ডাকপ্রিয়র_চিঠি
লেখিকারিক্তাইসলাম মায়া
১৭
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চত্বর পেরিয়ে রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়াল তনিমা। বিদ্যুৎ পিলারের সঙ্গে ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ডাকঘরটি দেখে মুহূর্তে অসংখ্য স্মৃতিচারণ হলো মনে। পুরোনো জং-ধরা, জীর্ণশীর্ণ লাল ডাকঘরটিকে ঘিরে কত অনুভূতির শব্দ আদান-প্রদান হয়েছে চিঠির খামে। অথচ আজ সেই ডাকঘর শূন্য, পরিত্যক্ত।
তনিমা হঠাৎ করেই চিঠিওয়ালার চিঠি পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তারপর আজ পর্যন্ত উত্তর আসেনি চিঠিওয়ালার। সে নিখোঁজ। নিরুদ্দেশ তার চিঠি। আজ এক বছর পেরিয়ে গেছে, চিঠিওয়ালার চিঠি ডাকঘরের কড়া নাড়ে না। তনিমা প্রথম প্রথম প্রতি সপ্তাহে আসত চিঠিওয়ালার চিঠি খুঁজতে ডাকঘরে। আজকাল সে মাসখানেক পরপর আসে। এই যেমন এখন আসল। অসময়ের কড়া রোদটা মাথার ওপর। শীতের আমেজ ধরনীর ওপর। গায়ে সাদা অ্যাপ্রোন, কাঁধে কলেজ ব্যাগ, বাম হাতের ভাঁজে কালো চাদরটা। ডান হাতে ডাকবাক্সের মুখে হাত ঢুকিয়ে একটা চিঠি বেরিয়ে আসল। এই চিঠিটা তনিমারই। বিগত ছয় মাস যাবত তনিমার এই চিঠি অযত্নে, অবহেলায় পড়ে রয়েছে এখানে। কেউ নিতে আসে না তনিমার এই চিঠি। আর না তনিমার চিঠি পৌঁছায় চিঠিওয়ালার অবধি। তনিমা জানে না ওর চিঠিওয়ালা কোথায় আছে? হঠাৎ করেই বা সে কেন গায়েব হয়ে গেল? তবে তনিমা মাঝেমধ্যে এসে ডাকঘরে হাজিরা দিয়ে যায়, চিঠিওয়ালার ফিরতি চিঠি এসেছে কিনা দেখতে।
হাতের মুঠোয় নিজের অবহেলিত চিঠিটা চেপে চোখে জল ফেলল। কাউকে না দেখে ভালোবাসার হাহাকার, যন্ত্রণা তনিমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষাক্ত বিষের ন্যায় বয়ে যাচ্ছে। এই বিষাদ তনিমা কাকে শোনাবেন? মানুষ ভালোবাসে একে অপরকে দেখে। অথচ তনিমা এক অজানা ব্যক্তির প্রেমে পড়েছে। যাকে কলমের কালিতে অনুভব করে স্বপ্ন সাজিয়েছিল কল্পনায়। তনিমার অনুভবের পুরুষ কল্পনায় রয়ে গেল। তনিমার কি বাস্তব কখনো তাকে দেখার সাধ পূরণ হবে না?
তনিমার হাতে থাকা চিঠিটা যেখানকার, সেখানেই রাখল। সঙ্গে করে আনা আরও একটা চিঠিও রাখল। দুটো চিঠিতেই তনিমার মনের কথা লেখা। জানে না চিঠিগুলো কখনো অজানা চিঠিওয়ালার নিকট পৌঁছাবে কিনা, তারপরও তনিমা আশা নিয়ে চিঠিগুলো রেখে গেল। অযত্নে জং-ধরা, জীর্ণশীর্ণ লাল ডাকঘরটিকে হাতের টিস্যু দিয়ে পরিষ্কার করল। ডাকবাক্সের অবস্থা বাজে। ইন্টারনেটের যুগে এসে কেউ এখনো ডাকঘর নামক ডাকবাক্সটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তাও ঢাকা শহরের মতো ঘনবসতি এলাকায়—বিষয়টি সত্যিই আশ্চর্যজনক। তনিমা যেদিন মাহিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় প্রথম এই ডাকঘরটির সন্ধান পেল, তক্ষুনি ভেবে নিয়েছিল সোহাগের সাথে, সে এই ডাকঘরের মাধ্যমে চিঠিতে প্রেম করবে। তনিমার ইচ্ছা তো আল্লাহ পূরণ করলেন, কিন্তু মানুষ বদলে গেল। সোহাগের জায়গা নিল অন্য কেউ। তনিমা অনুভূতি বাঁচিয়ে রাখতে সে চায় এই ডাকঘরটি আমৃত্যু এভাবে থাকুক। যদিও সেটি সম্ভব নয়। তারপরও তনিমার এটা অদম্য চাওয়া। হাতের চিঠিগুলো ডাকবাক্সে রেখে তনিমা রাস্তার ফুটপাত ধরে হাঁটল। আজ মাহি আসেনি। সে একা। তনিমার মাথার সোনালী চুলগুলো রোদের আলোয় চকচক করছে পিঠে। সে হাঁটতে হাঁটতে হাতের রাবার ব্যান্ড দিয়ে পিঠের চুলগুলো বাঁধল। ফর্সা চামড়ায় বাম গালের তিলটা চোখে পড়ার মতো। চোখ দু’টো বড় না হলেও চোখের মণিটা বাদামী রঙের—যা আলাদা সৌন্দর্য বাড়ায়। আবার রোদের আলোয় দেখলে মনে হবে চোখ দুটো যেন জ্বলছে।
