দিশেহারা (১৬)
সানা_শেখ
শ্রবণের রাগারাগির মুখে টিকে থাকতে পারেনি সোহা। সেজন্য শ্রবণের রুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে চলে এসেছে। রুম থেকে বের হচ্ছিল না বলে শ্রবণ উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছিল। শ্রবণকে উত্তেজিত করতে চায় না তাই রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে।
শ্রবণ যা বলবে বা করতে চাইবে তা থেকে এক চুলও নড়চড় হবে না সেটা এই কয়েক দিনে খুব ভালো করেই বুঝতে পেরে গেছে সোহা। একবার যখন মুখ দিয়ে বের করেছে ডিভোর্স দেবে, তখন দেবেই। এই কাজ থেকে ওকে কেউ আটকাতে পারবে না আর।
স্পর্শ এসে দাঁড়ায় সোহার রুমের সামনে। ভেতরে উঁকি দিয়ে সোহাকে দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
“সোহা।”
সোহা মুখ তুলে স্পর্শের দিকে তাকায়। সোহার দু’চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। ফরসা মুখ লাল হয়ে গেছে।
স্পর্শ এগিয়ে এসে সোহার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে। মুখ তুলে সোহার মুখের দিকে তাকায় মায়াবী দৃষ্টিতে। কন্দনরত সোহাকে দেখতে ভীষণ আদুরে লাগছে।
“কাঁদছিস কেন? কী হয়েছে?”
সোহা চোখের পানি মুছে চুপ হয়ে থাকে।
“ভাইয়া, কিছু বলেছে?”
দু’দিকে মাথা নাড়ে সোহা।
“এত মন খারাপ করে কী হবে? আমাদের ভাগ্যটাই এমনরে। কাঁদিস না আর।”
সোহা স্পর্শের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। দুই চোখ বেয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
“ভালোবেসেছিলাম তোকে কিন্তু তুই তো আমার কপালে নেই। ভালোবাসার অনুভূতি ভুল মানুষের জন্য কেন জন্মায়? আমরা যাকে নিজের জীবনে একান্তই আপন করে পাবো না তাদের জন্য কেন এই মায়া জন্ম নেয়?”
স্পর্শ একটু থামে, লম্বা একটা শ্বাস টেনে নিয়ে আবার বলে,
“ভাইয়া উপর থেকে নিজেকে যেমনই দেখাক ভেতর থেকে অনেক ভালো একজন মানুষ। তোকে অনেক ভালো রাখবে, ভালোবাসবে। আমার ভাইয়াকে তুই ভালো রাখিস, কোনোদিন ভাইয়ার হাত ছাড়িস না। মা-খালার গুণ কোনোদিন নিজের মধ্যে আসতে দিস না। তুই জানিস তো, ভাইয়া ছোটো বেলা থেকে অনেক কষ্ট পেয়েছে। আমি জানি, তুই ভাইয়াকে ভালোবাসবি, ভালো রাখবি। যত যাই হয়ে যাক তুই ভাইয়াকে ছাড়িস না।”
একটু থেমে আবার বলে,
“আমি আগামী কাল হোস্টেলে চলে যাব, কবে বাড়িতে আসবো ঠিক নেই, আবার আসবো কি-না তারও ঠিক নেই। ভালো থাকিস আর আমার ভাইয়াকেও ভালো রাখিস।”
সোহা কিছু না বলে স্পর্শের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। স্পর্শের জন্য ওর অনেক মায়া হয়, শ্রবণের জন্যও হয়। দুই ভাই কত বাজেভাবেই না আঘাত পেয়েছে নিজেদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে। ওরা দুই ভাই-বোনও তো খুব বাজেভাবে আঘাত পেয়েছে। সিয়ামের মুখের দিকে তাকানো যায় না এখনো। এমন একটা পরিবার ওদের কেন হলো?
স্পর্শ বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে আরও একবার বলে,
“ভাইয়াকে কোনোদিন কষ্ট দিস না। একটু রাগারাগি করলে সহ্য করে নিস, একদিন দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে।”
স্পর্শ বেরিয়ে যায় রুম থেকে। সোহা আগের মতোই বসে রইলো।
স্পর্শ নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দেয় ভেতর থেকে। অবাধ্য চোখের পানি ঝরঝর করে পড়তে শুরু করে। ভালোবাসা হারিয়ে ফেলার চেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে নিজের বাবা-মায়ের আসল রূপ জানার পর আর বড়ো ভাইয়ের জন্য। এই দুনিয়ার মানুষ এত স্বার্থপর কেন হয়? অন্যের ভালো থাকা আর সুখ কেন কেড়ে নেয়?
রাত নয়টার পর অনিমা চৌধুরী সোহার রুমে প্রবেশ করেন। এতক্ষণ রান্না ঘরে ছিলেন জ্বর নিয়েই। অনেকক্ষণ ধরে মেয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য ছটফট করছিলেন কিন্তু সুযোগ পাচ্ছিলেন না।
সোহা ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে শুয়ে আছে উল্টো ফিরে। দুপুরে হালকা খেয়েছিল, এখন আর খেতে ইচ্ছে করছে না।
“সোহা।”
মায়ের ডাক শুনে বুক আরও ভারি হয়ে আসে সোহার। মায়ের দিকে না তাকিয়ে আগের মতোই শুয়ে রইলো নিশ্চুপ হয়ে। অনিমা চৌধুরী বিছানায় বসে সোহার গায়ের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট টেনে সরিয়ে দেন। গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলেন,
“সোহা, ঘুমিয়ে পড়েছিস? ওঠ কথা আছে তোর সঙ্গে।”
“ভালো লাগছে না, যাও এখান থেকে।”
“কীভাবে কথা বলছিস তুই আমার সঙ্গে? আমি তোর মা হই।”
“ভালো লাগছে না আমার, ডিস্টার্ব করবে না।”
“তুই ওঠ আগে, দরকারি কথা আছে তোর সঙ্গে।”
সোহাকে শুয়ে থাকতে দেন না অনিমা চৌধুরী। টেনে তুলে জোর করে বসিয়ে দেন। সোহা মায়ের মুখের দিকে তাকায় না। নিচের দিকে দৃষ্টি রেখে মায়ের হাত সরিয়ে দেয় গা থেকে।
“বলো কী বলবে।”
“শ্রবণ তোকে ডিভোর্স দিতে চায়?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে দিয়ে দে।”
সোহা মুখ তুলে তাকায় মায়ের মুখের দিকে। অনিমা চৌধুরীকে চেনাই যাচ্ছে না এখন। চেহারা পুরোপুরি বদলে গেছে।
“তুই শ্রবণকে ডিভোর্স দিয়ে দে। ওই পাগলের সঙ্গে তোর সংসার করতে হবে না। শ্রবণকে ডিভোর্স দিয়ে স্পর্শকে বিয়ে করে নে।”
“তুমি পাগল হয়ে গেছ? বড়ো ভাইকে ডিভোর্স দিয়ে আমি ছোটো ভাইকে বিয়ে করব?”
“সমস্যা কী? স্পর্শ তো তোকে ভালোবাসে, ও অবশ্যই তোকে বিয়ে করবে।”
“আমি বিয়ে করতে চাই না।”
“কেন? তুইও তো ভালোবাসিস স্পর্শকে।”
“ভালোবাসি না, যাও এখান থেকে।”
“তুই কী শ্রবণের সঙ্গেই সংসার করতে চাইছিস?”
“হ্যাঁ।”
“ওই পাগলের সঙ্গে তুই জীবনেও ভালো থাকবি না সোহা। ও যখন ডিভোর্স দিয়ে দিতে চাইছে তুইও ডিভোর্স নিয়ে নে। স্পর্শকে বিয়ে না করলে অন্য ছেলেকে করবি, দুনিয়ায় কী ছেলের অভাব পড়েছে? তুই দেখতে সুন্দর, বাবা-মায়ের টাকা-পয়সা আছে, তোর পেছনে ছেলেদের লাইন পড়ে যাবে।”
“চুপ করো।”
সোহার গলার স্বরে একটু ভয়ের মিশ্রণ আছে। চোখে মুখেও ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। অনিমা চৌধুরী না থেমে বলেন,
“কেন চুপ করব? শ্রবণ বাড়ির সকলের সামনেই তোর সঙ্গে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে, আড়ালেও নিশ্চই করে। ওর মাথার তারতুর সব ছেড়া, পাগল হয়ে তোকে মে’রে ফেলবে। ম’রা’র জন্য কেন একটা পাগলের সঙ্গে থাক—
পুরো কথা শেষ করার আগেই সোহা কিছুটা রাগী স্বরে বলে,
“চুপ করতে বলেছি চুপ করো। আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না তোমার, অনেক ভেবে ফেলেছ। আমাকে জন্ম না দিলেও পারতে, জন্ম যখন দিয়েই ফেলেছো তখন জন্মের পর বিষ খাইয়ে মে’রে ফেললেও ভালো একটা কাজ করতে জীবনে।”
“তুই ওই পাগলের জন্য আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলছিস?”
“ম’র’তে না চাইলে মুখটা বন্ধ করে রাখো একটু।”
সোহার চাপা স্বরে বলা কথা গুলো শুনতে পেলেও বুঝতে পারেন না কথার মানে। এমন কথা কেন বলল?
সোহার দৃষ্টি অনুসরণ করে দরজার দিকে তাকাতেই দেখেন শ্রবণ দাঁড়িয়ে আছে অগ্নিমূর্তি রূপ ধারণ করে। ওকে এই অবস্থায় এখানে দেখে গলা শুকিয়ে যায় অনিমা চৌধুরীর।
এই ছেলে এখানে আসলো কখন? ওনার সব কথা শুনেছে? যদি শুনে থাকে তাহলে আজ ওনাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না ওর হাত থেকে।
শ্রবণ ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করে। আশেপাশে তাকিয়ে কিছু খোঁজে। ভয়ে অনিমা চৌধুরী বিছানার অপর পাশে চলে গেছেন।
শ্রবণ বিছানার কাছে এসে দাঁড়ায়। সোহা দ্রুত নেমে আসে বিছানা থেকে। ভয়ে ভয়ে কম্পিত স্বরে বলে,
“কি… কিছু ব… বলবে?”
“হ্যাঁ, ওই কু/ত্তা/র বাচ্চার জিহবা টেনে ছিঁড়বো।”
সোহা মায়ের দিকে তাকায়। ভয়ে ওনার মুখের রঙ আরো পাল্টে গেছে।
“কু/ত্তা/র বাচ্চা মেয়েকে নিজের মতো বারো ভা’তা’রি বানাতে চাইছিস?”
সোহার কান ঝা ঝা করে ওঠে শ্রবণের কথা শুনে। ভয়ে কিছু বলতেও পারছে না বেচারি। শ্রবণ সোহার মুখের দিকে তাকায়। খপ করে গলা চেপে ধরে বলে,
“এখনো ডিভোর্স দেইনি তার আগেই নিজের পেছনে ছেলেদের লাইন লাগানোর প্ল্যান করছিস মায়ের সঙ্গে?”
সোহা শ্রবণের হাত সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে দু’দিকে মাথা নাড়ায়।
শ্রবণ গলা ছেড়ে দেয়। অনিমা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বজ্র কন্ঠে বলে,
“কু/ত্তা/র বাচ্চা তোকে কাজ করতে বলেছি, তুই এখানে বসে কী করছিস? মেয়ের পেছনে ছেলেদের লাইন লাগিয়ে মেয়েকে ব্যবসায়ী বানানোর প্ল্যান করছিস?”
শ্রবণের কথা শুনে কেঁদে ফেলে সোহা। কান্না করতে করতে বলে,
“প্লীজ চুপ করো তুমি।”
“কেন চুপ করব? তোরা করলে দোষ নেই আর আমি বললেই দোষ?”
“তুমি এসব কথা কেন বলছ?”
“তোরা যা বলছিলি আমি তো সেটাই বলছি। আমার কানে কোনো সমস্যা নেই, স্পষ্টই শুনতে পাই আমি। শুনেছি তো কি প্ল্যান করছিলি দু’জন মিলে।
আমাকে তোদের পাগল মনে হয়? আমি পাগল? ওই কু/ত্তা/র বাচ্চা ন/ষ্টা মহিলা আমি পাগল? আমার মাথার তার ছেড়া? নিজের মতো ন/ষ্ট বানাবি মেয়েকে? তোর মা এক ন/ষ্টা, তোদের দুই বোনকেও বানিয়েছে ন/ষ্টা, এখন তুই তোর মেয়েকেও ন/ষ্ট বানাবি? কথা বলছিস না কেন? ডিভোর্স দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু এখন আর দেবো না। তোর মেয়ে ম’রা’র আগে আর আমার কাছ থেকে মুক্তি পাবে না। তোর মেয়ের জীবন দেখ শুধু কীভাবে জাহান্নাম বানাই আমি। এই ন/ষ্টার বাচ্চা আয় আমার সাথে।”
সোহার হাত চেপে ধরে দরজার দিকে পা বাড়ায়। সোহা পেছন ফিরে মায়ের দিকে তাকিয়ে অভিমান ভরা সুরে বলে,
“তোমাকে আমি জীবনেও মাফ করবো না।”
শ্রবণ সোহাকে টেনে নিয়ে নিজের রুমে ফিরে আসে। রুমের ভেতরে এসে সোহার হাত ছেড়ে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয় ভেতর থেকে। ঘুরে দাঁড়াতেই ভয়ে পিছিয়ে যেতে শুরু করে সোহা।
“বল কি কি প্ল্যান করলি ওই ন/ষ্টার সঙ্গে।”
“ক কো কোনো প্ল্যান করিনি।”
“নিজের পেছনে ছেলেদের লাইন লাগাবি?”
“না… না।”
“তোকে ডিভোর্স দিয়েছি এখনো?”
“না।”
ভয়ে পেছাতে পেছাতে দেওয়ালের সঙ্গে ঠেকে গেছে সোহা।
শ্রবণ এসে ওর সামনে দাঁড়ায়। দুজনের মাঝখানে এক হাত দুরত্ব। শ্রবণের ফরসা চেহারা লাল হয়ে উঠেছে। চোখ দুটো ভয়ংকর দেখাচ্ছে। চোখে মুখে স্পষ্ট হিংস্রতা প্রকাশ পাচ্ছে। ভীষণ রেগে আছে বোঝাই যাচ্ছে।
“আমার কাছ থেকে এখনো ডিভোর্স পাসনি, তুই এখনো আমার বউ। তুই আমার বউ থাকা অবস্থায় নিজের পেছনে ছেলেদের লাইন লাগানোর চিন্তা কীভাবে করলি?”
“তু তুমি আমাকে ভুল বুঝছো, তুমি পুরো কথা শোনোনি বোধহয়। আ আমি এমন কিছু বলিনি।”
শ্রবণ ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দেয় গালে। সোহার মাথা একদিকে হেলে পড়েছে। শ্রবণ চিৎকার করে বলে,
“কু/ত্তা/র বাচ্চা কী শুনিনি? আর কী শোনাতে চাইছিস? ডিভোর্স দিতে চেয়েছি বলে রঙ লেগেছে মনে?”
সোহা কাঁদতে কাঁদতে দু’দিকে মাথা নাড়িয়ে বলে,
“আ আমি বলিনি কিছু, আম্মু বলেছে।”
“স্পর্শকে ভালোবাসিস?”
দু’দিকে মাথা নাড়ে সোহা।
“সেদিন তো বললি ভালোবাসিস।”
“বা বাসি না।”
“কেন?”
“স্প স্পর্শ ভাইয়া আ আমার জন্য হারাম। আমি ভালোবাসি না ভাইয়াকে। আ আমি কিছু বলিনি, সবকিছু আম্মু নিজে থেকেই বলেছে। আ আমি কোনো ছেলের কাছে যাব না।”
কান্নার কারণে সোহার কথাগুলো খুব একটা স্পষ্ট হয় না তবে শ্রবণ বুঝতে পেরেছে। সোহা কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়েছে নিচে। ভয়ে পুরো শরীর কাপছে। শ্রবণ কী এখন আরও মা’রবে ওকে? ও-তো এমন কিছু বলেনি, সবকিছু তো ওর মা-ই বলল। বার বার নিষেধ করলো তবুও বলল।
শ্রবণ সরে যায় সোহার সামনে থেকে। রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। সব কথা না শুনলেও শেষের কথাগুলো স্পষ্টই শুনতে পেয়েছে। বিশেষ করে অনিমা চৌধুরীর কথাগুলো। সোহার পেছনে ছেলেদের লাইন পড়ে যাবে এই কথাগুলো শোনার পরই ওর মস্তিষ্ক অন্য কথা আর শুনছিল না, বার বার একই কথা রিপিট হচ্ছিল।
সোহা ওকে দেখেই ওর মাকে চুপ করতে বলেছিল।
শ্রবণ বিছানায় বসে পড়ে। মাথার ভেতর দপদপ করছে। অনিমা চৌধুরীর কথাগুলো কানে বাজছে এখনও। মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটছে।
লাইটার খুঁজে পাচ্ছিল না, সোহা হয়তো সরিয়ে রেখেছে। সোহার রুমে গিয়েছিল লাইটারের কথা জিজ্ঞেস করতে। গিয়ে তো আগুন জ্বালানোর জন্য লাইটারের প্রয়োজন হয়নি অনিমা চৌধুরীর কথা শুনেই আগুন ধরে গেছে মাথায়।
সোহার দিকে তাকায় আবার। সোহা ভয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়, এতক্ষণ শ্রবণের দিকে তাকিয়ে ছিল।
“ন/ষ্টা ডা/ই/নি/র বাচ্চা লাইটার কোথায় রেখেছিস?”
সোহা নিচ থেকে উঠে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে লাইটার বের করে নিয়ে আসে। কম্পিত হাতে লাইটার বাড়িয়ে দেয় শ্রবণের দিকে। ঝড়ের সময় গাছের ডাল যেভাবে কাঁপে সোহার হাতটা ঠিক সেভাবেই কাপছে।
শ্রবণ সোহার হাতের দিকে তাকিয়ে মুখের দিকে তাকায়। লাইটারটা হাতে নিয়ে সোহাকে টেনে আনে নিজের আরও কাছে। চোয়াল চেপে ধরে বলে,
“তোর মা তোর পেছনে ছেলেদের লাইন লাগাবে তাইনা? এটা দিয়ে তোর এই বিউটিফুল চেহারার এমন অবস্থা করবো এখন যে কোনো ছেলে পেছনে লাইন তো দূরে থাক মনের ভুলেও তোর দিকে তাকাবে না।”
শ্রবণের কথা শুনে ভয়ে আতঙ্কে পিছিয়ে যেতে চায় সোহা কিন্তু শ্রবণ চেপে ধরে রাখায় যেতে পারে না। শ্রবণ লাইটার জ্বালিয়ে সোহার মুখের দিকে এগিয়ে নিয়ে আসে। সোহা দুই হাতে মুখ ঢেকে কেঁদে ওঠে আবার।
“হাত সরা বলছি।”
“না, এমন করো না তুমি, আমি কোনোদিন কোনো ছেলের সামনে যাব না।”
“যাওয়ার মতো অবস্থায় থাকলে না যাবি, হাত সরা বলছি নয়তো তোর চুলে আগুন লাগিয়ে দেব, এমনিতেই মাথায় আগুন ধরে আছে। ন/ষ্টা ডা/ই/নির বাচ্চা হাত সরা।”
চলবে………….
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ১৭
-
দিশেহারা পর্ব ১
-
দিশেহারা পর্ব ১৩
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৫
-
তোমার সঙ্গে এক জনম গল্পের লিংক
-
দিশেহারা পর্ব ৪
-
দিশেহারা পর্ব ২৪
-
দিশেহারা পর্ব ৯
-
দিশেহারা পর্ব ১৮
-
দিশেহারা পর্ব ৩৩