প্রেয়সীর_অনুরাগ
লেখনিতে —#Sadiya_Jahan_Simi
পর্ব_০২
রাফসা ঘুমানোর আগে ভোর পাঁচটার এলার্ম দিয়ে রেখেছিল। পাঁচটা বাজতেই এলার্ম বেজে ওঠে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে রাফসা। ঘুমের ঘোরেই এলার্ম বন্ধ করে দেয়। তবে দশ মিনিট পর ঝংকার কাঁপিয়ে বেজে ওঠে এলার্ম আবারো। ধরফর করে উঠে বসে রাফসা। চোখে মুখে এখনো ঘুমের রেস। ঢুলু ঢুলু পায়ে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে ওযু করে আসে। ফজরের নামাজ আদায় করে। কিছু সময় কোরআন তেলাওয়াত করে। ছয়টা বাজে পড়ার টেবিলে পড়তে বসে। সাড়ে দশটা থেকে স্কুল । এখনো প্রচুর সময় আছে। সকালের পড়া খুব দ্রুত মুখস্থ হয় শুনেছে। তবে কখনো পড়তে বসা হয়নি। রাফসা সারাদিন মাফিক একটা রুটিন তৈরি করেছে আগে। তারপর বায়োলজি বই নিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকে। তবে বেশিক্ষণ ধরে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেনি।মাথা ধরে আছে। আজ প্রথম পড়তে বসেছে সকালে। তাই একটু মাথা ব্যথা করছে। বইটা রেখে উঠে দাঁড়ায়। এক কাপ কফি খেলে ভালো লাগবে।নিচে এসে দেখে বাড়ির তিন বউ বসে চা খাচ্ছে আর আড্ডা দিচ্ছে।রাফসাকে এতো সকালে দেখে টাশকি খেয়ে যায় তিন জা। গোল গোল চোখে তাকিয়ে রইল। রাফসা সেই দৃষ্টি পাওা না দিয়ে মা’কে বলে।” আম্মু আমার মাথা ব্যথা করছে। প্লিজ একটু কফি বানিয়ে দাও।”
মাথা ব্যথা করছে শুনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন হুসাইফা ফরাজী।একটা মাএ মেয়ে। খুব আদরে বড় করেছে। রাফসা সকলের আদরের। ফরাজী বাড়ির সবচেয়ে ছোট। তাই পুতুলের মত বড় হয়েছে। তবে, বাবা চাচারা একটু বেশি আদর করে। রাফসা ওর দাদু রাফিয়া ফরাজীর মত হয়েছে দেখতে। বাবা চাচারা রাফসার মাঝে ওনাদের মা’কে খুঁজে পায়। তাই অন্য ছেলে মেয়েদের তুলনায় ওকে বেশ আদর করে।
হুসাইফা ফরাজী মেয়ের কপালে গালে হাত দিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল।” কি হয়েছে মা। আম্মুকে বলো। বেশি খারাপ লাগছে?”
মায়ের অস্থিরতা দেখে মৃদু হাসে রাফসা। “না আম্মু। আমি ঠিক আছি। শুধু একটু মাথা ব্যথা করছে।কফি খেলে ঠিক হয়ে যাবে।”
হুসাইফা ফরাজী দ্রুত মাথা নাড়িয়ে কিচেনের দিকে ছুটেন। রাফসা সোফায় বসে। উদ্যানের মা ওর পাশে বসে, মাথায় হাত বুলিয়ে বলে আদুরে গলায় বলল।”কি হয়েছে সোনা? তোর চোখ মুখ শুকিয়ে আছে কেন? কোনো ব্যাপারে চিন্তায় আছিস। আমাকে বল, কি হয়েছে।”
ওনার কথায় ব্যথাতুর হাসি ফুটে উঠল রাফসার মুখে। কি করে বলবে তার ছেলে যে রাফসাকে একেবারে ভেঙ্গে দিয়েছে। ভালোবাসা অপরাধ নয়। ভুল মানুষের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেওয়া অপরাধ। রাহেলা ফরাজীকে জড়িয়ে ধরে ভাঙ্গা কন্ঠে বলল।”আমাকে কিছু বলার সাহস কারো আছে নাকি। আমি আমার কাআম্মাকে বলে তার হাড়গোড় ভেঙ্গে দিব।”
” তা নাহয় বুঝলাম। তবে আমার সোনার গলাটা এমন লাগছে কেনো? মাথা ব্যথা করছে বেশি।”
বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য রাফসা মাথা নাড়ল। যে তার মাথা ব্যথা করছে বেশি। রাহেলা ফরাজী ওকে ধরে নিজের কোলে শুইয়ে দিল। তারপর মাথা চেপে দিতে লাগলো। আস্তে আস্তে চুল টেনে দিচ্ছে। আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল রাফসা। গতকাল কান্নার পরিমাণ বেশি ছিল। তাই মাথা ব্যথার পরিমাণ বেশি। হুসাইফা ফরাজী দ্রুত কফি বানিয়ে নিয়ে আসে। মেয়েকে মেজো জায়ের কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে রাখতে দেখে বুক কেঁপে উঠলো। গতকাল থেকে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। মা হয়ে এটা বোঝার ক্ষমতা ওনার আছে। কফির কাপ সেন্টার টেবিলে রেখে মৃদু গলায় ডাক দেয়। মায়ের ডাক শুনে চোখজোড়া খুলে রাফসা। কাআম্মার কোল থেকে মাথা তুলে উঠে বসে। মায়ের চিন্তিত মুখ দেখে শান্তনা দিয়ে বলল।”আম্মু কিছু হয়নি আমার। তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছো।”
হুসাইফা ফরাজী মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
” কফিটা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। ঠিক আছে। নাস্তা বানানো হলে আম্মু তোমাকে ডেকে দেবো।”
রাফসা মাথা নাড়িয়ে না করে বল,
“না আম্মু। এখন ঘুমাবো না। সাতটার কাছাকাছি হয়ে গেছে। আমি আজ থেকে কোচিং এ যাবো। আটটায় কোচিং শুরু হবে। সময় নেই বেশি।”
ওর কথায় তিনজনেই চমকে উঠে। লুৎফা ফরাজী এতোক্ষণ চুপচাপ থাকলে এখন মুখ ফুটে বলল।”কি হয়েছে রে মা। সকাল সকাল এমন শক খাওয়াচ্ছিস। তোকে তো ধরে বেঁধে কোচিং এ পাঠানো যায় না। তবে আজ কোচিং করবি ব্যাপারটা হজম হচ্ছে না।”
বড় জা’য়ের কথায় হুসাইফা ফরাজী তাল মিলিয়ে বলল।”সত্যি করে বল আম্মু। কোনো সমস্যা হয়েছে তোমার?”
রাফসা বাহানা দিয়ে বলল।”আম্মু অনেক পড়া চুরি করেছি। কালকে রিয়েলাইস করলাম পড়াশোনা ছাড়া জীবনে কিছু নেই। কেউ মানুষ বলে দাম টুকু দেয় না। আমি কিছু করতে চাই আম্মু। নিজেকে নতুন করে তৈরি করতে চাই।”
তিন জা খুব অবাক হয় এ কথায়। ওকে হাজার বার বোঝানো হয়েছে। কিন্তু নাছোড়বান্দা, বাবার এতো টাকা পয়সা থাকতে কষ্ট করে পড়াশোনা করার দরকার কি। কোনো রকম তেত্রিশ পেয়ে পাশ করলেই চলে। সবাই অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল ওকে বোঝাতে। তাই হয়তো স্বাভাবিক অবাক হওয়ার কথাই।তবে মন সায় দিল না হুসাইফা ফরাজীর। মেয়ের মিথ্যা তিনি খুব সহজেই ধরে ফেলেছে। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলেনি আর। রাফসা কফি টা খেয়ে উপরে চলে যায়।
.
.
.
একেবারে স্কুলের জন্য রেডি হয়ে নিচে এসেছে রাফসা। ড্রইং রুমে এখনো কেউ আসেনি। বাড়ির সবাই ঘুম থেকে উঠে নয়টায়। তাই ড্রইং রুমে মানুষ নেই। বাড়ির তিন বউ রান্নাঘরে সকালের নাস্তা তৈরি করছে। হুসাইফা ফরাজী মেয়ের জন্য নাস্তা নিয়ে আসে। রাফসা খেতে না চাইলে ওনি জোর করে খাইয়ে দেয়। খেয়ে আর দাঁড়ায়নি। কোচিং এর জন্য বেরিয়ে পড়ে।
.
ফরাজী বাড়ির নাস্তার টেবিলে সবাইকে দেখা যাচ্ছে। ছোট বড় সকল সদস্য উপস্থিত আছেন। উদ্যানকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে দেখা যায়। ডাইনিং এ এসে চেয়ারে বসতে বসতে টেবিলটা অবলোকন করে। কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে দেখতে না পেয়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলে। তবে কিছু জিজ্ঞেস করেনি। রাজিব ফরাজী টেবিলে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়। মেয়েটা খুব ঘুমকাতুরে। ছেলের পানে তাকিয়ে বলল।
“তোমার বোন এখনো নিচে আসেনি। যাও। আমার মেয়েকে ডেকে আনো।”
বাবার কথায় খেতে খেতে উঠে যায় রিশান। রাফসার বড় ভাই। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্সে অনার্স করছে। ছেলেকে বাঁধা দিয়ে হুসাইফা ফরাজী বলল।”যেতে হবে না। তুই খেতে বোস। রাফসা বাড়িতে নেই।”
ওনার কথায় সকলের ভ্রু কুঁচকে যায়। রাজীব ফরাজী গম্ভীর মুখে বলল।”কোথায় গিয়েছে আমার মেয়ে? এতো সকালে বাড়িতে নেই কেনো?”
রিশান নিজেও তাল মিলিয়ে বলল।”বোনু তো এতো সকালে উঠে না আম্মু। তাহলে কোথায় গেলো?”
হুসাইফা ফরাজী কফি ঢালতে ঢালতে বলল।”রাফসা কোচিং এ গিয়েছে। আজ থেকে কোচিং করবে বলল। নাস্তা করেই গেছে।”
আরেক দফা চমক সাত সকালে। সবার চোখ যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। রাজীব ফরাজী কাল অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছেন। তাই কাল রাতের বিষয় জানেন না।অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।”কোচিং এ গেছে মানে কি? আমার মেয়ে পড়াশোনা করছে?”
হুসাইফা ফরাজী মাথা নাড়িয়ে বলে,
“হ্যাঁ। আমার মেয়ে আজ সকালে উঠে নামাজ পড়ে। ক্লাসের পড়া শেষ করেছে। রাফসা মন দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়।”
রাজীব ফরাজী কিছু সময় চুপ করে রইল। তারপর চেঁচিয়ে বলল।”আলহামদুলিল্লাহ। আমার মেয়ে পড়াশোনা করবে। ভাই বিছানায় গড়াগড়ি করে হাসার মতো খুশি।”
ওনার হঠাৎ চেঁচানোতে থতমত খেয়ে যায় সকলে। ভয় পেয়েছে। সবাই খুশি রাফসার এমন পরিবর্তনে। তবে একজনের মনে ঝড় তুফান বয়ে যাচ্ছে। অবহেলা। হ্যাঁ এটা অবহেলাই তো। যেই মেয়ে সারাক্ষণ পেছনে ঘুরঘুর করে বেড়াতো। সেই মেয়ের হঠাৎ সরে যাওয়াতে হজম হচ্ছে না। কফির কাপ ধরে রাখা হাতটা শক্ত হয়ে আসে। চোখে স্পষ্ট রাগের ঝিলিক। নাস্তা না করে উঠে গটগট পায়ে বাইরে চলে যায়। ওর হঠাৎ উঠে যাওয়াতে কেউ কিছু বলেনি। সবাই এখন রাফসার বিষয়ে এক্সাইটেড।এটা ওটা নিয়েই কথা বলছে।
রাফসার এখন চতুর্থ ক্লাস চলছে। উজ্জ্বল স্যার জীববিজ্ঞান ক্লাস নিচ্ছেন। অন্যদিন রাফসা কথা বলে পুরো ক্লাস পার দেয়। তবে আজ, ফাস্ট বেঞ্চে বসে মনোযোগ সহকারে ক্লাস করছে। এতে ওর প্রাণপ্রিয় দুই বান্ধবী সায়মা সাবিকুন টাশকি খেয়ে গেছে। ওদের চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। রাফসাকে এতো শান্ত হয়ে ক্লাস করতে আজ প্রথম দেখলো।তবে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছে না। ওদের মাএা অতিরিক্ত দুষ্টুমির ফলে আলাদা বসানো হয়। নয়তো দেখা যাবে ক্লাস রুম মাছের বাজারে পরিণত হয়েছে। টিফিন পিরিয়ডের আর দশ মিনিট বাকি আছে। উজ্জ্বল স্যার বই বন্ধ করে বলল।
“আজ আর পড়াবো না। এই দশ মিনিট গল্প করেই কাটিয়ে দেবো।”
ক্লাসের সবাই খুশিতে ইয়ে বলে চেঁচিয়ে উঠল। স্যার বলল।
“জানো আমরা সবাই অনেক সুখে আছি। কিন্তু নদীর পাড়ের মানুষগুলোর জীবন অন্যরকম। তাদের ভয়াবহ কোনো ব্যাপারে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। তোমরা তো জানোই, আমার বাড়ি সন্ধিপ। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের পাশের বাড়ির একজনের সিজার করার প্রয়োজন খুব। নয়তো বাঁচানো যাবে না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাহাকার। কি করবে। শহরে আনার জন্য তোড়জোড় শুরু করে। তবে, বঙ্গোপসাগর দিয়ে আসলে অনেকটা লেইট হবে। রোগী বাঁচানো যাবে না। পরে অনেক টাকা দিয়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করে শহরে আনে। তারপর আল্লাহর রহমতে বেঁচে ফিরে।”
রাফসা ধুম করে কথার তীর ছুড়ে।
“স্যার রোগী মহিলা নাকি পুরুষ ছিল?”
ব্যাস সবার মুখ বন্ধ। স্যার নিজেও বেকুবের মত তাকিয়ে রইল। পরমুহূর্তেই ক্লাসে উচ্চস্বরে হেসে উঠলো সবাই।রাফসা ওদের হাসি দেখে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে।
স্যার হতাশার স্বরে বলল।”সিজার কি পুরুষের হয় নাকি মহিলার?”
রাফসার কথাটা বুঝতে এক মিনিট লেগেছে। কথার মানে বুঝতে পেরে জিভ কাটে। ভালো করে খেয়াল না করেই উল্টা পাল্টা বলে বসে সবসময়। টিফিনের ঘন্টা পরে যায়। টিচার বের হওয়ার পর সবাই এক এক করে বেরিয়ে গেল। পেছন বেঞ্চ থেকে তখনি সায়মা সাবিকুন, রাফসাকে ঘিরে ধরে। রাফসা ওদের চাহনি দেখে জিজ্ঞেস করে।” কি এমন করে তাকিয়ে আছিস কেনো?”
সায়মা বলল, “তুই আজ এতো মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করলি ? আমি কি স্বপ্ন দেখছি?”
সাবিকুন ওর বাহুতে চাপড় মেরে বলল।”এই শালি, তুই একা স্বপ্ন দেখছিস না। আমিও একই স্বপ্ন দেখছি।”
সায়মা ফের জিজ্ঞেস করল। “কিরে বল।”
রাফসা এক কথায় উত্তর দেয়। “আমি ভালো করে পড়াশোনা করতে চাই। নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে চাই।”
সায়মা মুখ ভেংচি কেটে বলে।”তো এখন কি আমাদের পায়ে দাঁড়িয়ে আছিস।”
রাফসা বলল।”আমি সিরিয়াস।মজা করছি না।”
সায়মা সাবিকুন এইবার একটু সন্দেহ করল। আজ সারা ক্লাস চুপচাপ ছিল রাফসা। এটা অবাক করার বিষয়।
সায়মা জিজ্ঞেস করে। “কি হয়েছে?”
রাফসা কালকের ঘটনাটা একে একে সব খুলে বলে।
সব শুনে রেগে গেল দুজনে।সায়মা রাগে গজগজ করতে করতে বলে। “ওই গোলামের পুতরে সামনে পেলে মাথায় তুলে আছাড় মারতাম। শালার এতো বড় সাহস আমার ফ্রেন্ডকে অপমান করে।”
সাবিকুন রেগে বলে। ” এই সাদু, তুই আর এই বালের জন্য কাঁদবি না। শালার পেছনে কুওা দিয়ে দৌড় খাওয়াতে পারলে শান্তি পেতাম।”
রাফসাকে সাবিকুন সায়মা, সাদিয়া নামে ডাকে। ওদের নামের সাথে মিলিয়ে।ওরা গ্ৰুপে পাঁচজন। দুজন ছেলে ফ্রেন্ড আছে। আজ আসেনি।ওরা তিনজনই টিফিনের জন্য চলে যায়।
.
.
.
বিকেল চারটা,,
রাফসার স্কুল ছুটি দিয়েছে। সাবিকুন সায়মার বাড়ি অন্য রোডে।ওরা চলে গিয়েছে। রাফসা একা একা রাস্তা দিয়ে হাঁটছে।আজ গাড়ি আসেনি। ওর জন্য যে গাড়িটা আসে, সেটা বর্তমানে গ্যারেজে আছে। তাই হেঁটে ফিরতে হচ্ছে। রাস্তা পার হওয়ার সময় কিছু দেখে চোখ আটকে গেল রাফসার। উদ্যান বাইকে বসে আছে। ওর পেছনে মিম। দুজনে হেসে হেসে কিছু বলছে। অসাবধানতায় সিএনজি সামনে পড়ে যায় রাফসা। তবে আল্লাহ বাঁচিয়েছে ড্রাইভার ব্রেক কষে ফেলে। ফলে দুর্ঘটনা হতে হতে বেঁচে যায়। রাফসার ভয়ে হাত পা অসাড় হয়ে আসছে। অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে।ও চোখ তুলে তাকাতেই উদ্যান বাইক চালিয়ে যেতে যেতে বিরক্ত নিয়ে ওর পানে তাকিয়ে বলল।
“ডিজগাস্টিং গার্ল।”
বলেই জোরে টান দিয়ে চলে গেল। মিম মোবাইলে কথা বলায় ব্যস্ত ছিল বিধায় খেয়াল করেনি বিষয়টা।
রাফসার মুখে মলিন হাসি ফুটে উঠল। মনে মনে আওড়ালো
“আমি ভালো নেই এই কথাটা এক আমি ছাড়া দুনিয়ার কেউ জানে না।”
চলবে….
জানিনা কেমন হয়েছে।আপনারা বললেই কন্টিনিউ করবো।
আর সিজার পুরুষের হয় নাকি মহিলার হয় এই প্রশ্নটা আমি বেকুবেই স্যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।🥲🤧
রিচেক দেয়নি। বানান ভুল হলে মেনশন করবেন।
Share On:
TAGS: প্রেয়সীর অনুরাগ, সাদিয়া জাহান সিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১০
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৫(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৪
-
প্রেয়সীর অনুরাগ গল্পের লিংক
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৬
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৯
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৮
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭(প্রথমাংশ + দ্বিতীয়াংশ)