দিওতোমারমালাখানি – ৮ (ক)
মাহমুদ ফোন করল রাত নয়টার পরে। কথা না বাড়িয়ে সোজাসাপটা জানতে চাইল,
–আপনার যদি আপত্তি না থাকে, আরেক কাপ কফি খেতে পারি আমরা।
রুচি অপ্রস্তুত হলো।
মাহমুদ বুঝতে পারল ওর সংকোচের কারণ। ভদ্রভাবে বলল,
–আপনি খুব অনেস্ট। এজন্যই আপনাকে জানবার খুব আগ্রহবোধ করছি। ফরমাল ব্রেকআপ হয়নি বলে, প্রাক্তনের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে, ব্যক্তিজীবনে আপনি খুব লয়্যাল। রুচি, আমার কাজ টাকা-পয়সার দেন-দরবার নিয়ে। অনেক দেখেছি আমি। যারা সততার মূর্তমান উদাহরণ, তারাও সততা বলতে অর্থের আদান-প্রদানে স্বচ্ছতাকেই বোঝান। মানুষ হিসেবে অন্য একটা মানুষের প্রতি, ইমোশনের প্রতি, সম্পর্কের প্রতি সৎ থাকাটাকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু আমার কাছে একজন মানুষ হিসেবে ট্রান্সপারেন্ট থাকাটা অনেক সিগনিফিক্যান্ট! আপনাকে আমি সেই রেয়ার প্রজাতির একজন মানুষ হিসেবে কাউন্ট করছি। আপনাকে আরও জানতে পারলে আমার জীবনপাঠে একটা অমূল্য চ্যাপ্টার যোগ হতে পারত!
একটা বড়ো শ্বাস নিলো মাহমুদ। একটানে বলল,
–আপনি মুভ অন করতে চাইছেন। সম্পর্কের এই ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে অবশ্যই আমাকে সময় দেওয়াটা আপনার জন্য এনয়িং। ওভারহেলমিংও। আপনি সময় নিতে পারেন। আমি অপেক্ষা করব।
রুচি স্বগতোক্তি করল,
–অপেক্ষা?
–হুম! এতদিন অপেক্ষা করতে পেরেছি। আপনার মতো চমৎকার একজন মানুষকে জানবার জন্য আরও কিছুদিন নিশ্চয়ই অপেক্ষা করতে পারব। আমার কোনো তাড়া নেই। আপনি যতদিন লাগে সময় নিন। তারপর, এই যে আমার ফোন নম্বর থাকল। আই এম যাস্ট আ কল এওয়ে!
ফোন রাখতে রাখতে রুচি ঘেমে উঠল। আসলেই ওভারহেলমিং সবকিছু। বিভিন্নরকম আবেগে বিহ্বল হয়ে গেল ও। রাতে ঘুম এলো না সহজে।
**
ছুটির দিন বিকেলে বিছানায় গড়াগড়ি করে নিচ্ছিল রুচি। রুলি এলো অত্যন্ত থমথমে মুখ নিয়ে। যেন টর্নেডো বয়ে গেছে ওর উপর দিয়ে, এতখানি বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। রুচি আতঙ্কিত হয়ে লাফ দিয়ে বিছানা ছাড়ল। ভয়ার্ত গলায় প্রশ্ন করল,
–কী হয়েছে রে? কার কী হয়েছে? আম্মু কই? মঈন বাসায় নাই? ছিল তো। কোথাও গেছে? ওর কিছু হয়েছে?
রুলি কাঁপছে। ভঙ্গুর গলায় বলল,
–আপু, মুখটা ধুয়ে একটা জামা পাল্টে নে। আর চুলটা আঁচড়া।
–মানে? কী বলছিস আবোলতাবোল?
–তৌহিদ ভাই আসছে।
–তৌহিদ এসেছে? বাসায়? বসতে দিয়েছিস?
–ওনার মা, ভাইও সাথে আছে। মিষ্টি আনছে। ফলের ঝুড়ি দেখলাম। আর মনে হয় তোর জন্য শাড়ি টাড়ি। জানি না। মনে রেখর শপিং ব্যাগ দেখলাম। এইজন্য আন্দাজ করেছি।
রুচিকে কিংকর্তব্যবিমুঢ় দেখাল। বিছানায় পা তুলে আসন দিয়ে বসলো। রুলি তাড়া দিলো,
–যা না, জামাটা বদলে আয়। আম্মু নাস্তার ব্যবস্থা করছে। মঈন ওদেরকে দেখে ক্ষেপে গিয়েছিল। আম্মু ওকে ঠেলে ওর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। আমি এখানে এসেছি। ওরা একা বসে আছে। খুব বাজে একটা সিচুয়েশন। তুই কুইক রেডি হ। আমার মনে হচ্ছে ওরা প্রপোজাল নিয়ে এসেছে।
–প্রপোজাল মানে?
