ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||২৭||
★★★★★★★
বৃহৎ ড্রয়িংরুমের নির্দিষ্ট সোফায় বসে বসে পুরাতন জমির দলিলপত্র দেখছেন দেওয়ান মির্জা।কিছুক্ষন পরেই এশার আজান হবে।নামাজ শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে তিনি আজ দ্রুত ঘুমাবেন।সকালে পুরোনো বন্ধু হামিদের সাথে দেখা করতে কাশিপুর যাবেন।ফতেহপুর থেকে কাশিপুরের বহুত দূরত্ব।বৃদ্ধ শরীরে আজকাল এতো ধকল কুলোয় না।নেহাত হামিদ খান ছাড়ছে না তাই যেতে হচ্ছে।
দেওয়ান মির্জা পুরো বাড়ির দলিলটা বের করলেন।নাতি নাত্নীদের মধ্যে সমানভাগে বাড়িটা ভাগ করবেন তিনি।উকিলের সাথে খুব শীঘ্রই এই ব্যাপারে কথা বলতে হবে।শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।হায়াৎ মউতের কথা বলা যায়না।তিনি কোনো ঝামেলা রেখে মরতে চান না।সবাইকে সুখী সমৃদ্ধ করে তবেই চিরনিদ্রায় ঘুমুতে চান তিনি।
“কিছু না মনে করলে আপনার সাথে একটু কথা বলতাম আব্বা”
রেহনুমার আকস্মিক গলায় দলিল থেকে উপরে তাকালেন দেওয়ান মির্জা।রেহনুমা হাতের কম চিনির দুধ চা এগিয়ে বৃদ্ধের পাশেই বসলেন।এরপর একটা ছবি এগিয়ে বলে উঠলেন
‘ছবিটা একটু দেখুন আব্বা।
রেহনুমার হাত থেকে ছবি দিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখলেন দেওয়ান মির্জা।খুব সুশীল সুন্দরী এক মানবীর স্থির চিত্র।শরীরে আভিজাত্য ঠিকরে পড়ছে।বৃদ্ধ মাথা ঝাকিয়ে বললেন―
“অপূর্ব, কিন্তু কে এই মেয়ে বড় বউ?
রেহনুমা একটু নীরব রইলেন।এরপর গুছিয়ে বললেন
“আমার বান্ধবী শিউলির মেয়ে আব্বা।ঐযে যে শিউলি আপনাকে বাতের ব্যাথার কবিরাজি ওষধ দিয়েছিলো ওর মেয়ে।
বৃদ্ধ প্রশস্ত হেসে বললেন―
“বাহ খুব সুন্দর মেয়ে তো শিউলির!তা বিয়েসাদী হয়েছে?
রেহনুমা মিষ্টি হেসে মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলেন
“মেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে আব্বা।খুবই মেধাবী।আমি চাচ্ছিলাম যে আপনাদের কারোর যদি অমত না থাকে তবে শিউলির মেয়ের সাথে রণ’র বিয়ে দিতে।
কথা খানা শেষ হতে না হতেই বিধ্বস্ত অবস্থায় মৌনতা এসে দাড়ালো ড্রয়িংরুমে।রেহনুমার কথাটা তার মাথায় বজ্রের ন্যয় পতিত হলো।সেই সঙ্গে দেওয়ান মির্জার চোখ মুখে অমাবস্যার আধার নামলো।
রেহনুমা মৌনতা কে দেখে হেসে ডেকে উঠলো
“এখানে আয় মৌন,এসেছিস ভালোই হয়েছে।দেখ রণ’র জন্য কেমন মেয়ে পছন্দ করেছি!
বলেই নিজেই উঠে গিয়ে মৌনতা কে টেনে নিজের কাছে এনে বসালেন।দেওয়ান মির্জা কথা ঢাকা দিতে ক্ষিপ্ত গলায় বললেন
“ও বাড়ি থেকে এতো ঝামেলা পাকিয়ে কেন এলে?একবার জেদ করলে যাবার জন্য আবার জেদ করলে ফেরার জন্য।ঘটনা কি বলো তো?
মৌনতা মাথা নত রেখে জবাব দিলো
“ওখানে দম বন্ধ লাগছিলো দাদু।
রেহনুমা মৌনতা কে থামিয়ে পুনরায় বলে উঠলো
“জীবনে আপনার কাছে কিচ্ছু চাইনি আব্বা।এবার চাইছি।বংশ মর্যাদা ভুলে শিউলির মেয়েটা আমাদের এনে দিন।আপনি বললে রণ রাজি হবে।মেয়েটাকে আমার খুব মনে ধরেছে।মা হিসেবে ছেলের জন্য টুকটুকে একটা বউ চাওয়া তো অন্যায় কিছু নয় আব্বা।
বলেই মৌনতা কে ছবিটা দেখিয়ে বলে উঠলো
“দেখ মৌন দেখ কত সুন্দর!এ বাড়ির সবার চাইতে সুন্দরী হবে এই মেয়েটা।তাই না বল?
মৌনতা ডাঙ্গায় তোলা মাছের মতো তড়পাতে লাগলো।কিন্তু রেহনুমার হাত থেকে ফস্কে উঠে যেতে পারল না।দেওয়ান মির্জা নাতনির অবস্থা আঁচ করে বলে উঠলেন
“কিন্তু রেহনুমা রণ’র জন্য আমি মৌনতা কে পছন্দ করে রেখেছিলাম মনে মনে।
কথাটা শুনে রেহনুমার হাসি মুখ বন্ধ হয়ে গেলো, এদিকে সৌম্যর বউ এগিয়ে এসে বলে উঠলো
“মৌনতার সঙ্গে রণ’র কি করে মিলবে দাদু ভাই?স্কুলের গন্ডিই তো পেরুই নি এখনো।তাছাড়া আর্মি অফিসার দের বউ হয় বুদ্ধিমতী, চতুর আর স্মার্ট।মৌনতা ওসবের ধারে কাছেও নেই।রণ নিজেও ব্যপারটা খারাপ ভাবে নিবে।বাড়িতে অযথা ঝামেলা লাগবে।
দুদিন ধরে আসা নাতি বউয়ের ঔদ্ধত্য দেখে দেওয়ান মির্জা শব্দ করে দলিল টেবিলে ছুড়ে মারলেন।অতঃপর ভারী গলায় বললেন
“আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি রেহনুমা।তোমার ছেলের বউ আজই আমাকে বড় বড় জ্ঞান দেওয়া শুরু করেছে দেখছি।এখন বুঝতে পারছো কেন এই মেয়ে ঘরে তুলতে চাইনি?
রেহনুমা চোখ গরম করে ছেলের বউকে সড়তে বললেন।রেহনুমা জানেন মৌনতার কারো সঙ্গে সম্পর্ক আছে।মনে একজন কে ঠাঁই দিয়ে অন্য কারোর সঙ্গে সংসার পাতা বড্ড কষ্টসাধ্য ব্যাপার।তাই রেহনুমা নরম গলায় মিথ্যে বললেন যাতে নিজের গায়ে কোন দোষ না আসে।
“মৌনতা কে আমারও বেশ পছন্দ আব্বা।মৌনতার কথা রণকে আমি বলেছিলাম সৌম্য’র বিয়েতে।ও কোনো ভাবেই মৌনতা কে বিয়ে করতে রাজি নয়।যাকে ছোট থেকে বোনের মতো স্নেহ করে এসেছে তাকে বিয়ে করা ওর পক্ষে সম্ভব নয়।
কথাটা বলেই মাথা নত করে ফেললেন রেহনুমা।মৌনতা তাৎক্ষণিক বিস্ফারিত কাতর চোখে রেহনুমার পানে তাকালো।কথাটা বিশ্বাস হলো না তার।মৌনতা রেহনুমার থেকে চোখ সরিয়ে দেওয়ান মির্জার পানে তাকালো।অতঃপর ক্লান্ত গলায় ডাকলো
“দাদু ভাই!
দেওয়ান মির্জা রেহনুমার পানে অনিমেষ তাকিয়ে রইলেন।কোন মিথ্যে কথা বা চাতুরির অভ্যেস রেহনুমার নেই।সেই ছোট বেলায় নিজে পছন্দ করে মেয়েটাকে ঘরে তুলেছিলেন দেওয়ান মির্জা।তবে আজ রেহনুমা এতবড় মিথ্যে কি করে বললো?
মৌনতা কলের পুতুলের ন্যয় উঠে দাঁড়িয়ে সিঁড়ি ধরে নিজের ঘরে গেল।শায়লা রান্না ঘর থেকে সমস্ত কথাবার্তা শুনলেন।ভয়ে শিউরে উঠলো তার হাত পা।মৌনতার হৃদয় ভাঙবে তিনি জানেন।তবে আসন্ন ঝড় কে ফেরাবে?
হেডকোয়ার্টারে নিজের মিশন সংক্রান্ত সকল পেপার্স সাইন করে জমা দিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে গেলো রণ।হাতে বেশ কয়েকদিন সময় আছে।আপাতত ছুটি।বাড়ি যেতে খুব ইচ্ছে করছে।আবার মৌনতার মামা বাড়ি গিয়ে মৌনতা কেউ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে।তখন মৌনতার সাথে এতোটা নিষ্ঠুর ব্যবহার করা উচিত হয়নি তার।রাগের বশে মাথা ঠিক ছিলো না।এদিকে মৌনতার জেদ মিশনের উপর খাটিয়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারলো রণ।মৌনতার কান্নারত মুখটা বারবার চোখে ভাসছে।রণ নিজের ফোন চেক করলো।হৃদয়হীনা একটা মিসড কল পর্যন্ত দেয়নি।ঠোঁট কামড়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে সায়নির নম্বর ডায়াল করলো রণ।রিং হতেই ফোন তুললো সায়নী।
“হ্যালো!
“সায়নী আমি রণ,মৌনতা কে দাও”
“মৌনপু তো দুপুরেই গ্রামে ফিরে গেছে রণ ভাই।
রণ ভ্রু কুঁচকে দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ালো।অতঃপর লাইন কেটে নিজের জিপ নিয়ে ছুটলো গ্রামে।
রাতে আর খাওয়া হলো না মৌনতার।শায়লা নিজেও ডাকলো না।তার নিজেরই গলা দিয়ে খাবার নামছে না।সাদনান মির্জা আজকাল বাড়ি ফিরেনা বললেই চলে।মানুষটার অস্বাভাবিক আচরণ তাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।কোনো কিছুরই আগা মাথা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
নিজের খোলা বেলকনিতে আকাশের পানে এক মনে তাকিয়ে আছে মৌনতা।চাঁদে ঢাকা আকাশটা ধীরে ধীরে মেঘে ঢেকে যাচ্ছে।সেই সাথে পাতলা হাওয়া বইছে।বৃষ্টি হবে বোধ হয়।
সন্ধ্যা বেলার রেহনুমার কথা গুলো বারবার কানে বাজছে মৌনতার।রণ’র সাথে কঠিন এক বন্ধনে ইতোমধ্যে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছে সে।চাইলেও এ বাধন ভাঙা সম্ভব নয়।কিভাবে সামনের পরিস্থিতি সামাল দিবে মৌনতা?রেহনুমা তাকে ভুল বুঝে মুখ ফিরিয়ে নেবে না তো?
মৌনতা নিজের অমানিশা ঘেরা ভবিষ্যৎ দেখে মুখে ওড়না গুঁজে গুঙিয়ে কেঁদে উঠলো।যে জিনিসটা ভালোবাসা পর্যন্ত ঠিক ছিলো অতি বাড়াবাড়ি তে তা বিয়েতে গিয়ে ঠেকেছে।রণ কখনোই মৌনতা কে মুক্তি দেবে না।মৌনতা মুক্তি চায় ও না।আবার একই ছাদের নিচে রণ’র পাশে অন্য কাউকেও মৌনতা সহ্য করতে পারবে না।তবে উপায় কি?এ কেমন কঠিন অন্তর্দহ?
মৌনতা ঘড়িতে সময় বুলালো।রাত প্রায় দেড়টার কাছাকাছি।আকাশের মেঘ ঘন হয়ে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি শুরু হলো।বাতাসের তোড়ে ছোট ছোট বৃষ্টি কণা এসে মৌনতার সফেদ ফ্যাকাসে মুখ ভিজিয়ে দিলো।এমন সময় গেটের কাছে শব্দ হলো।মৌনতা সেই শব্দ তোয়াক্কা করলো না।এসব অযাচিত শব্দে তার কি আসে যায়.?
নাক ডেকে ঘুমানো আক্কাসের বাটন ফোনটা হঠাৎ শব্দ তুলে বেজে উঠলো।ত্বরিত ঘুম জড়ানো চোখে ফোন কানে তুলে আক্কাস বলে উঠলো
“এতো রাইতে কোন হালায়?
“নিঃশব্দে গেট খোল আক্কাস,আমি রণ।
মুহূর্তেই আক্কাসের ঘুম গায়েব হলো।ধরফরিয়ে উঠে লুঙ্গির গিট ঠিক করে দৌড়ে গেলো বাইরে।ইতোমধ্যে বৃষ্টির গতি তেজ হয়েছে।রণ’র সঙ্গে সঙ্গে আক্কাস ও ভিজে গেলো।
“ভাইজান চাচীরে ডাকমু?
“দরকার নেই।আমি ঘুমাবো এখন।কারো সাথে কুশল বিনিময়ের মোডে নেই।
বলেই হনহন করে সিঁড়ি ধরে নিজের ঘরে চলে গেলো।
মৌনতা এক দৃষ্টিতে বৃষ্টির ধারা ভেদ করে রণ’র বেলকনি পানে তাকিয়ে রইলো।এক সময় এখানে তাদের ভালোবাসাময় খুনসুটি রচিত হতো।আজ সব বেদনা দায়ক স্মৃতি।
ভাবনার মধ্যখানে আকস্মিক তার বুকে ধকধক করে উঠলো।মৌনতার শরীর অসাড় হলো।ঠিক যেমনটা রণ’র উপস্থিতিতে হয় তেমন।মৌনতা থরথর করে কেঁপে উঠলো।বেলকনি থেকে সরে আসতে চাইলো মৌন।কিন্তু জ্বলে উঠলো রণ’র ঘরের লাইট।মৌনতা বেলকনির রেলিং খামচে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।ভেজা শার্ট খুলে বেলকনিতে এসে দাড়ালো রণ।চারিধারে তুমুল বর্ষণ।সেই বর্ষণ উপেক্ষা করে মৌনতার বেলকনিতে নজর পাতলো রণ।সহসাই বিদ্যুৎ চমকালো।বৈদ্যুতিক ঝলকে দুজন দুজনকে দেখলো।মৌনতার ঝাপসা ভেজা মুখশ্রী রণ’র বুকে কাঁপন তুললো।মন কে শাসালো ওই বজ্জাত মেয়ের ভালোবাসায় আর সিক্ত হবে না সে।কিন্তু মনটা বড্ড বেহায়া বেয়াড়া।টিকতে পারলো না রণ।তার ভাব গাম্ভীর্য তাকে বুড়ো আঙুল দেখালো।নিজের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে মিনিট দুইয়েকের ব্যবধানে সপাটে ধাক্কা দিয়ে খুললো মৌনতার ঘরের দরজা।এরপর সিটকিনি আটকে এসে দাড়ালো মৌনতার পিছনে।রণকে পেয়ে মৌনতা জাপ্টে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠলো
“আমাকে মাফ করে দাও রণ ভাই।তখন আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না।বাড়ির সকলেই এই ঘটনা জানলে কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে ভেবেই ভয়ে গুটিয়ে গেছিলাম আমি।তুমি তো জানো আমি কত ভীতু!আমি তোমাকে বোঝাতে চাইছিলাম বিষয় গুলো।কিন্তু অক্ষম হয়েছি।আমাকে এতবড় কঠিন শাস্তি তুমি দিও না।তোমাকে না দেখে আমি মরে যাবো।তোমার গলা না শুনলে আমি যে বধির হয়ে যাবো রণ ভাই।
বলেই মৌনতা রণ’র বুক ছেড়ে পা জড়িয়ে ধরে আকুল হয়ে কাঁদলো।
“তোমার পায়ে পড়ছি।আমাকে লঘু পাপে এহেন গুরুদন্ড দিও না।রূহ পর্যন্ত কেঁপে উঠবে।
মৌনতার কান্না রণ’র বুকে অসহনীয় ব্যথা তুললো।সে নিজেও অবুঝের মতো আচরণ করেছে মৌনতার সাথে।ছোট মৌনতা কে একটু সময় দেয়া উচিত ছিলো তার।কিন্তু অধিকার ফলাতে ব্যস্ত হয়েছিলো সে।রণ লজ্জিত হলো নিজের আগ্রাসী আচরণে।পা থেকে মৌনতা কে ছো মেরে টেনে তুলে রুমে নিয়ে এসে বেলকনীর দরজা আটকে দিলো।বৃষ্টি তে মেয়েটা পুরোটাই ভিজে গেছে।সকালের দেয়া চোখের কাজল লেপ্টে রয়েছে গাল পর্যন্ত।দীর্ঘ সময় ধরে বোধ হয় কাঁদছিলো গাধিটা।নাকের ডগা লাল হয়ে উঠেছে।সেই সাথে অনবরত কাঁপছে ঠোঁট আর থুতনি।
রণ একটা টাওয়েল নিয়ে মৌনতার চুল মুছে বলে উঠলো
“ওসব রাগের মাথায় বলেছি।ভুল আমার।তোকে সময় দেয়া উচিত ছিলো।যা হয়েছে ভুলে যা।
বলেই তোয়ালে মৌনতার হাতে গুঁজে বলে উঠলো
“ঘুমা, ড্রেস পাল্টে নিস।নয়তো সর্দি লেগে জ্বর বাঁধবে।
বলেই পেছন না ফিরে পা বাড়ালো।হাতের তোয়ালে ছুড়ে ফেলে মৌনতা দৌড়ে গিয়ে রণ’কে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।রণ’র পা জোড়া থামলো।রণ পেছন ফিরলো।মৌনতা এখনও হেঁচকি দিয়ে কেঁদে যাচ্ছে।রণ মৌনতার হেঁচকি তোলা কম্পিত সেই ঠোঁটের পানে এগিয়ে এলো।পরক্ষণেই নিজেকে সরিয়ে বলে উঠলো
“রাগ করিনি।ঘুমিয়ে পড়।
মৌনতা মাথা ঝাঁকালো।রণ বিস্ময়ে শুধালো
“তবে?
মৌনতা টাইলসে আঙ্গুল খুটে রণ’র পেটে গুতাতে গুঁতাতে বললো
“আজ আমাদের প্রথম রাত।বিয়ের পর কি হয় আমি জানি।
রণ ভ্রু উঁচু করে বললো
“কি জানিস তুই?
মৌনতা লজ্জায় লাল হলো।সে উত্তর দিতে পারলো না।রণ মেকি রাগ দেখিয়ে বললো
“দুপুরে কি প্রবলেম ছিলো?
“জানিনা।
“ঘুমা, তোর মাথায় গ্যাস্ট্রিক আছে।
মৌনতা লজ্জা ভেঙে রণ’র ঘনিষ্ঠ হলো।এরপর রণ’র হাতটা টেনে নাভির পাশের ফোস্কা তে স্পর্শ করিয়ে বলে উঠলো
“জন্ত্রনা দিয়েছো কিন্তু উপশম করো নি।এখনো কষ্ট পাচ্ছি আমি।
বলেই জামা তুললো।ফকফকে লাইটের আলোতে স্পষ্ট দেখা গেলো দগদগে গোলাপি ভয়ানক ফোস্কা।তাতে জল জমে চামড়া ফুলে রয়েছে।রণ’র মায়া হলো মৌনতার জন্য।মৌনতা জামা নামিয়ে বলে উঠলো
“এর চাইতেও যন্ত্রনা দগ্ধ ভালোবাসা আমি সইতে পারবো রণ ভাই।কিন্তু আমার বিশ্বাস এর চাইতে নিষ্ঠুর তুমি হবে না।
রণ মৌনতার জখমে আলতো চুমু একে বললো
“জখম যখন আমিই করেছি তবে সারাবো আমিই।
মুহূর্তেই বিকট শব্দে বাজ পড়লো।মৌনতা রণ’র চুল টেনে ধরলো ভয়ে।বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হ্যাচকা টানে মৌনতা কে কোলে তুলে চুমু খেলো রণ।মৌনতা তাল মেলালো রণ’র সাথে।মৌনতা কে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে হাঁপাতে হাঁপাতে রণ শুধালো
“বাধা দিবি?ভেবে বল!এবার কিন্তু মাফ পাবি না।
মৌনতা রণকে নিজের একনিষ্ঠ কাছে এনে ভাঙা আবেশীত গলায় বলল
“তোমার হাতে মরার শখ জেগেছে!দোহায় লাগে মেরে ফেলো আমায়।
অনুমতি পেয়ে ক্ষুধার্ত চিতার ন্যয় উন্মাদ হলো রণ।মৌনতা একান্ত তার।তার বিয়ে করা বৈধ একমাত্র বউ।নিজের বুকে জমানো সমস্ত ভালোবাসা সেই বউকে বিলিয়ে দিতে কার্পণ্য করবে না রণ।
ইলেক্ট্রিসিটি বিদায় নিলো বজ্রপাতের তান্ডবে।রণ বিদ্যুৎ আলোকে মৌনতা কে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে বলে উঠলো
“খুব ব্যথা দেব।সইতে পারবি?
মৌনতা শক্ত করে খামচে ধরলো রণ’র উদোম পিঠ।রণ মৌনতার গলার ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে অন্যহাতে মৌনতার মুখ চেপে ধরলো।অসহনীয় ব্যথায় কুঁকড়ে গেলো মৌনতা সেই সাথে চোখ বেয়ে গড়ালো জল।মৌনতার ধারালো নখ গেঁথে গেলো রণ’র শক্ত পিঠে।মৌনতার মুখ থেকে হাত সরিয়ে রণ ফিসফিস করে বলে উঠলো
“তোর জন্য এই জান কোরবান বউ।তোর সতীত্ব হরণ করেছি আমি।নিজেকে সর্বোচ্চ ভাগ্যবান পুরুষ মনে হচ্ছে।জীবনে আর কিছু পাওয়ার বাকি নেই।
সারিকা হোসাইন – Sarika Hossain
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩২