Golpo romantic golpo মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০


মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

পর্ব_১০

কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা

      হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

কুহেলির কথা শুনে আবরার বিস্মিত হয়ে বলে মানে কে তোমার ফ্যামিলি আর তুমি বা এই গির্জায় কি করছিলে..? আর আমি কবে তোমার ফ্যামিলি কে মেরেছিলাম…!

কুহেলি তীক্ষ্ণ চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করে…..!

আমার মা ছিলো আইসল্যান্ডের তুষারের মতো ফর্সা আর চুল সাদা আর সোনালী মিশ্রিত আর বাবা বাংলাদেশের এক তরুণ প্রকৌশলী যিনি প্রথমবারের মতো অফিসের কাজে এসেছিলো আইসল্যান্ডের বরফঢাকা দেশে।বাবা বলতো আইসল্যান্ডে নেমেই মনে হয়েছিল পৃথিবী যেন নিঃশব্দে সাদা হয়ে গেছে।সেই নিঃশব্দ সাদা জগতেই এক বিকেলে এই গির্জার সামনে তাঁর দেখা হয়েছিল আমার মায়ের সঙ্গে।প্রথমে ছিলো কেবলই এক পরিচয়, তারপর তা ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে গড়াল আর একদিন সেই বন্ধুত্ব নরমভাবে গলে গেলো ভালোবাসায়।

তাদের সম্পর্কটা সহজ ছিলো না আমার মা ছিলো খ্রিস্টান আর বাবা মুসলিম দুই বিশ্বাস, দুই দেশ দুই ভাষা সবকিছু আলাদা তবুও ভালোবাসার কাছে বাধা বলে কিছু ছিলো না।মায়ের বাড়ির সবাই প্রবলভাবে আপত্তি জানিয়েছিল।এক মুসলিমের সঙ্গে বিয়ে? অসম্ভব!কিন্তু মা ছিলেন একগুঁয়ে আর ভালোবাসায় বিশ্বাস করে মা পিছিয়ে যাননি মা সবাইকে উপেক্ষা করে বাবাকে বিয়ে করে।সেই এক সিদ্ধান্তে মা ভেঙে ফেলেন বহু প্রজন্মের রীতি আর তৈরি করেন নিজের পৃথিবী।বিয়ের পর দু’জন বাংলাদেশে চলে যায় অচেনা ভাষা, গরম আবহাওয়া, নতুন জীবন।কিন্তু ভালোবাসার উষ্ণতাই ছিলো মায়ের আশ্রয়।

একটু বলে কুহেলি একটু থামে তারপর আবার বলতে শুরু করে….!

তাকরিম ভাইয়ার বাবা আর আমার বাবার বন্ধুত্বটা ছিলো একেবারে শৈশব থেকে তারা দু’জন একসঙ্গে বড় হয়েছেন, একসঙ্গে স্বপ্ন দেখেছেন তাই আমাদের দুই পরিবারের সম্পর্কও ছিলো অনেক গভীর।আমি ছোট থেকেই তাকরিম ভাইয়াকে চিনি।আমাদের বাড়িতে তাঁর আসা যাওয়া এতটাই স্বাভাবিক ছিলো, যেন ওরা পরিবারেরই একজন।আর আমাদের বিয়ে টা ছোট থেকেই ঠিক হয়ে ছিলো।

দুই বছর আগের সেই ভ্রমণটা ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আর সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্ত।আমাদের পরিবার আমি আর তাকরিম ভাইয়া সবাই মিলে এসেছিলাম আইসল্যান্ডে।
দেশটা যেন রূপকথার মতো তুষারে মোড়া রাস্তা, সাদা আকাশ আর নরম নীল আলোয় ঝলমল শহর।

সেদিন আমরা এই হালগ্রিমসকিরক্যা গির্জায়
বাবা আর মা ভিতরে এসেছিলো কি কাজে যেনো আমাদের কে স্পষ্ট করে বলে নি।আর আমি আর তাকরিম ভাইয়া বাইরে দাঁড়িয়ে চারপাশটা দেখছিলাম।গির্জার ঘণ্টা বেজে উঠছিল ধীরে ধীরে আমি মুগ্ধ হয়ে সেই শব্দ শুনছিলাম।হঠাৎ করেই একটা তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ কানে এলো।মুহূর্তেই সবকিছু যেন থেমে গেলো।আকাশের রঙ বদলে গেল, ধুলো আর ধোঁয়ায় ঢেকে গেল চারদিক।আমি চিৎকার করে তাকরিম ভাইয়ার দিকে ফিরলাম তার মুখে আতঙ্ক, আর চোখে অসহায়তা।

আমরা দু’জন পাগলের মতো দৌড়ে এসেছিলাম গির্জার দিকে চারদিকে শুধু ধোঁয়া, আগুন, আর চিৎকার।আমি মাকে খুঁজে ডাকতে লাগলাম,মা! বাবা!কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি।ভাঙা কাচের টুকরোয়, ধোঁয়ায় আর পুড়ে যাওয়া কাঠের গন্ধেআমি তখন বুঝতে পারলাম আমার মা-বাবা আর নেই।

আমি চিৎকার করে কেঁদেছিলাম,তাকরিম ভাইয়া কে আমি জড়িয়ে ধরেছিল কিন্তু তাতে কিছুই থামেনি আমার পৃথিবী তখন ধ্বংস হয়ে গেছে।

সেই মুহূর্তে আমি শুনেছিলাম এক ভয়ংকর সত্য লোকেরা বলছিলো,এই বিস্ফোরণ নাকি কোনো দুর্ঘটনা নয়।একজন মানুষের জন্য করা হয়েছে একজন শত্রুর উদ্দেশ্যে..! আর তারা কি নাম বলেছিলো জানেন এরিক আবরার খান..! সেই দিন প্রতিজ্ঞা করি আপনাকে যেদিন আমি মারতে পারবো ঐ দিন আমি শান্তি পাবো। তারপর থেকেই আপনার ব্যাপার তথ্য জোগাড় করতে থাকি আর ঐ দিন ইচ্ছে করেই আমি ক্লাবে গেছিলাম কারণ আমি আগে থেকেই জানতাম আপনি ক্লাবে যাবেন আমি মনে মনে এটাই চাচ্ছিলাম যেনো আপনি আমাকে চয়েজ করেন তাই করেছেন…!

আবরার এতোক্ষণ সব কথা শুনলো বাট লাস্টের কথার জন্য প্রস্তুত ছিলো না ভিষন হাসি পেলো তবুও হাসলো না গম্ভীর মুখে বললো,

আমার নাম শুনেই মনে করলে আমি বোম মেরেছি এখানে.? কুহেলি বললো আপনি না মারলে কেনো আপনার নাম মানুষ বলবে..?আবরার বললো চলো বউ বাড়ি যাই তোমার শাস্তি এখনো বাকি বলেই কুহেলির হাত ধরে সাথে সাথে অপর হাত তাকরিম ধর বলে ও আমার ফিউচার ওয়াইফ ছাড় ওকে আবরার বাকা হেসে বলে তর ফিউচার আর আমার বর্তমান ওয়াইফ…!

কুহেলি দুই জনের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিলো তারপর আবরারের দিকে তাকিয়ে বললো,
আমি আপনার সঙ্গে যাবো না। আপনাকে আমি শেষ করে দিবো কারণ এটাই আমার জীবনের লক্ষ কথা টা শেষ করেই কোমড় থেকে বের করলো কাঁটা ডানায় ঝনঝন করে ঠাসা একটি ছুরি..!

আবরার তা দেখে বাকা হেসে মনে মনে বললো মেয়ে টা কি জানি এই সব করে নিজের বিপদ নিজেই বাড়াচ্ছে।

কুহেলি ছুরি খানা যখনি আবরারের পেটে ঢুকাবে ঠিক তখনি আবরার ওর হাত ধরে পেছন দিক থেকে মুচড়ে ধরলো একটি নীরব পুঙ্খানুপুঙ্খ গতিতে ঠিক তখনি তাকরিম এগিয়ে আসতে নিলে আবরার ফেটিক্স বলে চিৎকার দেয় সাথে সাথে ফেটিক্স সহ দশ জন বডিগার্ড গির্জার ভিতরে আসে..!

আবরার রাগি কন্ঠে বলে শালা রে বেঁধে ফেল..!

আবরারের আদেশ দিতে দেরি হয়, কিন্তু তা পালন করতে দেরি হয় না।দু’জন বডিগার্ড কালো পোশাক গলার কাছে মোটা রেডিও চোখে গাঢ় লেন্স এক নিমেষে তারা তাকরিমের দুই দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সে বুঝে ওঠার আগেই হাত দুটো পিছনে মুচড়ে ধরা পড়ল কাঁধের পেশিতে টান পড়ে মুখ দিয়ে হালকা একটা আর্তনাদ বেরিয়ে এলো।

ছাড়! আবরার এটা কী করছিস তুই?তাকরিম গর্জে উঠল, কিন্তু সেই গর্জন গির্জার গম্বুজে গিয়ে নিঃশেষ হয়ে গেল। বডিগার্ডরা পাথরের একটা পিলারের সাথে তাকরিমকে ঠেলে দিল হাত-পা শক্ত করে দড়ি দিয়ে বেঁধে দিলো খসখসে রশির শব্দ ছড়িয়ে পড়ল গির্জার নিস্তব্ধতায় প্রতিটা গিঁটে যেন প্রতিশোধের সুর।

কুহেলি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল চোখ দুটো স্থির, ঠোঁট কাঁপছে আবরার, থামোন প্লিজ এটা ঠিক হচ্ছে না…!

আবরারের চোখে অদ্ভুত এক স্থির আগুন জ্বলছিল মুখে ঠোঁটের কোনায় হালকা হেঁচকানো হাসি,কিন্তু সেই হাসি ভয়ঙ্কর দিয়ে বললো,

কেনো আমার থেকে পাখি তুমি না আমার থেকে প্রতিশোধ নিবে? চলো তাহলে নাও। কিন্তু তার জন্য আমাদের এক সাথে থাকতে হবে। তাই না?

তারপর কুহেলি কে এক ঝটকায় আবরার কাঁধে তুলে নিয়ে হাটতে থাকে বাহিরে দিকে, তখন তাকবির চিৎকার করে উঠল, কণ্ঠে ভয়ে আর কিছুটা হাহাকার মিশে ওকে ছেড়ে দে আবরার! আমি তকে ছাড়বো না!

আবরার কিছু বলল না। শুধু নিঃশ্বাস ফেলে স্থির হয়ে দাঁড়াল যেন অপেক্ষা করছে অপেক্ষা করছে যে কে তার সীমা ছাড়িয়ে যাবে।

কুহেলি হাত ছোটাছুটি করতে করতে কণ্ঠ কমিয়ে কিন্তু দৃঢ়ভাবে বলল,আমাকে ছেড়ে দেন আমি আপনার সাথে যাবো না। আর তাকরিম ভাইয়াকে ছেড়ে দেন।

আবরার কুহেলি কে নিয়ে গির্জার বাইরে এসে সোজা হেলিকপ্টারের উঠে যায়। আবরার কুহেলি কে কোলে নিয়ে শক্তভাবে ধরে রেখেছে যাতে ছুটতে না পারে।কুহেলি প্রাণপণ চেষ্টা করছিল নিজেকে ছাড়ানোর চোখে হাহাকার হাতে কেঁপে থাকা শক্তি, কিন্তু আবরারের হাতের লক শক্ত এবং অবিচল।

এবার আবরারের চোখে রাগ জ্বলছিল উঠলো তা দ্বিগুণ নয় বরং তিনগুণে পরিণত হলো,যেন আকাশের মেঘ কেঁপে উঠছে। হঠাৎ, আবরারের হাতে শক্তি আর ক্ষিপ্রতা মিশিয়ে পর পর দশটি থাপ্পড় দিলো কুহেলির দুই গালে। প্রতিটি থাপ্পড়ের সঙ্গে কুহেলির শরীর সামলাতে পারছিল না, মাথা কাত হয়ে পড়ছিল।

প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে কুহেলির মন নড়াচড়া করছিল, কিন্তু অবশেষে তার শক্তি ফুরিয়ে আসল। শক্তপোক্ত আঘাতের চাপে টাল সামলাতে না পেরে কুহেলি অজ্ঞান হয়ে তার শরীর ঢলে পড়ল আবরারের প্রস্তুত বুকের ওপর, নিঃশ্বাস থেমে গিয়েছে, চোখ বন্ধ।

আবরার কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়াল দেখলো কুহেলির অজ্ঞান দেহ বুকের ওপর শুয়ে আছে। তার চোখে রাগ আর সন্তুষ্টি দুইয়ের মিশ্রণ। হেলিকপ্টারের প্রপেলার ঘূর্ণনের শব্দ বাতাসে মিলিত হয়ে পুরো দৃশ্যকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলল।কুহেলি অজ্ঞান, হাত-পা ঢেলে আছে কিন্তু আবরারের দখলে। প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে আবরারের শক্তি আরও দৃঢ় হচ্ছে। হেলিকপ্টার ধীরে ধীরে উড়ে উঠল, আকাশে উঠতে উঠতে যেন শহরের সব আলো, সব শব্দ ধীরে ধীরে ছোট হতে লাগল।

আবরার এবার ভয়ংকর স্নান হেসে কুহেলির দিকে তীক্ষ্ণ ভাবে তাকিয়ে বললো, তর মতো কতো মেয়ে কে আমি এক হাতে কিনে অপর হাতে বেঁচে দেয়। যার শরীরের নেই একটা টিকটিকির সমান শক্তি সে আসছে আমার থেকে প্রতিশোধ নিতে…! হাউ ফানি বোইন….!

তারপর একটু থেমে রাগি কন্ঠে বললো, তুই আমাকে যতো টা কষ্ট দিয়েছিস তার থেকে দ্বিগুন কষ্ট তকে আমি দিবো দেখি তুই কতো টা সহ্য করতে পারিস..!

                          চলবে....!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply