Love_or_Hate
ইভেলিনা_তূর্জ
পর্ব_১৩
❌কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ❌ কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ❌
আলবার্ট ম্যানশনের করিডরের শেষে বিশাল কাঁচের দরজা তার উপর লিখা “SPA lounge”। দরজা খুলতেই রুম হিটারের গরম ভাপ আর সুগন্ধি অপরূপ এক নরম ঘ্রান তৈরি করলো।
মোনা রোজের হাত ধরে ভিতরে প্রবেশ করালো।রোজ চোখ ঘুড়িয়ে আশপাশটা দেখতে লাগলো।হাতখানা ব্যথায় টনটন করছে।ছড়িয়ে থাকা র’ক্ত কেমন হাতের তালুতে শুকিয়ে লেগে আছে।হাতে কাঁটা না বিঁধলেও তালুতে লম্বা আঁচড় ঠিকি সৃষ্টি হ’য়েছে।রোজের একটু বিশ্রামের প্রয়োজন এসব তার জন্যে না।একদমি না।মোনা থেকে হাত ছাড়িয়ে অনুরোধ করে ব’লে উঠে,
“আমি যাবো না আপু।আমাকে কেনো নিয়ে এলে।তোমরা যাও।আমার সেখানে কোনো কাজ নেই।”
মোনা তড়িঘড়ি করে এসে রোজের মুখে হাত দিয়ে তাকে থামিয়ে দেয়। আর একটা শব্দ অব্দি উচ্চারণের সুযোগ না দিয়ে রোজকে ভিতরে নিয়ে যেতে যেতে ফিসফিস করে বলে,
“তুমি কি শুনতে পাও নি, এ্যাশ ম্যামের আদেশ।মানে তোনাকেও যেতে হবে।ইনফে’ক্ট আমরা সকলেই যাবো।এটাই নিয়ম।এই বাড়ির মে’ইডরাও সব পার্টিতে এট্যান্ড করে।আমরা তো সব জায়গায় যাই।তোমাকেও যেতে হবে।”
“যেতে হবে মানে।কোথায়?কোথায় হবে সেই মিডনাইট পার্টি? “
“কোপেনহেগেন এর সবচেয়ে বড় “Five star hotel -Hotel Grand”
“ওহহ”
“ওহহ না।তুমি তো নতুন জানো না কিছু। হোটেল গ্র্যান্ড এর মালিক তো রিক স্যারই।মানে ওটা আর, সি গ্রুপেরি।”
রোজ কিছুটা তাচ্ছিল্য করে ঠোঁট বাঁকালো।সে তো এসব জানতেও চায় না।আর না জানার বিন্দু পরিমাণ কোনো আগ্রহ তার মধ্যে আছে।ইউভান যে কতটা নিচ আর বিকৃত মস্তিষ্কের নরপিশাচ তা রোজের জানতে আর বাকি নেই।বরং এসব এখন তার কাছে শুনতে বিষাদ এর মতো লাগে।পুরো স্পা রুম টা বেশ্ বড়সর। কতো পরিপাটি করে সব কিছু সাজানো। এখানেই বুঝি এ বাড়ির নারীরা তাদের রূপচর্চা করে।রোজের এখানে কি কাজ।এসব কিছু তার কাছে নরকের মতো লাগে।বন্ধ কুঠুরী। রোজের চোখে প্রথমেই পড়লো একটা বেনিটি,উপরে সোনালী ফ্রেমের আয়না।সোনালী লাইটিং রোজের চোখে পড়তেই চোখ কুঁচকে উঠলো তার।বেনিটির সামনের এসে দাঁড়ালো।দু’হাতে ভর দিয়ে।আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বর দিকে তাকিয়ে রইলো।চোখের নিচে কেমন ডার্ক সার্কেল পড়ে গিয়েছে। রোজের গোলাপি ঠোঁটজোড়ায় করুণ হাসি ফুটে উঠলো।হঠাৎ একজন ড্যানিশ রমণী রোজের পিছনে দাঁড়িয়ে রোজের চুলের ভাঁজে হাত রেখে ব’লে,
“ম্যাম।হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?… অ্যাম অ্যা বিউটি এক্সপার্ট। “
রোজ এক ধ্যাণে আয়নার দৃষ্টি ফেলে নিজেকে দেখতে থাকে।একটু অন্যমনস্ক।তবে মেয়েটার কথাটা তার কান অব্দি ঠিকি পৌঁছেছে।রোজ এক ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে,
-“আচ্ছা!আমি কি দেখতে খুব খারাপ?…
কসমোলজিস্ট মেয়েটার ঠোঁট গলে শব্দ বের করার আগে কেউ একজন বিরক্তি স্বরে ব’লে,
-“হ্যাঁ।জঘন্য। আমি এখনো বুঝতে পারছি না রিক ব্রো।আমার রিক ব্রো তোমার মতো একটা লো ক্লাসের মেয়েকে হুট করে এখানে এনে কিনা আমাদের মে’ইড বানিয়ে দিলো।টু মাচ্ ডিজগাস্টিং হাহ!…
কথাটা যেনো বজ্রাঘাতের ন্যায় রোজের বুকে এসে বিঁধলো।খুব অপমান বোধ করলো।তবে কে তাকে এভাবে অপমান করলো তা দেখার জন্যেই ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকালো।দেখলো জলরঙের মতো নীল আলোয় ভেসে থাকা বড় jacuzzi ধারে রাহা শুয়ে আছে।সে আগে আগে এখানে চলে এসেছিলো। দেহে শুধু সাদা মোটা তোয়ালে জড়ানো, মাথাতেও আরেকটা টাওয়াল টার্বার্ন বানানো। মুখে ক্রিমি মাস্ক; চোখের উপর দুটো ঠান্ডা শসার স্লাইস। সেই শসার স্লাইস একটা উপরে উঠিয়ে রোজের দিকে বিরক্তি দৃষ্টি আরোপ করে রেখেছে।রোজ রাহার পাশে থাকা লিসার দিকে তাকালো।যেহেতু রোজ রাহাকে কখনো দেখেনি, চিনেও না।কে এই মেয়ে জানার কথাও না।তবে ইউভানকে আমার ব্রো বলে সম্মোধন করেছে যেহেতু নিশ্চয়ই লোকটার বোন হবে ভেবেই রোজ জবাব দিলো।
“-আপনি ঠিকি বলেছেন।আমিও জানতে চাই আমার মতো ডিজগাস্টিংকে কেনো শিকল পড়ালো..আপনি বরং আপনার ভাই থেকে জেনে নিন”
রোজের মুখের উপর জবাব দেয়াটা রাহা তেমন হজম করতে পারলোনা।নাকের পাটা ফুলিয়ে রাগে গজগজ করতে থাকে,
“-তোমার সাহস কি করে হয় একটা মে’ইড হয়ে মালকিনের সাথে এভাবে কথা বলার।ইউ আর সাচ্ অ্যা ক্লাসলেস গার্ল। “
-“লি’সেন্ট অ্যাম ন’ট অ্যা ক্লাস’লেস গার্ল।আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না আমার সাথে “
রাহা আর রোজের মধ্যে বেশ্ কিছুটা দূরত্ব থাকার ফলে রাহা পেডিকিওর ছেড়ে উঠেও আসতে পারছিলনা। শুধু ফুঁফাতে থাকে।রোজ ঠোঁট উল্টিয়ে আরও কিছু বলতে যাবে,তার আগে মোনা তার হাত ধরে ফেলে হিসহিসিয়ে উঠে,
-“কি করছো রোজ।ওনি রিক স্যারের লি’টল সিস্টার”
-“বোন?ওওহ আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম,ভাই যেমন বোন তো তেমনি হবে।এদের কাজ হলো মানুষকে ছোট করে কথা বলা,অপমান করা।কষ্ট দেয়া”
-আরেএএ না রাহা ম্যাম তো ভালো।আমাদের সাথে অনেক ফ্রেন্ডলি,তবে বুঝলাম না তোমার সাথেই ক্ষ্যাপে গেলো হঠাৎ। কষ্ট পেও না..সময়ের সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
রোজ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।চাইলেই কি সব ঠিক করা আধেও সম্ভব। যদি সব কিছু ঠিক করার একটা সুযোগ রোজ পেতো তাহলে সে চ’ট করে নিজের জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে ফেলতো।তবে অফসোস জীবনটাতো কোনো রূপকথা নয়।নিজের কাছে এখন নিজেকে কালস্রোতে ভেসে আসা ভাঙ্গা ডিঙি নৌকার মতো মনে হয়।যার কোনো কূলকিনারা নেই।রোজ বেনিটির সামনের ছোট্ট টোলের উপর বসে পড়লো।গলা থেকে স্কার্ফটা খুলে কসমোলজিস্ট ড্যানিশ রমণীটাকে উদ্দেশ্য করে ব’লে,
-“আমার জীবনে আর কোনো রঙ অবশিষ্ট নেই। সবি কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে।এসব রং চ’টা জিনিস আমার জন্যে না,ম্যাম”
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লিসা এগিয়ে এসে তার হাত দুটো ধরল।
— “রোজ, তুমি নিজেকে যেভাবে দেখো, দুনিয়াটা তো সেভাবে নাও দেখতে পারে। চলো, আজ একদিন, শুধু নিজের জন্য সাজো। Trust me,তোমাকে টু-নাইট গর্জিয়াস লাগবে।
রোজের ম্লান চোখ,ফ্যাকাশে মুখ। শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট, এলোমেলো চুল গুলোতে এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো বিউটি এক্সপার্ট মেয়েটা, ফ্যাকাশে মুখাবয়বেও কেমন স্নিগ্ধ কোমল তার হরিণী চোখ দুটো,সোনালী রশ্মির মতো ছলছল করছে,তিনি ভাবলেন আর মৃদু হাসলেন,এমন এলোমেলো অবস্থায় থাকলেও যে কাউকে এতোটা মায়াবী দেখায় তা তিনি রোজকে না দেখলে জানতেই পারতেন না।নামটা যেমন রোজ তেমনি সধ্যো ফুটে ওঠা লাল গোলাপের মতোই স্নিগ্ধ।ভাগ্যিস তিনি কোনো পুরুষ নন,নাহলে এই বাঙালি প্রিটি লি’টল গার্ল এর প্রেমে পড়ে যেতেন।আচমকা ভাবনা থেকে উঠে এসে হেসে উঠলেন।
পুরো রুমজুড়ে শীতল ল্যাভেন্ডার আর vanilla র গন্ধে ভরে আছে। ছাদের দিক থেকে ধীরে ধীরে মৃদু কুয়াশার মতো ভাপ নেমে আসছে। চারদিকে গাছপালা, ছোট ফোয়ারা।রোজ মাথা নিচু করে রাখলো। কিছু বলল না।চোখের কোণে পানি জমে আবার শুকিয়ে গেলো।একটা ডলের গায়ে অফ-হুআইট কালারের ড্রেসটা তার পড়ার জন্যেই আনা হলো।রোজ ড্রেসটাতে হাত বুলালো।Dior Brand এর গ্রাউন।তবে আশ্চর্য হলো তখনি যখন এটার প্রাইজ ট্যাগটা দেখলো -211 (Dkk)ড্যানিশ ক্রোনার(৪হাজার),রোজের মুখ হা হয়ে গেলো,ডিউর ব্রেন্ডের ড্রেস সম্পর্কে তার আইডিয়া অনেক ভালো করেই আছে,যেখানে কাস্টমাইজ করা এমন গ্রাউনের সর্বনিম্ন প্রাইস স্টার্টি হয় চার লাখের থেকে সেখানে কিনা এখানে প্রাইস ট্যাগ চার হাজার লাগানো।কতটা হাস্যেকর হয়ে গেলো।যাই হউক তাতে রোজের কিছুই যায় আসে না।অনিচ্ছা শর্তেও শাওয়ার নিয়ে এসে ড্রেসটা পড়ে নেয়।বেনিটির সামনে আসতেই দেখতে পায় রাহা একটা ব্লু গ্রাউন নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথে ম্যাচ্ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,রোজ হালকা স্বরে রাহার দিকে বাক্যে ছুড়ে চলে আসে বিপরীত পাশে,
“-আপনার সাথে ব্লুটা না রেডটা ম্যাচ্ হবে।”
রাহা রোজের নিচু স্বরের কথাটা টা শুনতে পেলো।মুখ দিয়ে ভেংচি কেটে চোখ উল্টালো,
“লিসেন্ট!আমাকে কি মানাবে নাকি না সেটা কি তোমার থেকে জানতে হবে না কি উফ।বিরক্তিকর” ! -পরক্ষণেই আবার গিয়ে লাল কালার গ্রাউনটা এনে সামনে ধরে ফিসফিস করে উঠে,
“-হুমম।এতোটাও খারাপ না।এটাই পড়বো।এক ঘন্টা ধরে জামা চু্জ্ই করতে পারলাম না।ডিজগাস্টিং আমি নিজেই। “
কসমোটলজিস্ট মেয়েটা রোজের চুল আলতো হাতে আঁচড়ে নিলো, সুন্দর করে নিখুঁত করে ব্রাউনিশ চুলগুলো কার্ল করে ইলিগেন্ট ফ্রেন্স বিনুনি করলো।বার্ণের গায়ে ছোট্ট ছোট্ট পার্ল পিন গুঁজে দিলো।রোজের গালে হালকা লালচে আভা ফুটে উঠলো। ঠোঁটে হালকা পিঙ্ক লিপ টিন্ট লাগাতেই,মোনা আর লিসা দু’জনেই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো রোজের দিকে।রোজ ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকাতেই দেখলো মিসেস এ্যাশ বুড়ো বয়সে এসেও স্কিন কেয়ারের প্রতি কি সচ্ছ। বুড়ি মহিলাটা এই বয়সে এসেও এতো স্টাইলিস্ট আবার মেক-আপ ও করছে,এসব এই বিদেশের মাটিতেই সম্ভব।রোজের ভিতরটা একটু অস্থির হয়ে উঠলো।যেন বহুদিন পর আবার তার ভেতরকার মৃত রঙগুলো আবার একটু নড়েচড়ে উঠলো।
রাত ঠিক এগারোটার পর।মিডনাইট পার্টিটা শুরু হয় রাত বারোটার পর থেকে। সবাই সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে থাকে।ম্যনশনের তৃতীয় তলার মাস্টার বাথের মধ্যে, কালো মার্বেলের দেয়ালে আলো কমে কমে নরম ছায়া ফেলছে। বিশাল বাথটাবের গরম পানিতে অর্ধেক ডুবে আছে ইউভান এক হাতে অর্ধখাওয়া হুইস্কির গ্লাস, অন্য হাতটা ঘাসটবের ধার ধরে রাখা।ভেজা চুল কপালে লুটিয়ে পড়ে আছে,আর চোখ দুটো আধো লাল মদ আর ক্লান্ত রাতের মিশ্র প্রভাবে প্রভাবিত।
ঝরঝর করে পড়া পানির শব্দ যেনো নিজের মাথার ভেতরের রাক্ষসগুলোকে আরও গর্জে তুলছিলো।
ইউভানের ন’গ্ন দেহে ফুলা ফুলা পেশিগুলোর থেকে দেহে থাকা কাঁটা আঘাতের দাগ গুলো স্পষ্ট ভেসে উঠলো সোনালী আলোতে।কিছু কিছু অংশের ক্ষতগুলো অত্যন্ত গভীর।এক হাত সম্পূর্ণ ডার্ক ট্যাটু করা তাই সেই হাতের দাগ গুলো ঢেকে আছে।হাতটা টব থেকে ধীরে উঠে এলো বুকের উপর, ইউভানের প্রতিটা মুভমেন্টে রাজাদের মতো ভারী অহংকার।স্টিমে ভেজা বাতাসের মধ্যেও নিখুঁত নিঃশ্বাস ফেলে তৌয়ালে কোমরে জড়ালো।মিররের সামনে দাঁড়িয়ে, আঙুলের বেক ব্রাশ করে ভেজা চুল পিছনে টেনে নিলো গলার ওপর দিয়ে নামা জলবিন্দু তার শরীরের কিলার অরা আরও স্পষ্ট করে তুললো।কেবিনেটের শেষের ড্রয়ার খুলতেই সেখান থেকে একটা ইনজেকশন বের করে নিজের হাতে পুষ করে নিলো।যার মধ্যে একটা সাদা তরল পদার্থ ছিলো।নিজেই নিজের হাতে ইনজেকশন নিলো তবে চোখে মুখে তার বিন্দু পরিমাণ ছাপ পড়লো না।
ড্রেসিং চেম্বারের দরজা খুলতেই আলো একটু উজ্জ্বল হলো।রুম জুড়ে ব্র্যান্ডেড পোশাকের লম্বা স্ট্যান্ড, সব কালো, পোশাক।সেখান থেকেই একটা ব্ল্যাক সিগনেচার ব্ল্যাক কোর্ট গায়ে জড়িয়ে নিলো।এক হাতে একটা রোলেক্স ঘড়ি,আপর হাতে ব্ল্যাক লেদার ব্রেসলেট,ডায়মন্ড-স্টাডেড কাফ বাটন নিলো যেটা আর.সি গ্রুপের সিম্বল।ইউভান আয়নার দিকে একটু ঝুঁকে রইলো,গলার পাশ দিয়ে নেমে আসা শার্প ভি-কাটের কালো ফ্যাব্রিক তার হিংস্র masculinity আরও ধারালো করে তুললো।
চোখ দুটো একটু লালচে, তবে মূহুর্তেই মিররে নিজেই নিজের প্রতি বিমম্বের উপর সিংহের ন্যায় থাবা ফেলে একটা ঠান্ডা, নিষ্ঠুরভাবে হেঁসে ঠোঁট গোল করে ব’লে,
“Let the night burn”
