মেজর_ওয়াসিফ
লেখনীতেঐশীরহমান
পর্ব_০৪
[🚫 কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫]
ওয়াসিফ চলে যাওয়ার আজ সপ্তাহ খানেক পেরিয়েছে। এই সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ধারা আর ভুলেও যেচে পরে ঐ লোকের সঙ্গে ফোনালাপে যায়নি। তবে দিনে-রাতে যখনই সময় পায় ওয়াসিফ মায়ের সঙ্গে সময় নিয়ে কথা বলে। ঐ দূর বহুদূর থেকেও বাড়ির সকলের খোঁজ খবর তার নখদর্পনে রাখে। ধারা ঐ লোকের সঙ্গে কথা না বললেও ওয়াসিফ যখন তার মায়ের সঙ্গে বা বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলুক না কেনো তখন নিজের যতো জরুরি কাজই হোক ওসব ফেলে ধারা তখন বাড়ির মানুষদের আশেপাশে ঘুরঘুর করে। যেনো কেউ টের না পায় সেভাবে আড়ালে আবডালে থেকে ও শোনে কথাগুলো। আজ তার ব্যাতিক্রম হলো।
সন্ধ্যার নাস্তা শেষ করে ধারা পড়তে বসেছিলো, আজ আবার সকাল থেকে বিকেল ও বাড়িতে ছিলো না, কলেজ, টিউশন ছিলো ওর। পড়তে যখন বসেছিলো তখন বারবার ওর পড়া থেকে মনোযোগ ছুটে গিয়ে শুধু মনে পরে আজ কি ওয়াসিফ কল করেছিলো বাড়িতে? কি বলেছে? ওর কথা কি কারো কাছে জিজ্ঞেস করেছিলো?
ধারা বই খাতাগুলো ফেলে রেখে উদাসী মনে যখন চিন্তা ভাবনায় বিভোর তখন লুইপা ডেকে বলে।
‘ এই মেয়ে কি সমস্যা তোর? পড়িস না কেনো ‘?
ধারা ওভাবেই মুখে হাত রেখে ভাবুক ভঙ্গিতে বলে।
‘ পড়াশোনা ভালো লাগেনা রে আপা, পড়াশোনার থেকে বিয়ে করে সংসার করা সহজ’
লুইপা ওর এই আজগুবি কথা শুনে চেয়ে থেকে বলে।
‘ তোর তো বিয়ে হয়েছে নতুন করে আবার কি হবে’?
পরপর লুইপা আবার বলে।
‘ মন দিয়ে পড়, ভাইজান যে লোক। তুই যদি এবার উচ্চমাধ্যমিকে কোনো সাবজেক্টে ফেল মারিস তবে সত্যি সত্যি ভাইজান তোকে আরেক জায়গায় দেখেশুনে বিয়ে দিয়ে দেবে। আমি নিশ্চিত বলতে পারি তার মতো মেধাবী লোক তোর মতো ফেল্টুস নিয়ে সংসার করবেনা। সময় থাকতে মন দিয়ে পড়’
বলেই হাসে লুইপা, ধারা ওর দিকে রাগি চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে।
‘ ওতো মেধা দিয়ে হবে কি? মেডেল দেবে কেউ আমাকে? মেয়েদের ওতো লেখা পড়া শেখা ভালো না। এ ফর এ্যাপেল, বি ফর বল, সি ফর ক্যাট। অ-ঔ, ক- ঁ, আর ১-৫০ অব্ধি বানান করতে পারলেই দিব্যি ছেলে মেয়েদের মানুষ করা যাবে। ওতো লেখা পড়া শিখে কোন চুলোয় দেবো আমি’?
লুইপা হাসতে হাসতে বলে।
‘ কোথায় আর দিবি, ভদ্রলোক শাহেদ ওয়াসিফের সংসারের চুলোতে আগুন দিস’
ধারা খেঁকিয়ে ওঠে।
‘ এই আপা কথায় কথায় উনাকে টানবি না তো। আমার সামনে মোটেও উনাকে টেনে কথা বলবিনা। বিরক্ত লাগে’
‘ এতোই যখন বিরক্ত লাগে তুই কানে তুলো গুঁজে বসে থাক। এরপর ভাইজান বাড়িতে আসলে দেখবো তোর এই বিরক্ত কতটুকু তোর মধ্যে থাকে’
‘ তোদের ভাইজান বাড়িতে আসার আগে এবার আমি পালাবো। উনার সঙ্গে একবাড়ির ছাদের নিচে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না ‘
‘ হু পালাবি? তুই মাটির নিচে গেড়ে বসে থাকলেও তোকে ঐখান থেকে টেনে বের করে আনবে। তুই এখনও মানুষ চিনিস নি’?
‘ কচু করবে আমার’
এবার লুইপা ওকে মৃদু ধমকে বলে।
‘ চুপচাপ পড়, পড়া শেষ হলে আমার কাছে পড়া দিয়ে তারপর ঘুমাবি। ফাঁকিবাজি বন্ধ ‘
ধারা মিনিট খানেক সরু চোখে বোনের দিকে তাকিয়ে থাকে, লুইপা ওকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে।
‘ কি’?
ধারা ইঁদুরের মতো নাক কুঁচকে বলে।
‘ আমি কেমন গন্ধ পাচ্ছি, তুই কি ঘুষটুষ খাস আপা’?
লুইপা বুঝলোনা ওর কথা, বললো।
‘ কিহ? কিসের ঘুষ’?
ধারা এবার স্পষ্ট করে বললো।
‘ ঐ মেজরের থেকে ঘুষ খাস, উনি তোকে কি কোনো ঘুষ দেয় আমার বিষয় নজরদারি করতে ‘?
লুইপা বলে ‘ চড় খাবি একটা? ফাজলামি রেখে পড়, আমি কোনো ঘুষটুষ কিছু খাইনা।’
‘ আজকাল যেমন আমার পড়াশোনা নিয়ে ধমকাস, আগে তো এমন করতিনা, তাই ভাবলাম উনি তোকে দিয়ে..’
ধারার কথা শেষ হওয়ার আগেই লুইপা বলে।
‘ আগে শুধু সম্পর্কে বোন ছিলি, রেজাল্ট খারাপ করলে ওতো মাথা ব্যথা ছিলোনা। কিন্তু এখন তো তুই ভাইজানের বৌ। আমাদের ভাইজান হলো সেরা মেধাবী মানুষ। তার একাডেমিক রেজাল্ট গুলো দেখেছিস চোখ কপালে উঠে যাবে। সেখানে তোর ঐ কোনোরকমে টেনেটুনে পাস করা রেজাল্ট বড্ড বেমানান। তাই তুই যাতে সহজে তার সঙ্গে ম্যাচ খাস এজন্য এতো উতলা আমি। বিষয় পরিষ্কার এবার পড়। তুই ও পড়, আমিও পড়ি’
ধারা ঠাস করে চেয়ার ছেড়ে ওঠে। বই খাতাগুলো ধুমধাম করে বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে।
‘ যদিও পড়তাম এখন আর পড়বোনা, তুই আর তোর ভাইজান পড়।ম্যাচ খাবেনা তোর ভাইজানের একাডেমিক রেজাল্টের সাথে আমার একাডেমিক রেজাল্ট। তোর ভাইজান হলো শাহেদ ওয়াসিফ আর আমি হলাম মুমতাহিনা ধারা। পার্থক্য ছিলো,আছে আর থাকবে। চললাম আমি,’
লুইপা পেছন থেকে ডাকে কয়েকবার।
‘ এই ধারা শোন, এই মেয়ে ‘?
কে শোনে কার কথা। লুইপা জলদি বিছানা ছেড়ে উঠে বিড়বিড় করে বলে।
‘ পাগল নিয়ে কি আর দুনিয়া চলে? আর ভাইজান নাকি এই পাগল নিয়ে সংসার করবে’
রাত তখন ২টা বেজে ৪৫ মিনিট। ঘুটঘুটে অন্ধকারে আকাশ থেকে নেমে আসছে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের মৃদু গুঞ্জন। ওয়াসিফের টিমে আছে ওরা ছয়জন—টিম লিডার হিসেবে ওয়াসিফ এবং তার সঙ্গে আছে দক্ষ স্নিপার আরিয়ান, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট সামির এবং আরও তিন অকুতোভয় যোদ্ধা। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য পাহাড়ি গুহার আড়ালে লুকানো এক কুখ্যাত বিদ্রোহী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডাটা ড্রাইভ উদ্ধার করা।
হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নামার সময় বাতাসের ঝাপটা মুখে এসে লাগছিল। মাটিতে পা রেখেই ওরা কজন ‘ট্যাকটিক্যাল ফর্মেশন’ নিলো। চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। নাইট ভিশন গগলসে পৃথিবীটা এখন নিয়ন সবুজ। ওরা যখন নিঃশব্দে এগোচ্ছিলো সামির ইশারায় জানাল, সামনেই তিনটি লেজার ট্র্যাপ আর দুটো মোশন সেন্সর ক্যামেরা।
সবচেয়ে জটিল সময় হলো যখন আপনি শত্রুর ডেরার ঠিক বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন, অথচ তারা জানে না আপনি সেখানে আছেন। প্রতিটা সেকেন্ড তখন ঘণ্টার মতো মনে হয়। সামির দ্রুত হাতে জ্যামার বসিয়ে ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দিতেই ওরা ধীর এবং সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি পায়ের কদম ফেলতে থাকলো
ভেতরে ঢোকার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। সম্ভবত কোনো এক পাহারাদার কুকুর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘেউ ঘেউ করে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে ফ্লেয়ার গান থেকে ছোঁড়া আলোয় আকাশ সাদা হয়ে গেল। ওদের সারপ্রাইজ এলিমেন্ট শেষ। এখন শুরু হলো সরাসরি সংঘর্ষ।
“কভার নাও!” ওয়াসিফ চিৎকার করে কমান্ড দিলো।
চারপাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি আসতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। পাথরের দেয়ালের আড়ালে পিঠ ঠেকিয়ে ওয়াসিফ রাইফেল চালিয়ে ‘সাপ্রেসড ফায়ার’ করতে থাকলো। আরিয়ান উঁচু এক টিলায় উঠে গিয়েছিল ইতিমধ্যে। সেখান থেকে তার স্নাইপারের প্রতিটি শট নিখুঁতভাবে শত্রুর পজিশনগুলো ধ্বংস করছিলো। কিন্তু শত্রুপক্ষ সংখ্যায় অনেক বেশি থাকায় তাদের হেভি মেশিনগান নিয়ে সেনাবাহিনীর টিমের ওপর চড়াও হলো।
ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেছে। ওয়াসিফ গ্রেনেড চার্জ করার জন্য পজিশন বদলাচ্ছিলো সবে ঠিক সেই মুহূর্তে বাম দিক থেকে একটা শব্দ এলো একজন শত্রু সৈন্য আড়াল থেকে আচমকা বেরিয়ে এসেছে। ওয়াসিফ রাইফেল তোলার আগেই তার একে-৪৭ গর্জে উঠল।
হঠাৎ মনে হলো, বাম কাঁধে কেউ যেন জলন্ত কয়লা চেপে ধরেছে। প্রচণ্ড একটা ঝটকায় ওয়াসিফ মাটিতে আছড়ে পড়লো। নিশ্বাস নিতে কষ্ট, কানে এক প্রকার ভোঁ ভোঁ শব্দ আসতেই চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছিল ওয়াসিফের। ঐ অবস্থাতে টের পেলো ওদের লোক আসিফ ইতিমধ্যে পাল্টা গুলি চালিয়েছে তাদের উপর।
ব্যথার চেয়ে একটা প্রচণ্ড অবশ অনুভূতি কাজ করছিল। ওয়াসিফ জানতো, যদি এখন হাল ছেড়ে দেই, তবে পুরো টিম বিপদে পড়বে। মানসিক নিয়ন্ত্রণ তখনো পুরোপুরি হারায়নি শাহেদ ওয়াসিফ, সুস্থ থাকা হাত দিয়ে ‘ট্যাকটিক্যাল টুরনিকুয়েট’ বের করলো। কাঁধের ক্ষতটা বেশ গভীর ছিল বুঝতে পারে রক্তে ভিজে যাচ্ছিল ইউনিফর্ম। দাঁতে দাঁত চেপে নিজেই নিজের ক্ষতস্থানে চাপ দিয়ে ব্যান্ডেজ বাঁধার চেষ্টা করলো, যাতে রক্তক্ষরণ কমে।
