সীমান্তরেখা
লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক
পর্ব_৩
[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]
খাওয়ার পর্ব শেষে গল্প-আড্ডা বসেছে। মুরব্বিরা সকলে ড্রয়িংরুমে বসে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করছেন। সেখানে উপস্থিত আছেন, মেজবাহ’র আব্বা-আম্মা, ছোট চাচা-চাচি আর আকসার আম্মু।
আকসাদের নিয়ে বাড়ির ছাঁদে এসে বসেছেন জেমি আপু। আপুর একমাত্র ছেলেটার নাম আয়ান। বয়স বছর তিনেক ওর। জেমি আপুর সাথে পরিচিত হওয়ার পরে মাত্রই বাচ্চাটাকে কোলে নিয়েছে আকসা। ওর কোলে বসে হাতের খেলনা ঘোড়াটা নিয়ে খেলছিল আয়ান৷ আকসা মনোযোগ সহকারে হাসিমুখে খেলা দেখছিল ওর। জেমি আপু দু’টো শতরঞ্জি বিছিয়েছেন ছাঁদে। আকসার পাশে বসে আছে সেই ষোলো বছর বয়সী ছেলে আর পনেরো বছর বয়সী মেয়েটা। ওদের দু’জনের নাম তাহসিন এবং রিমু। ওরা মেজবাহ’র চাচাতো ভাই-বোন। জেমি আপু আকসাকে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছিলেন পাশ থেকে, তখন-ই ছাঁদে একজন মেয়ে এসে উপস্থিত হলো৷ খুবই চটপটে হাবভাব তার। এসেই পেছন থেকে জেমিকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বাসের সাথে বলে উঠলো, “কেমন আছো আপু? তোমাকে কত মিস করেছি জানো?”
জেমি গলা ছাড়িয়ে ওকে সামনে এনে আনন্দমিশ্রিত গলায় জিজ্ঞাসা করলো, “তোরা কখন এলি?”
“এইতো সবে এসেছি। ইনি কে?”
হঠাৎ পাশে চোখ পরতেই আকসাকে দেখে কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলো মেয়েটি। জেমি পরিচয় করিয়ে দিলো। আকসাকে বললো, “আকসা, ও হলো আমাদের ছোট ফুপুর বড় মেয়ে। নাম মিহি। মিহি, ওর নাম আকসা। মেজবাহ’র বন্ধুর বোন। ওদের-ই আজ ইনভাইটেশন ছিল আমাদের বাসায়।”
মিহি স্বভাবগত খুব মিশুকে। চট করে বসে গেল মাঝখানে। বাদামের ঝোলা এনেছিল হাতের মুঠোয় লুকিয়ে। সেটা জেমি আর আকসার সামনে খুলে ওদের ছুলে হাতে ধরিয়ে দিতে দিতে বলতে লাগলো, “লুকিয়ে আনতে হয়েছে। জনগণ দেখলে আর একটাও ভাগে পেতাম না। ভালো কথা, মেজবাহ ভাইয়া কোথায় আপু? ভাইয়াকে তো দেখলাম না ড্রয়িংরুমে।”
“ড্রয়িংরুমে নেই?”
“না নেই। আম্মু তো মামা-মামিদের সাথে গল্প করতে বসে গেল ড্রয়িংরুমে। কিন্তু ভাইয়াকে দেখিনি সেখানে।
“তাহলে হয়তো ইফানকে নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে ঘরে।”
“আমি গিয়ে ডেকে আনি ভাইয়াকে। সবাই আড্ডা দিচ্ছে, তারা কেন ঘরে বসে থাকবে!”
মিহি দ্রুত উঠে গেল শতরঞ্জি ছেড়ে। পেছন থেকে জেমি বললো, “যাস না মিহি। ও এখন এখানে আসবে না। শুধু শুধু যেয়ে লাভ নেই।”
আকসার কেমন যেন খটকা লাগলো। মেজবাহ এখানে আসবে না কেন? ও আছে বলে? হ্যাঁ, সেটা হতেই পারে। হওয়াটাই বরং স্বাভাবিক। কারণ, পুরোটা সময় মেজবাহ ওর থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে, এমনকি গতদিনও। আজ ডাইনিং টেবিলেও ও ওঠার পরে খেতে বসেছে। এমনকি, ওর মুখোমুখিও বসেনি। ওকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বেসিনের কলও খুলে দিতে এগোয়নি। আকসা তো এতোটুকু ভালোভাবেই বুঝে গেছে যে, মেজবাহ ওকে এড়িয়ে চলছে এবং ভবিষ্যতেও এড়িয়ে যাবে। এখানে ও আছে— একথা মেজবাহ জানে। তারমানে নিশ্চয়ই মেজবাহ এখানে আসবে না। এই কথাটা তো আকসা ভালোভাবেই জানে। কিন্তু জেমি আপু কীভাবে এতোটা নিশ্চিত হলো? মেজবাহ যে আসবে না, সে কীভাবে জানলো? ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যেতে পারতো। কিন্তু কেন জানি আকসা চেষ্টা করেও স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছে না। মনে একটা খটকা থেকেই যাচ্ছে।
আকসা জেমি আপুর সাথে কথা বলছিল ওর পড়াশোনার বিষয়ে, ভার্সিটি লাইফ কেমন কাটছে সেসব নিয়ে। তখনই সিঁড়িতে খটাখট চলনের শব্দ শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখলো, ওর বড়ভাই আর মেজবাহ এসে দাঁড়িয়েছে ছাঁদের দরজার সামনে। মিহি পাশে দাঁড়িয়েছে ছিল। মেজবাহ’র একহাত ওর দু’হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখা। মিহি আরো জোরে সামনের দিকে ওদের টেনে নিয়ে এসে জোরে বলতে লাগলো, “দেখো আপু, ভাইয়ারা বসে দাবা খেলছিল। জোর করে টেনে এনেছি আমি।”
মিহিরা এগিয়ে এসে শতরঞ্জির সামনে ওদের মুখোমুখি সারিতে দাঁড়ালো। মেজবাহ পকেটে হাত গুঁজে এককোণে দাঁড়িয়ে রইলো। ইফান গিয়ে আকসার পাশে বসে পরলো। জেমি একবার আকসাকে দেখে আরেকবার মেজবাহকে দেখলো৷ জেমির মুখ কিছুটা বিষন্ন। মনে হচ্ছে, চিন্তিত ভীষণ। জেমি মিইয়ে যাওয়া স্বরে মেজবাহকে উদ্দেশ্য করে বললো— “ভাই এখানে এসে বোস।”
মেজবাহ’র হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল না যে, সেখানে বসবে। তবে বড় বোনের কথা শুনে বসে পরলো তার পাশে। আয়ান কাঁদছিল খিদে পেয়েছে বলে। আকসা ওকে জেমি আপুর কোলে দিলো৷ মিহি সেই কখন থেকে কথা বলেই চলেছে রিমু আর তাহসিনের সাথে। ইফান ফোন স্ক্রল করছে। আকসার চোখ স্বভাবত মাঝেমধ্যে মেজবাহ’র দিকে পরছে; তবে মেজবাহ একবারও ওর দিকে ফিরে তাকাচ্ছে না। হঠাৎ মিহি বলে উঠলো, “এখানে যে গল্প-আড্ডা হচ্ছে — তা কি বোঝার উপায় আছে?”
এপাশ থেকে ইফান জিজ্ঞাসা করলো, “কেন? কী হয়েছে?”
