এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ১২+১৩+১৪
একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব_১২
মেঘলার ফর্ম ফিলাপ করতে হবে গ্রামের স্কুল থেকে ফোন এসেছে ।তাই গ্রামে যেতে হবে ।যাওয়া-আসা আর যেয়ে এট লিস্ট দুইদিন থাকলেও তিন চারদিন লেগে যাবে ।শহিদুল খান সাজ্জাদ খান কাল যেতে পারবে না ।আগামী পরশু যেতে পারবে তবে আগামীকাল রওনা দিতে হবে।না হলে ফরম ফিলাপে দেরি হয়ে যাবে ।
তাই দুজন মিলে বুদ্ধি করল সাবিহা সুলতানা আসমা বেগম বাড়ির বাচ্চাদের সাথে সিয়ামকে দিয়ে পাঠাবে যদি শ্রাবণ যেতে চায় তাহলে যাবে কিন্তু জোর করবে না। আগেও একবার জোর করে নিয়ে গিয়েছিল ফলাফল ভালো হয়নি হিতে বিপরীত হয়েছে ।তাই এবার আর শহিদুল খান কিছুতেই জোর করতে চায় না।
রাতে খাওয়ার সময় সবাই একসাথে খাচ্ছে ।মেঘলা প্রতিদিনের মতো সোফা রুমে বসেছে সাথে রাফি ।শহিদুল খান আসমা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”তোমরা সবাই গ্রামে বাড়িতে যেয়ে ঘুরে আসো। মেঘলার ফরম ফিলাপ করার জন্য ওর স্কুল থেকে ফোন দিয়েছিল ।
সাজ্জাদ বলল সাজ্জাদ অফিস থেকে এই মুহূর্তে ছুটি পাচ্ছেনা আর আমার কিছু জরুরী মিটিং আছে যেতে পারছি না ।সিয়ামকে সাথে করে নিয়ে তোমরা চলে যেও আর যদি শ্রাবণ যেতে চায় তাহলে সাথে যাবে সমস্যা নেই কিন্তু আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কারো কোন জোর নেই ।যারা যেতে চাইবে তারা যাও।
শহিদুল খান কথাগুলো বলেই তাকালো শ্রাবণের দিকে ।দেখলেন কোন হেলদুল নেই তাই ধরেই নিলেন শ্রাবণ যাবে না ।সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বললেন,” সিয়াম যথেষ্ট বড় হয়েছিস সবাইকে দায়িত্ব করে নিয়ে যেতে পারবি না ?মেঘলা যাবে ।তোর বড় আম্মু ,ছোট আম্মু ,লামিয়া ,রাফি যাবে। সবাইকে দায়িত্ব করে নিয়ে যাবি দায়িত্ব করে নিয়ে আসবি ।
টিকিট কাটাকাটির ঝামেলা নেই সব আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট কে দিয়ে করিয়ে রাখবো ।শুধু খেয়াল করে নিয়ে যাস আর ফর্ম ফিলাপ যেভাবে যেভাবে করতে হয় মেঘলা কে সাথে করে নিয়ে করিয়ে আনিস ।বলবি স্কুলে যেতে পারবে না শুধু পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দিবে এডমিট কার্ড সবকিছু যেন রেডি করে রাখে আগে থেকে আমাদেরকে ইনফর্ম করে।”
শ্রাবণ কিছুই বলল না শুধু আড় চোখে একবার তাকালো মেঘলা ও রাফির খাওয়ার দিকে ।তারপর আবার নিজের খাবারে মনোযোগ দিলো।খাবার শেষ করে সবাই ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসলেন ।মেঘলা হাত ধুয়ে এসে সোফার রুমে বসতেই সাথে সাথে শ্রাবণ বলে উঠলো ,”আমার জন্য একমগ কফি নিয়ে আয় যা।”
মেঘলা এ বাড়িতে এসে এই রান্নাঘরে কখনো কোন কিছু রান্না করেনি তাই অবাক হয়ে বললো,” কফি তৈরি করবো আমি?”
শ্রাবণ বললো ,”কেন পারিস না ?আচ্ছা ঠিক আছে লামিয়া যা তো একমগ কফি নিয়ে আয় আমার জন্য ।মেঘলা যেতে চাইলেও লামিয়া আটকে দিয়ে বললো,”তুই থাক তুই পারবি না তুই এর আগে কখনো কফি বানিয়েছিস ?তুই তো এটাও জানিস না ভাইয়া কেমন কফি খেতে পছন্দ করে ।আমি করে নিয়ে আসছি দাঁড়া।”বলেই রান্না ঘরে ছুটলো লামিয়া।
সাবিহা সুলতানা’র কেন যেন ভালো লাগছে না মেঘলার উপর শ্রাবণের করা অধিকারগুলো ।যেখানে সম্পর্কই মানে না শুধুমাত্র ভাই হয় চাচাতো ভাই সেখানে হুটহাট ওর উপরে এমন অধিকার খাটানো টা কেমন যেন একটু দৃষ্টিকটু মনে হচ্ছে কারণ অন্য আর দশটা চাচাতো ভাই বোনের মতো সম্পর্ক তো নেই ওদের ।ওদের ভিতরে একটি পবিত্র সম্পর্ক রয়েছে বিয়ের সম্পর্ক যা একপক্ষ মানে না আর এক পক্ষ জানে না।
আসমা বেগম সোফায় বসে তানিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন ,”তা তানিয়া তোমার বাবা-মা কি করে ?দুদিন হয়ে গেল তারা কোথায় আছে ?এত বছর পর তুমি আমেরিকা থেকে এলে অথচ তারা তোমাকে নিতে আসছে না অবাক লাগছে আমার কাছে।”
তানিয়া প্রশ্ন শুনে থতমত খেয়ে গেল কি উত্তর দিবে? তানিয়াদের পরিবার এই পরিবারের মত এরকম যৌথ পরিবার বা ভিতরে এতটা অন্তরঙ্গ খাতির নেই ।সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। আলট্রা মডার্ন ফ্যামিলি যাকে বলে ।কেউ কারো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে না সবাই সবার জীবন নিয়ে ব্যস্ত।
তানিয়া আমতা আমতা করে বললো,” না আসলে আন্টি বাবা-মা আমেরিকা গিয়েছে ।সেখানে এখন অবস্থান করছে বিজনেসের কারণে ।আমি হুট করে চলে এসেছি তাই তারা এটা ক্যান্সেল করতে পারেনি অনেক জরুরী তাই।”
আসমা বেগম উত্তরে সন্তুষ্ট হলেন না ।বাবা-মা না হয় ট্যুরে গেছে বা বিজনেসের কারণে গিয়েছে পরিবারে কি আর কেউ নেই ?চাচা মামা খালু অন্যান্য আত্মীয় স্বজন এরকম কি কেউ নেই? মেয়েকে দুদিন ধরে অন্য একটি ছেলের বাড়িতে ফেলে রেখেছে ছেলেটি ভালো না খারাপ পরিবার কেমন ভালো না কি খারাপ খোজ নিলো না।এরকম বিবাহ উপযুক্ত একটি মেয়েকে কি করে বাইরে ফেলে রাখে?
তারপর বললেন ,”আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু তোমার খালা ফুপু চাচা মামা এরকম কোন আত্মীয়-স্বজন নেই? না মানে এত বছর পরে এলে কারো সাথে দেখা করতে দেখলাম না তাই জিজ্ঞেস করলাম ।কিছু মনে করো না।”
শ্রাবণ আর কথা বাড়তে দিল না ।শহীদুল খানের দিকে তাকিয়ে বললো,” আমিও গ্রামে যাব বাবা টেনশন করতে হবে না ।সবাইকে আমি দায়িত্ব করে নিয়ে যাব।”
হঠাৎ এই কথা বলে ওঠায় শহিদুল খান অবাক হলেন ।সাজ্জাদ খান কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না নিচে দিকে তাকিয়ে রইলেন।
শহিদুল খান বললেন,”আমি কিন্তু কাউকে যেতে বলিনি বা জোর করিনি ।তোমার যদি মনে হয় তুমি যাবে তাহলে অবশ্যই যাবে কোন সমস্যা নেই তবে যেতে না চাইলেও কোন সমস্যা নেই ।আর তাছাড়া তানিয়া আছে ও কি যাবে কি যাবে না তাও তো জানি না।”
আসমা বেগম বললেন ,”তানিয়ার কি গ্রামে গিয়ে ভালো লাগবে ?ওই আমেরিকা থেকে বড় হয়েছে ওকে তো দেখলে মনে হয় খুব মর্ডান ফ্যামিলির মেয়ে ।গ্রামের ওই পরিবেশে থাকতে পারবে ?”
যেন আসমা বেগম জানিয়ে দিতে চাচ্ছেন তানিয়ার যাওয়াটা উনি মোটেও পছন্দ করছেন না ।কিন্তু শহিদুল খান অপারগ। শহিদুল খান জানে ছেলে তানিয়াকে পছন্দ করে বিয়ে করবে তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিলেমিশে থাকাই ভালো।
শ্রাবণ বললো,” ও যেতে চাইলে যাবে আর না হলে এ বাড়িতে থাকলো ।এতে কোন সমস্যা নেই ।কেয়ারটেকার আছে কাজের লোকেরা আছে কোন সমস্যা হবে না। আমেরিকা তো একাই থাকতো।”
সাথে সাথে তানিয়া বলে উঠলো ,”না না আমি যাব ।সমস্যা নেই ।যেখানে শ্রাবণ যাবে সেখানে আমি যাব ।”
কথাটা শুনেই সাথে সাথে মুখ তুলে তাকালেন সাজ্জাদ খান ।সাবিহা সুলতানা আসমা বেগম সবার কাছে কেমন খটকা লাগলো কথাটা । শ্রাবণ যেখানে যাবে সেখানেই তানিয়া যাবে মানে কি ?কথাটা মোটেও ভালো লাগলো না তাদের কাছে।আড় চোখে তাকালো মেঘলা।
মেঘলা ওদের দিকে তাকাতেই শ্রাবণের দৃষ্টি সাথে সাথে গিয়ে পড়লো মেঘলার উপর ।মেঘলা সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিল।
লামিয়া কফি নিয়ে আসতেই কফি পান করতে করতে বললো শ্রাবণ,” সকাল ভোরবেলা রওনা দিব। ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাব ।তাহলে দুপুরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হয়ে যাবে। তাই সবাই কাল সকাল ছয়টার মধ্যে প্রস্তুত থাকবে ।যত তাড়াতাড়ি রওনা হব তত তাড়াতাড়ি গিয়ে পৌঁছতে পারবো।”
লামিয়ার সাথে সাথে মেঘলা দিকে তাকিয়ে বলল মেঘলা তাহলে চল তাড়াতাড়ি আমরা কাপড়-চোপড় গুছিয়ে ফেলি সকালবেলা তো সময় পাবো না রাতে সবকিছু গোছগাছ করতে হবে রাফি ওর সাথে সাথে উঠলো বলল ঠিক আছে চলো আবার বলো আমি গুছিয়ে ফেলি।
ইয়াবা উঠে গেল সাবিহা সুলতানের দিকে তাকিয়ে বলল মা আমি কাপড়চোপড় বের করে রাখবো তুমি একটু ব্যাগটা গুছিয়ে দিও।
সাবিহা সুলতানা বললেন ,”ঠিক আছে যাও ।কি কি লাগবে তুমি বের করে আমার রুমে দিয়ে এসো ।আমি গুছিয়ে রাখবো ।”
বলে সবিহা বেগম চলে গেলেন ।সাজ্জাদ খান চলে গেলেন উপরে ।শ্রাবণ ধীরে ধীরে উঠল ।উঠে তানিয়া কে বললো,” গোছগাছ করে রেখো সকাল ছয়টায় বের হতে হবে।”
তানিয়া নিজের রুমে চলে গেলো। শ্রাবণ উপরে যাবে ঠিক তার আগেই আসমা বেগম শ্রাবণের নাম ধরে ডাকলেন ।শ্রাবণের পা থেমে গেল ।শ্রাবণ হয়তো বুঝতে পারছে মা কি নিয়ে কথা বলতে চাইছে।
শ্রাবণ ঘুরে তাকালো মায়ের দিকে ।আসমা বেগম কিছু বলবে ঠিক তার আগে শহিদুল খান বললেন ,”এখন কথা বলোনা ।আগে গ্রাম থেকে আসুক তারপরে কথা হবে ।”
আসমা বেগম ছেলের দিকে তাকালেন আর কথা বাড়াতে পারলেন না ।শ্রাবণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
পরের দিন সকাল পাঁচ টায়
সবাই রেডি হয়ে ব্যাকপ্যাক দিয়ে বের হচ্ছে এমন সময় শ্রাবণ হঠাৎ তাকালো ঘড়িতে।দেখলো পরায় ৫ টা বেজে যাচ্ছে। হঠাৎ শব্দ পেয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখল শাড়ি পড়ে মেঘলা ও লামিয়া হেঁটে আসছে ।ওরা কেন শাড়ি পড়েছে সেগুলো পরের ব্যাপার কিন্তু শ্রাবণ অদ্ভুত নয়নে তাকিয়ে রইল মেঘলার দিকে ।এতদিন মেঘলা কে দেখে ছোট্ট একটা বাচ্চা মেয়ে মনে হয়েছে কিন্তু আজ অদ্ভুতভাবে একটু কেমন যেন বড় বড় লাগছে।
আসমা বেগম শ্রাবণের দিকে তাকালেন ।দেখলেন শ্রাবণ তাকিয়ে আছে মুগ্ধ নয়নে মেঘলার দিকে ।আসমা বেগম বললেন ,”ওদের গ্রামে বাড়ি যাওয়ার সময় নাকি অনেক সরষে ফুলের ক্ষেত পড়ে তাই দুইজন মিলে রেডি হয়েছে শাড়ি পরে সেখানে ছবি ছবি তুলবে।”
শ্রাবণ কিছুই বললো না ।আড় চোখে তাকিয়ে থেকে গাড়িতে উঠে বসলো ।স্টেশন পর্যন্ত গাড়িতে যাবে তারপর সেখান থেকে যাবে ট্রেনে ।বাসে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সবাই মিলে প্লান করেছে ট্রেনেই যাবে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে সবাই ট্রেনের জন্য ৬ টার দিকে ট্রেন ছাড়বে। ধুমকেতু এক্সপ্রেস ।রাজশাহী যেয়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা।
ট্রেন চলে আসতে সিয়াম রাফি এবং শ্রাবণ সব ব্যাগগুলো সুন্দর করে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে সবাইকে উঠাচ্ছে এমন সময় লামিয়া উঠে গেলেও কুচিতে একটু হোঁচট খেলো মেঘলা শ্রাবণের রাগ হলো এত পুচকে মেয়ে কি দরকার ছিল শাড়ি পড়ে যাওয়ার মেঘলা কেউ উঠাতে গিয়ে চুপচাপ ধীর কন্ঠে বলল শাড়ি পড়েছিস কেন।
মেঘলা বললো,” কেন ?”
শ্রাবণ বললো,”আমি বড় ভাই হিসেবে না করেছি তাই পড়বি না ।”
মেঘলা বললো ,”সিয়াম ভাই ও তো বড় ভাই কই উনি তো না করলেন না ?বাড়ির অন্য কেউ না করল না তাহলে আপনি না করছেন কেন ?”শ্রাবণ বললো,” বড় ভাইয়ের ও বড় ভাই থাকে ।তাই আমি না করেছি মানে এরপর আর শাড়ি পরবি না আমার অনুমতি ছাড়া।”
বলেই মেঘলাকে ট্রেনে উঠালো ।তানিয়া আগেই উঠেছিল স্টেশনের এরকম নোংরা পরিবেশ তানিয়ার পছন্দ হচ্ছিল না ।তানিয়া পড়েছে একটি টি-শার্ট জিন্সের প্যান্ট এবং একটি ব্ল্যাক কালারের ওভার কোর্ট।
শ্রাবণ মেঘলা কে ট্রেনে উঠিয়েই নিজস্ব বগিতে চলে গেল ।পুরো একটি বগি তারা নিজেরাই বুকিং দিয়েছে।
মেঘলা যেয়ে বসলো লামিয়ার পাশে ।শ্রাবণ বসল রাফির পাশে ।একটি সিটে তানিয়া বেশ কিছু জায়গা দখল করে একটু আরাম করে বসেছে ।তানিয়া চেয়েছিল শ্রাবণের সাথে বসতে কিন্তু শ্রাবণ উঠতে লেট করায় সেখানে সাবিহা সুলতানা বসে পড়েছে।
চলবে_
।একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব ১৩
সকালে ঘুম থেকে উঠার কারনে রাফি বগিতে ঘুমিয়ে গেল। রাফি ঘুমিয়ে আছে শ্রাবণের কোলে ।শ্রাবণ রাফির চুলে হাত বুলিয়ে দিয়েছিল যার জন্য আরো আরামে ঘুমিয়ে গিয়েছে ।শীতের মধ্যে গায়ে একটি চাদর টেনে দিল শ্রাবণ।
মেঘলার ঘুম নেই মেঘলা অনেক সকালে ঘুম থেকে উঠে। পানি আলামিয়া ঘুমিয়ে গিয়েছে সাবিহা সুলতানা এবং আসমা বেগম ঘুমঘুম ভাব মেঘলা কোলের মধ্যে একটি বই নিয়ে পড়ছিল।
শ্রাবণ আড় চোখে তাকিয়ে দেখল এটি স্কুলের পড়ার বই না এটি ছোট্ট একটি গল্পের বই ।মেঘলা গল্পের বই পড়ছে খুব মনোযোগ দিয়ে ।তাই এদিক-ওদিক কোথাও নজর নেই মেঘলার।
মেঘলার কোলের বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৌকাডুবি একটি ছোট্ট উপন্যাস।
রোমান্টিক প্রেমের গল্প ।শ্রাবণ মনে মনে ভাবলো এই পুচকে মেয়ে আবার এইসব রোমান্টিক প্রেমের গল্পও পড়ে?
এমন সময় নড়েচড়ে উঠল রাফি ।রাফির হিশু পেয়েছে ।ওয়াশরুমে যাবে ।শ্রাবণ রাফিকে জিজ্ঞেস করলো,” কি হলো ?উঠলি কেন ডাম্বেল ?”
রাফি বললো,” ভাইয়া একটু বাহিরে যাবো।”
শ্রাবণ বললো,” কেন ?”
রাফি কনি আঙ্গুলের ইশারা করে দেখালো ছোটটা।
শ্রাবণ মুচকি হেসে রাফিকে নিয়ে কম্পার্টমেন্ট থেকে বাইরে চলে গেল।
দুজন একসাথে বাহিরে যাওয়া অবশ্য মেঘলার দৃষ্টি এড়ালো না ।মেঘলা একটু ওয়াশরুমে যাবে তাই আমতা আমতা করছিল যাবে কি যাবে না ।কারো কাছে বলতে লজ্জা পাচ্ছিল।
তাই মেঘলা বই রেখে উঠলো ।উঠে কম্পার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো ।দেখল রাফি এবং শ্রাবণ হেঁটে সামনের দিকে যাচ্ছে ।মেঘলা ও পিছনে পিছনে গেল ভাবলো রাফি শ্রাবণ ভাইয়া রা চলে এলে মেঘলা ওয়াশরুম চিনে ওইখান থেকে যাবে।
শ্রাবণ রাফিকে ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দাড়ালো ।হঠাৎ কি মনে করে পিছনে ঘুরেই দেখল মেঘলা হেঁটে আসছে।
শাড়ি পড়ে টুকটুক করে হেঁটে আসছে ।ট্রেনে হেঁটে আসছে।শাড়ি পরার অভ্যাস নেই তাই ধীরে ধীরে হেঁটে আসছে মেঘলা।হঠাৎ শ্রাবণের চোখ গেল মেঘলার আঁচলের দিকে ।আচলটি দেখে যেন শ্রাবণের চোখ দুটো গরম হয়ে গেল ।সাথে সাথে সামনে হেঁটে এসে মেঘলার হাত ধরে টেনে নিয়ে দরজার কাছে একটু আড়ালে নিয়ে দাঁড় করালো।
দরজার কাছাকাছি আসতেই মেঘলার হাত ছেড়ে দিলো ।মেঘলা বললো,”কি হলো এরকম করে টেনে আনলেন কেন?”
শ্রাবণ বলল ধীরে ধীরে ,”যা পড়তে পারিস না তা পড়তে যাস কেন ?এখনো শাড়ি পরার বয়স হয়েছে তোর ?শাড়ি কেন পড়েছিস?”
মেঘলা হাট কচলাতে কচলাতে বললো,” শাড়ির সাথে বয়সের কি সম্পর্ক?”
শ্রাবণ বললো ,”সম্পর্ক আছে ।প্রত্যেকটি বয়সের একটি আলাদা সৌন্দর্য আছে ।এই বয়সে তুই শাড়ি সামলাতে পারিস না ।”
শ্রাবণ বলতে পারছে না মুখ ফুটে ।কি করবে তা বুঝতে পারছে না ।এদিকে বুকের থেকে আঁচল সরে আছে মেয়েটি নিজে থেকে দেখছেও না।
শ্রাবণ বললো,” তোর শাড়ি পরায় ভুল আছে ।”
মেঘলা বললো,” মানুষ ভুল থেকেই শিখে ।ভুল করতে করতে শিখে যাব।”
শ্রাবণ এবার আর চুপ থাকতে পারল না।রাগ করে তাকিয়ে রইলো মেঘলার দিকে।এতো হিন্ট দিচ্ছে তাও বুঝতে পারছে না।
মেঘলা কোন কিছু না বলেই যেই ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য আবার পা বাড়ালো ওমনি শ্রাবণ সাথে সাথে মেঘলার হাত ধরে একটু টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো ।মেঘলা অনেকটাই শ্রাবণের কাছাকাছি চলে আসলো ।শ্রাবণ মেঘলার এক হাত ধরা অবস্থায় আরেক হাত দিয়ে বুকের কাপড়টা একটু ঠিক করে দিয়ে বললো,” যে ভুল থেকে শরীর দেখা যায় সেই ভুল আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না।
নেক্সটাইম থেকে শাড়ি পরবি না ।আর শাড়ি পরে ঠিকঠাক মতো ঢেকে তারপরে পরবি ।কোন কিছু যেন কেউ দেখতে না পারে কেও।”
মেঘলা বুঝতে পারলো শ্রাবণ ভাই কেন এতক্ষণ ধরে এসব কথা বলছিলো।মেঘলা লজ্জা পেয়েছে ।চোখ নামিয়ে ফেললো সাথে সাথেই। লজ্জা লাগছে খুব লজ্জা লাগছে অন্য কেউ দেখেছে কিনা দেখেছে তা জানে না কিন্তু শ্রাবণ ভাই তো দেখেছে তাই লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল মেঘলা।
শ্রাবণ মেঘলার হাত ছেড়ে দিয়ে বললো,” ওয়াশরুমে গেলে যা আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি ।রাফিকে বলিস আমি এখানে আছি।”
মেঘলা আর কথা বললো না ।পা জোড়া যেন কাঁপছে আর দাঁড়াতে পারছে না শ্রাবণ ভাইয়ের সামনে।হাতছাড়া মাত্রই সাথে সাথে চলে গেল ওয়াশরুমের দিকে ।রাফি বের হয়েই মেঘলা কে দেখে লজ্জা পেয়ে গেল ।মেঘলা রাফির মাথায় চুল গুলো এলোমেলো করে দিয়ে বললো,” শ্রাবণ ভাইয়া দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে যাও।”
রাফি বললো,” ঠিক আছে তুমি ওয়াশরুমে যাও ভয় পেয়ো না ।আমরা দুই ভাই এখানে আছি ।”
বলেই রাফি দরজার কাছে শ্রাবণের সামনে হেঁটে চলে আসলো।
শ্রাবণ দাঁড়িয়ে সি*গারেট খাচ্ছিল ।এমন সময় রাফি আসলো ।রাফিকে দেখে বললো,” যা কম্পার্টমেন্টে যা আমি মেঘলাকে নিয়ে আসছি ।”
রাফি বললো,” না আমাকে না দেখলে মেঘলা ভয় পেতে পারে তাই আমিও আছি সমস্যা নেই। দুজনে একসাথে নিয়ে যাব।”
রাফির কথা শুনে শ্রাবণ ঘাড় কাত করে তাকালো রাফির দিকে ।মনে মনে ভাবলো ,”এই লিলিপুট কে না দেখলে মেঘলা ভয় পাবে? প্রেমে পড়লে আসলে পুরুষ মানুষ গাধা হয়ে যায় ।তা ছোট্ট রাফিকে না দেখলে বুঝতেই পারত না শ্রাবণ ।”
শ্রাবণ আবার ঘাড় সোজা করে সামনের দিকে তাকিয়ে সি*গারেট খেতে লাগলো।
এমন সময় মেঘলা ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলে শ্রাবণ সি*গারেটটি ফেলে দিয়ে রাফি এবং মেঘলাকে নিয়ে আবার কম্পার্টমেন্টে প্রবেশ করল।
রাফি শ্রাবণ মেঘলা তিনজন কম্পার্টমেন্টে প্রবেশ করতেই দেখল মোটামুটি সবার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে ।সবাই ফ্লাক্স থেকে চা বের করে কিছু হালকা পাতলা নাস্তা করার জন্য রেডি হচ্ছিল ।এমন সময় মেঘলা নৌকাডুবি বইটি গুছিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখল ।চা খেতে হবে।
ঠান্ডা মধ্যে গরম গরম চা বেশ ভালো লাগবে।হাত দুটো ঠান্ডা হয়ে গেছে মেঘলার।
রাফি আসমা বেগম এর কাছে গিয়ে বললো,” আম্মু আমাকে সাথে বিস্কুট রুটি জেলি মাখিয়ে দিও ।আমি ওগুলো খাব খাব না।”
শ্রাবণ দুষ্টুমি করে বললো,” হ্যাঁ আম্মু ওকে হরলিক্স দাও যেন তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যায়। রাফির আবার সামনে মিশন আছে ।তাড়াতাড়ি বড় হতে হবে ওর।”
রাফি সাথে সাথে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো শ্রাবণ্যের দিকে ।তাকিয়ে চোখ দিয়ে ইশারা করলো যেন কোন কিছু না বলে।
শ্রাবণ বুঝেও না বোঝার ভান ধরে বললো,” কি ?চোখ দিয়ে কি ইশারা করছিস ?”
“আম্মু দেখোতো চোখ দিয়ে যেন কি কি ইশারা করছে আমাকে?”বললো শ্রাবণ।
আসমা বেগম বললো ,”কিরে কি ইশারা করছিস শ্রাবণকে?”
রাফি বললো,” না ভাইয়া দুষ্টুমি করছে ।কিছু না ।”
এমন সময় তানিয়া বলে উঠলো ,”আন্টি আমার জন্য চা করতে হবে না আমি কফির প্যাকেট দিচ্ছি ।আমাকে একটু গরম পানি দিন তাহলেই হবে।”
সাবিহা সুলতানা আরেকটি ব্যাগ থেকে শুধু গরম পানির ফ্লাক্স টি বের করে একটি কাপ নিয়ে গরম পানি দিল তানিয়াকে ।যেন কফি প্রস্তুত করে নেয় ।তারপর লামিয়া এবং সিয়াম কে বললো,” তোরা কে কি খাবি ?”
লামিয়া বললো,” আমাকে চা দাও আর বিস্কিট দাও তাহলেই হবে।”
সিয়াম বললো,” যা ইচ্ছা হয় দাও তো আম্মু প্রচুর ক্ষুধা পেয়েছে ।বাসা থেকে তো খেয়ে বের হইনি ।”
শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বললো আসমা বেগম ,”তুই কি খাবি শ্রাবণ ?”
শ্রাবণ বললো,”দাও চা দাও আর বিস্কিট দাও তোমরা যা খাবে তাই খাব।”
সবাই একসাথে চা-নাস্তা খেতে খেতে গল্প করতে করতে বাকি রাস্তাগুলো পার করলো ।কেউ আর ঘুমালো না ।হঠাৎ শ্রাবণ আড় চোখে তাকাল মেঘলার দিকে ।মনে পড়ে গেল গতবার যখন গিয়েছিল গ্রামে বাড়িতে ছোট্ট একটা মেয়ে ছিল মেঘলা ।হাসলে গালে টোল পড়তো ।শ্রাবণ কতবার মেঘলার গাল চিপে দিয়েছিল।
হঠাৎ মনে পড়ল সেই প্রথম দিন সকালের কথাগুলো ।যেদিন মেঘলা বলেছিল বিয়ে করতে কি কি লাগে ।এটি বলতে বলতে যখন শ্রাবণের পিঠের উপরে মেঘলা বসে পড়েছিল মনে পড়তেই হঠাৎ শ্রাবণ একটু মুচকি হেসে অন্যদিকে তাকালো ।মনে পড়ে গেল এই মেয়ের কি এখনও মনে আছে বিয়ে করার জন্য কত বায়না ধরে পিছনে পিছনে ঘুরে ছিল ?শ্রাবণে পিঠে বসে পড়েছিল?”
পরমুহুর্তে শ্রাবণের হাসিটি মিলিয়ে গেল উকিলের কথা মনে পড়ল তাই।ডিভোর্সের জন্য কি কি লাগবে সবকিছু রেডি করতে বলেছে শ্রাবণ কে। শ্রাবণ আবার আড় চোখে তাকালো মেঘলা দিকে ।দেখল মেঘলার দৃষ্টি শ্রাবণের দিকে নেই ।মেঘলা বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।কেমন যেন অদ্ভুত একটি শূন্যতা কাজ করলে শ্রাবণের মাঝে ।মেঘলার দৃষ্টি কখনো শ্রাবণের দিকে থাকে না ।অথচ ছোটবেলা বিয়ের জন্য কত পাগ*লামি করেছে পিছনে পিছনে ঘুরেছে কত অনুরোধ করেছিল !
মনে মনে ভাবল শ্রাবণ ,”মেয়েটা কি জানে বিয়েটা তো হয়েছিল কত শখের বিয়ে ছিল ওর ?আচ্ছা মেঘলা যদি জানতে পারে শ্রাবণ ওর স্বামী তখন কি এরকম আত্মসম্মান দেখিয়ে ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিতে চাবে নাকি ছোটবেলার মতো অনুরোধ করবে যে আমার সাথে প্লিজ সংসার করো?”
চায়ে চুমুক দিল শ্রাবণ ।আর কিছু ভাবতে পারছে না ।তবে বারবার আড় চোখে তাকানোটা নজর এড়ালো না তানিয়ার ।তানিয়ার এসব পছন্দ হচ্ছে না ।মনে মনে ভাবছে যত দ্রুত সম্ভব বিয়ের কথাবার্তা পাকা করে ফেলতে হবে।
অনেক বলে কয়ে বিয়ের জন্য রাজি করিয়েছে ।২-৩ বছর ধরেই তো প্রেম করার জন্য পিছনে ঘুরছিল কিন্তু শ্রাবণ কখনোই রাজি হয়নি ।কেন যেন শ্রাবণের মধ্যে অদৃশ্য একটা বাধা কাজ করত মনে হচ্ছিল এটা ভুল ।যদিও শ্রাবণ কখনো কারণ বলেনি কিন্তু বুঝতে পারে শ্রাবণ কিছু একটার জন্য আটকে ছিল। কিন্তু কি কারণ কি হতে পারে বা কারো সাথে সম্পর্ক আছে কিনা কোন কিছুই আজ পর্যন্ত খুঁজে পায়নি তানিয়া।
বেলা বারোটা ।রাজশাহী পৌঁছে গিয়েছে।ট্রেন থেকে নেমে সবাই দাঁড়ালো স্টেশনে। এবং শ্রাবণ গেল ষ্টেশনের বাইরে অটো বা রিক্সা ঠিক করতে যেহেতু এখানে ঢাকা শহরের মতো ক্যাপ চলবে না তাই দুজনে মিলে দুটো অটো ঠিক করে নিয়ে এসেই স্টেশনে এসে সবাইকে বলল তাড়াতাড়ি চলো ব্যাগগুলো আমাদের কাছে দাও। এবং শ্রাবণ সবার ব্যাগগুলো নিল আর ছোটখাটো ব্যাগগুলো সবাই যার যার গুলো নিয়ে স্টেশনের বাইরে এসেই অটোতে উঠতে লাগলো।
আসমা বেগম সাবিহা সুলতানা রাফি এবং সিয়াম কে উঠালো একটি অটোতে শ্রাবণ মেঘলা তানিয়া এবং লামিয়া আরো একটি অটোতে যেহেতু ওদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সময় কোথাও নাকি সরষে ক্ষেত আছে সেখানে লামিয়া এবং মেঘলা ছবি তুলবে তাই দুজনকে এক অটোতে উঠানো হলো।
রাজশাহী শহর থেকে মাত্র ১০–১২ কিলোমিটার দূরে, পবা উপজেলার মধ্যে অবস্থিত এই গ্রামটি। ট্রেনে চাইলে হরিয়ান রেলস্টেশনেই নামা যায়, যা রাজশাহী স্টেশন থেকে খুব বেশি দূর নয়।
গ্রামটির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো পদ্মা নদীর কাছাকাছি অবস্থান। বিকেলের দিকে নদীর ধারে দাঁড়ালে নরম বাতাস, পাখির ডাক আর লালচে সূর্যাস্ত মনটা ভরিয়ে দেয়। চারপাশে বিস্তৃত সবুজ ধানক্ষেত, সরষে ক্ষেত আমবাগান আর পুকুর সব মিলিয়ে একেবারে শান্ত, গ্রামবাংলার চিরচেনা ছবি।
এখানকার মানুষজন খুবই সহজ সরল ও অতিথিপরায়ণ। কাঁচা রাস্তা, দুধারে শারি শারি গাছের মধ্যে খান দিয়ে চলেছে কাঁচা রাস্তা।সকালে আজানের ধ্বনি আর হরিয়ান গ্রাম যেন শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটুখানি প্রশান্তির ঠিকানা।
প্রথমবার যখন এসেছিল শ্রাবণ খুব বিরক্ত লেগেছিল ।মনের বিরুদ্ধে জোর করে আনায় এই গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেনি শ্রাবণ তবে আজ ভীষণ ভালো লাগছে ।দুপুরে তপ্ত রোদে গাছের জন্য পুরো রাস্তাটি যখন ছায়া হয়ে আছে আর ছায়া এবং রোদের খেলা চলছে পুরো রাস্তা জুড়ে ।দৃশ্যটি খুবই উপভোগ করছে শ্রাবণ ।হয়তো বয়সের সাথে সাথে মানুষের সৌন্দর্য দেখার দৃষ্টির ভঙ্গিও বদলে যায় ।ওই সময় ২০ / ২১ বছরের শ্রাবণে যা ভালো লাগেনি এই সময়ে ২৭ বছরের শ্রাবণের তা যেন ভালো লাগতে শুরু করেছে।দূরে দেখা যাচ্ছে মোটামুটি ছোট একটি সরষে ক্ষেত ।সাথে সাথে লামিয়া বলে উঠলো ,”ওই যে মেঘলা সরষে ক্ষেত চল আমরা এখানে নেমেই ছবি তুলে নেই।জায়গাটা খুব সুন্দর ভালো লাগবে ।”
শ্রাবণ সাথে সাথে অটো দাঁড় করালো।
চলবে_\
বানান রি চেক দেওয়ার সময় পেলাম না একটু ভুল ত্রুটি হলে কষ্ট করে পড়ে নিয়েন বেশি হলে কমেন্টে জানিয়ে দিয়েন পরে এডিট করে ঠিক করে দিব।
একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব_১৪
ছবি তুলছে লামিয়া ও মেঘলা।সরষে ক্ষেতের ঠিক মাঝখানে দাড়িয়ে আছে শাড়ীর আঁচল বিছিয়ে। প্লান হলো দুজনে আঁচল বিছিয়ে হেঁটে যাবে খোলা চুলে।মেঘলা মেঘকালো চুল গুলোর খোঁপা খুলে দিতেই চুলগুলো পিঠ ছাপিয়ে পড়লো।
সিয়াম নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ছবি তুলে দিচ্ছে ।ছবিগুলো দেখে আবার রিভিউ দিচ্ছে রাফি ।কোনটা সুন্দর হচ্ছে কোনটা সুন্দর হচ্ছে না ।এখন ভিডিও করবে মেঘলা সরষে ফুল ছুয়ে হেটে যাবে খোলা চুলে।দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছে শ্রাবণ ।পাশে দাঁড়িয়ে আছে তানিয়া। তানিয়ার দিকে কোন ধ্যান নেই শ্রাবণের ।তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেঘলার দিকে ।মেঘলা পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখছে শ্রাবণ । খোঁপা করা চুলগুলো আবার কেনো ছেড়ে দিয়েছে মেঘলা ?কোমর ছাপিয়ে পরা চুলগুলো মুগ্ধ নয়নে দেখছে শ্রাবণ।সরষে ফুলের ক্ষেত থেকে বাতাসের সাথে ভেসে আসছে মিস্টি সুবাব।বাতাসে দুলে ওঠা ফুলের সাথে উড়ছে মেঘলার চুল উড়ছে শাড়ীর আঁচল।
“কদিন থাকবে এই গ্রামে?”জানতে চাইলো তানিয়া ।তানিয়ার কথায় ঘোর কা*টলো শ্রাবণের ।থতমত খেয়ে গেল ।এভাবে তাকিয়ে ছিল মেঘলা দিকে যে কেউ দেখলে বুঝতে পারবে তাই শ্রাবণ সাথে সাথে চোখ সরিয়ে তাকালো তানিয়া দিকে । বললো,” মাত্রই তো এলাম।দুই তিন দিন থাকবো এসেছি যখন ।আবার কবে আসা হবে তা তো ঠিক নেই।”
তানিয়া বললো,” আচ্ছা তোমার চাচারা এখানে থাকে কেন ?তাদের কি কোন বাড়ি নেই?”
অবাক হয়ে গেল শ্রাবণ তানিয়ার কথা শুনে। তানিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,” এটা কেমন প্রশ্ন ?বাড়ি থাকবে না কেন ?এই যে গ্রামের বাড়ি এটা উনাদের আমাদের আর তাছাড়া আমাদের বাড়ি কি তাদের না ?এখানে তো এখনো কোনো কিছু ভাগ করা হয়নি ।আলাদা হয়নি শুধু চাকরির সুবাদে ছোট আব্বু আলাদা থাকতেন এই যা। বাবার চাকরি পছন্দ ছিল না ছোটবেলা থেকে ব্যবসায়িক মনোভাব ছিল তাই উনি ব্যবসা করেছেন আর ছোট আব্বু চাকরি করেছেন ।যার জন্য একসাথে থাকা হয়নি কিন্তু কোন কিছুই আমাদের আলাদা নয় এখনও। গ্রামের বাড়ি ঘর সহায় সম্পত্তি এই পর্যন্ত যা যা করা হয়েছে সবকিছুই তারা দুই ভাই তাদের অর্থায়নে একসাথে দুই ভাইয়ের নামে করেছে কোন কিছু আলাদা নয়।”
তানিয়া অবাক হয়ে গেল এর মানে কি তাহলে কি বিয়ের পরও মেঘলা রা এ বাড়িতেই থাকবে ?প্রশ্নটি করতে চাইলেও তানিয়া থেমে গেল ।থেমে গিয়ে সামনে তাকালো ।মেঘলা ও লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,”অবশ্য লামিয়া মেঘলা বিয়ে হয়ে গেলে তো শ্বশুর বাড়িতে চলে যাবে ।তোমরা তিন ভাই থাকবে তাহলে ।তারপরও বলা যায় না কেউ চাকরি করবে কেউ বিজনেস করবে কে কোথায় থাকবে।”
মেঘলার বিয়ের কথা শুনে সাথে সাথে চট করে তাকালো শ্রাবণ তানিয়ার দিকে ।কেমন যেন লাগলো মেঘলার বিয়ের কথাটা শুনেই ।সাথে সাথে বললো,” ওদের কি এখনো বিয়ের বয়স হয়েছে নাকি ?লামিয়া আর মেঘলা বাচ্চা এখনো মেয়ে ওদের বিয়ে হতে এখনো অনেক দেরি আছে। আর তাছাড়া তুমি এত কিছু হিসাব করছ কেন ?এগুলো আমাদের মুরুব্বীরা আছে তারা ঠিক করবে কে কখন কিভাবে কোথায় থাকবে এগুলো নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই ।”
বলে আবার সাথে সাথে সামনে তাকালো শ্রাবণ। তাকিয়ে দেখল মেঘলা এক হাতে আঁচল ধরে সরিষা ফুলের উপর বিছিয়ে চুল ছেড়ে হেঁটে যাচ্ছে ।সাদা সুতি শাড়ি সরষে ফুলের মাঝখানে যেন মনে হচ্ছে আকাশ থেকে মাত্রই পরীটা নেমে আসলো। মেঘলা বড় হবে মেঘলার একদিন বিয়ে হবে মেঘলা এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে কথাটা মাথার ভিতর ঘুরপাক খেতে থাকলে শ্রাবণের।
আরো দশ মিনিট এভাবে ছবি তুললো ও ভিডিও করলো লামিয়া ও মেঘলা।এরপর সিদ্ধান্ত হলো সবাই মিলে একটি গ্রুপ ছবি তুলবে ।অটো ড্রাইভার গ্রুপ ছবি তুলে দিবে তাই আসমা বেগম এবং সাবিহা সুলতানা কে ও নামতে বললেন ।আসমা বেগম ও সাবিহা সুলতানা অটো থেকে নেমে চোখ পরল শ্রাবণ ও তানিয়ার দিকে । সাবিহা বেগম দেখেই চোখ সরিয়ে নিলেন।দুজনকে একসাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আসমা বেগমের সন্দেহ হচ্ছে কিন্তু সময় ও সুযোগের অভাবে ছেলের সাথে কথা বলতে পারছে না। কিন্তু তানিয়ার সাথে ছেলের এতো কথা বলা পছন্দ নয় উনার।
ধীরে ধীরে অটো থেকে নেমে সরষে ক্ষেতের কাছাকাছি গিয়ে ডাকলেন শ্রাবণকে আসমা বেগম।শ্রাবণ এগিয়ে গেল তানিয়াকে সাথে ডাকল না কিন্তু তানিয়া ও সাথে গেল।
সাবিহা সুলতানা আসমা বেগম মাঝখানে দাঁড়ালেন তারপরে ডান দিকে দাঁড়ালো লামিয়া রাফি সিয়াম এরপর বাম দিকে মেঘলা ও শ্রাবণ।শ্রাবণের পাশে তানিয়া। অটোচালকের হাতে ক্যামেরাটা দিয়ে বললো,” ছবি তুলে দিতে।”
হঠাৎ বাতাসে মেঘলা খোলা চুল উড়ে এলো শ্রাবণের বুকে ।গেঁথে গেল বোতামের সাথে ।ছবি তুলতে গিয়ে চুলে টান লাগায় মেঘলা তাকালো শ্রাবণের দিকে ।শ্রাবণ বোতামের হাত দিয়ে তাকিয়ে রইল মেঘলা দিকে ।এমন সময় ক্লিক করলো ক্যামেরা।চুল সবার অগোচরে ছাড়িয়ে দিয়ে আবার কালো সামনে।আরও কয়েকটি ছবি তোলা হলো।
ক্যামেরা শ্রাবণের হাতে দিলো অটো চালক। শ্রাবণ ছবি গুলো দেখছে।কিন্তু ছবিতে বুঝা যাচ্ছে যেন শ্রাবণ মেঘলা চুল ধরে রেখেছে।শ্রাবণ প্রথমে ছবিটি দেখল দেখেই চোখ আটকে গেল এই দৃশ্যটির দিকে ।যেখানে মেঘলা চুলে টান পরার কারণে শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে আছে শ্রাবণের বুকে সেখানে শ্রাবণ বোতামে হাত রেখেছে চোখ পড়ে আছে মেঘলার দিকে ।চুল গুলো দেখে মনে হচ্ছে যেন শ্রাবণের হাতে আটকা পড়ে আছে।সবাই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকলেও শুধু মেঘলা ও শ্রাবণের দৃষ্টি একজনের আরেকজনের দিকে।
পরের ছবিগুলো ঠিক এসেছে তাই শ্রাবণ বুদ্ধি করে ছবিটা মোবাইলে নিয়ে নিল ।সাথে নিয়ে নিলো আরো কিছু ছবি ও ভিডিও।চুল ধরা ছবিটি ক্যামেরার মধ্যে রাখল না যাতে অন্য কারো নজর না পরে ।কারণ মেঘলা না জানলেও অন্যান্য মুরুব্বিরা জানে ওদের বিয়ের সম্পর্কে তাই চায় না এই ছবিটি কারো চোখের সামনে আসুক।
ক্যামেরাটি হাতে নিয়ে সবাই ছবিগুলো দেখতে লাগলো শ্রাবণ তাকিয়ে রইলো মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে জুম করে শুধু ওদের নিজের অংশটুকুই দেখল আশেপাশে আর কিছুই চোখে পড়ছে না শুধু চোখে পড়ছে শ্রাবণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেঘলার দিকে। মেঘলা দৃষ্টি শ্রাবণের বুক বরাবর।
হঠাৎ করেই বুকের ভিতর যেন শীতল হাওয়া বয়ে গেল শ্রাবণের মুখে একটু মুচকি হাসি ছবিটি কেন যেন ভালো লাগলো শ্রাবণের তাই একটি হিডেন ফোল্ডার করে রেখে দিল মোবাইলে ডিলিট করলো না।
তারপর বললো,” তাড়াতাড়ি সবাই অটোতে উঠো ।চলে যেতে হবে প্রায় ২০/২৫ মিনিট ধরে এখানে আমরা ছবি তুলছি। এখন তো খুদাও পেয়ে যাচ্ছে ।তাড়াতাড়ি চলো বাসায় যেতে হবে ।”
বলেই সবাই আগের মতই অটোতে উঠে পড়ল ।প্রায় ২০-২৫ মিনিট কাঁচা রাস্তা ধরে এভাবে অটো চলতে চলতে চলে আসলো তাদের কাঙ্খিত গন্তব্যে মেঘলাদের বাড়ি।
গ্রামের এই বাড়িটিতে সবারই মোটামুটি আসা হয়েছে শুধু রাফির তেমন কিছুই মনে নেই । ছোট্ট ছিলো খুব।লামিয়ার মনে আছে ।সিয়াম ওরাতো এই বাড়িতে থাকতো ।তানিয়ার বাড়িটি মোটেও পছন্দ হলো না ।নরমাল একতলা বিশিষ্ট বাড়িটি দেখেই মনে হচ্ছে আধুনিক কোন সুযোগ-সুবিধা এই বাড়িতে নেই ।এই শীতের মধ্যে গিজার আছে কিনা সেটা নিয়েও টেনশনে পড়ে গেল তানিয়া।
শ্রাবণ অটো থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে দরজায় এসে দাঁড়াতে জিজ্ঞেস করল ,”ভিতরে কে আছে ?”
সাবিহা সুলতানা বললেন ,”কেয়ারটেকার আছে একজন ।দরজা নক করলেই খুলে দিবে ।”
শ্রাবণ সাথে সাথে দরজা নক করলো। দরজা নক করার সাথে সাথেই কেয়ারটেকার দরজা খুলে দিল ।শ্রাবণের অবচেতন মনে সেই প্রথম দিনের প্রথম স্মৃতি আবার চোখে ভেসে আসলো ।দরজা খুলে যখন মেঘলা কে দেখেছিল টোলপড়া গালে হেসেছিল মেঘলা দরজা খুলেই। শ্রাবণ তাকালো মেঘলা দিকে ।আজও মেঘলা হাসছে ।নিজের বাড়িতে এসেছে তাই কেয়ারটেকার জমির কাকাকে দেখে খুশিতে হাসছে ।আগের মত টোল পড়ছে গালে। সুন্দর ঝকঝকে তকতকে দাঁতগুলো খুলে মেঘলা যখন হাসে তখন আসলে না চাইতেও চোখ চলে যায় বারবার সেখানে ।তার উপরে আবার গালে যখন টোল পড়ে এমন কেউ নেই যে এই হাসির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে না।
জমির কাকা দরজা খুলতেই সাথে সাথে ব্যাগগুলো হাতে নিয়ে নিল ।দুটো বড় বড় লাগেজ নিলো জমির কাকা সিয়াম নিলো দুটো ব্যাগ শ্রাবণ ছোট একটি ব্যাগ নিয়ে সবাইকে নিয়ে ভিতরে ঢুকলো ।ভিতরে ঢুকতেই মেঘলা দৌড়ে দৌড়ে চলে গেল নিজের জন্য নির্ধারিত রুমে।
এই বাসায় সবার জন্য নির্ধারিত রুম রয়েছে ।সবাই সে রুমে চলে গেল ।লামিয়া ও রাফি গেল এক রুমে ।তানিয়াকে গেস্ট রুমটি দেওয়া হলো যেটি সাবিহা সুলতানাদের পাশের রুম ।সুন্দর পরিপাটি করে গুছিয়ে রেখেছে আগে থেকেই জমির কাকা ।শ্রাবণ চলে গেল নিজের সেই রুমটিতে একতলা ছাদের উপরে একটি রুম করা আছে ।চিলে কোঠার রুম সেই রুমটিতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করত শ্রাবণ। সেই রুমটিও সেই আগের মতই আছে ।তেমন খুব একটা পরিবর্তন নেই ।সিঁড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে শ্রাবণ উঠছে আর মনে পড়ছে সেই আগের কথা ।প্রথমবার যখন এসেছিল কত বিরক্তি নিয়েই না এসেছিল তবে এবার ভালো লাগছে ।পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে আসতে পেরে।রুমের দরজার কাছে এসে রুমের দরজা একটি হাত রাখল শ্রাবণ ।কাঠের দরজা ।দরজাটা যেন একটু পুরনো পুরনো লাগছে।
নতুন রং করা হলেও বুঝা যাচ্ছে পুরনো দিনের ডিজাইন করা ।কাঠের দরজা ধাক্কা দিয়ে দরজাটা খুলতেই চোখে পড়ল সেই বিছানা যেখানে এসে এলিয়ে দিয়েছিলো ক্লান্ত শরীর।আগে দাদি সব কিছু পরিপাটি করে রাখত কিন্তু ছয় বছর আগে দাদীর মৃ*ত্যুর পর আর তেমন একটা আসা হয়নি এখানে ।শ্রাবন তো আসেনি। পরিবারের অন্যান্য সবাই দুইবার হয়তো এসেছিল ।শ্রাবণ হেঁটে হেঁটে গেল নিজের বিছানার কাছে ।বিছানাটা খুব সুন্দর পরিপাটি করে রাখা হয়েছে ।বুঝাই যাচ্ছে না এ বাড়িতে মানুষ থাকে না ।খুব সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখা হয়েছে।
ধীরে ধীরে শ্রাবণ পা ঝুলিয়ে রেখে বিছানায় শুয়ে পড়লো ।কি মনে করে যেন হাতে মোবাইলটা নিল ।মোবাইলটা নিয়েই স্ক্রিনে তাকালো ।হিডেন ফোল্ডার ওপেন করে দেখতে লাগলো শ্রাবণ ও মেঘলার একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে থাকা ভুলক্রমে উঠে যাওয়া ছবিটি।
জমির কাকা আগে থেকেই লোক দিয়ে সব রান্নাবান্না করিয়ে রেখেছেন ।তাই সামিহা সুলতানা দিকে তাকিয়ে বললেন ?”ভাবি সব কিছু গোছানো আছে আপনারা হাত-মুখ ধুয়ে তাড়াতাড়ি আসেন আমি বড় বড় দুইটা পাটি বিছিয়ে খাবারের আয়োজন করতেছি।”
সাবিহা সুলতানা জমির কাকা কে বললেন ,”ঠিক আছে ভাই আপনি খাবারের ব্যবস্থা করেন ।আমরা সবাই একটু ফ্রেশ হয়ে তারপর আসছি ।”
বলেই সাবিহা সুলতানা আসমা বেগমকে বললেন ,”ভাবি গোসল করে নেন গোসল টোসল করে একবারে দুপুরে খাবার খাব।”
দুপুর ২ টা। সবাই গোসল করার জন্য ওয়াশরুমে গেল ।ঠান্ডা পানি দিয়ে মোটামুটি সবাই গোসল করতে পারলেও তানিয়ার হয়ে গেল ঝামেলা ।এই ঠাণ্ডা পানি দিয়ে এসে গোসল করতে পারবে না তাই রুম থেকে বের হয়েই এদিক ওদিক তাকাতে লাগল ।কাকে বলবে গরম পানি করে দেওয়ার জন্য।
জমির কাকা রান্নাঘরে খাবারদাবার আয়োজন করছিল ।বারান্দায় সবার জন্য পাটি বিছিয়ে দিবে পাটি নিয়ে বারান্দায় আসতেই দেখতে পেল তানিয়া এদিক ওদিক তাকাচ্ছে ।তাই জমির কাকার সামনে এসে বললো,” কিছু লাগবে মা ?”
তানিয়া বলল ,” জি আমার একটু গরম পানি লাগতো ।গোসল করব পানি খুব ঠান্ডা ।আমি গোসল করতে পারছি না ।”
জমির কাকা বললেন ,”ঠিক আছে একটু অপেক্ষা করো আমি চুলায় গরম পানি দিয়ে আসছি ।”
বলেই রান্নাঘরে আবার চুলায় গরম পানি দিতে গেলেন জমির কাকা।
এদিকে মেঘলা গোসল শেষ করে বের হতেই ঢুকলো লামিয়া। ছেলেরা বাইরে কল পাড়ে করবে।নিচে দুটি ওয়াশরুম একটিতে ঢুকেছে আসমা বেগম ও একটিতে সাবিহা সুলতানা।মেঘলার গোসল শেষ ।রাফি ও সিয়াম বাইরে কল পাড়ে গোসল করছে।
উপরে যদিও ঢাকা গোসলখানা নেই কিন্তু একটি পানির কল আছে যেটিতে চাইলে গোসল করা যায়।
তাই শ্রাবণ ভাবলো নিচে গিয়ে কষ্ট করে অপেক্ষা করার চেয়ে উপরে এই কলপাড়ে গোসল করে ফেলা ভালো ।তাই শ্রাবণ কাপড় নিয়ে একটি দড়িতে ঝুলিয়ে রেখে হাফপ্যান্ট পরে খালি গায়ে কলপাড়ে গোসল করতে লাগলো।
এমন সময় চুল শুকানোর জন্য চুলের টাওয়েল পেচিয়ে ছাদে উঠলো মেঘলা ।এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল কেউ নেই ।শ্রাবণের রুমে দরজা লাগানো তাই চুলগুলো খুলে ছাদের মধ্যে চুল ঝাড়তে লাগলো মেঘলা।
চুল ঝাড়ার শব্দ পেয়ে সাথে সাথে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো শ্রাবণ ।এমন সময় কি মনে করে যেনো মেঘলা ও ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো ।দেখল শ্রাবণ হাফপ্যান্ট পড়ে শরীর ভিজিয়ে গোসল করে মাত্র দাঁড়িয়েছে।
মেঘলা হা হয়ে তাকিয়ে রইল শ্রাবণের পায়ের দিকে।
শ্রাবণ খেয়াল করল মেঘলা শ্রাবণের পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে তাই ঝুলে থাকা টাওয়েল টি নিয়ে সাথে সাথে কোমরে পেঁচিয়ে বললো,” এখানে কি চাস ?এখানে কেন এসেছিস ?”
মেঘলা কোন কিছু না ভেবেই হুট করে বলে উঠল ,”আপনি তো অনেক সুন্দর শ্রাবণ ভাই।”
শ্রাবণ অবাক হয়ে বললো,” তোর চোখ কোনদিকে ?কি সুন্দর বলছিস তুই?”
মেঘলা বললো,” আপনার চেহারা অনেক সুন্দর।”
কিন্তু দৃষ্টি পায়ের দিকে ।
শ্রাবণ বললো ,”চাপকে দাঁতগুলো সব ফেলে দিব বে*য়াদব ।যা নিচে যা ।পায়ের মধ্যে কবে থেকে আবার আমার মুখ হল?”
মেঘলা লজ্জায় থতমতো খেয়ে গেল। সাথে সাথে আর কোন কথা না বলে দৌড়ে নিচে চলে যাবে সিঁড়ির কাছে যেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে আবার বললো,” আপনার সবকিছুই সুন্দর পা আর মুখ দুইটাই।”
শ্রাবণ কিছু বলবে কিন্তু মেঘলা টোল পড়া হাসি দেখে যেন কথা সেখানেই থেমে গেল ।চুপচাপ তাকিয়ে রইল মেঘলা দৌড়ে নিচে চলে গেল।
চলবে__
Share On:
TAGS: এক শ্রাবণ মেঘের দিনে, নীলা রহমান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৯৫
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৭৭
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি গল্পের লিংক
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৫৩+১৫৪+১৫৫
-
এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ১৫+১৬
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৪৩+১৪৪
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৭২
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪৪
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪১
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৫২