Golpo romantic golpo নির্লজ্জ ভালোবাসা

নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২


নির্লজ্জ_ভালোবাসা

পর্ব ২
লেখিকাঃ-#প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ

খান বাড়িতে যেন মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ নেমে এলো। সবার মুখে হাসি, চোখে আনন্দের ঝিলিক। তুরার বিয়ে ঠিক হলো, আংটিও পরিয়ে দেওয়া হলো। চারপাশে শুধু হাসি, শুভেচ্ছা আর উৎসবের গুঞ্জন।কিন্তু সেই আনন্দের মাজেই একজনের মন যেন অজানা কিছুর টানে কেঁপে উঠছে। সে আর কেউ না আব্রাহাম রৌদ্র খান।যাকে অনেকে প্লে বয় নামে চিনে এবং যে গল্পটা পড়ছেন সেও জানে।রৌদ্র নিজেও জানে না কেন এমন হচ্ছে তুরাকে দেখার পর থেকে যেন নিজের ভেতরটা ওলটপালট হয়ে গেছে। বুকের গভীর থেকে এক অচেনা তাড়না তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। মনে হচ্ছে,তুরাকে একদম নিজের করে নিতে।

পরেদিন বিকেলের রোদটা হালকা সোনালী হয়ে এসেছে। আকাশের একপাশে লালচে আলো, অন্য পাশে মেঘের ভাঁজে কোমল নীল আভা। তুরা নিঃশব্দে ছাদে চলে এলো । সারাদিনের ব্যস্ততা, অতিথিদের কোলাহল আর নিজের ভেতরের অস্থিরতা থেকে একটু মুক্তি চাইছে সে, তুরা ছাদের ধারে এসে গ্রিলের পাশে দাঁড়ালো।দূরে পাখিরা জোড়ায় উড়ছে, বাতাসে গাছের পাতা মৃদু সুরে নড়ছে সবকিছুতেই যেনো একটা শান্ত ছোঁয়া।তুরা গভীর শ্বাস নিলো, যেনো নিজের মনটাকে একটু হালকা করে নিতে চায়।বাতাসের তুরার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছে।সূর্যের শেষ আলো চুলের আগায় লেগে ঝিলিক দিচ্ছে, যেনো আলো আর বাতাস মিলে তার চারপাশে এক নরম পর্দা বুনছে।পরনে জলপাই রঙের কামিজ, হালকা কাপড়টা বাতাসে দুলে উঠছে তাকে যেনো আরও নিরীহ, আরও মায়াময় করে তুলেছে।

রৌদ্রের ফোনে নেটওয়ার্ক পাচ্ছিলো না, তাই অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কল ধরার জন্য ছাদের দিকে পা বাড়ালো। সুইজারল্যান্ড থেকে কল এসেছে অফিসের নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করার কথা। কাজের তাগিদেই ছাদে উঠে ফোন কানে ধরলো সে। কিন্তু কথা শুরুর আগেই তার চোখ হঠাৎ থেমে গেলো। ছাদের কিনারায়, যেখানে এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাতাসে তার লম্বা চুলগুলো পাগলের মতো উড়ছে। সূর্যাস্তের শেষ আলো চুলের ডগায় পড়ে সোনালী রঙে ঝলমল করছে, যেনো বিকেলের নরম আলোয় কেউ তার চারপাশে সোনার আবরণ বুনে দিয়েছে। রৌদ্রর চোখ বিস্ময়ে থমকে গেলো পিছন দিক থেকেও চিনতে একটুও ভুল হলো না ওটা যে তুরা।সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।

এই মেয়েটাকে তো সে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছে,পরিবারের মতো, ঘরের একজন সদস্য হিসেবে। তাহলে আজ কেন মনে হচ্ছে তুরা যেনো নতুন কেউ? কেন তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠছে? বাতাসের প্রতিটি ঝাপটা, তুরার চুলের প্রতিটি নড়াচড়া, এমনকি তার নিঃশব্দ দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিটাও আজ রৌদ্রের মনে অচেনা আলোড়ন তুলছে।রৌদ্র নিজের মনকে বুজাচ্ছে এটা শুধু মুহূর্তের ভুল হয়তো সামান্য মোহ।কিন্তু যত বুজাতে যায়, ততই মনে হয় কিছু একটা ভেতর থেকে টেনে ধরছে।

ফোনের ওপাশে কেউ কথা বলছে, কিন্তু রৌদ্রর কানে কিছুই পৌঁছাচ্ছে না। তার চোখ আর মন পুরোপুরি বন্দী তুরার সেই স্নিগ্ধ অবয়বে। রৌদ্র ভাবতে থাকে এটা কি কেবল তার নারী-নেশার স্বাভাবিক অংশ? না কি তুরা সত্যিই তার হৃদয়ের কোথাও গভীরে ছোঁয়া দিয়ে গেছে? সে তো অনেক মেয়ের সঙ্গে ছিলো, অনেক হাসি, অনেক সম্পর্ক কিন্তু কোনো মুখ, কোনো চোখ তাকে এমন ভাবে নীরব করে দিতে পারেনি, যেমনটা তুরা করছে। রৌদ্রর বুকের ভেতর কেমন অচেনা ধুকপুকানি, চোখ সরাতে চায়, কিন্তু পারে না তুরা যেনো এই বিকেলের পুরো আলোটা নিজের চারপাশে টেনে নিয়েছে, আর রৌদ্র শুধু তাকিয়ে আছে, নিঃশব্দে, হারিয়ে গেছে এক অজানা আকর্ষণের ভেতরে।

তুরা কিছুক্ষণ ছাদের ধারে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকলো, বাতাসে উড়তে থাকা নিজের চুলের মাজেও যেনো সে কিছু একটা ভাবছিলো। নিজের মনের অস্থিরতা, অজানা কোনো অনুভূতি হয়তো। কিছু সময় পর তুরা গভীর একটা শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালো ছাদ থেকে নামার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ঘুরতেই তার চোখ আটকে গেলো এক জোড়া দৃষ্টিতে যেখানে রৌদ্র দাঁড়িয়ে আছে আর তার দিকেই তাকিয়ে আছে। মুহূর্তেই সময় যেনো থেমে গেলো। তাদের চোখ একে অপরের সঙ্গে মিলল, আর সেই মিলনে যেনো চারপাশের বাতাস ঘন হয়ে উঠলো, নিস্তব্ধতা আরও ভারি লাগতে শুরু করলো।

রৌদ্রের চোখে ছিলো এক অচেনা স্থিরতা, এমন দৃষ্টি যা তুরা আগে কখনো দেখেনি। আর তুরা তাকাতেই তার ভেতরটা যেনো কেঁপে উঠলো, আত্না ছ্যাৎ করে উঠলো ভয়ে, লজ্জায় নাকি অন্য কিছুর টানে সে নিজেও জানে না। এক মুহূর্তের মধ্যেই তার নিঃশ্বাস আটকে গেলো বুকের ভেতর ধুকপুকানি এত বেড়ে গেলো যে মনে হলো হয়তো শব্দটা বাইরে বেরিয়ে পড়বে। তুরা সাথে সাথে মাথা নিচু করে ফেললো যেন দৃষ্টি সরাতে চায়, কিন্তু ততক্ষণে রৌদ্রর চোখে সে পড়ে গেছে পুরোপুরি।

তুরা মনে মনে নিজেকে সামলে নিতে চেষ্টা করলো। বুকের ভেতর কেমন যেনো কাঁপুনি, তবুও সাহস জোগাড় করলো। ভাবলো, যতোই ভয় পাক বা অস্বস্তি লাগুক, রৌদ্র তো পরিবারের একজন সদস্য। চোখের সামনে পড়ে গিয়েছে, কথা না বললে তা অস্বাভাবিক লাগবে। নিজের মনকে বুজাতে বুজাতে গভীর একটা শ্বাস নিলো তুরা । বাতাসে এখনো তার চুলগুলো নরমভাবে উড়ছে, মুখে হালকা উদ্বেগের ছাপ। তুরা ধীরে ধীরে পা বাড়িয়ে রৌদ্রর দিকে এগিয়ে এলো, যেন প্রতিটি পদক্ষেপে নিজের ভেতরের ভয়কে একটু একটু করে জয় করছে। রৌদ্র তখনো তার দিকে তাকিয়ে আছে চুপচাপ, নিরব, কিন্তু চোখে এক অদ্ভুত গভীরতা। তুরা দাঁড়িয়ে থেমে গেলো তার সামনে, হাতদুটো মুঠো করে ধরলো, তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় কথাগুলো বেরিয়ে এলো, যেন শব্দগুলোও ভয় পাচ্ছে উচ্চারিত হতে।

“র…র…রৌদ্র ভা…ভা…ভাইয়া, কেমন আছেন?”

শব্দটা বেরোতেই তুরা নিজেই চমকে উঠলো। গলার স্বর যেনো নিজের কানেই অচেনা লাগলো। বুকের ভেতরটা আরও জোরে ধুকপুক করতে লাগলো। চোখ নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো সে রৌদ্রর দৃষ্টি এড়াতে পারলেও, তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সাহসটা যেনো আর ধরে রাখতে পারছে না।

রৌদ্র তুরার কাঁপা কাঁপা কণ্ঠ শুনলো, কিন্তু কোনো উত্তর দিতে পারলো না। যেনো শব্দগুলো কানে পৌঁছালেও মন পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তুরার উপস্থিতি, তার মুখের রূপ, তার চারপাশের বাতাস সবকিছু মিলে রৌদ্রর চিন্তাগুলোকে স্তব্ধ করে দিলো। মনে হলো তুরার বলা সেই একটিমাত্র শব্দের নিচে লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত টান, যা তাকে নিজের ভেতরেই বন্দী করে ফেলেছে।

তুরা রৌদ্রর থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে দাঁড়িয়ে আছে। বাতাসে তাদের মাজের দূরত্বটা যেনো অদৃশ্য কোনো স্রোতে কাঁপছে। রৌদ্রর চোখ একটানা স্থির হয়ে আছে তুরার দিকে, তুরার মুখ, সেই টানা টানা হরিণের মতো চোখ, আর ঠোঁটের কোণে ছোট্ট সেই তিলটা যেনো তুরার মুখে এক অন্যরকম জ্যোতি এনে দিয়েছে। সূর্যাস্তের আলো তুরার গাল ছুঁয়ে যাচ্ছে, তার চোখে ঝিলিক দিচ্ছে একটা নরম লাজুক আলো।

রৌদ্রর মনে হলো, সে হয়তো নিঃশ্বাস নিতেও ভুলে গেছে। সেই তিলটা, সেই চোখ দুটো সবকিছু তাকে টানছে এমনভাবে, যেনো তুরার মুখটাই এক অদ্ভুত চুম্বক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভিতরে এমন এক অনুভূতি কাজ করছে, যা সে আগে কখনও বুজেনি। শব্দ বেরোতে চায়, কিন্তু গলা দিয়ে ওঠে না।

রৌদ্র স্থির চোখে তুরার দিকে তাকিয়ে রইলো। মনে এক অদ্ভুত প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো তুরা কি আসলেই এত সুন্দর? নাকি শুধু তার চোখেই তুরা এত অদ্ভুতভাবে মোহময় হয়ে উঠেছে? হয়তো তুরা ঠিক এমনই, হয়তো নয়,কিন্তু এই মুহূর্তে রৌদ্রর চোখে তুরা যেনো পৃথিবীর সবচেয়ে কোমল দৃশ্য।রৌদ্রর বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দটা আরও বেড়ে গেলো। চোখ সরাতে চাইলেও পারলো না। মনে হলো, তুরার মুখে এক অজানা আলো ঝলমল করছে, যা রৌদ্রকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

তুরা রৌদ্রকে এইভাবে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরও থরথর করে কাঁপতে শুরু করলো। হাত, পা, পুরো শরীর কাঁপছে, যেনো বাতাসের প্রতিটি ঝাপটায় সে নিজের ভেতরের অস্থিরতা আরও স্পষ্টভাবে অনুভব করছে। তুরা কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস সামলে রাখার পর আবার সাহস জোগালো, গলা কেঁপে উঠলেও মুখ খুললো,

“ভা…ভা…ভাইয়া, তাকিয়ে আছেন কেনো?”

কিন্তু রৌদ্র কোনো উত্তর দিলো না। তার চোখ তুরার দিকে স্থির, মনে হচ্ছে সময় নিজে থমকে গেছে। হঠাৎ,রৌদ্র নিজের অজান্তে ধীরে ধীরে তুরার দিকে এগোতে লাগলো। তুরা তখনই পিছিয়ে যেতে শুরু করলো,বুকের ভেতর কেমন যেনো অচেনা তাড়া, ধুকপুকানি আরও বেড়ে গেলো।
মুখ থেকে কাঁপা কাঁপা স্বর বের হলো, যেনো শব্দগুলোও তার ভেতরের আতঙ্ককে প্রতিফলিত করছে।

“ভা…ভা…ভা…ভাইয়া, আ…আপ, আপনি এ…এ…এভাবে এগোচ্ছেন, ক…কেন?”

রৌদ্র তবুও কোনো কথা বলল না। তুরার চোখের দিক তাকিয়ে ধীরে ধীরে তুরার দিকে এগোতে লাগলো। তুরা ভয়ে পিছাতে পিছাতে হঠাৎ পা ফসকে পরে যেতে নিলে। মুহূর্তেই রৌদ্র সাথে সাথেই তার কোমর চেপে ধরে ফেললো। তুরা ভয়ে চোখ বন্ধ করে রৌদ্রের শার্টের কলার শক্তভাবে আঁকড়ে ধরলো, যেনো নিজের ভেতরের আতঙ্ক ও সাহস একসাথে ছুঁ*ড়ে দিচ্ছে। মুহূর্তটা যেনো থেমে গেলো, চারপাশের বাতাস, ছাদের নিস্তব্ধতা, রৌদ্রের দৃঢ়তা এবং তুরার কাঁপুনি মিলেমিশে এমন এক নিস্তব্ধ মুহূর্ত তৈরি করলো যা সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের সেই নিখুঁত দৃশ্যের মতো শুটিং তাদের মাজে নেমে এলো।

তুরা ধীরে ধীরে চোখ খুললো, আর চোখ খুলতেই তার নজর পড়লো রৌদ্রের গভীর চোখের দিকে। মুহূর্তের জন্য সে হতবাক হয়ে গেলো, রৌদ্রের চোখে যেনো তার প্রতিফলন ফুটে উঠেছে। ভয়ে আর লজ্জায় তার হাত স্বাভাবিকভাবেই শার্টের কলার থেকে ছেড়ে দিলো। কিছুক্ষণের মধ্যে সুজা হয়ে দাঁড়ালো, দাঁড়িয়ে থাকার পরে মনে হলো, এখানে আর থাকা যাবে না, নাহলে এই ভয়ের মধ্যে হার্ট ফিল হয়ে মারা যাওয়ার শঙ্কা তাকে গ্রাস করবে। হালকা ধোঁয়াটে বাতাসে নিজের নিঃশ্বাস সামলে তুরা ধীরে ধীরে ছাদ থেকে নামার জন্য পা বাড়ালো, কিন্তু ঠিক তখনই তার পা হঠাৎ থমকে গেলো রৌদ্রের স্থির, গভীর কণ্ঠে বলে উঠলো,

“তুরা, দাঁড়া?”

তুরা থমকে দাঁড়িয়ে গেলো। রৌদ্রর কণ্ঠ যেনো তার বুকের গভীরে কেঁপে উঠলো, শরীরের প্রতিটি স্নায়ুতে ভয় আর অজানা এক শিহরণ বয়ে গেলো। সে নিজেও বুজতে পারছে না, কেন তার বুক এত জোরে ধুকপুক করছে, কেন হাতের তালু ঘামে ভিজে যাচ্ছে। তুরা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতেই দেখলো রৌদ্র একদম সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে, এত কাছে যে দুজনের নিঃশ্বাস প্রায় একসাথে মিশে যাচ্ছে। তুরা মুহূর্তেই এক কদম পিছিয়ে গেলো, চোখ নামিয়ে নিচু স্বরে বলল,

“ভাইয়া কিছু বলবেন নাকি?”

রৌদ্রের ঠোঁটে হালকা হাসি খেলে গেলো সে ধীরে ধীরে আরও এক কদম এগিয়ে এসে গভীর কণ্ঠে বলল,

“হ্যাঁ তো, তুই এইভাবে পিছাচ্ছিস কেন?”

তুরা ভয়ে আরও এক ধাপ পেছনে সরে গেলো, গলার স্বর কাঁপছে, তবু সাহস করে বলল,
“আপ আপ আপনি যা বলবেন দূর থেকেই বলুন?।”

রৌদ্রের চোখে তখন এক অদ্ভুত দৃষ্টি, মায়া, টান আর অজানা আকর্ষণ মিশে আছে।রৌদ্র আবারো এক লাফে তুরার একদম সামনে এসে দাঁড়ালো দুজনের চোখ চোখে আটকে গেলো সময় যেনো থেমে গেলো। রৌদ্র তুরার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের অজন্তেই ফিসফিস কণ্ঠে বলল,

“দূরেই তো থাকতে চাই, কিন্তু তুই তো আমাকে চুম্বকের মতো টেনে আনছিস, বল এইভাবে যে টানছিস, আমি যদি ছুঁয়ে দিই, তুই ঠিক থাকতে পারবি তো?”

তুরা রৌদ্রের কথায় সম্পূর্ণ অবাক হয়ে গেলো।রৌদ্র এসব কী বলছে,কেন এমন কথা বলছে মাথা ঠিক আছে তো।তুরার কণ্ঠে কেঁপে উঠে বলল,

“ভাইয়া, আপনি এসব কী বলছেন? আমি কেনো আপনাকে টানবো? আর আমি, আমি, নিচে যাবো, মনে হয় আম্মু ডাকছে, চললাম ভাইয়া।”

কথাটা শেষ করতেই তুরা ধীরে ধীরে ঘুরে যেতে লাগলো, কিন্তু তার আগেই রৌদ্র এক শক্ত হাতে তার হাত ধরে টেনে নিলো মুহর্তেই ছাদের দেয়ালের সাথে তুরাকে চেপে ধরলো। তুরা চমকে ওঠে ভয়ে চোখ বন্ধ করে দিলো। কিছুখন নিঃশ্বাস আঁটকে থাকার পর মনে হলো, কারও গরম নিশ্বাস তার মুখের ওপর পড়ছে। অজান্তেই ধীরে ধীরে চোখ খুলতে শুরু করলো। চোখ খুলতেই চোখে পড়ল রৌদ্র, রৌদ্রর চোখ যেনো মাতাল, গভীর, এমনভাবে যে তুরা এক মুহূর্তের জন্য পুরোপুরি হঠক অনুভব করলো।
রৌদ্র তুরার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো। কোনো কারণেই নিজের মনকে থামাতে পারছে না। মনে হচ্ছে তুরার প্রতি তার আকর্ষণ এতটাই গভীর হয়ে যাচ্ছে যে সবকিছু ভীষণ শক্ত হয়ে যাচ্ছে। তুরা ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলো। তুরা ধীরে ধীরে সরে যেতে চাইলো কিন্তু রৌদ্রর বাহু থেকে বের হতে পারলো না। তুরা আবার একটু নিচু হয়ে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো, রৌদ্রও তুরার সাথে নিচু হয়ে একইভাবে তার দিকে দৃষ্টি বজায় রাখলো, কিছুক্ষণ এভাবে করার পর তুরা ধীরে ধীরে বলল, কণ্ঠে কেঁপুনি আর লাজুকতা মিশে,

“ভাইয়া, সমস্যা কি এইভাবে ধরেছেন কেনো? আমি নিচে যাবো, প্লিজ, আমাকে ছাড়ুন আমি ভয় পাচ্ছি আপনাকে।”

রৌদ্র তুরার কথায় নিঃশব্দে হালকা হেসে উঠলো।রৌদ্র তুরার দিকে তাকিয়ে হালকা নিশ্বাস ফেললো। রৌদ্র সাথে সাথে তুরার মুখে নরম ফু দিলো, যেনো বাতাসের স্পর্শ দিয়ে তার কাছে থাকা অনুভব করাতে চাচ্ছে। তুরা সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেললো, লাজুক আর ভেতরটা কাঁপছে। রৌদ্র তুরার বন্ধ মাখা মুখের দিক তাকিয়ে হালকা হাসি নিয়ে, নিজের অজান্তেই কোমল সুরে গান গাইতে শুরু করলো।

~মন আমার তোর কিনারে ~
~হারানো দিন দাহারে~
~সে তো আর মানছে না রে~
~এবার ভালোবাসতে আই~
~তোর ছাঁয়ায় সুঙ্গী হবো~
~দুহাতে প্রেম কুড়োবো~
~আমাকে চুপটি করে মনের কথা বলতে আই~

(বাকিটুক না হয় আপনারা ফোনেই নিজে থেকে শুনে নিবেন রৌদ্রের গলায় এত গান শুনতে মন ধরে কেনো আপনাদের😁)

চলবে…..!

~

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠকদল আশা করি সকলে ভালো আছেন। আমি দেখেছি আমার গল্পে অনেকে বাজে মন্তব্য করেছেন৷ অনেকে আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলেছেন। এখন আমি আপনাদের বলি উপন্যাস সাধারণত একটা মাএ গল্প সেই গল্প কখনো বাস্তবতার সাথে মিল হয় না। উপন্যাস শুধু মানুষের মনে একটু বিনোধন দেওয়ার জন্য। মন খারাপ থাকলে মনটাকে হালকা করার জন্য৷ আপনারা যদি উপন্যাসের সাথে বাস্তবতার সাথে তুলনা করেন তাহলে তো আপনারা উপন্যাস পরে বাস্তবতা খু্ঁজতে চাচ্ছেন। উপন্যাস শুধু মাএই একটা বানানো গল্প, আর আমি যেই গল্প টা লিখছি সেটার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই, শুধুই আপনাদের মনে একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য একটা গল্প। তাই আমি সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছি এই গল্পে নায়ক একটু বেপরোয়া নির্লজ্জ থাকবে। আর চরিএ প্রথম একটু খারাপ থাকবে যা ধীরে ধীরে পাল্টাবে। আর আমার গল্প যাদের পড়তে ইচ্ছে করবে না তারা এডিয়ে বলবেন। অযথা বাজে মন্তব্য করবেন না। আর কিছু ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। 🙏🙏

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply