নির্লজ্জ_ভালোবাসা
পর্ব ৭ (বাচ্চা দের পড়া নিষেধ ❌)
লেখিকাঃ-#প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
নতুন শহর, নতুন দেশ সবকিছুই যেনো অপরিচিত লাগছে। মনে হচ্ছে যেনো দেশের সাথেই সময়, বাতাস, এমনকি সকালটার রঙও বদলে গেছে। রুমের জানালা খুলা, পর্দাগুলো এলোমেলোভাবে দুলছে হালকা ঠান্ডা বাতাসে। মৃদু আলো এসে পর্দার ফাঁক দিয়ে তুরার মুখে পড়ছে। তুরা ঘুমের মধ্যে চোখ পিল পিল করে খুলে গেলো। কোনোদিক না তাকিয়েই ক্লান্ত গলায় গর্জন তুলে ডাকতে লাগল,
“মাআআআ এখনো ডাক দাও নাই কেনো? ওহ আচ্ছা, বুজছি আজকে আমার বিয়ের কারণে ডাক দা…!”
বাকিটুক আর বলা হলো না। তুরার চোখ আচমকা স্থির হয়ে গেলো চারপাশে। এক বিশাল রুম, দেয়ালে ঝুলানো দামি দামি ছবি, কাচের টেবিলে বিদেশি ফুলের সাজ, নরম কার্পেটের গায়ে পড়া আলো সবকিছুই যেনো স্বপ্নের মতো। তুরা হতবুদ্ধি হয়ে চারপাশে তাকিয়ে রইলো। মনে মনে ভাবলো,আমি কি এখনো ঘুমাচ্ছি?সে তাড়াতাড়ি নিজের হাতে চিমটি কাটলো। ব্যথা পেলো, তবুও জায়গাটা একই। বুক ধকধক করছে, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। নিজের কণ্ঠে অবিশ্বাস মিশে গেলো,
“আল্লাহ আমি কোথায়? এটা তো আমাদের বাড়ি না আমি এখানে কিভাবে এলাম?”
রুমের নিস্তব্ধতায় তুরার কণ্ঠটা মিলিয়ে গেলো। জানালা দিয়ে ঢোকা হালকা বাতাসে পর্দা আবার উড়লো, যেনো অচেনা জায়গাটা নীরবে হাসছে তার বিভ্রান্তির দিকে।তুরা বিছানা থেকে উঠে ধীরে ধীরে চারদিকে তাকাতে লাগলো। দেয়ালের রঙ, জানালার নকশা, মেঝেতে পুরু কার্পেট সবই যেনো অপরিচিত। বুকের ভেতর কেমন যেনো কাঁপুনি ধরেছে।তুরা থমকে দাঁড়ালো, তারপর এক পা দু’পা করে রুমের দরজার দিকে এগিয়ে গেলো। দরজাটা খুলতেই হালকা বাতাসের ঢেউ এসে মুখে লাগলো।
তুরা পা ফেললো করিডোরে চারদিকে নিস্তব্ধতা, শুধু দেয়ালে ঝুলে থাকা বড় বড় চিত্রকর্ম, একপাশে আধুনিক লাইট, আর নরম মেঝেতে পদচিহ্নের শব্দ যেন বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখছে তুরা, কিন্তু কোনো মানুষের উপস্থিতি নেই কোথাও।তুরার মনে ভয় ধীরে ধীরে গেড়ে বসছে। ঠোঁট শুকিয়ে এসেছে, গলা শুকনো। মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করছে,
“আমি এখানে কিভাবে এলাম? আমি তো আমার নিজের রুমে ঘুমিয়েছিলাম তাহলে এই জায়গায় কে নিয়ে এলো আমাকে?।”