কোণের টেবিল থেকে কাঁচের ডেক্যান্টার তুলে আরেক চুমুক খেলো,তারপর ব্ল্যাক লেদার শু পরে বেরিয়ে এলো।নিচ তলার সিঁড়ি বেয়ে নামতেই রাহা চ’ট করে এসেই ইউভানের হাত জড়িয়ে ধরলো।দুই ভাইবোন সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে রাহা নাজুক হেসে ব’লে,
-“ভাই, তোকে একদম ডেঞ্জারাস জেন্টেলম্যান লাগে কেন! “
-“দ্যা’টস দ্যা পয়েন্ট “
-“প্রশংসা করলাম।এই খুশিতে তো দুই একটা ক্রেডিট কার্ড দিতে পারিস।আমি আবার এতো লোভী না, আপাতত একটা দিলেই হবে।দে প্লিজ।আমার টা ব্লক করে দিছে গ্র্যানি।”
ইউভান কোর্টের বুক পকেট থেকে একটা ক্রেডিট কার্ড রাহার হাতে দিতেই, রাহা দাঁত কেলিয়ে চট করে নিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে সোজা সদর দরজার বাহিরে চলে যায়।দরজার কাছে রোজ গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে।মাথা নিচু করে।রোজ জানে সে মাথা উঁচু করে তাকালেই তার শ্বাস আটকে আসবে।ইউভান ভারী শব্দহীন পায়ে রোজের কাছে এসে পাঁ থামিয়ে রোজকে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত দেখতে থাকে। রোজ একটু পিছিয়ে যাবে তার আগেই ইউভান রোজকে পাশ কাটিয়ে হনহনিয়ে চলে যায়।রোজ দম ছেড়ে ম্যানশন ত্যাগ করে গাড়ির কাছে চলে আসে।দশ বারোটা গাড়ি এক লাইনে দাঁড়ানো।রোজ ইউভানের গাড়ির দিকে না এগিয়ে চার নাম্বার গাড়িতে মোনা,লিসার পাশের সিটে গিয়ে উঠে বসে পড়ে।সেই দৃশ্য আবার ইউভান লুকিং গ্লাসে দেখতে পায়।ধাম্ করে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে দেয়। পরপর সব গাড়ি ইউভানের গাড়ি অনুসরণ করে চলতে শুরু করে।
Hotel grand ৬২ তলার বিশাল বড় বিলাসবহুল কাচের দেয়ালে ঘেরা ফাইভ স্টার হোটেল। কোপেনহেগেন সিটির ঠিক মাঝবড়াবড় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানের ৪৫তলার” Sky Banquet Hall Astra Hall”এই মিডনাইট পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। এটাই পার্টির জন্য
হোটেলের সবচেয়ে লাক্সোরিয়াস ফ্লোর।
এটা পুরোটাই কাচের দেয়াল বাইরে কোপেনহেগেনের পুরো স্কাইলাইন দেখা যায়।হোটেলের ভিতরে প্রবেশ করতেই হোটেল স্টাফরা ইউভানদের কুর্নিশ করে। পয়তাল্লিশ তলার পার্টি গ্রাউন্ডে যাওয়ার জন্যে ইউভানরা লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে রইলো, লিফটের ডোর ওপেন হতেই সকলে লিফটে প্রবেশ করলেও রোজ সবার শেষে লিফটের দিকে পাঁ বাড়ানোর আগেই রোজের হাত হেঁচকা টানে টেনে পাশের লিফটের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় তাকে।রোজের কোমড় পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে লিফটের ডোর অফ বাটনে প্রেস করে দেয় ইউভান।রোজ ভয়ে জমে উঠে।কে তাকে এভাবে ধরলো বুঝে উঠতে না পেরে মৃদু চিৎকার দিয়ে উঠবে তার আগেই ইউভান রোজের মুখ চেপে ধরে দেয়াল ঠেসে দাঁড়িয়ে পড়ে।নিজের লম্বা শরীর দিয়ে রোজকে পুরোপুরি ঘ্রাস করে নেয়।রোজের জামা চেপে তাকে এক প্রকার শূন্যে ভাসিয়ে তোলে ইউভান হুঙ্কার দিয়ে উঠে,
-“এতো সেজেছিস কেনো…Why? “
রোজে একবার নিচে তাকালো।তার পাঁ দুটো ফ্লোর স্পর্শ করতে পারছে না।শুকনো ঢুক গিলে।ইউভানের কোর্টের কলার চেপে ধরলো।বিরক্ত ভয়ার্ত মিশ্রিত কন্ঠে নির্ধিদায় ব’লে উঠে,
-“আ..আমি সাজবো নাকি না,সেটাও কি আপনাকে বলতে হবে? আপনি কে হন আমার যে এভাবে প্রতি মুহূর্তে জোর খাঁটিয়ে চলেন।”
ইউভান চোখজোড়া বন্ধ করে আবার খোলে লাভা দৃষ্টি ফেলে ক্রোধে ফেটে পড়ে রোজের গলাটা চেপে ধরলো।
-“রিয়েলি?আমি কে হই তোর?.. ভাতার লাগি তোর ভাতার। এবার বল কি লাগি তোর “
রোজের গলাটা ছেড়ে তাকে নামিয়ে দিলো ইউভান।রোজ গলায় হাত রেখে চোখের কোণে জমে উঠা জল গড়িয়ে পড়তে না দিয়ে ঘৃণায় ব’লে উঠে,
-“ছিহ!কতোটা নোং’রা আপনি।মুখ দিয়ে যা বের হয় তা বলে দেন।অমানুষ একটা।কি বললেন ভাতার..আরেেএ আপনার মতো একটা শয়তানের ভাতার কেন আপনার মে’ইড বলে পরিচয় দিতেও আমার ঘৃণা হয়।? “
-আচ্ছা?এর জন্যই তো তোর যোগ্যতা ঠিক যতটুকু তোর স্থানও সেখানেই। You fu*king deserve this!”
ইউভান রোজের ঠোঁটে হাত রেখে রোজের লিপ মুছতে লাগলো।রোজ দু’হাত দিয়ে ইউভানের হাত ধরে ব’লে,
“-ছাড়ুন বলছি “
-“মুছ…মুছিবি না, ওকে ফাইন পার্মানেন্ট সলিউশন রিক খুব ভালো করেই জানে”
ইউভান রোজের চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে ঠোঁট ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। জিভ দিয়ে রোজের ঠোঁটের লিপটিন্ট মুছতে শুরু করে। রোজ মৃদু গোঙিয়ে উঠে ইউভানের পিঠে আঘাত করতে থাকে। ইউভান রোজের হাত চেপে ধরে চু’মুর রেশ্ বাড়াতেই লিফট পয়তাল্লিশ তলার ফ্লোরে এসে ডোর ওপেন হয়ে যায়।ইউভান রোজের কাছ থেকে আলগা হয়ে বিরক্তভঙ্গিতে ডোর আবার বন্ধ করতে যাবে তার আগেই রোজ ইউভানকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যায়।মানুষের ভিড়ে ঢুকে পড়ে।নিজের ব্যাগে হাত রেখে টিস্যু বের করে চোখের কোণে জমে উঠা জল মুছতে থাকে। এদিকে ইউভানের পায়ের র’ক্ত তিড়তিড় করে মাথায় উঠে পড়ে।ভেতরের ক্রোধকে সংযত করে কোর্টের কলারটা ঠিক করে বেরিয়ে আসে।
রাতের প্রথম প্রহর।পুরো একটা রয়াল পার্টি ইভেন্ট শুরু হতেই স্লো মিউজিকের সুর ভেসে আসে। রয়াল বিজনেস ম্যান্স তাদের পার্টনারা একেএকে প্রবেশ করতে থাকে। সবার বেশ্ভুষাকে আভিজাত্যর সংমিশ্রণ মেশানো।পার্টিতে বড়বড় লোকজনদের ছড়াছড়ি।বাতাসে ককটেলর ঘ্রান ভেসে আসে।পাশের লাউঞ্জে বিজনেসর মূল ইভেন্ট শুরু হলেও রোজ সেদিকে গেলো না।নিরিবিলি এসে চুপচাপ পার্টির বার কাউন্টারের কাছে এসে দাঁড়িয়ে রইলো।মোনা লিসাকেও কোথায় খুঁজে পায় নি আর।চারদিকে সব অজানা মুখ।বিদেশি মানুষজন।রোজের ভিতরটা অজানা আতঙ্কে কুঁকড়ে উঠছে বারবার।হঠাৎ রোজের চোখ পড়ে রাহা কোথা থেকে যেনো দৌড়ে এসে একটা লোকের কোলে এসে পড়লো।লোকটা রাহার হাঁটুর কোণে হাত রেখে তাকে সজরে ঘুড়িয়ে দেয়।দুজন দু’জনকে আলিঙ্গন করে কি’স করে বসে।এমন দৃশ্য রোজের চোখে পড়তে রোজের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক বুঝতে বাকি রইলো না।হয়তোবা এই লোকটার সাথে রাহার সম্পর্ক আছে।হঠাৎ পুরো বার কাউন্টারের পাশে ডান্স ফ্লোরের লাইট অফ হয়ে গিয়ে মিউজিক লাইট জ্বলে উঠে।রাহা তার পাশে থাকা পুরুষ নিকোলাসের হাত জরিয়ে ধরে স্টেজে উঠে পড়ে।রাহা কানে এয়ারপিস লাগিয়ে প্রউৎফুল্লো স্বরে ব’লে উঠে,
-“Ladies and gentlemen it’s time for the couple dance!”
নিকোলাস রাহাকে হা’গ করে গালে চু’মু খেয়ে ব’লে,
All couples, take the floor, let’s celebrate tonight with elegance and rhythm!”
ইউভান অনিচ্ছা শর্তেও নিজের দাদির কথা মান্যে করার তাগিদে চুক্তিনামায় শেষ সাইন করে দেয়।ভিতরের দানব রূপটা হানা দিতে থাকে। সোফায় বসে নিজের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ষাঁড়ের মতো ফুঁফাতে থাকে।হাতে থাকা হুইস্কির গ্লাসটা এক চুমুকে মুখে পুড়ে খেয়ে নেয়।পরপর পাঁচ ছয় গ্লাস শেষ করার পর শেষের গ্লাসটা দামিয়ান টান মেরে নিয়ে নেয়।হাঁপ ছেড়ে মাথা নাড়ায়।
-“Enough, rick…আর কতো।”
তুষার, দামিয়ান ইউভানের পাশেই বসে আছে।ইউভানের রাগের কারণটা অস্বাভাবিক কিছু না।নিজের জাত শত্রুর সাথে কে বা হঠাৎ করে ডিল করে।মিসেস এ্যাশ নিজের অসুস্থতা সুযোগটা নিয়েই ইউভানকে দিয়ে আদ্রিয়ান শাহ এর সাথে চুক্তি করে বসলেন।অবশ্য এতে তাদের লাভ আছে।তবে ইউভান লাভ লসের হিসেবে রাখে না।আদ্রিয়ানের মুখদর্শন করতে হবে এখন থেকে ভাবলেও ইউভানের ভিতরটা দাবানলে জ্বলে উঠে। মাথাটাতে আগুন জ্বলে উঠছে। তুষারের দিকে তাকিয়ে ব’লে বসে,
-“তুষার আই নিড আইস ব্যাগ…মাথাটা জ্বলে যাচ্ছে”
তুষার আর দামিয়ান একে অপরের দিকে তাকিয়ে একস্বরে ব’লে উঠে,
“-আইস ব্যাগ?এখানে আই’স ব্যাগ কই পাবো রিক।ওহহহ গড”
আচমকা হাই’হিল ঠকঠক শব্দে এক বোল্ড ড্রেস পরিহিতা রমণী ইউভানের গলা জড়িয়ে ধরে পিছন থেকে। ইউভান চোয়াল শক্ত করে হাত এক ঝটকায় সরিয়ে চিল্লিয়ে উঠে,
“-How Dare you! নষ্ট হাতে আমাকে টাচ্ করার সাহস কই পেলি লাড়া।”
-“রিক!এভাবে কেন বলছিস।কাপল ডান্স স্টার্ট হবে এখুনি।আমার পার্টনার হ বেবি।”
-“নষ্টামি বাদ দে।দামিয়ান বা তুষারকে নিয়ে যা।আমার মাথা এমনিতেই গরম,শুট করে দিতে পারি।গেট লস্ট।ফাকিং Bitches”
লাড়া দামিয়ান আর তুষারকে চোখ দিয়ে ইশারা করে ইউভানকে ডান্স ফ্লোরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে।তিনজনে মিলে ইউভানকে কোনোভাবে রাজি করিয়ে নিয়ে আসে ঠিকি ইউভান বিরক্ত হয়ে বার কাউন্টারের দিকে যাবে সেই মুহূর্তে রোজকে সেখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইউভান ভ্রু উঁচিয়ে ঘাড় এপাশ ওপাশ করে ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসির রেখা টেনে লাড়ার কোমোড় জড়িয়ে ধরে ব’লে উঠে,
-“কাম অন একদিন তো নাচাই যায়।লে’টস গো”
যেহেতু বার কাউন্টারের সোজাসুজি ডান্স ফ্লোর প্রত্যকটা কাপল একে একে মিউজিকের তালে তালে নাচ শুরু করে।কাপল ব’ল ডান্স। ইউভানের সাথে লাড়াকে ডান্স করতে রোজ দেখে নেয়।রোজ ঘৃণায় নাক ছিটকালো। তার কাছে জলের মতো স্বচ্ছ হওয়ার কিছু ছিলোনা।লাড়ার সাথে ইউভানের যে সম্পর্ক থাকবে।তারা যে বন্ধুর থেকেও বেশি কিছু তা রোজ বাংলাদেশে বুঝে ছিলো।তাতে রোজের কিছু যায় আসে না।লোকটা যে এক কথায় দানবীয় কাপুরষ তা রোজের আর বুঝতে বাকি রইলো না।এদিকে ইউভান যা চাইলো তা হলো।ইউভানের নাচ লাড়ার সাথে নাচ করছিলো ঠিকি তবে মনোযোগ সম্পূর্ণ রোজের দিকে ছিলো।তাকে অন্যে পরনারীর সাথে দেখলে রোজ কতটা ভিতর থেকে পুড়বে তাই দেখতে চাইলো ইউভান।কিন্তু রোজ মুখ ফিরিয়ে নিলো।বার কাউন্টার শেষ প্রান্তে চলে এলো।রেজের সব কিছু এখন বিরক্ত লাগছে।কেমন অশান্তি ভালো লাগছে না।চোখের কোণে অনমনে জল জমে উঠেছে নিজের জীবনের করুণ পরিনতির কথা ভেবে।হঠাৎ পাশ থেকে একটা মাতাল বিদেশি লোক এসে রোজের সামনে দাঁড়ায় হাতে দুইটা রেড ওয়াইনের গ্লাস।লোকটার গাঁ থেকে মদের বিদঘুটে গন্ধ তার উপরে তার চাহনি ঠিক মনে হলো না রোজের কাছে রোজ গ্রাউন সামলে এক পা পিছালো লোকটা আরও এগিয়ে রোজকে এক গ্লাস ওয়াইন অফার করলো।
-“হেই বিউটিফুল।আই অ্যাম কার্জন।Take it”
রোজ বিরক্তি ভরা কন্ঠে ব’লে,
“-No thanks! আমি ড্রিংকস্ করিনা।প্লিজ গো।”
-“হুআই সুইটহার্ট। রুমে চলো।একসাথে খাবো।ভালো লাগবে।”
লোকটার এমন বিশ্রি কুপ্রস্তাবে রোজের গাঁ গুলিয়ে উঠলো।দাঁতে দাঁত পিষে কার্জনের হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে পুরো ওয়াইন অসভ্য কার্জন লোকটার মুখের উপর ছুড়ে মারলো।ততক্ষণাৎ কার্জন রেগে মুখ থেকে বিশ্রি ভাষা উচ্চারণ করে রোজের গালে চড় মারতে উদ্ধৃত হয়,
“You bi’tch! Fucking a simple Whore girl”
কার্জন রোজের গালে চড় বসানোর আগে বিদ্যুৎতের গতিতে কেউ একজন কার্জনের হাতটা পিছন থেকে মুচড়িয়ে দেয়।এতোটাই শক্ত করে যে হাতের কব্জি ভেঙ্গে ততক্ষণাৎ হাড় মটমট শব্দ করে উঠে।কার্জন ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে পিছনে ফিরতেই দেখতে পায় আদ্রিয়ান তার হাতটা ধরে সপাটে নাক বড়াবড় ঘুষি মেরে দিতেই।নাক বেয়ে র’ক্ত ছিটকিয়ে মেঝেতে পড়ে।রোজ দম বন্ধ করে মুখ চেপে ধরে ফেলে। আদ্রিয়ান কার্জনের ঘাড় ধরে রোজের পায়ের কাছে এনে ফেলে হুঙ্কার স্বরে ব’লে,
-“স’রি বল।Say sorry to her!প্রানে বাঁচতে চাইলে স’রি বল।”
কার্জনের ঘাড়ে পাঁ চেপে ধরলো আদ্রিয়ান। কার্জন রোজের পাঁ ধরে গোঙিয়ে ব’লে উঠে,
“-অ্যাম সরি মিস্”
রোজ ভয়ে পিছিয়ে গিয়ে আদ্রিয়ানের কাছে অনুরোধ করে ছেড়ে দেয়ার জন্যে।আদ্রিয়ান ছেড়ে দেয়।রোজকে কাঁদতে দেখে বুক পকেট থেকে একটা সাদা মখমলে রুমাল বের করে রোজকে দিয়ে শীতল স্বরে বলে,
“-ভয় পাবার কোনো কারন নেই।চোখ টা মুছে ফেলো।সব চোখে যে অশ্রু মানায় না।”
রোজ আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলে,
“আ…আপনি। আপনি সে না।”
আদ্রিয়ান মৃদু হাসলে। পিছন থেকে একটা ওয়াইনের গ্লাস চুমুক দিয়ে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ালো।রোজের দিকে দৃষ্টি না ফেলে জবাব দিলো,
“-হুম।আদ্রিয়ান! যে তোমাকে বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর আসা থেকে বাচিঁয়ে ছিলাম।আজকেও।আই থিঙ্ক একটা থ্যাংঙ্কস ডিসার্ব করি আমি।”
-“ধন্যবাদ। -বলেই রোজ চলে যেতে নিলো।তবে আদ্রিয়ান রোজকে থামিয়ে ব’লে,
-“দাঁড়াও। আমি কি তোমাকে যেতে বলেছি? উপকারীর উপকার করতে হয় জানো না? ফিরিয়ে দাও”
-“মানে। আপনি কি বুঝাতে চাইছেন।”
আদ্রিয়ান রোজের দিকে কিছুটা ঝুঁকে আবার স্বরে এলো।
-“সিম্পল সামনে দেখো সবাই কাপল ডান্স করছে।একমাত্র তুমি আর আমি ছাড়া।আমারও পার্টনার নেই।তোমারও নেই।উপকার ফিরত হিসেবে না-হয় এক মূহুর্তের জন্যে আমার ডান্স পার্টনার হয়ে যাও।”
রোজ ভরকে উঠলো।কি আজব লোক রে বাবা।উপকার করেছে ভালো কথা আবার ফিরতও চাইছে। উফ! এমন উপকার করতে কে বলেছে তাকে।রোজ তো একবারো ব’লে নি।রোজ কেটে পড়ার ভঙ্গিতে ব’লে,
“-সরি।আমি একদমি ডান্স পারি না।অ্যাম একচুয়েলি সরি।”
আদ্রিয়ান ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে হাসলো।ওয়াইনের গ্লাসে আবার চুমুক দিয়ে দিয়ে ব’লে উঠে,
-“তোমাকে দেখতে তো মিথ্যাবাদী মনে হয় না রোজ।মিথ্যা বলছো।তুমি যে ডান্স লাভার সেটা তোমার ইন্টাগ্রাম প্রোফাইলে ঢুকলেই বোঝা যায়।বেশ্ ফ্যান ফলোয়ারও আছে তোমার।দ্যাট’স গুড।ডান্স না পারলে সপ্তাহে একদিন ডান্স ক্লাবে গিয়ে কি মুড়ি ভিজিয়ে খেতে নাকি।”
আদ্রিয়ান রোজের দিকে দৃষ্টি ফেললো।রোজ আঁতকে উঠে আদ্রিয়ানের দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে ব’লে,
“-আরেএএ এভাবে কেনো তাকিয়ে আছো।ছয়শটা রোজ আইডি ঘুড়ে ঘুড়ে তোমারটা খুঁজে পেয়েছি। “
আদ্রিয়ানের শেষ কথাটুকু রোজের কানে পৌঁছোলো কি-না কে জানে তবে রোজ ভয়ে কুঁকড়ে উঠলো।রোজ তো পনেরোদিন আগে তার আইডি ডিক্টি’ভেটেড করে দিয়েছিলো।আইডি ওপেন হলো কি করে।আইডি ওপেন না হলে তো ইনি আইডি পাওয়ার কথা না।আইডি কি হ্যাক হলো নাকি।ওহহহ গড।রোজের আইডি পাস তো তিশাও জানে না।তবে।এক্টিভ কে করলো।এ-সব ভাবনায় পড়ে রোজ ভিতর থেকে কুঁকড়ে যাচ্ছিলো।মাথাটা টান করে ব্যথা শুরু হয়ে যায়।রোজকে অন্যমনস্ক দেখে আদ্রিয়ান হাত দিয়ে তুঁড়ি বাজিয়ে রোজকে হুসে আনে।রোজ ঠোঁট কামড়িয়ে আদ্রিয়ানকে ব’লে উঠে,
“-একটু দেখাবেন আমার আইডিটা।”
-“তোমার ফোন কই।”
-“ফোন নেই”
আদ্রিয়ান আশ্চর্য হয়ে ভ্রু উঁচিয়ে রোজের দিকে হাত বাড়ালো।
“-ওকে। চলো ডান্স ফ্লোরে।Senorita “
রোজ দাঁত দিয়ে অঁধর চেপে ধরে কিছুক্ষণ ঠাঁই হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।মস্তিষ্কের বারবার তার আইডির কথা মাথা আসছিলো।না চাইতেও আদ্রিয়ানের হাতটা ধরলো। গ্রাউন সামলে ডান্স ফ্লোরে পাঁ বাড়ালো।একদম মাঝবরাবর।হঠাৎ লাইটিং টা তাদের মুখের উপর এসে পড়লো।আদ্রিয়ান রোজের হাত নিজের কাঁধে রাখতেই রোজ আদ্রিয়ানের শান্ত চাইনিতে দৃষ্টি ফেললো।স্টেজ থাকা রাহা , নিকোলাস হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে তালে তাল মিলিয়ে সফট্ মিউজিকে স্বর মিলাচ্ছে,
Sapphire Moonlight
We danced for hours in the sand
Tecuila sunrise
Her body fit right in my hands
La -la -la
Its feel like ooh la-la-a yeah
I love it when you call me
Senorita
বার কাউন্টারের পশ্চিম পাশের থেকে একটা পুরুষালীর হাসির স্বর ভেসে এলো।যার মাঝে ছিলো পৈশাচিক উৎফুল্লতা। ইউভানের চোখে খেলে গেলো প্রতিহিংসার দাবানল। ভিতরের শয়তানি দাববটাকে যেনো কেউ ছিন্নভিন্ন করে জাগিয়ে তোললো।রণক্ষেত্রের ন্যায় গর্জে পাশের ওয়েটারের মাথায় ওয়াইনের গ্লাসটা ছুঁড়ে মারলো।লোকটা মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।মাথা বেয়ে রক্ত ঝড়ছে অনবরত। ইউভানের হাতেও ঢুকে গ্লাসের কিছু অংশ ঢুকে গিয়েছে।হাত বেয়ে যে অনবরত র’ক্ত শিখা ঝড়ে পড়ছে ফ্লোরে তাতে বিন্দু পড়িমান নজর না বুলিয়ে ইউভান প্রতিশোধস্পৃহা হয়ে বড়বড় পা ফেলে রোজ আর আদ্রিয়ানের সোজাসোজি লেদার সোফায় গিয়ে বসে পড়লো পায়ের উপর পা তুলে।হাতে একটা চকচকে ধারালো ছুঁড়ি। আদ্রিয়ান রোজের কোমড় ধরে তাকে মিউজিকের তালে ঘুড়িয়ে নিজের দিকে টেনে আনে।রোজ ঘাড় নিচু করে প্রতিটা মুভমেন্ট নিখুঁত ভাবে ফেলতে থাকে আদ্রিয়ানের শরীর থেকে ভেসেআসা মিষ্টি সুবাস রোজের স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ সরে যেতে নিলে আদ্রিয়ান তর্জনী ধরে তাকে ঘুড়াতে থাকে।।কার্জনকে রোজের কাছে আসতে দেখে ইউভান ততক্ষনাৎ সেদিকে যাওয়ার আগে আচমকা ভারী পাঁ থামিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়েছিলো।সব কিছু শকুন দৃষ্টি ফেলে অভজার্ভ করছিলো।ইউভান শরীর টানা দিয়ে ঝুকলো।পুরো ডান্স ফ্লোর অন্ধকার শুধু মাঝে লাইট।অন্ধকারে ইউভানের র’ক্ত লেলিহান ধূসর চোখজোড়া স্পষ্ট ভেসে উঠে।ইউভান এক দৃষ্টি দিয়ে রোজকেই দেখতে লাগলো।ওয়াইনের গ্লাসের সাথে ছুড়ি ধরা হাতে তালি বাজালো।ওয়াইনের গ্লাস সামনের দিকে তাক করে মুখে পুড়ে নিলো।শেষ বারের মতো সুঠাম শরীরটা টানা দিয়ে হাতের ছুঁড়িটা নিশানা লাগালো এক চোখ বন্ধ করে, একদম রোজ, আদ্রিয়ানের মাঝবরাবর বজ্রাঘাতের মতো ছুড়লো তাঁদের দিকে একবারে সোজা।ছুঁড়িটা ধনুকের ন্যায় আদ্রিয়ানের গাল হালকা স্পর্শ করে সোজা অপরপ্রান্তে থাকা ,
কার্জনের গলার ভিতর ডুকে পড়লো।ছুঁড়িটা গলার ভিতর ভেদ করে অপর প্রান্তে দেয়ালে গেঁথে যেতেই ইউভান উঠে দাঁড়ালো……
.
.
.
.
.
[পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করবেন ]
[৩২০০++শব্দ সংখ্যা। তাও কাহিনী শেষ করতে পারলাম না🙂।আজকে সবার গঠনমূলক কমেন্ট চাই।
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ২৪
-
Love or hate পর্ব ৩
-
Love or hate পর্ব ২
-
Love or hate পর্ব ৪
-
Love or hate পর্ব ২০
-
Love or hate পর্ব ১১
-
Love or hate পর্ব ২৬
-
Love or Hate পর্ব ২৭
-
Love or hate পর্ব ১৯
-
Love or hate গল্পের লিংক