আরিয়ান ওপর থেকে কাভারিং ফায়ার দিচ্ছিল। সামির দ্রুত স্যারের অবস্থা আশংকাজনক দেখে ও তাড়াতাড়ি ছুটে এসে ওয়াসিফ কে টেনে একটা পাথরের আড়ালে নিয়ে গেল।
“লিডার, আপনি ঠিক আছেন?” সামিরের গলায় উদ্বেগ।
“ড্রাইভটা নাও, সামির! মিশন আগে!” নিজের কষ্ট চেপে রেখে কোনোরকম বললো ওয়াসিফ।
” লিডার, ওসব ছাড়ুন, আপনি গুলি খেয়েছেন। এই অবস্থায় আমার পক্ষে সম্ভব না আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার “
নিজের চোখের সামনে ওয়াসিফ কে এভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে কাপে সামির।
ঐ অবস্থাতেও ওয়াসিফ ওকে ধমকে ওঠে।
” ওদিকে যাও সামির, আমার কিছু হয়নি, একটা গুলিতে মরবোনা”
তবুও সামির ওকে রেখে যায়না।
” দুঃখিত, আপনার কথা শুনতে পারছিনা এই অবস্থায়, আগে এখান থেকে আপনাকে বের করি তারপর বাকিটা”
ওয়াসিফ বারবার গর্জে ওঠে সামিরের উপর।
” আমার বাঁচা মরা নিয়ে পড়ে থেকোনা সামির। আজকের মতো সুযোগ আমাদের আরেকটিবার আসবেনা। আমরা আজ খালি হাতে ফিরে গেলে ওরা আরো সতর্ক হবে। আমরা ওদের পিছু আর পাবোনা। গো সামির গো! রাইট নাও!”
ওয়াসিফ ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। সামির বুঝলো এই লোক মরে যাবে, পঁচে যাবে তবুও নিজের দায়িত্ব থেকে এক চুল পরিমাণ সরবেনা।
বাকি তিনজন সতীর্থ তখন মরিয়া হয়ে লড়ছে। তারা স্মোক গ্রেনেড ফাটিয়ে এক কৃত্রিম কুয়াশা তৈরি করল। সেই সুযোগে সামির ল্যাবে ঢুকে ডাটা ড্রাইভটা উদ্ধার করল। এদিকে হেলিকপ্টার ব্যাকআপ চলে এসেছে। ওপর থেকে ‘মিনগান’ এর গর্জন শুরু হতেই শত্রুপক্ষ পিছু হটতে বাধ্য হলো।
ওয়াসিফ কে যখন স্ট্রেচারে করে হেলিকপ্টারে তোলা হচ্ছিল, তখন ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে। ওয়াসিফের শরীর কাঁপছিল, প্রচণ্ড যন্ত্রণায় চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছিল। কিন্তু সামিরের কাছে থাকা সেই ড্রাইভ আর টিমের সবার অক্ষত ফিরে আসা দেখে নিজের যন্ত্রণা ভুলে এক অদ্ভুত শান্তি পাচ্ছিলো মেজর শাহেদ ওয়াসিফ।
একটি জটিল মিশন মানে কেবল গোলাগুলি নয়।এটি হলো ধৈর্য, সাহস এবং মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও কর্তব্য পালনের এক পরীক্ষা। গুলি খাওয়াটা সেই পরীক্ষার এক রক্তাক্ত স্বাক্ষর মাত্র। _ মেজর শাহেদ ওয়াসিফ এই বিষয়টি সবসময়ের মতো বুঝিয়ে এসেছে ওর টিম সদস্যদের, ওর জুনিয়র সহকারীদের। এবং আজও সেটাই বোঝালো।
শরীর যখন আর সায় দিলোনা। অপকটে চোখ দুটো পুরোপুরি বুঝে নিলো শাহেদ ওয়াসিফ। ততক্ষণে ইউনিফর্মের অর্ধেকটা রক্তে ভিজে টইটম্বুর।
চলবে
[ গল্পের নাম #মেজর_ওয়াসিফ, এই গল্পে শুধু মাত্র রোমান্টিকতা থাকবেনা। থাকবে ডিফেন্স রিলেটেড ছোট ছোট কর্ম, যেগুলো আমি ফুটিয়ে তুলবো। যারা গল্প পড়ছেন অবশ্যই লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন। আপনাদের রেসপন্স এবং গঠন মূলক মন্তব্য আমাকে পরবর্তী পর্ব সাজাতে উৎসাহ দেয়]
হ্যাপি রিডিং…..
Share On:
TAGS: ঐশী রহমান, মেজর ওয়াসিফ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মেজর ওয়াসিফ গল্পের লিংক
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ২
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৩
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৬
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৫