–বিয়ের প্রপোজাল! তৌহিদ ভাই মনে হয় ওনার মাকে রাজি করিয়েই এনেছে।
কর্মদিবসে প্রায়ই ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে যায়। অফিসের জন্য অল্প সময়ে তৈরি হওয়ার অভ্যাস আছে রুচির। ও খুব দ্রুত পরিপাটি হয়ে গেল। বসার ঘরে এসে দেখতে পেল তিনজন অতিথিকে। তৌহিদের মুখ উজ্জ্বল। উল্টোটা ওর মা। তাহমিনার মুখ গাঢ় অন্ধকার। রুচি সালাম দিলো। ভদ্রমহিলা ওর মুখের দিকে না তাকিয়েই সালামের উত্তর করলেন। যেন রুচিকে দেখাটা খুবই অপ্রীতিকর ঘটনা। রুচির হাসি পেলো। তৌফিক হাসিমুখে বলল,
–ভাবি, কতদিন পরে দেখলাম তোমাকে! ইদানিং তো আমাকে মনেই করো না। মা তো বাসা থেকে গলাধাক্কা দিয়েছেই, আর তুমি মন থেকে!
–কী যে বলো! আমি দেখি তো, তোমার ফেসবুক পোস্ট দেখি। নিরা খুব সুন্দর কন্টেন্ট করে। আমি ওর রিল দেখি রেগুলার।
–ও আসতে চেয়েছিল। কিন্তু তোমার শাশুড়িমাতা তো সেইই জিনিস, জানোই তো।
মায়ের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমিভরা চোখে মিছেমিছি কটমট করে তাকালো ও। তাহমিনাকে খোঁচা দিয়ে বলল,
–জননী আমার, স্বর্গ হতে গরীয়সী যে জননী, তিনি হঠাৎ ঘোষণা দিলেন, নিরা সাথে এলে তিনি এখানে আসবেন না! অগত্যা বউ রেখে অসহায়, এতিমের মতো এলাম! আগেই বলে রাখছি, বিয়েতে এইসব ট্যা ফো চলবে না। একটা মাত্র ভাবির একমাত্র দেবর আমি। আমার বউ যদি বিয়েতে না থাকে, তোমার শশুরবাড়িতে আমি আগুন দেবো, ভাবি! মনে থাকে যেন। এই বিয়ের আমিই কর্তা।
তৌফিকের কথার ভঙ্গিতে হেসে ফেলল রুচি। তৌহিদের মুখেও মৃদু হাসি। পরিবেশটা সহজ করে দিয়েছে তৌফিকের মজারু কথাবার্তা। টুকটাক কথা বলতে বলতে জাকিয়া আর রুলি চলে এলো। অল্প সময়ে বেশ ভালো নাস্তার আয়োজন করে ফেলেছে। জাকিয়া বললেন,
–রাতে কিন্তু খেয়ে যেতে হবে। আমি রান্না বসিয়ে দিচ্ছি।
তাহমিনা হাত নাড়লেন,
–না, না। আমি খাব না। আমি সবজায়গাতে খাই না। ওই নিজের জন্য দুটো ভাত জ্বালিয়ে নিই। ওতেই আমার হয়ে যায়। আংটিটা পরিয়ে দিই তাড়াতাড়ি। তারপর আমার উদ্ধার হোক!
উনি যে নিতান্তই দায়ে পড়ে এসেছেন, সেটা ধামাচাপা দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই তার। বেশ স্পষ্টই বুঝিয়ে দিলেন। জাকিয়া মৃদু হাসলেন,
–আচ্ছা, দেখব না খেয়ে কীভাবে যান! প্রথমবার এসেছেন, এসব হাবিজাবি খেয়ে আপনাকে যেতে দেবো কিনা!
বলে রুচিকে ডাকলেন,
–তুই এক মিনিট আয় তো আমার সাথে।
রুচিকে নিজের রুমে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলেন জাকিয়া। ফিসফিস করে জানতে চাইলেন,
–তৌহিদ আসবে তুই জানতিস?
রুচি নাবোধক মাথা নাড়ল।
–বুঝতে পেরেছি।
জাকিয়া হুট করে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন,
–তোর উপর কিছু চাপিয়ে দেবো না। মাহমুদেরটাও না। তৌহিদেরটাও না। তুই যা সিদ্ধান্ত নিবি, নে। তোর যদি মনে হয় তুই তৌহিদের সাথে ভালো থাকবি। সেটাই ঠিক। যদি মনে হয় না, তাহলে না। তাতে যদি কোনোদিন তোর বিয়ে না হয়, না হবে। সমাজ কী বলবে, লোকে কী বলবে সেসব একদম ভাববি না। কিছু আসে যায় না তাতে। তোর দুইটা হাত আছে, পা আছে, তুই সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ, নিজে কর্ম করে নিজের জীবন চালাবার সামর্থ্য তোর আছে। লোকে কী বলবে তাতে তোর জীবন থেমে থাকবে না। আর এটা মনে রাখ, মা তোর পাশে আছে। তোর বাবা বেঁচে থাকলেও একই কথা বলত তোকে। একই আশ্বাস আমিও দিলাম। তুই নির্ভার হয়ে সিদ্ধান্ত নে।
রুচি বসার ঘরে ফিরে এলে তাহমিনা ব্যাগ থেকে আংটির বাক্সো বের করতে করতে বললেন,
–এই নে, তৌফিক। আংটিটা দে ওকে। দিয়ে তাড়াতাড়ি শেষ কর। সন্ধ্যা গড়ায়!
তার ভঙ্গিমাতে নিতান্তই হেলাফেলা। তৌফিক পরিস্থিতি সহজ করতে বলল,
–আংটি আমি পরাব? তাহলে তো বউ আমার। পরে কিন্তু ভাইয়া ক্লেইম করতে পারবা না!
রুচি হাসি চাপতে গিয়ে বিষম খেল,
–তুমি এত দুষ্টু হয়েছ, তৌফিক! এরপর কিন্তু মার খাবে আমার হাতে।
তৌফিক চোখ মারল,
–কী আর বলব! আমাদের দেশে বিয়ে হয় ছেলের সাথে, এনগেজমেন্ট হয় ছেলের মায়ের সাথে। সেদিক দিয়ে আমার জননী অনেক আধুনিক। স্বত্ব ত্যাগ করে দিলেন। হ্যাটস অফ, আম্মাজান!
তৌফিক স্যালুট দিলো তাহমিনাকে। হাসতে হাসতে বলল,
–ভাইয়া, এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। বেশি দেরি করলে আমিই কিন্তু ভাবির হাতে আংটি পরিয়ে দেবো। তখন হায়হায় করবা। তাই লজ্জা কাটিয়ে চলে এসো। এক যুগ ধরে প্রেম করছে, আবার লজ্জা কাকে বলে? এসো আংটি পরিয়ে প্রেমটাকে অমর করে দাও!
রুচির হাসিহাসি মুখ থমথমে হয়ে গেল,
–স্যরি তৌফিক। আংটির কথা কী আলোচনা হচ্ছে, আমি ধরতে পারছি না!
তৌফিক গভীরভাবে তাকালো রুচির দিকে। বুঝতে পারল, ওর কৌতুক, তামাশা, আন্তরিকতা – কোনোটাই কাজে দেয়নি। এই সংকট পাশ কাটাতে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেছে ও। কিন্তু পানি ওর নাগালের বাইরেই বয়ে গেছে। সমস্যাটাকে লঘু করা সম্ভব হয়নি। সময় নিয়ে বলল,
–ভাবি, ভাইয়া আর তোমার বিয়ের দিন ঠিক করতে এসেছি আমরা।
রুচি চটপট জবাব দিলো,
–কিন্তু আমি তো তৌহিদকে বিয়ে করব না!
তৌহিদ মাঝখানে কথা বলল,
–রুচি, মা-ও এসেছে। এখন কী সমস্যা? এমন করো না, প্লিজ! আমি কখন কী বলেছি সেসব ধরে বসে থেকো না। তুমি হার্ট হবে জেনে-বুঝে আমি একটাও কথা কখনো বলিনি।
রুচি বলল,
–সেসব তুলতে চাই না। কিন্তু বিয়েটা সম্ভব না।
–রুচি, প্লিজ!
–তুমি এভাবে কাকুতি মিনতি করো না। আমার খুব খারাপ লাগে। নিজেকে ভিলেন মনে হচ্ছে। আমি আসলে পারব না, তোমার হাত ধরতে আমি আর পারব না! আমার যাস্ট হবে না আর!
তৌফিক বলল,
–ভাবি শোনো,
রুচি থামাল,
–সেই কত আগে থেকে আমাকে ভাবি ডাকো তুমি। শুনতে শুনতে অভ্যাস হয়ে গেছে। স্বাভাবিকই লাগে। এখন আপু ডাকতে শুরু করলেই বরং উদ্ভট লাগবে। ভাবিই ডাকো। সমস্যা নেই। একটা ডাকই তো। কিন্তু ডাকের সাথে যে মিষ্টি একটা সম্পর্ক, সেটা আর আমাদের মধ্যে থাকছে না। তুমি আর অনুরোধ করো না। আমার খুব বাজে লাগবে, তোমাকে ফিরিয়ে দিতে। তোমার ভাইয়ার সাথে আমার এতদিনের সম্পর্ক, এভাবে শেষ করতে আমার কোনো রিগ্রেট নেই। কেন জানো? কারণ, আমি কখনো ভালোবাসায় কমতি দিইনি। অনুতাপ ও করবে। ওর ভালোবাসায় টান ধরে গিয়েছিল। কিন্তু ওর জন্য তোমাকে বারবার প্রত্যাখ্যান করতে আমার খুব সংকোচ হচ্ছে, তৌফিক। আমার নিজের কাছে অপরাধী লাগছে। আমাকে কষ্ট দিও না। নইলে শেষে তুমিও রিগ্রেট করবে। বলবে, রুচি ভাবিটা ভালো ছিল। আমিই হুদাই তাকে কাঁদিয়েছি!
টলটলে চোখ নিয়ে তৌফিকের মতোই তামাশার ঢংয়ে বলল রুচি।
তৌহিদকে বেপরোয়া শোনাল,
–আমারও কোনো রিগ্রেট নেই, রুচি। আমি কখনো তোমার সাথে জেনে-বুঝে কোনো অন্যায় করিনি। হয়তো কখনো কখনো আমার ভুল হয়েছে। হয়তো অনেক বেশি ভুল হয়েছে। মাকে বোঝাতে পারিনি, এটা আমার ব্যর্থতা। মায়ের কথার অবাধ্য হতে পারি না, আমার লিমিটেশন সেটা। আমি হয়তো খুব দৃঢ় ব্যক্তিত্বের মানুষ না। আমার অনেক সীমাবদ্ধতা। আমাকে মাম্মাস বয় বলে বিদ্রুপ করা যেতে পারে। কিন্তু তাতে করে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না!
তৌহিদের গলা কাতর হলো,
–তীরে এসে তরী ডুবিয়ে দিও না, রুচি। মা আর তুমি – এই টানাটানিতে আমি যে জবাই হয়ে যাচ্ছি, তোমরা কেউ কি সেটা বুঝতে পারো না? আমি তো মাকে ছাড়তে পারব না, তোমাকে ছাড়াও নি:শ্বাস নিতে পারব না। প্লিজ, রুচি৷ আমাকে দয়া করো!
রুচি তৌহিদের চোখের দিকে তাকিয়ে বোমাটা ফাটালো,
–তৌহিদ, এত আবেগপ্রবণ ভাষণ দিও না, যখন তোমার অপরাধ আছে। ইটখোলার রোশনি আমার পরিচিত। প্রায় বিশ বছর আগে আমরা পাশাপাশি বাসায় থাকতাম। রোশনির জন্মের কিছুদিন পরে আমরা এখানে চলে আসি। প্রতিবেশীদের মধ্যে একটা আন্তরিক সম্পর্ক ছিল তাই কথাবার্তার আদান-প্রদানও ছিল। রোশনির সাথে তোমার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা আমি জানি। আর এত সাধুপুরুষ সেজ না তো! তোমার মুখে ভালোবাসার কথা শুনতে আমার খুব ইরিটেটিং লাগছে। ইউ ডোন্ট ডিজার্ভ মি!
তৌহিদ স্তম্ভিত হয়ে গেল। তৌফিকের মুখেও কথা জোগাল না। তার ভাই যে তলে তলে এসব কীর্তি ঘটিয়ে রেখেছে সেসব ওর জানা ছিল না। এখন কী করবে বা কী বলবে বুঝতে পারল না।
নীরবতা ভাঙলো তৌহিদই। চোখ না তুলেই বলল,
–ইট ওয়াজ যাস্ট আ ফ্লিং, রুচি। নাথিং মোর! একদম কিছু না!
চলবে…
আফসানা আশা
Share On:
TAGS: আফসানা আশা, দিও তোমার মালাখানি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিও তোমার মালাখানি গল্পের লিংক
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৮ (খ)
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ২
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ১
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৫
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৭
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৬
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৪
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৩