Golpo romantic golpo নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৬


নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা

নাজনীননেছানাবিলা

পর্ব_১৬

অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌❌
কথা মতোন গল্প দিলাম।

(মাত্র গল্প লিখে দিলাম রিচেইক দেইনি কাল সময় করে দিয়ে দিব। ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমার চোখে দেখবেন। আগের পর্বটা আরো বড় করে লিখেছিলাম কিন্তু আফসোস ডিলিট হয়ে গিয়েছে। এখন আবার লিখে আপনাদের জন্য দিলাম)

মিহালের মা ইসরাতুল মিনা মির্জা একটি ছবির ফ্রেম বুকে জড়িয়ে নিয়ে কাঁদছেন। নিজের পরিবারের কথা খুব মনে পরছে তার। এভাবে সম্পর্ক ভেঙে না গেলেও পারতো। বেশ ভালই ছিল কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে বেছে নেওয়ার জন্য নিজের পরিবারকে ত্যাগ করতে হয়েছে। নিজের ভালোবাসার মানুষটি যতই তাকে সুখী রাখুক না কেন পরিবারের অনুপস্থিতি প্রতিনিয়তই তাকে কুকরে-কুকরে খাচ্ছে। না তিনি কাউকে বলতে পারছেন আর না সইতে পারছেন। চোখের পানি বিসর্জন দিতে দিতে চলে গেলেন অতীতের ভাবনায় _

ইসরাতুল মিনা মির্জা সবে বয়ঃসন্ধিতে পা দিয়েছে।তার মনে সবে প্রেমের অনুভূতিরা এসে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে।যখন থেকে প্রেম কি তা বুঝতে পেরেছিল তখন থেকেই নিজের ভাইয়ের বেস্ট ফ্রেন্ড মুবিন খান কে তার মনে ধরেছিল।মুবিন খানের হাব ভাবেও সে বুঝতে পেরেছিল যে ছেলেটি তাকে ভালোবাসে। তারপর আর কি যখন ১৭ বছরে পা দিল তখনই দুজনের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল। তখন একতরফা ভালোবাসা রূপান্তর নিল দুই তরফায়। তার মানে এই না যে তাদের মাঝে ছুটিয়ে প্রেম চলে। তাদের কেবল দেখা হতো ছাদে দাঁড়িয়ে।আর কথা হতো চিঠি আদান প্রদানের মাধ্যমে।আর চিঠি আদান-প্রদানের ডাক পিয়ন ছিল মিনু আর মামুন।(মুনভির মা বাবা) আর অন্য যুগলদের চিঠি আদান প্রদান করতে করতে তাদের মাঝেও প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। মুবিন খান আর শাহরিয়ার মামুন পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিল তারা দুজনে তাই বাহিরে পড়ার জন্য চলে আসেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখন যখন ইসরাতুল মিনা মির্জার জন্য ভালো ভালো ঘর থেকে সম্বন্ধ আসা শুরু করে। যেহেতু বাড়ির ছোট মেয়ে এবং বয়স ১৮ তে পা দিয়েছে তাই তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে ‌সবাই। অন্যদিকে মিনুরও একই দশা। তারা কেউই পরিবারকে নিজেদের ভালোবাসার কথা বলতে পারিনি ভয় এর কারণে।ইসরাতুল মিনা মির্জা নিজের ভাইয়ের ফোন থেকে মুবিন খান কে কল দিয়ে সবটা জানাতেই সে নিজের বন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশের ফিরে আসে। কিন্তু যেদিন সে বাংলাদেশে আসে সেই দিনই ইসরাতুল মিনা মির্জা কে দেখার জন্য পাত্র পক্ষ এসেছিল।আর মুবিন খান যখন মির্জা বাড়িতে প্রবেশ করে তখন তাকে দেখে ইমরান মির্জা অবাক হয়ে বলল__
আরে তুই বাংলাদেশে আসবি আমাকে আগে বলবি না? যাই হোক আমার বোনকে আজ পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে। আজ কিন্তু তোর কোন ছুটি নেই তুই আমাদের বাড়িতেই থাকবি খাবি।

মুবিন খানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তার ভালোবাসার মানুষটিকে অন্য কেউ দেখতে এসেছে এটা তার সহ্য হলো না। তার সাথেই দাঁড়িয়ে ছিল শাহরিয়ার মামুন।সে নিরব দর্শকের মত সবটা দেখে যাচ্ছিল।

বাড়ির সকলে ড্রইংরুমে উপস্থিত ছিল।ইসরাতুল মিনা মির্জা যখন সিঁড়ি বেয়ে নামছিল তখন উপস্থিত সবার দৃষ্টি তার দিকে গেল। মুবিন খান কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেলেন নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে এত মাস পর দেখায়। সঙ্গে সঙ্গে সে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দিল।ইসরাতুল মিনা মির্জা নীল রঙের শাড়ি পরেছে। তার নীল রংটা ভীষণ পছন্দের। মুবিন খানের সহ্য হলো না যে তার ভালোবাসার মানুষ অন্য কারোর জন্য শাড়ি পড়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে নিচ থেকে হুংকার দিয়ে বললেন_
অন্য কারো জন্য সাজার কোন প্রয়োজন নেই মিনু। তুমি সাজলে কেবল আমার জন্য সাজবে। অন্য কেউ তোমার এই সৌন্দর্য দেখার হকদার না। নিজের ঘরে চলে যাও।

ইসরাতুল মিনা মির্জা অবাক দৃষ্টিতে তাকালো মুবিন খানের দিকে।সে জানতো না যে আজ মুবিন চলে আসবে। সে যতটা খুশি হয়েছে তার থেকে বেশি অবাক হয়েছে এবং ভয় এসে ঘিরে ধরেছে তাকে। ড্রয়িং রুমে সবাই বসা ছিল, অতিথিরা, তার বাবা ভাই সবাই। সে একবার নিজের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের দিকে তাকিয়ে নিজের ঘরের দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। ইমরান মির্জা অবাক দৃষ্টিতে তাকালো মুবিন খানের দিকে। তিনি কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরে জিজ্ঞেস করলেন__
এইসব কি মুবিন। বাড়িতে আজ একটা অনুষ্ঠান। আমার বোনকে পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে। অবশ্যই পাত্রপক্ষের সামনে সেজে বসবে। তাতে তোর সমস্যা কোথায়?

মুবিন খান নিজের প্রিয় বন্ধুর চোখে চোখ রেখে নির্ভয়ে বলতে শুরু করলেন__
আমি ইসরাতুল মিনা মির্জা কে ভালোবাসি। আমি তোর আদরের বোন মিনুকে ভালোবাসি। এবং সেও আমাকে ভালবাসে। তাই অবশ্যই আমি চাইবো না আমার ভালবাসার মানুষ অন্য কারো সামনেই সাধু-গোছ করে বসুক। এবং এই ভালবাসার অধিকারে তাকে আমি আদেশ করেছি।

হঠাৎ ফোনের রিংটোন বেজে উঠাতে ইসরাতুল মিনা মির্জার ভাবনায় ছেদ পড়ল। তিনি হকচোকে উঠলেন। নিজের চোখের পানি মুছে ফোন হাতে নিয়ে দেখলেন ফোনের স্কিনে মা নাম ভেসে উঠেছে। বুঝলেন তার মা কল দিয়েছে। ওড়না দিয়ে চোখের পানি ভালো করে মুছে ফোন রিসিভ করে নিজের মায়ের সাথে কথা বলতে লাগলেন। আসলে মা বলতে তার শাশুড়ি মা কল দিয়েছে।মিহালের দাদি।


ইকরা খাবার খেতেই মুনভি তাকে ঔষধ খেতে দিল।ইকরাও লক্ষী মেয়ের মত ওষুধ খেয়ে নিল। মিহাল আর নীলা মাত্র এলো।নীলা কে দেখেই মুনভি তার কাছে গিয়ে বলল__
কাজ টা কে করেছে? তোমার সন্দেহ কি ঠিক? নাকি অন্য কেউ করেছে?
ইকরাও নীলার দিকে কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে আছে।

নীলা বাঁকা হেসে নিজের ফোন থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বের করে তাদের দুজনকে দেখালো।মুনভি আর ইকরা খুব মনোযোগ দিয়ে ভিডিওটা দেখলো। ইকরা তো অবাক হয়ে গেল। এই মেয়েটিকে তো সে জানেও না তাহলে কেন এই মেয়েটি তার সাথে এমন করলো কিছুই বুঝে উঠতে পারছেনা।সে মুখ ফুটে বলেই ফেলল__
আমি তো এই মেয়েটিকে চিনি না পর্যন্ত। আর এমনও না যে এই মেয়েটি আমার ডিপার্টমেন্টের। তাহলে এই মেয়েটি আমার সাথে এমন কেন করল?

মুনভি ইকরার কথা শুনে তার দিকে একবার তাকিয়ে তারপর নীলার দিকে তাকিয়ে সবটা বুঝে উঠতে পারলো এবং বলল_
তারমানে নীলার বলা কথাগুলো একদম সঠিক। এই মেয়েটির নীলার সাথে হস্টিলিটি আছে তাই নীলার ক্ষতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তোমরা তোমাদের বসার স্থান পরিবর্তন করায় তারা গোলমাল লাগিয়ে ফেলে এবং নীলার পরিবর্তে তোমার ক্ষতি করে।

তখন মিহাল গম্ভীর কন্ঠে বলল_
হ্যাঁ ইউ আর রাইট।বাট একটা মেয়ে হয়ে কি করে আরেকটা মেয়ের সাথে এমন করতে পারে? হাউ ডিসগাস্টিং।

মুনভি বলল__
এই ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এর মেয়ে হয়েছে বলে এই ইউনিভার্সিটি কিনে ফেলেছে। ভেবেছে তাকে কিছুই করা যাবে না।

নীলা আর ইকরা অবাক হলো। তারা জানতো না যে এই মেয়েটি এই ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকের মেয়ে। দুজনে ই একসাথে বলে উঠলো__
ইয়ে তো লেটেস্ট নিউজ হে ।

দুজনকে একসাথে একরকম কথা বলতে দেখে মুনভি এবং মিহাল দুজনের দিকে দৃষ্টিপাত করলো এবং কিছুক্ষণ সময় নিয়ে তারপর শব্দ করে হেসে উঠলো।আসলে একসাথে চলার সময় কিছু কিছু কথাবার্তা থাকে যা সেইম হয়ে যায় তাই তারা দুজন একসাথে, একসঙ্গে, একই কথা বলেছে। মিহাল কিছুক্ষণ হাসে কিন্তু পরক্ষণে মনে পড়ে সে নিজের ভাব ভঙ্গি থেকে বের হয়ে আসছে। অর্থাৎ সে সব সময় মানুষের সামনে নিজেকে গম্ভীর পুরুষ হিসেবে রিপ্রেজেন্ট করে। কিন্তু এই মেয়েটি সামনে বারবার সে দুর্বল হয়ে পড়ছে। আরো দুর্বলতার আমাকে কোন শব্দের অস্তিত্ব তার ডিকশনারিতে নেই। তাই সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলে মুখে গম্ভীর্য এনে বলল__
তোমরা চাইলে এখন চলে যেতে পারো।

নীলা ইকরার কাছে এসে বলল__
হ্যাঁ এখন আমাদের ফিরে যাওয়া উচিত। তুই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে রেস্ট নিবি।

তখনই ইকরা মাথা নাড়িয়ে বলে উঠলো _
না আমি এখন যাব না। আমার এখন আগের থেকে অনেকটা বেটার লাগছে। আর তুই তো আছিস আমার সাথে ভয়ের কোন কারণ দেখছি না আমি। যেহেতু এতক্ষণ থাকতে পেরেছি আর কিছুক্ষণ না হয় দেখে যাই। যদি খারাপ লাগে তাহলে তোকে বলবো।

নীলা আর কথা বাড়ালো না এই বিষয়ে। কারণ সে এখন লিসার সামনে যেতে চায়‌। মেয়েটিকে তুই একটা কথা শোনাতে চাই। না শোনাতে পারলেও হাত ভঙ্গি দিয়ে কিছু একটা বুঝে আসতে চায়।

মুনভি কেবল নিজের কটন ক্যান্ডি কে দেখে যাচ্ছে।আর মিহাল নিজের নীলাঞ্জনা কে। ইকরা এইবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই পুরুষের দিকে তাকিয়ে বলল_
ধন্যবাদ আপনাদেরকে আমাকে এতটা সাহায্য করার জন্য। দুঃখিত আমার জন্য আপনাদেরকে ঝামেলায় পরতে হয়েছে।

মুনভি মনে মনে বলল _
সরি কেন বলছো কটন ক্যান্ডি? তোমার জন্যই তো আমি অনেকটা সময় তোমার সাথে কাটাতে পারলাম।

আর মিহাল মনে মনে বলল __
ঝামেলা হয়নি, উল্টো সুবিধা হয়েছে। আমি নীলাঞ্জনা চেহারাটা দেখতে পারলাম অবশেষে।

কিন্তু মুনভি তৎক্ষণাৎ মুখে বলে উঠলো __
ধন্যবাদ দেওয়ার কিছুই নেই। মানুষই তো মানুষের কাজে আসবে। আর সরি বলার কোন প্রয়োজন নেই। বিপদ হতেই পারে। কিন্তু আশা করি নেক্সট টাইম থেকে সতর্ক থাকবে। আর সব সময় নিজের ফোন নিজের কাছে রাখবে।

তারপর নিজের পকেট থেকে নিজের কার্ড বের করে নীলার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল_
এই নাও আমার কার্ড। যদি কোন প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই আমাকে ফোন করবে। আর ইকরা কে নিয়ে কাল আমার হসপিটালে আসবে। এবং ভালোভাবে চেকআপ করিয়ে নিয়ে যাবে।

নীলা মুনভির হাত থেকে কার্ড নিয়ে মুচকি হেসে ধন্যবাদ জানালো।নীলার মুচকি হাসি যেন মিহালের বুকে এসে লাগলো। হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। এত জোরে জোরে শব্দ হতে লাগলো মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীর মানুষ তার বুকের ধুকপুকানি শুনতে পারবে।

নীলা ইকরা কে সাহায্য করলো উঠে দাঁড়ানোর জন্য।ইকরা নীলার হাত ধরে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো। এবং আস্তে আস্তে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলো তারা দুজন। যাওয়ার আগে নীলা আরেকবার পিছন ফিরে দুজন পুরুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইকরার হাত ধরে চলে গেল।আর তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই যুবক তাদের যাওয়ার পানে চেয়ে রইল।

তারা চলে যেতেই মিহাল মুনভি কে বলল__
এই নীলা মির্জাই হলো নীলাঞ্জনা।

মুভি যেন আকাশ থেকে পরলো। চোখ আপনা আপনি বড় হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে নিজের বন্ধুর দিকে তাকালো।মিহাল মুনভির কাছ থেকে এমন একটি রিয়াকশনই আশা করেছিল।মুনভি জোরে জিজ্ঞেস করে উঠলো__
হোয়াটটটটটট? আর ইউ কিডিং ব্রো?

মিহাল পকেটে হাত গুঁজে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল__
তোর সাথে কিডিং করার মত এত সময় নেই আমার কাছে। আমি যা বলছি তা সত্যি বলছি। এই নীলা নামক মেয়েটি হলো নীলা মির্জা। মির্জা পরিবারের একমাত্র মেয়ে আর আমার সেই জাত শত্রু ইরফানের স্ত্রী।

এইবার যেন মুনভির চক্ষু চড়কগাছ। একটু আগেই তো ইকরা বলল তারা দুজনেই অবিবাহিত। মেয়েটি আর যাই হোক এই মুহূর্তে মিথ্যে বলবে না। আর মিহালও মিথ্যে বলবে না। মিথ্যে যদি কেউ বলে থাকে তাহলে সেটি বলতে পারে একমাত্র ইরফান। মুনভির কাছে বিষয়টা ঘোলাটে লাগলো। কিছুতো একটা রহস্য আছে। হয়তো ইরফান মিথ্যে বলেছিল মিহাল কে আর নয়তো কোন কারনে ইরফানের সাথে নীলার বিয়ে হয়নি। মুনভি যেইনা মিহালকে এই কথাটি বলতে দিল ওমনি মিহাল দাঁতের দাঁত চেপে বলতে শুরু করল_
তুই বল আমাকে একটা কথা, ইরফানের মত একজন ব্যক্তি যাকে দেখতে ইঁদুরের মত লাগে, পার্সোনালিটি একদম বাজে, তার ওপর এক নাম্বারের চিটার বাটপার লম্পট, মাথায় ঘিলু বলতে কিছুই নেই, রাম ছাগলের সাথে নীলার মত এত মিষ্টি, স্ট্রং পার্সোনালিটি, অনেস্ট, ইন্টেলিজেন্ট মেয়ের বিয়ে কি করে হলো? আমি থাকলে আর যে ওকেই বিয়ে কখনোই হতে দিতাম না। কিন্তু বিয়ে হয়েছে তার মানে এই না এমন পাগলের সাথে আমি নীলাকে থাকতে দিব। যেভাবে হোক ইরফানের ব্যাপারে আরো তথ্য বের করে নীলাঞ্জনা কে প্রমাণসহ দিব এবং তাদের দুজনের ডিভোর্স করাবো। নীলাঞ্জনা অনেক বেটার ডিসার্ব করে নিজের জীবনে।

মুনভি অবাক হয়ে নিজের বন্ধুর কথা শুনছে। মিহালকে কখনোই কারো জন্য এতটা পজেসিভ হতে দেখেনি। এই প্রথম কোন মেয়ের জন্য এতটা পজেসিভ হতে দেখলো। মুনভির ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। বেস্ট ফ্রেন্ডের মনে কি চলছে সেটা সে বুঝে ফেলল। মনে মনে বলল_
এবার বাছা লাইনে আসো। অবশেষে বগা ফান্দে পড়েছে এখন কিছুটা কান্দা বাকি। সেই ইরফানের কথা শুনে আমাকে থাপ্পর মারা তাই না? বেস্ট ফ্রেন্ড মানি বলি থাপ্পরের বদলে থাপ্পড় দেইনি। তারমানে এই না এত সহজে তোকে আমি ছেড়ে দিচ্ছি বন্ধু। আমার থেকে বেশি সে ইরফান কে বিশ্বাস করা তাই না? এখন দেখাচ্ছি মজা। তুই নিজের মুখেই নিজের ভুল স্বীকার করবে এবং এটাও স্বীকার করবি যে তুই তোর নীলাঞ্জনা কে ভালোবেসে ফেলেছিস। এটাই এই মুভি চ্যালেঞ্জ।

কথাগুলো মনে মনে বলে তারপর আমি হালকে উদ্দেশ্য করে বলল_
আমি নীলা মির্জা সাথে প্রেমের নাটক করার জন্য প্রস্তুত। আর মেয়েটার সাথে প্রথমেই আমার পরিচয় খুব ভালোভাবে হয়েছে তাই এই কাজটি আমার জন্য সুবিধা হবে।

শেষের কথাটি সে নিজের বন্ধুকে খোঁচা দিয়ে বলেছে। কারণ মিহালের সাথে নীলার প্রথম পরিচয় খুবই বাজে ভাবে হয়েছে। তাই মুনভির সাথে নীলা যতটা মিশতে পারবে ওটা মিশতে পারবে না। তাই এই কথাটি বলল সে।

মিহাল ভ্রু কুঁচকে মুনভির দিকে তাকালো এবং মনে মনে বলল_
ব্যাপার কি? আগে তো সব সময় বলতো বিবাহ মেয়ের সাথে প্রেমের নাটক করতে চায় না। অথচ মেয়েটিকে একবার দেখার পরেই তৈরি হয়ে গেল। তাহলে কি মুভি মেয়েটির প্রেমে পড়ে গেল? অবশ্য প্রেমে না পড়ে যাবে কোথায়? আমার নীলাঞ্জনা যে এতটাই পার্ফেক্ট এতদাই মায়াবী যে কেউই তার মায়ার আবদ্ধ হতে বাধ্য।

চলবে??
ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply