দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ১০
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“রাতের নিস্তব্ধতায় ছাঁদে বসে জাবির রায়হান চৌধুরীর সিগারেটের ধোঁয়া উড়াচ্ছে”। “তার মনের ভিতরটা যেনো জ্বলছে”। “আদ্রিয়ানার সাথে আদনানের ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের দৃশ্য বার বার তার চোখে ভেসে উঠছে”।
“জাবির রায়হান চৌধুরী সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে,”
“কেনো আদ্রিয়ানা? কেনো তুমি আমাকে বুঝলে না? আমি তো তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি।” খুব বেশি ভালোবাসি তোমায়। তোমাকে ছাড়া আমি নিঃশ্বাস আটকে আসার মতো কষ্ট পাচ্ছি”।
” সিগারেটের ধোঁয়া মিলিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু জাবিরের মনের কষ্ট কমছে না। সে আবার একটা সিগারেট ধরায়। রাতের নিস্তব্ধতায় সিগারেটের ধোঁয়া যেনো তার মনের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
( ফ্লাস ব্যাক )
“আজ থেকে তিন মাস আগের কথা”। “জাবির তাঁর বাবার সাথে আমেরিকায় যাচ্ছিলো অফিসের কাজে”। “এয়ার পোর্টে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে আদ্রিয়ানা কে দেখে জাবির”! পরণে “কালো বোরখা”, “মাথায় হিজাব” আর “হাতে তাঁর বাজারের ব্যাগ”। বাজারের ব্যাগ নিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় যাচ্ছে আদ্রিয়ানা”। “জাবিরের সাথে তাঁর বাবা থাকায় জাবির আদ্রিয়ানার সাথে কথা বলতে পারে না”। “জাবির অফিসের কাজে আমেরিকার চলে গেলেও তাঁর মন পড়ে ছিলো আদ্রিয়ানার কাছে”। “কারণ প্রথম দেখায় জাবির আদ্রিয়ানার প্রেমে পড়ে যায়”! “আমেরিকায় পৌঁছানোর সাথে সাথেই জাবির কল দেয় তাঁর বন্ধু সামির কে”। “রিং পড়ার সাথে সাথে রিসিভ হয়ে যায়”।
“কি ব্যাপার জাবির রায়হান চৌধুরী এতো দিন পরে হঠাৎ কি মনে করে কল দিলি”।
“কেমন আছিস দোস্ত”।
“ভালো আছি” তবে তুই তো আমি কেমন আছি তা জিজ্ঞেসা করার জন্য কল দিস নিই ? কেনো কল দিয়েছিস বলে ফেল”।
“দোস্ত একটা হেল্প লাগবে”।
“বলে ফেল কি হেল্প লাগবে “?
“একটা মেয়ের ঠিকানা খুঁজে বের করতে হবে”।
“ক্লো দে”।
“তেমন কোন ক্লো নেই আমার কাছে”, “তবে আমার মনে হয় ও প্রতিদিন সকাল নয়টাই চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট বাজারে যায় বাজার করার জন্য”। “পরণে তার কালো বোরখা আর কোলো হিজাব পড়া ছিলো”।
“দূর বেডা এটা কোন ক্লো হলো “? “চট্টগ্রাম বহদ্দারহাটের মতো বড় বাজারে তো অনেক মেয়েই বাজার করতে যায়’।
“এই মেয়ে টা সবার থেকে আলাদা। বয়স কম। এই ধর ষোল বা সতেরো এমন।”
“এই ভাবে কি কোন মেয়ে কে খুঁজে বের করা সম্ভব ?”
“সম্ভব, চাইলে সব কিছুই সম্ভব”। “তুই কাল সকাল নয়টার আগে চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট বাজারে যাবি”।
“এখন চলে যায়”।
“এখন যাওয়ার লাগবে না এখন ঘুমা কাল সকালে গেলেই হবে।”
“আচ্ছা ঠিক আছে আল্লাহ হাফেজ।”
“আল্লাহ হাফেজ।”
“জাবির ফোন কেটে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ক্লান্ত থাকায় শুয়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘন্টা খানেক পর জাবির ঘুমের মধ্যেই বিরবির করে বলতে শুরু করে”,,
“কে তুমি মেয়ে ? কেনো বার বার আমার স্বপ্নে এসে আমাকে নিজের প্রতি দুর্বল করে দিচ্ছো ?” , “এই জাবির রায়হান চৌধুরী অলরেডি তোমার প্রতি দুর্বল হয়ে গেছে”। “আর দূর্বল করতে এসো না প্লীজ। “নয়তো এই জাবির রায়হান চৌধুরী একদমই শেষ হয়ে যাবে”।
☘️
“সকাল নয়টা সামির দাঁড়িয়ে আছে চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট বাজারে সামনে”! এদিকে ওদিকে তাকিয়ে জাবিরের দেওয়া বর্ণনার মতো মেয়ে টা কে খুঁজে চলেছে” “কিন্তু তেমন কাউকে দেখছে না সেই” ? এক ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে সামিরের কোমর ব্যথা উঠে যায় ফলে পাশে থাকা একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসে সেই”! দোকান থেকে এক কাপ গরম চা নিয়ে নেয়। চায়ের কাপে দ্বিতীয় চুমুক দিতে যাবে ঠিক তখনি সামির চোখ পড়ে একটা বোরখা পড়া সতেরো বছর বয়সী মেয়ের উপর”। যে কি না বাজারের ব্যাগ নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে”। সামির চায়ের টাকা মিটিয়ে ছোটে যায় সেই মেয়ের দিকে”!
“হাই” ? “আপনার সাথে কি দুই মিনিট কথা বলা যাবে” ?
“আদ্রিয়ানা কিছু বলে না মাথা নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে”!
“হ্যালো আপনাকেই বলছি”। “আপনার সাথে কি দুই মিনিট কথা বলা যাবে” ?
“আদ্রিয়ানা এতক্ষণ চুপ থাকলে ও এইবার বলে উঠে”,,
“জ্বী আমাকে বলছেন” ?
“হুম আপনাকে বলছি” ? আপনি কি প্রতিদিন সকাল নয়টাই চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট বাজারে বাজার করতে আসেন” ?
“জ্বী “।
“আপনার নাম কি” ?
“আদ্রিয়ানা নিজের নাম বলতে যাবে ঠিক তখনি আদ্রিয়ানার খালাতো বোন জারা এসে হাজির হয়”,,
“আদ্রিয়ানা”। ওর নাম আদ্রিয়ানা”।
“সামির আর আদ্রিয়ানা দুজনেই জারার দিকে তাকায়”! জারা এসে আদ্রিয়ানার পাশে দাঁড়ায়” ?
“কি সমস্যা ওর নাম জিজ্ঞেসা করছেন কেনো” ?
“তেমন কিছু না এমনি”! বাই দা ওয়ে আপনি উনার কে হন” ?
“কাজিন”!
“তাহলে আপনার থেকেই ওর ঠিকানা বের করা যাবে”! ( মনে মনে কথা টা বলে সামির )
“আচ্ছা আপনার কাজিন তো কথা বলছে না আপনার সাথে দুই মিনিট কথা বলা যাবে” ?
“হুম বলুন কি কথা” ?
“একটু সাইডে আসুন প্লীজ”।
“সামির মুখে এমন কথা শুনে জারা আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে”
“আদ্রিয়ানা তুই দুই মিনিট দারা আমি আসছি” ?
“আদ্রিয়ানা মাথা নাড়ে” জারা আর সামির আদ্রিয়ানার থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ায়”!
“জ্বী বলুন ” ?
“আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে আমার একটা ফ্রেন্ড আপনার কাজিন কে প্রথম দেখায় ভালোবেসে ফেলছি এখন,,,
বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না সামির তাঁর আগেই জারা বলে উঠে,,,
“কিহ” কে সেই আপনার অভাগা ফ্রেন্ড যে কিনা ওর মতো মেয়ে কে ভালোবেসেছে” ?
“জাবির রায়হান চৌধুরী”
“চৌধুরী নামের শেষে শুধু চৌধুরী আছে না কি অর্থ ও আছে” ?
“সব কিছু আছে যেমন বড়লোক তেমন হ্যান্ডসাম”। সিনেমার নায়ক ও ফেল তাঁর কাছে”!
“খুব দেখতে ইচ্ছে করছে আপনার সেই হ্যান্ডসাম ফ্রেন্ড কে” ? একটা ছবি হবে” ?
সামির নিজের ফোন থেকে জাবিরের একটা ছবি বের করে জারা কে দেখায়”! জাবির কে দেখে ক্রাশ খেয়ে যায় জারা। জাবিরের ছবিরের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে জারা”!
“হ্যান্ডসাম না ছেলে টা ?
“অনেক হ্যান্ডসাম”!
“এতো খুশি হয়ে লাভ নেই আমি কনফিউজ আমার ফ্রেন্ড কি আসলেই আপনার কাজিনের কথা বলছে না অন্য কারো কথা বলছে’ ?
“কনফিউজ দূর করেন” ?
“কনফিউজ দূর করার জন্য আপনার কাজিনের একটা ছবি লাগবে”?
“আপনার WhatsApp নাম্বার দেন আমি ছবি দিয়ে দিচ্ছি”।
“নেন” ০১৭
“জারা সামিরের What’s app একাউন্টে নিজের ছবি সেন্ড করে দেয়”!
“হ্যাঁলো আপনি আপনার পিক সেন্ড করেছেন কেনো” ?
“ওও সরি ওয়েট” আসলে ওর ছবি আমার কাছে নেয়। এক মিনিট ওয়েট করেন আমি ওর ছবি তুলে দিচ্ছি”
“এই কথা বলে জারা আদ্রিয়ানার দিকে এগিয়ে যায়”!
“আদ্রিয়ানা এই দিকে তাকা তো তোর একটা ছবি তুলি”
“এই কথা ঠাস ঠাস করে আদ্রিয়ানার কয়েকটা ছবি তুলে নেয় জারা” ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে সামিরের ফোনে সেন্ড করে দেয়”!
“ভাইয়া দিয়ে দিছি দেখেন”!
“হুম”!
“আসছি ভাইয়া অপেক্ষায় থাকবো আপনার ফ্রেন্ডের”!
মানে ?
“আসছি”!
“ওয়েট যাওয়ার আগে আদ্রিয়ানার নাম্বার টা দিয়ে যান”!
“সামিরের মুখে এমন কথা শুনে জারা মনে মনে বলে”,,
“ওর তো ফোনই নেই নাম্বার কোথায় থেকে আসবে” ? এক মিনিট আমার তো দুই টা সিম আছে। ওই খান থেকে একটা দিয়ে দিলে কেমন হয়” ?
“হ্যাঁলো ? কোথায় হারিয়ে গেলেন” ?
“আপনি আদ্রিয়ানার নাম্বার নেন আমি বলছি”
০১৬*
“ধন্যবাদ”
“সামির চলে যায়। জারা একটা অটো দেখে নেয়। আদ্রিয়ানা আর জারা দুজনে অটোতে উঠে বসে”! জারা বারবার আদ্রিয়ানার দিকে হিংসার দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে”!
“এই আদ্রিয়ানার মধ্যে এমন কি আছে ? কি দেখে এতো বড়লোক হ্যান্ডসাম ছেলে তাঁর প্রেমে পড়লো”?
“জারার মনের মধ্যে হিংসার আগুন জ্বলছে! ” জাবির হ্যান্ডসাম বড়লোক কথাটা মনে পড়তেই জারার হিংসা যেন আরও বেড়ে গেল! আদ্রিয়ানার প্রতি তার রাগ যেন আরও বাড়ছে। জারার ফেইস দেখে মনে হচ্ছে জারা কিছু একটা প্ল্যান করছে…
অটো একটা জায়গায় এসে থামলো। জারা আদ্রিয়ানাকে বললো, “আদ্রিয়ানা, আমরা এসে গেছি। “
“আদ্রিয়ানার অটো থেকে নেমে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাড়ির ভিতরে চলে যায়। জারা অটোর ভাড়া মিটিয়ে তাঁর পর যায়”!
“এই পর্বে ২.৫k রিয়েক্ট পূর্ণ হবে তাঁর পর পর্ব ১১ আসবে। এই কথা কেনো বলছি তা আপনারা জানেন নতুন করে কারণ বললাম না”! “ছোট পর্ব দেওয়ার জন্য দূঃখিত” ! আসলে ইদানিং আমার না গল্প লিখতে ইচ্ছে করছে না। তোমাদের রেসপন্স কমে যাওয়ায় গল্প লিখার আগ্রহ আরো কমে গেছে। নিজের উপর এক প্রকার জোর খাটিয়ে গল্প লিখছি। তাই গল্প টা কেমন লিখতে পারছি জানি না।
আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে আমার গল্প টা তোমাদের কাছে ভালো লাগছে না”। যদি ভালো লাগতো তাহলে আগের মতো রেসপন্স পেতাম। গল্প লিখার আগ্রহ বাড়তো। গল্প টা ভালো না লাগলে বলো এখানেই শেষ করে দিই। তোমাদের ভালো না লাগলে তো আর কষ্ট করে গল্প লিখার কোন মানে হয় না তাই না ?
চলবে,,,,,
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