মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_৪১
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
কুহেলির কণ্ঠ হঠাৎ কেঁপে উঠল,কি বলিস শায়লা?তোমার মা… মারা গেছে?!
ফোনের ওপাশে শায়লার নিশ্বাসের শব্দ ভেঙে ভেঙে আসছিল।যেন প্রতিটা শ্বাসের সঙ্গে বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টটা বেরিয়ে আসতে চাইছে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সে বলল,
কয়েক দিন আগে রে… মা এমনিতেই অনেক দিন অসুস্থ ছিল।হঠাৎ করেই আমাদের ছেড়ে চলে গেল।
কথাগুলো খুব সাধারণ,খুব শান্ত স্বরে বলা কিন্তু সেই শান্ততার আড়ালে যে কী গভীর শূন্যতা লুকিয়ে আছে,তা কুহেলি ঠিকই বুঝতে পারল। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল তার।
শায়লা আবার বলল,
ভাইয়াও এখন বাড়ি আসে না।পুরো বাড়িটা ফাঁকা একা একা থাকতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসে কুহেলি।মনে হয় দেয়ালগুলোও আমাকে চাপ দিচ্ছে।
কুহেলির চোখ দুটো ভিজে উঠল।সে জানত শায়লা কতটা মায়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।হঠাৎ করে এমন শূন্যতা কাউকে কীভাবে ভেঙে দেয়,সে নিজেও তো কম দেখেনি।নিজেকে সামলে নিয়ে নরম গলায় বলল,
আচ্ছা শোন,এখন আর একা থাকবি না। আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। তুই এখানেই চলে আয়।
কুহেলির কথা খান শায়লার কানে পৌঁছাতেই বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।”কিন্তু যদি ভাইয়া কিছু বলে?!”ওপাশ থেকে শায়লার ভয় আর অসহায়তা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।
কুহেলি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকাল। বিকেলের আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে, অথচ শায়লার কণ্ঠে যেন অন্ধকার আরও ঘন হয়ে উঠছে।দৃঢ় অথচ স্নিগ্ধ স্বরে সে বলল,
এইটা তোর ভাবার দরকার নেই শায়লা। তুই শুধু চলে আয়। বাকিটা আমি দেখছি।
এক মুহূর্তের নীরবতা। তারপর ছোট্ট একটা নিশ্বাস।
“আচ্ছা,” শায়লার কণ্ঠে যেন একটু ভরসা ফিরে এলো।
ফোন কেটে যেতেই কুহেলি কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল।বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অস্বস্তি। শায়লার মা নেই,ভাই নাকি বাড়ি আসে না এই কথাগুলো মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে লাগল। হঠাৎ একটা প্রশ্ন কুহেলির মনে তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল ফাহিম ভাইয়া তো এই বাড়িতেই থাকে তাহলে শায়লাকে সে নিজে আনল না কেন?!
এই প্রশ্নটা যেন কুহেলির মনে কাঁটার মতো বিঁধে রইল।
ভাবনার জাল ছিঁড়ে কুহেলি ধীরে ধীরে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। করিডোর পেরোতে পেরোতে বাড়িটার বিশালত্ব আজ তাকে ভারী মনে হচ্ছিল। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই ড্রাইভারকে দেখতে পেল। কুহেলি সরাসরি তার দিকে এগিয়ে গেল।
শান্ত কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল,
গাড়ি বের করো। এই ঠিকানায় যাবেন!
একটা কাগজে শায়লার ঠিকানা লিখে ড্রাইভারের হাতে ধরিয়ে দিল।
ড্রাইভার মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।গাড়ির চাবির শব্দটা কুহেলির কানে যেন অদ্ভুতভাবে জোরে বাজল।গাড়ি চলে যেতেই কুহেলি বারান্দার রেলিংয়ে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইল।
আজ প্রথমবার মনে হলো এই বাড়ির ভেতরের অনেক গল্প এখনও অজানা। শায়লার আগমন হয়তো শুধু এক অতিথির আসা নয়,বরং অনেক চাপা সত্যের দরজাও খুলে দিতে চলেছে।
~~
কিছুক্ষণ পরই ভারী পায়ের শব্দে হলরুমের নীরবতা ভাঙল।আবরার ফিরেছে চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ,কাঁধে দিনের সমস্ত বোঝা।কিন্তু হলরুমের সোফায় বসে থাকা কুহেলি তখন নিজের ভাবনার জগতে এতটাই ডুবে ছিল যে, আবরারের উপস্থিতি সে টেরই পায়নি।শায়লাকে নিয়ে অদ্ভুত এক অস্বস্তি বুকের ভেতর পাক খাচ্ছিল কেন ফাহিম তাকে এখানে আনেনি,কেন সবকিছু এত জটিল লাগছে!
আবরার কিছু না বলেই ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। মুহূর্তের মধ্যেই কুহেলিকে কোলে তুলে নিল সে হঠাৎ এই অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শে কুহেলির বুক কেঁপে উঠল।পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেল,শূন্যতায় ভেসে উঠল সে।চমকে উঠে তাকাতেই চোখে পড়ল আবরারের মুখ চেনা, অথচ আজ একটু বেশি ক্লান্ত,একটু বেশি গভীর।
আরে! আপনি কখন এলেন?
কুহেলির কণ্ঠে ভয় আর বিস্ময় একসাথে মিশে গেল।আমি তো সত্যিই ভয় পেয়ে গেছি!
আবরার হালকা হাসল,সেই হাসিতে দিনের ক্লান্তি ঢেকে রাখার চেষ্টা।যখন তুমি ভাবনায় ডুবে ছিলে ঠিক তখনই, বলল সে।
বেডরুমের দিকে হাঁটতে হাঁটতে আবরার থেমে কুহেলির চোখের দিকে তাকাল।
আচ্ছা বলো তো,কাকে নিয়ে এত গভীরভাবে ভাবছিলে তুমি?
কুহেলি একটু থমকে গেল। চোখ নামিয়ে নিল সে ভাবনার ভার যেন হঠাৎই আরও বেড়ে গেল। আবরারের বুকের কাছাকাছি এসে সে বুঝল,এই মানুষটা সবসময় শক্ত থাকলেও তার চোখ দুটো সব অনুভূতি ধরে ফেলতে পারে।
আবরার কুহেলি কে নিয়ে বেডরুমে এসে ধীরে সযত্নে বেডের ওপর বসালো।তারপর নিজেও পাশে বসে পড়লো।রুমের বাতিটা তখনো জ্বলছে,নরম আলোয় রুমটা অদ্ভুত এক থমথমে অনুভূতিতে ভরে আছে।আবরার কোনো কথা বললো না।শুধু লাল টকটকে চোখের মণি দুটো সরু করে কুহেলির দিকে এমনভাবে তাকালো,যেন চোখের ভেতর দিয়েই তার মনের কথা পড়ে নিতে চাইছে।
এই দৃষ্টিতে কুহেলির বুকের ভেতর কেঁপে উঠলো। আবরারের এই চাহনি সে চেনে এই চোখ মানে রাগ,আবার একই সাথে গভীর চিন্তাও।তবুও সাহস করে সে কথা বললো,কণ্ঠটা একটু নরম করে,
আসলে হয়েছে কি, কুহেলি ধীরে ধীরে বললো, আমি শায়লাকে এই বাড়িতে আসতে বলেছি।
আবরারের ভ্রু সামান্য কুঁচকে উঠলো, কিন্তু সে এখনো কিছু বললো না।
কুহেলি গলা পরিষ্কার করে আবার বলতে শুরু করলো,
ওর মা কয়েকদিন আগে মারা গেছে। শায়লা একদম একা হয়ে গেছে ভাইয়া হয়েও ফাহিম ভাইয়া তো এই বাড়িতে থাকে ওর কাছে থাকে না। আমি ভাবলাম,ও একা একা কীভাবে থাকবে?তাই ওকে এখানে আসতে বলেছি।
আর একটা বিষয় আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না ফাহিম ভাইয়া তো এই বাড়িতেই থাকে,অথচ শায়লাকে উনি নিজের কাছে রাখল না কেন?
তার কথার ভেতরে ছিল কৌতূহল, সঙ্গে অজানা এক আশঙ্কা।আবরার কুহেলির দিকে একবার তাকাল সেই দৃষ্টিতে ছিল না রাগ,না বিস্ময় বরং অদ্ভুত এক নিশ্চিন্ততা। সে হালকা কণ্ঠে উত্তর দিল,
এতে এত ভয় পাওয়ার কী আছে?শায়লা থাকতেই পারে এই বাড়িতে।
এক মুহূর্ত থেমে ঠোঁটের কোণে বাঁকা এক হাসি খেলিয়ে সে যোগ করল,
আর ফাহিম কেন রাখেনি, সেটা তুমি নিজেই ওকে জিজ্ঞেস করে নিও।
এই কথা বলেই আর কিছু না বলে আবরার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।তার সেই বাঁকা হাসিটা কুহেলির চোখে অদ্ভুত লাগল যেন কথার আড়ালে আরও কিছু লুকানো আছে। পরক্ষণেই আবরার ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল,দরজাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রুম হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে পড়ল।
কুহেলি বিছানার ওপর বসে রইল কিছুক্ষণ। আবরারের কথাগুলো তার মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে লাগল।
ফাহিম ভাইয়া কেন শায়লাকে রাখেনি?এই প্রশ্নটা এখন আর কৌতূহল নয়, বরং জরুরি হয়ে উঠেছে।
কুহেলি গভীর একটা শ্বাস নিল।মনে মনে স্থির করল এই প্রশ্নের উত্তর তাকে জানতেই হবে।আর সেটা জানতে হলে ফাহিমের সঙ্গেই কথা বলতে হবে।
প্রায় আধা ঘন্টা পর….!
আবরার ওয়াশরুম থেকে বের হলো ভেজা চুল টাওয়ার দিয়ে মুছতে মুছতে,অর্ধভেজা উন্মুক্ত দেহে কেবল একটি মাত্র ট্রাউজার জড়ানো!সম্পূর্ন ফর্সা পেটের দেহে পানির ফোটা ফোটা বিন্দু কণা চিক চিক করছে!কুহেলি তা দেখে শুকনো ঢুক গিললো আবরার কুহেলি কে এভাবে তাকাতে দেখে বাঁকা হেসে কুহেলির সামনে আসলো তারপর কুহেলির পাশে বসে এক টানে কুহেলি কে নিজের কোলে তুলে নিলো!
তারপর টাওয়ার নিজের গলায় ঝুলিয়ে কুহেলির কোমর দুই হাত দিয়ে ধরে মাথা ঝাঁকালো কুহেলির মুখে সামনে এতে আবরারের বড় বড় সিল্কি চুলের পানির বিন্দু বিন্দু কণা কুহেলির মুখে পড়লো!কুহেলি চোখ বন্ধ করলো সাথে সাথে ছোট্ট বদন খানা কেঁপে কেঁপে উঠলো গোলাপি ঠোঁট জোরা তির তির করে কাঁপতে থাকে!
আবরার বাঁকা হেসে বলে, ডালিং..!
কুহেলি সাথে সাথে চোখ খোলে তাকায়!
আবরার দুষ্ট চোখে কুহেলির দিকে তাকিয়ে বলে,
তোমার দেখা মনে হয় হয়নি তাই না?আচ্ছা প্রবলেম নেই আমি ট্রাউজার অতো টাইট করে পড়ি নি!কোনো রকম লুজ করে পড়েছি তুমি চাইলে আমি খোলে দিতে পারি তোমার দেখতে সুবিধা হবে!
কুহেলি সাথে সাথে লজ্জা পেয়ে যায় তবুও নিজেকে সংযত করে রাগ দেখানো ভান করে বললো,
ছিঃ আপনি এতো লজ্জা ছাড়া কেনো বলুন তো? যা যাতা বলে ফেলেন! মুখে লাগাম দেন!
আবরার মিটিমিটি হেসে বলে,
বউ তুমি এরকম করে তুমি এরকম করে বলছো যেনো এর আগে তুমি আমাকে প্যান্ট ছাড়া দেখো নি!
কুহেলি কান দুটো চেপে ধরে বলে,
দোহাই লাগে আপনার আপনি চুপ করুন!একটা মানুষ কিভাবে এতো টা লজ্জা ছাড়া আর ঠোঁট কাঁটা হতে পারে!আমি জাস্ট ভাবতে পারছি না!
কুহেলির কথা শুনে আবরার সাথে সাথে ইনোসেন্ট ফেইজ করে নিজের ঠোঁটে হাত দিয়ে বলে,
এসব কি বলো বউ আমার ঠোঁট তো একদম ভালো আছে!কাঁটা কিভাবে হলো!তবে তুমি চাইলে একটা শক্ত কিস দিয়ে কেটে দিতে পারো ঠোঁট আমি মাইন্ড করবো না!
চলবে...!!
১১৯৫+শব্দ
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৪