She_is_my_obsession
পর্ব:২৯
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
সকাল নয় টা বাজে।
বাইরে আজ ও সূর্য উঠেনি। কুয়াশার আস্তরণে ডেকে আছে প্রকৃতি। ধীরে ধীরে ফোঁটা ফোঁটা কুশায়া পড়ছে। ড্রয়িং রুমের কাঁচের দেয়ালের সাথে লেপ্টে দাঁড়িয়ে আছে ইসরাহ। বিস্ময়কর অক্ষিযুগল সবুজে ঘেরা জঙ্গলের কোলে নিবদ্ধ। মুখে এক গাল পাস্তা। পাস্তা চিবুতে চিবুতে জঙ্গল নিয়ে গবেষণা করছে ইসরাহ। কুয়াশার মাঝে অদ্ভুত ভয়ংকর দেখাচ্ছে জঙ্গলটাকে।
–” লিটল গার্ল, কাম হেয়ার বেবি?”
–” আসছি, “
ফারিসের ধীর কন্ঠের ডাকে কাঁচের বেষ্টনীর দেওয়ালের পাশ থেকে সরে এসে; আদুরে বিড়াল ছানার ন্যায় ফারিসের শরীর ঘেঁসে সোফায় বসলো ইসরাহ। ফারিস পাস্তার বাটি থেকে এক চামচ পাস্তা তুলে দিলো ইসরাহর মুখে। পূর্ণ দৃষ্টিতে ইসরাহর দিকে তাকালো ফারিস। টপসের কলার টা ঠিক করে সুধালো সে;-
–” তুমি আমাকে কত টা ভালোবাসো প্রিন্সেস?”
–” অনেক টা, পরিমাপ জানি না।”
–” যদি কখনো শুনো, আমি তোমাকে পাওয়ার জন্য পাপ করেছি। তাহলে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে জান?”
–” হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”
–” উত্তর দাও।”
মুচকি হাসলো ইসরাহ। ফারিসের বাইশেপে মুখ গুঁজে ধীরে ধীরে সে প্রশ্ন করলো;-
–” আপনি বুঝি পাপ ও করেন? কি পাপ করেছেন ?”
–” এটা আমার প্রশ্নের উত্তর না লিটল গার্ল!”
–” যাবো না; ভালোবাসা পাওয়ার জন্য পাপ করলে তা পাপ হয় না।”
–” তোমার এন্সার কি তখনো সেইম থাকবে?”
–” হুমম।”
–” হা কর।”
ইসরাহ হা করতেই ফারিস শেষ চামচ পাস্তা ও কে খাইয়ে; বাটি টা নিয়ে সোফা ছেড়ে উঠে গেলো। ইসরাহ ফের গিয়ে দাঁড়ালো কাঁচের পাশে। মিনিট পাঁচেক ফেরোতেই ফারিস ফিরে এলো।
–” চলো প্রিন্সেস!”
ইসরাহ ঘুরে দাঁড়ালো, ফারিসের হাতে একটা কালো ওভার কোর্ট। ইসরাহ ফারিসের কাছে যেতেই তাকে কোর্ট টা পরিয়ে দিলো ফারিস। সাদা টপস আর কালো জিন্সের সাথে ওভার কোর্ট টা বেশ মানিয়েছে ইসরাহ পরণে। ফারিস ও ইসরাহ সাথে মিল রেখে সাদা শার্টের সাথে কালো ব্লেজার স্যুট পরেছে। তার উপর ওভার কোট।
প্রস্তুত হয়ে ইসরাহ কে ড্রয়িং রুমে বসিয়ে ই গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করলো ফারিস। পর পর হিটার অন করে গাড়িটাকে কিছুক্ষণ গরম হওয়ার সময় দিলো সে।
ঠান্ডা অবস্থায় গাড়ির স্টিয়ারিং ধরা টা ও মুশকিলের। হাত অবশ হয়ে আসে। গাড়ির চাকা ফিচলে যায়।
“দ্য গোল্ডেন হর্স রেসকোর্স” ফারিসের পাঁচ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা হর্স রেসিং ট্র্যাক।
তার ট্র্যাকের নাম বর্তমানে আন্তর্জাতিক গেমিং জগতে ও ছড়িয়ে পড়েছে। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত রেস ও হয় ভালো পরিমাণের। দ্য গোল্ডেন হর্স রেসকোর্সের টুয়েন্টি পার্সেন্ট শেয়ার আরসালান আতাকুলের নামে।
ট্র্যাকের মূল ফটকে এসে থামলো ফারিসের গাড়ি টা কালো গাড়ি টা। পার্কিং লটে গাড়ি পার্ক করে ইসরাহ কে নিয়ে ট্র্যাকে প্রবেশ করলো ফারিস। ইসরাহ চোখ বুলিয়ে চারদিকে অবলোকন করলো।
তার জন্য এই সব কিছুই নতুন। বাংলাদেশে থাকা কালীন খুব একটা ঘোরাঘুরি করতে পারেনি ইসরাহ। স্কুল আর কলেজ থেকে পিকনিকে গিয়ে ছিলো মোট দু’বার। তারপর আসফা বেগম আর আরহাম সিকদারের সাথে কক্সবাজার গিয়ে ছিলো একবার। এতোটাই তার ঘোরাঘুরির গন্ডি।
সারা মাঠ জুড়ে সোনালী বালি চিকচিক করছে। মাঠের চারদিকে লোহার বেড়ি দ্বারা ঘেরা। যাতে রেসের সময় কোনো ঘোড়া মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে দর্শকদের উপর আক্রমণ না করতে পারে।
সোনালী বালির বিশাল মাঠ টা পেরিয়ে গ্যালারির সরু সিঁড়ি বেয়ে অ্যাপার্টমেন্টে এলো ফারিস, ইসরাহ দুজনে। লিফটে চড়ে চারতলার বাটনে প্রেস করলো ফারিস।
–” আমরা কোথায় যাচ্ছি ফারিস?”
–” আমার কেবিনে লিটল গার্ল। তুমি ওখানে বসেই রেস দেখবে। বাইরে বেশ ঠান্ডা।”
ফারিসের কথার বিপরীতে ইসরাহ কিছু বললো না। ততক্ষণে লিফ্ট এসে থামলো ফোর্থ ফ্লোরে। লিফ্ট থেকে নামতেই লম্বা ব্যালকনি। দু’পাশে দুটো করে চারটে রুম। ফারিস প্রথম দরজাটাতে লক প্রেস করলো। মূহুর্তেই পিপ পিপ শব্দ করে দরজা টা খুলে গেলো। দরজা ঢেলে ইসরাহ কে নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো ফারিস জাওয়ান।
ওরা রুমে ঢুকে পড়তেই; ফারিসের রুমের অপজিটের দরজা টা বন্ধ করে দিলো লিয়ানা। রাগী চোয়াল নিয়ে আরসালান আতাকুলের সামনের সোফায় এসে বসলো সে। লিয়ানার সংকীর্ণ চোয়াল দেখে ফিচেল হাসলো আরসালান আতাকুল।
–” ফারিসের ওয়াইফ কে দেখেছো?”
–” হ্যাঁ, বাঙালি একটা ক্ষেত।”
ড্রিংসের গ্লাস টা মুঠোয় নিয়ে উঠে এসে লিয়ানার পাশে বসলো আরসালান।
–” ফারিস জাওয়ান কে তোমার লাগবে লিয়ানা?”
–” ইয়াহ, আই নিড হিম। হাউ বিগ করেজ হি ইজ! রিজেক্টস মি।”
লিয়ানার রাগে ঘি ঢালতে আরসালান নিচু স্বরে বললো;-
–” তুমি ওর ওয়াইফের মতো সুন্দর নাকি? ওর ওয়াইফ কে দেখেছো তুমি?”
–” কি বলতে চাইছো তুমি? ওই বাঙালি মেয়ে টা আমার থেকে বেশি সুন্দর? হাউ ফানি আরসালান!”
–” সহজ, ফারিসের ওয়াইফ ওর সামনে থাকলে তোমার আর ফারিস কে পাওয়া হবে না।”
–” হোয়াট ডু ইউ মিন?”
–” আই মিন, আই অ্যাম কলিং ফারিস জাওয়ান। আই উইল মেক হিম ড্রিঙ্কস হোয়াইল টকিং অ্যাবাউট রেসিং। দেন ইউ মিক্স অ্যাফ্রোডিসিয়াক চকলেট ইন হিজ ড্রিঙ্কস।”
–” তোমার এই প্ল্যান কাজে আসবে?”
–” ইউ নো দ্যাট, আফ্রোডিসিয়াক চকলেটে হর্ণির মেডিসিন থাকে। ফারিস এতোটাও সুপুরুষ না। যে হর্ণি হয়ে ও নিজেকে তোমার থেকে দূরে রাখবে!”
–” ওকে, “
–” বিনিময়ে আমাকে কি দিবে?”
লিয়ানা কপাল কুঁচকে নিলো। ডান হাত এগিয়ে স্লাইড করলো আরসালানের মুখশ্রীতে।
–” কি চাও তুমি?”
–” ফারিসের ওয়াইফ কে।”
আরসালানের হাত থেকে আলকোহলের গ্লাস টা কেড়ে নিলো লিয়ানা। এক চুমুক আলকোহল গিলে বললো সে;-
–” নিয়ে যাও, এমনিতে ও আমার সহ্য হচ্ছে না ওই মেয়ে কে।”
–” গুড,”
–” বাই দ্য ওয়ে আফ্রোডিসিয়াক চকলেট কোথায়?”
–” চকলেট বেড সাইড টেবিলের ড্রয়ারে আছে।”
লিয়ানা উঠে গেলো চকলেট নিতে। আরসালান ফোনের কল লিস্টে ঢুকে ফারিসের নাম্বার ডায়াল করলো। প্রথম বারেই ফোন রিসিভ করলো ফারিস।
–” ফারিস জাওয়ান স্পিকিং!”
–” কোথায় তুমি?”
–” কেনো? আমার দুঃখে হার্ট আট্যাক করেছো নাকি?”
আরসালান বিদ্রূপ হাসলো।
–” বলতে পারো তাই।”
–” তাহলে তোমার হার্ট আট্যাক করাই উচিত মিস্টার আতাকুল।”
–” আমার কেবিনে আসবে একবার? জরুরী কথা ছিলো।”
–” ফারিস জাওয়ানের এতো খারাপ দিন আসেনি। যে তোমার স্প্যাম ভর্তি রুমে গিয়ে জরুরী কথা শুনবে সে।”
–” রিজভি কাল সার্ভেন্ট দিয়ে সব ক্লিন করে ছিলো। তাই তুমি নিদ্বির্ধায় আসতে পারো।”
–” আসছি, রাখো।”
গ্যালারির কোলাহলের ঊর্ধ্বে, কাঁচঘেরা বারান্দায় বসে মাঠের দিকে তাকিয়ে আছে ইসরাহ।
তার সামনে টেবিলে কয়েক রকমের স্ন্যাকসের আইটেম আর জুস। ফারিস রুমে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিলো। আরসালানের কল পেয়ে ল্যাপটপ অফ করে উঠে দাঁড়ালো ফারিস। শক্ত বুট জুতোর শব্দ তুলে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো সে। ঝুঁকে ইসরাহ মাথায় চুমু খেয়ে আওড়ালো ফারিস;-
–” আর কিছু লাগবে লিটল গার্ল?”
মাঠ থেকে চোখ সরিয়ে ফারিসের দিকে তাকালো ইসরাহ। জুসের স্ট্রো টা মুখ থেকে বের করে মিষ্টি হাসলো সে।
–” না না এতো গুলো খাবার আমি শেষ করতে পারবো না।”
–” তাহলে দরজা টা ভালো ভাবে লক করে দাও। আমি আসলে পিপহোল দিয়ে দেখে তারপর খুলবে, কেমন?”
–” আচ্ছা।”
–” আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ফিরছি প্রিন্সেস। এই পাঁচ মিনিট নিজের খেয়াল রেখো লিটল গার্ল।”
চলবে
(প্রিয় পাঠক মহল
কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু! যারা পড়বেন রেসপন্স করবেন প্লিজ। আপনাদের রেসপন্স আমার লেখার উৎসাহ বাড়ায়। হ্যাপি রিডিং, ধন্যবাদ।)
Share On:
TAGS: She is my obsession, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ২৩
-
She is my Obsession পর্ব ২৪
-
She is my Obsession পর্ব ১৪
-
She is my Obsession পর্ব ২৫
-
She is my Obsession পর্ব ২৭
-
She is my Obsession পর্ব ২৮
-
She is my Obsession পর্ব ২১
-
She is my Obsession পর্ব ৩১
-
She is my Obsession পর্ব ১৮
-
She is my Obsession পর্ব ১০