তুরা চারদিক দেখতে দেখতে হঠাৎ কারও সঙ্গে হালকা ধাক্কা খায়। বুকের ভেতরটা ধক করে ওঠে, চমকে উঠে ঘুরে তাকাতেই দেখে রৌদ্র। তুরার চোখে যেনো এক মুহূর্তে স্বস্তির ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ধীরে বলে ওঠে,
“ভাইয়া, এই জায়গাটা কোথায়? এটা তো আমাদের বাড়ি না ভাইয়া, আমাকে বাড়ি নিয়ে চলেন, আমার এইখানে ভালো লাগছে না।”
রৌদ্রের ঠোঁটে ধীরে ধীরে দুষ্টুমি মেশানো একটুখানি হাসি ফুটে উঠলো। এক ধাপ এগিয়ে এসে সে একদম তুরার সামনে দাঁড়ালো। হালকা বাতাসে উড়তে থাকা তুরার চুলগুলো মুখের উপর এসে পড়ছিলো। রৌদ্র নরম হাতে সেই এলোমেলো চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজে দিয়ে নিচু স্বরে বলল।
“রিল্যাক্স,বেইবি এত তাড়া কিসের? আগে বিয়েটা হোক, তারপর না হয় যাবো।”
তুরা এক মুহূর্তে থমকে গেলো রৌদ্রের কথা শুনে। মুখে বিস্ময়ের ছাপ, চোখে অবিশ্বাস। পরক্ষণেই নিজের অস্বস্তিটা ঢাকতে হালকা হেসে বলল,
“মজা করছেন, তাই না? প্লিজ ভাইয়া, আমাকে বাড়ি নিয়ে চলেন আমি বাড়ি যাবো।”
রৌদ্র তুরার কথায় এক মুহূর্তে থেমে গেলো। তার চোখে হঠাৎ যেনো একরকম দৃঢ়তা ফুটে উঠলো। পরের মুহূর্তে রৌদ্র হাত বাড়িয়ে তুরার কোমর চেপে ধরে নিজের দিকে টেনে আনলো একদম কাছে। তুরা হতবাক হয়ে গেলো এই আচরণে, বুকের ভেতর ধকধক শব্দ যেন আরও বেড়ে গেল।রৌদ্র নিচু গলায়, কিন্তু অদ্ভুত দৃঢ় স্বরে বলল,
“আমি মজা করছি না, তুরা তোকে আমার ভালো লাগে। আমি-ই তোকে এইখানে এনেছি, কারণ আমি তোকে বিয়ে করবো। আর সেই বিয়েটা হবে শুধু আমার সাথেই, বুজেছিস?”
তুরার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। পুরো পৃথিবীই থমকে গেছে মনে হচ্ছে। রৌদ্র এমন কথা বলছে কেনো মাথা ঠিক আছে কি তার!
“ভাইয়া, আপনি এসব কি বলছেন? আপনার মাথা ঠিক আছে তো।”
রৌদ্র ধীরে হেসে তুরার দিকে তাকালো।
“আরে ডারলিং, আমার চুম্বক পাখি, রৌদ্র কখনো মাথা নষ্ট করে কথা বলে না। যা বলি, সব একদম সিরিয়াস।”
কথাটা বলেই রৌদ্র তুরার মুখে হালকা ফুঁ দিলো। তুরা রাগে চোখ বন্ধ করে ফেললো। মনে মনে ভাবলো আর না, অনেক সহ্য করেছি ভাইয়ার এই আচরণ। এইবার ভাইয়া সীমা ছাড়িয়ে গেছে!রাগে কাঁপতে থাকা তুরা মুহূর্তেই নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে রৌদ্রকে ধাক্কা দিলো। চোখ রাঙিয়ে চিৎকার করে উঠলো
“আপনি একটা পাগল! তার সাথে একজন চরিত্রহীন মানুষ! আপনার সাহস কী করে হয় আমাকে এখানে নিয়ে আসার? আর কী বললেন আপনি আমাকে বিয়ে করবেন? আপনার কি মনে হয়, আপনার মতো একজন চরিত্রহীন মানুষকে আমি বিয়ে করব? কখনো না!”
রৌদ্র তুরার রাগ দেখে মুখে হাসি ফুটিয়ে বুকে হাত দিয়ে গলায় টান দিয়ে বলল,
“ওয়াও,কি সুন্দর রাগ? বিশ্বাস কর, জানে মান, তোকে রাগলে আরও কিউট লাগে। এখন তো ইচ্ছে করছে তোকে…! না না না, এখন না তিন কবুল বলার পর! আচ্ছা, চল কাজি এসে বসে আছে, দুজন মিলে একটা প্রাইভেট বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাই।”
তুরার রাগ যেনো শরীরের প্রতিটা শিরা উপশিরা ভরে জ্বলতে লাগলো। তার চোখ লাল হয়ে উঠলো, কান দিয়ে যেনো ধোঁয়া বেরোচ্ছে। বুকের ভিতর দম আটকে যাচ্ছে রাগে, ইচ্ছে করছে রৌদ্রকে সামনে থেকে তুলে আছাড় মেরে দিতে। গলা কাঁপতে কাঁপতে, চোখে অশ্রু জমে উঠে সে রাগে বলল।
“আপনি কি ভেবেছেন, আপনি আমাকে নিয়ে এসে পড়লেই আমি আপনাকে বিয়ে করবো? হাহ! কি আছে আপনার? শুধু টাকা-পয়সা, রূপ, আর ক্ষমতা এইগুলো থাকলেই মানুষ বড় হয় না! একটা ভালো চরিত্র থাকতে হয়, আর সেটা আপনার মধ্যে ১% ও নাই। নারী যেনো আপনার কাছে শুধু বিছানার সাজসজ্জা! আমি ভাবতাম, আপনি এতদিন আমার সাথে যা আচরণ করেছেন, সব হয়তো দুষ্টুমি করে বলেছেন, কারণ আপনি তো হাজার হাজার নারীর সান্নিধ্যে যান, নাটক করেন, তাই ভেবেছিলাম সেটাই হয়তো অভ্যাস হয়ে গেছে আপনার। কিন্তু আমার সব ভুল ছিলো যে চরিত্রহীন, সে নিজের পরিবারের মানুষকেও কু-নজর থেকে রেহাই দেয় না, যা আমি আজ প্রমান পেলাম। আর আপনি কি ভেবেছেন আমি আপনার বিষয়ে কিছু জানি না? আমি সব জানি, রৌদ্র খান, সব! শুধু মুখে বলিনি কারণ আপনি আমার ভাই একজন পরিবারের সদস্য বলে চুপ ছিলাম।”
রৌদ্রের মুখের হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেলো, চোখ দুটো লাল হয়ে উঠলো রাগে। এতক্ষণ যে মানুষটা শান্তভাবে হাসছিলো, এখন তার সেই শান্ত চেহারাটা যেনো আগুনে জ্বলছে। এক ঝটকায় সে তুরার সামনে এসে দাঁড়ালো, ইঙ্গুলের মতো ছু মেরে তুরার গাল চেপে ধরলো। তুরার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো, চোখ ভয় আর অবিশ্বাসে বড় হয়ে গেলো। রৌদ্র দাঁত চেপে, গলায় ঝাঁঝ মিশিয়ে বলল।
“অনেক বলেছিস তুই, শালির বা’চ্চা! ভালো লেগেছে বলে তুই এখন তেজ দেখাচ্ছিস? শুন, হালির ঘরে শালি, আমি কোনো নাটক করছি না। আমি তোকে সত্যিই ভালোবাসি বুজছিস? তুই আমার চোখে পড়েছিস, মানে তুই আমারই। তোর আমার থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো রাস্তা নাই, তুরা! তুই চাইলি বা না চাইলি, তুই আমাকেই বিয়ে করবি।”
রৌদ্রের কথাগুলো যেনো আগুনের শিখার মতো তুরার মুখে এসে পড়লো। ভয়, ঘৃণা আর অপমানের মিশ্র অনুভূতিতে তুরা কাঁপতে লাগলো।তুরার মুখে মুহুর্তে রাগে আগুন জ্বলে উঠলো, ভয়কে যেন পুরোপুরি গিলে ফেললো সে। দাঁত চেপে, চোখে পানি নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় কিন্তু তীক্ষ্ণ জেদে বলল।
“মরে গেলেও আমি তোকে বিয়ে করবো না, কু*ওয়ার বা’চ্চা! তুই আসলেই একটা খারাপ, চরিত্রহীন মানুষ! শেষ পর্যন্ত নিজের বোনকেও তোর কু নজর থেকে রেহাই দিলি না! আমার ঘৃণা হচ্ছে তোকে দেখে ঘৃণা!”
রৌদ্রের ধৈর্যের ভাঁজ ভেঙে ফেলছে তুরা। রৌদ্রের চোখে আগুন, কণ্ঠে অচল গাড়াগাড়ি রাগ আর হতাশা মিশে এক বিরাট ঝড়। ঠোঁট কামড়ে রাগ সামলাতে সামলাতে সে এক ঝটকায় তুরাকে কাঁধে তুলে নিয়ে রুমের দিকে হাটা শুরু করলো।পা মাটিতে ভাঁজ কেটে ছুটে যাচ্ছে যেনো কোনও বাধা নেই। তুরা পা নড়াতে লাগলো,শরীর কাঁপছে, নিঃশ্বাস আটকে যাচ্ছে। হাত দিয়ে রৌদ্রের পিঠে সমান তালে কিল ঘুষি দিতে দিতে বলল।
“এই কু*ওা ছাড় আমায় আমি তোর নামে কেস করবো নারী নির্যাতনের মামলা করবো। তোকে আমি রিমান্ডে ডুকাবো ছাড় বলছি আমায়?।”
তুরার আওয়াজে অদ্ভুত এক কণ্ঠের তীব্রতা ভয়ের সাথে সাথে লড়াই করার দৃঢ় সংকল্প। রৌদ্র ঠোঁট কামড়ে রাগ সহ্য করে রুমে এসে এক প্রকার তুরাকে বিছানায় ছুড়ে ফেললো।রৌদ্র চোখ বন্ধ করে রাগ সামলে বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে হাত উঁচিয়ে তুরাকে বলল,
“দেখ তুরা, আমার মাথা গরম করিস না? কাজী এসেছে, চুপচাপ যাবি আর শান্ত, ভদ্র মেয়ের মতো কবুল বলে দিবি। আন্ডারস্ট্যান্ড?”
রৌদ্রের চোখে লাল আগুন, বুকের ভিতর রাগ জমে বিস্ফোরণের মতো ফেটে পড়ছে। আর তুরা রাগে ফুঁসে উঠে চিৎকার করে করে বলল,
“আমার জান নিয়ে নিন তবুও আমি আপনার মতো মানুষকে বিয়ে করবো না!”
মুহুর্তে রৌদ্র তুরার কথায় বাঁকা হেঁসে শার্ট খুলতে খুলতে বলল,
“জান না তোর শরীর নিচ্ছি আমি! আমি তো আবার চরিত্রহীন মানুষ, শরীর না নিয়ে কারও জান নিতে পারি না।”
তুরার এবার একটু ভয় লাগছে। এতক্ষণ সাহস থাকলেও এখন আর নেই রৌদ্র যদি সত্যি ওর উপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কি হবে তা ভেবে কাঁপছে সে। তুরা ধীরে ধীরে বিছানায় পিছাতে লাগলো, হাত-পা কাঁপছে, কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“দে দে, দেখুন আমার কাছে আসবেন না, মেরে ফেলবো কিন্তু আপনাকে।”
রৌদ্র মুহুর্তে হু হু করে হালকা হেসে উঠলো। তার চোখে অদ্ভুত আগ্রাসী উজ্জ্বলতা। ধীরে ধীরে তুরার দিকে এগোতে এগোতে গলা টান দিয়ে বলল,
“লিখবো তোমার হাতে ~ আমি আমার মরন।”
তুরা রৌদ্রের গান গাওয়া দেখে ভয়ে তার দিকে চেয়ে বিছানায় পিছাতে পিছাতে কণ্ঠ কেঁপে বলল,
“ভাইয়া, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন, আমি তো আপনার বোন লাগি।”
রৌদ্র তুরার কথায় কানে না নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে থাকলো, চোখে আগুন ঝলসানো রাগ আর দম্ভ।
“বল, বিয়ে আগে করবো নাকি বা*সর আগে করবো?”
রৌদ্রের কথায় তুরার শরীর জ্বলে উঠলো। লজ্জা আর ভয়ে কান দিয়ে ধোঁয়া বের হতে লাগলো, শরীর কেঁপে উঠছে। মুহূর্তে তুরা ঠোঁট কামড়ে চিৎকার করে বলে উঠলো।
“ছিহ্ নাউজুবিল্লাহ! আর কয় জনের সাথে বাসর করবেন? আপনার লজ্জা থাকা উচিত?।”
তুরার চোখ বড় বড় হয়ে গেছে, গলার কণ্ঠ কেঁপে উঠছে। শরীর ভয়ের সঙ্গে উত্তেজনায় অচল, মনে হচ্ছে নিজের শক্তি আর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে।উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো রৌদ্র। তুরার কণ্ঠ ও চোখের রাগ যেনো তার কাছে কিছুতেই প্রভাব ফেলছে না, সবকিছু এক কান দিয়ে ঢুকে আরেক কান দিয়ে বের হচ্ছে।তুরার শরীর কাঁপছে, লজ্জা আর ভয়ের ছাপ স্পষ্ট, মনে হচ্ছে প্রতিটি শব্দে সে আরও অসহায় হয়ে পড়ছে। রৌদ্র হাসতে হাসতে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল।
“এই যে তুই সত্যি কথা বলেছি! আমার লজ্জা থাকা উচিত ছিলো? কিন্তু আমার ওই লজ্জাটাই নাই! আমার ভালোবাসাটাই #নির্লজ্জ_ভালোবাসা! এখন কাছে আয়, তোকেও একটু আদর করে দেখি তুই কেমন টেষ্টি।”
কথাটা বলেই রৌদ্র এক টানে তুরাকে একদম কাছে টেনে আনলো।মুহুর্তে তুরার উপরে উঠে গালে স্লাইড করতে করতে নরম গলায় হিশহিশ স্বরে বলল।
~ অভদ্র হয়েছি আমি তোমারই প্রেমে, তাই
কাছে আসো না, আরো কাছে আসো না
ইশ, কথা বলো না, কোনো কথা বলো না~
তুরা আকস্মিকভাবে বিরক্ত হয়ে রাগ, লজ্জা আর ঘৃণার মধ্যেই সাহস জুড়িয়ে নিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতে লাগলো। ভয় পেয়ে সে আত্মরক্ষার এক ছটফট করে তৌটা বাঁচানোর একটুখানি জোরে কামড় দিলো রৌদ্রের হাতের বাহুতে, রক্ষা করার প্রয়াসে। রৌদ্র হালকা চিৎকার করে পিছনে সরে গেলো, ব্যথা আর রাগ মিশিয়ে মুখ মচকিয়ে চিৎকার করে উঠলো।
“আ*হহহহ কুওি রেএএএ আজকে তোরে খাইছি?।”
এলোমেলো ফুলের নোংরা আবর্জনার মধ্যে ঘরে বসে আছে শিহাব। সে কোনোভাবেই মানতে পারছে না যে রৌদ্র তুরাকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেছে। শিহাব বার বার চিৎকার করে উঠে, চোখে ক্ষোভ আর হতাশা জেগে উঠছে।
“আমার তুরাকে চাই! মানে চাই! আমি তুরাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করব না। ওকে এনে দাও, নাহলে আমি ওই খান বাড়ির একজনকেও ছাড়বো না!”
শিহাবের গলা কাঁপছে, হাত বাতাসে ঢেলে চিৎকার করছে। ঘরের মধ্যে উত্তেজনা ও রাগের তীব্রতা স্পষ্ট কিন্তু সে একা নয় মানসিকভাবে সে দৃঢ় এবং নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট।শিহাবের বাবা-মা ড্রইং রুমেই বসে আছেন। দুজনের মুখে চিন্তার আঁচড় স্পষ্ট। ঘরের সাজানো ফুলগুলো অচেনা অস্থিরতায় কুঁড়িয়ে পড়েছে। শিহাব যখন শুনলো রৌদ্র তুরাকে নিয়ে চলে গেছে, তখন থেকেই তার ভেতরে পাগলামি ধীরে ধীরে জেগে উঠেছে। মাথায় যেনো অলুখ ঝড় উঠেছে। সে ঘরে ঢুকে ফুল পত্র ছিঁড়ে ছিঁড়ে ছড়িয়ে দিলো, আন্দাজ করা যায় না কোথা থেকে এই তীব্র আক্রোশ এসেছিলো।বারবার চিৎকার করে উঠল, কণ্ঠে ছেঁদে ওঠা বেদনায়,
“তুরাকে এনে দাও! নাহলে আমি কাউকেই ছাড়বো না!”
শিহাবের চোখে ভালোবাসার পাগলামীটা স্পষ্ট সেই প্রেম এখনই বেদনা আর রাগে রূপ নিয়েছে। বাবা-মায়ের চোখে আঘাত ও ভয় তারা একে ধরতে চাইলেও শিহাবের অস্থির পদক্ষেপগুলো থামছে না। ঘরের মধ্যে এক আকস্মিক স্রোত ভয়, কষ্ট আর অপরিকল্পিত জেদ সব মিশে গেছে।
খান বাড়িতে এক বিরাট নীরবতা। কারো মুখে কোনো কথা নেই, হাসি নেই। মনুষ্যেরা যেনো একটা গভীর দুঃখের সাগরে ভাসছে। হলরুমে সবাই বসে আছে রৌদ্রের ফোনে বারবার কল দিলেও বারবারই বন্ধ পাওয়া গেছে। তনুজা খান কণ্ঠ ভেঙে কেঁদে কেঁদে পড়েছেন, মেয়ের জন্য চিন্তায় অস্বস্তি আর অসহায়তার সীমা নেই।সবকিছুর মাঝে অনোয়ার খানের মুখ চিরস্থির সে মুহূর্তেই শক্ত সঙ্গতী হয়ে দাঁড়ালেন। গলার কণ্ঠে দৃঢ়তা রেখে তিনি আশিক খানের উদ্দেশ্যে বললেন,
“থানায় ফোন কর? বলবি আমাদের ঘর থেকে একটা মেয়ে কিডন্যাপ হয়ে গেছে। যে নিয়েছে তাকে ধরতে পারলে যেনো আইনের আওতায় নিয়ে জেলে দেওয়া হয়।”
মুহূর্তেই খান বাড়ির সকলে থমকে গেলো। সবার চোখ এখন আনোয়ার খানের দিকে। হলটা নিস্তব্ধ কেবল ঘড়ির টিকটিকির শব্দ আর কিচেনে কোথাও থরথর করা পাত্রের আওয়াজ ভেসে আসছে।রৌশনী খান মুহূর্তেই বললেন,
“কিহ্? বলছেন আপনি এগুলো রৌদ্র নিয়ে গেছে তুরাকে? রৌদ্র আপনার ছেলে? ওকে কেনো পুলিশে দরবে?।”
আনোয়ার খান নীরবে একবার ঘরটা অতিক্রম করে স্থিরভাবে উত্তর দিলেন,
“হ্যাঁ, রৌদ্র এই বাড়ির ছেলে, অর্থাৎ আমার ছেলে। কিন্তু সে এই বাড়ি থেকে একজনকে নিয়ে পালিয়েছে তার মানে সে এখন অপরাধী। আর আমি অপরাধীকে সাঁজা দিতে কোনো অবস্থাতেই এক পা পিছু হবো না।”
খান বাড়ির সবাই আনোয়ার খানের শক্ত কণ্ঠ শুনে আর আর কেউ কিছু বলার সাহস পেলো না। রৌশনী খান আঁচল মুখে গুঁজে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছেন। আনোয়ার খান আবার আশিক খানের উদ্দেশ্যে বললেন,
“কি বলছি শুনতে পারসনি? এই মুহূর্তে থানায় কল দিবি? তুই না দিলে আমি দিচ্ছি।”
আশিক খান চুপ করে দাঁড়ে রইলো নরম চোখে বড় ভাইকে যেমন সম্মান করে, তেমনি বড় ভাইয়ের সিদ্ধান্তকেও সম্মান জানাতে চেয়েছিলো। কিন্তু এই মুহুর্তে আশিক খান ব্যার্থ। আনোয়ার খান আশিকের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
“ঠিক আছে, কল দিবি না তো? আমি দিচ্ছি?”
এই বলে আনোয়ার খান ফোন বের করে থানায় কল দিলেন এবং উপরতলায় চলে গেলেন। বাড়ির লোকজন সবাই হতচকিত হয়ে ধুম করে বসে রইলো ঘরে কেবল উদ্বেগ আর নিস্তব্ধতার খটকা রয়ে গেলো।
(হাহ্ হয়ছে আমি হাঁপিয়ে গিয়েছি লিখতে লিখতে, আর লিখতে পারবো না। আর রৌদ্র কি গান টাই না গিয়েছে আর সেই গানটার ১২ টা বাজিয়ে দিয়েছে তুরা 🤣🤣)
চলবে….!
~~~~~
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠকমহল আমার লেখায় বানান ভুল হলে অবশ্যই আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ সবাইকে..! 😇
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৯