Golpo romantic golpo এক টুকরো মেঘ

এক টুকরো মেঘ পর্ব ৪


এক টুকরো মেঘ

পর্বঃ০৪

লেখনিতেসোনালিকাআইজা

⛔কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন।⛔


মেঘার ঘুমটা বরাবরই খুব গাঢ়। একবার ঘুমের দেশে পাড়ি জমালে, এই মেয়েকে আর ইহ জগতে খুঁজে পাওয়া যায় না। এই যেমন এই মুহুর্তে সে মারার মতো ঘুমিয়ে আছে। কানের কাছে প্রেম যে কারোর সাথে ফোনে কথা বলছে তাতেও মেয়েটার কোনো হেলদোল নেই। বরং সে আরেকটু আরাম করে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে খানিকটা সামনের দিকে সরে এলো। ঘুমের ঘোরেই প্রেমের বাড়িয়ে রাখা হাতটা টেনে নিজের মাথার নিচে নিয়ে নিলো। কিছু একটা খাওয়ার ভঙ্গিতে ঠোঁট দুটো নাড়ালো। যেনো অদৃশ্য কোনো খাবার মুখে নিয়ে চিবোচ্ছে। আঠারো বছর বয়সী একটা মেয়ের এমন ঘুমের ভঙ্গিমা দেখে কপালে কয়েকটা চিন্তার ভাজ পড়লো প্রেমের। বিরক্তিতে চ্ সূচক উচ্চারণ করে বিড়বিড় করলো,

–“এটা বড়ো হবে কবে?”

ঘুমন্ত মেঘার দিক থেকে কোনো জবাব এলো না। বরং ঘুমের ঘোরেই প্রেমের বাহুর দিকে আরও খানিকটা এগিয়ে এলো। অত্যাধিক কাছাকাছি আসায় মেঘার ঘন ঘন ছাড়া শ্বাস প্রশ্বাস শার্টের খোলা বোতাম ভেদ করে আছড়ে পড়লো প্রেমের বুকে। সময়টা হঠাৎ করেই থমকে গেলো যেনো। শুনশান বাড়িটা আরও বেশি স্তব্ধ হয়ে গেলো। প্রেমের স্বচ্ছ দুই চোখ জোড়া আচমকাই জ্বলে উঠলো। সে তড়িৎ গতিতে টান মেরে সরিয়ে নিলো হাতটা। এরপর সেকেন্ডের মধ্যে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ালো।

হঠাৎ মাথার নিচ থেকে আরামদায়ক বালিশটা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ায় ঘুমটা ছুটে গেলো মেঘার। সে অবুঝ নয়নে পিটপিট করে চাইলো। চোখের সামনে প্রেমের শক্ত মুখটা স্পষ্ট হতেই ঘুমটা পাখির মতো ফুড়ুৎ করে উড়ে গেলো মেঘার। সঙ্গে সঙ্গে তড়িঘড়ি করে উঠে বসলো। গায়ের জামাটা টেনেটুনে ঠিকঠাক করে নিলো। তবে কাঠকাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রেম নামক কঠোর মানবের, মেঘার এলোমেলো জামার ওপর বিন্দু মাত্র নজর নেই। বরং সে মেঘার চোখের দিকে কঠোর দৃষ্টিপাত করে বলল,

—“এখানে কেনো তুই?”

প্রেমের শক্ত মুখভঙ্গি দেখে থতমত খেয়ে গেলো মেঘা। ভয়ে পেটের ভেতর গুড়গুড় করে উঠলো। এই লোকটা আবার ছোটোবেলার মতো ঠাস ঠাস করে মারবে নাকি? এমনিতেই সিউলে কয়েকদিন ধরে তুষার বৃষ্টি হচ্ছে। তাপমাত্রা তুলনামূলক একটু বেশিই ঠান্ডা। এই ঠান্ডার মধ্যে শক্ত হাতের থাপ্পড় খেলে দাঁতগুলো সব খসে পড়ে যাবে নিশ্চিত। ব্যথায় বোধহয় জ্ঞানটাও ধরে রাখা সম্ভব হবে না। নিজের সুরক্ষার কথা ভেবে সবার আগে দুই হাতে নিজের গাল আড়াল করলো মেঘা। এরপর মিনমিন করে জবাব দিলো,

—“মামা রেখে গেছে।”

—“তো? রেখে গেলো আর তুই থেকে গেলি? এই এটা তোর মামার বাড়ি?”

—“না, তবে মামাতো ভাইয়ের বাড়ি।”

প্রেমের রাগটা হুট করেই কয়েক হাজার গুণ বেড়ে গেলো এবার। মেঘার কোনো একটা কথা যে প্রেমের পছন্দ হয়নি সেটা ওর মুখের ভাবভঙ্গিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। রাগের চোটে ধারালো চোয়াল জোড়া শক্ত হয়ে গেলো প্রেমের। দুই আঙ্গুলের সাহায্যে চুটকি বাজিয়ে বলল,

—“আউট! এখান থেকে উঠে সোজা দোতলার শেষ রুমে চলে যাবি। আর, আমার ঘরে পা রাখার দুঃসাহস ভুলেও দেখাবি না।”

—“কিন্তু কেনো?”

—“আমি কাউকে কৈফিয়ত দেই না মেঘা। যেটা বলেছি সেটা কর। জাস্ট গো।”

মেঘা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা দোলালো। দুই হাতে গাল ঢেকে রেখেই পা বাড়ালো প্রেমের দেখিয়ে দেওয়া রুমের দিকে। যেতে যেতে বাংলা গা*লিতে পুরো ধুয়ে দিলো প্রেমকে। সুযোগ পেলে এই ব্যাটার মাথা ফাটিয়ে দেবে, সেটাও মনে মনে ঠিক করে নিলো। কাঁচের সিঁড়িতে দুই ধাপ রাখতেই প্রেম ডেকে উঠলো,

—“মেঘা শোন।”

ডাকটা কানে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেলো মেঘার চলন্ত কদম জোড়া । ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো প্রেমের দিকে। প্রেম কেমন যেনো কাতর চোখে তাকিয়ে আছে। চোখের দৃষ্টির আনাচে কানাচে না জানি কত জন্মের ক্লান্তি। কয়েক সেকেন্ড আগের সেই কঠোর চাহনি মুহুর্তেই বদলে গেছে। প্রেম নরম কন্ঠে বললো,

—“আমার থেকে দূরে থাকিস।”

—“কেনো?”

—“কাছে আসলে তোর ক্ষতি হতে পারে। হয়তো ক্ষমার অযোগ্য ক্ষতি।”

এটুকু বলেই থেমে গেলো প্রেম। ঠোঁট দুটো তখনও ফাঁকা। হয়তো আরও কিছু বলতে চাইছে। কিন্তু কোনো কারণ বসত কন্ঠণালী ভেদ করে কথা আসছে না। প্রেমের মুখের ভাব ভঙ্গি দেখে মেঘা আগ বাড়িয়ে প্রশ্ন করলো,

—“আর কিছু বলবেন?”

—“উঁহু, ঘরে যা। ব্যাস এটুকুই।”

মেঘা আর দাঁড়ালো না সেখানে। এক প্রকার দৌড়েই প্রেমের দেখিয়ে দেওয়া রুমে চলে গেলো। যেতে যেতে প্রেমের একটা নিক নেইমও দিলো, “গিরগিটি”। হ্যা, এটাই এই অদ্ভুত মানবের সাথে মানানসই। সেকেন্ডে সেকেন্ডে রং বদলানো মানব, দ্যা গ্রেট গিরগিটি প্রেম এহসান।

মেঘা চলে যাওয়ার পর মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসলো প্রেম। সোফার দিকে কিছুক্ষণ একধ্যানে তাকিয়ে রইলো। কালো রঙের কভারের ওপর কিছু একটা চিকচিক করছে। প্রেম ভ্রু কুঁচকে সেটা হাতে তুলে নিলো। একটা লম্বা চুল। চুলটার দিকে কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইলো প্রেম। বিড়বিড় করে আওড়ালো,

—“চুল তো বেশ বড়ো হয়েছে। তাহলে তুই বড়ো হোসনি কেনো? বেয়াদব একটা!”

বিড়বিড় করতে করতে মুহুর্তেই চুলটা মুঠোয় করে পকেটে পুরে নিলো প্রেম। এরপর হন্তদন্ত ভঙ্গিতে চলে গেলো নিজের ঘরে।

সিউলে এখন শীতকাল চলছে। জানুয়ারির শুরুর দিক হওয়ায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলক একটু বেশিই। প্রায় সপ্তাহ খানেক সময় ধরে তীব্র তুষারপাত জমিয়ে দিয়েছে পুরো শহরটাকে। রাস্তায় বিছিয়ে থাকা সফেদ বরফের চাদর পেরিয়ে ডুপ্লেক্স বাড়িটার সামনে এসে থামলো একটা বি এম ডব্লিউ কার। পরপরই গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো চারজন অল্প বয়সী তরুণ তরুণী। রিক, এরিনা, লিজা এবং শান্ত। চেহারার আদল দেখে অনুমান করা যায় এরা এক এক জন ভিন্ন দেশের নাগরিক। কেউ হয়তো চাকরি সুত্রে সিউলে এসে বসবাস শুরু করে দিয়েছে। কেউ লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে, আবার কেউ বা ভিন্ন কোনো কারণ নিয়ে ঘাঁটি গেঁড়েছে এই কোরিয়ার বুকে। জীবনচক্রের গতিশীল ধারায় চলতে গিয়ে সকলে অপরিচিতর বেড়াজাল ছিন্ন করে গভীর বন্ধুত্বের জাল বুনেছে একে অপরের সাথে। যাদের মধ্যে দুজন মেয়ে এবং দুজন ছেলে। চোখে মুখে চমৎকার হাসি নিয়ে চারজন একজোটে পা বাড়ালো ডুপ্লেক্স বাড়িটার অভিমুখে।

কুচি কুচি তুষার মিশ্রিত ঠান্ডা হাওয়া চোখে মুখে আছড়ে পড়তেই গভীর ঘুমে ব্যঘাত ঘটলো মেঘার। ভ্রুদ্বয় কুঁচকে নড়েচড়ে পাশ ফিরে আবারও ঘুমানোর চেষ্টা করলো। তৎক্ষনাৎ কর্ণধারে ধাক্কা খেলো একাধিক কন্ঠের হৈচৈ আওয়াজ। এর মধ্যে কিছু ছেলে এবং কিছু মেয়ে কন্ঠ। তবে চিন্তার বিষয় হলো, কন্ঠস্বরের প্রতিটা মালিকই মেঘার জন্য অপরিচিত। সহসাই ঘুমটা ছুটে গেলো মেঘার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছেড়ে দৌড়ে বেরিয়ে এলো ঘরের বাইরে। দোতলা থেকে উঁকি দিলো নিচের আবহাওয়া পর্যবেক্ষন করতে। সঙ্গে সঙ্গে চোখাচোখি হলো প্রেমের সাথে। যেনো, শুরু থেকেই প্রেম এদিকেই তাকিয়ে ছিলো। ধারালো তলোয়ারের নজরে তাকিয়ে কেটে ফালা ফালা করে দিলো মেঘার সাহসী স্বত্বা। প্রেমের চোখের ভাষা বুঝতে পেরে ভয়ে খানিকটা পিছিয়ে গেলো মেঘা। আশ্চর্য! লোকটা এদিকেই তাকিয়ে ছিলো কি? নাহলে আসতে না আসতেই চোখাচোখি হলো কিভাবে? মনের কৌতুহল মনেই চেপে ধরে পায়ে পায়ে পিছিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো মেঘা।

অপরদিকে প্রেমের চাহনি লক্ষ্য করে দোতলার কর্নারের রুমের দিকে নজর স্হাপন করলো এরিনা। তবে বর্তমানে দোতলার বারান্দা পুরো খালি। এই খালি বারান্দায় এতো মনোযোগ দিয়ে কি দেখছে প্রেম? কৌতুহলী নজর সেদিকে রেখেই এরিনা প্রশ্ন করলো,

—“তোর বাসায় কোনো গেস্ট এসেছে প্রেম?”

প্রেম সঙ্গে সঙ্গে দোতলা থেকে নজর সরিয়ে নিলো। এক হাতে কপালে ছড়িয়ে থাকা চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে বলল,

—“কে আসবে? এই নিঃসঙ্গ মানুষটাকে সঙ্গ দেওয়ার কেউ নেই। আর না আছে কোনো আপনজন। সো, হোয়াট কাইন্ড অফ গেস্ট?”

প্রেমের জবাব খুব বেশি সন্তুষ্ট করতে পারলো না এরিনাকে। তার কৌতুহলী নজর তখনও প্রেমের মুখে স্থির। ঠিক তৎক্ষনাৎ রিকের নজর গেলো টেবিলের ওপর রাখা গোলাকার কাঁচের জারে। প্রেমের বাড়িতে জার ভর্তি রঙিন মাছ দেখে বিস্ময়ে লাফিয়ে উঠলো রিক। চেচিয়ে উঠে বলল,

—“ও মাই গড ব্রো। তোর বাড়িতে মাছ কেনো? এগুলো কি কিটির জন্য এনেছিস?”

প্রেম নিজেও এই সম্পর্কে অবগত ছিলো না। রিকের চেঁচানো দেখে ঘাড় ঘুরিয়ে একবার জারটা দেখে নিলো। বিরক্তি এবার চরম মাত্রা ছাড়িয়ে গেলো প্রেমের। তড়িৎ বসা থেকে উঠে জারটা হাতে তুলে নিলো। দোতলার দিকে পা বাড়িয়ে বলল,

—“ওয়েট এ মিনিট গাইস।”

প্রেমকে তড়িঘড়ি করে দোতলায় উঠতে দেখে বেশ সন্দেহ জাগলো রিকের মনে। সে ঝটপট হাতের ইশারায় সবাইকে কাছে ডাকলো। চার মাথা একজায়গায় হতেই রিক ফিসফিস করে বলল,

—“ওয়ারিয়র্স, আমার মনে হচ্ছে ডালমে কুচ কালা হে। এই প্রেম, ভালোবাসার ফ্রেম আমাদের থেকে কিছু একটা লুকাচ্ছে। আমি নিশ্চিত, ওই দোতলায় সেই কালি কালি রহস্য ছুপিয়ে রেখেছে।”

রিকের কথা শেষ হতেই শান্ত ওর সাথে তাল মিলিয়ে বলল,

—“আমারও তাই মনে হয়। প্রেম, কিছু একটা লুকাতে চাইছে। এজন্যই তো কাল পার্টির কথা বলেও আসতে বারন করে দিলো। আবার আজও আমাদের বাসায় ঢুকতে দিচ্ছিল না। নেহাতই আমি গায়ের জোর দেখিয়েছিলাম। নাহলে তো এই ঠান্ডায় বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে জমে আইসক্রিম হয়ে যেতাম।”

শান্ত নিজের কথা শেষ করার আগেই ওর মাথায় জোরেশোরে একটা গাট্টা মারলো লিজা। দাঁত কিড়মিড় করে বলল,

—“ফালতু কথা বাদ দিবি অশান্তর বাচ্চা? তোর এই লিলিপুটের মতো দেহ নিয়ে ক্ষমতা আছে প্রেমের সাথে গায়ের জোর দেখানোর? সব জায়গায় চাপা মারিস।”

—“তাতে তোর কি? আমি তোর ওই ইংল্যান্ডের বাপ দাদার সম্পদ নই। কথায় কথায় মারিস। ডাইনি একটা।”

গা*লিটার মানে বুঝতে না পারলেও শান্তর মুখের ভাব ভঙ্গি দেখে লিজা স্পষ্ট বুঝে গেলো, শান্ত ওকে খারাপ কিছু বলেছে। নিশ্চিত হতে সে এরিনার দিকে তাকিয়ে বলল,

—“ও কি বললো এরি? কি বললো আমাকে? এই ডাইনিটা আবার কি? ইজ দিস অ্যা ব্যাড সোয়্যার ওয়ার্ড?”

—“ইটস অ্যা স্ল্যাং, লাইক বিচ।”

এরিনার জবাব শুনে রাগে কটমট করে উঠলো লিজা। জ্বলন্ত আগুনের ন্যায়ে যেই না শান্তর ওপর আক্রমণ করতে যাবে সঙ্গে সঙ্গে ওদের দুজনকে থামিয়ে দিলো রিক। ধমকে উঠে বলল,

—“থামবি তোরা দুজন? নাহলে পাছায় লাথি মেরে দুটোকে বাসা থেকে বের করে দেবো।”

—“ও আমাকে গা*লি কেনো দেবে?”

—“সেই হিসাব নিকাশ পরে করিস। আগে চলে রহস্য উদঘাটন করি। প্রেম কি এমন আহামরি মণিমুক্তা লুকিয়ে রেখেছে বাড়িতে? যার জন্য আমাদের মতো বন্ধুদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দিতে দুবার ভাবছে না।”

রিকের প্রস্তাবটা এক বাক্যে নাকচ করে দিলো সবাই। লিজার কন্ঠে একরাশ ভয়,

—“প্রয়োজনীয় কিছু হলে প্রেম নিজে থেকেই জানাবে। বেশি ঘাটতে গেলে যদি প্রেম ক্ষেপে যায়?”

—“গেলে যাবে। আমি ওকে হ্যান্ডেল করবো। চল তোরা।”

কাউকে উঠতে না দেখে রিক এরিনার দিকে তাকিয়ে বলল,

—“ডার্লিং, তুই অন্তত চল। এই সাহসী বান্দার ওপর একটু তো ভরসা রাখ।”

—“ওই ভরসা টাই তো করতে পারি না তোর ওপর। তবুও এতো যখন জোরাজোরি করছিস, চল তাহলে। কিন্তু তুই সবার সামনে থাকবি।”

রিক মেনে নিলো। বীরপুরুষের মতো বুক ফুলিয়ে পা বাড়ালো দোতলার পথে। অনিচ্ছা থাকার স্বত্বেও ওকে অনুসরণ করলো বাকি তিনজন। দোতলায় উঠেই সবাই নিজেদের পায়ের গতি কমিয়ে দিলো। পা টিপে টিপে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে থামলো সবাই। চাপানো দড়জার ফাঁক গলিয়ে নিজেদের সিআইডির নজর রাখলো ঘরের ভেতরে। মুহুর্তেই চোখ গুলোতে বিস্ফোরণ ঘটলো যেনো। উত্তেজনা ঢাকতে না পেরে গলা ছেড়ে চেঁচিয়ে উঠলো এরিনা,

—“হোয়াট! মেঘা। আয়ায়ায়ায়ায়া।”

আচমকা চিৎকার শুনে ভড়কে গেলো মেঘা। তারচাইতে বেশি আশ্চর্য হলো অচেনা একটা মেয়ের মুখে নিজের নাম শুনে। এই মেয়ে মেঘার নাম জানলো কিভাবে? এদের তো জীবন দশায় আজই প্রথম দেখছে মেঘা। অপরদিকে প্রেমের চোখে মুখে চরম বিরক্তি প্রকাশ পেলো। প্রেম ঘাড় ঘুরিয়ে শক্ত চোখে তাকালো নিজের বন্ধুমহলের দিকে। কাঠকাঠ কন্ঠে বললো,

—“আমার ন্যাচার কেমন সেটা তোরা খুব ভালো করেই জানিস। সুতরাং, এক মিনিট সময় দিচ্ছি। যেখান থেকে এসেছিস, ঠিক সেখানেই ফিরে যাবি। আদারওয়াইজ…”

প্রেম নিজের কথা শেষ করতে পারলো না। তার আগেই সবাই হুড়মুড়িয়ে দৌড়ে চলে গেলো নিচে। কয়েক সেকেন্ড পাথরের মতো চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো প্রেম। এরপর নিজেও নিচে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। কয়েক কদম এগোতেই পেছন থেকে ডেকে উঠলো মেঘা,

—“শুনুন।”

প্রেমের কদম জোড়া সেখানেই স্থির হয়ে জমে গেলো। সহসাই ফট করে পেছন ফিরে চাইলো। ঝড়ের গতিতে এগিয়ে গেলো মেঘার দিকে। আচমকা প্রেমকে এভাবে এগোতে দেখে ভয়ে দুকদম পিছিয়ে গেলো মেঘা। পেছাতে পেছাতে পিঠ গিয়ে ঠেকলো দেয়ালের সাথে। মেঘার থেকে এক হাত দুরত্ব রেখে দাঁড়ালো প্রেম। ভরাট কন্ঠে প্রশ্ন করলো,

—“তুই আমার বউ?”

হঠাৎ প্রেমের এহেন প্রশ্নে ভড়কে গেলো মেঘা। গোলগাল চোখে তাকিয়ে শুধু ডানে বামে মাথা নেড়ে না বোঝালো। প্রেমের কন্ঠ এবার আরও একটু শক্ত শোনালো,

—“তাহলে এভাবে ডাকলি কেনো? হোয়াই? লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি মেঘা। ভুলেও কখনো এমন, বউয়ের সুর ধরে আমাকে ডাকবি না। থাপড়ে গাল দুটো লাল করে দেবো।”

চলবে?

(⚠️প্রিয়রা, একটা ছোট্ট বার্তা।
আমার এই গল্পটা অনেক বেশি কপি হচ্ছে। কপির কারণে আমার পেইজে গল্পের রিচ এবং রেসপন্স খুবই কম। আপনারা ওই সমস্ত পেইজ থেকে গল্প পড়ে আমার পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করছেন না। আমি আশা রাখবো সবাই গল্পের আসল রাইটার অর্থাৎ Sonalika Aiza – সোনালিকা আইজা এই পেইজ থেকে গল্পটা পড়বেন। লাইক কমেন্ট এখানেই করবেন।
এছাড়াও কেউ কেউ নিজেদের মন মতো গল্পটা নিয়ে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। এতে আপনারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এই গল্পের লেখক আমি সোনালিকা আইজা। বাকি সবাই ফেক। ভুলভাল পেইজ থেকে ভুলভাল গল্প পড়ে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। ধন্যবাদ।⚠️)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply