Love_or_Hate
ইভেলিনা_তূর্জ
পর্ব_১০
[🚫কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ]
[🚫প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্তমনস্কদের জন্যে]
ইউভান নাইটসুট খুলে হিংস্র হয়ে ওষ্ঠের লড়াইয়ে নামতেই ডোরে কারোর ধাক্কার শব্দ ভেসে আসে।ইউভানের কানে যেনো এই মূহুর্তে পৃথিবীর সকল প্রকার প্রতিধ্বনি হওয়া ভুলে গিয়েছে।রোজ দম বন্ধ হয়ে আসছে। ইউভানের পিঠে নখ বসিয়ে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও সরাতে পারছে না
ইউভানের সুঠাম দেহটা রোজের উপর ভার ছেড়ে দিতেই আরেকটু জোরে দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ হতেই রোজ বালিশ থেকে মাথা নামিয়ে ইউভানকে ধাক্কা মেরে কেঁদে উঠে। যন্ত্রণা আর ভয়ার্ত দৃষ্টি সংমিশ্রণ করো বড় বড় শ্বাস টেনে উঠে বসে বলে,
“ক..কলঙ্কের দাগ তো লাগিয়েছেন, এখন বাকি আছে দুনিয়ায় সকলের কাছে তা তুলে ধরা।কেনো এসেছেন, একটা মে’ইডের রুমে এতো রাতে।কি জবাব দিবো আমি বলতে পারেন ?”
রোজের শ্বাস ভারি হয়ে আসছে।কথা গুলো গলায় আটকে আটকে আসছে। ইউভান
ভাবলেশহীনভাবে বেডের উপর গাঁ ছেড়ে শুয়ে পড়তেই রোজের কথাগুলো তার মেজাজ মূহুর্তেই বিগ্রে দিলো।ঘাড় কাত করে রোজের দিকে অগ্নিভরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। রোজ গুটিসুটি মেরে সাদা মখমলে লেপ দিয়ে পুরো শরীর মুড়িয়ে নেয়।রোজের শরীরটা শীতে তীর করে কেঁপে কেঁপে উঠছে।আর ইউভানের শরীর ঘেমে বেডে লেপ্টে আছে। ইউভান নিজের গলায় থাকা সিলভার চেইনটাতে আঙুল ঘুড়িয়ে আরেক হাতে রোজকে টেনে নিজের বুকের উপর ফেলে ভ্রু কুচকিয়ে রোজের পুরো শরীর স্কেন করতে করতে ব’লে,
“নিজেকে কি মনে করিস? তোর মতো একশোটাকে বেডে এনে শুয়ানো ক্ষমতা রাখি আমি। ফ্রিতে এতো হ’ট হাসবেন্ড পেয়েও এতো নাটক।যাস্ট টু মাচ্”
“দুনিয়াতে একিরকম দেখতে যদি সাতজন মানুষ থাকে,তাহলে আপনার মতো শয়তানের বাকি ছয় জনের উপরেও আমার লালত”
রোজের ঘাড়ে ওষ্ঠারাঘাতের ক্ষত চিহ্নতে আঙুল ঠেকিয়ে ইউভান চোয়াল শক্ত করে নাকের পাটা ফুলিয়ে শয়তানি হাসি দিয়েই রোজের ঠোঁটে জোরপূর্বক ওষ্ঠাধর মিলিয়ে দেয়।ইউভান পুরোপুরি হিংস্রাত্তক হয়ে রোজের ঘাড়ের চুল টেনে ধরতেই রোজ ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে। মুখখানা নীলবর্ণ ধারণ করে ফেলেছে।একনাগাড়ে দরজায় ঠকঠক শব্দ ইউভান চোয়াল শক্ত করে রোজের গলা চেপে ধরে রোজকে বিছানায় সপাটে ফেলে দেয়।রোজ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। শরীরের হাড়গুলো যেনো ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাবে।ইউভান বেড ছেড়ে উঠে উ’ন্মুক্ত বুকে দরজার পাসওয়ার্ড চেপে ধরে ডোর ওপেন করে দাঁড়ায়। রোজের রুমে হঠাৎ এভাবে ইউভানকে দেখে লিসা আতঙ্কে মাথা নিচু করে পিছিয়ে যায়।