কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
দয়া করে কেউ কপি করে চোরের পরিচয় দিবেন না।
খাঁচায় বন্দী ফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৯
ও বাড়ি থেকে ফিরে সেই রাতের বেলা বেড়িয়েছে তুযা। বেলা গড়িয়ে ১০ টা বেজে গেছে এখনো বাড়িতে ফেরেনি। মেহেরজান সমানে বিলাপ করে যাচ্ছে।
” আমার ছুডো নাতি ডারে দেখ। বিয়া কইরা সংসার করতাছে। ওয়াহাব কইলো পুড়া পরির লাখান বউ আনছে ঘরে। আহহা মাইয়া ত না, যেনো ঘরডার মইধ্যে আলো নিয়া আইছে আলো। আর এই হইছে এক গোলাম, গোলাম হারা ডা রাইত মাগি নিয়া লটরপটর করে। আর দিন ডা ভইরা শাউয়া মেলাইয়া শুয়ে থাকে। আমার পোলাডার কপাল খারাপ। নাইলে পোলা এমন মাগি বাজ হইবো ক্যান। এই বয়সে দুই-চারডা নাতি নাতনি থাকবো আমার পোলার।”
ওয়াহাব চশমা ঠিক করতে করতে বের হলো
” মা! চেচামেচি করো না। তোমার প্রেসার বেড়ে যাবে কিন্তু।”
মেহেরজান ওয়াহাব কে করুন স্বরে বলল
” ও বাজান, পোলা ডারে বিয়ে করাস না। দেখ বিয়া করাইলে যদি একটু সংসারী হয়। “
” সেসব কি আমি ভাবি না মা? ওর স্বভাবের পরিবর্তন না হলে বিয়ে করাই কি করে বলোতো। একটা মেয়ের জীবন তো আর আমি নষ্ট করতে পারি না”
মেহেরজান উঠলো
” আচ্ছা বাপু আমি যাই। ও কদভানু আমার গোসলের পানি গরম করা হইছে?”
মেহেরজান বেগম গোসল করতে চলে গেলো। ওয়াহাব চা খাচ্ছে আর সংবাদ পত্র পড়ছে। তুযা মাফলার মোমড়ে পেচিয়ে গান গাইতে গাইতে বাড়িতে ঢুকলো।
” আলতা রাঙা পায়, আবার নুপুর পড়েছে।
মোকচুইদ্দার মাইয়া পা’গল করেছে,
ওরে মোকচুইদ্দার মাইয়া……”
বাবার দিকে চোখ পড়তেই গান বন্ধ করলো। চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে জোরে জোরে ডাকা শুরু করলো
” রহমানের মা! ও রহমানের মা”
ওয়াহাব ধমক দিলো
” এই! পা’গল হয়ে গেছো? এ বাড়িতে রহমান কার নাম?”
তুযা গায়ের জ্যাকেট খুলতে খুলতে বলল
” আমি রহমানকে নয়, রহমানের মা কে ডাকছি, বলি ওও রহমানের মা ঘরে আছো?”
ওয়াহাব চৌধুরী বিরক্ত হয়ে ঘরে চলে গেলো।
মেহেরজান বেগম ফুল ঝাড়ু নিয়ে বেড়িয়ে এলো ঘর থেকে। তুযার সাথে দৌড়ে পারবে না তাই ছুড়ে মারলো তুযার দিকে। কিন্তু সে সময়ই গেট দিয়ে আকবর ঢুকছিলো। তুযা টান দিয়ে আকবর কে সামনে এনে নিজে আকবরের পিছনে লুকালো। আকবরকে মেহেরজানের দিকে পিঠ করে ঘুরিয়ে দিলো।
ঝাড়ুর বাড়ি গিয়ে পড়লো আকবরের পিঠে। মেহের জান বিলাপ করে বলল
” সব্বোনাশা পাঠা, তোর জন্য কি আমি দুদন্ড শান্তি পাবো না? আহারে বাবা তোমার লেগেছে?”
আকবর চট করে দুদিকে মাথা নাড়ে। তুযা চেচিয়ে বলে
” বাবা তোমার মা আকবর কে ঝাড়ু পেটা করেছে।”
ওয়াহাব চৌধুরী রেগে বিরক্ত হয়ে বলল
” আমাকেও মারো দুটো। আমার এই জালা যন্ত্রনা আর সহ্য হয় না।”
কিন্তু ভাবছেন রহমানের মা বলায় মেহেরজান বেগম এত রেগে গেলো কেন।
মেহেরজান বেগমের ঘর সিরির সামনেই। আর তুযার ঘর ওপরে। রোজ সিড়ি দিয়ে নামার সময় তুযা দাদির ঘরে গিয়ে না জ্বালালে ওর পেটের ভাত হযম হয় না। সেরকম ই একদিন সিড়ি থেকে নামার সময় শুনেছিলো।
পাশের বাড়ির শিমলার দাদির সাথে আবার মেহেরজানের বড় ভাব। মাঝে মধ্যে গল্প করতে আসেন। একদিন গল্পের সুবাদেই বলেছিলো
” রহমানের বাবা জোয়ান কালে মেহেরজান রে খুব পছন্দ করতো। পড়ে তার বিয়ে হলো গ্রামের প্রধানের সাথে। আর সে বিয়ে করলো আরেক জায়গায়। পরে তাদের ছেলে হয় আর তার নাম রাখে রহমান। সে কথা আবার তুযা শুনে ফেলেছে।
মেহেরজান বকতে বকতে আবার ঘরে ঢুকে পড়লো। তুযাও নিজের ঘরে ঢুকলো। মানিক এসেছে তুযার খোজে। চারিদিকে ভালো করে দেখলো কোথাও মেহেরজান আছে কিনা। মহিলাটা ওদের দেখলে খুব রেগে যায়। কোথাও মেহেরজান কে না দেখে বাড়িতে ঢুকলো। সোজা তুযার ঘরে।
” ভাই খুব দরকারি কতা আছে।”
তুযা শুধু আন্ডার প্যান্ট পড়ে দাড়িয়ে আছে। যে কোন প্যান্ট টা পড়বে বুঝতে পারছে না। মানিক একটু বিব্রত বোধ করলো
” ভাই এভাবে কাপড় পাল্টায় মাইনসে? একটা গামচা কোমড়ে পেচাই লইতে পারেন না?”
তুযা প্যান্ট থেকে বেল্ট খুলতে খুলতে বলল
” যাদের লজ্জা লাগে তারা যানি চোখ বন্ধ করে রাখে। আমার মনে ধরলে আমি লেং’টা হইয়া ঘুরমু, তোর বাপের কি?”
” আইচ্ছা বুজলাম ভাই একটা দরকারি কথা আছিলো”
তুযা প্যান্ট পড়তে পড়তে বলল
“কথা যত দরকারিই হোক, আমি এহন ঢাকা যামু। কিচ্ছু শুনতে পারমু না”
মানিক ঘরে ঢুকলো
” ভাই কতাডা অদিতির ব্যাপারে”
তুযা চট করে চোক তুলে তাকালো।
” কি কথা?”
” ভাই খবর পাইছি ওর বাপে ওরে মা*গি পাড়ায় বেইচ্চা দিছে”
তুযার মাথায় রাগ উঠে গেলো চট করে। সব সময় মজে থাকা এই মানুষটাই রাগ উঠলে আর মানুষ থাকে না। মানিকের দিকে তেজ নিয়ে তাকিয়ে বলল
” তুই জানলি কোইত্তে?”
মানিক ঢোক গিলে বলল
” ওর বাপে গেরামে আইছিলো গেছে কাইল রাইতে। কায়েসের আব্বার কাছে কইছে যে মাইয়া পাড়ায় বেচে দিছে মোটা টাকায়। কায়েস এর আব্বা কথায় কথায় আইজ বাজার থিকা আমার কাছে কইলো।”
তুযা আলমারি থেকে পিস্তল টা নিয়ে কোমড়ে গুজে শালটা গলায় দিয়ে মানিক কে বলল
” চল, খান*কির পোলা রে আজকে গাইরালামু। আমার সামনের খাওন ছিনিয়ে নিয়ে কু’ত্তারে দেওয়া? যে মালে আমি নজর দিছি সেই মাল যায় নষ্ট পাড়ায়? আজকে ওর খবর আছে”
দ্রুত বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। বাইকে উঠে মানিক কে বলে তুই
” তুই কায়েস গো বাড়ি চিনস?”
” হ ভাই”
” উঠ পিছনে”
সকালে হাসান চৌধুরীর একটা জরুরি মিটিং থাকায় বাড়িতে সময় দিতে পারেনি। তাই দুপুরে খাবার টেবিলে সবাই কে অবশ্যই থাকতে বলেছেন। এমনকি অদিতি কে ও। জরুরি কথা বলার আছে সবাইকে।
সবাই থাকলেও হাসান চৌধুরী নিজেই আসলেন দেরি করে। খাওয়া শুরু হলো। সবাইকে আগে খেয়ে নিতে বলল হাসান চৌধুরী। অদিতি গুটি শুটি মেরে নদীর গা ঘেষে বসেছে। নদী আস্তে করে বলল
” তুমি সবসময় এত ভয় পাও কেন বলোতো। তুমি জানো সাইফ ভাই কত সাহসি।?”
হাসান চৌধুরী নদীকে নিজের পাশে এনে বসালেন। সকলের উদ্দেশ্যে বলল
” আমি চাই অদিতি কে কলেজে ভর্তি করাতে। ও মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করেছে। এখনো কলেজে এপ্লাই করার সুযোগ আছে। আজই করিয়ে দাও আমাদের পাশের সরকারি কলেজে।”
নদী, দীঘি, সায়রা সবাই তো অবাক। হঠাৎ করে সুর বদলে যাওয়ার কারণ কি?
হাসান চৌধুরী অদিতির মাথায় হাত দিয়ে বলল
” আজ থেকে অদিতিও আমার মেয়ে। তবে একটা কথা শুনে রাখো সবাই, কোনো বেকার ছেলের সাথে আমি আমার মেয়ের বিয়ে দেবো না।”
সায়রা হাসান চৌধুরী কে বলল
” কিন্তু ভাইজান ওদের বিয়ে তো হয়ে গেছে”
হাসান চৌধুরী মুচকি হাসলো
” হয়নি এখনো। তবে হবে, যদি সাইফ নিজে কোনো যব করে। বউ এর খাওয়া পড়ার দ্বায়িত্ব নিতে পারে। সেদিন আমি ওদের বিয়ে দেবো।”
সাইফ ভ্রু কুচকে বলল
” আমি কালই বিয়ে করবো বাবা। আমি কাজ করবো কিন্তু আগে বউ লাগবে”
হাসান চৌধুরী বললেন
” বললেই হলো? আগে নিজের পায়ে দাড়াবে তারপর বিয়ে”
আঞ্জুমান ছেলের হয়ে বলল
” দেখুন, বাচ্চাদের সাথে আপনি এমন করবেন না। ওদের রেজিষ্ট্রি করিয়ে রাখুন, পড়ে সাইফ নিজে ইনকাম করে বড় অনুষ্ঠান করে বউ ঘরে তুলবে”
হাসান চৌধুরী আঞ্জুমান এর দিকে তাকিয়ে বলে
” বলছো?তাহলে আজই করানো যাক “
সকলের মুখে হাসি থাকলেও হাসি নেই নদী আর হাবিবের মুখে। হাসান চৌধুরী বললেন
” ওহহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটা, আমি নদী মামনির বিয়ে দিতে চাই। কাল পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে। কি বলো সায়রা?”
নদীর খাবার গলায় আটকে গেলো। শরীর ক্রমশ অবশ হয়ে আসছে। বিয়ে মানে? অধীর অপেক্ষায় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে। মা যেন বলে, না আমার মেয়ে বিয়ে দেবো না এখন। কিন্তু তা হলো না। সায়রা বলল
“আপনার মতামতের ওপর আমরা কখনো কথা বলেছি নাকি ভাইজান? আপনি যা ভালো বুঝেন, তাই করেন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই”
নদীর ভিতরটা ডুকরে কেদে উঠলো। খাবার আর গলা দিয়ে নামলো না। ভাগ্য আর কত যন্ত্রণা দেবে ভেবে পায় না নদী। সব ঝড় এক সাথে আসছে তার জীবনে। আদৌ তা কাটিয়ে বাচতে পারবে কিনা কে জানে।
এক সাথে বসে দুজন মানুষের জীবন দুদিকে মোড় নিলো। এক অদিতি, তার জীবন সঠিক ঠিকানা খুজে পেলো। আরেক নদী, সে অথৈ সাগরে ভেসে গেলো। যার কূল কিনারা নেই। খাওয়ার মধ্যেই হাবিবের ফোনে কল আসলো। হাবিব স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলো তুযার নম্বর। তারাতাড়ি করে সাইলেন্ট করে দিলো মোবাইল। মৃদু কাশি দিয়ে বলল
” আমার হয়ে গেছে খাওয়া। উঠছি”
বেসিন থেকে হাত ধুয়ে বাইরে চলে গেলো। তুযার নম্বরে কল ব্যাক করলো। রিসিভ করে তুযা বলল
” কাকাই এদিকে ঘাপলা হয়ে গেছে, আজ আসতে পারবো না”
হাবিব চোখ মুখ কুচকে বলল
” আজকে মেয়েটার বিয়ে হতে চলেছে। যদি না আসো, খুব পস্তাবে বলে দিলাম।”
তুযা খট করে ফোন কেটে সুইচ অফ করে দিলো। ফোন পকেটে ঢুকিয়ে বলল
” এই মা*গি গো এত্তো বিয়া বহন লাগে ক্যান?”
তুযার সামনে কায়েসের বাবা বসে। তুযা সোফায় গা এলিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে বসে বলল
” এবার বলেন চাচা, হানিফ কি কি কইছে আপনেরে সব কন। দাড়ি, কমা কিচ্ছু বাদ দিবেন না। কন”
কায়েসের বাবা শুকনো ঢোক গিলল,
” আসলে কাল আমি বাজারে গেছি, তখন দেখি হানিফ ভ্যানে লেপ কম্বল, তোশক আরো পোটলা পুটলি নিয়ে কোতায় যেন যাইতেছে। পড়ে আমি জিগাইতে কইলো মনিপুরে বাড়ি কিনছে। আমি ঠাট্টা করে কইলাম এত টেকা পাইলা কইত্তে? কয় এক শা’লিরে বিয়া করছিলাম, কামে লাগাইতে পারি নাই। শা’লির মাইয়া ডারে কামে লাগাইছি। ওরে পাইলা কোনো লাভ আছে কও? দিয়ে আইছি পাড়ায় বেইচ্ছা। হেই টেকা দিয়াই তো নিজের বাড়ি কিনলাম। “
কায়েসের বাবা থামলো। তুযা তার দিকে ঝুকে বলল
” হ আরো কইছে, কইছে যে ওর লেইগা যেন মাইয়া দেহি। আবার বিয়া করবো।”
তুযা উঠলো
” আইচ্ছা ধন্যবাদ চাচা। আইজ উঠি? আসসালামু আলাইকুম। এই মানিক, চাচা রে চা নাস্তা কি খায় সব খাওয়াইয়া বাড়ি পৌছায় দিয়া যাবি”
তুযা বেরিয়ে গেলো। আজই মনি পুর যাবে। তুযাদের পাশে দুই গ্রাম পরেই মনি পুর।
” রাইতে রওনা হইলে যেতে দুই থেকে তিন ঘন্টা লাগবো”
শফিক বলল
” কিন্তু ভাই দিনে গেলে ভালো হয় না?”
তুযা বন্দুকের নল থুতনিতে ঘষে বলল
” মাঝ রাইত ছাড়া ওরে ঘরে পাওন যাইবো না। আইজই যামু। তোরা প্রস্তুত হ, আমি বারি থেকে দেখা করে আসি “
নদী রুমে এসে জানালার পাশে বসলো। এটা তার প্রিয় জায়গা। টেবিলে মাতা ঠেকিয়ে নিরবে চোখের অশ্রু বিসর্জন দেয়। ফোনটা টুংটাং শব্দে বেজে ওঠে। সিমি কল করেছে। নদীর কান্নার বেগ আরো বাড়ে। কল রিসিভ করেও কোনো কথা বলতে পারে না। ওপাশ থেকে সিমি হ্যালো হ্যালো করতে থাকে। এপাশ থেকে শুধু ফোপানি কান্নার আওয়াজ। সিমি আদুরে গলায় বলে
” কি হয়েছে বেইব? বল আমায়। আর হওয়ার কি আছে। যা দেখে এলাম। তুই থাকছিস কি করে ওই বাড়িতে?”
নদী ফোপাতে ফোপাতে বলে
” চা….চাচ্চু আমার বি…বিয়ে বিয়ে ঠিক করেছে সিমি”
সিমি বলে
” এখন তোকে বিয়ে দেওয়া টা কি তাদের খুব জরুরি?”
নদী কান্না জড়ানো কন্ঠে বলে
” যার পোড়ে, তার বুক – কপাল সব একসাথেই পোড়ে।”
ফোনটা কেটে দিলো নদী। অঝোর কান্নায় ফেটে পরে নদী। ওদিকে নিশ্চয়ই এতক্ষণে বিয়ে পর্ব মিটে গেছে। কাল হয়তো নিজেরও বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যাবে। তারপর আবার এক জন্ম অপেক্ষা করতে হবে সাইফ ভাই কে পাওয়ার। অন্য কারো সংসার করতে হবে। এদিকে সাইফও আরেক জনের সাথে সংসার করবে।
তুযা বাড়িতে ঢুকে ওপরে যাওয়ার সময় মাকে বলল
” মা খাবার দাও তো, আমি গোসল করে আসি।”
কিন্তু ঠিক চার মিনিটের মাথায় নিচে এলো। সব আগের মতই। শুধু পোষাকটা পাল্টেছে। তুযার মা বলল
” কিরে এত তারাতাড়ি গোসল হয়ে গেলো?”
তুযা বেহায়ার মতো হেসে বলল
” গেছিলাম গোসল করতে। পানি অনেক ঠান্ডা তো তাই ঘুইরা আইছি”
খেপে উঠলো মেহেরজান
” হায় হায় হায় হায় রে। আমার বাড়ি ডারে অপবিত্র বানাই দিলো। বলি বসবি দুইডা খাইতে, একটু গোসল-দাড়ি কইরা তো বসবি। থাহস তো হারাদিন ন*টি গো লগে। বলি ফরজ গোসল ডা তো করবি?”
তুযা খাবার চিবোতে চিবোতে বলল
” শীতের দিনে ৭ দিন গোসল না করলে কিচ্ছু হয় না। আর তার থেকে বড় কথা হলো মনের গোসলই বড় গোসল।”
পানি খেয়ে বলল
” আর আমি বুঝি না। কথায় কথায় খালি আমারে মা*গি তুইলা ক্যান খোটা দেও?”
মেহেরজান দাতে দাত চিপে বলল
” গিলতেছস তাই গিল। খাওয়ার সময়ও মুখে পাতা দেয় না। হুহহহ।”
তুযা এক গাল হাসলো।
অদিতিও সাইফের রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। সবাই কে মিষ্টি মুখ করানো হচ্ছে। হাবিব শুধু তুযার ওপর ভরসা করে থাকেনি। তার প্ল্যান বি কাজে লাগিয়ে গেটের বাইরে নিজের আনা লোকেদের প্রস্তত রেখছে। অদিতির কানে কানে বলল
” মা নদী বাইরে আছে ওকে একটু ডেকে নিয়ে এসো তো প্লিজ”
” নিশ্চয়ই কাকা বাবু।”
অদিতি হাসি মুখে বাইরে চলে গেলো…..
চলবে
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল গল্পের লিংক
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২