নির্লজ্জভালোবাসা পর্ব ২১(❌কপি করা নিষিদ্ধ❌) লেখিকাসুমি_চোধুরী
এয়ারপোর্টে মানুষ ভরপুর। সবাই যার যার ব্যাগপত্র নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। যেন সবাই যার যার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত।এয়ারপোর্টের বাইরে বিরক্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে তুরা। সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছে আরশির বন্ধুর জন্য, কিন্তু তার আসার খবর নেই। তুরা যখন বিরক্তিতে ছটফট করতে লাগল, ঠিক তখনই পিছন থেকে পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে এল।
“এক্সকিউজ মি, আপনি কি মিস তুরা?”
পুরুষালি কণ্ঠ শুনে তুরা চমকে উঠল। সে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখে একটি ছেলে। ছেলেটিকে দেখে তুরা চিনে ফেলল। এই সেই আরশির বন্ধু! আরশি তুরাকে ছবি দেখিয়েছিল। আর আরশির বন্ধু নেহালকেও আরশি তুরার একটা ছবি হোয়াটসঅ্যাপে দিয়েছিল। তাই দুজন দুজনকে চিনতে সময় লাগল না। তুরা নেহালকে দেখে তাড়াতাড়ি স্বস্তিততার সাথে উত্তর দিলো।
“জ্বি,আমি তুরা।”
নেহাল হলো একজন পাইলট। আরশির সাথে তাঁর অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্ব। এই সবেমাত্র নেহাল পাইলট হয়েছেন। এর বাইরেও, তাঁর বাবা বিমান, পাসপোর্ট, ভিসা এসবের কন্ট্রাক্টর। তাই এই কারণেও নেহাল এই পেশাটি বেছে নিতে পেরেছে।
নেহাল তুরার কথা শুনে তুরাকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করল।তারপর নেহাল তুরার উদেশ্য সতর্ক ও চিন্তিত কণ্ঠ স্বরে বলল।
“দেখুন মিস তুরা, আমি আরশির কাছ থেকে সব শুনেছি। আর সুইজারল্যান্ড যাওয়ার জন্য আব্বুকে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করে বিমান বুকিংও করে দিয়েছি। কিন্তু পাসপোর্ট আর ভিসা ছাড়া আপনি সুইজারল্যান্ডে গিয়ে কার কাছে যাবেন যেন? (একটু ভাবুক হয়ে) ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে আব্রাহাম রৌদ্র খান, যিনি একজন ওই দেশের নাগরিক এবং একজন বিখ্যাত বিজনেসম্যান। তাঁর সাথে যদি কোনো প্রকার সাক্ষাৎ না করতে পারেন, তাহলে কিন্তু আপনি পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া পুলিশের হাতে ধরা খেতে পারেন। তাই বলছি, বিষয়টা আপনি একটু ভেবে দেখুন।”
নেহালের কথায় তুরা কিছুতেই বুঝতে পারছে না সে কী জবাব দেবে। কারণ সে সত্যি রৌদ্রকে ভালোবাসে। আর তাঁর কাছে যেতে হলে তার যা করতে হয়, সে তাই করবে। যদি মরণও আসে, তবুও তুরা হাল ছাড়বে না।
তুরা গভীর শ্বাস ও সাহস নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী উত্তরে বলল।
“কোনো সমস্যা নেই। আমি যাবো। সেখানে কী হয় না হয়, সেটা পরে দেখা যাবে। এখন আপনি আমাকে নিয়ে চলুন।”
নেহালের তখনও শেষবারের মতো সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করল।
“মিস তুরা, আপনি শিওর? বিষয়টা কিন্তু অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?।”
তুরা চোখ বন্ধ করে একটা গভীর শ্বাস নিল। সেই শ্বাসেই যেন সমস্ত দ্বিধা দূর হয়ে গেল।তুরা চূড়ান্ত স্থিরতা স্বরে বলল।
“হ্যাঁ, আমি শিওর।”
এরপর তুরাকে নিয়ে নেহাল তড়িঘড়ি এয়ারপোর্টে প্রবেশ করল। আরশি আগে থেকেই প্রয়োজনীয় টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে, তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পার হতে কোনো সমস্যা হলো না। টার্মিনালের ব্যস্ততা এড়িয়ে নেহাল আর তুরা দ্রুত বিমানের কাছে চলে এল।তুরা কাঁপা কাঁপা পায়ে বিমানের সিঁড়িতে পা দিল। শরীরের প্রতিটি কোষে যেন এক তীব্র অনিশ্চয়তা। যত পা এগোচ্ছে, ততই বুক ধড়ফড়িয়ে উঠছে। যেন বুকে কোনো সামুদ্রিক ঝড় চলছে। তুরা এক মুহূর্তে মানসিক শক্তি সঞ্চয় করে দ্রুত পা ফেলে বিমানে উঠে পড়ল।
বিমানে উঠেই দেখল অনেক যাত্রী। স্বাভাবিকভাবেই তুরা অসংলগ্ন বোধ করল কোথায় সে বসবে? ঠিক তখনি নেহাল বিমানে উঠে তুরার আসন দেখিয়ে স্বচ্ছন্দ কণ্ঠে বলল।
“আপনি এখানে বসেন। এই বিমান আমিই চালাই।”
তুরা নেহালের কথায় কৃতজ্ঞতার এক ঝলক প্রকাশ করে সামান্য মুচকি হেসে সিটে বসে পড়ল। দুর্গম পথের ভয় তুরার আত্মা কাঁপিয়ে দিচ্ছে। পা দুটিও থরথর করে কাঁপছে। নেহাল তুরার সিট বেল্ট বেঁধে দিয়ে তাঁর পাইলট আসনে (ককপিটে) চলে গেল। তুরা চুপচাপ বসে থাকল।
আশপাশে অনেক মানুষ স্বাভাবিকভাবে গল্প করছে, কেউ ফোনে ব্যস্ত। কিন্তু তুরার মনের ভেতরে যেন এক ভয়ংকর নীরবতা। যেন ভয়ংকর কিছু ঘটতে চলেছে। সে নিজেও জানে না, আবেগের বশে সে এক অজানা পথে পা দিতে চলেছে। তুরা জানে না এই আবেগ তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে। ভালোবাসার মানুষের কাছে, নাকি কোনো বিপদের মুখে? সেই ভেবেই যেন তুরার মনে আরও ভয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বেশ কিছুক্ষণ পর বিমানের সব যাত্রী উঠে গেল। বিমানের সিঁড়িও ধীরে ধীরে উপরে উঠে বন্ধ হয়ে গেল। বন্ধ হওয়ার মুহূর্তেই বিমান চলতে লাগল। রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই শব্দে তুরার ভয় আরও দ্বিগুণ বাড়তে লাগল। কিন্তু এইখানে দুই ভিন্ন রকম ভয় এক, ওই দেশে গিয়ে কি রৌদ্রকে খুঁজে বের করতে পারবে? আর তুরা এই প্রথম বিমানে উঠল, তাই তুরার স্বাভাবিকভাবেই ভয় লাগছে।
হঠাৎ বিমান ধীরে ধীরে আকাশে উড়তে লাগল। উড্ডয়নের সেই তীব্র গতিতে তুরা ভয়ে পরনের লেহেঙ্গা খামচে ধরে চোখ বন্ধ করে দিল। আর বিমান আকাশে অনেক উপরে উড়ে যেন এক ঝটকায় মিলিয়ে গেল।
অবশেষে ,তুরা তাহলে চলেই গেল সুইজারল্যান্ড!
এদিকে,,,,
ভাগ্যে কী লেখা আছে, কেউ বলতে পারে না। শুধুমাত্র একজনই বলতে পারেন, আর তিনি হচ্ছেন আমাদের মহান আল্লাহ তায়ালা।আর সেই ভাগ্যের লিখন মেনে, শিহাব আর আরশির বিয়ে হয়ে গেছে! হয়তো বিধাতা আগে থেকেই লিখে রেখেছেন এঁদের দু’জনের বিয়ে হবে। কিন্তু শিহাব এখনো আরশিকে দেখেনি। কারণ আরশি কোনো না কোনো ছলনায় ঘোমটার আড়ালে থেকেছে।
কাজী যখন কবুল বলতে বলেছেন, তখন আরশি আগে পিছে না ভেবে একপ্রকার ভয়েই ‘কবুল’ বলে দেয়। আর শিহাব তো তুরা মনে করে হাওয়ার গতিতে কবুল বলে দিয়েছে।
ঘোমটার আড়ালে আরশি তখন শিহাবের আর তার জীবন নিয়ে জুয়া খেলার এক ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন। আরশির শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেছে। সে জানে না এই মিথ্যা কবুল তার আর শিহাবের জীবনে কী ভবিষ্যৎ বয়ে যাবে।
বিয়ের আসরে ছেলে-মেয়ে উভয়েই নাচ-গানের তালে তালে নাচ করছে। চারদিকে তখন উৎসবের চরম আনন্দ।আর শিহাব তো তুরাকে (আসলে আরশি) দেখার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। কারণ আরশি এখন পর্যন্ত ঘোমটা তোলেনি। ঠিক তখনি আরফা শিহাবের বিষয়টা লক্ষ্য করল। সে মুখ টিপে হেসে এগিয়ে এসে শিহাবের কানে ফিসফিস দুষ্টুমিমাখা স্বরে বলল।
“কী ভাই! বউ দেখার তাড়াহুড়ো বুঝি সইছে না?”
আরফার কথায় শিহাব দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে অধৈর্য কণ্ঠে বলল।
“বুঝোই যখন তাহলে! ঘোমটাটা সরাচ্ছো না কেন?”
আরফা শিহাবের কথায় প্রতি উত্তর দিয়ে মজা করার স্বরে বলল।
“ঘোমটা সরাতে হলে দশ হাজার টাকা দিতে হবে!”
শিহাব আরফার কথায় তাড়াহুড়ো অধীর ও ব্যাকুল কণ্ঠে জবাব দিল।
“বোন! দশ হাজার না, বিশ হাজার নিও! একটু ঘোমটাটা সরিয়ে দাও! আমি একটু দেখি আমার চাঁদের মতো বউয়ের মুখটা।”
শিহাবের চোখে তুরার মুখ দেখার চরম আকাঙ্ক্ষা। সে জানে না, ঘোমটার আড়ালে তার জন্য কী বিরাট চমক অপেক্ষা করছে। আরফা তখন খিলখিল করে হেসে উঠল।
শিহাবের তাড়াহুড়োর মাঝেই আশিক খান এগিয়ে এসে আরশির পাশে বসলেন। তিনি আরশির দুই কাধে হাত রেখে স্নেহের আবদার নিয়ে বললেন।
“মা, এখন ঘোমটাটা তোল। সকলে আমার কলিজার টুকরো মেয়েটাকে দেখুক।”
আশিক খানের কথা শোনে আরশির কলিজা কেঁপে উঠল। দুই হাত মুঠো করে সে কাঁপতে লাগল। বিধাতা তাঁকে কোন বিপদে ফেললেন! ভাবতেই আরশির যেন বুক ফেটে কান্না আসছে। এখন সে কী করবে সেই চিন্তায় যেন আরশি কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছে না।আরফা আরশির পাশে এগিয়ে এসে সকলের উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক স্বরে বলল।
“আমি তোলছি। হয়তো আমার ছোট্ট বোনটা লজ্জা পাচ্ছে।”
কথাটা বলেই আরফা আরশির ঘোমটাটা আস্তে আস্তে তুলে ফেলল। আর আরশি সাথে সাথে মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে ফেলল।তুরার জায়গায় আরশিকে দেখে বাড়ির সকলে যেন বিদ্যুৎ এর ধাক্কা খেল এবং চমকে উঠল। সবার মুখ হা হয়ে গেল। শিহাবের যেন হার্ট অ্যাটাক হলো সে দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ল!
আয়ান চোখ কপালে তোলে হতবাক কণ্ঠ স্বরে বলল।
“আরশিইইই! তুইইইইই!”
বাড়ির নাচ গান এক মুহূর্তেই থমকে গেল। মুহূর্তের নীরবতা যেন সব কোলাহলকে গ্রাস করে ফেলল। সবাই হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। খান বাড়ির কেউ কোনো কথা বলতে পারছে না। তাঁরা যেন কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।
শিহাব ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে বসল। তারপর আরশির দিকে তাকিয়ে চোখ অনেকবার ঝাপসা দিল। যেন সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। শিহাব কাঁপা কাঁপা স্বরে আরশির দিকে তাকিয়ে হতভম্ব কন্ঠে প্রশ্ন করল।
“আ আ আরশি! ত ত তুমি? ত ত তুরা কোথায়?”
আরশি কিছু বলছে না। শুধু মাথা নিচু করে আছে। কী বলবে? সত্যিটা বলে দেবে যে সে তুরাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে? কিন্তু কথাটা বললে তো তুরা নিজের পরিবারের চোখে খারাপ হয়ে যাবে। আর শিহাব, যাকে সে একটু আগে তিন কবুল বলে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেছে, তার কাছে তো পরম দোষী হয়ে থাকবে। এসব ভাবতেই আরশি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
আনোয়ার খান উদ্বেগ হয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে আরশির কাছে এসে কঠিন স্বরে প্রশ্ন করল।
“আরশি! সত্যি করে বল! তুই এইখানে কেন? আর তুরা কোথায়?”
আনোয়ার খানের কথায় আরশি আরও জোরে কান্না করে দিল। তাঁর কান্না যেন সকলের মনে আরও চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আনোয়ার খান পুনরায় আরশির দিকে তাকিয়ে প্রায় চিৎকার করে চরম উদ্বেগ প্রশ্ন করলেন।
“কীইই হলো আরশি! চুপ করে আছিস কেন? তুরা কোথায়? আর তুই তুরার জায়গায় কেন?”
আরশি কান্না থামাতে পারছে না। সে কোনো উত্তর দিতে পারছে না, আর দেবেই বা কী করে! পর মুহূর্তেই মনে মনে ভাবল সত্যিটা যে কোনোভাবে তাঁকে লুকিয়ে রাখতে হবে। তুরা যে রৌদ্রের কাছে চলে গেছে, এই কথাটা কোনোভাবেই বলা যাবে না। নাহলে শিহাব তুরার জন্য সুইজারল্যান্ডেও চলে যেতে পারে।আরশি এসব ধারণা নিয়ে সত্যিটা লুকিয়ে ফেলল। সে ফট করে মনে সাহস সঞ্চয় করল এবং সকলের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে বলল।
“তুরা নেই! তাঁকে আমি চলে যেতে বলেছি! সে পালিয়ে গেছে! কারণ আমি শিহাব ভাইয়াকে ভালোবাসি, তাই আমি তুরাকে বাধ্য করেছি পালিয়ে যেতে! আর আমি শিহাব কে বিয়ে করে নিয়েছি।”
আরশি কথাটা বলতেই সজোরে থাপ্পড় পড়লো আরশি গালে।বাড়ির সকলেই সেই থাপ্পড়ে আরও চমকে উঠল। পুরো বাড়িটা যেন এক মুহূর্তে থমকে গেল। উৎসবের আলো নিভে গিয়ে অন্ধকার নেমে এল। কেবল আরশির কান্নার শব্দ সেই ভয়াবহ নীরবতাকে মাঝেমধ্যে ভেঙে দিচ্ছে।
সুইজারল্যান্ড,,,,
দীর্ঘ পনেরো ঘণ্টা জার্নি করে বিমান এসে থামল সুইজারল্যান্ডে। বিমানবন্দরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ভেদ করে তুরা বাইরের ঠান্ডা হাওয়া অনুভব করল। নতুন শহর, নতুন মানুষ, চারপাশের বিস্ময়কর স্থাপত্য সব কিছুই কেমন জানি অদ্ভুত ও অচেনা লাগছে তুরার কাছে।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তুরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সে গন্তব্যহীন, বুঝতে পারছে না কীভাবে সে রৌদ্রকে খুঁজবে। তুরা হাঁটছে আর চারপাশ দেখছে। বরফে ঢাকা পাহাড় আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পথ সবমিলিয়ে এক অত্যন্ত সুন্দর শহর, দেখার মতো যা তুরাকে মুগ্ধ করল।তুরা যখন চারপাশ দেখতে ব্যস্ত, ঠিক তখনি কিছু নোংরা বিদেশি যুবক (ছেলে) তুরাকে দেখে চারপাশে ঘিরে ফেলল। আচমকা বিদেশী ছেলেগুলোকে দেখে তুরা ভয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠল।সবগুলো ছেলের মাঝে একজন ছেলে বিচ্ছিরি মার্কা হাসি দিয়ে বলল।
“Hey, Schönheit! Du siehst aus wie eine Bangladescherin, richtig?”
বাংলা অনুবাদ _”এই সুন্দরী! দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশী নতুন,তাই না?”
তুরা ছেলেটার ভাষা বুঝতে পারল না। পারবেই বা কী করে! কারণ সে বিদেশী ভাষার কোনো অর্থই জানে না। তার চোখে আতঙ্কে ছানাবড়া।
তুরাকে কথা বলতে না দেখে আরেকজন ছেলে পাশ থেকে সব ছেলের উদ্দেশ্যে বলল।
“Bruder, schau dir an, was für eine Beute wir haben! Sie ist wunderschön. Ich habe selten so ein Mädchen aus Bangladesch gesehen”
বাংলা অনুবাদ_ “ভাই! কী মাল দেখেছিস! আর হেব্বি সুন্দরী! আমি এইরকম বাংলাদেশের মেয়ে খুব কমই দেখছি।”
কথাটা বলতেই ছেলে গুলো হা হা করে সকলে হেসে উঠল।যুবকদের নোংরা হাসি আর অশালীন দৃষ্টি তুরার গায়ের ওপর যেন স্রোতের মতো আছড়ে পড়ল। তুরা বুঝতে পারছেনা এরা কী বলছে, কিন্তু তাদের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও হিংস্র চোখ দেখে সে ভয়াবহ বিপদ আঁচ করতে পারছে তুরা।
তুরা অপরিচিত ছেলেগুলোর উদ্দেশ্যে কাঁপা কাঁপা গলায়, প্রায় মিনতির স্বরে বলল।
“ভাইয়ারা,কারা আপনারা? আমি আপনাদের চিনি না। আমার পথ ছাড়েন বলছি!”
তুরা কথাটা বলেই যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই, ছেলেগুলো আরও শক্তভাবে চারপাশ ঘিরে ধরল। একজন ছেলে তুরার গায়ে নোংরা ভাবে স্পর্শ করতে করতে বলল।
“Hey, Baby! Was ist die Eile? Komm mit uns, wir geben dir viel Geld. Gib uns einfach nur Spaß।”
বাংলা অনুবাদ_ “হেই বেইবি! এত তাড়া কিসের? আমাদের সাথে চলো, অনেক টাকা দেব। শুধু আমাদের মজা দেবে।”
এইভাবে শরীরে নোংরা স্পর্শ করা দেখে এক মুহূর্তে তুরা ভয়, মনের আতঙ্ক সবকিছু ভুলে গেল। সে সজোরে থাপ্পড় মারল ছেলেটির গালে।তুরা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তীব্র ঘৃণা চোখে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলল।
“বাসায় কি মা বোন নেই আপনাদের? রাস্তায় মেয়ে দেখলেই গায়ে হাত দিতে ইচ্ছে করে? ছিহ্হ্!”
তুরার এই অপ্রত্যাশিত প্রতিবাদে সব ছেলে রেগে ফেটে উঠল। যাকে তুরা থাপ্পড় মেরেছে, সেই ছেলেটি গালে হাত দিয়ে সব ছেলের উদ্দেশ্যে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।
“Was zum Teufel starrt ihr an? Packt dieses Ding! Wie wagt sie es, mich anzufassen? Heute zeige ich ihr den Preis dieses Mutes. Steht nicht einfach nur herum, packt sie!”
বাংলা অনুবাদ_ “এই! তোরা দেখছিস কী? এই মালটাকে ধর! ওর কত বড় সাহস আমার গায়ে হাত তোলে! আজ দেখাবো এই সাহসের দাম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিস কী? ধর একে!”
ছেলেটির কথা শুনে একজন যুবক দ্রুত এগিয়ে এসে তুরার হাত চেপে ধরল। ছেলেটির কঠোর স্পর্শে তুরা বুঝতে পারল ছেলেগুলো মোটেই ভালো নয়। আর সে যে খুব বিপদের মধ্যে পড়ে গেছে তা খুব ভালো করেই বুঝে গেল, এখন যে সে কী করবে ভেবেই পাচ্ছে না। বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবে তুরা সাহস জোগাড় করে ছেলেটির হাতে কামড় বসাল।
ছেলেটি তুরার কামড়ে যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠলো।
“Aua! Lass los!”
বাংলা অনুবাদ_”উহ! ছাড়!”
তুরা চারদিকে তাকাল এইখানে থাকা যাবে না। নাহলে তার সব শেষ হয়ে যাবে। তুরা কোনো কিছুই না ভেবে তার লেহেঙ্গা সামান্য উঁচু করে ধরে দিল দৌড়। ছেলেগুলোও তুরাকে ধরার জন্য পিছু ছুটল।
তুরা দৌড়াচ্ছে, হঠাৎ তুরার রৌদ্রের কথাটা মনে পড়ল। রৌদ্র ঠিকই বলেছিল, এই দেশটা ভালো না। এই দেশে মেয়েদের কোনো সম্মান নেই। যা আজ তুরা প্রমাণ পেল। এখন রৌদ্রের ঘৃণা করা দেশটা তুরারও ঘৃণার দেশে পরিণত হয়ে গেল। একটু আগে যেই দেশটা দেখে তুরা মুগ্ধ হয়েছিল, তা এক নিমিষেই তুরার কাছে ঘৃণায় পরিণত হলো।তুরার শরীর দুর্বল হয়ে আসছে। সে আর দৌড়াতে পারছে না। পা যেন থেমে আসছে। ছেলেগুলো প্রায় তুরার কাছাকাছি।
তুরা দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ একটা দামি, কালো বিদেশি গাড়ির সাথে হালকা ধাক্কা খেল। সে সামান্য ব্যথা পেল, কিন্তু তেমন আঘাত পেল না। কারণ গাড়িটা তুরার আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই তুরা এই বিরাট বিপদ থেকে রক্ষা পেল।
গাড়িটির ঠিক পিছন পিছন আরও ছয়টি কালো রঙের বিলাসবহুল গাড়ি এসে সারি বেঁধে থামল। পুরো এরিয়াটা যেন এক মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল। তুরা অত্যন্ত দুর্বল শরীরে চোখ তুলে গাড়ির দিকে তাকাল। নোংরা ছেলেগুলো ততক্ষণে প্রায় কাছে চলে এসেছে।তুরা একবার পিছনে মৃত্যুসম ছেলেগুলোর দিকে তাকাল, আবার সামনে জীবনের শেষ আশা গাড়িগুলোর দিকে তাকাল। তুরার শরীর হেলে পড়ছে। চোখে ঝাপসা দেখছে। যে কোনো সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে।
তুরা ঝাপসা ঝাপসা চোখে সামনের গাড়িটির দিকে তাকাল। ধীরে ধীরে গাড়িটির জানালার কাচ খুলে গেল। সেই একই মুহূর্তে, পিছনের গাড়িগুলো থেকে কয়েকজন সুঠামদেহী বডিগার্ড এসে প্রথম গাড়িটির ডোর খুলে দিল।আর ডোর খুলে দেওয়ার সাথে সাথে গাড়ি থেকে কারও বাম পা বের হলো।
পরের মুহূর্তেই গাড়ির ভেতরে থাকা মানুষটা যেন এক গতিময় ছায়ার মতো বের হয়ে পড়ল। আর সেই মানুষটা আর কেউ নন তুরার হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা! যার জন্য সে কতদিন যন্ত্রণা অনুভব করেছে, যাকে প্রতি নিঃশ্বাসে মিস করেছে। যার জন্য সে মৃত্যুকে উপেক্ষা না করে এতদূর এসেছে।
সেই ব্যক্তি আর কেউ নয় সয়ং_আব্রাহাম রৌদ্র খান!
রৌদ্রের কালো ওভারকোট, সুগঠিত চেহারা আর তীব্র, শীতল চোখ এক অপরিচিত শহরে তুরার কাছে চিরচেনা এক স্বর্গ মনে হলো। সেই মুহূর্তে রৌদ্রের উপস্থিতি তুরার কাছে শুধু তাঁর ভালোবাসার মানুষ নই, যেন সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তির এক অভেদ্য প্রাচীর হয়ে এসেছে রৌদ্র।
রৌদ্রকে দেখেই তুরার শুকনো ঠোঁটে যেন এক স্বর্গের হাসি ফুটে উঠল। মনের ভেতর যেন এক বুক ভরা শান্তি বয়ে গেল। চারপাশের সব বিপদ এক মুহূর্তে তুচ্ছ হয়ে গেল।দুজনে দু’জনের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। রৌদ্র যেন নড়তেও ভুলে গেছে। তাঁর চোখ একদম তুরার দিকে স্থির।
তুরা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। দুর্বল শরীরেই হেলতে হেলতে প্রায় দৌড়ে রৌদ্রের কাছে এসে রৌদ্রকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। সেই আলিঙ্গনে ছিল দীর্ঘ বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, আর ভয়াবহ বিপদ থেকে মুক্তির স্বস্তি।তুরা দুর্বল ও শান্তি মেশানো স্বরে রৌদ্রের কানে ফিসফিস করল।
“রৌদ্র….!”
নামটা নিয়েই তুরা নুইয়ে পড়ল রৌদ্রের বুকে। তুরার চোখ বন্ধ হয়ে গেল। আর আস্তে আস্তে সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল। চরম ক্লান্তি ও মানসিক চাপের ফলে তুরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।
অবশেষে তুরা আর রৌদ্রের আবার দেখা হলো! আর একম সঠিক জায়গায় তুরা সেন্সটা হারালো।
চলবে….!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা সূচনা পর্ব