অন্যমনস্ক তনিমা হঠাৎ রাস্তায় কারও সাথে বাহুতে ধাক্কা লাগতে সংবিৎ ফিরে পেয়ে তাকাতেই লজ্জায় থতমত খেয়ে সালাম দিয়ে বলল…
‘ আসসালামু আলাইকুম স্যার। সরি, স্যার। আমি দেখিনি আপনাকে।
রাদিল ফুটপাত ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল ফোনে। হঠাৎ পিঠে ধাক্কা লাগায় পাশে তাকাতে তনিমা থতমত খেয়ে সালাম দিল। রাদিল ফোনের ওপাশের মানুষটাকে বলল…
‘ আপনাকে আমি পরে ফোন দিচ্ছি।
রাদিল ফোনটা পকেটে পুরে রাখল। হাতের ঘড়িটায় এক পলক সময় দেখে সালামের উত্তর দিয়ে তনিমার উদ্দেশ্যে বলল…
‘ আপনি এই সময় ক্লাস না করে কোথায় যাচ্ছেন মিস তনিমা?
রাদিল তনিমার কলেজে নতুন জয়েন করেছে সবে ছয় মাস হলো। ল্যাবে তনিমাদের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস নেয় একটা সে। টিচার হিসেবে রাদিল বেশ কঠিন। সেজন্য তনিমাদের ক্লাসের সকলেই রাদিলকে সমীহ করে চলে। তনিমা উত্তর দিয়ে বলল…
‘ স্যার মাথা ব্যথা করছিল, সেজন্য চলে এসেছি।
‘ মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের এসব অজুহাত মানায় না মিস তনিমা। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যদি পেট ব্যথা, মাথা ব্যথার অজুহাত দেন, তাহলে ডাক্তার হবেন কিভাবে?
রাদিলের কঠিন স্বর, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। তনিমা হাঁসফাঁস করল মিথ্যাটা বলে। রাদিল যে চট করে ওর মিথ্যা ধরে ফেলেছে সেটা বুঝে তনিমা দ্বিধায় বলল…
‘ ক্লাসে অস্বস্তি লাগছিল স্যার, সেজন্য চলে এসেছি।
তনিমা চোখ উঁচিয়ে তাকাতে ওর ভেজা চোখ রাদিলের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পড়ল। রাদিল তনিমার পিছনে তাকাল। কেউ তনিমাকে উত্ত্যক্ত করছে কিনা সেটাও পরখ করল। কিন্তু রাদিল একজন স্যার হয়ে সরাসরি ছাত্রীর কাঁদার কারণটা প্রশ্ন করলে অভদ্রতা দেখাবে বলে রাদিল ঘুরিয়ে বলল…
‘ আর ইউ ওকে মিস তনিমা?
‘ জি স্যার।
‘ আর ইউ শিওর?
‘ জি স্যার।
‘ তাহলে যান।
‘ জি স্যার। আসসালামু আলাইকুম স্যার।
রাদিল কেন তনিমাকে প্রশ্নগুলো করল তনিমা সেটা বুঝল না। তনিমা রাদিলকে পেরিয়ে রিকশা ডেকে তাতে উঠে বসতে স্বস্তির হাফ ছাড়ল। রাদিল তনিমার চলন্ত রিকশার দিকে কি মনে করে আবারও একবার কপাল কুঁচকে তাকিয়ে সে তার গাড়িতে উঠে বসল। আজ একবার সৈয়দ বাড়িতে যেতে হবে। মারিদ থানচি থেকে এসেছে দু’দিন হলো। ব্যস্ততায় দুজনের দেখা হয়নি। ঐ বাড়ি থেকেও বেশ ফোন এসেছে, আজ না গেলেই নয়।
~~
সময় ১২:২৩। অসময়ে রাদিল পৌঁছাল সৈয়দ বাড়িতে। আজ রাতে তার নাইট ডিউটি নেই। সপ্তাহে দুটো রাত—শুক্রবার, শনিবার—সে ছুটি নেয় ঘুমানোর জন্য। আজ শুক্রবার রাত। এই রাতে সে হসপিটাল থেকে সৈয়দ বাড়িতে এসেছে। আজ রাতটা এখানেই থাকবে। কাজের মেয়ে রোজিনা দরজা খুলে দিতে রাদিল ভিতরে প্রবেশ করল। রাত বেশ হওয়ায় বাড়ির বাচ্চারা যার যার ঘরে ঘুমিয়ে। বসার ঘরটাও খালি। শুধু সালমা সৈয়দ সঙ্গে ছোট জা মুনিয়া সৈয়দকে দেখা গেল রান্না ঘরে টুকটাক কাজ করতে। সৈয়দ বাড়ির পুরুষরা বংশগত ব্যবসায়ী হওয়ায় তাদের রাতের ফেরার সময় ঠিক থাকে না। সৈয়দ মাহবুব আলম ও তার ছোট ভাই সৈয়দ মকবুল আলম এখনো বাড়ির বাইরে। মারিদের মেজো চাচা পুলিশ কমিশনার হওয়ায় তিনি রাত দশটার নাগাদ বাড়ি ফেরেন। স্বামী ঘরে ফিরায় উনার স্ত্রী ফাতেমা সৈয়দ এখন ঘরেই আছেন। রাদিলকে দেখে রান্না ঘর হতে বেরিয়ে এলেন সালমা সৈয়দ। তিনি অসন্তুষ্টিতে বললেন…
‘ তোর না দশটায় আসার কথা ছিল রাদিল? এতো দেরি করলি কেন আসতে?
রাদিল এগিয়ে এসে সালমা সৈয়দের পা ছুঁইয়ে সালাম করে বলল…
‘ হসপিটালে একটু কাজ ছিল, তাই আসতে দেরি হয়েছে মামী।
মুনিয়াও রান্না ঘর হতে বেরিয়ে আসল। রাদিলের কথায় সেও একটা প্রশ্ন করে বলল…
‘ তোমার না আজ ছুটি? তাহলে হসপিটালের কিসের কাজ রাদিল?
সালমা সৈয়দ সকলের চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বিধায় রাদিল সবসময় উনাকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার চেষ্টা করে। ফাতেমা কিংবা মুনিয়া—অন্য কাউকে রাদিলের তেমন পায়ে হাত দিয়ে সালাম করা হয়না। রাদিল এই বাড়ির দুটো মানুষকে বেশ মান্য করে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে— বয়স্ক সৈয়দ শাহ আর সালমা সৈয়দ। বাকিদের সে মুখে সালাম দিয়ে থাকে স্বাভাবিকভাবে। রাদিল মুনিয়াকে সালাম দিয়ে বলল…
‘ ইমার্জেন্সি হওয়ায় যেতে হয়েছিল ছোট মামী।
‘ তোদের কাণ্ড-জ্ঞান বুঝি না বাপ। কাজ কাজ করে এই বয়সেই তোদের জীবন শেষ করে দিচ্ছিস একেকজন। বিয়ে -সাদীও করতে চাস না তোরা। তোরা এতো টাকা-পয়সার পিছনে পাগল কেন, তাও বুঝি না। তোদের বংশের যা আছে, শুধু তোরা না, তোদের ছেলেমেয়ের তিন সিঁরি পর্যন্ত বসে খেতে পারবে। তারপরও দিন নেই রাত নেই তোরা কাজের পিছনে পড়ে থাকিস।
সালমা বেগমের অভিযোগ ছিল মারিদ আর উনার স্বামীকে নিয়ে। সৈয়দ বংশের ছেলেরা বংশগত ব্যবসায়ী হওয়ায় তাদের ব্যবসা বাণিজ্য ছিল দেশ বিদেশে, যার জন্য এই বাড়ির ছেলেদের ঘরে পাওয়া যায় না। এই যেমন মারিদ মাসের এ মাথা ঐ মাথা করে এদেশ ওদেশ ঘুরে বেড়ায়, তার নাগাল পাওয়া মুশকিল। সেজন্য সালমা সৈয়দ চেয়েছিলেন মারিদের বিয়ে করাতে, মারিদ রাজি না হওয়ায় রাদিল, রিফাতকে জোর করেছিল। কিন্তু ওদের তিনজনের একই কথা—পরে করব। পরে কবে বিয়ে করবে সেই তারিখ রিফাত, রাদিল, মারিদ আজও বলে না। অথচ তিনজনের বয়স তিরিশের ঊর্ধ্বে। রাদিল সালমা বেগমের অভিযোগ বুঝে নরম গলায় বলল…
‘ কর্ম ছাড়া মানুষ বিপথে চলে যায় মামী। কর্ম মানুষকে ভালো রাখে।
‘ তোরাও ভালো থাকবি বাপ। ঘরে বউ আসলে তোদের মনও ঘরে টিকে যাবে, দেখিস। মামীর কথাটা রাখ। বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যা। তোর আম্মা আজকেও ফোন করে বলল, তুই নাকি বিয়ের জন্য রাজি হচ্ছিস না। আমরা তোর জন্য মেয়ে দেখি? আর অমত করিস না বাপ।
রাদিলের মনে হলো সে ভদ্রতা দেখাতে গিয়ে ফেঁসে যাচ্ছে। মুনিয়া মুখ টিপে হাসছে। রাদিল ফের ভদ্রলোকের মতো বলল…
‘ জি মামী অমত করব না। তবে আগে মারিদ করুক, তারপর না-হয় আমার জন্য পাত্রী দেখবেন।
সালমা বেগমের আশার আলোর মুখটা ধুপ করে নিভে গেল। তিনি কিছু বলতে চাইলে রাদিল ফের বলল…
‘ মারিদ কোথায় মামী?
‘ ওর ঘরেই আছে।
‘ আচ্ছা আমি যাই।
রাদিল মামীদের কথার প্যাঁচ থেকে বাঁচতে দ্রুত হাঁটল। মুনিয়া রাদিলের পালিয়ে যাওয়া বিষয়টা আন্দাজ করে উঁচু গলায় বলল…
‘ হীরা আপা একটা ডাক্তার মেয়ে দেখেছে তোমার জন্য রাদিল। আমরা কিন্তু সামনের সপ্তাহে যাব তোমার বউ দেখতে।
‘ রাদিল, মারিদকে নিয়ে নিচে খেতে আয়।
রাদিল মুনিয়ার কথাটা উপেক্ষা করে সালমা বেগমের কথার জবাবে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে বলল…
‘ মারিদের ঘরে আমাদের দুজনের জন্য খাবার পাঠিয়ে দেন মামী। একত্রে খেয়ে নিব।
রাদিল দুতলায় উঠে লম্বা করিডোরে দেখা পেল সুফিয়ার। করিডোরের পিলার ঘেঁষে হাতের ফোনে কথা বলছে কারও সাথে। অসময়ে রাদিলের উপস্থিতি ঠাহর করতে পারেনি সুফিয়া।
‘ এতো রাতে তুই কার সাথে কথা বলছিস?
রাদিলের কণ্ঠে থতমত খেয়ে পিছনে তাকাল সুফিয়া। তাড়াহুড়োয় কল কেটে বলল…
‘ ভার্সিটির ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছিলাম রাদিল ভাই।
‘ ছেলে না মেয়ে?
‘ মেয়ে।
‘ এতো রাতে?
‘ হুম।
রাদিল সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাল সুফিয়ার থমথমে মুখের দিকে। রাদিলের অভিজ্ঞ দৃষ্টি বলছে সুফিয়া মিথ্যা বলছে, তারপরও রাদিল বিষয়টা আপাতত এড়িয়ে গিয়ে বলল..
‘ ঘরে যা। দিনে কথা বলিস। তোকে ঘরে বাইরে এইভাবে ফোনে কথা বলতে দেখলে সবাই সন্দেহ করবে। যা ঘরে যা। ঘুমা গিয়ে।
‘ জি ভাই।
সুফিয়া তাড়াহুড়োয় চলে গেল। রাদিল বেশ তীক্ষ্ণ চোখে সুফিয়ার গমন পথ দেখে মারিদের দরজায় নক করল। দু’বার নক করে যখন ভিতর থেকে সাড়া পেল না, তখন রাদিল দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করে দেখল মারিদ অন্ধকার করে বারান্দার আলো জ্বালিয়ে ল্যাপটপে কিছু একটা করছে। কানে ব্লু-টুথ লাগিয়ে কথা বলছে কনফারেন্সে। বাংলাদেশ থেকে লন্ডন সময়ে ছয় ঘণ্টা এগিয়ে। বাংলাদেশ সময় ১২:২৩ মানে লন্ডনে সন্ধ্যা ৬:২৩ মিনিট বাজে। রাদিল ঘরের আলো জ্বালিয়ে বারান্দায় উঁকি মেরে মারিদকে লন্ডনের ক্লাইডের সাথে কনফারেন্সে কথা বলতে দেখে সে পুনরায় রুমে আসল। হাতের ঘড়ি, ওয়ালেট, ফোনসহ ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো মারিদের ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ওপর রেখে ওয়াশরুম হতে ফ্রেশ হয়ে বেরুলো। মারিদের ব্যবহিত তোয়ালে রাদিল ব্যবহার করছে না। বরং ওয়াশরুমে এক্সট্রা কিছু তোয়ালে ভাঁজ করে রাখা ছিল, রাদিল সেখান থেকেই একটা নতুন তোয়ালে নিয়ে মুখ মাথা মুছতে মুছতে বেরুলো। মারিদ তখনো বারান্দায় থাকায় রাদিল সোফার টেবিলের ওপর থেকে টিভির রিমোট নিয়ে টিভি অন করল। টিভির ভলিউম কমিয়ে এসির রিমোট নিল হাতে। শরীরে ঠান্ডা লাগছে বেশ। সেজন্য এসির পাওয়ার কমিয়ে দু’টো রিমোট পাশাপাশি রাখল। টিভিতে সময় চ্যানেল চলছে। নিউজ দেখাচ্ছে কুষ্টিয়ায় এক ব্যক্তির দুটো সন্তান এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর আজ দুপুরে ঐ ব্যক্তির সন্তান দুটোর মরদেহ পাওয়া যায় তাদের এলাকার পুকুরে। একটা এগারো বছরের ছেলে, অন্যটা পাঁচ বছরের মেয়ে। দুটো বাচ্চার শরীর পচে যাওয়ায় চেহারা চিনতে পারছিল না সেই ব্যক্তির পরিবার। সবচেয়ে ভয়াবহ যে বিষয়টা হচ্ছে—বাচ্চা দুটোর শরীরে তাদের চোখ, কিডনি, মানুষের শরীরের বিশেষ অঙ্গগুলো ছিল না। স্থানীয় এলাকাবাসী বাচ্চা দুটোকে দেখে বলছে সাত দিন পানিতে থাকায় বাচ্চা দুটোর চোখ, কিডনি বিশেষ অঙ্গগুলো মাছে খেয়ে ফেলেছে, আবার কেউ বলছে, বাচ্চা দুটোকে মেরে ফেলে গেছে এই পুকুরে। টিভিতে বাচ্চা দুটোর পরিবারকে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে। এলাকাবাসী ভিড় জমাচ্ছে বাচ্চা দুটোর বাড়িতে। টিভিতে বাচ্চা দুটোর লাশ সরাসরি দেখাচ্ছে না। রাদিল দুই মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে নিউজটা দেখল। তারপর কি মনে করে হঠাৎ টিভি অফ করে দিল। ড্রেসিং টেবিলের ওপর থেকে নিজের ফোনটা নিতে গিয়ে দেখল একটা বক্সের ওপর লেখা ‘অপরিচিতার চিঠি ।
যদিও কারও ব্যক্তিগত জিনিসে হাত দিতে নেই, কিন্তু তারপরও রাদিল নিজেকে আটকাতে পারল না মারিদের ‘অপরিচিতার চিঠি’ বক্সে হাত দিতে। রাদিল বক্স খুলে বেশ কিছু বেনামি চিঠি পেল। এতো চিঠি দেখে রাদিল আন্দাজ করল এখানে পনেরো-বিশটা চিঠি হবে। রাদিল এতোটাও ম্যানারলেস হলো না যে, ব্যক্তিত্বের বাইরে গিয়ে মারিদের অপরিচিতার চিঠি খুলে পড়বে। রাদিল একটা চিঠি হাতে নিয়ে ওপরের লেখাটা পড়ল, ‘প্রিয় চিঠিওয়ালা’। মারিদ হঠাৎ ল্যাপটপ নিয়ে ঘরে ঢুকতে রাদিলকে দেখল অপরিচিতার চিঠি হাতে দাঁড়িয়ে। মারিদ কপাল কুঁচকে এক পলক রাদিলকে দেখে গিয়ে বসল সোফায়। রাদিল হাতের চিঠিটা উল্টে পাল্টে দেখে বলল…
‘ এইগুলো অপরিচিতার চিঠি?
মারিদ ল্যাপটপ রেখে এসির পাওয়ার বাড়িয়ে ছোট করে সম্মতি দিল…
‘ হুম।
‘ তোদের চিঠিতেও কথা হতো?
‘ হুম।
‘ কিভাবে?
‘ সে দিয়েছে।
‘ কোথায়?
‘ ঢাকা মেডিকেলের চত্বরের আশেপাশে।
মারিদ থামে। হাতে হেডফোন ল্যাপটপের পিনে সেট করল। রাদিল ফের প্রশ্ন করে বলল…
‘ কিন্তু তুই যে বললি অপরিচিতা থানচির? থানচি থেকে ঢাকা মেডিকেল চত্বরে এসে তোকে চিঠি দিতো, নাকি অপরিচিতা মেডিক্যালের স্টুডেন্ট ছিল? কোনটা?
‘ প্রথমে আমারও মনে হয়েছিল অপরিচিতা ঢাকা মেডিকেল স্টুডেন্ট। কিন্তু পরে জানলাম হাসান মেম্বারের মেয়েরা কেউ ঢাকা মেডিক্যালে পড়ে না, ওরা থানচিতে পড়াশোনা করে। যতটুকু জানি হাসান মেম্বারের ছোট ছেলে আহাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র।
‘ তাহলে কি ভাইকে দিয়ে চিঠি দেওয়াত অপরিচিতা?
‘ না চিঠিগুলো সে রেখে যেত।
‘ তুই জানলি কিভাবে?
‘ চিঠিতে বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেছিল সেটা।
রাদিল কপাল কুঁচকে কিছু একটা ভেবে বলল..
‘ বিষয়টা তোর কাছে ঘোলাটে লাগছে না মারিদ? ঢাকা থেকে এতো দূরে থানচির একটা মেয়ে তোকে সপ্তাহে সপ্তাহে চিঠি দেওয়ার জন্য ঢাকা চলে আসতো—এটা সম্ভব?
মারিদ রাদিলের দিকে তাকিয়ে যুক্তি দেখিয়ে বলল..
‘ হতে পারে অপরিচিতা তখন ঢাকায় থাকত।
‘ কিন্তু তুই তো অপরিচিতার লাস্ট লোকেশন যশোরে পেয়েছিলি, তাহলে?
মারিদ চুপ, আর উত্তর দিতে পারল না। শুধু রাদিল নয়, মারিদের মনেও এমন অসংখ্য প্রশ্ন আছে অপরিচিতাকে ঘিরে। মারিদ কাজে মনোযোগ দিতে চাইল। হাতের ব্লুটুথ রেখে কানে হেডফোন লাগাতে চাইলে তক্ষুনি রাদিল বলল…
‘ এমনও তো হতে পারে মারিদ, ফোনে আর চিঠির ব্যক্তি দুটো আলাদা। তুই যাদের এক ভাবছিস, আসলে তাঁরা দুজন আলাদা মানুষ।
মারিদ কানে হেডফোন লাগাতে গিয়েও থেমে যায়। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রাদিলের মুখের দিকে। মারিদ কখনো ভাবেনি ফোনে আর চিঠিতে আলাদা দুজন হতে পারে। বরং মারিদ ফোনের অপরিচিতা ভেবেই চিঠির উত্তর লিখত। রাদিল ফের বলল…
‘ তুই কখনো চিঠির মেয়েটার খোঁজ করেছিলি?
‘ করেছিলাম।
‘ কখন?
‘ অপরিচিতা হারিয়ে যাওয়ার বিশ দিন পর। কিন্তু ডাকবাক্সে কোনো চিঠি পাইনি।
‘ তাহলে পরে তুই আর চিঠির সন্ধান করিস নি কেন?
‘ চিঠির সন্ধানে কিছুদিন আগে ঢাকা মেডিকেল গিয়েছিলাম। যে ছোট ছেলেটা আমাকে চিঠিটা দিয়েছিল, সে ছেলেটা মারা গেছে, বিধায় আমি আর চিঠির তদন্ত করিনি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে অচেনা চিঠি থেকে ফোনের লোকেশন ধরে আমি খুব সহজে অপরিচিতার খোঁজ পেয়ে যাব। সেজন্য চিঠির বিষয়ে তদন্ত করেনি।
মারিদ চুপ করে গিয়েছিল কিন্তু এরমাঝেই রাদিল এক অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসল মারিদকে…
‘ আচ্ছা ধর! যদি চিঠি আর ফোনের মেয়েটা দুজন আলাদা বের হয়, তখন তুই কি করবি? কাকে বেছে নিবি মারিদ?
রাদিলের কথায় মারিদ ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে সন্তুষ্টিতে উত্তর দিয়ে বলল…
‘ এমন কিছুই হবে না। কারণ অপরিচিতা বলেছিল সে আমাকে চিঠি লিখবে। আমি সেই অনুযায়ী চিঠিগুলো পেয়েছি। তাছাড়া অপরিচিতার লাস্ট ফোনকলের পর আমিও আর চিঠি পাইনি। এটা থেকেও বুঝা যায় ফোনে আর চিঠিতে দুজন আলাদা মানুষ ছিল না। একজনই ছিল।
রাদিলের মন ভরলো না মারিদের উত্তরের। সে কাঙ্ক্ষিত উত্তরটা পাইনি বলে সে একই প্রশ্নের জের ধরে বলল…
‘ তোর ধরতে সমস্যা কোথায় মারিদ? ধর, আল্লাহ না করুক, যদি কোনো কারণে দুটো আলাদা মানুষ বের হয় তোর প্রেমের ত্রিকোণ হয়ে, তাহলে তুই কি করবি? কাকে বেছে নিবি? অপরিচিতা নাকি পত্রকন্যা?
‘ তোকে বেছে নিব শালা বেয়াদব।
মারিদ পাশ থেকে রিমোট উঠিয়ে মারল রাদিলের দিকে। রাদিল শব্দ করে হেসে মারিদের ছুঁড়ে দেওয়া রিমোটটি লুফে নিল। ব্যঙ্গ করে বলল…
‘ আমাকে গে ভেবেছিস? তোর ভাগের সম্পত্তি লিখে দিলেও ডঃ রাদিল চৌধুরী তোকে বিয়ে করবে না। আমি নারীতে ইন্টারেস্টেড বুঝলি?
~~
রাত প্রায় দুটোর কাছাকাছি। খাওয়া দাওয়া, কথা শেষ করে রাদিল মারিদের ঘর হতে বেরুলো সৈয়দ বাড়ির গেস্ট রুমে থাকবে গিয়ে। রাদিল কিংবা রিফাত, ওরা যতবার সৈয়দ বাড়িতে আসে, তাঁরা উপরে কিংবা নিচে গেস্ট রুমগুলোতে থাকে। মারিদের যেমন অভ্যাস নেই কারও সাথে বেড শেয়ার করে থাকার, তেমনই রাদিলও এই বিষয়টা পারে না। রিফাতের বিষয়টা অন্য। সে বেড কেন, সে অনেক কিছুই শেয়ার করে ফেলতে পারে ফান মনে করে, যেটা রাদিল কিংবা মারিদ পারে না।
সৈয়দ বাড়ির ছয়তলা ভবনের প্রথম দোতলা অ্যাডজাস্ট করে ভিতরের ডিজাইন করা। নিচের বড় হলরুম বাদেও এগারোটি রুম উপরে নিচে মিলিয়ে। যার মধ্যে নয়টি রুমই ঘরের সদস্যদের দখলে। বাকি দুটো গেস্ট রুম। সৈয়দ বাড়িতে মেহমান আসলে ঐ দুটো রুমে জায়গার অভাব হয়, আর এতে এই বাড়ির মেয়েদের—সুফিয়া, আফিয়া, সুখের—নিজেদের ঘর ছাড়তে হয়। এজন্য মাহবুব আলম তিনতলা ভাড়াটিয়াদের বিদায় করে দিয়ে তিনি সেখানে ঘরের জন্য কাজ করাচ্ছেন। দোতলার একপাশের অল্প ছাদ ভেঙে ডিজাইন করে ভিতর থেকে সিঁড়ি দিয়ে দিচ্ছেন, যেন দোতলা থেকে সহজেই তিনতলার ফ্ল্যাটে যাওয়া আসা করা যায়। কাজ প্রায় শেষের দিকে। সুখ, রাতুল, রাদ নিজেদের দোতলার ঘর পরিবর্তন করে তিনতলায় ঘর নেবে। ঘরে কাজ শেষ হলে ওরা উঠে যাবে তিনতলায়, বাকি সবাই নিজেদের ঘরেই আছে। মারিদের ঘরের পাশাপাশি ঘরটা সুখের। তারপর সালমা সৈয়দ ও মাহবুব আলমের রুমটা পেরিয়ে গেস্ট রুম। রাদিল মারিদের ঘর থেকে বেরুতেই দেখা পেল সুখের। হাতে গোলাপি রঙের ফ্লাস্কভর্তি পানি ভরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে। গায়ে গোলাপি রঙের নাইট স্যুট। মাথার কোমর অবধি চুলগুলো দুটো বেণি করে দু’পাশে ফেলা। গায়ে একটা মোটা সোয়েটারও আছে সাদা উলের। মাহবুব আলমের একমাত্র মেয়ে সুখ। যত্ন আহ্লাদের কমতি নেই, সেটা সুখকে দেখে বুঝা যায়। রাদিল সুখকে দেখে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে যায়। সুখ সিঁড়ি বেয়ে করিডোরে উঠতে রাদিল ডাকল…
‘ সুখ।
অন্যমনস্ক সুখ রাদিলের ডাক শুনতে পায়নি। হাতে পানির ফ্লাস্ক নিয়ে গুনগুন করে চলে যাচ্ছিল। রাদিল ফের উচ্চ স্বরে ডাকল…
‘ এই সুখ।
সুখ ঘাড় বেঁকিয়ে পিছনে তাকাল। রাদিলকে মারিদের ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বেশ বিরক্তিতে চোখ-মুখ কুঁচকে বলল…
‘ কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো তো রাদিল ভাই। আমার জন্য ঘরে আমাদের স্কুলের হ্যান্ডসাম টিচার অপেক্ষা করছে।
সুখের কথায় রাদিলের কপাল কুঁচকে এগিয়ে এসে বলল…
‘ তোর স্যার তোর ঘরে?
‘ না, ফোনে।
‘ তুই এতো রাতে স্যারের সাথে ফোনে কি করিস?
‘ অঙ্ক বুঝি।
‘ তোর না অঙ্ক পরীক্ষা শেষ? তাহলে আবার কিসের অঙ্ক বুঝিস?
‘ পরীক্ষা শেষ তো কি হয়েছে? বইয়ের অঙ্ক কি শেষ নাকি? শিক্ষার কোনো শেষ নাই রাদিল ভাই। আমাদের স্কুলের গণিত টিচার অনেক হ্যান্ডসাম। তাই পরীক্ষা শেষ হলেও বারবার অঙ্ক করা যায়। ঐসব তুমি বুঝবে না। আমাকে কেন ডেকেছো তাই বলো।
রাদিল কপাল কুঁচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সুখের দিকে তাকাল। সুখের দুষ্টুমি সম্পর্কে রাদিল অবগত। কিন্তু কখন দুষ্টুমি করে, কখন সত্য বলে—বুঝা দায়। এতো রাতে স্যারের সাথে কথা বলার ব্যাপারটা সত্য নাকি মিথ্যা, সেটা নিয়েও সে সন্দিহান। সুখের মেট্রিক পরীক্ষা চলছে গ্যাপে গ্যাপে। বাংলা ১ম ২য় আর গণিত, তিনটে পরীক্ষা শেষ। পরবর্তী পরীক্ষা ইংরেজি অথচ রাত জেগে নাকি হ্যান্ডসাম টিচারের কাছে অঙ্ক শিখে। এটা কি ফাজলামো ছিল নাকি সত্য? রাদিল তীক্ষ্ণ গলায় বলল…
‘ তুই মারিদকে বলেছিস আমি নাকি তোকে ডিস্টার্ব করি? তোর পরীক্ষার কেন্দ্রের সামনে বখাটেদের মতো দাঁড়িয়ে থাকি, তোকে উত্ত্যক্ত করি?
সুখ সহজ সরল প্রত্যুত্তরে বলল..
‘ তাহলে পরীক্ষার কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেই তো হয়। যাওনা কেন?
‘ আমি কেন তোর পরীক্ষার কেন্দ্রে যাব? আমি কি তোর গার্জিয়ান?
সুখ বিরক্তির চোখে রাদিলের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে হঠাৎ বলল…
‘ দাঁড়াও, আমি এক্ষুনি মারিদ ভাইকে বলছি, তুমি আবার আমাকে ডিস্টার্ব করেছো। আমাকে রাত-বিরেতে কল করো। তোমার জন্য আমি পড়তে পারি না। আমাকে দেখলে তুমি শিষ বাজাও, চোখ মারো।
সুখ কথাটা বলেই এগিয়ে মারিদের ঘরের দরজায় জুড়ে কয়েকটা থাপ্পড় দিতে দিতে বলল….
‘ মারিদ ভাই দরজা খোলো। দেখো, রাদিল ভাই আমাকে আবার ডিস্টার্ব করেছে। আমাকে দেখে চোখ মেরেছে। শিষ বাজিয়েছে। মারিদ ভাই। ও মারিদ… উফফ!
রাদিল সুখের চুলের একটা বেণি ধরে টানতে সুখ ‘উফফ’ শব্দ করে পিছিয়ে গেল। এক হাতে পানির ফ্লাস্কটি কোলে চেপে অপর হাতে রাদিলের হাত থেকে নিজের চুলের বেণি ছাড়াতে চাইলে রাদিল শক্ত গলায় বলল…
‘ তোর আমার সাথে কি সমস্যা? বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলছিস কেন সবাইকে?
ততক্ষণে রাদিল সুখের চুল ছেড়ে দিয়েছে। সুখ নিজের মাথা ঘষে বলল..
‘ তুমি কালো, আমি ফর্সা। ব্যাপারটা বুঝেছ রাদিল ভাই?
‘ না।
সুখ বিরক্তিতে বলল…
‘ তুমি কি বুঝো? তুমি মানুষের ডাক্তার না হয়ে গরুর ডাক্তার হওয়ার দরকার ছিল রাদিল ভাই। তুমি ডাক্তারদের নাম বদনাম করলে।
রাদিল এবার রেগে গেল। সে বরাবরই সৈয়দ বাড়ির মেয়েদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখে, কিন্তু সুখের বাড়াবাড়ি মিথ্যায় রাদিল অসন্তুষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা—ছোট সুখ রাদিলের মতো এতো বড় মানুষকে ‘তুমি তুমি’ বলে সম্বোধন করছে, সেটা মোটেও রাদিলের পছন্দ না। রাদিল শক্ত গলায় বলল…
‘ তুই আমাকে তুমি তুমি করে কেন বলিস? আমি তোর থেকে কতো বড়ো জানিস? মারিদকে আপনি করে বললে আমি তোর তুমি হলাম কিভাবে?
‘ ঐ সংযোজন বিয়োজন করে ডাকি। কাল তোমাদের বাড়িতে যাব। আমাকে সকালে নিয়ে যেও তো রাদিল ভাই।
‘ আমি পারব না।
‘ দাঁড়াও তোমার আম্মুকে বিচার দিচ্ছি।
চঞ্চল সুখ রাদিলকে মুখ মিচকে চলে গেল। রাদিল কেমন বিরক্তির চোখে সুখের যাওয়ার দিকে তাকাল। রিফাত সুখকে ‘ভণ্ড সুখ’ ডাকে। আসলেই মেয়েটা ভণ্ডামিতে সেরা।
চলিত…
[ আপনার যারা বলছেন গল্পটা একজায়গায় আঁটকে, তাদের বলছি, দেখুন গল্পটা মোড় আমি হুট করেই ঘুরাতে পারব না তাহলে গল্পের সৌন্দর্য হারাবে। এই গল্পের মূখ্য চরিত্রে আরও বেশ কিছু চরিত্র সামনে আসবে। গল্পের কাহিনি এভাবেই এগোবে। গল্পের রহস্য উন্মোচন কাহিনীর সাথে সাথে হবে। নায়িকা কে সেটাও কাহিনীর সাথে সাথে বুঝবেন। ধৈর্য্য ধরে পড়ার অনুরোধ রইল ]
[ বানান ভুল ম্যানশন করবেন কমেন্টে]
Share On:
TAGS: ডাকপ্রিয়র চিঠি, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১