অন্তরালে_আগুন
পর্ব:৪১
তানিশা সুলতানা
টানা দুইদিন পরে হুশ ফিরে স্নেহার। প্রচন্ড জ্বর এবং শারীরিক দুর্বলতায় কথা বলারও শক্তি ছিলো না। প্রথম দিন নিজ কক্ষে পড়েছিলো পরবর্তীতে মুন্নু মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিলো। ডাক্তাররাও চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অবস্থার উন্নতি হয়।
মীরা আমিনা আয়াশ এবং আবির স্নেহার সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন।
বাকি সবাই মাঝেমধ্যে এসে দেখে গিয়েছে। কিন্তু নুপুর একবারও আসে নি। আসলে তাকে বলাই হয় নি স্নেহার অবস্থা। জানলে অবশ্যই আসতো। আনুর মৃত্যুর খবর স্নেহাকে জানানো হয় নি। মেয়েটা সবেই একটু সুস্থ হয়েছে। এখনই খারাপ খবর শুনিয়ে আবার অসুস্থ করে দিতে চাচ্ছে না।
আয়াশ প্রচন্ড দুষ্টু একটা বাচ্চা। সারাক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করতেই থাকবে।
হাসপাতালে এসেও এক সেকেন্ড স্থির থাকছে না। এখান থেকে ওখানে দৌড়াদৌড়ি করেই চলেছে। যদিও আলাদা একটা কেবিন দেওয়া হয়েছে ওদের। তবুও সেই কেবিনে আয়াশের পোষাচ্ছে না। সে দৌড়ে বেরিয়ে যায়। এবং পাশের কেবিনে ঢুকে পড়ে। সেখানে শারি শারি অনেক গুলো সিট রাখা। এবং সব গুলো সিটে একজন করে অসুস্থ মানুষ শুয়ে আছে। তাদের পাশে আবার কাছের মানুষরা বসে আছে। আয়াশ ঘুরে ঘুরে সবাইকে দেখে। হঠাৎ তার নজর পড়ে একটা বৃদ্ধ মহিলার পানে৷ সে দৌড়ে এগিয়ে যায়। মহিলাটির হাত ধরে বলে
“দাদু আমি আয়াশ।
চিনতে পারছো? আম্মু কোথায়?
মহিলাটি শুধু ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। কোনো কথা বলে না। আমিনাও ততক্ষণে চলে এসেছে। আয়াশকে দেখতে না পেয়ে তার কলিজাটাই উড়ে যাচ্ছিলো।
” আয়াশ তুমি এখানে চলে এসেছো কেনো?
কিছুটা রাগান্বিত স্বরে বলে আমিনা৷ আয়াশ মুখ কালো করে জবাব দেয়
“দাদু আমায় চিনতে পারছে না।
আমিনা এক পলক বৃদ্ধ মহিলার পানে তাকায় এবং পরবর্তীতে আয়াশের হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়। নিজেদের কেবিনের সামনে আসতেই দেখতে পায় নওয়ানকে।
বরাবরের মতোই ঠোঁটের ভাজে সিগারেট রেখে এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছু খুঁজছে। পাশে বল্টু দাঁড়িয়ে আছে।
আমিনা বলে ওঠে
” আব্বা তুমি এখানে?
“স্নেহাকে দেখতে এসেছি আম্মু।
” ও ভেতরে আছে। যাও।
নওয়ান বল্টুকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলে ভেতরে ঢুকে পড়ে। আঁখি পল্লব বন্ধ করে শুয়ে আছে স্নেহা। চোখের পাপড়ি ভেজা। কুর্নিশ বেয়ে অশ্রু কণা গড়িয়ে পড়ছে। ফর্সা মুখ খানা শুকিয়ে গিয়েছে। হাতে ক্যানেলো। মাথার ওপরে সাদা রংয়ের সিলিং ফ্যান ধীর গতিতে ঘুরছে।
নওয়ান স্নেহার মুখ পানে তাকিয়ে সামনে এগোয় এবং টুল টেনে বসে। দুর্বলতায় নেতিয়ে পরা স্নেহা পিটপিট করে চোখ খুলে নওয়ানের মুখ পানে তাকায়। লোকটার উপস্থিতি ও বুঝি গিয়েছিলো। বুঝবে না? বিগত ১৫ বছর যাবত উচ্ছৃংখল এই মানুষটাকে ও ফিল করতে পারে। শত শত মাইল দূরে থেকেও তার ভালো থাকা খারাপ থাকা সবটাই বুঝে ফেলে। আর এখন এতো কাছে এসেছে বুঝবে না?
নওয়ান সিগাটের ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে ডান হাতখানা এগিয়ে স্নেহার মাথায় রাখে। আলতো স্পর্শে চুলে বিলি কেটে দিতে থাকে।
প্রথম স্পর্শ।
একটা স্বপ্ন পূরণ।
স্নেহা খুব করে চাইতো এই মানুষটা তাকে স্পর্শ করুক। মাথায় হাত বুলিয়ে একটু আদর করে দিক। একটুখানি মায়া ভরা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাক। ভালো নাই বা বসলো একটু দয়া করুক।
সব চাওয়া গুলো পূরণ হয়ে গেলো যেনো আজকে।
আহা
প্রশান্তিতে বুক ভটে ওঠে। আনন্দের অশ্রু কণা গড়াতে থাকে অনবরত। তিরতির করে কেঁপে ওঠা ঠোঁট মেলে একটু হাসার চেষ্টা করে।
বিরবির করে বলে ওঠে
“এখন যদি মৃ/ত্যু এসেও দুয়ারে দাঁড়ায়
আমি হাসি মুখে তাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
আমার আর কিচ্ছু চাওয়া পাওয়ার নেই।
নওয়ান শুনতে পায় কথা গুলো সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে বলে
“নিজেকে এতো তুচ্ছ ভাবিস না। জীবনটা অনেক বড়।
” কিন্তু মৃ/ত্যুতেই জীবনের সমাপ্তি
“এভাবে বেঁচে থাকতে পারবি?
” মরছি না তো।
বেশ চলে যাচ্ছে।
“কি চাই তোর?
” কিচ্ছু চাই না। শুধু আমার সঙ্গে একটু ভালো করে কথা বললেই হবে।
আমার মানসিক শান্তি আপনি।
একটু থেমে আবার বলে
“পূর্নজন্ম হবে না নওয়ান। এই জনমেও আপনাকে পেলাম না।
যদি আমারই না হবে এতো যত্ন করে মায়ায় ফেললেন কেনো?
নওয়ান জবাব দেয় না। চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। দরজা ওবদি গিয়ে আবার থেমে যায়। পেছন ফিরে তাকিয়ে বলে
“যখন মায়া বাড়িয়ে লাভ হয় না তখন মায়া কাটাতে শিখতে হয়।
তোর জন্য চাঁদ আমায় ভুল বুঝুক এটা আমি চাই না।
চলে যায় নওয়ান। চোখ ভর্তি পানি নিয়ে শুকনো ঠোঁট মেলে একটু হাসার চেষ্টা করে স্নেহা।
“আপনাকে পেয়ে গেলে আমায় এতো যত্ন করে দুঃখ দিতো কে? আমার পরিপূর্ণ জীবনে অপূর্ণতার ছায়া খুঁজে পেতাম কোথায়? কোথায়ই পেতাম এমন হাহাকার রাত্রি? এই যে আমার ঘুম হয় না। মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। আপনাকে না পাওয়ার দুঃখে কান্না পায়। আমি বালিশ দিয়ে মুখ চেপে নিঃশব্দে কাঁদি। বিশ্বাস করুন মাঝেমধ্যে দম বন্ধ আসে আমার। মনে হয় মৃ/ত্যু বুঝি দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে। ওই মুহূর্তে চোখ বন্ধ করে আপনার মুখ খানাই স্মরণ করি।
আপনি আমার হলে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেলে পাশ ফিরেই আপনাকে পেতাম। কান্না করার কারণ খুঁজে পেতাম কোথায়?
আপনাকে পেয়ে গেলে সুখ এবং শান্তিতে একটা জীবন অনায়াসে কেটে যেতো। দুঃখের মূল্য বুঝতাম কিভাবে?
ভালোই হইছে আপনাকে পাই নি।
বলতে বলতে উচ্চ স্বরে কেঁদে ওঠে স্নেহার। মানতে পারছে না। বাঁচতে বড্ড কষ্ট হয়। ওপরে ওপরে ভালো আছি বোঝালেও ভেতরে ভেতরে দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজের নিচে মানুষের হাড্ডি পাওয়া গিয়েছে। লা/শটা কার সনাক্ত করতে ওইগুলো ল্যাবে পাঠানো হয়। এবং নায়েব তালুকদারের সঙ্গে ডিএনএ ম্যাচ করেছে। তখনই ডাক্তারদের কাছে কল আসে। কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী জানায় “এটা নায়েব তালুকদারের অবৈধ ছেলে আবির তালুকদার। তাকে মজনু তালুকদার খু/ন করিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাকে নিয়ে সিক্রেট কোনো নিউজ মানেই সেটা ভাইরাল। আর সন্তানের বিষয়টা সামনে আনতে পারলে তাদের ল্যাপ রিচার্জ এবং সুনাম দ্বীগুণ বেড়ে যাবে। এই চান্স কিছুতেই হাত ছাড়া করা যাবে না।
ডাক্তার ফয়সাল আরেফিন তখুনি যুগের বার্তা সংবাদ অফিসে কল করে তাদের কিছু সাংবাদিক পাঠিয়ে দিতে। ঘন্টা খানিকের ব্যবধানে দুজন সাংবাদিক চলে আসে।
ডাক্তার আরেফিন ক্যামেরার সামনে বসে স্মার্টলি বলতে থাকে
“রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজের নিচ থেকে কোন এক আগত ব্যক্তির বুকের পাঁজর হাত পা এবং মাথার খুলি পাওয়া গিয়েছে। জীবজন্তু ছিঁড়ে ছিঁড়ে মাংস খেয়ে নিয়েছে।
মৃত ব্যক্তির ডিএনএ টেস্ট করে নায়েব তালুকদারের সঙ্গে মিল পেয়েছি। এবং আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি আবির তালুকদার নিখোঁজ।
পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী আনুমানিক ১৮ খানা বুলেটের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে আবির। একটি গুলি আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি। এবং সেই গুলি যে পিস্তল থেকে বেরিয়েছে সেটি মজনু তালুকদারের কাছে রয়েছে।
সব মিলিয়ে আমাদের ধারণা
নায়েব তালুকদারের অবৈধ সন্তানকে মেনে নিতে পারেন নি মজনু তালুকদার। যার ফলে এমন নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।
যুগের বার্তা সহ সকল টিভিন চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজ চলছে এটাই। নায়েব তালুকদার পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে টিভির স্কিনে।
এক মুহূর্তের জন্য হলেও তার বুকটা কেঁপে ওঠে। আবির তার সন্তান। কখনোই বাবার দায়িত্ব পালন না করলেও এই সত্যিটা মিথ্যে হয়ে যাবে না।
৫০ বছর জীবনে সে বহু মানুষকে খু/ন করেছে। বহু মায়ের বুক খালি করেছে। কোনদিনও এতোটুকু অনুসূচনা হয়নি। বরং ভীষণ আনন্দ পেয়েছে।
তবে শুক্রবারে আনুর বাবার কান্না দেখে নায়েব তালুকদারের দুঃখ হয়েছে। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ বড্ড ভারি লাগে। রাজনীতি ভীষন খারাপ।
আর বাংলাদেশে অসুস্থ রাজনীতি শুরু করেছেন তিনি। কর্মফল বেঁচে থাকলে ভোগ করে যেতে হয়। সেসব সহ্য করে নিতে পারবে গোটা দুনিয়া ধ্বংস করে দিতে পারবে।
কিন্তু নওয়ানের গায়ে একটা ফুলের টোকাও সে মেনে নিতে পারবে না। তার সন্তানের কিছু হওয়ার আগে সেই মরে যাবে।
আবিরের বেলায় কোনদিনও তার ভাবনা এমন ছিলো না। ওর মৃত্যুতে উনার কিছু যায় আসে না।
কিন্তু আসলেও সেটা নয়। রক্ত যে কথা বলে।
আবিরের মৃত্যুতে কষ্ট হচ্ছে নায়েব তালুকদারের।
সেই দিন মজনু তালুকদার চলে আসার পরে বুঝতে পেরেছিলো নওয়ান সেখানে যাবে। আর নুপুর ভীষণ চালাক মেয়ে। সে কোন না কোন প্রমাণ ঠিকই সংগ্রহ করে রেখেছে। সেটা নাওয়ানের হাতে পড়লে বা অভির হাতে পড়লে সব শেষ হয়ে যাবে।
তাইতো আবিরকে পাঠিয়েছিলো নুপুর এবং আনুকে মে/রে ফেলতে। ছেলেটা এভাবে ধরা পড়ে যাবে স্বপ্নে ভাবে নি নায়েব তালুকদার।
লাঠি ভর দিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করে মজনু তালুকদার। তার পেছন পেছন সবিতা বেগম।
“এসব তথ্য মিডিয়া কি করে পেলো?
মজনুর প্রশ্নে সবিতা বলে ওঠে
” বাড়িতে কাল শাপ পুঁষলে মিডিয়া খবর পাবে না?
ওই মেয়েই সব বলেছে। তাছাড়া নুপুর ছাড়া এসব বিষয়ে কেউ জানে না।
নায়েব তালুকদার কপাল কুঁচকে বলে
“অনেক কষ্টে প্রধানমন্ত্রী হয়েছি আমি। কোনো বাঁধা বিপত্তি চাইছি না।
সবিতা বলে
” তাহলে ওই মেয়ে সরিয়ে দাও।
“চেষ্টা তো কম করা হলো না।
সবিতা কুটিল হেসে বলে ওঠে
“জানে মেরে দিলে মিডিয়ার সন্দেহ হবে।
তাকে মানে মারতে হবে।
বেঁচে থাকবে কিন্তু সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না।
নওয়াব তালুকদার সিগারেটে আসক্ত জানতো নুপুর। কিন্তু মদও খায় এটা জানা ছিলো না। তবে কি পৃথিবীর সকল নেশাতেই আসক্ত তিনি? হতেই পারে। বেয়াদব কি না।
এই যে লোকটা এখন সুইমিং পুলের পাশে বসে পানিতে পা ডুবিয়ে আছে। এক হাতের আঙুলে সিগারেট এবং আরেক হাতের ড্রিংকস এর গ্লাস। ক্ষণে ক্ষণে তাতে চুমুক দিচ্ছে। আবার একই তালে সিগারেট টানছে। সাদা রংয়ের লাইটের আলোতে তার মুখ স্পষ্ট। কালো রংয়ের টিশার্ট বুকের কাছে খানিকটা ভিজে আছে। হয়ত মুখ থেকে ড্রিংকস পড়েছে।
বল্টু পাশে বসে ঝিমাচ্ছে। কিছু দিন হলো ঠিকঠাক ঘুমতে পরে নি। আজকে জমপেশ একটা ঘুম দরকার ছিলো। কিন্তু নওয়ানকে একা রেখে যেতে ইচ্ছে করছে না।
স্নেহা তার কক্ষের বেলকনিতে বসে আছে দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে। তার দৃষ্টি নওয়ানের পানে।।
নুপুরও বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। রাত এগারোটা বেজে পাঁচ মিনিট। কারোরই ঘুমাতে যাওয়ার তাড়া নেই। অথচ নির্ঘুম কাটিয়েছে কতো রাত জানা নেই।
আসমানে থালার মতো বিশাল বড় চাঁদ উঠেছে। চাঁদের পাশে হাজারটা তারা জ্বল জ্বল করছে। ভীষণ সুন্দর দেখাচ্ছে।
এমন একটা সুন্দর রাতে বেওথা ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে খোলা আসমান দেখার বড্ড শখ নুপুরের। কিন্তু কখনো পূরণ হয় নি শখ খানা।
” এই চাঁদ
কাম হেয়ার
বড্ড শান্ত নয়নে নুপুরের পানে তাকিয়ে বলে ওঠে নওয়ান। চমকে ওঠে স্নেহা আর নুপুর। দুজনই ভাবনায় বিভোর ছিলো।
বল্টুও চমকায়। সাথে সাথেই তার ঘুম ছুটে পালায় কোথায়। তাড়াহুড়ো করে বলে
“ক….কিছু বললেন ভাই?
নওয়ান দুই পাশে মাথা নারিয়ে না বোঝায়। বল্টু তবুও সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
নুপুর বুকে হাত দিয়ে জোরে শ্বাস টেনে গলায় পেঁচানো ওড়না খানা চাদরের মতো করে গায়ে পড়ে নেয়।
তারপর এক পা দু পা করে কক্ষ থেকে বের হয়।।
ড্রয়িং রুমে দেখা হয়ে যায় মজনু তালুকদারের সঙ্গে। কেমন কুটিল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার মুখ পানে।
নুপুর বাঁকা হেসে বলে
” আপনাদের বধিবে যে
এই বাড়িতেই থাকছে সে
সময় কিন্তু বড্ড কম
এখনই দেখিয়ে দিন কলিজায় আছে কতো দম
মজনু দাঁড়িয়ে পড়ে। আঙুল তুলে বলে
“বাঘের গুহায় ঢুকে
বাঘের সাথেই যুদ্ধে নেমেছো মেয়ে।
” হুমমম
লিখে রাখুন
এই বাঘেদের কলিজা কেটে ছিঁড়ে কুকুর দিয়ে খাওয়াবো।।
ইটস মাই চ্যালেন্স
বলেই বড় বড় পা ফেলে চলে যায়। মজনু তালুকদার দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে থাকে। এই মেয়েকে আর এল মুহুর্তও সহ্য করা যাচ্ছে না। যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিনাশ করতে হবে। হবেই
নুপুর নওয়ানের কাছাকাছি যেতেই শুনতে পায় লোকটা গান গাইছে
কিভাবে বোঝাবো তোমাকে
কতোটা ভালোবাসে এ মন
এখানে ওখানে তোমাকে
খুঁজে যাই পাগলের মতো
“তুমি হয়ত তো বা ভালো বাসো না আমায় আজও
আমি শুরু থেকেই চাই তোমায়
যত দেখি তোমাকে
মন শিওরে ওঠে
ছন্দরা ছন্দ হারায়
তুমি ছুঁয়ে আমায়
তুমি ছুঁয়ে দেখো আমায়
আমাকে জড়িয়ে বুকে রেখে দাও।
মানতেই হবে প্রফেশনাল সিঙ্গার তিনি। খালি গলায় এতো সুন্দর গান গাইতে ক জন পারে?
নওয়ান তালুকদার বেস্ট।
নুপুরের দিকে চোখ পড়তেই গান থেমে যায়। সিগারেটে টান দিয়ে বলে
“বলো তো পৃথিবীতে চাঁদ আছে?
নুপুর কিছু বলার আগেই বল্টু বলে ওঠে
” দুইডা
একটা আসমানে
আরেকটা আমার ভাইয়ের ঘরে।।
নুপুর কপাল কুঁচকায়। এটা বলার জন্য এখানে আনলো?
মনের কথাটাও বুঝে ফেললো নওয়ান। সে বলে
“নাহহহহ
এই সুন্দর জোছনায় তোমার হাত ধরে বেওথা ব্রিজে হাঁটতে মন চাচ্ছে।
যাবে আমার সাথে?
স্নেহা আঁখি পল্লব বন্ধ করে ফেলে। বিরবির করে বলে
“কতোটা ভালোবাসলে আপনার মনে জায়গা পাওয়া যেতো?
আল্লাহর কাছে কিভাবে চাইলে তিনি আপনাকে আমায় দিতো?
বিশ্বাস করুন আমার জানা নেই। জানা থাকলে সেভাবেই চাইতাম।
পৃথিবীতে এমন যদি কোনো জায়গা থাকতো যেখানে গেলে আপনাকে পাওয়া যাবে আমি সেখানেই যেতাম। আপনাকে পাওয়ার জন্য গোটা দুনিয়ার সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিলাম আমি।
কিন্তু হেরে গেলাম সেই ভাগ্যবতীর কাছে যাকে আপনি ভালোবাসেন।
যুদ্ধ ছাড়াই পরাজয় মেনে নিলাম।
চলবে
Share On:
TAGS: অন্তরালে আগুন, তানিশা সুলতানা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব (২৪+২৫)
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৯
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৫
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৯
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪০
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১১