নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুমিচোধুরী
পর্ব ২৭ ( স্পেশাল পর্ব)
❌কপি করা নিষিদ্ধ ❌
গাড়ির ভিতরে সামনের সিটে বসে আছে আরশি আর শিহাব। পেছনের সিটে ভিড় করে বসেছে আরফা, তিথি এবং আয়ান। আজ শিহাব এবং আরশি খান বাড়িতে যাচ্ছে। শিহাবের যদিও একদম ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু বাবার কঠোর কথায় বাধ্য হয়ে সে এসেছে।
আয়ান, তিথি আর আরফা এই তিনজনে পেছনে বসে ছোটখাটো গল্প আর খুনসুটি করছে। কিন্তু সামনের সিটে শিহাব আর আরশি চুপচাপ বসে আছে, দুজনেই যেন এক অস্বস্তিকর নীরবতা পালন করছে।
সন্ধ্যার অন্ধকার কখন যেন চারদিকে ভালোভাবে গ্রাস করেছে। গাড়ি ছুটছে পিচঢালা পথ ধরে। তিথি হঠাৎ গাড়ির কাঁচ দিয়ে দেখতে পেলো রাস্তার পাশে আলো ঝলমলে ফুচকার দোকান। তিথি আর দেরি না করে চিৎকার করে শিহাবের উদ্দেশ্যে বলল।
“শিহাব ভাইয়া! তাড়াতাড়ি গাড়ি থামান প্লিজ! গাড়ি থামান প্লিজ!”
তিথির এমন আচমকা চিৎকারে শিহাব ভয় পেয়ে দ্রুত গাড়িতে ব্রেক কষল। আয়ান বিরক্ত হয়ে তিথির উদ্দেশ্যে বলল।
“তোকে কি মাঝ রাস্তায় শয়তানে ধরেছে যে গাড়ি থামাতে বললি? কী হয়েছে?”
“বাজে কথা বলবা না আয়ান ভাইয়া! ফুচকা খাবো!”
তিথি চোখ গোল করে বলল।’ফুচকা’ নামটা কানে যেতেই আরশির মধ্যে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে সাথে সাথে তিথিকে বলল।
“ফুচকা? কোথায়? কোথায়?”
তিথি আরশির উদ্দেশ্যে বলল।
“রাস্তায় দেখো!”
তিথির কথা শুনে সবাই রাস্তায় তাকিয়ে দেখল সত্যিই ফুচকার স্টল। আরশি আর আরফার তো জিভে জল চলে এসেছে। আরশি যেন বাতাসের বেগে গাড়ি থেকে নেমে দিলো দৌড়। আরফাও তাকে অনুসরণ করল।তিথি আরশি আর আরফার কাণ্ড দেখে নিজের কপালে নিজেই আস্তে করে চাপড় মেরে বলল।
“হায় মোর খোদা! দেখল কে আর গেল আগে কে!”
আয়ান বিরক্তিতে তিথিকে খেঁকিয়ে বলল।
“তো ফুচকা দেখিয়ে এখন কি গাড়িতে বসে বসে নৃত্য করছিস?”
“আয়ান ভাইয়া, তুমি বেশি কথা বলো! এই শিহাব ভাইয়া, এই মহিলা বেটার মুখে টেপ লাগিয়ে দেন তো! বেশি মাত্রায় কথা বলে।”
শেষের কথাটুক শিহাবের উদ্দেশ্যে বলে তিথিও গাড়ি থেকে বাতাসের মতো নেমে দিলো দৌড়। নাহলে আয়ানের হাতে তার আর রক্ষা নেই। আয়ান আর শিহাব একে অপরের দিকে তাকিয়ে বিরক্তিতে মাথা নেড়ে অবশেষে গাড়ি থেকে নামল।
আরশি, আরফা, তিথি তিনজন যেন এক তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যে যার মতো পারছে, ইচ্ছেমতো ফুচকা খাচ্ছে। তাদের সামনে ফুচকার থালা যেন খাবার নয়, একটি রাউন্ড চলছে। তারা বারবার খাচ্ছে আর গাল ফুলিয়ে শাঁ শাঁ করে শ্বাস নিতে নিতে বলছে।
“মামা, আরও বেশি ঝাল দেন!”
তাদের তিনজনের কাণ্ড দেখে শিহাবের ভীষণ রাগ হচ্ছে। মানুষ ঠিকই বলে, হাজারটা ছেলে নিয়ে বের হওয়া যায়, কিন্তু দয়া করে একটা মেয়ে নিয়ে বের হয়ো না কত যে অপেক্ষা করাবে, তার ঠিক নেই। শিহাব আজ হাতে-নাতে সেই কথার প্রমাণ পাচ্ছে।
হঠাৎ শিহাবের চোখ গেল আরশির চোখের দিকে। চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। স্পষ্টতই, ফুচকায় হয়তো মারাত্মক ঝাল লেগেছে। কিন্তু অবাক কাণ্ড! আরশি ফুচকা খাওয়া বাদ দিচ্ছে না। আরশির চোখে পানি দেখে শিহাবের রাগ যেন এক লহমায় কমে গেল। সে অজান্তেই আরশির উদ্দেশ্যে বলল।
“আরশি, হয়েছে চলো। আর খেতে হবে না।”
কিন্তু কে শোনে কার কথা! আরশি তবুও খাচ্ছে। আয়ান তিথি আর আরফাকে ধমক দিচ্ছে, কিন্তু তাদের খাওয়া শেষ হচ্ছে না। শিহাবের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। সে হঠাৎ আরশির হাত ধরে শক্ত করে টানতে টানতে গাড়ির কাছে এনে দাঁড় করিয়ে বলল।
“তোমরা আমাকে কী মনে করো? যে তোমরা খাবে আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পাহারা দেব? এখন শেষবারের মতো বলছি, গাড়িতে ওঠো! নাহলে আমি একাই চলে যাবো।”
কিন্তু শিহাবের কথা আরশির কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। আরশি তখনো ঝালে মুখ সুস করে টানছে আর বলছে।
“ঝাল! উফফ, ঝাল!”
আরশির এই অদ্ভুত অবস্থা দেখে শিহাব রেগে রেগে বলল।
“ঝাল, তবুও তো খাওয়া বাদ দাও না! যাও, আরও ঝাল দিয়ে খে..!”
বাকিটুক শিহাব শেষ করতে পারল না। আচমকা আরশি কিছু না ভেবে, দুই হাতে শিহাবের শার্টের কলার খামচে ধরে শিহাবের ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিল।আরশির এমন অপ্রত্যাশিত কাণ্ড দেখে শিহাবের চোখ মুহূর্তেই বিস্ফারিত হয়ে গেল। রাগে তার দৃষ্টি রক্তিম হতে শুরু করল। শিহাব মুহুর্তে আরশিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু আরশি যেন নিজের শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে তার শার্টের কলার খামচে ধরেছিল। আরশি যেন তার ঠোঁট ব্যবহার করেই ফুচকার তীব্র ঝাল কমানোর চেষ্টা করছে।
এই অপ্রত্যাশিত উষ্ণ স্পর্শের মুহূর্তে শিহাবের প্রতিরোধ ভেঙে গেল। এক অদ্ভুত ঘোরে সে যেন অজান্তেই আরশির সেই আবেদনে সায় দিল। শিহাবের দুই হাত আরশির কোমর দৃঢ়ভাবে চেপে ধরল। ফুচকার ঝাল আরশির শরীরে যে উন্মত্ততা তৈরি করেছিল, শিহাবের স্পর্শে তা গভীর আবেগের জোয়ারে পরিণত হলো।মুহূর্তগুলো যেন থমকে গিয়েছিল। তাদের আশেপাশে থাকা সমস্ত কোলাহল যেন মিলিয়ে গেছে। কয়েক মিনিট কেটে গেল।হঠাৎ দুজনেই যেন কারও বুক ফাটানো তীব্র চিৎকার শুনতে পেল।
“আআআআআআআআহহহ! আমরা কিচ্ছু দেখিনি! সত্যি বলছি!”
সাথে সাথে শিহাব আর আরশি চমকে দূরে সরে দাঁড়াল। শিহাব হাঁসফাঁস করে চারপাশে তাকাল। দেখল আয়ান, তিথি আর আরফা । তিথির চিৎকারেই পরিবেশের সেই নীরবতা ভেঙেছে। আয়ানের নাক মুখ লজ্জায় কুঁচকে গেছে, আর আরফা চোখে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে।
সুইজারল্যান্ড,,,
রাত যত গভীর হচ্ছে, রৌদ্র ততই হতাশা আর পাগলামির গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে তুরা কোথায় গেল, তার কোনো ধারণাই রৌদ্রের নেই। সে পাগলের মতো তুরাকে খুঁজে যাচ্ছে, কিন্তু কোথাও তার চিহ্নমাত্র পাচ্ছে না। ক্ষোভে আর রাগে রৌদ্র ওই মেয়েটির গালে পরপর দুটি চড় মেরে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে এসেছিল কিন্তু সেই রাগও যেন তুরাকে খুঁজে না পাওয়ার যন্ত্রণায় ম্লান হয়ে গেল।রৌদ্রের যেন কলিজা ফেটে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তুরার প্রতি তার তীব্র রাগ হচ্ছে। সব কিছু না জেনেই তুরা এত বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলল!
এদিকে রাতের নির্জীব নিস্তব্ধ রাস্তা ধরে তুরা হেঁটে চলেছে। সে কোথায় যাচ্ছে, তা তার জানা নেই। তার পা যেদিকে চাইছে, সেদিকেই সে হেঁটে যাচ্ছে। শরীরটা তার অত্যন্ত দুর্বল, মনে হচ্ছে এই বুঝি সে রাস্তার মাঝে নুয়ে পড়বে।
কিন্তু মনের শান্তি না থাকায় সে শরীরের দুর্বলতা অনুভব করতে পারছে না। তুরার চোখে তখন কেবল একটি দৃশ্য ভাসছে।রেস্টুরেন্টে রৌদ্রকে একটা মেয়ের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য।
যার জন্য সে এতগুলো দেশ পার করে, নিজের আপন পরিবার ছেড়ে চলে এল,সেই কিনা ডুবে আছে আরেক নারীতে! তুরা বারবার নিজেকে প্রশ্ন করছে যদি মেয়েটি রৌদ্রের কেউ না হতো, তবে রৌদ্রকে সে অমন করে জড়িয়ে ধরল কেন? না চিনলে তো আর এমন করবে না। এই তিক্ত ভাবনাগুলো শুধু তুরার হৃদয়ে গেঁথে যাচ্ছে।
তুরা এক মনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তার মন জুড়ে তখন শুধু হাহাকার আর অবিশ্বাস। হঠাৎ তুরার সামনে আচমকা একজন আধা-বয়সী পুরুষ এসে দাঁড়াল। লোকটির বয়স চল্লিশের কাছাকাছি হবে। লোকটাকে দেখে তুরা ঢোক গিলতে গিলতে কাঁপা ও ভীত কণ্ঠে বলল।
“কে… কে… কে আপনি?”
লোকটি একটি অস্বাভাবিক, দাঁত বার করা হাসি হেসে ভাঙা ভাঙা উচ্চারণে বলল।
“হু হু, তুমি বাংলাদেশ থেকে এসেছো?”
তুরার বুঝতে বাকি রইল না যে লোকটি বিদেশী, কিন্তু সে একটু একটু বাংলা বলতে পারে। তুরা ভয়ে ভয়ে হ্যাঁ সূচক মাথা দুলিয়ে বলল।
“জ্বি, হ্যাঁ।”
লোকটির মুখে হাসি ফুটল, কিন্তু সেই হাসি তুরার কাছে মোটেও স্বাভাবিক লাগল না বরং কেমন যেন লোভী ও অস্বস্তিকর মনে হলো। লোকটি তুরাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে পর্যবেক্ষণ করল, তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে বলল।
“, বিয়ে করবে আমায়?”
এমন অবাঞ্ছিত বয়স্ক মুখে বিয়ের কথা শুনে তুরা হতভম্ব হয়ে গেল। সে ভাবল, এ কী বলছে লোকটা! মাথায় কি তার কোনো সমস্যা আছে নাকি?
“আপনি কী সব বলছেন! পাগল নাকি আঙ্কেল? আমার পথ ছাড়ুন। আমি, আমি বাড়ি যাবো।”
কথাটা বলেই তুরা এক পা বাড়াতে নিবে, তার আগেই লোকটা তুরার জামার ওড়না টান দিয়ে ধরল। সে একটা বিচ্ছিরি মার্কা হাসি দিয়ে বলল।
“হা হা! আসা সহজ, যাওয়া এত সহজ না।”
লোকটার এমন অদ্ভুত ও জঘন্য ব্যবহারে তুরা ভয়ে কাঁপতে শুরু করল। তবুও তুরা ওড়না ছাড়াতে ছাড়াতে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে লোকটাকে বোঝানোর চেষ্টা করল।
“দেখুন আঙ্কেল, আপনি আমার বাবার মতো। আমি আপনাদের লোকেদের সম্মান করি। প্লিজ, দয়া করে আমার পথটা ছেড়ে দিন।”
লোকটি আরও কাছে সরে এসে, তার হাতে ওড়নাটা শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল। তার কণ্ঠে শিকারীর নির্লজ্জতা।
“না, আমার তোমাকে ভালো লাগছে। আমি বিদেশী না, বাংলাদেশী মেয়ে পছন্দ করি। এইভাবে যে মাঝ রাস্তায় বাংলাদেশী মেয়ে পাব, কখনো ভাবিইনি। চলো, এখন আমরা একটা খেলা করি?”
কথাটা বলেই লোকটা তুরার ওড়না ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগল। তুরা প্রাণপণে ওড়না ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকল। তুরা ভেবে পাচ্ছে না এখন কী করবে। এইটা যে বড্ড পাশান দেশ এখানে চিৎকার করলেও হয়তো সে আরও বড় বিপদে পড়বে, কেউ এগিয়ে আসবে না।
লোকটি তুরাকে হিংস্রভাবে টানতে টানতে একটি অন্ধকার ও নিবিড় জঙ্গলের গভীরের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। তুরা নিজেকে মুক্ত করার জন্য তার শেষ শক্তিটুকু দিয়েও চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু দুর্বল শরীর আর আতঙ্কিত মন নিয়ে সে লোকটির বলের কাছে অসহায়।
এই চরম বিপদের মুখে, হঠাৎ তুরার রৌদ্রের কথা মনে হলো। তুরা আকুল কণ্ঠে মনে-প্রাণে রৌদ্রকে আহ্বান করতে লাগলো
“রৌদ্র, আপনি কোথায়? আমাকে বাঁচান! যে সম্মান ও মর্যাদা আমি আপনাকে দিতে চাই তা কেউ কেড়ে নিতে চাইছে! প্লিজ, কোথায় আপনি, আমাকে রক্ষা করুন!”
লোকটা তুরাকে টেনে জঙ্গলে এনে তার সাথে জোর করে ধস্তাধস্তি শুরু করল, তার ইজ্জত কেড়ে নেওয়ার ঘৃণ্য চেষ্টা। তুরা তার সমস্ত শক্তি দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
হঠাৎ লোকটির বুক চেরা এক আর্তনাদ শোনা গেল। তুরা সেই আকস্মিক চিৎকারে চমকে স্থির হয়ে গেল। হঠাৎ তুরার চোখ গেল সামনের দিকে। একটি সুউচ্চ অবয়ব সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। ঘন অন্ধকারে লোকটিকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, তবে তার দীর্ঘ উচ্চতা ও বলিষ্ঠতা আন্দাজ করা যাচ্ছে।
সেই অবয়বটি যেন উন্মত্ত হয়ে বয়স্ক লোকটিকে ইচ্ছেমতো আক্রোশে প্রহার করতে লাগল। মারের তীব্রতায় লোকটি যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে একসময় নিস্তেজ হয়ে গেল। তুরা দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে সোজাসুজি দাঁড়াল। তুরা ভালো করে বুঝতে চাইছে লোকটা কে, কিন্তু অন্ধকারে কোনোভাবেই তার মুখ দেখতে পারছে না।
অবয়বটি দ্রুত কাউকে একটি কল করে কিছু নির্দেশ দিয়ে তুরার দিকে এগিয়ে এলো। তুরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই অবয়বটি তুরার গালে সজোরে থাপ্পড় মারল এবং ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলল,
“কুত্তির বাচ্চা! তোর সাহস কী করে হয় এইভাবে আমাকে কিছু না বলে বেরিয়ে আসতে? খুব রাগ তোর, তাই না? আমার কথা না শুনেই, না বুঝেই চলে এলি! কিন্তু এটা একবারও ভাবলি না, এটা তোর বাংলাদেশ না এটা বিদেশ!”
অবয়বটার কণ্ঠস্বর কানে যেতেই তুরার ভয় মুহূর্তে গলে গিয়ে এক বুক স্বস্তির শীতলতা নেমে এল। তার মুখে এক ঝলক লুকানো হাসি ফুটল, কারণ এই অবয়বটা আর কেউ নয় তারই একমাত্র ভালোবাসা আব্রাহাম রৌদ্র খান। রৌদ্র আক্ষেপে নিজের মাথার চুল শক্ত হাতে টানতে টানতে তুরার দিকে ঝুঁকে এসে বলল।
“তুই হুট করে বিদেশ চলে এলি? কেন এলি, সেই কারণটাও পর্যন্ত আমাকে বলিস না? আর আজকে রেস্টুরেন্টে আমাকে একটা মেয়ের সাথে দেখে রাগ করে কিছু না শুনে, না বুঝে বেরিয়ে এলি! কীসের অধিকার আছে তোর যে আমাকে অন্য মেয়েদের সাথে দেখ..!
বাকিটুক কথা শেষ করার আগেই তুরা ঝড়ের তীব্রতা নিয়ে এগিয়ে এল। সে এক মুহূর্তও দেরি না করে রৌদ্রকে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে জাপটে ধরল।তুরা রৌদ্রের শার্ট চেপে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে আর্তনাদ করে বলল।
“ভালোবাসি আপনাকে! তাই আপনাকে অন্য মেয়ের পাশে দেখে আমার কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছিল!সেই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বেরিয়ে এসেছি। আমার বিদেশ আসার একমাত্র কারণ আপনি! আমি বিদেশ আপনার কাছেই এসেছি চিরকালের জন্য থাকতে! আমি আপনাকে চাই! এই মন শুধু আপনাকে চায়, এই কলিজা শুধু আপনাকে চায়, আমার এই আত্মা শুধু আপনাকে চায়! শুনেছেন এখন আমার বিদেশ আসার কারণ কী? হ্যাঁ, জবাব দিন শুনেছেন কি? নাকি আরো বলতে হবে ভালোবাসিস ঠিক আছে বলছি ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি, হাজার হাজার লক্ষ্য লক্ষ্য কোটি কোটি হিসাব ছাড়া ভালোবাসি আই লাভ ইউ রৌদ্র আই লাভ ইউ সো মাচ।”
রানিং….!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা সূচনা পর্ব