পর্ব — ৪
#প্রিয়াআমার ❤️ #দূর্বাএহসান
আয়াশের মাথার ভেতর যেন সহস্র বজ্রপাত একসাথে আছড়ে পড়ল। ১৬ বছর! যে বয়সে একটা মেয়ের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, যে বয়সে সে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকার কথা।সেই বয়সে তাকে ক্যানুলা হাতে নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকতে হচ্ছে? আর এর পেছনে দায়ী তার নিজের পরিবার আর সে?
আয়াশ উঠে দাড়ালো।তার দুচোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে। আইজান ভয় পেয়ে একটু পিছিয়ে গেল।
”ভাই, তুমি ওভাবে তাকাচ্ছো কেন? আমি তো শুধু বয়সটা বললাম।”
আয়াশ দাঁতে দাঁত চেপে ধরা গলায় বলল,
“আমি ভেবেছিলাম বড়জোর বিশ-বাইশ বছরের কোনো তরুণী হবে। মা আমাকে একবারও বলেনি মেয়েটা নাবালিকা! তুই জানিস আইজান, আমি আজ কত বড় অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছি? আইন পেশায় থেকে আমি বাল্যবিবাহ করেছি,এটা যদি জানাজানি হয়, তবে আমার এই ব্ল্যাক কোট পরার যোগ্যতা থাকবে না!”
আইজান কিছু বলতে চাইল, কিন্তু আয়াশের রাগের সামনে সে কুঁকড়ে গেল। আয়াশ আর সেখানে দাঁড়াল না। দীর্ঘ পদক্ষেপে সে সোজা দোতলায় মায়ের ঘরের দিকে চলে গেল।রওনাফ মির্জা এটারই ভয় পেয়েছিলেন।
আহিনুর বেগম তখন নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে তসবিহ পাঠ করছিলেন। আয়াশ ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকে ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল। তার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দে আহিনুর তসবিহ থামিয়ে ছেলের দিকে তাকালেন।
”কি হয়েছে আয়াশ? অত অস্থির লাগছে কেন তোমাকে?”
আয়াশ কণ্ঠস্বর যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণ করে বলল,
“মা, তুমি আমার সাথে এত বড় অন্যায় কিভাবে করলে? তুমি তো জানতে আমি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কতগুলো কেস জিতেছি। তুমি তো জানতে আমি আইনকে কতটা সম্মান করি। তবুও তুমি ১৬ বছরের একটা বাচ্চার সাথে আমার বিয়ে দিলে? কেন মা?”
আহিনুর বেগম শান্তভাবে জায়নামাজ ভাজ করে রাখলেন। তারপর ছেলের সামনে এসে বসলেন। তার চোখেমুখে কোনো অনুশোচনা নেই।
”শোন আয়াশ, আইন বইয়ের পাতায় যা লেখা থাকে, বাস্তবতা সব সময় তেমন হয় না। মাইমা ওর চাচা-চাচির অত্যাচারে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল। ওই গ্রামে থাকলে হয়তো পরশুদিন ওর চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী কোনো লম্পটের হাতে ওকে তুলে দেওয়া হতো। আমি যদি ওকে এ বাড়ির বউ করে নিয়ে না আসতাম, তবে আজ ওর লা শ হয়তো কোনো পুকুরে ভেসে বেড়াত। এখন তুই আমাকে বল,আইন বড়, নাকি একটা মেয়ের জীবন বাঁচানো বড়?”
আয়াশ চিৎকার করে বলতে চাইল, “আশ্রয় দেওয়ার আরও অনেক পথ ছিল মা! বিয়েই কেন?” কিন্তু তার গলার স্বর আটকে গেল। সে জানে, তার মা যা একবার সিদ্ধান্ত নেন, সেখান থেকে নড়েন না।
আহিনুর আবার বলতে শুরু করলেন,
“তুমি বলছো ও ১৬ বছরের বাচ্চা? হ্যা, ও ছোট। কিন্তু তুমি কি রাতটার কথা একবারও ভেবেছো? একটা বাচ্চা মেয়ের ওপর তুমি যে তাণ্ডব চালিয়েছো, তারপর কি ও আর আগের মতো আছে? ওর শৈশব তো তুমি কাল রাতেই কেড়ে নিয়েছো, আয়াশ। এখন বড় বড় নীতিবাক্য আউড়ে কোনো লাভ নেই। এখন তোমার একমাত্র দায়িত্ব হলো ওর মনে জমে থাকা পাহাড় সমান ভয়টা দূর করা।”
আয়াশ অপরাধবোধে কুঁকড়ে গেল। মায়ের প্রতিটা কথা তীরের মতো তার বুকে বিঁধছে। কাল রাতে সে ঠিক কতটা হিংস্র ছিল, সেটা মনে পড়তেই তার নিজের ওপর ঘৃণা জন্মাচ্ছে।
আয়াশের মস্তিষ্কের প্রতিটি স্নায়ু যেন ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। মায়ের মুখের প্রতিটি শব্দ তার কানে বিষের মতো বিঁধছে। সে দুহাতে নিজের মাথা চেপে ধরল। কক্ষের নিস্তব্ধতা তাকে গ্রাস করতে চাইছে। আহিনুর বেগম ছেলের পাশে বসে অত্যন্ত শীতল কণ্ঠে আবারও বলতে শুরু করলেন।
”কেন চুপ করে আছো,আয়াশ? নিজের পৌরুষের দাপট তো কাল রাতে ভালোই দেখিয়েছো। আজ যখন জানলে সে ১৬ বছরের একটা কিশোরী, তখন তোমার আইনের বিবেক জেগে উঠল? যে মেয়েটার শরীর এখনো বাড়ন্ত, যার চোখের দৃষ্টিতে কেবল দুনিয়া চেনার কৌতূহল থাকার কথা,তার সেই দুচোখে তুমি আজ আজন্মের আতঙ্ক এঁকে দিয়েছো।”
আয়াশ টালমাটাল অবস্থায় উঠে দাঁড়াল। তার ফর্সা মুখটা রাগে আর লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠেছে। সে দেয়ালে সজোরে একটা ঘুষি মেরে চিৎকার করে উঠল,
”মা! থামো তুমি! আমি জানতাম না, খোদার কসম আমি জানতাম না ওর বয়স এত কম। আমি ভেবেছিলাম তুমি সব জেনেশুনেই আমার জন্য সাবালিকা কাউকে নিয়ে এসেছ। আমি আইন জানি মা, আমি জানি ১৬ বছরে বিয়ে দেওয়া মানে জঘন্য অপরাধ। তুমি আমাকে সেই নরকের পথে ঠেলে দিলে? তুমি আমাকে দিয়ে একটা বাচ্চা মেয়ের জীবন ধ্বংস করালে?”
আহিনুর বেগম উঠে দাঁড়ালেন। তার কণ্ঠে কোনো কম্পন নেই। তিনি সোজা আয়াশের চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
”বিয়ের সময় তো তুমি একবারও জানতে চাসনি মেয়েটার বয়স কত। যখন কবুল বললে, তখন তো তোমার মনে হলো না একবার মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখি। আর এখন যখন সব শেষ হয়ে গেছে, তখন তুমি নিজের দোষ আমার ওপর চাপাচ্ছো? এই বিয়েটা যদি আমি না দিতাম, তবে কাল রাতেই ওর চাচারা ওকে শহরের কোনো এক নিষিদ্ধ গলিতে বিক্রি করে দিত। আমি ওকে আইনি লড়াই করার সুযোগ দিতে পারতাম, কিন্তু সময় ছিল না। ওর নিরাপত্তা ছিল আমার কাছে সবচাইতে বড়। কিন্তু আমি ভাবিনি আমার নিজের ছেলে, যে কিনা ন্যায়ের কথা বলে বেড়ায়, সে এতটা অমানুষ হবে।”
আয়াশ দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কাল রাতের প্রতিটি দৃশ্য তার চোখের সামনে সিনেমার মতো ঘুরছে। মাইমার সেই যন্ত্রণাকাতর চিৎকার, তার দুই হাত দিয়ে আয়াশকে আটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা, আর শেষমেশ নিথর হয়ে পড়ে থাকাসবকিছুই তাকে বিদ্রূপ করছে। সে নিজে একজন নামকরা উকিল হয়ে আজ নিজ ঘরেই এক কিশোরীর ওপর হওয়া নির্যাতনের মূল হোতা।
আহিনুর বেগম এবার একটু নরম হলেন, কিন্তু কথার তীক্ষ্ণতা কমালেন না। তিনি বললেন,
”অনুশোচনা করে সময় নষ্ট করো না। এই ক্ষত পূরণ করার ক্ষমতা তোমার নেই, কিন্তু তুমি চেষ্টা করতে পারো। মাইমার মনে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তা হয়তো সারা জীবন মুছবে না। তবে তুমি যদি চাও, ওকে সুস্থ করে তুলতে পারো। ওকে পড়াশোনা শেখাও, ওকে বড় করো, ওকে সাহস দেও। কিন্তু খবরদার! ওর পাশে যাওয়ার আগে অন্তত একশোবার ভাববে। ও তোমাকে দেখে ভয়টা পাচ্ছে, সেই ভয়টা যেন কোনোদিন ঘৃণায় রূপ না নেয়।”
আয়াশ ধীর পায়ে মায়ের ঘরের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। পরের কয়েক মিনিট আয়াশ কোনো কথা বলতে পারল না। সে শুধু দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।তার যাওয়ার পরে পরেই আহিনুর ধপ করে বিছানায় বসে পরলেন।তিনি মোটেও চাননি ছেলেকে এভাবে বলতে।দেখতে গেলে সব দোষ তো তার।
রাত গভীর হয়েছে। পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ। আয়াশ দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের ভেতর হালকা নীল আলো জ্বলছে। মাইমার জ্ঞান ফিরেছে। সে বালিশে পিঠ দিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে। তার ফ্যাকাশে ছোট হাতটাতে ব্যান্ডেজ করা।
মুহূর্তেই আয়াশ এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে পড়ে গেল। কাল রাতের সেই বিধ্বস্ত মেয়েটি আর এই মেয়েটির মধ্যে যেন বিস্তর ফারাক। মাইমার গায়ের রঙ দুধে-আলতা মেশানো। কপালে ছোট ছোট ঘাম জমে আছে। অযত্নে পড়ে থাকা চুলগুলো অবাধ্য হয়ে তার ফ্যাকাশে গালে এসে পড়ছে। তার চোখ দুটো মায়াবী, কিন্তু সেখানে এক সমুদ্র আতঙ্ক আর বিষাদ জমে আছে। আয়াশ খেয়াল করল, মেয়েটির রূপ যেন কোনো শিল্পীর আঁকা শ্রেষ্ঠ ক্যানভাস।
আয়াশের মনে হলো, এই রূপ কোনো কামনার বস্তু নয়, বরং পূজার যোগ্য। কিন্তু তার পরক্ষণেই মনে পড়ল কাল রাতের কথা। এতটুকু একটা মেয়ে, যার চোখের পাতায় এখনো শৈশবের স্বপ্ন থাকার কথা, তার ওপর সে কতটা পাশবিক হতে পেরেছিল!
আয়াশ নিজেকে সামলে নিয়ে ঘরের এক কোণে রাখা সোফায় বসল। মাঝখানে বেশ অনেকটা দূরত্ব। সে চাইল না মাইমা আবার আতঙ্কিত হোক।
”কেমন আছো?”
আয়াশের কণ্ঠস্বর আজ অস্বাভাবিক রকমের নরম।মাইমা উত্তর দিল না। সে শুধু বড় বড় চোখ মেলে আয়াশকে দেখছে। তার শরীর থরথর করে কাঁপছে। সে অহনাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আয়াশ বুঝতে পারল, তার উপস্থিতি এই মেয়েটির জন্য যন্ত্রণাদায়ক।
আয়াশ নিচু স্বরে বলতে শুরু করল,
“শোনো মেয়ে… আমি জানি তুমি আমাকে খুব ভয় পাচ্ছো। তোমার ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। আমি তোমাকে যে কষ্ট দিয়েছি, তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার মুখও আমার নেই। কিন্তু আমি একটা কথা পরিষ্কার করতে চাই।আমি জানতাম না তোমার বয়স মাত্র ১৬। মা আমাকে সত্যটা বলেনি।”
মাইমা এবার ফিসফিস করে বলল,
“তাতে কি কিছু বদলাবে? আপনি তো আমাকে মেরেই ফেলছিলেন কাল…”
কথা শেষ না করেই সে কান্নায় ভেঙে পড়ল। তার ছোট ছোট কাঁধগুলো কান্নার তোড়ে কাঁপছে।আয়াশের ইচ্ছে হলো ছুটে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু এখন তার ছোঁয়া মাইমার কাছে বিষের মতো। সে নিজেকে শক্ত করে সিটে ধরে রাখল। হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে নখ দিয়ে তালু চেপে ধরল। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পবিত্র রূপের সামনে দাঁড়িয়ে তার বারবার মনে হচ্ছে, সে কত বড় পাপী।
”না, কিছুই বদলাবে না।”
আয়াশ ধরা গলায় বলল।
“কিন্তু আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, আজ থেকে এই ঘরে তুমি সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমার থেকে, এই দুনিয়া থেকে। সব থেকে। তোমার অনুমতি ছাড়া আমি কক্ষনো তোমার সিমানার মধ্যে আসব না। আর তোমার পড়াশোনা… তুমি কি পড়তে চাও?”
মাইমা চোখ মুছে তাকাল। সে ধীর গলায় বলল,
“আমি স্কুলে যেতাম। চাচা বন্ধ করে দিয়েছে।”
”কাল থেকে তোমার পড়ার ব্যবস্থা আমি করব। এই বাড়িতে তুমি কোনো কয়েদি নও, তুমি এই বাড়ির সদস্য। আর আমার সাথে তোমার সম্পর্ক… সেটা তুমি যেভাবে চাইবে সেভাবেই হবে। তুমি চাইলে আমি তোমাকে মুক্তিও দিতে পারি, কিন্তু এখন নয়। এখন বাইরে গেলে তোমার চাচারা তোমাকে ছাড়বে না। কিছুদিন এখানে থাকো, নিজেকে গুছিয়ে নাও।”
আয়াশ উঠে দাঁড়াল। সে আর এক মুহূর্ত এখানে থাকতে পারছে না। মাইমার ওই মায়াবী চাহনি তার সমস্ত পুরুষালি অহংকার গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। সে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দেখল, মাইমা অবাক হয়ে তাকে দেখছে।বাইরে অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সে যাওয়ার সময় শুধু বলে গেল,
“ভালো করে ঘুমানোর চেষ্টা করো। কাল সকালে ডাক্তার আসবে। আর শোনো… আমি আয়াশ। ইচ্ছা করলে তুমি আমাকে নাম ধরে ডাকতে পারো, অথবা যা তোমার খুশি।”
°°°°°°°
নিচে ড্রয়িং রুমে এসে আয়াশ দেখল আইজান আর তার বাবা বসে আছে। আয়াশ সরাসরি আইজানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
”আইজান, কাল থেকে মাইমার জন্য একজন ভালো টিউটর ঠিক করবি। ও পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। আর শোনো মা’কে বলে দিস, এই বিয়েটা আমি মানছি শুধু মেয়েটার নিরাপত্তার খাতিরে। কিন্তু ওকে আমি স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে নিজের লালসার শিকার বানাব না। ও যতদিন না ১৮ বছর পার করছে এবং নিজে থেকে কিছু না বলছে, ততদিন ও এই বাড়িতে থাকবে।”
আয়াশ গটগট করে রুমের দিকে চলে গেল। আইজান আর রওনাফ সাহেব একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
রাতের আকাশে তখন ঘন মেঘ। আয়াশ বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরাল। তার চোখের সামনে বারবার মাইমার সেই স্নিগ্ধ মুখটা ভেসে উঠছে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাটা যে কতটা কঠিন হবে, সেটা সে আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। কিন্তু তাকে পারতেই হবে। এই ১৬ বছরের কিশোরীর কাছে তাকে আজ হেরে গেলে চলবে না, বরং জয়ী হতে হবে মানুষ হিসেবে।
চলবে…
(রেসপন্স করবেন।বোরিং হচ্ছে জানি।তবে পরের পার্ট থেকে আর হবে না)
Share On:
TAGS: দূর্বা এহসান, প্রিয়া আমার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়া আমার পর্ব ১
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৮
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৫
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৭
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৯
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৮
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৫
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৪
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৯
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৬