৬. (১৮+ এলার্ট🚫)
ডার্ক সাইড অফ লাভ
দূর্বা_এহসান
“হুসস নড়ে না,পাখি”
ব্যথায় ককিয়ে উঠা তরু স্থির হয়ে গেলো। মৃন্ময়ের বাহুডোরে আবদ্ধ সে। চোখমুখে রাগ ঘৃনা স্পষ্ট l তাকে নড়তে দেখে ঘুমের চোখেই কথাটা বলল মৃন্ময়। দম বন্ধ হয়ে আসছে তরুর। এতটাই শক্ত করে ধরে রেখেছে মৃন্ময়।
“ছাড়ুন, আর কি চান?যা ছিল সব কিছু তো নিয়েই নিয়েছেন।”
“এখনও অনেক কিছু নেওয়া বাকি।”
চোখ খুললো মৃন্ময়। রোদের আলোয় জ্বলজ্বল করতে থাকা তরুর মুখে তাকালো।ঠোঁটের কোণে কেটে গেছে।কেটে গেছে বললে ভুল হবে, মৃন্ময় কামড়েছে। ফুলে আছে ঠোঁটজোড়া।
তরু মুখ ফিরিয়ে নিলো তার থেকে।মৃন্ময় হাসলো। তরু মৃন্ময়ের বুকে দুহাত রেখে ঠেলে সরাতে চাইলো।ঠিক তখনই সে অন্য কিছু আবিস্কার করলো।
“আহ্”
তীব্র ব্যথায় চোখ মুখ খিঁচে ফেললো।তাকালো সামনে থাকা বেয়াদব লোকটার দিকে। কতবড় খাটাশ হলে এরকম কাজ করে!
“বে-বের করুন ওটাকে”
“কোনটাকে?”
কিছু না বোঝার ভান করে বলল মৃন্ময়।তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো তরু।
“কষ্ট হচ্ছে আমার। বের করুন প্লীজ”
“কি বের করবো?”
“প্লীজ।কষ্ট হচ্ছে”
“সারারাত ওভাবে নিয়ে ঘুমালে কই একবার ও তো দেখলাম না কষ্ট পেতে”
“তখন তো আমি ঘুমে….
থেমে গেলো তরু। সে মৃন্ময়ের কথার সাথে তাল মিলিয়ে কথা বলছিল!নিজের গালেই থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে হলো ওর। এবার অনেকটা রেগেই বললো,
“বের করুন আপনার ওই বেয়াদব টাকে। ব্যথায় ম রে যাচ্ছি আমি। সারারাত জ্বালিয়েও সাধ মেটেনি? আবার আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে বেয়াদবটাকে….”
মৃন্ময় নিজের ঠোট কামড়ে হাসলো।তরু হয়তো ব্যথায় ভাবতে পারছে না কি থেকে কি বলছে।
“যদি না বের করি?”
“কেটে দিবো”
চোখগুলো বড়বড় করে তাকালো মৃন্ময়। এতটাই বড় করে যে মনে হচ্ছে এক্ষনি কোটর থেকে চোখদুটো বেরিয়ে এসে ফুটবল খেলবে।তরুকে ধরে থাকা হাত দুটো ঢিলে হয়ে গেছে।
তরুর চোখে মুখে ফুটে ওঠা রাগ তাকে একটু হলেও ভয় পেতে বাধ্য করলো।মুহূর্তেই মৃন্ময়কে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো কল্পনার রাজ্যে।যেখানে ছোটো মিয়া ছাড়া মৃন্ময়। আর সামনে তরু হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে তার ছোট মিয়াকে।কি করুণ দৃশ্য।
মৃন্ময় ঢোক গিলে আস্তে করে সরে গেলো।তরু সাথে সাথেই চোখ বন্ধ করে ফেললো। চাদর দিয়ে দেখে ফেললো নিজেকে।
“আপনি আস্ত একটা অ্যানাকোন্ডা”
“শুধু আমি?আর ওটা..”
কথা শেষ করতে পারলো না মৃন্ময়।তার আগেই তরু “চুপ” বলে চিৎকার করে উঠলো।
“আমি ভাবতেই পারছি না,আপনার মত একটা মানুষকে ভালোবেসেছিলাম আমি।”
মৃন্ময় ঝুঁকে এলো,
“ভালোবেসেছিলে!”
মৃন্ময়ের চোখমুখে কিছু একটা চকচক করে উঠলো।বিছানার চারপাশ জুড়ে এক ভারী নীরবতা। জানালার পর্দাগুলো সামান্য বাতাসে কাঁপছে, আর ঘরের ভেতর হালকা নীলচে আলোয় মৃন্ময়ের মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তরু বিছানায় বসে ছিল, তার চোখেমুখে একরাশ অবজ্ঞা আর জেদ। কিন্তু মৃন্ময়ের ওই অতর্কিত ঝুঁকে আসা আর তার চোখের ওই অদ্ভুত চাহনি দেখে তরু মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
মৃন্ময়ের ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি, কিন্তু চোখে বিষাদ আর ক্রোধের মিশ্রণ। সে আবারও নিচু স্বরে আওড়ালো, “ভালোবেসেছিলে! সত্যি কি তাই?”
তরু বুঝতে পারল কথাটি বলে সে এক চরম সত্যকে খুঁচিয়ে বের করে এনেছে। অতীতে সে সত্যিই মৃন্ময়কে ভালোবেসেছিল, কিন্তু আজ সেই ভালোবাসা ঘৃণার চাদরে ঢাকা। মৃন্ময় যখন তার খুব কাছে, তখন তার গায়ের সুবাস আর চোখের তীব্রতা তরুকে দিশেহারা করে দিচ্ছিল। সে চাইল না নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে।কথা ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো।
তরু তার শরীর কিছুটা সরিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল। সে সরাসরি মৃন্ময়ের চোখের দিকে না তাকিয়ে ঘরের কোণের ড্রেসিং টেবিলের আয়নার দিকে তাকিয়ে বলল, “অহেতুক পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই।”
মৃন্ময় কিন্তু এক চুলও নড়ল না। সে আগের মতোই ঝুঁকে থেকে তরুর কপালে লেপ্টে থাকা কয়েকটা চুল সরিয়ে দিতে দিতে বলল, “বলো,ভালোবেসেছিলে?তাহলে চলে গেছিলে কেন?”
তরু এবার একটু চিৎকার করে উঠল, “আমি তখন চলে গিয়েছিলাম কারণ আপনার সাথে থাকা সম্ভব ছিল না! আর এখন আপনি আমাকে জোর করে বিয়ে করে এই ঘরে আটকে রেখেছেন। এটাকে ভালোবাসা বলে না, এটা জেদ।”
মৃন্ময় অট্টহাসি হেসে উঠল। সেই হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না, ছিল কেবল অধিকারবোধের এক তীব্র আস্ফালন।
“জেদই সই। তুমি তো আমার কাছে ফিরতে চাওনি, আমি তোমাকে ফিরিয়ে এনেছি। এখন এই বিছানায়, এই ঘরে তুমি আমার স্ত্রী। এই সত্যটা কি অস্বীকার করতে পারবে?”
তরু চুপ করে গেল। তার মনে পড়ে গেল সেই দিনগুলোর কথা, যখন মৃন্ময় তার জন্য পাগল ছিল। কিন্তু মৃন্ময়ের অতিরিক্ত অধিকারবোধ আর সন্দেহপ্রবণতা সম্পর্কের দম বন্ধ করে দিয়েছিল। তরু সহ্য করতে না পেরে একদিন সব মায়া কাটিয়ে শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিল। ভেবেছিল মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু মৃন্ময় তাকে খুঁজে বের করেছে। তার প্রভাব, প্রতিপত্তি আর জেদ দিয়ে তরুকে বাধ্য করেছে এই অসম্মতির বিয়েতে।
“পারবো।ভালোবাসা? যে মানুষটা আমার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, তাকে আমি ঘৃণা করি । আপনি আমাকে শরীর দিয়ে শাসন করতে পারেন, কিন্তু মন দিয়ে নয়।”
মৃন্ময় এবার বিছানায় তরুর ঠিক পাশে বসে পড়ল। তার গলার স্বর হঠাৎ খুব নিচু হয়ে গেল। “মন? মন তো তুমি অনেক আগেই আমায় দিয়েছিলে। আমি শুধু সেই আমানতটা ফেরত নিয়েছি।”
তরুর বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল। মৃন্ময়ের এই রূপটা তার বড় চেনা। সে জানে মৃন্ময় মানুষটা যেমন নিষ্ঠুর হতে পারে, তেমনি তার ভালোবাসার তীব্রতাও প্রলয়ংকরী।তরু বিছানার চাদরটা শক্ত করে চেপে ধরে বলল, “তাহলে কেন আমাকে শান্তি দিচ্ছেন না? কেন জোর করে এই বন্ধনে বেঁধে রাখলেন?”
কোনো উত্তর মিললো না।দুজনই নীরব।
“চলো ফ্রেশ হয়ে নিবে”
মুখ তুলে তাকালো তরু। মৃন্ময় ঠোঁটের কোণে বাকা হাসি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। পরণে শুধু একটা টাওয়েল। তরুর ভিতর থেকে কিছু তিক্ত কথা যেন বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে।
তরুকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিলো। মেয়েটা যে হাঁটতে পারবে না বুঝে গেছে সে।হাঁটতে পারার মতো অবস্থাতেই রাখেনি।
মৃন্ময় কোনো কথা বলার সুযোগ দিল না তরুকে। সোজা তাকে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো। তরুর শরীরটা যেন অবশ হয়ে আছে; ঘৃণায় নাকি অভিমানে সে নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। বুকের ভেতরের ধামাচাপা দেওয়া কষ্টগুলো দলা পাকিয়ে গলার কাছে উঠে আসছে।
ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকে মৃন্ময় খুব সাবধানে তরুকে বেসিনের সামনের মার্বেল স্ল্যাবটার ওপর বসিয়ে দিল। পাথরের ঠান্ডা স্পর্শ পেতেই তরু শিউরে উঠে নড়েচড়ে বসলো। মৃন্ময় জলের কলটা ছেড়ে দিয়ে তরুর মুখের দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ আগের সেই বাঁকা হাসিটা এখন আর নেই, সেখানে এখন অদ্ভুত এক গাম্ভীর্য।
সে আয়নার দিকে তাকিয়ে তরুর জন্য ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দিতে দিতে শান্ত গলায় বলল, “রাগ বা অভিমান, যা করার সুস্থ হয়ে করো। এখন ফ্রেশ হয়ে নাও।”
তরু চোখ সরিয়ে নিল। তার খুব ইচ্ছে করলো চিৎকার করে কিছু বলতে, কিন্তু শরীর এতটাই দুর্বল যে সামান্য প্রতিবাদ করার শক্তিটুকুও পাচ্ছে না। সে অস্ফুট স্বরে শুধু বলল, “আপনি যান এখান থেকে।”
মৃন্ময় হাসলো, তরুর থুতনি উচু করে ধরলো।
“নেক্সট টাইম ডার্ক চকলেট দিয়ে তোমাকে টেস্ট করবো বেবি।”
তরুর মন বললো এক্ষনি মেইন জায়গা বরাবর একটা লাথি মার ওকে।সাথেই সাথেই আবার ভেবে ফেললো ফলাফল কি হতে পারে।এখানেই হয়তো আবার শুরু করে দিবে।
(২k রিয়েক্ট হলে নেক্সট পার্ট আসবে)
চলবে…..
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৪
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৯
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৪
-
প্রিয়া আমার গল্পের লিংক
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৮
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৩
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৯
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৭
-
প্রিয়া আমার পর্ব ২
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ গল্পের লিংক