দুঃস্বপ্ন দেখার মতো নিজের হাতো চিমটি মেরে ভয়ে ভয়ে ইউভানের দিকে তাকায়। সে কি ঠিক দেখছে।রিক চৌধুরী তাও আবার এতো রাতে রোজের বেড রুমে,এদের মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক আছে তা লিসার মাথায় বিচলন করতে থাকে। তবে পুরুষালীর হাস্কি স্বরে ধ্যান বিঘ্ন ঘটে,ইউভান হাতের তালু দিয়ে ঠোঁট মুছে বিরক্তিভরা কন্ঠে বলে উঠে,
“ইউ ডিড’নট সি এনিথিং,কথাটা ভালো করে মাথায় গেঁথে নাও।
লিসা মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়ার আগেই ইউভান রুম থেকে বেরিয়ে যায়।লিসা রোজের জন্যে ড্রেস নিয়ে এসেছে,তবে এসে এরূপ ঘটনা কল্পনার বাহিরে।ইউভানকে যেতে দেখে কয়েকবার ভেবে নিলো রুমে প্রবেশ করবো কি না তবে ভিতর থেকে কান্নারত শব্দ ভেসে আসতে দেখে একটুও না ভেবে ভিতরে প্রবেশ করে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে উঠে লিসার। সে যা ভেবেছিলো তা তো পুরো উল্টো ঘটনা।লিভিংয়ে থাকা তাদের কালচারে নরমাল ইস্যুে হলেও বাহিরের আবহাওয়ার সাথে ভিতরের কোনো মিল খুঁজে পেলো না।রোজ তো বালিশে মুখ গুজে লেপ মুড়িয়ে কেঁদে চলেছে। তাহলে কি রিক স্যার মেয়েটার সাথে জোরপূর্বক নাইট স্পেন্ড করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি তো এমন না।এ ব্যাপার যদি মিসেস এ্যাশের কানে যায় তিনি আবার হার্ট অ্যাটাক করবেন।এই নিয়ে দু’বারের হার্ট অ্যাটাকের রোগী তিনি।লিসা শিউরে ওঠে গিয়ে বেডে ধপ্ করে বসে পড়লো।মায়া ভরা দৃষ্টি ফেলে ব’লে,
“তোমার জন্যে ড্রেস নিয়ে এসেছিলাম পড়ে নাও।”
মূহুর্তেই রোজ লিসার কোলের উপর মাথা গুজে কুঁকড়ে উঠলো। জোরে জোরে কেঁদে উঠে। আশান্তি লাগছে রোজের। শান্তি দরকার। শরীরে যেনো আগুন জ্বলে উঠছে।লিসা সবটা বুঝতে পারলো না।কোনো কিছু মাথায় ঢুকছে না তার।মোনা লিসা দুই বোন। লিসা তেইশ বছরের ডাস্কি টোনের রমণী,মোনা তার এক বছরের বড়।প্রায় ছয় বছর যাবৎ তারা এ ম্যানশনের মে’ইড।তাদের মম্ ছিলেন একসময় তবে তার মৃত্যুের পর তারাই ম্যানশনের যাবতীয় সকল কাজ করে।মিসেস এ্যাশ তাদের নিজেদের পরিবারের অংশই মনে করে বিশ্বাস ভরসা করেন।লিসা একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে রোজের চুলে হাত বুলিয়ে শান্ত করতে থাকে। লিসার হাতের স্পর্শে রোজ নিঃশ্বাস ভারী করে নাক টেনে টেনে সুধায়,
“স..সময়ের সাথে সাথে আমরা সব কিছু মেনে নি ঠিকি, তবে জোরপূর্বক কোনো কিছু মেনে নেয়া যে কতটা যন্ত্রণার তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ জানে না।”
“আমায় একটু ঘুম পাড়িয়ে দিবে।অনেক দিন ঘুমাতে পারি না রাতে।একটু এভাবেই হাত বুলিয়ে দাও মাথায় ভালো লাগছে।”
