শেষ পাতায় সূচনা [২৬]
সাদিয়াসুলতানামনি
—ভাবীপুউউউউ…..
একটা মেয়েলি চিকন গলার উক্ত সম্বোধন শুনে পূর্ণতার হাত কেঁপে উঠে তাজওয়াদের জ্বরের সিরাপটা পড়ে যায়। সেকেন্ডের ব্যবধানে সে অনুভব করে পেছন থেকে কেউ একজন খুবই শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরে হু-হু করে কাঁদছে। পূর্ণতা মেয়েটির সম্বোধন ও কাঁদতে শুনে বুঝে যায় সে কে। অন্যদিকে তাজওয়াদ ড্যাবড্যাব করে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেটাও চমকে গিয়েছে হঠাৎ ব্যক্তিটির চিৎকার দিয়ে ডেকে ওঠার কারণে।
পূর্ণতা তাকে জড়িয়ে ধরা ব্যক্তিটিকে নিজের থেকে সরায় না আবার জড়িয়েও ধরে না। সে নিজেকে ধাতস্থ করে তাজওয়াদকে জ্বরের সিরাপটা খাইয়ে দেয়। আজ বিকালের দিকে তাকে হসপিটাল থেকে রিলিজ করে দিবে। ছেলেকে ঔষধ খাওয়ানোর পর পূর্ণতা তাকে শুয়ে দিয়ে বলে–
—চুপচাপ ঘুমাবে। নাহলে ডাক্তারকে বলবো ইনজেকশন দিয়ে দিতে।
তাজওয়াদ অন্য পাঁচটা বাচ্চার মতোই ইনজেকশন প্রচুর ভয় পায়। মায়ের কথা শুনে সে চটপট চোখ বন্ধ করে ফেলে। তাকে চোখ বন্ধ করতে দেখে পূর্ণতা এবার পেছনের দিকে ফিরে। নিজের সাথে জড়িয়ে থাকা জিনিয়াকে ছাড়িয়ে নেয়। তারপর নিজ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে কাঠকাঠ গলায় বলে–
—তোমার ভাই আর আমার মধ্যকার সম্পর্ক পাঁচ বছর আগেই শেষ, এটা নিশ্চয়ই জানো। তাই অনুরোধ থাকবে, আমাকে কখনোই ঐ নামে ডেকে লজ্জায় ফেলবে না। আর না আমার সাথে দেখা করতে আসবে। এখন আসতে পারো।
অশ্রুসিক্ত লোচনে জিনিয়া হা করে তার প্রিয় ভাবীর দিকে তাকায়। এটা কি সেই পূর্ণতা যে তাকে নিজের বোনের স্থানে বসিয়েছিল? এই ভাবীপু আর পাঁচ বছর আগের ভাবীপুর ভেতরে সে একবিন্দু পরিমাণ মিল পাচ্ছে না। সেই ভাবীপু তাকে কতটা ভালোবাসত। কখনোই এমন কাঠকাঠ গলায় কথা বলেনি। একটা ঝড় কোন মানুষকে এতটা বদলে দিতে পারে? হ্যাঁ, পারেই তো। ঝড়টা যদি হয় প্রিয় মানুষের থেকে পাওয়া সবচেয়ে নিকৃষ্ট কষ্ট, তাহলে মানুষ কেন বদলাবে না?
জিনিয়া পূর্ণতার কথা তো শুনেই না, উল্টো তাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলে–
—ভাবীপু, ও ভাবীপু। আমার সাথে এমনটা করছো কেন আপু? আমার দোষ কোথায়? প্লিজ আমার সাথে এমন করো না। আমার মা-ভাইয়ের শাস্তি আমায় দিও না। তোমার থেকে দূরে চলে যেতে বলো না আপু। আমার তো কোন বোন নেই, আমি তো তোমাকেই আমার বোনের জায়গায় বসিয়েছিলাম। তাহলে তুমি কেন আরেকজনের ভুলের শাস্তি আমায় দিচ্ছো? আমার ভালোবাসায় তো কোন খুঁত ছিলো না, তাহলে আমি কেন শাস্তি পাবো?
জিনিয়ার কথা আর কান্না শুনে পূর্ণতার বুক কেঁপে ওঠে। সেও তো নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবেসেছিল তাদের সকলকে। কিন্তু বিনিময়ে কি পেলো? মানসিক টর্চার, চরিত্রহীন অপবাদ এবং শেষ পর্যন্ত এতিম তকমা।
এতকিছুর পরও পূর্ণতা কঠোর হয়ে থাকতে পারে না। হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরতে চায় বোনের মতো ননদকে। কিন্তু তার হাত মাঝপথেই থেমে যায় যখন সে দেখতে পায়, কেবিনের দরজায় থাকা ছোট গোল গ্লাস দিয়ে জাওয়াদ উঁকি দিয়ে তাদের দেখছে। সে নিজের হাত উঠায় ঠিকই কিন্তু জিনিয়াকে জড়িয়ে ধরতে নয়, বরং তাকে নিজের থেকে সরিয়ে দিতে।
পূর্ণতা অনেকটা জোর করেই জিনিয়াকে নিজের থেকে সরিয়ে দিয়ে বলে–
—এটা শাস্তি নয়, শিক্ষা। এটা তোমাকে কাউকে নিখুঁত, নিঃস্বার্থভাবে না ভালোবাসার শিক্ষা। এটা থেকে তুমি বুঝতে পারবে, কাউকে নিখুঁত, নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসলে বিনিময়ে কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। এবার তুমি কেবিন থেকে বের হবে, নাকি আমি সিকিউরিটি গার্ডস ডাকবো আমায় অযাচিতভাবে বিরক্ত করার জন্য?
জিনিয়া পূর্ণতার কথা শুনে হাপুসনয়নে কাঁদতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে তার হিচকি উঠে যায়, তাও মেয়েটা সেখানে ধ্যাতার মতো দাঁড়িয়েই থাকে। জিনিয়া যাচ্ছে না দেখে পূর্ণতা গলা বাড়িয়ে টনিকে ডেকে ওঠে। টনি আসতেই পূর্ণতা বলে–
—উনাকে সম্মানের সহিত বাহিরে ছেড়ে দিয়ে আসো। না শুনলে জোর করবে। আমি বিরক্ত হচ্ছি তোমার কাজে টনি। এমন ভাবে ডিউটি করলে কাল থেকে তোমার আসা লাগবে না। যে না সে এসে আমায় হুটহাট জড়িয়ে ধরে। কখন কি ইনজেকট করে মেরে রেখে যায়, তার কি গ্যারান্টি আছে? তখন আমার ছেলেকে তুমি নিশ্চয়ই দেখবে না। আমার এতিম ছেলেকে আমারই মতো আপনজন হীন হয়ে সময়ের তালে এর-ওর দারে দারে ঘুরে বেড়াতে হবে।
টনি মাথা নিচু করে অপরাধীর ন্যায় পূর্ণতার সব কথা শুনে। সত্যিই তার ডিউটিতে অনেক গাফিলতি হয়ে গিয়েছে। ম্যামের পারমিশন ছাড়া মেয়েটিকে ঢুকতে দিতে চায়নি সে, কিন্তু ঐ কাইল্লা পাঠা এমন এক চোখ গরম দিলো, টনি আর একটা শব্দও মুখ দিয়ে বের করার সাহস দেখাতে পারে না।
পূর্ণতার কথাগুলো জাওয়াদও শুনতে পায়। পূর্ণতার একেকটা বাক্য তার কাছে একেকটা বিশাল সাইজের পাথরের মতো লাগছে। যতই শুনছে ততই বুকটা ভারী হয়ে আসছে। তার হালকা ফুলকো ফুলকো মুখখানায় সে এই পর্যন্ত হাসি তো দেখতে পেলোই না, বরং এমন গম্ভীর করে রাখে যা দেখলেই তার কলিজার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে।
জিনিয়া পূর্ণতার কথা শুনে আবারও ঠোঁট ভেঙে কাঁদতে শুরু করলে পূর্ণতা ভীষণ বিরক্তি নিয়ে বলে–
—তোমাদের এই ভালোবাসার নাটক প্লিজ আমাকে দেখাতে এসো না। তোমরা কত বড় গিরগিটি আমি সেটা খুব ভালো করেই জানি। প্লিজ চলে যাও, আমাকে এরচেয়ে বেশি কঠোর হতে বাধ্য করো না। আমাকে যদি এই চোখের পানি দেখিয়ে বুঝাতে চাও, তোমরা আমায় ভালোবাসো। বিশ্বাস করো, কাঁদতে কাঁদতে সাগর বানিয়ে ফেললেও আমি পূর্ণতা তোমাদের দিকে দ্বিতীয় বার ফিরে তাকাবো না। প্লিজ দয়া করে আর এসো না। আমি আমার ছেলেকে নিয়ে সুখী আছি, এই সুখ আমার অনেক কষ্টের পর পাওয়া। আমাকে আমার মতো থাকতে দাও।
জিনিয়া পূর্ণতার কথায় কিছুটা কষ্ট পায় ঠিকই, কিন্তু সে তো জানে তার ভাবীপু তার পরিবারের দেওয়া কতটা কষ্ট সহ্য করেছে। জিনিয়া নিজের চোখের পানি নিজেই মুছে নেয়। তারপর বলে–
—তুমি আমাকে যতই বলো, না আসতে আমি শুনবো না। আমি জানি তুমি অভিমান করে আছো আমার উপর। অন্যদের হয়ে আমি কথা বলবো না বা তাদের হয়ে কোন সাফাইও দিবো না। তোমার সাথে যারা অন্যায় করেছে সকলে শাস্তি পাচ্ছে আর পাবেও। কিন্তু তাদের জন্য তুমি আমায় শাস্তি দিতে পারো না আপু। ঐ উপরওয়ালা জানেন, আমার ভালোবাসা কতটা শুদ্ধ ছিলো। আমি সেই শুদ্ধ ভালোবাসার দাবী নিয়েই বারংবার আসবো তোমার কাছে। আজ চলে যাচ্ছি, কিন্তু আমাদের আবারও দেখা হবে। তাও খুব শীঘ্রই। সেদিন তুমি আমায় এভাবে ফিরিয়ে দিতে পারবে না বলে দিলাম। তাহলে আমি অনেক কাঁদব বলে দিলাম। ভালো থেকো, আর পুচকু টার সাথে নিজেরও যত্ন নিও।
পূর্ণতা অন্যদিকে নিজের দৃষ্টি রেখে ঠায় দাড়িয়ে রয়েছে। জিনিয়া একবার পূর্ণতাকে দেখে আরেক বার তার পেছনে বেডে শুয়ে থাকা ছোট পুতুলটাকে দেখে। দুষ্টুটা আদো আদো চোখ খুলে তাদের দেখছে। তখন মায়ের মুখে ইনজেকশনের কথা শুনে ভয়ে চোখ মেলে তাকাচ্ছে না। কিন্তু কৌতূহল চাপিয়ে ঘুমাতেও পারছে না। জিনিয়ার ইচ্ছে হয় অনেক আদর দিতে গোলুমোলু বাচ্চাটাকে। কিন্তু তাকে ছোয়া তো দূরের থাক দেখতে পর্যন্ত দিচ্ছে না পূর্ণতা। পূর্ণতা যেন আজ পাথরে পরিণত হয়েছে। নাহয় যেই পূর্ণতা জিনিয়ার সামান্য কান্নাতে হাইপার হয়ে যেতো, বড় বোনের মতো আগলে নিয়ে দূর করত তার কষ্টের কারণটি। সে আজ জিনিয়ার কান্না দেখেও দেখছে না। জিনিয়ার চোখ আবারও ভরে ওঠে অশ্রুতে। সে চোখ মুছতে মুছতে ছুটে কেবিন থেকে বের হয়ে আসে।
জিনিয়ার পেছন পেছন টনিও কেবিনের বাহিরে চলে যায়। পূর্ণতা কেবিনের দরজা লক করে পর্দা টেনে দেয়, যাতে জাওয়াদ তাদের দেখতে না পারে। তারপর ছেলের পাশে এসে শুয়ে ছেলেকে বুকে টেনে নিয়ে চোখ বন্ধ করে। একটু পর দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে। নাক দিয়ে ফোসফাস আওয়াজ বের হতে থাকে। ঠেলে বের হয়ে আসতে চাওয়া কান্নাকে কঠিনভাবে দমিয়ে রাখার জন্যই এমন শব্দ হতে থাকে। তার শুধু বারবার একটা কথাই মনে হতে থাকে, ভাইয়ের ইমোশনাল কথা কান না দিয়ে যদি বাংলাদেশে না আসত তাহলেই হয়ত ভালো ছিল। সে কখনোই চায়নি, আবারও তার অতীত তার সামনে এসে দাঁড়াক। পূর্ণতা যখন জানলো, আরিয়ানের বিয়ের অনুষ্ঠান সিলেটে হচ্ছে তখন সে সম্মতি দিয়েছিলো দেশে ফিরে আসার। কিন্তু দেশে এসে যে এভাবে ফেঁসে যাবে তা তার কল্পনাতীত ছিলো।
বিকেলে তাজওয়াদকে রিলিজ করে দিলে পূর্ণতা ছেলেকে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে আসে। তার পেছনে থাকে তার ভাই আরিয়ান ও বডিগার্ড টনি। কেবিন থেকে বের হতেই তার দেখা হয় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু মানুষের সাথে। জাওয়াদের মা-বাবা, জাওয়াদ, এবং এমন আরো অনেকে যাদেরকে সে চিনেও না। পূর্ণতা তাদের অদেখা করে চলে যেতে নিলে তার সামনে এসে দাঁড়ায় তার শ্বশুর মশাই, মি.শেখ। বয়স্ক লোকটা বয়সের চেয়ে একটু বেশিই যেনো নেতানো লাগছে। পাঁচ বছর আগেও এতটা বয়স্ক লাগত না তাকে, যতটা না আজ লাগছে। লোকটা খুবই স্বাস্থ্য সচেতন ছিলেন, তাহলে তার স্বাস্থ্যের এমন অমূল পরিবর্তন কি করে হলো? প্রশ্নটা পূর্ণতার অজান্তেই তার মন তাকে করে ওঠে।
পূর্ণতা ছেলেকে পাশ নিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নেয়, তখনই মি.শেখ বলে ওঠেন–
—পূর্ণতা মা, বাবার সাথে কথা না বলেই চলে যাচ্ছো? অভিমানের পাল্লা কি একটু বেশিই ভারী হয়ে আছে?
পূর্ণতা তার দিকে কিছুক্ষণ শান্ত দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে। এই লোকটা সত্যিই তার বাবার মতোই ছিলো। কখনো মা ছাড়া কথা বলেনি। বিয়ের শুরুতে সে কিছুটা মুখ ফিরিয়ে রাখলেও কিছুদিন পর ঠিকই পূর্ণতাকে মেনে নিয়েছিল। একজন আর্দশবান ব্যক্তির মাঝে যা যা গুণ থাকা দরকার সেসব কিছুই এই বয়স্ক লোকটার মাঝে উপস্থিত রয়েছে। ঐ বাসায় একমাত্র শুধু জিনিয়া ও তার শ্বশুর বাবাই হয়ত তাকে মন থেকে ভালোবেসেছিল। সত্যিই কি ভালোবেসেছিলো নাকি মিসেস শেখের মতোই লোক দেখানো ভালোবাসা ছিলো?
পূর্ণতা নিস্তব্ধতার চাদর ভেদ করে শান্তভাবেই বলে–
—আমার বাবা পাঁচ বছর আগে মারা গিয়েছেন। আপনি আমার বাবা নন আঙ্কেল। প্রাক্তন শ্বশুর মশাই। রক্তের সম্পর্ক ব্যতীত পৃথিবীতে কেউ কারো আপন নয়। আর অভিমানের কথা বললেন আঙ্কেল, অভিমান তো তাদের উপর করা যায় যাদের আমরা ভালোবাসি, অধিকার থাকে তাদের উপর আমাদের রাগ দেখানো। কিন্তু আপনাদের সাথে আমার এমন কোন সম্পর্কই নেই যার জেরে আমি রাগ-অভিমান করবো। তাই এসব কথা বলে আমায় বিব্রত করবেন না।
—কিন্তু তুমি আমার ছেলের বিয়ে করা স্ত্রী, সেই হিসেবে আমাদের একটা সম্পর্ক রয়েছে মা। আমার পুত্রবধূ তুমি।আর তোমার কোলের বাচ্চাটা আমাদের বংশের উত্তরসূরী। আমার স্ত্রীর একটা ভুলের জন্য আজ এতগুলো বছর আমরা সবাই তোমার জন্য চোখের পানি ফেলেছি। আমি সকলের হয়ে তোমার কাছে মাফ চাইছি। (মি.শেখ হাত জোর করে বলেন কথাটা) সব ভুলে গিয়ে আবার তোমার সংসারে তুমি ফিরে আসো মা। ঘরের লক্ষী ছাড়া ঘর নিঃষ্প্রাণ লাগে।
ভুল? ঐটা কি আদৌও ভুল ছিলো? নাকি পাপ? যাকে সে একজন আদর্শবান ব্যক্তি ভাবতো, ভাবতো এই লোকটার নিশ্চয়ই ঠিক-ভুল, পাপ-পূণ্যের পার্থক্য করতে পারবে কিন্তু সেও দিনশেষে পূর্ণতার ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করল। পূর্ণতা ভেবে পায় না, এত এত ভুল মানুষকে সে কি করে সঠিক ভেবে বসেছিল?
পূর্ণতা মি.শেখের থেকে চোখ সরিয়ে জাওয়াদের দিকে তাকিয়ে হতাশা নিয়ে বলে–
—আপনি আসলেই মেরুদণ্ডহীন পুরুষ। শেইম অন ইউ মি.জাওয়াদ শেখ। নিজে মানাতে না পেরে এখন বোন-বাবাকে পাঠাচ্ছেন আপনার হয়ে সাফাই গাইতে? আপনার কি মনে হয় এসব করলে আমি দ্বিতীয় বারের মতো সেই একই ভুল করবো?
জাওয়াদ তাড়াহুড়ো করে পূর্ণতার কাছে এসে অস্থির হয়ে বলে–
—বিশ্বাস করো আমি ওদের কাউকে খবর দেই নি, ওদের সকলকে হুমায়ুন বলেছে।
হুমায়ুন আসলে কে পূর্ণতা জানে না। জানার কোন আগ্রহও দেখায় না। তার বিশ্বাসও হয় না জাওয়াদের কথা। সে নিজ থেকে কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে রূঢ় গলায় বলে–
—দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলুন। কথা বলার সময় এমন শরীরের উপরে উঠে আসতে চান কেনো? নাকি নিজের উপস্থিতি দিয়ে বুঝাতে চান আপনার কথায় না মানলে শক্তি খাটাবেন?
পূর্ণতার একেকটা কথার বাণ জাওয়াদকে নিজের ভুলগুলো আরো বেশি করে মনে করিয়ে দিতে থাকে। জাওয়াদ পেছনে সরে যায়। পূর্ণতা এবার তার শ্বশুর মশাইয়ের দিকে তাকিয়ে কাঠকাঠ গলায় বলে–
—আপনাকে আপনি একজন আদর্শবান ব্যক্তি ভাবতাম। ভাবতাম আপনি ন্যায়-অন্যায়, ভুল-সঠিকের পার্থক্য করে সঠিক বিচার দিতে পারবেন। কিন্তু আমি এবারও ভুল হলাম। আপনার কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি, আপনার মেয়ের সাথে যদি আমার মতোই এমন কিছু হতো তাহলে কি আপনি পারতেন সেই ছেলের হাতে দ্বিতীয় বারের মতো নিজের মেয়েকে তুলে দিতে? নাকি সেই পরিবারের কাছে ফিরতে দিতেন?
আপনার স্ত্রী-পুত্র আমাকে শারীরিক-মানসিক উভয় টর্চার, অশান্তির মধ্যে রেখেছিল। তাও মানিয়ে নেওয়ার কম চেষ্টা করেছিলাম আমি? শেষে এমন এক জঘন্য গেইম খেললো, যার কারণে আজ আমার সন্তানের পিতৃহীন হয়ে বড় হয়ে উঠছে। আমার বাবা আমার কষ্ট সইতে না পেরে চলে গেলেন। কিছুক্ষণের জন্য আপনার ছেলের বাবা অথবা মিসেস শেখের হাসবেন্ড না হয়ে, একজন বোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে ভাবুন তো আমার কি এতকিছুর পরও ফিরে যাওয়া উচিত হবে? তাহলে কি গোটা নারী জাতিকে অপমান করা হবে না?
মিসেস শেখ একটা চেয়ারে বসে নিচের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলতে থাকে। জাওয়াদের পরিবারের উপস্থিত অনেকেই অপরাধবোধের কারণে মাথা নুইয়ে নেয়। তারা সকলেই জানে মিসেস শেখ ও আঞ্জুমানের কীর্তিকলাপের কথা। পূর্ণতা কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিয়ে আবারও বলে–
—আর রইলো সম্পর্কের কথা। সেটা শুধু কাগজে-কলমে আটকে রয়েছে। চিন্তা করবেন না, আমি ঢাকাই যাই। এটারও একটা শেষ পরিণতি হবে।
পূর্ণতার কথা শুনে সকলে চমকে ওঠে। শেষ পরিণতি মানে? শেষ পরিণতি বলতে কি ডিভোর্সকে বুঝালো পূর্ণতা? জাওয়াদ এবার আগের থেকেও বেশি পূর্ণতার কাছে এসে অস্থির ভাবে পূর্ণতার গাল ধরে বলে–
—অ্যাঁই পূর্ণ, সম্পর্কের শেষ পরিণতি মানে? প্লিজ এমনটা করো না। তুমি আমায় যত শাস্তি দেওয়ার দাও। যত কষ্ট দিতে চাও দাও, আমি কিচ্ছু বলবো না বিশ্বাস করো আর নাই বা তোমাকে জোর করবো আমার কাছে ফিরে আসতে। কিন্তু ডিভোর্স না। নিজেকে আমার থেকে চিরতরে আলাদা করে দিও না প্লিজ। প্লিজ বউ, এমনটা করো না।
মিসেস শেখ এতক্ষণ পরে পূর্ণতার কাছে এসে ভাঙা গলায় বলেন–
—বউমা, এতটা নিষ্ঠুর হয়ো না আমার ছেলের প্রতি। আমার ভুলের শাস্তি আমার ছেলেকে দিও না। দরকার হলে আমি তোমার পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইবো।
পূর্ণতা জোর করে জাওয়াদের হাত থেকে নিজের গাল ছাড়িয়ে নিয়ে মিসেস শেখের দিকে তাকিয়ে বলে–
—আপনার আমার পায়ে পড়া লাগবে না মিসেস শেখ। আমার বাবা এমন শিক্ষা দেয় নি যেই শিক্ষা আমাকে বলে একজন বয়স্ক মুরুব্বিকে নিজের পায়ে ধরাতে। শুধু আমার বাবাকে ফিরিয়ে এনে দিন, আমার এই পাঁচটা বছরের নিঃসঙ্গ দিনগুলো মুছে দিন, আমার সন্তানের আগমনে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ হওয়া উচিত ছিলো তেমন করে দিন, আমার সন্তান পৃথিবীতে এসেছে আজ চারবছরের অধিক। অথচ সে বাবা ব্যক্তিটির স্পর্শ পেলো না, তার বুকের উষ্ণতার সাথে পরিচিত হতে পারলো না। সর্বপরি বাবা কি জিনিস সেটাই আমার সন্তান চিনে না। কেন পেলো না সে এসব? কেন চিনে না সে তার পিতাকে? এসব প্রশ্নের উত্তর দিন। যদি দিতে পারেন তাহলে আমি আপনার ছেলের সংসারে ফিরবো।
মিসেস শেখ বলার মতো কোন শব্দই খুঁজে পায় না নিজের শব্দভাণ্ডারে। কি-ই বা বলবেন সে? বলার মতো মুখ রয়েছে তার? এই এতিম মেয়েটার উপর কম মানসিক অত্যা””চার তো করেনি সে আর তার ভাতিজি মিলে। বলা হয়ে থাকে, শারীরিক অত্যাচারের চেয়ে মানসিক অত্যাচার বেশি কষ্ট দিয়ে থাকে।
পূর্ণতা ছেলেকে নিয়ে চলে আসতে চায়, কিন্তু জাওয়াদ তার সামনে এসে এক অবান্তর আবদার উপস্থাপন করে–
—পূর্ণ তাজওয়াদকে নিয়ে ফিরে চলো। আর একবার বিশ্বাস করে হাতটা ধরো, প্রাণ থাকতে কখনো অভিযোগের সুযোগ দিবো না। তোমাকে একটা সুখের সংসার দিবো। তোমার তো স্বপ্ন ছিলো একটা সুখের সংসারের।
জাওয়াদের কথা শুনে টনি আর আরিয়ান একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। পূর্ণতা শান্ত দৃষ্টি নিয়ে জাওয়াদের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। সুখের সংসার? সেটার আশা কবেই ছেড়ে দিয়েছে। সে তো সুখেই আছে। তার ছেলেকে নিয়ে নিজের একটা ছোট সংসার গড়ে তুলেছে। যেখানে না আছে কোন বিশ্বাসঘাতকতা, না আছে কষ্টের লেশ। আছে শুধু বিশুদ্ধ ভালোবাসা।
পূর্ণতা শান্ত গলাতেই বলে–
—আমার বাবার সাথে সাথে সেই স্বপ্নকেও কবর দিয়েছি পাঁচ বছর আগে। এখন আপনি কি সরবেন আমার সামনে থেকে নাকি আমি আরো কঠোর হবো।
জাওয়াদ এবার উচ্চস্বরে বলতে শুরু করে–
—না সরবো না আমি। কি করার আছে তুমি করে নাও। কোথাও যেতে পারবে না তুমি আমার ছেলেকে নিয়ে। যেতে হলে আমার সাথে যেতে হবে। একটা ভুল করেছি মাফ চাইছি তো, লাগলে পা ধরবো। তাও মাফ করে দাও। এত জেদ কেন তোমার? জেদ করেই আমার জীবনে এসেছিলে। আমি এনেছিলাম তোমাকে আমার জীবনে? কেন এসেছিলে?
পূর্ণতা একটা বিষাদময় হাসি দিয়ে বলে–
—আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম ভুল ছিলো ঐ জেদটা করা। যার ফল আমি আজও বয়ে যাচ্ছি।
সকলের এত কথাবার্তা, জাওয়াদের উচ্চস্বরে কথা বলার আওয়াজে ছোট তাজ ভয় পেয়ে যায়। সে মা’কে চার হাত-পা দিয়ে আরেকটু পেঁচিয়ে ধরে মায়ের গলায় মুখ গুঁজে বলে–
—মাম্মা, তাজ বয় পাচ্ছে। তুমি আমাকে লুকিয়ে নাও এই মন্সটারের থেকে।
পূর্ণতা ছেলেকে নিজের সাথে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে–
—এই তো সোনা, মা আছে না। ভয় পাওয়ার কি আছে! টনি আঙ্কেল, তোমার আলু মামা আছে। ভয় পেতে নেই বাচ্চা।
তাজওয়াদ মায়ের কথায় কিছুটা স্বস্তি পায়। জাওয়াদ তাদের সামনে থাকায় সেও তাদের কথা শুনতে পায়। হুট করে জাওয়াদ তাজওয়াদকে নিজের কোলে নেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে টেনে ধরে, আর বলতে থাকে–
—আব্বু এই তো বাবা। আসো আমার কাছে আসো। কোন ভয় নেই সোনা, বাবা আছে না। আসো বাবার কাছে আসো।
জাওয়াদের এমন টানাহেঁচড়ায় পূর্ণতা ভরকে যায় আর তাজওয়াদও ভয় পেয়ে কাঁদতে শুরু করে। এরই মাঝে জাওয়াদের এক রিলেটিভ বলে বসে–
—বাচ্চাকে নিজেদের সাথে নিয়ে চলো। মা না আসলে না আসুক। বউ মানুষের এত ঢং দেখার সময় কোথায়!
পূর্ণতার ধ্যান তাজওয়াদের উপর থাকলেও তার কানে কথাটা ঠিকই প্রবেশ করে। কথাটা তার মস্তিষ্কে গিয়ে বড়সড় একটা ধাক্কা দেয়। তাজওয়াদ, তার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ, তার সন্তানকেও এরা কেড়ে নেওয়ার পায়তারা করছে? এত নিকৃষ্ট কেন এই শেখরা? হঠাৎই পূর্ণতা সকলকে অবাক করে দিয়ে জাওয়াদকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মেরে বসে। জাওয়াদ হতভম্ব হয়ে পূর্ণতার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
পূর্ণতা চিৎকার করে বলে ওঠে–
—আমার ছেলের ত্রিসীমানায় তোদের মতো বেইমান, সুবিধাবাদীদের দেখলে এবার পূর্ণতার ভয়ংকর রূপ দেখবি। এখন এত ভালোবাসা উতলে পড়ছে কেনো? যখন একটু ভালোবাসার জন্য, একটু যত্ন-স্নেহের জন্য দিনের পর দিন হাহাকার করে বেরিয়েছি তোদেরই চোখের সামনে, তখন তো তোরা দেখেও দেখিসনি।
জোর করে ঢুকেছিলাম তোদের সংসার, বের করে দিয়েছিস, চলে এসেছি। চাইলে আমার নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ দিয়ে পুনরায় ঢুকতে পারতাম তোদের সংসারে। কিন্তু আমি করি নি। কেন করিনি জানিস? কারণ তুই তো আমার না। শ্বশুর বাড়িতে মেয়েদের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম থাকে তার স্বামী। সেখানে আমার স্বামীই একজন মায়ের ভ্যাবলা, মেরুদণ্ডহীন, কাপুরুষ। যাকে তার মা কাঠ পুতুলের ন্যায় যেমন ইচ্ছে তেমন করে নাচাতে পারে। আমার জীবনের মস্ত বড় ভুল তোকে বিয়ে করা। আর তার চেয়েও ভুল হলো তোকে ভালোবাসা। ভেবেছিলাম এমন চমৎকার ব্যক্তিত্বের পুরুষ নিশ্চয়ই স্বামী হিসেবে টেন আউট অফ টেন হবে। বাট আই ওয়াজ রং।
আর আপনারা (পুরো শেখ পরিবারকে উদ্দেশ্য করে বলে) একদম লোক দেখানো ভালোবাসা দেখাতে আসবেন না আমায় বা আমার ছেলেকে। আপনাদের ভালোবাসা কতটা শুদ্ধ আর গভীর সেটা পাঁচ বছর আগেই দেখা হয়ে গিয়েছে। আমি শান্ত আছি, শান্ত থাকতে দিন। একবার তাণ্ডব শুরু করলে কেঁদে কুল পাবেন না।
করিডর ভর্তি চিকিৎসক, নার্স, স্টাফদের সামনে জাওয়াদকে হুমকি দিয়ে পূর্ণতা ছেলেকে বুকের সাথে চেপে ধরে বের হয়ে বসে হসপিটাল থেকে। তার পেছন পেছন আরিয়ানসহ টনিও ছুট লাগায়। পেছনে ফেলে রেখে যায় হতভম্ব হয়ে গালে দিয়ে দাড়িয়ে থাকা জাওয়াদ ও তার পরিবারকে। একটু আগে পূর্ণতার কোমল হাতের থাপ্পড় ও এমন হুমকি শুনে সেসহ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে শেখ পরিবারের উপস্থিত সকলেই।
রাতে আরিয়ান বোনকে হাত ধরে নিয়ে আসে ডাইনিং সেকশনে। আজ পরিবারের সকলে একসাথে ডিনার করবে। কাল বিকালের দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে এজন্য সকালে বউটাকে নিয়ে আরেকবার শ্বশুর বাড়ি যেতে হবে। পূর্ণতার মানুষের সমাগম কোন কালেই পছন্দ ছিলো না। লোক দেখানো ভালোবাসে এমন মানুষের সানিধ্যকে সে বড্ড বেশি ঘৃণা করে তাই সে যথাসম্ভব আত্মীয়-স্বজন, তথাকথিত বন্ধু-বান্ধব এড়িয়ে চলে। আর আপনজনদের নিকৃষ্ট চেহারা সে বহু আগেই দেখে ফেলেছে তাই আরো আগো এদের আশেপাশে না নিজে থাকে আর না তার ছেলেকে থাকতে দেয়। সারাদিন মা-ছেলে রুমে বসে গল্প-গুজর, হইচই করবে। মন চাইলে একটু আশপাশ থেকে হেঁটে আসে মা-ছেলে। ঢাকায় গিয়ে কি করবে সেটা এখনও সে ঠিক করেনি।
আরিয়ান পূর্ণতাকে নিয়ে আসতেই সকলে কথা থামিয়ে তাদের দিকে তাকায়। আরিয়ান একটু মজা করে বলে–
—আজ আমাদের ডিনারে স্পেশাল গেস্ট হিসেবে উপস্থিত রয়েছে আনাবিয়া আহমেদ পূর্ণতা এবং তার একমাত্র ছেলে তাজওয়াদ আহমেদ আদর। সকলে একটা বড়সড় হাত তালি দিয়ে তাদের স্বাগতম করেন।
সকলে হালকা হেঁসে সত্যি সত্যিই হাত তালি দিয়ে তাদের স্বাগতম করে। পূর্ণতা খানিক লজ্জা পেয়ে যায় ভাইয়ের এহেন কাজে। সে সকলের অগোচরে আরিয়ানের পিঠে একটা চিমটি কেটে বলে–
—তুমি সবসময় বেশি বেশি করো ভাইয়া। মন চাচ্ছে চুল টেনে টাকলু বানিয়ে দেই।
—মাফ চাই বোন আমার। মাত্র নতুন নতুন বিয়ে করেছি, এখন টাকলু বানিয়ে দিলে আমার সংসার শুরু হওয়ার আগেই ভেঙে যাবে।
পূর্ণতা তার কথা শুনে হেঁসে দেয়। তারপর হাসি থামিয়ে বলে–
—তা আমার ভাবী কোথায়? তার সাথে এই পর্যন্ত দেখা হলো না আমার।
কথাটা বলতে বলতে তারা হাঁটতে হাঁটতে ডাইনিং টেবিলের সামনে এসে উপস্থিত হয়। তাজওয়াদকে একটা চেয়ারে বসিয়ে নিজেও বসতে নেয়, তখনই আরিয়ান বলে–
—এই যে তোর ভাবীও এসে পরেছে। মিট মাই ওয়াইফ মিসেস আরিয়ান আঞ্জুমান রুহী।
পূর্ণতা কথাটা শোনার সাথে সাথে ঝড়ের বেগে পেছনে ফিরে তাকায় আর চক্ষুগোচর হয় তার সুখের সংসারের ভাঙনের প্রধান ব্যক্তির মুখশ্রী।
📌পর্বটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রমী বন্ধু মহলের নিকট পৌঁছে দিন।
শব্দসংখ্যা~৩১০০
~চলবে?
[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১০