার থেকে বের হয়ে যাই।

বাইরে বের হতেই দেখি আকাশের মুখ ভার, গুমোট মেঘে ঘনিয়ে আসছে আসন্ন ঝড়। চারদিকে প্রবল বাতাসের মাতম; কোনো যানবাহনের চিহ্ন নেই। উপায়ন্তর না পেয়ে শেষমেশ হেঁটেই বাসার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। কিছুটা পথ যেতেই আকাশ ভেঙে নামলো প্রবল বর্ষণ। আশ্রয়ের খোঁজে একটি বন্ধ দোকানের দিকে দু-পা এগোতেই আচমকা ঘটে গেল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা।

একটি চলন্ত প্যানেল ভ্যান, যার পিছনের অংশটি বক্স টাইপের এবং দুই পাটি দরজার মতো খোলা যায়— ঠিক সেখান থেকেই একটি হাত অতর্কিতে আমাকে টেনে ভেতরে নিয়ে নিল। মুহূর্তের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বুঝে ওঠার মতো মানসিক অবস্থায় আমি ছিলাম না।

ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কেউ একজন পিছন থেকে আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে। তার তপ্ত ও এলোমেলো নিঃশ্বাস বারবার আছড়ে পড়ছে আমার ঘাড়ে, ঠোঁটের স্পর্শে এক অদ্ভুত শিহরণ আর আ’তঙ্ক। তার হাতের বেসামাল বিচরণ আমাকে ক্রমশ পাথরের মতো নিশ্চল করে দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, কেউ আমার কণ্ঠনালী সজোরে চেপে ধরেছে, যার কারণে বুক চিরে কোনো আর্তনাদ বেরোচ্ছিল না। আমি এতটাই আতংকিত হয়েছিলাম যে, চিৎকার করে সাহায্য চাইব কিংবা আকুতি-মিনতি করব— সেইটুকু শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলাম।

–“উফফ ফাইনালি তোমাকে কাছে পেলাম ঝাঁঝওয়ালি।”

ঠিক সেই মুহূর্তে আমার কানে ভেসে এল এক পুরুষের ফিসফিসানি, এক গভীর হাস্কি স্বর। সেই কণ্ঠস্বর এতটাই নে’শালো ছিল যে, যে-কেউ মুহূর্তেই মোহাবিষ্ট হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু সেই মোহ আমাকে স্পর্শ করতে পারল না। বরং আমি এক তীব্র ঘোর থেকে সংবিৎ ফিরে পেলাম। আমি সর্বশক্তিতে চিৎকার শুরু করলাম, দুহাতে আঘাত করতে চাইলাম সেই আগন্তুককে।
কিন্তু আমার সমস্ত প্রতিরোধ বৃথা করে দিয়ে সে আমাকে এক হেঁ’চকা টানে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল এবং গাড়ির দেয়ালের সাথে সজোরে চেপে ধরল। ভ্যানটির ভেতরটা আদিগন্ত অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকায় কারো মুখচ্ছবি স্পষ্ট হচ্ছিল না, কেবল অনুভবে মিশে ছিল এক অজানা আ’তঙ্ক।

–“তোমার এই তেজ উফফ, আমার পুরুষত্বকে নাড়িয়ে দেয় বারংবার। মনে হচ্ছে তুমি খুব টেস্টি হবে, আউচ্ কোথায় যেন একটা লাগছে।”

–“ইইফান চৌধুরী!!”

আগন্তুকের সেই লাগা’মহীন কথাগুলো কানে পৌঁছাতেই মনের কোণে একটি নামই বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। তীব্র ঘৃ’ণা আর ক্ষো’ভে দাঁতে দাঁত চেপে সেই নামটি উচ্চারণ করলাম আমি। কিন্তু আমার সেই প্রতিবাদ তাকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করল না, উল্টো সে এক অদ্ভুত গা-ছাড়া ভাব নিয়ে বি’টকুটে হাসিতে মেতে উঠল। অপমানে আর রাগে আমার শরীর যেন রিরি করে জ্বলতে শুরু করল।
আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে তাকে সজোরে একটি ধাক্কা দিলাম এবং তীব্র ভাষায় গা’লাগালি করতে লাগলাম। চলন্ত গাড়ির সেই অস্থিরতায় আচমকা আমি তাল সামলাতে না পেরে যখন পড়ে যেতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই ইফান আমাকে ধরে ফেলল। এরপর আবারও সে তার শরীরের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে আমাকে গাড়ির সাথে শক্ত করে চেপে ধরল।

–“বা’ন্দির বাচ্চা তুই কি বুঝতে পারছিস না, তোর আজকের এই পরিণতির জন্য তুই দায়। তোর এই আ’ত্নবিশ্বাসী জেদ আমাকে চুম্বকের মতো কাছে টানছে। সেই দিনের চড়টার সম্পূর্ণ হিসাব তোর সারা শরীরে চোকাবো আজ।

–“জানো’য়ার, কু’ত্তার বাচ্চা তুই কি আধও মানুষ!! চরিত্রহী’ন ল’ম্পট, তর ঘরে কি মা বোন নাই!”

তীব্র আক্রোশে ফেটে পড়ে সেই পুরনো ঘটনারই পুনরাবৃত্তি করলাম। আমার হাতের একটি সজোরে চ’ড় আছড়ে পড়ল ইফানের গালে। মুহূর্তেই পরিবেশটা নিথর হয়ে গেল। বাইরে চলন্ত গাড়ির আওয়াজ আর ঝড়-বৃষ্টির মাতম সাথে বিদ্যুতের চমকানি ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। ভ্যানের ভেতরটা তখনো নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে নিমজ্জিত। আমার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাসের শব্দ কানে আসছিল। এক অজানা আশঙ্কায় আমার বুক কাঁপতে শুরু করল— কে জানে ইফান এবার কোন চরম প্রতিশোধ নেয়!

রাগে তখন ইফানের শরীর থরথর করে কাঁ’পছে, তার চোয়াল যেন কোনো কঠিন ধাতব বস্তুর মতো শক্ত হয়ে গেছে। প্রচণ্ড ক্রোধে চোখ দুটো রক্তবর্ণ হয়ে উঠলেও এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে আমি তা দেখতে পাচ্ছিলাম না, কেবল তীব্রভাবে অনুভব করছিলাম। হঠাৎ সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আমার ওপর হামলা করে বসল; একের পর এক চারটি চড় আছড়ে পড়ল আমার মুখে। পুরুষের হাতের সেই প্রচণ্ড আ’ঘাতের সামনে আমি নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারলাম না, লুটিয়ে পড়লাম মেঝেতে। ঠিক সেই মুহূর্তে কোথা থেকে যেন এক ঝলক হলদে আলোর আবির্ভাব ঘটল। তার হাতের থাবাটা এতটাই নৃশংস ছিল যে আমার মনে হচ্ছিল সবকটি দাঁত বুঝি এখনই উপড়ে আসবে। ব্যথার তীব্রতায় আমার পুরো শরীরটা যেন কুঁকড়ে আসছিল।

লোকটা আমাকে হেঁচকা টান মেরে আবার দাঁড় করালো। আমি টালমাটাল অবস্থায় তখন সে আবার গাড়ির সাথে চেপে ধরে।
–“তুই কি সত্যিই বুঝতে পারছিস না তর সামনে কে দাড়িয়ে আছে। ভেবেছি একটু আদর করে ছেড়ে দিবো। কিন্তু তুই শা’লি যে পরিমাণ ঝাঁঝের, এখন আমার আর লু’তালুতা আদর পুষাবে না।”

সে আর কোনো সময় কিংবা বাক্যের অপচয় করল না। শব্দরা তখন তুচ্ছ হয়ে লুটিয়ে পড়ল তৃষ্ণার্ত নিস্তব্ধতায়। মুহূর্তেই সে হা’মলে পড়ল আমার ওষ্ঠাধরে। আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে তাকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলাম, অবিরত আ’ঘাত হেনেছিলাম তার বুকে; কিন্তু তার সেই ইস্পাতকঠিন বলিষ্ঠ দেহের কাছে আমার সমস্ত প্রচেষ্টা ছিল ঠিক যেন তপ্ত রোদে মোমোর মতো কোমল আর অসহায়।

ক্লান্তিতে যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত, আমি গাড়ির গায়ে হেলান দিয়ে নি’স্তেজ হয়ে বসে পড়লাম। ইফানও একই ছন্দে থিতু হলো আমার খুব কাছে। সময়ের হিসেব আমার জানা নেই, শুধু মনে পড়ে— এক নোনতা স্বাদের আবেশে আমি আচ্ছন্ন হচ্ছিলাম, আর আমার অবশ দেহে অনুভব করছিলাম তার এলোমেলো হাতের সেই উ’দ্দাম বিচরণ।

দীর্ঘ এক দহন শেষে যখন সে আমায় মুক্তি দিল, আমি তখন রুদ্ধশ্বাসে হাঁপাচ্ছিলাম। গাড়ির ভেতরের সেই ম্লান হলদে আলোয় নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে দেখি— সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নি’ষ্ঠুরতম মানবটির মুখাবয়ব ঘামে ভিজে একাকার। ক্লান্ত চোখে শুধু দেখলাম, সে তার শরীরের শার্টটা খুলে অবহেলায় ছুঁড়ে ফেলে দিল অন্ধকারের বুকে।তারপর আমার কানে ফিসফিস করে হাস্কি টোনে বলে ,
–“ইউ আর ভেরি জুসি জান। তোমাকে টেস্ট করার জন্য ছোট ভাই টুওও ওয়ারিড।”

ইফান সহসা এক আদিম ও পাশবিক উন্মত্ততায় লিপ্ত হলো। তার প্রতিটি আচরণে যেন এক হিতাহিতজ্ঞানশূন্য জানো’য়া’রের রুদ্রমূর্তি। এক প্রবল ও অবাধ্য আকর্ষণে সে আমার আচ্ছাদন ছি’ন্নভিন্ন করে ছুঁড়ে ফেলল দূর অজানায়। আমরা দু’জনেই তখন পার্থিব বসনমুক্ত, সম্পূর্ণ ন’গ্ন। তার বেসামাল করপল্লবের অবাধ্য বিচরণ আর ওষ্ঠাধরের দহনজ্বালা যেন আমাকে নিঃশেষে শোষণ করে নিচ্ছিল; এক নিদারুণ মত্ততায় আমায় ধূলিসাৎ করে দেওয়ার এ যেন এক প্রলয়ংকরী অভিসন্ধি।

আমি তখন বাক্যহারা, নিথর; আমার আর্তিগুলো কণ্ঠের নিভৃত কোণে গুমরে মরছে। বাইরে তখন প্রকৃতির রুদ্র তান্ডব, প্রলয়োল্লাস; আর আমরা অবরুদ্ধ এক চলন্ত যানের নিশ্ছিদ্র প্রকোষ্ঠে। সেখানে সহস্র আ’র্তনাদও ঝড়ের গর্জনে বিলীন হয়ে যাবে, পৌঁছাবে না কোনো কর্ণকুহরে। আমার দু’নয়ন বেয়ে অঝোরে ঝরছে নোনা অশ্রুধারা। অন্যদিকে, সেই চলন্ত যানের অভ্যন্তরে ইফানের সৃজিত কামনার উদ্দাম ঝড় আর আমাদের দু’জনের তপ্ত দীর্ঘশ্বাসের শব্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে এক গুমোট হাহাকারের সৃষ্টি করছে।”

চলবে,,,,

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply