নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুমিচোধুরী
পর্ব ২৬ (❌কপি করা নিষিদ্ধ ❌)
রুমের আবহাওয়া, বাতাস, শব্দ সবকিছু যেন এক রহস্যময় নীরবতায় থমকে গেছে। যেন সময়ও নিঃশ্বাস নিতে ভুলেছে। শিহাব আরশিকে ধীরে ধীরে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিল। আরশি লজ্জা ও সংকোচে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
শিহাব আরশির কাণ্ড দেখে দীর্ঘ লম্বা শ্বাস নিল। সে আরশির কাছ থেকে শাড়ি নিতে নিলে আরশি শিশুর মতো বায়না ধরে শাড়ি আরও শক্ত করে ধরে, ভয়ে তোতলামি করে বলল।
“কী! কী! কী হয়েছে? শাড়ি নিচ্ছেন কেন?”
শিহাব আরশির কথা শুনে রাগে দাঁতে দাঁত চেপে, তীক্ষ্ণ ও কর্তৃত্বপূর্ণ স্বরে বলল।
“আমি পরবো তাই!”
আরশি বিস্ময় ও তোতলানিতে বলল।
“আ! প! আপনি শাড়ি পরবেন?”
শিহাব কঠিন স্বরে বলল।
“চুপ করবে তুমি! শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকো। আমি এটা ঠিক করার চেষ্টা করছি।”
শিহাব হঠাৎ রাগে আরশির কাছ থেকে শাড়ি শক্তিতে টেনে নিল। আরশি গভীর লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। শিহাব অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে আস্তে আস্তে আরশির কোমরে শাড়ি গুঁজে দিতে থাকে।
শিহাবের উষ্ণ হাতের প্রত্যেকটি স্পর্শে আরশি বিদ্যুৎ-প্রবাহের মতো কেঁপে উঠছে। আরশি চোখ বন্ধ করে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে। শিহাব শাড়ির কুঁচিগুলো নিয়ে আরশির পেটের ঠিক কাছে গুঁজে দিতেই সেই স্পর্শের ঘনিষ্ঠতায় আরশি আরও বেশি কেঁপে উঠল। তার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগল।
শিহাব আরশির শাড়ির আঁচলটা শেষবারের মতো ঠিক করে দিল। একবার আরশির অবস্থা দেখে আরশি তখনও কাঁপছে, শিহাব লম্বা শ্বাস নিল। সে আর কোনো কথা না বলেই তোয়ালে নিয়ে দ্রুত ওয়াশরুমে চলে গেল।
আরশি অনেকক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকার পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ধীরে ধীরে চোখ খুলল। সে দেখল শিহাব কোথাও নেই। ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ আসছে, তার মানে সে ভেতরে চলে গেছে।
আরশি আয়নার সামনে গেল এবং নিজেকে আয়নায় দেখে বেশ অবাক হলো। কারণ শিহাব অনেক সুন্দর করে শাড়ি পরিয়ে দিয়েছে যা তার ধারণার বাইরে ছিল। আরশি মুচকি হাসল। সে ভাবল, “যতোটা খারাপ ভেবেছিলাম, ততোটা খারাপ না ভালোই আছে।”
,,,,,,,,
খান বাড়ির সকল সদস্য শিহাবদের বাড়িতে চলে এলো। সবাই যার যার সাথে কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে গেল। আরফা আরশিকে খোঁজার জন্য রুমে আসতে নিবে, এমন সময় আরফার ফোন বেজে উঠল। আরফা তাড়াতাড়ি আগে ফোন নিয়ে বাইরে এল। আরফার ফ্রেন্ড কল দিয়েছে।
আরফা ফোনে কথা বলতে বলতে শিহাবদের বাড়ির গেটের কাছে চলে আসে। সে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ শাড়ির কুঁচিতে পা লেগে একদম পড়ে যেতে নিল!আর ঠিক সেই মুহূর্তে দুটি শক্ত হাত এসে আরফাকে শক্ত করে ধরে ফেলল।
আরফা চোখ খুলে দেখে তাকে ধরে আছে একজন সুদর্শন যুবক। ছেলেটি সুঠাম দেহের অধিকারী এবং তার চোখে এক ধরনের কর্তৃত্বপূর্ণ গভীরতা। ছেলেটা আরফাকে ঠিক করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলল।
“একটু দেখে হাঁটবেন, কেমন?”
আরফা অপ্রস্তুত হয়ে লজ্জায় জিভে কামড় দিয়ে বলল।
“ইয়ে মানে, আমি ফোনে কথা বলছিলাম, তাই দেখতে পারিনি।”
“সমস্যা নেই। তবে একটু দেখে , নাহলে যখন তখন পড়ে গিয়ে কোমর ভাঙতে পারেন! বাই দ্য ওয়ে, আপনি বিয়ে বাড়িতে ইনভাইট কার্ডে এসেছেন, নাকি কোনো আত্মীয়?”
“না, আমি আরশির কাকাতো বোন।”
“সিরিয়াসলি? আরশি আমার ফ্রেন্ড! আমি নেহাল।”
“ওহ আচ্ছা, আমি আরফা।”
আরফা আর নেহাল দুজনেই টুকটাক কথা বলতে বলতে বাড়ির ভিতরে চলে আসলো। তাদের চোখে মুখে ছিল একে অপরের প্রতি নীরব কৌতূহল।
সুইজারল্যান্ড,,
রৌদ্র তুরাকে নিয়ে বের হয়েছে। দুজনেই বিলাসবহুল গাড়িতে। তুরা গাড়ির জানালার কাঁচ দিয়ে একমনে বাহিরের দৃশ্য দেখছে। আর রৌদ্র চুপচাপ গাড়ি ড্রাইভ করছে।বেশ কিছুক্ষণ পর রৌদ্র একটি জমকালো রেস্টুরেন্টের সামনে এসে গাড়ি থামাল। গাড়ি থামতে দেখে তুরা ধড়ফড়িয়ে উঠল।তুরা উদ্বেগ ও ভয় মেশানো কণ্ঠে বলল।
“কী, কী হলো? গাড়ি থামালেন কেন?”
রৌদ্র কৌতুকপূর্ণ স্বরে সিটবেল্ট খুলতে খুলতে বলল।
“তোকে বিক্রি করে দেবো তাই!”
তুরা তীব্র বিস্ময় নিয়ে বলল।
“কীহহহহ!”
রৌদ্র নির্দেশ ও বিরক্তি মিশিয়ে বলল।
“চুপচাপ গাড়ি থেকে নাম! নামলেই দেখতে পারবি!”
কথাটা বলেই রৌদ্র গাড়ি থেকে নামল। তুরাও ধীরে ধীরে সিট বেল্ট খুলে গাড়ি থেকে নামল। রৌদ্র তুরার এক হাত ধরে রেস্টুরেন্টের ভিতরে প্রবেশ করল।রেস্টুরেন্টের মালিক আব্রাহাম রৌদ্র খান কে দেখে চোখ কপালে তুলে,বললেন।
“Ach, Herr Khan! Was für eine Ehre! Willkommen! Setzen Sie sich bitte an einen schönen
বাংলা অনুবাদ _”আহ, খান সাহেব! কী সৌভাগ্য! স্বাগতম! দয়া করে একটি সুন্দর টেবিলে বসুন।”
রৌদ্র কোনো কথা না বলে তুরাকে নিয়ে একটি টেবিলে বসল। তুরা বিদেশি রেস্টুরেন্ট দেখে শুধু চারপাশ তাকাচ্ছে। কত বিদেশি মানুষ, কত কিছু বলছে অথচ তুরা এগুলোর কিছুই বুঝতে পারছে না।তুরাকে এইভাবে চারপাশ অবাক চোখে তাকাতে দেখে রৌদ্র তার ঠোঁটে কামড় দিয়ে হালকা হেসে বলল।
“কী দেখছিস এমন করে? মনে হচ্ছে জীবনে এমন দামি রেস্টুরেন্ট আর দেখিসনি?”
রৌদ্রের কথায় তুরা যেন থমকে গেল। সে তড়িঘড়ি চোখ নামিয়ে নিয়ে আমতা আমতা করে বলল।
“কিছু না! ঠিকই তো, আমি তো কখনো বিদেশ আসিনি যে এমন ঝকঝকে রেস্টুডেন্ট দেখব।”
রৌদ্র বাঁকা হাসি হেসে টেবিলে সামান্য ঝুঁকে এলো। তার কণ্ঠে সামান্য কৌতুক, কিন্তু দৃষ্টি ছিল স্থির।
“তো হঠাৎ বিদেশ এলি কেন?”
রৌদ্রের এমন সরাসরি প্রশ্নে তুরা সঙ্গে সঙ্গে চুপ হয়ে গেল। তার মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে। রৌদ্র সেই নীরব মুখের দিকে তাকিয়ে এক ঝলক হাসল, তারপর গলা শক্ত করে বলল।
“কী হলো, বল?”
রৌদ্রের জোর দেওয়া ডাকে তুরা চমকে উঠলো। সে কাঁপা কাঁপা গলায় জবাব দিল।
“এমনি এসেছি। সেই কারণ কি আপনাকে জানাতে হবে? আমি বলতে বাধ্য নই।”
তুরার স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান শুনে রৌদ্রের ভেতরে চাপা কষ্টটা আরও বাড়ল। সে মনে মনে বলল।
“কেন নিজের মুখে স্বীকার করছিস না সত্যিটা? আমি যে তোর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে পাগল হয়ে যাচ্ছি! আর কত অপেক্ষা করাবি? এইবার অন্তত স্বীকার করে দে সত্যিটা!”
রৌদ্র কথাটা বলেই লম্বা শ্বাস নিয়ে কন্ঠ কঠিন করে বলল।
“ঠিক আছে, বলতে হবে না। এখন কি খাবি? অর্ডার কর।”
কথাটা বলেই রৌদ্র উদাসীনভাবে খাবারের তালিকার কাগজটা তুরার দিকে এগিয়ে দিল। তুরা এক পলক সেই দামি কাগজটা দেখল। বিদেশী ভাষায় কি সব লেখা, কিছুই বুঝতে পারল না। শুধু খাবারের লোভনীয় ছবিগুলো তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।তুরাকে এইভাবে ছবিগুলোর দিকে বিস্ময় ও কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে রৌদ্রের মুখে একটা দুষ্টু হাসি ফুটল। সে মজা করে বলল।
“তুই যেইভাবে মেনু কার্ডের দিকে তাকিয়ে আছিস, দেখে মনে হচ্ছে এইটা সত্যিই খাবার। আর সেই লোভে তোর জিভ দিয়ে জল পড়ছে।”
রৌদ্রের এমন দুষ্টুমি মাখা খোঁচা শুনে মুহূর্তে তুরা অপমানে জ্বলে উঠলো। সে কাগজটা প্রায় ছুঁড়ে মারার ভঙ্গিতে রৌদ্রের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল।
“আপনার খাবার আপনিই খান! খাবোই না আমি।”
কথাটা বলেই তুরা ক্ষিপ্র গতিতে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। রৌদ্রও বিস্মিত হয়ে দ্রুত উঠে তুরাকে কিছু বলতে যাবে এমন সময় হঠাৎ একটি বিদেশী মেয়ে, যার চুলগুলো সোনালী এবং চোখে আনন্দের উচ্ছ্বাস, দৌড়ে এসে রৌদ্রকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল।মেয়েটি রৌদ্রকে জাপটে ধরে দ্রুত, উত্তেজিত কণ্ঠে এক অপরিচিত ভাষায় অনর্গল বলতে শুরু করল।
” Hé Bèbi, wìè gahts dr? Weisch, wìè fescht ìch dìch ha vermìsst? Du redsch ja nümm mît mîr! Ich ha würklìch nìd denkt, dass ich dìch hìèr im Rèschtaurant find।”
বাংলা অনুবাদ _”হেই বেবি, কেমন আছো? জানো, আমি তোমাকে কতটা মিস করেছি? ইদানিং তুমি আমার সাথে কথা বলছো না! আমি সত্যিই ভাবিনি যে তোমাকে এই সময় এইভাবে রেস্টুরেন্টে খুঁজে পাব।”
এই দৃশ্য দেখে তুরার বুকের ভিতর যেন এক প্রচণ্ড তুফান শুরু হলো। তার হৃদয় যেন তীক্ষ্ণ যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছে। সেই অসহ্য ব্যথার কারণে গলার শ্বাসটাও যেন আটকে আসছে।
রৌদ্র বিরক্ত হয়ে মেয়েটিকে সরিয়ে দিয়ে কিছু বলতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে তার চোখ যায় তুরার দিকে। তুরা ততক্ষণে কেঁদেই দিয়েছে তার চোখে জলের ধারা স্পষ্ট। রৌদ্র দ্রুত মেয়েটিকে উপেক্ষা করে তুরার দিকে এগিয়ে এসে কিছু বলতে নিবে, তার আগেই তুরা এক মুহূর্তও দেরি না করে, কোনো কথা না বলে, দ্রুত পায়ে রেস্টুরেন্ট থেকে এক দৌড়ে বাহির হয়ে গেল।
তুরা সেই অপরিচিত বিদেশী রাস্তা দিয়ে পাগলের মতো দৌড়াচ্ছে। তার চোখের পানি যেন থামছেই না, সে বারবার বাঁ হাত দিয়ে সেই জল মুছছে। এই দৃশ্য যেন তুরার কাছে ছিল এক হাজার জনমের কষ্টের দৃশ্য এক গভীর হাহাকারে তার বুক যেন ফেটে যাচ্ছে।
রানিং…!
রীচেক দিতে পারেনি বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেইখেন। আর পড়াশোনার চাপে আছি তাই পার্ট টা ছোট হলো। এখন এই গল্প টা পোস্ট করেই পড়তে বসবো সকলে দোয়া কইরেন আমার জন্য!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৯