মিহি বললো, “আসরটা কেমন যেন মরা মরা লাগছে। একটু জাঁকজমকপূর্ণ হওয়া দরকার। দাঁড়াও, আমি আসছি।”
কথাটা বলেই মিহি দৌড়ে উঠে চলে গেল সিঁড়ির দিকে। জেমি আয়ানকে ফিডার খাওয়াতে খাওয়াতে পাশ ফিরে মেজবাহকে বললো, “খালামণির বাসায় তো গিয়েছিলি গতদিন, তাদের কেমন অবস্থা জানালি না তো ভাই।”
“সবাই ভালো আছে আপু। তোমার ইশতিয়াকের কথা মনে আছে? ছোকরা এখন কত বড় হয়ে গেছে জানো? তিনবছর পর এই গেলাম। তখন ছোট একটা বাচ্চা ছেলে ছিল৷ আর এখন লম্বা হয়েছে খাম্বার মতো। ব্যাটাছেলে হয়ে গেছে।”
হাসতে হাসতে কথাগুলো বলতে লাগলো মেজবাহ। আকসা অবাক চোখে চেয়ে রইলো। এই লোক এতো সুন্দর করে কথা বলে তার ভাই-বোনদের সাথে? বিশেষত, জেমি আপুর সাথে বোধহয় একটু বেশিই ফ্রি। মেজবাহ’র মন খুলে কথা বলা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে বেশ ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। মেজবাহ বোধহয় তার সকল কথা জেমি আপুকেই বলে।
আকসা মুখে কিছু না বললেও ওর মনে একটা অদ্ভুত নাম না জানা অনুভূতির সঞ্চার হতে লাগলো। ও একধ্যানে তাকিয়ে দেখতে লাগলো, মেজবাহ জেমি আপুর সাথে কত সুন্দরভাবে গল্প করছে হাসিমুখে। হঠাৎ কথার মাঝে আকসার দিকে চোখ পরতেই মেজবাহ’র চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। ও দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে নিলো। জেমি মেজবাহকে এভাবে হঠাৎ ঘুরে যেতে দেখে আকসার দিকে শঙ্কিত চাহনিতে তাকালো৷
.
.
মেজবাহ’র আব্বা হেজাজ মাহমুদ আর ছোট চাচা জালাল মাহমুদ একই সোফায় বসে আছেন। আকসার আম্মা আয়েশা বেগমের পাশে মেজবাহ’র চাচি ফাতিমা খাতুন আর ফুপু রিতু বেগম বসে আছেন। ইশা বেগম পান আনতে ভেতরে গিয়েছেন। যদিও এখানকার কেউ সচারাচর পান খায় না, তবে অতিথি আপ্যায়নে দেওয়া হয় প্রায়শই।
হেজাফ মাহমুদ এবং জালাল মাহমুদ এতোক্ষণ নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে আলোচনা করছিলেন কিছু বিষয়ে। মূলত, কিছুক্ষণ আগে তাদেরকে তাদের বউয়েরা ভেতর ঘরে ডেকে নিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। সেই বিষয়েই আলোচনা এগোনোর তোড়জোড় চলছে। ফাতিমা খাতুন তার স্বামীকে চোখের ইশারায় বোঝালেন, কথাটা পাড়তে। কিন্তু জালাল মাহমুদ ইতস্তত হয়ে স্ত্রীর ঘাড়েই দায়িত্বটা চাপিয়ে দিলেন। অগত্যা ফাতিমা খাতুন-ই আসরে আয়েশা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন, “আপা আপনার সাথে কিছু বিষয়ে কথা ছিল। সবসময় তো আর দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ নেই। আজ যখন এসেছেন এবং আজ-ই আমাদের কথাটা বলার ইচ্ছে রয়েছে; তাহলে এখনই বলে ফেলি।”
আয়েশা বেগম জিজ্ঞাসা করলেন, “কী কথা আপা?”
ফাতিমা খাতুন মৃদু হেঁসে বললেন, “বড় আপা আসুক। আপা বললেই বেশি ভালো হয়। আসলে তার জন্য বেশি জরুরি তো।”
আয়েশা বেগম বুঝতে পারলেন না, ঠিক কি বিষয়ে কথা বলতে চাইছেন তারা।
.
.
মিহি যখন ছাঁদে ফিরেছে, তখন ওর হাতে একটা গিটার। গিটারটা মেজবাহ’র। সবাই জানে, এটা ওর সর্বসঙ্গী। সবসময় মেজবাহ’র সাথে এই গিটারটা থাকে। এটার সাথে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে৷ ক্যান্টনমেন্ট থেকে বাসায় ফেরাকালীন প্রত্যেকবার-ই ও এই গিটারটা সঙ্গে করে নিয়ে আসে। বোনের হাতে গিটার দেখে হতাশ হলো জেমি। বললো, “গিটার কেন নিয়ে আসলি মিহি?”
“ভাইয়া গান গাইবে তাই।”
মিহি এসে শতরঞ্জিতে বসে পরলো। মেজবাহ একবারও গান গাওয়ার কথা বলেনি। বরং, ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে না যে, ও গান গাইবে। ও কিছুটা গম্ভীর স্বরে বললো, “গিটারটা রুমে রেখে আয় মিহি। গান গাওয়ার মুড নেই এখন। আমি উঠছি।”
মেজবাহ উঠতে যাবে তখনই মিহি ওকে টেনে ধরে বসিয়ে বললো, “না না ভাইয়া। আজ আর তোমাকে ছাড়ছি না৷ গান গাইতেই হবে তোমার৷ অনেকদিন হলো গান গাও না। অথচ আগে তুমি প্রত্যেকবার যখন বাসায় আসতে, তখনই গান গাইতে।”
“গান গাওয়ার মুড সবসময় থাকে না।”
মৃদু হেঁসে অথচ গম্ভীর গলায় বলা কথাটা কীসের ইঙ্গিত করলো তা ঠিক বোঝা গেল না। শুধু কথাটা শোনামাত্র আকসা মেজবাহকে একবার আড়চোখে দেখলো।
পাশ থেকে ইফান ওকে অনুরোধ করে বললো, “তুই তো একসময় আমাদের ক্যাডেট কলেজ লাইফে অনেক গান গাইতিস দোস্ত। আমাদের গ্রুপে একজন-ই বেস্ট সিঙ্গার আছে, সেটা তুই। শুনেছি, ক্যান্টনমেন্টে যাওয়ার পরেও অবসরে প্রায়শই তোর গান গাওয়া হতো। গান গাওয়া তো তোর প্যাশন। তাহলে আজ সবার অনুরোধে গাইতে কি অসুবিধা? প্লিজ দোস্ত।”
ওপাশ থেকে এবার জেমি আপুও বললেন, “একটা দিন তো ভাই।”
জেমি আপুর কথা শুনেই অবশেষে গিটার হাতে নিলো মেজবাহ। ধীরে ধীরে গিটারে সুর উঠলো। মেজবাহ চোখ বুঁজে গাইতে লাগলো —
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে . .
আমরা ক’জন নবীন মাঝি
হাল ধরেছি
শক্ত করে রে
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে . .
জীবন কাটে যুদ্ধ করে, প্রাণের মায়া সাঙ্গ করে
জীবনের স্বাদ নাহি পাই
ওওওওওওওওওওও
জীবন কাটে যুদ্ধ করে, প্রাণের মায়া সাঙ্গ করে
জীবনের স্বাদ নাহি পাই
ঘরবাড়ির ঠিকানা নাই, দিনরাত্রি জানা নাই
চলার সীমান সঠিক নাই. . .
জানি শুধু চলতে হবে, এ তরী বাইতে হবে
জানি শুধু চলতে হবে, এ তরী বাইতে হবে
আমি যে সাগর মাঝি রে. . .
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে . .
আকসা মুগ্ধ! এতো সুন্দর কন্ঠস্বর! এতো সুন্দরভাবে কেউ এ গান গাইতে পারে? অন্তর থেকে না আসলে এ গান এতো সুন্দরভাবে গাওয়া যায় না। শুনেই বোঝা যাচ্ছে, মেজবাহ গান নিয়মিত গায় এবং ওর গানের কন্ঠ মারাত্মক! আকসা আবারও মনোযোগ দিলো৷ মেজবাহ গাইছে—
জীবনের রঙে মনকে টানে না
ফুলের ওই গন্ধ কেমন জানিনা
জোছনার দৃশ্য চোখে পড়ে না
তারাও তো ভুলে কভু ডাকে না
জীবনের রঙে মনকে টানে না
ফুলের ওই গন্ধ কেমন জানিনা
জোছনার দৃশ্য চোখে পড়ে না
তারাও তো ভুলে কভু ডাকে না. . .
জীবনের রঙে মনকে টানে না
মেজবাহ একটুখানি থামলো। ও তখনও চোখ বুঁজে রয়েছে। এবার আরো বেশি গলা ছেড়ে গাইতে লাগলো—
বৈশাখের ওই রুদ্র ঝড়ে
আকাশ যখন ভেঙে পড়ে
ছেঁড়া পাল আরো ছিঁড়ে যায়
ওওওওওওওওওওও
বৈশাখের ওই রুদ্র ঝড়ে
আকাশ যখন ভেঙে পড়ে,
ছেঁড়া পাল আরো ছিঁড়ে যায়
হাতছানি দেয় বিদ্যুৎ আমায়
হঠাৎ কে যে শঙ্খ শোনায়
দেখি ঐ ভোরের পাখি গায়. . .
তবু তরী বাইতে হবে
খেয়া পারে নিতে হবে
তবু তরী বাইতে হবে
খেয়া পারে দিতেই হবে
যত ঝড় উঠুক সাগরে . .
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে . .
অসহ্যকর সুন্দর! লোকটা বোধহয় সিঙ্গার হতে যেয়ে ভুলে আর্মাড অফিসার হয়ে গিয়েছে। এ পর্যায়ে এসে আকসার মনে হলো, মেজবাহ’র কি বুক ভার হয়ে আসছে? মেজবাহ কি অনেক বেশি যন্ত্রণা এবং ভেতরকার হাহাকার নিয়ে গানটি গাইছে? নাহলে একটা গান এতোটা বেদনাদায়ক মধুর কেন শোনাবে? এর আগেও তো বহুবার স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই গানটি শুনেছে মেজবাহ। কই কখনো তো এমন অনুভূতি হয়নি। হঠাৎ করেই আকসা বোধ করলো, গানটি আজ অনেক কথা বলে দিতে চাইছে যেন। যেন মেজবাহ’র ভেতরকার যন্ত্রণা উপলব্ধি করাতে চাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন, মেজবাহ’র জীবনে অনেক সংগ্রাম, অনেক বেশি হাহাকার। মানুষ কি তার জীবনের সকল দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা গানের মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দিতে পারে?
চলবে
নোটবার্তা: সম্পূর্ণ গানটি উল্লেখ করা নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু, আপনারা জাস্ট একবার সম্পূর্ণ গান পড়ুন এবং অনুভব করার চেষ্টা করুন— মেজবাহ ঠিক কতোটা হৃদয়ের গভীর থেকে গানটি গেয়েছে। অনুভব করানোর জন্যই সম্পূর্ণ গানটি দিলাম। নাহলে প্রয়োজন পরতো না।
📌 আরেকটা জরুরি কথা— মেজবাহ’র পাঁচ বছরের মধ্যে মেজর হওয়া নিয়ে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন৷ তাদের উদ্দেশ্যে বলি, খেয়াল করেছেন তো মেজবাহ ক্যাডেটের ছাত্র? এজন্যই। আশা করি, যারা জানেন তাদের আর ভেঙে বলতে হবে না। তাছাড়াও, মেজবাহ’র পরিচয় আমি আমার আগের গল্পের শেষের দিককার এক অংশে উল্লেখ করে দিয়েছিলাম। সেখানে সবটা ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা আছে। আজ কমেন্টবক্সে স্ক্রিনশট দিয়ে দিচ্ছি।
কমেন্ট

Share On:
TAGS: ঝিলিক মল্লিক, সীমান্তরেখা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৯
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১০
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৪
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৩
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৭
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৯
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৫
-
সীমান্তরেখা গল্পের লিংক
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৮