লিসা মৃদু হেসে বেডের পাশ থেকে একটা মুভ মেডিসিন রোজের কপালে দিয়ে ম্যাসেজ্ করে দিতে থাকলো।
__
তিমিরে ঢাকা রাত। রাতের প্রায় শেষ প্রহর। শহরের রাস্তাগুলোতে মৃদু বাতি জ্বলা শুনশান নিঃস্তব্ধতার চারপাশ।আলবার্ট ম্যানশনের ভিতরটাও গুটগুটে অন্ধকার। শুধু সদর দরজা থেকে মেইন গেইট পর্যন্ত গোল্ডেনবাতির আলো ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তায়।একটা লাল অডি এসে থামে। গাড়ি থেকে একজন ড্যানিশ রমণী বের হয় হাই হিলে।হাঁটু পর্যন্ত পাঁ উ’ন্মুক্ত। গায়ে সিল্কের স্লিভ’লেস বডিকন ড্রেস।সোনালী চুলের অধিকারী রমণীর এক প্রকার ঢুলতে ঢুলতে গাঁ ছাড়া ভাব নিয়ে ম্যানশনে প্রবেশ করে।এতোটাই নেশা করেছে যে হিল বেঁকে বারবার পড়ে যাওয়ার উপক্রম। অতিমাত্রায় নেশা করে হাঁটতেও পাড়ছে না ঠিক মতো। বিরক্তি ভঙ্গিমায় হিল গুলো খুলে হাত নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। এক পাঁ ফেলে তো আরেক পাঁ পিছলিয়ে যায়।নাটকীয় ভঙ্গিমায় শেষের সিঁড়িতে পাঁ ফেলে উল্টিয়ে পড়ার আগে একটা শক্তপোক্ত হাত ধরে টেনে আনতেই হুমড়ি খেয়ে ফ্লোরে কারোর বুকের উপর পড়ে যায়। ফ্লোরে পড়েই তুষার কিঞ্চিৎ রাগে নিচু স্বরে ব’লে,
“What the hell is this! রাহাহহহহহহ।”
তুষার এতোক্ষণ ইউভানের রুমেই ছিলো।বাড়িতে যাওয়া হয়নি আর, ইউভান বলেছিলো থেকে যেতে কাজ আছে।বেশ্ থেকে গেলো।গেস্ট রুমে ঘুমাচ্ছিলো আর মাঝরাতে ইউভানের কল পেয়ে তার রুমে এসে মাত্রই বের হলো।আর ছন্নছাড়া রাহাকে মাতলামো করতে করতে সিঁড়ি থেকে পড়ে নাক ফাটানো থেকে বাচিঁয়ে নিলো।তবে এখন হিতে বিপরীত, নিজের সুঠাম দেহের নাজেহাল অবস্থা। রাহা নিভু নিভু চোখে তুষারের দিকে দৃষ্টি ফেলে ব’লে,
“আরেএএএ তুষার তাইওয়ান।ক্যায়া হা’ল চা’ল হে!ভুতের মতো ঘুরঘুর কেন করছেন”
“যাস্ট সাট আপ! কতোবার বলেছি আমি তোমার থেকে অনেক বড়।রেস্পেক্ট দিয়ে কথা বলবে।”
“রেস্পেক্ট মাই ফুট”-ভার সামলাতে না পেরে রাহা আরও ঢলে পড়লো তুষারের বুকের উপর। তুষার এক আঙুল রাহার বুকে ঠেকিয়ে তাকে নিজের থেকে সরিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে।মানে একে তো দু তিনদিন পড় বাড়ি ফিরেছে আবার একগাঁদা ম’দ খেয়ে এসেছে।তুষার রাহার এমন বেহাল অবস্থা দেখে কিছুটা বিরক্ত হলো।এ যদি ইউভানের না হয়ে তার বোন হতো সপাটে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দিতো গালে।শুধু বন্ধুর বোন বলে বেঁচে গেলো।রাহা গালে হাত দিয়ে সেখানে বসে রইলো রুম অব্দি যাওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে বসে আছে।বসে থাকতেও খুব কষ্ট হচ্ছে। ফেলফেল নয়নে তুষারের দিকে দৃষ্টি ফেলে। তুষার ভ্রু কুচকিয়ে ব’লে উঠে,
“হুয়াট?”
“ইয়ে মানে আমাকে একটু আমার রুম অব্দি দিয়ে আসবেন,প্লিজ।”
“পারবো না।”
“প্লিজ! “
“মহামুশকিল তো।”-তুষার রাহার দিকে এগিয়েই রাহার হাত নিজের কাঁধে রেখে রাহার কোমড় জড়িয়ে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে হাঁটতে শুরু করে। রাহা মাতলামো করতে করতে ঠোঁট উল্টিয়ে ব’লে,
“আপনার মা কি শিখায়নি কোলে উঠানো।”
“স্টুপিড গার্ল।মাকে মাঝেখানে আনবে না”
রাহা তুষারের টিশার্টের হাতা কিঞ্চিৎ উপরে উঠিয়ে তুষারের মাসে’লস্ এ হাত রেখে দুষ্টু হেসে ব’লে,
“আহা।জিম্ করে করে বডি টাকে তো গন্ডারের চামড়া বানিয়ে ফেলেছেন”
“ইউ আর টু মাচ্ পেইনফুল রাহা।এতো কথা কেনো বলো।”
রাহার আবলতাবল কথাগুলোতে বিরক্ত হয়ে তুষার তাড়াহুড়ো করে রাহাকে তার বেড রুমের কাছে নিয়ে এসে ভিতরে ঢুকিয়ে ডোর আটকে দেয়।ঠোঁট গোল করে শ্বাস ছেড়ে দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে শুকনো ঢুক গিলে নেয়।
নভেম্বর রেইন নাকি শীত নামায়।তবে ডেনমার্কে তো এমনিতেই কনকনে ঠান্ডা নেমে পড়েছে।রাত হলে তো তুষারপাতেরও দেখা মেলে।আবহাওয়া আফিস থেকে জানা গিয়েছে কয়েকদিন তুমোল বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা। সকাল প্রায় এগারো তবে দেখে মনে হচ্ছে সন্ধ্য।আকাশে ঘন কালো মেঘে ছেয়ে আছে।প্রচন্ড ঝড় আবহাওয়া। উত্তরে ঠান্ডা বাতাস বয়ে চলছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয় রোজ।পড়নে টপ আর স্কার্ট।চুল গুলো অ্যাভোকাডো শ্যাপের একটা রাবার ব্যান্ট দিয়ে পোনিটেল করে বেঁধে গলায় লাল রঙের একটা স্কার্ফ পেঁচিয়ে নিয়েছে।রোজের স্কিন টোনের সাথে যেনো লাল রঙ টা বেশ্ মানায়।কতোটা স্নিগ্ধ কোমল দেখায় তাকে।আলবার্ট ম্যানশন এর একটা রুমের সমান ম্যানশনের কিচেন টা।
মোনা, লিসা সকালের ব্রেকফাস্ট বানাতে ব্যাস্থ।কারোর কোনো সাড়া শব্দ নেই। কেউ উঠে নি ঘুম থেকে।রোজ এক মনে তাকিয়ে রান্না করা দেখতে থাকে।জোরপূর্বক কিছুটা হাসার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। তবে তা মনে হয় বেশিক্ষণের জন্যে আর ঠাঁই হবে না।একটা পুরুষালীর তিব্র ঝাঁঝালো চিৎকার কানে আসতেই আঁতকে উঠে রোজ।তার নাম ধরেই অনবরত হাকঁ ডেকে যাচ্ছে ইউভান।
“রোজজজজজ!………..Where are you! ফা’কিং ব্লাডি রোজ।”
ব্লাক পোলো শার্ট আর ট্রাউজার পড়ে পকেটে দু’হাত গুটিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছে।রোজ ডাইনিং স্পেসে এসে ইউভানের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই ইউভানের প্রখর চাহনি যেনো নিমিষেই রোজকে গিলে ফেলতে সক্ষম। এক কথায় চোখ দিয়ে গিলে খেয়ে ফেলা।ইউভান রোজকে পাশ কাটিয়ে সোফায় বসেই রোজের হাত চেপে ধরে হেঁচকা টানে নিজের উরুর উপর বসিয়ে দেয়।রোজ উঠতে চাইলো তার দু’হাতের মাঝে শক্ত করে চেপে ধরে বসিয়ো দেয়।রোজ কাঁপা ঠোঁটে আশেপাশে তাকাতে থাকে কেউ আছে কি না।রোজের টপের গলা কিছুটা বড় হওয়ার ব’ক্ষ কিছুটা ভাসমান হওয়ায় সেদিকে দৃষ্টি পড়তেই ইউভান রোজের হাত ছেড়ে দেয়।জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে রোজের চিবুকে হাত দিয়ে মুখের কাছে এনে হাস্কি স্বরে বলে,
“বিউটি স্পষ্টের জন্যে কি জায়গার এতোই অভাব ছিলো? “
“শয়তান একটা।আপনি কি আমায় ছাড়বেন নাকি চিল্লাব? “
ইউভান ততক্ষণে চোয়াল শক্ত করে রক্তিম দৃষ্টি ফেলে রোজের গলা চেপে ধরে ফেলে। রোজের শ্বাস আটকে আসে।ইউভান দু’হাতে চেপে ধরতেই রোজ যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠে।ইউভান রোজকে ছটফট করতে দেখে তাচ্ছিল্যের হাসির রেখা টেনে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। রোজ গলা চেপে ধরে কাশত শুরু করে।মুখাবয়ব লাল হয়ে গিয়েছে। চোখের কোণে জল জমে উঠেছে। ইউভান পাগলের মতো নিজেই নিজের চুল টেনে ধরে গর্জে উঠে,
“তোকে মেরে ফেলেই মনে হয় আমি শান্তি পাবো।”
রোজ নিজেকে সামলিয়ে উঠে দাঁড়ায়।রোজের ভিতরে থাকা ক্ষোভের চিহ্ন বহিঃপ্রকাশ না ঘটানোর জন্যে দু-হাত চেপে কচলাতে শুরু করে।সোফার পাশে থাকা ল্যাম্পসিট টা হাত দিয়ে চেপে ধরে বসে আছে ইউভান।রোজকে চুপ চাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বুনো ষাঁড়ের মতো ফুফাতে শুরু করে ইউভান, রাগের বশিভূত হয়ে ল্যাম্পসিটটাই আছড়ে ফেলে মেঝেতে।রোজ কেঁপে উঠে হালকা সরে যেতে নিলে ল্যাম্পের ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো ছিটকে এসে রোজের পাঁয়ে লাগতেই।পাঁ এর কিছু অংশ কেটে র’ক্ত বেরিয়ে আসে।রোজ ব্যথায় উহ। শব্দ করে ফ্লোরে বসে পড়ে। ইউভান দাঁতে দাঁত পিষে রোজের হাত চেপে ধরে দাঁড় করিয়ে দেয়। রোজ কেঁদে উঠেছে দেখে ইউভানের মনে হালকা প্রশান্তি অনুভব হলে বাঁকা হেসে বলে,
“Espresso! বানিয়ে আন আমার জন্যে”
রোজ শুধু ইউভানের ভয়ানক মুখাবয়বের দিকে তাকিয়ে থাকে। একটা মানুষ ঠিক কতোটা নিষ্ঠুর হলে এমন আচরণ করতে পারে।হৃদয় বলে কি আধেও কিছু আছে এনার।থাকবেই না কিভাবে এ যে মানুষরূপি দানব।রোজ একবার নিজের পায়ের ক্ষত স্থানের দিকে তাকালো।ইউভানের পায়ের কাছে বসে পাঁ থেকে গড়িয়ে পড়া র’ক্ত কাঁপা হাতে মুছে তা ইউভানের পায়ে লাগিয়ে দেয়।রোজের আকস্মিক এমন করায় ইউভান কিঞ্চিৎ বিষম খেয়ে রোজের দিকে পুনরায় আদেশ ছুড়ে মারে।
“Espresso! খাবো আমি!হা’রি আপ!লেইট করলে শাস্তি পেতে হবে।আর হ্যাঁ অবশ্যই নিজের হাতে বানাবি।কোনো হেল্প নিবি না।”
রোজ হাতের তালু দিয়ে চোখের পানি মুছে। ঠোঁট কামড়িয়ে হাসলো।কিচেনে গিয়ে এস্প্রে’সো মেইক করার জন্যে যাবতীয় জিনিস খুঁজে লাগলো।রোজ তো পারে না বানাতে কিভাবে বানাবে।কখনো তো রান্না রুমেই যেতো না।রোজকে কেবিনেট খুলতে দেখে মোনা জিজ্ঞেস করে,
“কি খুঁজছো।”
“এস্প্রে’সো কিভাবে বানায়।”
“তুমি বানানো লাগবে না। সরো।আমি বানিয়ে দিবো।”
“আমাকে শিখিয়ে দাও।আমি তো চা ও বানাতে পারি না।কখনো বানাই নি তো পারি না।তবে দেখলে হয়ে যাবে।”
মোনা পুরো রেসিপি রোজকে বলতে লাগলো। রোজ ঠিক সেভাবেই এস্প্রে’সো বানাতে লাগলো।দু একবার ভুলবশত গরম কেটলি ধরে ফেলে নরম হাতখানা পুড়েও ফেলেছে।তাও ইউভানের কথা মতো তার জন্যে কফি বানিয়ে। ডাইনিং স্পেসে ইউভানের মুখের সামনে নিয়ে ধরলো।ইউভান নিজের কান থেকে এয়ার’পিস খুলে ভাবলেশহীন হয়ে রোজের দিকে দৃষ্টি ফেলে জিজ্ঞেস করে,
“তুই বানিয়েছিস”?
রোজ হ্যাঁসূচক শুধু মাথা নাড়ায়।শুকনো ঢুক গিলে মুখ ফিরিয়ে তাকিয়ে থাকে। ইউভান কফির কাপটা মুখে নিয়ে চুমুক বসিয়ে রোজের দিকে তাকায়। মূহুর্তেই পুড়ো কফি থু মেরে রোজের উপর ফেলে দেয় মুখ থেকে। রোজ ভরকে উঠতেই রোজের চোখের সামনে ইউভান পুরো কফিটা মেঝেতে ফেলতে থাকে। এতো কষ্ট করে জীবনের প্রথম নিজের হাতে বানানো কিছু ইউভান এভাবে ফেলে দিচ্ছে দেখে রোজের অধর কাঁপতে শুরু করে।ইউভান পুরোটা কফি ফেলে হিংস্র পশুর ন্যায় নিষ্ঠুর গলায় ব’লে,
“আবার বানিয়ে আন”
“ক..কি!”
“শুনতে পাস নি কি বলেছি।আবার বানিয়ে আন।গো নাও।”
“আপনি ফেললেন কেনো।না খেলে আমার টা আমায় দিয়ে দিতেন”
ইউভান ঘাড় কাত করে পুরো কফির কাপটাই মেঝেতে ফেলে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলো।তার মধ্যে বিন্দু পরিমাণ অনুশোচনার ছাপ নেই।উল্টো রোজকে আবার পাঠালো কফি বানিয়ে আনতে।রোজ নিরুপায়।কেমন যেনো নিজেকে পাথর মনে হয় তার। কি বা করবে।আর কি বা করার আছে।এই নিয়ে গুনে গুনে পাঁচবার ইউভানের জন্যে কফি বানিয়ে আনে রোজ। প্রত্যেকবার ইউভান রোজের বানানো কফি টেস্ট ভালো হয়নি বলে ফেলে দিয়েছে। রোজ আর পারছে না।তার শরীর যে বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।হাত টা ছিলে গিয়েছে। পুড়ে গিয়েছে। খুব যন্ত্রণা হচ্ছে।চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে।ইউভানের পায়ের কাছেই বসে পড়লো রোজ।কিন্তুু রোজের এমন করুণ মুখমণ্ডল দেখেও মায়া হলো না ইউভানের। তার নিষ্ঠুরতার চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছে,
“চললল।তোকে একটু শাস্তি দেয়া যাক।তামাশা হ’য়েছে অনেক।কাম উ’ইথ মি বেইবি।”
রোজের নিস্তেজ হয়ে পড়ে যাওয়া শরীরটা নেতিয়ে পড়ার আগেই ইউভান রোজকে শক্ত করে চেপে ধরে রোজকে টেনে টেনে সদর দরজার কাছে নিয়ে আসে।রোজ অশ্রুসিক্ত নয়নে ইউভানের দিকে দৃষ্টি ফেলতেই ইউভান রোজকে দরজার বাহিরে ধাক্কা মারে।ইউভান সাথে সাথে ডোর লক করে দেয় রোজকে বের করে।বাহিরে তুমোল বৃষ্টিপাত।ব্জ্রপাত।ঠান্ডা বাতাস রোজের গায়ে লাগতেই রোজের শরীর কেঁপে উঠে। প্রচন্ড শীত লাগছে তার।বৃষ্টির পানিতে পুরো শরীরটা ভিজে উঠেছে।মুখ বেয়ে গলা গেয়ে বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে।রোজ হাসলো। তার তো বৃষ্টি খুব প্রিয়। বৃষ্টিতে ভিজতে তো আগে কতোই না বাহানা বানাতো বাবার কাছে।তবে আজ এতো খারাপ লাগছে কেন।না। তার তো ভালো লাগার কথা। পড়নের স্কার্ফটা গলা থেকে টান দিয়ে খুলে ফেলে। নিথর শরীরটা পাথরের ন্যায় জমে উঠেছে। হাত পাঁ ঠান্ডায় জমে বরফ হওয়ার ন্যায়।রোজ কাঁদলো না।সামনের দিকে এগিয়ে গেলো।বুকটা এতো ভারী মনে হচ্ছে যে ভিতরের প্রানপাখিটা বের হতে ছটফট করছে।অচেনা শহরে আচেনা দেশে কোথায় বা যাবে সে যাওয়ার জায়গা নেই তাই হয়তো ইউভান তাকে বের করে দিয়েছে। শাস্তি দিলো।রোজ তো পালাতে পারবে না।যেতে পারবে না কোথাও।
মেইন গেইটের সামনে রাস্তার মাঝে এসে ধপ্ করে বসে পড়লো।রোজ মরে কেন যায় না।মরে গেলেও তো পারে।পুরো শরীর কাঁপতে থাকে তার।দু চোখ বন্ধ করে নিজের মৃত্যু কামনা করতে থাকে। একটু মৃদু হেসে ছোট্ট একটা পাথরের কণা হাতে নিয়ে রাস্তায় কি যেনো কি আঁকিবুঁকি করতে লাগলো।
“মাবুদ। শাস্তি দেয়া শেষ হলে আমায় একটু শান্তির মুখ দেখাইও।কেমন।”
হঠাৎ একটা কালো বি এম ডাব্লিউর হেড লাইট পড়ে রোজের উপর সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।গাড়িটা আচমকা তার সামনে এসে ব্রেক কষে ফেলে।ভিতরে থাকা একটা পুরুষালি শীতল কন্ঠ ভেসে আসে।
“কি হলো আবরার গাড়ি থামালে কেন? “
“বস্ সামনে একটা মেয়ে “
“একটা মেয়ে? “
“জানি না।রাস্তায় বসে আছে “
কালো ব্ল্যাকসুট পড়া লোকটা ঘার উঁচু করে রোজের দিকে তাকালো। সত্যিই তো এভাবে মাঝ রাস্তায় একটা নারী এভাবে বসে বৃষ্টির পানিতে ভিজছে।আবার হর্ণ বাজাচ্ছে তাও শুনতে পাচ্ছে না।বড় অদ্ভুত ঠেকলো।চোখের কালো সানগ্লাসটা খুলে গাড়ির ডোর ওপেন করে গাড়ি থেকে নেমে ছাতা মেলে ধরলো।সামনে এগিয়ে গেলো রোজের দিকে।ভ্রু কুঁচকিয়ে বলে উঠে,
“এই মেয়ে। এভাবে রাস্তায় বসে বৃষ্টিতে ভিজছো কেনো।”
রোজ থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে রোজের মাথার উপর ছাতাটা ধরলো।আবার নরম স্বরে ব’লে উঠে,
“কে তুমি”
রোজ এবার ভরা নয়নে লোকটার দিকে তাকালো।বৃষ্টির পানি পড়ছে না দেখে লোকটার দিকে তাকালো।রোজ তাকাতেই রোজের দিকে নিষ্পলক দৃষ্টি আরপ করতে রোজ তার গোলাপি ফুলা কাঁপা ঠোঁটে ব’লে উঠে,
“অভিশপ্ত নক্ষত্র চিনেন।চিনেন বিদীর্ণ? আপনি চিনেন কি আমায়।”
আদ্রিয়ান এক মূহুর্তের জন্যে এখানেই থমকে গেলো।এ কি কোনো মহাকাশ বিহীন নক্ষত্র।
না তো। আমি চিনি না তোমায়।কে তুমি?…….
.
.
.
.
.
(চলবে)
[ ২৭০০+ শব্দ সংখ্যা। ২k+ রিয়েক্ট যেনো পাই। পরবর্তী পর্ব পেতে অবশ্যই রেসপন্স করবেন। রেসপন্সের উপরভিত্তি করেই গল্পটা সামনে এগুবে।]
⛔হ্যাঁ বুঝতে পেরেছেন ইউভানই ভিলেন গল্পের🚩,।আবার ইউভানই মেইন লিড।আদ্রিয়ান সেকেন্ড লিড।তার গুরুত্ব অপরিসীম।
i love love Triangle ❤️🔥।আশা করছি আপনারাও এন’জয় করবেন।
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ২১
-
Love or hate পর্ব ৪
-
Love or hate পর্ব ১৫
-
Love or hate পর্ব ২২
-
Love or hate পর্ব ৬
-
Love or hate পর্ব ৭
-
Love or hate পর্ব ১২
-
love or hate পর্ব ১
-
Love or hate পর্ব ১৯
-
Love or hate পর্ব ৩