মেঘেরওপারেআলো
পর্ব_৩১
Tahmina_Akhter
আমানত শাহ বিমানবন্দরের বাইরে মেঘালয় অপেক্ষা করছিল গাড়ি নিয়ে। মাহরীন এবং মাশফি ঠিক দশমিনিট পর এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে এলো। মাহরীনের চোখদুটো অস্থির চিত্তে এদিক-সেদিকে ঘুরে ঘুরে কাউকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত মানুষটার দেখা পেতেই উচ্ছ্বসিত হয়ে মাশফির হাত ধরে বলল,
— ওই যে আমার মেঘালয়কে দেখা যাচ্ছে।
মাশফি একহাতে মায়ের হাত এবং অন্যহাতে ট্রলিব্যাগ টেনে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে৷ মেঘালয় তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে যায়। মাহরীন মেঘালয়ের একগালে হাত রেখে বলল,
— শুকিয়ে গেছিস তুই?
— মা ছাড়া আমার যত্ন নেবে কে?
— আমার অবর্তমানে তোর যত্ন নেয়ার জন্য বউ এনে দিয়েছি না তোকে!
— তোমার পুত্রবধূর যত্ন নিতে নিতে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি। সে আমার যত্ন নেবে কখন?
— মিথ্যা কথা কম বল! পাঁজি ছেলে। হাত ভেঙে, পা কেটে যখন অসুস্থ ছিলি তখন তোর যত্ন নিয়েছিল কে?
মাহরীনের কথা শুনে মেঘালয় হেসে ফেলল। ছেলের থেকেও ছেলের বউ তার মায়ের কাছে বিশেষ মানুষ।
এয়ারপোর্ট থেকে বাড়িতে পৌঁছানোর পর সবাই যেন আনন্দে মেতে উঠল। মাহরীন একে একে তানিয়া এবং আলোকে জড়িয়ে ধরল।
— আমার যে কি খুশী লাগছে! একসাথে আমার দুই ছেলের বউ মা হচ্ছে। আমি হবো দাদি। কবে আসবে পুঁচকে দুটো? আমার সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে চলে আসলে দু-চোখ ভরে দেখতাম ওদের!
মাহরীন হাসতে হাসতে কেঁদে ফেললেন। তানিয়া, আলো, মাশফি এবং মেঘালয়ের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে।
আলো মাহরীনের হাত ধরে বলল,
— আপনি আপনার নাতি-নাতনিদের দেখতে পারবেন এবং তাদের কোলে নিয়ে এই বাড়ির প্রতিটি কোণায় ঘুরবেন ফিরবেন।
মাহরীন খুশি হয়ে আলোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলো। মেঘালয় তার মায়ের পাশে গিয়ে বসল। মাহরীন হসপিটালের থাকার সময়কার কথাগুলো মেঘালয় এবং আলোর সঙ্গে শেয়ার করছিল। সিতারা বেগম পাশের সোফায় বসে তাদের কথাগুলো শুনছে।
সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে তানিয়া মাশফির পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলল,
— আপনি এত পাষাণ!
তানিয়ার বলা তিনটি শব্দে বোধহয় এক আকাশ সমান অভিমান জমে ছিল। মাশফি বিস্মিত হয়ে তানিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। তানিয়া ফের মাশফির মুখের দিকে তাকাতে পারল না। মনে হচ্ছিল মাশফি যেন এবার রেগে গিয়ে তার ওপর চড়াও হবে। মাশফি “এক্সকিউজ মি” বলে তানিয়ার হাত ধরে সবার সামনে থেকে চলে তাদের ঘরের উদ্দেশ্য।
ঘরে গিয়ে মাশফি তানিয়াকে খাটের ওপরে বসিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বলল,
— আমি পাষাণ হলাম কবে? বরাবরই তুমি পাষাণ ছিলে, তানিয়া!
