মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_৯
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
এয়ারপোর্টের কাছেই ছোট্ট কিন্তু বিলাসবহুল একটা হোটেল বাইরের আলো-আঁধারি শহরটাকে আড়াল করে রেখেছে, আর তার মাঝেই কুহেলি ও তাকরিমের গোপন আশ্রয়।
ঘড়ির কাঁটা তখন বিকেল ছুঁই ছুঁই। কুহেলি সদ্য ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসেছে চুলের ডগা ভেজা, মুখে এখনো পানির ফোঁটা ঝুলে আছে কুহেলি ঠিক তখনই ফোনটা তুলে নিলো, হালকা ভাইব্রেশনে কাঁপছিল ডিভাইসটা।
স্ক্রিনে এক লাইন মেসেজ ভেসে উঠলো আবরার রওনা হয়েছে। আমাদের লোক ভিতরে সব ঠিক করে ফেলেছে।
মেসেজটি পাঠিয়েছে সেই মানুষ যাকে কুহেলি অনেক আগে থেকেই আবরারের বডিগার্ডদের দলে ঢুকিয়ে রেখেছিল।
কুহেলির ঠোঁটের কোণে এক বাকা আত্মবিশ্বাসী হাসি ফুটে উঠলো চোখে জ্বলে উঠলো সেই পুরনো প্রতিশোধের আগুন ধীরে ধীরে ফোনটা ব্যাগে রেখে সে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।
রুমের দরজা খুলে করিডোরে বেরিয়ে সে সোজা গিয়ে দাঁড়ালো পাশের ঘরের সামনে তাকরিমের রুম।দরজায় হালকা দু’বার নক করতেই ভেতর থেকে তাকরিম দরজা খুলে দিলো তাকরিম তখন বিশ্রাম নিচ্ছিলো, কিন্তু কুহেলির মুখের অভিব্যক্তি দেখেই বুঝে গেলো, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।
কুহেলির কণ্ঠ দৃঢ়, তবু তাতে চাপা উত্তেজনা আমাদের এখনই এয়ারপোর্টে যেতে হবে। আবরার আসছে।
তাকরিম চোখ তুলে তাকালো, মুখে এক শান্ত ভাব রেখে বললো,সব ঠিক আছে। আমাদের লোক সব করে দিয়েছে। তুমি শুধু আমার সাথে চলো।
কুহেলি ধীরে মাথা নাড়লো। তার চোখে তখন কোনো দ্বিধা নেই শুধু পরিকল্পনার ঠাণ্ডা নীল ছায়া।
দু’জন একসাথে বেরিয়ে গেলো করিডোরের আলো তাদের ছায়াকে লম্বা করে টেনে নিয়ে গেলো দরজার দিকে। লিফটের দরজা বন্ধ হওয়ার আগে কুহেলি শেষবারের মতো পেছনে তাকালো যেন কোনো পুরনো অধ্যায়ের দরজা চিরতরে বন্ধ করছে সে।
লিফট নামতে শুরু করলো। নিচে অপেক্ষা করছে কালো SUV, আর দূরে আকাশে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাতের শেষ ফ্লাইট যেখানে আবরার নামবে, আর শুরু হবে নতুন এক খেলার পর্ব…!
~~
রাত নামছে ধীরে ধীরে। আকাশের কালচে ছায়া যেন এয়ারপোর্টের কাচঘেরা দেয়ালের ওপর ঘনিয়ে এসেছে। লাইটগুলোর আলোয় পুরো জায়গাটা এক অদ্ভুত, নিস্তব্ধ উত্তেজনায় ভরা।
আবরারের গাড়ি এয়ারপোর্টের কাছে এসে থামলো। তার হাতে ধরা ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে লোকেশন ভেতরে এয়ারপোর্টের অভ্যন্তরে।
আবরারের ঠোঁটের কোণে এক বাকা হাসি ফুটে উঠলো। চোখের কোণে শিকারির মতো এক ঝিলিক নিচু গলায় বললো দেখি পাখি তুমি আসলে কতদূর উড়তে পারো?
ড্রাইভারের আসনে পাশের সিটে ফেটিক্স তখন নিঃশব্দ সে জানে, আবরার এখন যেই অবস্থায় আছে, তাকে কোনো প্রশ্ন করা মানেই ঝড় ডেকে আনা।
আবরার জানালার বাইরে তাকালো একবার তারপর গম্ভীর কণ্ঠে বললো ফেটিক্স, প্রাইভেট জেটটা প্রস্তুত করো। আমরা ওখানেই যাচ্ছি।
ফেটিক্স এক মুহূর্ত থমকে গেলেও কোনো প্রশ্ন করলো না। শুধু ছোট্ট এক “জী স্যার” বলে গাড়ি থেকে নেমে গেলো। দ্রুত ফোনে নির্দেশ পাঠালো সিকিউরিটি টিমের কাছে,জেট প্রস্তুত রাখতে হবে, এখনই।
কয়েক মিনিট পর ফেটিক্সের ফোনে ভেসে উঠলো এক লাইন মেসেজ সব রেডি, স্যার।
আবরার ফোনের স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে নিঃশব্দে হাসলো। সেই হাসি যা কারও শরীরে হিম ধরিয়ে দিতে পারে। ঠাণ্ডা, হিসেবি, আর তীব্র।
আবরার আস্তে বললো, যেন কেউ শুনছে না তবু সে শুনে ফেলুক, পাখি ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে তোমার জন্য।
গাড়ির দরজা খুলে সে নামলো ধীরে তার প্রতিটি পদক্ষেপে ভর করা ছিলো এক অদ্ভুত নিশ্চয়তা যেন মৃত্যু নিজেই হেঁটে যাচ্ছে রানওয়ের দিকে।
দূরে প্রাইভেট জেটের আলো জ্বলছে। ফেটিক্স পাশে দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে আছে, কিন্তু চোখ নামিয়ে রেখেছে নিচের দিকে আবরারের মুখের সেই শান্ত অথচ ভয়ংকর হাসিটা দেখার সাহস তার নেই।
আবরার সিঁড়ি বেয়ে জেটে উঠতে উঠতে আকাশের দিকে তাকালো। তার মুখে এখনও সেই অদ্ভুত শান্ত হাসি যে হাসি দেখলে মনে হয়, কেউ হয়তো এখনই নিজের শিকার ধরতে যাচ্ছে।
~~
ভোর তিনটা।
আইসল্যান্ডের আকাশে তখনো সূর্যের আলো ধরা দেয়নি কুয়াশা আর বরফে মিশে আছে গভীর নীল এক নিস্তব্ধতা। বিমানের চাকা মাটিতে ছোঁয়া মাত্রই এক ঝাঁক ঠাণ্ডা বাতাস জানালা বেয়ে ঢুকে এলো।
তাকরিম ধীরে চোখ খুলে চারপাশে তাকালো, পাশে বসা কুহেলি জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে চোখে দৃঢ়তা, ঠোঁটে কোনো আবেগ নেই মনে হচ্ছে সে অনেক আগেই সবকিছু ভেবে রেখেছে।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে দু’জনেরই মুখে নরম নিঃশ্বাসের ধোঁয়া উঠছে ভোরের ঠাণ্ডা কেটে যাওয়ার আগেই তারা দ্রুত গাড়িতে চড়লো। ড্রাইভার আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল সব পরিকল্পনামাফিক।
রাতের অন্ধকার পেরিয়ে গাড়ি এগিয়ে চললো উত্তরের পাহাড়ি পথে রাস্তাগুলো আঁকাবাঁকা, দু’পাশে বরফের স্তর আর মাঝে মাঝে দূরে দেখা যায় জমে থাকা নদীর উপর পাতলা কুয়াশার চাদর।
দুই ঘণ্টা পর গাড়ি ধীরে ধীরে থামলো এক পাহাড়ি ঢাল বেয়ে ওঠা রাস্তায়। কুহেলি জানালার বাইরে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো,
এটাই রেইকিয়াভিক যেখানে আমার সব শেষ করেছিলো এরিক আবরার খান আমার জীবন থেকে সব খুশি কেড়ে নিয়েছে আমি ছাড়বো না ঐ লোক কে জাস্ট নিজের হাতে খুন করবো…! বলতে বলতে রাগে মুখ খানা লাল হয়ে গেলো।
সামনের দিকটা ঘিরে আছে পাথরের তৈরি পুরনো স্থাপত্য, আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই গির্জা হালগ্রিমসকিরক্যা।বরফের আলোয় গির্জার চূড়াটা যেন আকাশ ছুঁয়ে আছে, মেঘের সঙ্গে মিশে গেছে তার ধবধবে সাদা সৌন্দর্য।
ড্রাইভার গাড়ি থামিলো সাথে সাথেই তাকরিম বাইরে নামলো সাথে কুহেলিও। ঠাণ্ডা হাওয়া মুখে আছড়ে পড়লো, কিন্তু কুহেলির মুখে কোনো পরিবর্তন নেই চোখে একই ঠাণ্ডা দৃঢ়তা।আর প্রতিশোধের আগুন…!
তারপর আর এক বার দু’জনে দুইজনের দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে ধীরে ধীরে গির্জার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো। আকাশে তখন হালকা আলোর রেখা ফুটে উঠছে নতুন ভোরের, কিন্তু সেই আলোয় লুকিয়ে আছে এক অচেনা রহস্যের ছায়া..!
গির্জার ভিতর নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে আছে কেবল ফটোর আলো খোসকা করে দেয় দেয়ালের ওপর। ধীর, ভারী শ্বাসের শব্দও প্রতিধ্বনি করছে। কুহেলি আর তাকরিম ধীরে ধীরে গির্জার কেন্দ্রে প্রবেশ করলো হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপ তাদের অন্তঃস্থলের প্রতিধ্বনি শোনাচ্ছে।
হঠাৎ দু’জনই থমকে গেল।
কিছুটা অন্ধকারের মধ্যে, তাদের চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আবরার লাল চোখের মনি দিয়ে তীক্ষ্ণ ভাবে তাকিয়ে আছে ঠোঁটের কোণে সেই বাকা হাসি, যা দেখলে শীতল ঘামের মতো রক্ত গলতে শুরু করে।
তার কণ্ঠ ধীর গভীর আর ভয়ঙ্করভাবে শান্ত
ওয়েলকাম, মাই স্কোয়াব আর আবর্জনা।
কুহেলি কাঁপলো না তবে চোখে আগুন। তাকরিম কাঁপছে না, শুধু না জানার আতঙ্কে তার শরীর শক্ত হয়ে গেছে।
আবরার ধীরে এগিয়ে আস তার চোখ দু’টো নিখুঁত শিকারির মতো ঝাঁপানোর জন্য প্রস্তুত নিজের শীতল কন্ঠে বললো,
তোদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। কতো বড় কলিজা আছে, কতো বড় তা দেখবো না কি?আমাকে গুলি করিস তারপর আমার চোখের সামনে দিয়ে পালিয়ে আসিস আমিও দেখবো তোদের কতো বড় কলিজা।
কুহেলি আর তাকরিম একে অপরের দিকে তাকালো দু’জনের বুকের ভেতর একই অনুভূতি অবজ্ঞা আর উত্তেজনার অদ্ভুত মিশ্রণ কুহেলি ঠোঁটের এক কোণে হালকা হাসি ফোটালেও চোখে সেই কাঁপন আর রক্তের উত্তেজনা স্পষ্ট।
তারপর কুহেলি শীতল কন্ঠে বলে আপনি কি আমাকে শেষ করবেন মিস্টার এরিক আবরার খান আমি আপনাকে শেষ করার জন্য এখানে এনেছি আমি শুধু চাই আপনার জীবন নিতে কারণ তাতেই আমার শান্তি আপনার কাছে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো এটা…!আপনি কি আমাকে বোকা ভেবেছেন যে এই আংটি হাতে আমি এমনি এমিন রেখেছি..? না আপনাকে এতো দূর আনার জন্য কারণ আপনি আমার হাসি খুশি ফ্যামিলি টা কে শেষ করে দিয়েছেন…! আমার খুশি কেড়ে নিয়েছেন তাও এই গির্জা থেকে..! তাই এই জায়গা টাই বেছে নিলাম আপনাকে শেষ করার জন্য..! প্রস্তুত হন মিস্টার মাফিয়া কিং আবরার খান।
কুহেলির কথা শুনে আবরার বিস্মিত হয়ে বলে মানে কে তোমার ফ্যামিলি আর তুমি বা এই গির্জায় কি করছিলে..? আর আমি কবে তোমার ফ্যামিলি কে মেরেছিলাম…!
কুহেলি তীক্ষ্ণ চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করে…..!
চলবে.....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৭