নির্লজ্জভালোবাসা লেখিকাসুমি_চোধুরী
পর্ব ২২ (❌কপি করা নিষিদ্ধ ❌)
ভাগ্যে কী লেখা আছে, আমরা কেউ বলতে পারি না। আমরা যা ভাবি, তার উল্টোটাও হতে পারে। তাই আমরা আগে থেকে কিছুই বলতে পারি না।আরশি মাথা নিচু করে আগের মতোই কান্না করছে। কিছুক্ষণ আগে আরশির কথাটা বলতেই শিহাব এগিয়ে এসে আগে পিছে না ভেবে আরশির গালে সজোরে থাপ্পড় মেরেছিল।
শিহাব রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আরশির দিকে তীব্র ঘৃণা দৃষ্টিতে তাকিয়ে ক্ষোভ নিয়ে বলল।
“ছিহ্! লজ্জা করল না তোমার এইরকম একটা কাজ করতে? তোমাকে আমি বোন হিসেবে কত সম্মান করতাম! আর তুমি এরকম একটা কাজ করতে পারলে?”
বাড়ির সকলে স্থির, কেউ কিছু বলতে পারছে না। আনোয়ার খানও মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে পড়লেন।আরশি শিহাবের কথায় কাঁদতে কাঁদতে মনে মনে ভাবল এইভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না তাঁকে, এতদূর যেহেতু এসেছে, তাহলে এইখানে এসে থেমে যাবে না। নিজের জীবনের ভালো-মন্দ চিন্তা না করে সত্যিটা লুকিয়ে যাবে। এসব ভেবে আরশি হঠাৎ কান্না থামিয়ে দিল। চোখের পানি মুছে সে সোজা শিহাবের চোখের দিকে তাকিয়ে দৃঢ়, মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে বলল।
“না লজ্জা করল না! কারণ আমি আপনাকে ভালোবাসি! আর ভালোবাসাতে লজ্জা থাকে না!”
শিহাবের ক্ষোভ,তার সমস্ত স্বপ্ন যেন এক নিমিষেই ভেঙে গেল।
“কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি না! আমি তুরাকে ভালোবাসি, বুঝেছো?”
শিহাবের কথায় আরশি সামান্য কৃত্রিম, তাচ্ছিল্যের হাসল, সেই হাসিতে অসহায়তা মেশানো ।আরশি কঠিন যুক্তি, কণ্ঠে দৃঢ়তা আনার চেষ্টা করে বলল।
“এখন এই কথা বলে কোনো লাভ নেই! কারণ এখন আপনি আমার স্বামী! কিছুক্ষণ আগে আপনার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। আপনি কি এই বিয়েটা অস্বীকার করতে পারবেন?”
আরশির এই কঠিন,আইনি যুক্তিতে শিহাব যেন আগুনের মতো জ্বলে উঠল। তার সমস্ত ধৈর্য ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। মাথায় থাকা দামি পাগড়ির টুপি সে এক ঝটকায় খোলে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলল। বিয়ের শেরওয়ানিটাও এক ঝটকায় খোলে ছুঁড়ে মারল। সে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চিৎকার করে ক্রোধের স্বরে বলল।
“মানি না আমি এই বিয়ে! আমার তুরার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল! কিন্তু আমার তুরার সাথে বিয়ে হয়নি! মানি না আমি এই বিয়ে! মানি না!”
শিহাবের রাগ আর চিৎকার যেন পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে তুলল। এই চরম পরিস্থিতিতে আর চুপ থাকতে পারলেন না আশিক খান। এতক্ষণ অপমান আর বিস্ময় মুখ বুজে সহ্য করলেও এখন আর পারছিলেন না।তিনি ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন আরশির কাছে। মুখে রাগ আর কষ্টের ছাপ নিয়ে কঠিন, শীতল প্রশ্ন করলেন আরশিকে।
“আরশি! তুরা কোথায়?”
আশিক খানের কথায় আরশি মাথা আরও নিচু করল। ভেজা চোখে সে কোনো জবাব দিল না।আরশিকে চুপ করে থাকতে দেখে আশিক খান পুনরায় কণ্ঠে জোর নিয়ে প্রশ্ন করলেন।
“কী হলো? বল! তুরা কোথায়?”
আরশির শরীর থরথর করে কাঁপছে। মিথ্যা বলার চাপ আর অপমানের আঘাত তাকে যেন দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে। সে নিচু স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে বলল।
“জানি না আমি!”
এইবার তনুজা খান আর স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি উত্তেজিত হয়ে এগিয়ে এসে আরশির দুই কাঁধ ঝাঁকিয়ে ধরলেন। মায়ের চোখে ছিল ভয়, লজ্জা আর সন্তানের জন্য উদ্বেগ।
“জানিস না মানে? কিছুক্ষণ আগে তুই বললি, তুই তুরাকে পালিয়ে যেতে বলেছিস!”
আরশি তার মায়ের কথায় কান্নায় অশ্রু ভেজা চোখে তাঁর মায়ের দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে ছিল একটা মেয়ের অসহায়তা আর চরম আকুলতা।
আরশি পুনরায় আবার মাথা নিচু করে সকলের উদ্দেশ্য কণ্ঠে দৃঢ়তার চেয়ে যেন অসহায়তা বেশি করে তুরা যাতে দোষী না হয় তাই মিথ্যা কাহিনি বানিয়ে বলল।
“তুরা কোথায়, সেটা আমি জানি না। শুধু আমি তুরাকে চলে যেতে বলেছি। এইখানে তুরার কোনো অপরাধ নেই। আমি ওকে বাধ্য করেছিলাম পালিয়ে যেতে। বলেছিলাম, তুই যদি পালিয়ে না যাস, তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি! তুরা আমাকে বোন হিসেবে খুব ভালোবাসত, তাই নিজের জীবন চিন্তা না করে সে পালিয়ে গেছে। কিন্তু কোথায় গেছে, সেটা আমি জানি না। আমি খুশি হয়েছি যে পালিয়ে গিয়েছে। কারণ আমি শিহাবকে ভালোবাসি, আর আমি শিহাবকে পেয়েও গিয়েছি।”
একটা বোনের কতটা গভীর ভালোবাসা থাকলে সে এইভাবে সকলের কাছে দোষী হয়ে আরেকটা বোনকে অপরাধী না করে তোলে। তা এই আরশিকে দেখলে বোঝা যায় না। আল্লাহ যেন আরশির মতো এমন এক বোন সহোদরা সকলকে দেন।
আরশির কথাগুলো যেন আগুনের মতো জ্বালা ধরাল তনুজা খানের মনে। তিনি রাগে সজোরে আরেকটি থাপ্পড় মারলেন আরশির গালে। আঘাতের শব্দে পুরো হলরুম কেঁপে উঠল।তনুজা খান মুখে শাড়ির আঁচল গুঁজে কাঁদতে কাঁদতে কণ্ঠে হতাশা আর তীব্র ঘৃণা নিয়ে বললেন।
“কোন দোষে আমি তোর মতো মেয়েকে পেটে ধরেছিলাম? যে বোন হয়ে আরেকটা বোনের জীবন নষ্ট করলি? ছিহ্! আমার ঘৃণা হচ্ছে তোকে দেখে! কেমন মেয়ে আমি জন্ম দিয়েছি, এখন নিজের কাছেই লজ্জা লাগছে! চলে যা এখান থেকে! তোর মুখ আমি দেখতে চাই না!”
তনুজা খান কথাটা বলেই আরশিকে ধাক্কা মারলেন। আরশি সামান্য ছিটকে গিয়ে শিহাবের বাবা শান্ত চৌধুরীর পায়ের কাছে গিয়ে পড়ল। আরশির চোখ বেয়ে জলের ধারা নামা শরু করল।কোনো মেয়েই পারবে না মায়ের এমন কঠিন কথা সহ্য করতে। তেমনি আরশিও পারছে না। তার বুকে তখন তীব্র যন্ত্রণা। আরশি আবারও অঝোরে কাঁদতে থাকল।
আরশির গরম চোখের পানি শিহাবের বাবা শান্ত চৌধুরীর পায়ে পড়ছে।
শান্ত চৌধুরীর খুব মায়া হলো আরশিকে দেখে। তিনি ভাবলেন কী এমন অপরাধ করেছে! একজন মানুষকে ভালোবাসে, তাই তো মেয়েটা এমন কান্ড করল। তিনি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারলেন না।শান্ত চৌধুরী আরশির দুই কাঁধ ধরে তুলে দাঁড় করালেন। নিজের রুমাল দিয়ে আরশির চোখের পানি মুছে দিলেন। তারপর বাবার মতো স্নেহ মাখা সহানুভূতি ও সমর্থন নিয়ে বললেন।
“কেঁদো না মা! জানি তুমি যা করেছো, সেটা সত্যি অন্যায়। কিন্তু আবার ভালোবাসার মানুষটাকে পাওয়ার একরকম পাগলামিও বলা যায়। তবে, আমি শান্ত চৌধুরী তোমাকে আমার ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিলাম। আজ থেকে তুমিই আমার ছেলের বউ।”
শান্ত চৌধুরীর এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় যেন পুরো বাড়ির মানুষ আবার অবাক হয়ে গেল। শিহাব আগুনসম রেগে উঠল। শিহাবের কান দিয়ে যেন রাগে ধোঁয়া বের হচ্ছে।এক মুহূর্তে শিহাব তার বাবার উদ্দেশ্যে অবাক কণ্ঠে, রাগে ফেটে অবিশ্বাস ও ক্রোধ নিয়ে বলল।
“কী বলছো তুমি বাবা? তোমার মাথা ঠিক আছে? আমি তুরাকে ভালোবাসি, আরশিকে না! আমার আরশিকে না, তুরাকে চাই!”
শান্ত চৌধুরী শিহাবের কথায় আর সহ্য করতে পারলেন না। তিনি ধমকের স্বরে শিহাবের উদ্দেশ্যে বললেন।
“”চুপ! মুখে শুধু তুরা তুরা! এই নাম এখন থেকে আর নিবি না! এই মেয়ে এখন তোর মুখে পর নারী শোনায়! ভুলে গেছিস তুই? কিছুক্ষণ আগে তুই তিন কবুল বলে আরশিকে বিয়ে করেছিস! তাই এখন আল্লাহর কসমে আর আইনত সাক্ষীতে আরশি তোর স্ত্রী! আর আমি আরশিকে আমার বাড়ির বউ হিসেবে মেনে নিয়েছি!”
শান্ত চৌধুরীর কথায় রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে শিহাব দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিজ্ঞা ও জেদ নিয়ে বলল।
“মানি না আমি আরশিকে নিজের স্ত্রী হিসেবে। আমি তুরাকে ভালোবাসি, আর আমি ওকেই চাই! আমার তুরাকেই লাগবে যে কোনো মূল্যে! আর আমি তুরাকে খুঁজে বের করবই!”
কথাটা বলেই শিহাব বড় বড় পা ফেলে বাড়ির সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। সব মানুষ হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। অনেকে নানা রকম কানাঘুষা করতে থাকল। আসলে প্রতিবেশীদের কাজই তো এইটা আগা-
মাথা না বুঝে উল্টোপাল্টা বলা।
সুইজারল্যান্ড,,,,,
ভাগ্যের কী লীলা খেলা, তা বোঝা বড়ই দায়। রৌদ্রের আজকে সকাল দশটায় অন্য এক এলাকায় মিটিং ছিল। রৌদ্র ঠিক এই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিল, সেই মিটিংটি সম্পূর্ণ করতে। কিন্তু ভাগ্যের সেই পরিহাসে! তুরার সাথে যে এইভাবে সুইজারল্যান্ডের নির্জন (জার্মানের) রাস্তায় দেখা হবে, যা রৌদ্র কল্পনাও করেনি।রৌদ্রের বুকে তুরা এখনো হেলে আছে। রৌদ্র যেন নড়তেও ভুলে গেছে। সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না তুরা যে তার কাছে! এবং তার নিজেরী বুকে।
রৌদ্র কাঁপা কাঁপা চোখে, সামান্য মাথা নিচু করে তুরার সেই ঘুমন্ত, জ্ঞান হারানো মুখের দিকে তাকাল। অজস্র যন্ত্রণার পর এই মুহূর্তে তুরাকে দেখে মনে হচ্ছে, সে খুব শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে। রৌদ্রের ঠোঁটে কথা নেই, কেবল বিস্ময় আর ভালোবাসা মাখা এক স্তব্ধতা।
পর মুহূর্তে রৌদ্রের চোখ গেল সামনে থাকা তুরার সাথে বাজে, নোংরা ব্যবহার করা বিদেশি ছেলেগুলোর উপর। রৌদ্র ছেলেগুলোকে দেখে এক মিনিট চোখ বন্ধ করল। আর ভেসে এলো কিছুক্ষণ আগের মুহূর্তের দৃশ্য।
যখন রৌদ্র গাড়ি চালিয়ে আসছিল, তখন তুরা প্রাণপণে দৌড়ে আসছিল। আর তুরার পিছনে সেই ছেলেগুলোও দৌড়ে এসেছে। আর একটা মেয়ের পিছনে ছেলেদের এইভাবে দৌড়ানো মানে সেই নোংরা, বাজে মন্তব্য (ফুওয়ার মতো বাজে মন্তব্য) করে তাড়া করা। তার মানে ছেলেগুলো তুরার পিছনে বাজে মন্তব্য করে তাড়া করেছিল!
কথাগুলো ভাবতেই রৌদ্রের শরীর রাগে জ্বলে উঠল। সে শক্ত হয়ে গেল। চোখ লাল করে ফট করে চোখ খোলে সেই ছেলেগুলোর দিকে তাকাল। যেন চোখ দিয়েই ছেলেদের গিলে ফেলবে।
রৌদ্রের সেই হিংস্র লাল চোখ আর পিছনে সারি দেওয়া সশস্ত্র বডিগার্ড দেখে ছেলেগুলোর ভয়ে আত্মা পর্যন্ত কেঁপে উঠল। নিজেদের ভয়াবহ পরিণতি আঁচ করে, ছেলেগুলো উল্টো দিকে ঘুরে বাঁচার জন্য দৌড় শুরু করল।রৌদ্রের শরীর রাগে কাঁপছে। তার চোখে তীব্র ঘৃণা। যেন ছেলেগুলোকে জ্যান্ত পুতে ফেলবে। রৌদ্র বিদ্যুৎ গতিতে চিৎকার করে পিছনের বডিগার্ডদের উদ্দেশ্যে কঠোর কণ্ঠে বলল।
“ফায়ার!”
রৌদ্রের এই এক শব্দের আদেশ শুনে গার্ডরা মুহূর্তের মধ্যে হাতে থাকা বন্দুক ছেলেদের দিকে লক্ষ্য করল।
সুট,,,
“ঠাসস! ঠাসস! ঠাসস! ঠাসস! ঠাসস!”
প্রত্যেকটা ছেলের পায়ে গুলি লাগল। ছেলেগুলো যন্ত্রণায় হাহাকার করে রাস্তায় পা চেপে ধরে ব্যথায় লুটিয়ে পড়ল। তাদের চিৎকার সেই শান্ত সুইস রাস্তায় এক ভয়ানক প্রতিধ্বনি তৈরি করল।
,,,,,,,,,,,
সময়ের গতিতে সময় চলে গেল সে কারও জন্য থেমে থাকল না।তুরাকে দেখার জন্য রৌদ্র তাড়াতাড়ি ডাক্তার এনেছিল। ডাক্তার দেখে বলে গেলেন অতিরিক্ত মানসিক চাপ আর শারীরিক দুর্বলতা থাকায় তুরা জ্ঞান হারিয়েছে । যেকোনো সময় জ্ঞান আসবে, আর জ্ঞান আসার পর তাকে কিছু খাওয়াতে হবে।
তুরা শান্তভাবে নরম বেডে ঘুমিয়ে আছে মানে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে। আর তার সামনেই, পায়ের ওপর পা তুলে, তার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে বসে আছে আব্রাহাম রৌদ্র খান। তাঁর মনে তখন হাজারো প্রশ্ন।
১তুরা কীভাবে সুইজারল্যান্ডে এল?
২ আর কেনই বা এতদূর এল?
৩ তুরার না বিয়ের কথা ছিল?
৪ তাহলে কি তুরার বিয়ে হলো না?
৫ কিন্তু তুরা কেনই না এত দূর এল এত দূর আসার কারন কী?
হাজারো প্রশ্ন রৌদ্রকে গ্রাস করছে। কিন্তু কোনোটার উত্তর সে খুঁজে পাচ্ছে না। তার চোখে কেবল অপেক্ষা, কখন তুরার জ্ঞান ফিরবে।রৌদ্র গভীর চিন্তায় মগ্ন, ঠিক তখনি পাশে থাকা রৌদ্রের ফোন বেজে উঠল। ফোনের শব্দে রৌদ্র চিন্তার ঘোর থেকে বের হলো। সে তুরার শান্ত মুখের দিকে একবার তাকিয়েই, ফোন হাতে নিয়ে না দেখেই ফোন রিসিভ করে কানে ধরল।
ওপাস থেকে রৌশনি খানের কান্না ভেসে এল। মায়ের এমন কান্না শুনে রৌদ্র দ্রুত স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলল। সে উত্তেজিত হয়ে বলল।
“মম! কী হয়েছে? তুমি কাঁদছো কেন? আর ড্যাড,সবাই ঠিক আছে তো?”
ওপাশ থেকে রৌশনি খান যন্ত্রণাদায়ক উত্তর দিলেন।
“কিছু ঠিক নেই রে বাবা! সব শেষ হয়ে গেছে!”
রৌদ্রের অবিশ্বাসের স্বরে প্রশ্ন করল।
“কী বলছো এসব মম তুমি?”
“হ্যাঁ বাবা! তুরা পালিয়ে গেছে?আরশির বিয়ে হয়ে গেছে!”
রৌদ্র বিস্ময় কন্ঠে বলল।
“What?”
“হ্যাঁ বাবা!”
“আরশির বিয়ে হয়ে গেছে মানে? কার সাথে?”
“শিহাবের সাথে!”
রৌশনি খানের বলা কথাটা শোনার সাথে সাথে রৌদ্রের হাত থেকে ‘ঠাস’ শব্দে ফোনটা মেঝেতে পড়ে গেল।রৌদ্র নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। সে ঠিক শুনছে তো? তার মাথা যেন ঘুরছে। তার সমস্ত শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল।
রৌদ্র ধীরে ধীরে চোখ তুলে তুরার দিকে তাকাল। এইবার সমস্ত ধাঁধার উত্তর যেন রৌদ্রের সামনে আরো বেশি প্রশ্ন হয়ে উঠল। তুরার এই পাগলের মতো সুইজারল্যান্ডে ছুটে আসার কারণ! আরশির সাথে শিহাবের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে হিসেবে শিহাব খারাপ না ভালো যা রৌদ্র জানে। কিন্তু রৌদ্র বুঝতে পারছে না, এই খবর শুনে সে খুশি হবে নাকি কাঁদবে! শিহাবের সাথে তুরার বিয়ে হলো না, এই কথা রৌদ্রের জন্য মুক্তির সংবাদ। কিন্তু তুরার হঠাৎ পালিয়ে আসা আর সুইজারল্যান্ড কিভাবে আসলো সেই প্রশ্ন গুলোই যেন রৌদ্রের মাথা পাগল করে ফেলছে।
রানিং….!
রীচিকে দিতে পারেনি তাই ভুলক্রটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই!আর আজকে এত তাড়াতাড়ি গল্প দেওয়ার কারন বাসায় অনেক মেহমান আমাদের অতিথি ছোট আম্মুর জন্য কালকে আঁকিগারি দেওয়া হবে তাই মেহমান আসছে। কালকে গল্প দিতে পারব না বুঝেনি তো কিভাবে দিবো। আর আপনাদের সবার কালকে আমাদের বাসায় দাওয়াত থাকলো…!😌
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা সূচনা পর্ব
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৩