তানিয়া মাশফির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মানুষটা তাকে এখনও ভুল ভাবছে। অথচ, আগের তানিয়া আর এখনকার তানিয়ার মাঝে বিস্তর ফারাক। দেশে ফিরে আসার পর মাশফির অনুপস্থিতি, মেঘালয় এবং আলোর সম্পর্ক দেখে তানিয়া একটু একটু করে অনুধাবন করতে পেরেছে , স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর একটা সম্পর্ক। দু’জন মানুষের সমান সমান কন্ট্রিবিউট থাকা উচিত। হোক ভালোবাসা, সম্মান, কিংবা একে অপরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেয়া। সবটা ব্যালেন্স করে চলতে হয়। তাহলে সম্পর্ক সুমধুর হয়ে ওঠে। আলো তার চেয়ে বয়সে কত ছোট। অথচ, কত চমৎকার ভাবে মেঘালয়কে বুঝে! মেঘালয়কে ঘিরে তার কত আয়োজন! মেঘালয়ের কাছ থেকে সামান্য কিছু পেলে কত সানন্দ নিয়ে আলো গ্রহণ করে।
অথচ, তানিয়া কখনোই মাশফিকে একইভাবে ট্রিট করেনি। কেবল তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে। মাশফির মতামতকে গুরুত্ব দেয়নি। কেবল রাতের আঁধারে তাদের স্বাভাবিক একটা সম্পর্ক ছিল।
ইদানিং তানিয়ার ইচ্ছে করে আলোর মত করে তারও একটা সুখের সংসার হোক। ভালোবাসায় টইটম্বুর একটা আদুরে সংসার হোক। যেখানে ঝগড়াঝাটি সামান্য থাকবে। তবে ভালোবাসার পরিমান থাকবে অনেক বেশী।
মাশফি একমনে তাকিয়ে রইল তানিয়ার মুখের দিকে। মাতৃত্বের ছাপ স্পষ্ট হয়ে গেছে তানিয়ার শরীরে। ঢিলাঢালা ম্যাক্সিতে তার সুন্দরী বউটাকে দেখতে ভালো লাগছে। মন চাচ্ছে শক্ত করে বুকের মধ্যে চেপে ধরতে। কিন্তু, নিজেকে তানিয়ার সামনে খোলা বইয়ের মত প্রকাশ করতে ইচ্ছে করে না। তানিয়ার কাছ থেকে পাওয়া অবজ্ঞা অবহেলা মাশফিকে সহজ হতে দিচ্ছে না।
মাশফি পেছনে ফিরে ঘুরে দাঁড়ায়, ঠিক ওই সময় তানিয়া মাশফির হাত টেনে ধরল। মাশফি বিস্মিত হয়ে পেছনে ফিরে তাকালো। তানিয়া মাশফির মুখের দিকে অসহায়ের মত তাকিয়ে বলল,
— আমাকে আরেকটিবার সুযোগ দেয়া যায় না, মাশফি? অতীতের সকল ভুলত্রুটি মাফ করে দাও আমার। আমি জানি তোমাকে আমি কত কষ্ট দিয়েছি? আমার আচরণে তোমার হৃদয় কতটা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে? তবুও, আমি চাই তুমি আমাকে আরেকটিবার সুযোগ দাও। বিশ্বাস করো, এবার তোমাকে অভিযোগ দেয়ার চান্স দেব না। কারণ, তানিয়া তোমার প্রেমে আবারও পরেছে। ভার্সিটির মাঠে প্রথমবার তোমার প্রেমে ঠিক যেই কারণে পরেছিলাম।
মাশফি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল তানিয়ার মুখের দিকে। এই কোন তানিয়া বসে আছে তার সামনে? একরোখা, বদমেজাজি, কম কথা বলা, অহংকারী তানিয়ার চোখের পানি আজ যেন বহু না বলা কথার সাক্ষী হয়ে গেছে।
তানিয়ার হাত থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে দিলো মাশফি। তারপর, বিনাশব্দে ঘর থেকে প্রস্থান নেয় সে। মাশফি চলে যাওয়ার পর তানিয়া দুইহাত দিয়ে মুখ ঢেকে হু হু করে কেঁদে ফেলল। পাঁজরের মাঝে এত তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভব হচ্ছে! মাশফির হয়তো এমন ব্যাথা হতো যখন সে মাশফিকে বারবার খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। আজ যেন প্রকৃতি তার কর্মের ফল ফিরিয়ে দিয়েছে।
মাহরীনের ফিরে আসার উপলক্ষে পরদিন বড় করে মিলাদের আয়োজন করেছে মাশফি এবং মেঘালয় মিলে। এতিমখানার কিছু বাচ্চাদের এবং আত্মীয়স্বজন সবাইকে দাওয়াত করা হয়েছে। সকাল থেকে পুরো বাড়িতে প্রচুর মানুষের সমাগম। আলো এবং তানিয়া মাহরীনের ঘরে চুপচাপ বসে আছে। কারণ, মাহরীনের কঠিন নিষেধাজ্ঞা আছে। তারা দু’জন যেন ঘরের ভেতরে থাকে। একটু পরপর হয় সিতারা বেগম নয়ত মাহরীন এসে ওদের দুজনকে এটাসেটা খেতে দিয়ে যাচ্ছে।
যোহরের নামাজের পর মিলাদ পড়িয়ে খাবার পর্ব শুরু হলো। মেঘালয়, মাশফি সহ তাদের কয়েকজন কাজিন মিলে হাতে হাতে সাহায্য করছে।
হুট করে মেঘালয়ের মনে পরল আলোর কথা৷ সময় তো কম হলো না! মেঘালয় একফাঁকে বার্বূচির কাছে গিয়ে এক প্লেট বিরিয়ানি নিয়ে চলল তার মায়ের ঘরের দিকে। কারণ সেখানেই আছে আলো। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেলো তানিয়া এবং খাটের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে আছে। মেঘালয়কে দেখে দু’জনে উঠে বসল। মেঘালয় আলোর পাশে তানিয়াকে দেখে জিভ কেটে বলল,
— সরি ভাবি। আমি জানতাম না, আপনি এই ঘরে বসে আছেন। আলো তুমি খাও। আমি ভাবির জন্য আরও একপ্লেট বিরিয়ানি নিয়ে আসছি।
আলোর সামনে প্লেট রেখে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে গেল মেঘালয়। আলো লজ্জায় মাথা নীচু করে ফেলেছে। “তানিয়া ভাবি কি না কি ভাবছে, কে জানে !”
এদিকে তানিয়ার মন খারাপ হলো। মাশফি তো আগে এমন করত। কত কত ঘরোয়া অনুষ্ঠানে মাশফি এমন করে ঘরে এনে খাবার দিয়ে যেত। তখন সে বিরক্ত হত। এরপর, ধীরে ধীরে মাশফি নিজেকে গুটিয়ে ফেলল। আগ বাড়িয়ে তানিয়াকে আর খাবার দিয়ে যেত না। তখনও তানিয়া টের পেল না তারা কতটা দূরত্ব বাড়িয়ে ফেলেছে নিজেদের মাঝে?
তানিয়ার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসার আগে চোখ মুছে ফেলল ওড়নার কোনা দিয়ে।
এমন সময় দরজা খুলে প্রবেশ করল মাশফি। হাতে বিরিয়ানির প্লেট। তানিয়ার সামনে এসে দাঁড়ালো। তানিয়া ঘাড় উঁচু করে তাকিয়ে রইল মাশফির মুখের দিকে।
— খেয়ে নাও।
বহুদিন পর পুরনো সেই মাশফিকে খুঁজে পেয়েছে তানিয়া। হাত বাড়িয়ে প্লেট হাতে নিয়ে কোলের ওপর রাখল৷ মাশফি চলে যাচ্ছিল। কিন্তু, তানিয়ার ডাকে দাঁড়াতে হলো মাশফিকে।
— দুই লোকমা খেয়ে যাও। কখন না কখন খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবে?
আলো মুখের ওপর ওড়না চেপে হেসে ফেলল। মাশফি ভীষণ অবাক হয়ে যায়।
একবার আলোর দিকে আড়চোখে তাকায়। দেখল আলো উল্টোদিকে ফিরে বসে আছে। ছোট ভাইয়ের বউয়ের সামনে কিভাবে?
— ভাবি, আমার একটা কাজ আছে। আমি আমার ঘরে যাই।
কথাটি বলে অপেক্ষা করল না আলো প্লেট হাতে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
— আলো চলে গেছে। এসো আমি খাইয়ে দেই।
তানিয়ার আবদার শুনে মাশফি নিজেকে আঁটকে রাখতে পারল না। খাটের ওপর পা তুলে বসল তানিয়ার মুখোমুখি হয়ে।
তানিয়া বিরিয়ানি তুলে দিলো মাশফির মুখের সামনে। মাশফি খেলো চুপচাপ। দুই লোকমার জায়গায় মাশফিকে চার লোকমা খাইয়ে দিলো তানিয়া।
— এবার তুমি খাও। আমি বসে থাকি।
মাশফির কথা শুনে তানিয়ার মুখে হাসির রেখা ফুটে ওঠে। ছোট ছোট লোকমা দিয়ে বিরিয়ানির খেয়ে শেষ করল তানিয়া।
তানিয়ার খাওয়া শেষ হতেই মাশফি এঁটো প্লেট হাতে নিয়ে বেরিয়ে গেল।
এদিকে, আলো রুম থেকে বের হবার পর মেঘালয়ের সামনে পরল। আলোকে প্লেট হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হতে দেখে মেঘালয় ভ্রু কুঁচকে ফেলল। মেঘালয় কিছু জিজ্ঞেস করার আগে, আলো মেঘালয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
— বড় ভাইয়া, ভাবির জন্য বিরিয়ানি নিয়ে এসেছে। ভাবি আবদার করল ভাইয়াকে দুই লোকমা বিরিয়ানি খাইয়ে দেবে। এখন, আমি সেখানে থাকলে কেমন দেখাবে? তাই চলে এলাম। ভালো করেছি না?
আলোর কাছ থেকেই মূল ঘটনা শুনে মেঘালয় “গুড” বলে সকলের অগোচরে আলোর হাত ধরে অভিমানী কন্ঠে বলল,
— তানিয়া ভাবির তার স্বামীর জন্য চিন্তা আছে। তোমার চিন্তা নেই, বুঝলে?
আলো বেশ কিছুক্ষণ বোকার মত তাকিয়ে রইল। মেঘালয়ের কথার মানে বোধগম্য হতেই আলো হেসে ফেলল স্বশব্দে। সচারচর আলোর মুচকি হাসি দেখে অভ্যস্ত মেঘালয়। কিন্তু, আলোর হাসির শব্দ শুনে মেঘালয় বেশ কিছুক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল। “প্রিয় মানুষের মুখের হাসির যেন পৃথিবীর সবচেয়ে চমৎকার দৃশ্য” আলোর হাসি থামতেই মেঘালয় আলোর কানের কাছে মুখ বাড়িয়ে বলল,
— আমি বাদে আর কারো সামনে স্বশব্দে হাসবে না, মিসেস. মেঘালয়।
আলো শক্ত হয়ে যায় মেঘালয়ের কথা শুনে। অনিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মেঘালয়ের মুখের দিকে। মেঘালয় সোজা হয়ে দাঁড়াতেই দুজনের চোখাচোখি হলো। পরমূহুর্তে মেঘালয় হেসে ফেলল। আলোর গালে একহাত রেখে আদুরে সুরে বলল,
— ঘরে গিয়ে খাবারটা শেষ করো। আমি অনুষ্ঠান শেষে খাবার খাব। তাও আমার বাবুর আম্মুর হাতে।
মেঘালয় চলে গেল ছাঁদের দিকে। আলো ধীরপায়ে হেঁটে রওনা হলো তার রুমের দিকে।
অনুষ্ঠান তখনও শেষ হয়নি। ইনায়া এসেছে ঢাকা থেকে। তানিয়া কোথায় আছে সেই খোঁজ নিয়ে সে ছাঁদের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনি তার চোখ পরল অনাকাঙ্ক্ষিত এক দৃশ্যের ওপর। ইনায়া যেন নিজের চোখ দু’টোকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
ইনায়া সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগে যা অঘটন ঘটার ঘটে গেল। তানিয়া পা ফসকে পরে গেল সিঁড়ি থেকে। তানিয়ার ভারি শরীরটা যখন সিঁড়ির ওপর আছড়ে পরল। ঠিক তখনি তানিয়ার গগনবিদারী চিৎকারে যেন আল্লাহ আরশ অব্দি কেঁপে ওঠে। ইনায়া “বড় আপু” বলে মুখ হাত দিয়ে চিৎকার করে। তানিয়ার শরীরটা সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পরে। ইনায়া পাগলের মত ছুটে যায় বোনকে বাঁচাতে। ইনায়া গিয়ে তানিয়াকে ধরে ফেলল। মাথা ফেটে রক্ত পরছে। ইনায়াকে দেখে ব্যাথায় কাতর তানিয়া কান্না করতে করতে বলছে,
— আমার কিছু হয়ে গেলে বাবুকে দেখে রাখিস, ইনায়া।
— এই তানিয়া? কি হয়েছে তোমার? হায় হায় রক্ত পরছে যে!
মাহরীন পাগলের মত কথাগুলো বলতে লাগল। ততক্ষণে বাড়িতে উপস্থিত মেহমানসহ, আলো, মাশফি, সিতারা বেগম এবং মেঘালয় এসে সিঁড়িতে উপস্থিত হয়। মাশফির শরীর কাঁপছে তানিয়ার দুরবস্থা দেখে।
— আরে তাকিয়ে তাকিয়ে কি দেখছিস? তানিয়াকে কোলে তোল। হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।
মাহরীনের কথা শুনে মাশফির টনক নড়ে। ভিড় ঠেলে মাশফি এগিয়ে যায় তানিয়ার দিকে। তানিয়াকে কোলে তোলার জন্য হাত বাড়াতে গেলেই তানিয়া ঠোঁট কামড়ে ব্যাথা সহ্য করে কোনোমতে ইনায়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— খবরদার, মাশফি যেন আমাকে স্পর্শ না করে, ইনায়া।
তানিয়ার কথা শুনে উপস্থিত সবাই অবাক হয়। কিন্তু, এই মূহুর্তে যেন তানিয়ার কথায় গুরুত্ব দেয়ার চেয়ে তানিয়াকে নিয়ে হসপিটালে যাওয়া জরুরি হয়ে পরেছে। তাই মাশফি একপ্রকার জোর করে তানিয়াকে কোলে তুলে নিলো। সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো তানিয়ার ভারি শরীর নিয়ে। মেঘালয়, মাহরীন এবং ইনায়া পেছনে পেছনে ছুটলো।
এদিকে আলো আতংকিত হয়ে যায়। ভয়ে ওর পুরো শরীর কাঁপছে। সিতারা বেগম আলোর অবস্থা বুঝতে পেরেছে। তাই এগিয়ে যায় আলোর কাছে। আলোর কাঁধে হাত রেখে বলল,
— আল্লাহ ভরসা, তোর বড় জায়ের কিছুই হবে না।
আলো একমনে আল্লাহকে ডেকে যাচ্ছে। কারন, তার মনে কু ডাকছে! কেমন অস্থির লাগছে!
রাত নয়টার দিকে মেঘালয়ের কল এলো আলোর মোবাইলে। আলো কাঁপা কাঁপা হাতে কল রিসিভ করল। ওপাশ থেকে ভেসে এলো মেঘালয়ের বিষাদ মাখা সুর।
আলো একহাতে মোবাইল শক্ত করে ধরে রাখল। অন্যহাতে তার বাড়ন্ত গর্ভের ওপর রাখল। মোবাইলের ওপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে মাশফির হু হু করা কান্না করার শব্দ। আলোর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরতে শুরু করল তার অজান্তেই।
তার কানে বার বার প্রতিধ্বনি তুলছে মেঘালয়ের বলা কথাগুলো,
” তানিয়া ভাবি আর নেই, আলো। ভাবি তার অনাগত বাবুকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে”
চলবে…
Share On:
TAGS: তাহমিনা আক্তার, মেঘের উপরে আলো
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব (৮+৯+১০)
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৭
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৫
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২৭
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২০
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৪
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৭
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১২
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব (১৫,১৬)
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৮