দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ১৬
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“ডিনার করে রুমে এসেই আদ্রিয়ানা বেডের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে। তা দেখে আদনান বেডের দিকে এগিয়ে যায়। আদ্রিয়ানা দুই পাশে দুই হাত দিয়ে আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে বলে”….
“কইতরির মা, এই ভাবে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লে যে”?…..
“আদ্রিয়ানা আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে বলে”….।
“ভাত খাওয়ার পর আমার উদ্দাম লাগে তাই”।
“উদ্দাম লাগলে তো হবে না, তোমাকে রেডি হতে হবে তো”।
“ছকিনার বাপ আপনাকে বলছি না, আমি রাতের বেলায় ঘুরতে যাবো না। তাঁর পর ও এমন করছেন কেনো”…?
“শেফালীর মা আমরা ঘুরতে যাবো না তো”।
“তাহলে রেডি হতে বলছেন কেনো”..?
“তোমাকে নিয়ে ছাঁদে চাঁদ দেখতে যাবো”।
“চাঁদ দেখতে যাবেন”?
“আচ্ছা ঠিক আছে কইতরির বাপ চলেন চাঁদ দেখে আসি”…..
“এইভাবে না। আমার দেওয়া ড্রেসটা পড়ে রেডি হয়ে নাও তারপর।
“চাঁদ দেখতে যাওয়ার জন্য রেডি হওয়া লাগে”?..
“হুম লাগে। যাও রেডি হয়ে নাও”।
“তাহলে সরেন”.
“মানে”?….
“মানে আমার গায়ের উপর থেকে সরেন। আপনি না সরলে আমি উঠবো কেমনে আর রেডিও বা হবো কেমনে”?
“আদনান আদ্রিয়ানা উপর থেকে সরে যায়। আদ্রিয়ানা বেড থেকে উঠে ড্রেসটা নিয়ে ওয়াসরুমে চলে যায়। মিনিট দশেক পর ড্রেসটা পড়ে বের হয়ে আসে”।
“কইতরির বাপ দেখেন তো আমাকে কেমন লাগছে”?….
“আদ্রিয়ানার কথা শুনে আদনান চোখ তুলে তাকায়, আদ্রিয়ানা আদনানের দেওয়া নীল রঙের ড্রেস পরে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাঁটু পর্যন্ত চুলগুলো খোলা, চোখে মায়াবী ভাব, স্বাভাবিক সৌন্দর্যে সে যেনো এক পরী। আদনানের মনে হয়, এই মুহূর্তে সে যেনো কোনো রূপকথার রাজকুমারী কে দেখছে। আদ্রিয়ানার চেহারায় কোনো মেকআপ নেই, নেই কোনো লিপস্টিকের রঙ, কিন্তু তার সৌন্দর্য যেনো ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে”।
“আদনানের চোখ আদ্রিয়ানার দিকে আটকে যায়। সে যেনো হারিয়ে যাচ্ছে আদ্রিয়ানার চোখের গভীরতায়। আদনান পলকহীন দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে আছে। আদনান কে এইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আদ্রিয়ানা লজ্জা পেয়ে যায়। আদ্রিয়ানা লজ্জা মিশ্রিত কন্ঠে বলে”…
“কইতরির বাপ এইভাবে কি দেখছেন? আমার লজ্জা লাগছে তো”।
“কইতরির মা, তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে চাঁদ নেমে এসেছে পৃথিবীতে। তোমার এই স্বাভাবিক সৌন্দর্য যেনো আমাকে পাগল করে দিচ্ছে। তোমার চোখ, তোমার হাসি, তোমার সবকিছুই যেনো আমাকে টানছে।”
“আদ্রিয়ানা একটা লজ্জা মিশ্রিত হাঁসি দেয়”
“আদনান বেড থেকে নেমে আদ্রিয়ানার দিকে এগিয়ে যায়। আদ্রিয়ানার কোমর জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানা কে নিজের কাছে টেনে নেয়”।
“সুইটহার্ট তোমাকে আজকে অসাধারণ লাগছে। তোমার এই সৌন্দর্য যেনো আমার জন্যেই”।
“আদনানের কথায় আদ্রিয়ানা লজ্জা পেয়ে যায়। ফলে আদনানের বুকে মুখ গুঁজে ফেলে। আদনান মুচকি হেসে আদ্রিয়ানা কে আগলে নেয় নিজের বুকে। কিছুক্ষণ পর আদ্রিয়ানা আস্তে করে বলে”…
“কইতরির বাপ এইভাবে জড়িয়ে ধরে রাখবেন না কি চাঁদ ও দেখতে যাবেন”?
“আর কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকি তাঁর পর চাঁদ দেখতে যাবো”।
“এগারোটা চল্লিশ বাজে কখন চাঁদ দেখতে যাবেন”?….
“কি বলো এগারোটা চল্লিশ বেজে গেছে”?…..
“ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন মিস্টার পান্ডা”।
“আদনান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সত্যি সত্যিই এগারোটা চল্লিশ বাজে। বারোটা বাজতে আর মাত্র বিশ মিনিট বাকি আছে। আদনান আদ্রিয়ানা কে ছেড়ে দিয়ে কাবাটের দিকে এগিয়ে যায়। কাবাট থেকে একটা সাদা রঙের ব্লেজার বের করে নেয়। বারান্দা থেকে টাওয়াল নিয়ে এসে কোমরে টাওয়েল পেঁচিয়ে প্যান্ট চেঞ্জ করে নেয়। পরনে থাকা টিশার্ট টা খুলে ব্লেজার পড়ে নেয়। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুলো সেট করে নেয়। মিররের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে শেষ বারের মতো দেখে নিয়ে এগিয়ে যায় আদ্রিয়ানার দিকে। আদ্রিয়ানার দিকে নিজের হাত টা বাড়িয়ে দিয়ে বলে”…..
“চলো মাই ডিয়ার রাঙা বৌ “?….
“হুম চলেন”…..
“মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আদনান আর আদ্রিয়ানা ছাঁদে পৌঁছে যায়। ছাদের চারদিকে অন্ধকার, শুধু জঙ্গলের গাছপালার ছায়া দেখা যাচ্ছে। আদ্রিয়ানা ভয়ে আদনানকে জড়িয়ে ধরে, তার হৃদয় দ্রুত গতিতে পিটপিট করছে। আদনান এক হাত দিয়ে আদ্রিয়ানাকে বুকে আগলে নেয়, অপর হাত দিয়ে পকেট থেকে একটা রিমোট বের করে”।
“আদনান রিমোটের অন বাটনে ক্লিক করে, আর চারদিক আলোকিত হয়ে যায়। আদ্রিয়ানা অবাক হয়ে চারদিকে তাকায়, সে দেখে ছাঁদটা সুন্দর করে ডেকোরেশন করা হয়েছে। ফুলের পাপড়ি দিয়ে ছাঁদের মেঝে সাজানো, লাইট দিয়ে লেখা “হ্যাপি বার্থডে আদ্রিয়ানা”। চাঁদের আলোয় সবকিছু যেনো আরো সুন্দর লাগছে।
“আদ্রিয়ানা কিছুই বুঝতে পারছে না, সে আদনানের দিকে তাকায়। আদনান হাসছে, আদ্রিয়ানার হাত ধরে বলে”..,
“হ্যাপি বার্থডে আমার রাঙা বৌ”
তোমার জন্মদিনে তোমাকে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা”…
“তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার”
“হ্যাপিবার্থডেঘরওয়ালী”
“আদ্রিয়ানা আদনানের কথা শুনে অবাক হয়ে যায়, সে বলে”…
“কইতরির বাপ, আজকে যে আমার জন্মদিন? আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম!”
আদনান আদ্রিয়ানার চোখের দিকে তাকায়, আদ্রিয়ানার চোখে জল জমে আছে। আদ্রিয়ানা কান্না করে দেয়, আদনান তাকে জড়িয়ে ধরে বলে”…..,
“আমি আছি তো, ঘরওয়ালী তোমার পান্ডা আছে তো। তোমার সবকিছু মনে রাখার জন্য।”
আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মুখ গুঁজে কান্না করে, আদনান তাকে শান্ত করে বলে”….,
“শান্ত হও, কইতরির মা। আজকে তোমার জন্মদিন, আমরা এটা সেলিব্রেট করবো।”
“আদ্রিয়ানা কান্না থামিয়ে আদনানের দিকে তাকায়, আদনান তাকে নিয়ে কেকের কাছে যায়। কেকের সামনে দাঁড়িয়ে আদনান আবার ও বলে”…..
“হ্যাপি বার্থডে, ঘরওয়ালী।”
আদ্রিয়ানা হাসে, আদনান আর আদ্রিয়ানা মিলে কেক কাটে। আদনান এক টুকরো কেক আদ্রিয়ানার মুখে দেয়, আদ্রিয়ানাও এক টুকরো কেক আদনানের মুখে দেয়”।
” আদনান আদ্রিয়ানাকে জড়িয়ে ধরে বলে, “আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, আদ্রিয়ানা।”
আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “আমিও আপনাকে খুব ভালোবাসি।”
“দুইজন দুইজনকে জড়িয়ে ধরে, চাঁদের আলোয় তাদের ভালোবাসা যেনো আরও গভীর হয়ে যায়”।
“আদনান আদ্রিয়ানার কপালে একটা চুমু দেয়, আদ্রিয়ানা আদনান কে জড়িয়ে ধরে আদনানের বুকে মুখ গুঁজে ফেলে”।
“মিউজিক বাজতে শুরু করে, আদনান আদ্রিয়ানার হাত ধরে বলে”…
“ঘরওয়ালী চলো, ডান্স করি।”
“আদ্রিয়ানা হাসে, দুইজন একসাথে নাচতে শুরু করে। চাঁদের আলোয়, ফুলের সুগন্ধে, আর মিউজিকের তালে তালে তারা নাচছে। আদ্রিয়ানা আদনানের হাত ধরে ঘুরছে, আদনান তাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে”।
“আদ্রিয়ানা আদনানের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে, আর আদনান আদ্রিয়ানার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের হৃদয় একসাথে পিটপিট করছে, তাদের ভালোবাসা যেনো চাঁদের আলোয় আরও গভীর হয়ে যাচ্ছে। আদ্রিয়ানার হাত আদনানের হাতে, আদনানের হাত আদ্রিয়ানার কোমরে। তারা একসাথে নাচছে, তাদের পায়ের তাল মিউজিকের সাথে মিলে যাচ্ছে”।
“আদনান আদ্রিয়ানাকে আরও কাছে টেনে নেয়, আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মুখ গুঁজে দেয়। চাঁদের আলো তাদের উপর পড়ছে, ফুলের সুগন্ধ তাদের নাকে আসছে, আর মিউজিকের তাল তাদের হৃদয়ে বাজছে।”
☘️
“অপরদিকে জাবির একা একা আদ্রিয়ানার জন্মদিনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে নিজের হাতে ঘরটা সুন্দর করে ডেকোরেশন করেছে, বেলুন দিয়ে সাজিয়েছে, লাইট দিয়ে আলোকিত করেছে। আজকে দুই এ অক্টোবর। আজকের দিন টা তাঁর কাছে অনেক স্পেশাল একটা দিন। কারণ আজ তাঁর ভালোবাসার মানুষটির জন্মদিন। জাবির কেক আনিয়েছে, আদ্রিয়ানার ছবি কেকের সামনে রেখেছে”।
“জাবির আদ্রিয়ানার ছবির দিকে তাকিয়ে বলে, “হ্যাপি বার্থডে, আদ্রিয়ানা। আজকে তোমার জন্মদিন, কিন্তু তুমি আমার সাথে নেই। তুমি ওই আদনানের সাথে আছো, আমি সিউর তোমার জন্মদিন পালন করছো।”
“জাবিরের চোখে জল আসে, সে বলে, “আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, আদ্রিয়ানা। তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছো, কিন্তু আমি তোমাকে ভুলতে পারিনি। তোমাকে ছাড়া আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি তোমার জন্য এত কিছু করেছি, কিন্তু তুমি আমাকে একবারও দেখনি।”
“জাবির কেকের সামনে বসে, সে আদ্রিয়ানার ছবির দিকে তাকিয়ে বলে, “আমি তোমার জন্য কেক এনেছি, কিন্তু তুমি আসবে না। আমি তোমার জন্য গান গাইবো, কিন্তু তুমি শুনবে না।”
“জাবির গিটার হাতে তুলে নিয়ে গান গাইতে শুরু করে”,
“তাল মাতাল মনটা কিছু তোমায় বলতে চাই”….
“বেসামাল ভাবনা গুলো তোমায় ছুঁতে চায়”…..
“তাল মাতাল মনটা কিছু তোমায় বলতে চাই”…
“বেসামাল ভাবনা গুলো তোমায় ছুঁতে চায়য়য়য়য়”…..
“আমি শুধু চেয়েছি তোমায়”…
“আমি শুধু চেয়েছি তোমায়”….
“আমি শুধু চেয়েছি তোমায়”…..
“জাবির গান শেষ করে, সে আদ্রিয়ানার ছবির দিকে তাকিয়ে বলে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি, আদ্রিয়ানা। তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছো, কিন্তু আমি তোমার পিছু ছাড়বে না। যেকোনো মূল্যে এই জাবির রায়হান চৌধুরী তোমাকে নিজের করে নিবে”।
জাবির কেক কাটে, এক টুকরো কেক মুখে দেয়। সে মনে করে, “এই কেকের স্বাদ নেই, কিন্তু আমার ভালোবাসার স্বাদ আছে।”
প্রিয় পাঠক মহল পেইজে অবস্থা খারাপ। গল্প পোষ্ট করলেও সবার কাছে পৌঁছায় না। গল্প পোষ্ট করার সাথে সাথেই নোটিফিকেশন পেতে নিচে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করো প্লীজ”……
- পেইজে ফলো দিয়ে নোটিফিকেশন অন করে রাখুন
- পোস্টে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করুন
- বন্ধুদের মেনশন করুন যারা আপনার উপন্যাস পড়তে পারে
- নতুন পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন আর গল্প নিয়ে আলোচনা করুন
চলবে…
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ)
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