মাইটক্সিকহাসব্যান্ড
পর্ব_২৩
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
কুহেলির চোখে এখনও অবিশ্বাস—পনেরো কোটি টাকা!যে পরিমাণের অঙ্ক শুনলেই সাধারণ মানুষের মাথা ঘুরে যায়,আবরার সেটা বলছে যেন চা-নাস্তার বিল।
আবরার এক হাত দিয়ে কুহেলিকে কাছে টেনে রেখেছে,আরেক হাত আলগা করে তার ভেজা চুল সরিয়ে দিচ্ছে কাঁধ থেকে।
কি হয়েছে তোমার?আবরারের কণ্ঠটা শান্ত, ঠান্ডা অথচ ভরাট।মাত্র তো পনেরো কোটি টাকা। এভাবে চিৎকার করছো কেনো?
কুহেলি বিস্ফারিত চোখে তাকালো।তারপর অবিশ্বাস কন্ঠে বললো,পনেরো কোটি টাকা আপনার কাছে মাত্র? আপনি জানেন, আমার কাছে পনেরো কোটি টাকা থাকলে আমি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ভাবতাম!
কুহেলির অবাক মুখ, সরল কথাগুলো আবরারকে হঠাৎ হাসিয়ে দিলো।একটা গভীর, নরম, পুরুষালি হাসি যা শুনলে বুকের ভেতর অদ্ভুত কাঁপুনি ধরতে বাধ্য।
কুহেলি আবরারের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
হাসিটা যেন ধীরে ধীরে তার চোখে গলে পড়ছে নরম উষ্ণতার মতো।
ইস! এই লোকটা হাসলে কত সুন্দর লাগে!
মনে হয় এই মুহূর্তটাই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান দৃশ্য।সোনার চেয়ে দামি, আকাশের চাঁদের চেয়ে উজ্জ্বল।
আবরারের হাসির রেখা দেখতেই তার নিজের ভেতরে একটা ঝিকঝিক অনুভূতি ছড়িয়ে গেল।
কুহেলির মনে অদ্ভুত একটা প্রশ্ন মাথা তুলল এই হাসি কি শুধু ওর জন্য?নাকি অন্য কারো সামনে গিয়েও এভাবে হাসে?
ভাবতেই বুকের ভেতর গরম একটা কাঁপুনি উঠল।
চোখে ঈর্ষার নরম শিখা জ্বলে উঠল ধীরে ধীরে।
কেনো হাসবে অন্য কারো সামনে?
ওর হাসি তো শুধু কুহেলির জন্য—ওর চোখের উজ্জ্বলতা,ওর ঠোঁটের বাঁক,ওই পুরো হাসিটা সবই তো কুহেলির একান্ত সম্পত্তি।
মনের ভেতর এমনই ঝড় উঠল যে
কুহেলি নিজের অজান্তেই আবরারের বুকের কাছে শার্টের কলারটা শক্ত করে চেপে ধরল যেন তাকে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে।
আবরারের হাসিটা থেমে গেল।ঠোঁটের কোণ নরম হয়ে এলো,আর চোখ দুটো বিস্ময়ে সামান্য বড় হয়ে উঠল।
সে কুহেলির মুখটা দুই হাতে আলতো করে ধরল যেন ছোট্ট কিছু একটা ঠিক বুঝে নিতে চাইছে।
কি হলো আমার ছোট্ট হরিণী?
তার কণ্ঠে অবাকভাব,আর কোথায় যেন লুকানো মৃদু আদর।
কুহেলি প্রথমে কিছু বলার নয় এমনভাবে মুখ নামিয়ে রাখল।কিন্তু তার ভেতরের যে আগুনটা, সেটা এতক্ষণে জ্বলে উঠেছে আর তা লুকানোর মতো শক্তি তার নেই।
হঠাৎই কথা বেরিয়ে এলো মুখ থেকে যেন মনের ভেতর জমে থাকা দুঃসাহসটাই সব গিলে খেলো।
আপনি কুহেলির গলা কেঁপে গেল,কিন্তু দৃষ্টিটা ছিলো একদম সোজা।আপনি অন্য কারো সামনে এভাবে হাসবেন না।
আবরার থমকে গেল।তার চোখে এখন শুধুই কুহেলি আর কুহেলির চোখে শুধু ঈর্ষা আর অধিকারবোধ।
কুহেলি এবার পুরোটা বলে ফেলল এক নিঃশ্বাসে,
কোনো লজ্জা বা সংকোচ ছাড়া।
আপনি শুধু আমার সামনে হাসবেন বুঝতে পারছেন?অন্য কারো আপনার হাসি দেখার অধিকার নেই।আপনার হাসি দেখার অধিকার শুধু আমার।
কথাগুলো বলেই কুহেলির বুক ধুকপুক করতে লাগলো।নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিল না যে কথা সে ভাবতেও লজ্জা পেত,আজ সেটা সে আবরারের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ফেলেছে!
আবরার কুহেলির শেষ কথাগুলো শুনে এক মুহূর্ত স্তব্ধ রইল।তারপর ধীরে খুব ধীরে দাঁত দিয়ে নিজের নিচের ঠোঁট কামড়ে হেসে দিলো
সেই হাসিটা ছিলো মিশ্রণ আশ্চর্য, মজা, আর একটা গভীর পুরুষালি আকর্ষণ।
আবরার মাথা কাত করে বলল,কণ্ঠে টানটান মিষ্টি টিজ।
আমার বউ আমাকে নিয়েও জেলাস ফিল করে নাকি?
কুহেলি হঠাৎই নিচের দিকে তাকিয়ে গেল।
চোখ সরিয়ে নিলো,কিন্তু শরীরের প্রতিটা অংশ ওকে ফাঁস করে দিচ্ছে।
তার গাল দুটো লালচে গোলাপের মতো হয়ে গেছে,
আর চিকন অধর অল্প-অল্প কাঁপছে।লজ্জায়, অস্বীকারে, আর এক অদ্ভুত সত্যিতে।
আবরার গভীর দৃষ্টিতে সেই কাঁপা ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে থাকে যেন প্রতিটা কম্পন তার চোখের সামনে থেমে আছে।
কুহেলি আমতা-আমতা করে ফিসফিস করে বলল
না… মানে… আমি… আমি তো…!
কথা শেষ হওয়ার আগেই আবরার নিজের ঠোঁট খানা দিয়ে কুহেলির অধর খানা চেপে ধরলো। কুহেলির হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো ছোট্ট বদন খানা কেঁপে উঠলো। এতি মধ্যে আবরার কুহেলির ঠোঁট জোরে রাজত্ব চালানো শুরু করেছে শুরু চুমু খাচ্ছে না মাঝে মাঝে কামড়ে দিচ্ছে কুহেলি নিজেকে সামলাতে আবরারের গলার কাছে শার্ট খানা আরো শক্ত করে খামচে ধরলো।আবরার আরো উন্মাদ হলো, কখনো অধরের উপরে কখনো সারা অধর জোরে আবার কখনো অধরের এক কোণা আবার কখনো সারা অধর জোরে চুম্বনের বর্ষণ করছে।
সাথে হাত ঢুকিয়ে দিলো কুহেলির জামার নিচে তা নৃত্য করতে থাকে কুহেলির সারা বদন জোরে। কুহেলি এবার আর না পেরে আবরার কে ধাক্কা দিলো কিন্তু মতো বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী আবরারের সামনে কুহেলি সত্যি অসহায় ছোট্ট হরিণী মাত্র। আবরার এক চুল নড়লো না উল্টো অধরের চুম্বন আরো গাঢ় হলো।কুহেলির নিঃশ্বাস এবার আটকে রইলো শ্বাসতন্ত্রের মাঝে, আর কিছু ক্ষণ হলে মরেই যাবে। বেচারি কুহেলি মনে মনে আজব আজব কথা ভাবছে। এর মধ্যে অনুভব করলো আবরার ওকে ছেড়ে দিয়েছে সাথে সাথে কুহেলি লম্বা লম্বা নিঃস্বাস নিলো।মুখ খানা পুরো টকটকে লাল হয়ে আছে।
আবরার দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে বললো, একটুই চুমু দিলাম তাই এই অবস্থা?
কুহেলি দাঁতে দাঁত চেপে বললো, এটা কে একটু বলে অসভ্য লোক আমাকে এই ভাবে মেরে ফেলার প্ল্যান করেছেন? অথচ আমার এখনো ফ্রামের মুরগির বাচ্চার মতো কয়েক শত বাচ্চা পয়দা দেওয়াই হয় নি। কথা খানা বলেই কুহেলি রাগ দেখিয়ে আবরারের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো…!
বেচারা আবরার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বিরবির করে বললো, কয়েক শত মুরগির বাচ্চার মতো বাচ্চা পয়দা দিবে মানে? আমাকে দেখে কি মুরগ মনে হয় আমার বউয়ের…?!
~~
কুহেলি নিচে নেমে আসতেই প্রথমে যা দেখলো
ফেটিক্স আর শায়লা পাশাপাশি বসে গল্প করছে।
দু’জনের মুখেই স্বাভাবিক ভাব,তবে শায়লার চোখে লাজুক উজ্জ্বলতাআর ফেটিক্সের মুখ পুরো সিরিয়াস যেন অতি গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এই দৃশ্য দেখেকুহেলির কপালটা অল্প কুঁচকে গেল।শায়লা স্বভাবতই চঞ্চল,কিন্তু ফেটিক্স!
আবরারের ডানহাত,নামের আগে ‘ডেঞ্জার’ ট্যাগ লাগানো মানুষটাএকজন অচেনা মেয়ের সাথে গল্প করছে এটা যেন খুবই অস্বাভাবিক।
কুহেলি এগিয়ে আসতেই দু’জনই একসাথে চুপ করে গেল।ফেটিক্স তো এমনভাবে সোজা হয়ে বসলযেন হেডকোয়ার্টারের সামনে বসে আছে।
শায়লা হালকা অস্বস্তিতে গাল চুলকালো।
আর ফেটিক্সের মনে হলো তার সামনে পুরো ক্রাইম ব্রাঞ্চ দাঁড়িয়ে গেছে।
কুহেলি সোফার সামনে এসে দাঁড়াতেই ফেটিক্স তাৎক্ষণিক উঠে দাঁড়ালো।ঠিক যেন ক্লাস টিচার ঢুকলে ছাত্র দাঁড়ায়।
তারপর ফেটিক্স বিড়বিড় করে বললো,
আমি….. আমি যাচ্ছি
কুহেলি ভ্রু তুলে বললো,
আপনি কোথায় যাচ্ছেন ভাইয়া?
ফেটিক্স এক সেকেন্ডের জন্যও চোখ তুলে তাকাল না।শব্দগুলো আমতা-আমতা করে বের হলো
না মানে… এখানে এখানেই আছি।
শায়লা ঠোঁট কামড়ে হাসি চাপল।ফেটিক্সের এই অবস্থা দেখে।
কুহেলি এবার নরম গলায় বললো,
আচ্ছা, ভাইয়া আপনি যান, ফ্রেশ হয়ে আসুন।
তারপর আমরা সবাই একসাথে লাঞ্চ করবো।
ফেটিক্স যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল—আক্ষরিক অর্থেই।মনে হলো এতক্ষণ সে পানির নিচে ডুবে ছিল,এখন একটু মাথা তুলতে পারলো।
জ্বি!
একটানে বলে সোজা চলে গেল উপরের দিকে।
যেন জীবন ফিরে পেয়েছে।
ফেটিক্স সিঁড়ির মোড় ঘুরতেই শায়লা কুহেলির দিকে তাকিয়ে হাসি চেপে রাখতে পারলো না।
কুহেলি চোখ সরু করে তাকালো
কি?
শায়লা ফিসফিস করে বলল,
তোর এই বাড়িতে অনেক ইন্টারেস্টিং মানুষ রাখিস।
শায়লার হঠাৎ বলা কথায় কুহেলির চোখ দুটো আরও সরু হয়ে গেল।ভ্রু কুঁচকে, সন্দেহে ভরা গলায় বলল,
কেনো? তোর কি ভালো লেগেছে নাকি ফেটিক্স ভাইয়া কে?
শায়লা একটু চমকে গেল।তারপর মুখে সেই চিরচেনা বোকা মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল।গাল দুটো গোল হয়ে উঠল লজ্জায়।তারপর নিচু কন্ঠে বললো,ওনি খুব সুন্দর করে কথা বলে, রে! যে কোনো মেয়ে দেখলে ক্রাশ খাবে।
কুহেলি হাত বুকের কাছে গুটিয়ে চোখ একেবারে ছোট করে ফেলল।অন্য মেয়ের কথা বাদ দে।
নিজের কথা বল।
শায়লা শক্ত হয়ে গেল মুহূর্তেই।তারপর মাথা নিচু করে,ছোট্ট লাজুক হাসি দিয়ে বলল
আমারও ভালো লাগছে ওনাকে।
কুহেলি এক সেকেন্ড থমকে রইল।তারপর এমনভাবে ও আচ্ছা বলল।যেন পুরো ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব এখন তার ওপর।
তারপর বললো, আচ্ছা চল খাবি।
শায়লা মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসল দিয়ে বললো,
আচ্ছা।
দু’জন চেয়ারে গা এলিয়ে বসতেই মেইড এসে একে একে খাবার সার্ভ করতে শুরু করল। সুগন্ধ ভরা ধোঁয়া উঠে বিরিয়ানির প্লেট রাখতেই শায়লার চোখ যেন গোল হয়ে গেল।ও মাই গড! বিরিয়ানি!
বলেই সে আর কিছু না ভেবে চামচ তুলে নিল। প্রথম কোরমা মুখে তুলতেই তার চোখ আধখোলা হয়ে গেল সুখে।কুহেলি হালকা হাসল, কিন্তু নিজে খেতে হাত বাড়াল না। তার পুরো মন যেন আবরারের দিকে ওকে না দেখে, ওর সাথে না বসে সে খাবার শুরু করতে পারে না। চামচটা ঠোঁটের কাছে আনতে গিয়েও আবার নামিয়ে রাখল।
ঠিক তখনই সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো আবরার। ফ্রেশ হয়ে এসেছে কালো চুলে সামান্য পানি, সাদা টি শার্টে পরিচ্ছন্ন সৌরভ, আর চোখেমুখে সেই স্বাভাবিক ঠান্ডা-তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। কুহেলির চোখ স্বভাবতই তার দিকে টেনে গেল।
আবরার এগিয়ে এসে কুহেলির পাশের চেয়ারে বসতে বসতেই ধীর স্বরে বলল,
বাহ্, বিবিজান জামাইজান কে রেখেই খাবার শুরু? এটা কিন্তু মোটেও ঠিক না।
আবরারের ঠাট্টাটা শুনেই শায়লা থমকে গেল। মুখে এখনো বিরিয়ানির স্বাদ, কিন্তু চোখে যেন এক ঝটকা। সে না ভেবেই বলে ফেলল,
আপনি না মাফিয়া তবুও এতো সুন্দর করে কথা বলতে পারেন?
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড গল্পের লিংক
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২২