দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ১৮
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“বাবা মায়ের খোঁজে চট্টগ্রামে ফিরে এসেছে জারা। আজ তিন দিন ধরে বাবা মায়ের কোন খোঁজ না পেয়ে পাগল হয়ে গেছে জারা। আজ তিন দিন ধরে বাবা-মায়ের কোনো খবর নেই, এটা ভাবতেই তার গলা শুকিয়ে আসছে। সে বারবার তাদের ফোনে কল করছে, কিন্তু কেউ তুলছে না।
“তাদের পুরোনা বাসায় এসে উঠেছে জারা। ফ্রেশ হয়ে জামা চেঞ্জ হয়ে বের হয়ে যায় বাবা মায়ের খোঁজে”…….
☘️
“সন্ধ্যা সাত টা। চট্টগ্রাম পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের পাড়ে বসে আছে জাবির। পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাগরের দিকে। কাঁদে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে চোখের পানি মুছে নিয়ে পিছনে ঘুরে তাকায় জাবির। সামির এসেছে। সামির কে দেখে একটু হাসার চেষ্টা করে জাবির। সামিরের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার ও দৃষ্টি স্থির করে সমুদ্রের দিকে। সামির জাবিরের পাশে বসে। জাবিরের কাঁদে হাত রেখে বলে”…..
“আবার কি হয়েছে দোস্ত? এখানে এইভাবে মন খারাপ করে বসে আসিস কেনো”?…
“জাবির এইবার সামির কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে”!
“দোস্ত আদ্রিয়ানা কে ভুলে যাওয়া যুদ্ধে আমি ব্যর্থ। হাজার চেষ্টা করেও আদ্রিয়ানা কে ভুলতে পারছি না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে দোস্ত । আমি আদ্রিয়ানা কে খুব বেশিই ভালোবাসি! আদ্রিয়ানা অন্য কারো হয়ে গেছে এটা মেনে নিতে পারছি না আমি, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে , বুকের ভিতরে ভূমিকম্প চলছে’।
“সামির জাবির কে জড়িয়ে ধরে বলে”…
“মেনে নিতে কষ্ট হলেও মেনে নিতে হবে। যে মনে থাকে সেই ভাগ্য থাকে না। আদ্রিয়ানা তোর যোগ্য না। তুই আদ্রিয়ানার থেকে ব্যাটার কাউকে ডিজাভ করিস”।
“আদ্রিয়ানার থেকে ব্যাটার কাউকে আমার চাই না। আমার শুধু আদ্রিয়ানা কে চাই”..
“তুই আদ্রিয়ানা কে চাইলেও আদ্রিয়ানা কিন্তু তোকে চায় না। তাছাড়া আদ্রিয়ানার ব্যাপার টা আমার কাছে রহস্যময় লাগছে।”
“মানে?…..
“মানে টা হচ্ছে। আদ্রিয়ানা যদি সত্যি তোর সাথে ফোনে কথা বলতো, প্রেম করতো তাহলে তো তোকে চিনার কথা। আদ্রিয়ানা কিন্তু তোকে চিনে না”!
“চিনবে কেমনে ? আমার থেকে ব্যাটার অপশন পেয়েছে না। তাই আমাকে ভুলে গেছে”!
“আমার কেমন জানি খটকা লাগছে”..
“খটকা লাগার কারণ?……
“অনেক কারণ আছে, যেমন তোর কথা মতো আমি আদ্রিয়ানার খোঁজে বহদ্দারহাট বাজারে যায়। আদ্রিয়ানা কে দেখার পর দৌড়ে আদ্রিয়ানার কাছে যাই”।
“তারপর?…..
“হ্যালো আপনার সাথে কি দুই মিনিট কথা বলা যাবে”?
“কথাটা দুই বার বলি আমি কিন্তু আদ্রিয়ানা কোন রেসপন্স করে না। তৃতীয় বার বলার পর রেসপন্স করলেও আদ্রিয়ানার সাথে আমার কথা হয় না”!
“আদ্রিয়ানার সাথে কথা না হলে আদ্রিয়ানার নাম্বার কোথায় পেয়েছিলি”?…..
“ওর কাজিন জারার কাছ থেকে”!
“পুরোটা ক্লিয়ার করে বল তো”..
“সামির সেই দিনের কথা সব কিছু জাবির কে বলে। জারা যে জাবিরের ছবি দেখে জাবির কে অনেক হ্যান্ডসাম বলে ছিলো। এমন কি আদ্রিয়ানার ছবি চাওয়ায় সে নিজের ছবি দিয়েছিলো মানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছুই জাবির কে বলে সামির”।
“দোস্ত আমার মনে হয় এই জারা মেয়েটাই ……
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না সামির তাঁর আগেই জাবির বলে উঠে”…
“মনে হয় না আমি এখন ১০০% সিউর ওই জারা মেয়েটাই আদ্রিয়ানা সেজে আমার সাথে কথা বলছে”!
“আমার ও তাই মনে হয়, এই জারা মেয়েটাই এমন করছে।
“জাবিরের চোখে মুখে রাগের আভা ফুটে উঠেছে। রাগে গজগজ করছে জাবির। দাঁতে দাঁত চেপে বল”…
“এই জারা মেয়ে টা কে আমি ছাড়বো না। আমার সাথে প্রতারণা করার শাস্তি “তোকে পেতেই হবে, দেখিস তোকে কিভাবে শাস্তি দেই । তুই জানিস না আমি জাবির, তোর সাথে কথা বলা প্রতিটা মুহূর্ত আমি উপভোগ করেছি, আর তুই আমার সাথে কিনা করলি এই প্রতারণা! আমার ভালোবাসাকে নিয়ে খেলা, তোকে তো আমি…”
“জাবিরের গলা চেপে আসে রাগে”…..
“সামির জারার বাড়ি কোথায় জানিস”?…
“হুম জানি”!
“তাহলে চল”…..
“জাবির আর সামির গাড়িতে উঠে বসে। জাবির গাড়ি স্টাস্ট দেয়। আধা ঘন্টার মধ্যেই জাবির পৌঁছে যায় জারার বাড়ির সামনে। গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায় বাড়ির দিকে। জাবিরের পিছু পিছু সামির ও যায়”!
“বাড়ির মেন দরজায় তালা দেওয়া। জাবির সুজোরে লাত্থি মারে দরজায়। জাবিরের চোখে মুখে এখনো রাগ স্পষ্ট। জাবির আবার ও দরজায় লাথি মারে”!
“সামির জাবিরের কাঁধে হাত রেখে বলে”……..
“দোস্ত, শান্ত হ। আমরা ঠিকই তাকে খুঁজে বের করব। তোর রাগটা এখন কমা।
“জাবির সামিরের দিকে তাকিয়ে বলে”…..
” ২৪ ঘন্টা মধ্যে ও কে খুঁজে বের কর।আমি তাকে দেখে নেব। সে ভেবেছে আমি কিছু জানি না, আমি কিছু বুঝি না। আমি তাকে দেখিয়ে দেব আমি কে।” জাবিরের চোখে এখনও রাগের আগুন জ্বলছে”।
সবাই আমার নতুন পেইজ টা ফলো করে দাও প্লীজ। পেইজের লিঙ্ক
☘️
“রাত এগারোটা। বারান্দায় থাকা দুলনায় আদ্রিয়ানা কে কোলে নিয়ে বসে আছে আদনান। আদ্রিয়ানা আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছে। রাতের নীরবতায়, চাঁদের আলোয়, আদনান আর আদ্রিয়ানার ভালোবাসা যেন আরও গভীর হয়ে উঠেছে। তাদের চোখে চোখে কথা হচ্ছে, ভালোবাসার অমর ভাষা”।
“তাদের ভালোবাসা যেন একটা নদীর মতো, যা প্রতিদিন আরও গভীর, আরও প্রশস্ত হচ্ছে। তারা একে অপরের সাথে কথা বলে, হাসে, আর ভালোবাসার গল্প তৈরি করে।”
“রাতের নীরবতায়, চাঁদের আলোয়, আদনান আর আদ্রিয়ানার ভালোবাসা যেন একটা অমর কাহিনী হয়ে থাকবে”।
” আদ্রিয়ানা আদনানের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে আস্তে করে বলে”…….
“জামাইজাননননন”?……
“বলেন বৌ জান”!
“আমার না গান শুনতে ইচ্ছে করছে, একটা গান শুনান না”।
“শুনাতে পারি তবে একটা শর্ত আছে”….
“কি শর্ত জামাই জান”?….
“আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দিয়ে নেশালো কন্ঠে বলে”…..
“গান শুনার পর ডিস্টিং ডিস্টিং খেলতে দিতে হবে”?
“সরি মিস্টার পান্ডা। আপনাকে ডিস্টিং ডিস্টিং খেলতে দিয়ে নিজের শরীরের বারোটা বাজাতে চাই না”।
“আজকের শরীরের বারোটা বাজাবো না। লিমিটের মধ্যে থাকার চেষ্টা করবো প্রমিজ”।
“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি এই কথা টা আগের বারও বলছেন কিন্তু শেষে…..
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা। তাঁর আগেই আদনান বলে উঠে”….
“কন্ট্রোললেস হয়ে একটু বেশি করে ফেলি”।
“একটু বেশি না অনেক বেশি। যেখানে ছুন সেখানেই ক্ষত হয়ে যায়”।
“নরম সরম আদরে মজা নেই। আই লাভ ডার্ক রোমান্স। আমার বৌ যেহেতু হয়েছে সেহেতু প্রতিরাতেই ডার্ক রোমান্স সহ্য করার ক্ষমতা রাখতে হবে, বুঝতে পারছো সুইটহার্ট”?…
“মাফ চাই দোয়াও চাই। আমি পারবো না ডার্ক রোমান্স সহ্য করতে”।
“দোয়া করে দিলাম যাও, এইবার ডার্ক রোমান্স সহ্য করতে পারবা”।
“দুষ্টু পান্ডা দুষ্টু কথা বন্ধ করে একটা গান শুনান না”।
“আদনান আদ্রিয়ানার কপালে একটা চুমু খাই। আদ্রিয়ানা কে নিজের বুকে আগলে নিয়ে আদনান গাইতে শুরু করে”….
“তোমার চেয়ে আর কে বেশি বাসবে আমায় ভালো”….
“আধার ভরা জীবনে তুমি তো আশার আলোললললল”……….
“তুই তো আমার সব রে পাগল তুই তো আমার সব”।
“তুই তো আমার বেঁচে থাকার বড় অনুভব”।
“তুই তো আমার সব রে পাগল তুই তো আমার সব”।
“তুই তো আমার বেঁচে থাকার বড় অনুভব”।
“আদনানের গান গাওয়া শেষ হতেই আদ্রিয়ানা শরীরে সব শক্তি দিয়ে আদনান কে জড়িয়ে ধরে বলে”….
“মিস্টার পান্ডা বৌ কে ইমপ্রেস করতে তো ভালোই পারেন দেখা যায়”….
“ইমপ্রেস না বৌজান, এটা আপনার প্রতি আমার ভালোবাসা।
“আদ্রিয়ানা আদনানের ঘাড়ে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়”।
“বৌ জান ঘাড়ে চুমু দিয়ে তো ডিএনএ উত্তেজিত করে দিয়েছেন। রুমে চলেন ডিস্টিং ডিস্টিং খেলা শুরু করি”।
“আদ্রিয়ানা লজ্জা পেয়ে আদনানের বুকে মুখ গুঁজে ফেলে। আদনান আদ্রিয়ানা কে কোলে নিয়ে দুলনা থেকে উঠে রুমের ভিতরে চলে যায়। আদ্রিয়ানা কে বেডে শুইয়ে দিয়ে আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে আদ্রিয়ানা কপালে একটা গভীর চুমু খেয়ে নিজেও শুয়ে পড়ে। আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মাথা রেখে আদনান কে জড়িয়ে ধরে। আদনান ও আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনে হারিয়ে যায় ঘুমের রাজ্যে”।
“তোমাগো কাছে আমার একটা চাওয়া। আমার পেইজে একটা করে রিভিউ দিয়ে দিবা প্লীজ। সবাই একটা করে রিভিউ দিয়ে দাও প্লীজ। আমার গল্প আপনাদের কাছে কেমন লাগে। কোন গল্প টা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে। সেই গল্প সম্পর্কে একটা করে রিভিউ দিয়ে দাও প্লীজ প্লীজ প্লীজ”।
চলবে…..
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক