নির্লজ্জ_ভালোবাসা
পর্ব ৩
লেখিকাঃ-#প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
রৌদ্রর ঘর যেন এক অচেনা তাণ্ডবক্ষেত্রে পরিণত হয়ে আছে। রাগে, হতাশায় আর ভেতরের অজানা আগুনে তার শরীর জ্বলে যাচ্ছে। বুকের ভেতরটা যেনো দাউ দাউ করে পুড়ছে, মাথায় কিছুই কাজ করছে না। যা সামনে পাচ্ছে চেয়ার, বই, গ্লাস, টেবিলের উপর রাখা ফাইল সব ছুঁড়ে ফেলছে মেজেতে, দেয়ালে, যেদিকে চোখ যাচ্ছে সেদিকেই ছুড়ে দিচ্ছে যেন এই ভেতরের জ্বালা একটু প্রশমিত হয়। পর্দা বাতাসে উড়ছে, টেবিল ল্যাম্পের আলো মাটিতে ভেঙে পড়ে ছড়িয়ে গেছে। তবু রৌদ্র থামছে না, তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে, কপাল ঘামে ভিজে গেছে। মনে হচ্ছে, কেউ যেনো তার ভেতরের নিয়ন্ত্রণটা ছিনিয়ে নিয়েছে, আর সে নিজের রাগে নিজেকেই ধ্বংস করে ফেলছে ধীরে ধীরে।
রৌদ্র নিজের ভেতরের ঝড় সামলাতে না পেরে সে হঠাৎ আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। বুকের ভেতর ধকধক করছে, নিঃশ্বাস ভারী, চোখ লালচে। দাঁত কিরমির করে তাকিয়ে আয়নার প্রতিফলনে নিজের মুখের দিকে ফিসফিস করে বলল।
“আব্রাহাম রৌদ্র খান কখনো কারও মায়ায় পড়তে পারে না কখনো না! মেয়েরা শুধু আমার নেশা, বুজলি? নেশা! যা পুরোনো হলে আর লাগে না আর আমি কিনা আমার নিজের কাকতো বোন তুরার মায়ায় পড়ছি? থু… থু… থু…”
রাগে নিজেই থুতু ফেললো মেজেতে, বুকের ভেতরটা আরও ধুকপুক করতে লাগলো। দু’হাত দিয়ে মাথার চুল পেছনে ঠেলে আয়নার খুব কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে গলায় একপ্রকার বিদ্রূপ মিশিয়ে বলল,
“এই শুন, রৌদ্র তুই কারও মায়ায় পড়িস নাই। ওইসব তোর নেশা, শুধু সময়ের খেলা। তুরা হ্যাঁ, তুরাও হয়তো তোর নেশার মধ্যে একজন পড়ে গেছে এর বেশি কিছু না, বুজলি? এর বেশি কিছু না?।”
রৌদ্র নিজের মাথার চুল ধরে টানতে লাগলো। ছাদে তখন তুরার সঙ্গে যা হয়েছে তা মনে পড়তেই ভেতরে অদ্ভুত এক চাপ উঠছে। তুরার সাথে যে আচরণ করেছে সে সেটা কোনো সাধারণ স্বাভাবিক আচরণ না । যখন রৌদ্র বুজতে পারে সে আসলে কি করছিলো তখনি তার মাথায় যেনো র*ক্ত চড়ে বসে। রৌদ্র রাগে দেয়ালে ঘুষি মারতে লাগলো। হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। ফোনের স্কিনে নাম দেখে রৌদ্রর রাগ ম্লান হয়ে গেলো, মুখে হালকা হাসি ফুটলো। ফোন রিসিভ করে কানে ধরতেই শুনল,
“সুইটহার্ট কোথায় তুমি? আমি রেস্টুরেন্টে, প্লিজ একটু আসো,আমার তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।”
রৌদ্র বাঁকা হেঁসে জবাব দিলো।
“ওকে বেইবি, জাস্ট ওয়েট, আমি আসছি। আমার মাথা একটু নষ্ট, জানোই আমি কি করতে চাই।”
মেয়েটি হেসে ফেললো।
“ওলে আমার বাবু, তা নিয়ে চিন্তা করো না। তুমি ফাস্ট রেস্টুরেন্টে আসো, আমি তোমার মাথা ঠান্ডা করে দিচ্ছি। ওকে বেইবি, লাভ ইউ উম্মাহ।”
রৌদ্র ফোন ধরেই হাসতে হাসতে বলল,
“ওকে বেইবি , ইউ আর মাই সুইটহার্ট। নাও, আমি খুব শীঘ্রই আসছি?লাভ ইউ টু উম্মাহ্।”
দুপুরের দিকে শিহাব আসলো, খান বাড়ির সবাইকে আনন্দে ভরে দিলো। সবাই তাকে দেখে খুশি হলো। শিহাব ধীরে ধীরে সবার সঙ্গে হালকা আলাপ করে তুরার বাবা, আশিক খানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আংকেল, আসলে আমি তুরা কে নিয়ে একটু বেরোতে চাই।”
আশিক খান হালকা হেসে উত্তর দিলেন,
“হা হা, ঠিক আছে, নিয়ে যাও। তবে সন্ধ্যার আগে দিয়ে যেও বুজোই তো, মেয়ে মানুষ।”
শিহাব আবারও কণ্ঠে হাসি রেখেই বলল,
“আরে আংকেল, আপনি চিন্তা করবেন না, সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসবো। আর ওর হাতের আংটিও মাপ নিতে হবে।”
শিহাব সবার অনুমতি নিলো, তুরার সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য। এদিকে তুরা কিছুই জানে না। সে নিজের রুমের বেলকনিতে বসে উপন্যাসের বই পড়ছিলো। হঠাৎ তুরার মা, তনুজা খান, হাতে একটা শাড়ি নিয়ে বেলকনিতে এসে বললেন,
“তুরা, কি করছিস এখানে? রুমে আই তো মা।”
তুরার চোখে বিস্ময় আর লাজুকতা একসাথে ফুটে উঠল, তুনজা খানের হাতে শাড়ি দেখে সে ভ্রু কুঁচকে বলল,
“তোমার হাতে শাড়ি কেনো মা?”
তনুজা বেগম হালকা মৃদু হেসে তুরার গালে হাত দিয়ে বললেন,
“শিহাব এসেছে তোকে নিয়ে বের হবে?”
মুহূর্তের মধ্যে তুরার গাল লাল হয়ে গেলো। লজ্জায় সে হালকা মাথা নিচু করে ফেললো। তনুজা খান তুরার লজ্জা মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে, কোমল হাসি নিয়ে বললেন,
“হয়ছে থাক, আর লজ্জা পেতে হবে না। এখন আয় তো, এই শাড়িটা পরিয়ে সাজিয়ে দেই আমার পরী মেয়েটাকে।”
তনুজা খান ধীরে ধীরে, যত্ন নিয়ে তুরাকে শাড়ি পরিয়ে দিলেন। শাড়ির কোমল কাপড়টি তুরার কাঁধে সুন্দরভাবে বসানো হলো, প্রত্যেকটা ভাঁজ সঠিকভাবে ঠিক করা হলো যেনো তা তার রূপকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে। তুরার চুলের দিকে হালকা স্পর্শ দিয়ে তনুজা খান শাড়ির ধনুক ঠিক করলেন, ছোট্ট আংটি আর কানের দুল ঠিকভাবে সাজিয়ে দিলেন। তুরার চোখে লাজুকতা আর উত্তেজনার মিশ্রণ ফুটে উঠছে।
তুরা আর শিহাব বাড়ির সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠলো। দুজনেই চুপচাপ বসে আছে, কোনো কথা বলছে না। শিহাব গাড়ি ড্রাইভ করছে, আর তুরা বাইরে তাকিয়ে আকাশ আর রাস্তার দিকে চোখ রাখছে।
কিছুক্ষণ নীরবতার পর শিহাব হালকা কাঁশি দিয়ে বলল,
“কেমন আছো তুরা?”
তুরা শিহাবের কণ্ঠ শুনে চমকে গেলো। হালকা মাথা দুলিয়ে বলল,
“হুম ভালো আপনি?”
শিহাব হেসে বলল,
“ভালো হবে না নিজের পছন্দের লাইফ পার্টনার কে পাচ্ছি কেই বা খারাপ থাকে বলো।”
লাজুক হয়ে তুরা সামান্য আবারো মাথা নিচু করলো। গাড়ির ভিতরে তাদের টুকটাক কথা হলো, মাজে মাজে রাস্তার আলো এবং গাড়ির হালকা শব্দ ছাড়া নীরবতা ছিলো। শিহাব গাড়ি রেস্টুরেন্টের সামনে থামালো। দুজনেই গাড়ি থেকে নেমে রেস্টুরেন্টে ডুকলো। পাশা পাশি বসে, চারপাশে আলো আর মানুষের চমক-চমক ধরে তুরার চোখে নতুন উদ্দীপনা ফুটতে লাগলো।শিহাব মৃদু মুচকি হেসে তুরার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তো তুরা একটা জিনিস জানার জন্য আমার মনটা মহিলা মানুষদের মতো কু কু করছে সেটার আন্সার কি তুমি দিবে?।”
তুরা হালকা হ্যাঁ সুঁচক মাথা দুলালো। শিহাব সাথে সাথে গলা খাক্কারি দিয়ে বলল,
“আচ্ছা তুরা আমাকে তোমার কেমন লেগেছে তুমি কি নিজে থেকেই এই বিয়েতে রাজি নাকি পরিবারের সিদ্ধান্তে রাজি হয়েছো?”
তুরা কিছুক্ষণ থেমে ভেবে কিছু বলার চেষ্টা করলো। এখন তার বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে ছিলো না, তবে বাবার প্রতি সম্মান দেখাতে চেয়ে রাজি হয়ে আছে। মনে কিছুটা ভালো লাগা শুরু হয়েছে শিহাবের প্রতি, যা এখন পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তুরা কিছুখন ভেবে মুখ খুলে কিছু বলতে যাবে সাথে সাথে, হঠাৎ ওয়েটারের হাত থেকে ভুলবশত কফি পড়ে যায়। কফি তুরার শাড়িতে ছড়িয়ে পড়লো। শিহাব তারাতারি তুরার শাড়ি ধরে অস্থির হয়ে বলল,
“তোমার কেথাও লাগেনি তো শরীর জ্বলছে না তো?।”
তুরা শাড়ির দিকে দেখলো এবং হালকা ভ্রু কুঁচকিয়ে বলল,
“না কোথাও লাগেনি তবে শাড়িটার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলো।”
শিহাব ওয়েটারের দিকে তাকিয়ে একটু গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“কি ভাই, মন কোথায় দেখে কাজ করেন? একটু দেখে শুনে তো কাজ করবেন।”
ওয়েটার মাথা নিচু করে অপরাধ স্বরে বলল,
“সরি স্যার, আসলে হাত ফসকে পড়ে গিয়েছে, বুজতে পারিনি স্যার।”
তুরা ওয়েটারের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসি দিয়ে বলল,
“ইট’স ওকে, কোনো সমস্যা নেই। আচ্ছা, ওয়াশরুমটা কোথায়, একটু দেখাতে পারবেন?”
ওয়েটার সম্মানসূচকভাবে বলল,
“হ্যাঁ শিউর, ম্যাম, আপনি আমার সাথে আসুন।”
তুরা যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো, সাথে সাথে শিহাব বলল,
“আমি আসবো, তুরা।”
তুরা হালকা মাথা নাড়লো, বিনয়ী কণ্ঠে বলল,
“না না, আপনি এখানে বসেন। আমি শাড়িটা ঠিক করেই আসছি।”
তুরা ওয়েটার সাথে ওয়াশরুমে চলে আসলো। ওয়াশরুমের ডুকেই তার চোখ আস্তো বড় বড় হয়ে গেলো৷ যেনো নিজের চোখ কেই বিশ্বাস করতে পারছে না, ভাবছে এইটা কি অর চোখের ভুল নাকি সত্যি। তুরা চোখ ঘষলো, সামনে একি জিনিস দেখছে। সামনে রৌদ্র একটা মেয়েকে দেয়ালে চেপে ধরে লি*ব কিস করছে, রৌদ্র যেনো পারছে না মেয়েটাকে খেয়ে ফেলতে। মেয়েটার জামা কাঁদ থেকে অনেক টুক নামানো, আর রৌদ্র বার বার ওই কাদে নিজের ঠোঁট ছুয়াচ্ছে, মেয়েটা হাপাচ্ছে, শরীর অজান্তেই কেঁপে উঠছে।দুই হাতে রৌদ্রের চুল খামছে ধরে আছে। এই দৃশ্য দেখে তুরা আর নিজেকেই সামলাতে পারলো না, মুখ থেকে বের হলো এক দীর্ঘ বুক ফাটানি চিৎকার।
“আআআআআআআআআআআআ…..
শেষে সাউন্ড বন্ধ হয়ে গেলো, তুরা সেন্স হারিয়ে ধব্বাস করে ফ্লোরে পড়ে গেলো।
চলবে….!
(হাই পাঠকদল আপনাদের জন্য একটা গান আছে আমি গান টা নিচে দিয়ে দিচ্ছ😁)
~ আমি হলাম রোমিও ~লেডি কিল্লার রোমিও~
~পাক্কা প্লে বয় রোমিও হাহ্~
~~~~
কেমন হয়ছে পাঠকঘন অবশ্যই কিন্তু জানাবেন আর গানটা শুনার জন্য দাওয়াত দিলাম আপনাদের!🙈😁😁
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৪