মেঘেরওপারেআলো
পর্ব_২০
Tahmina_Akhter
তিনটা গাড়ি এবং কাব্য এবং শিশিরের বাইক নিয়ে সবাই রওনা হলো নেভালের উদ্দেশ্য।
মাহরীন আজ অনেক খুশী। বহুদিন পর সবাইকে নিয়ে আবারও ঘুরতে বেরিয়েছে বলে। একই গাড়িতে তানিয়া, ইতি, মাহরীন, আলো এবং ড্রাইভিং সীটে মাশফি। অন্য গাড়িতে কাব্য, মেঘালয়সহ বাকিরা আসছে।
তানিয়া খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে সবার সঙ্গে। ইতি, আলোর পাশে বসে গুটুর গুটুর আলাপ করছে।
দক্ষিণ খুলশি থেকে গাড়ি বের হয়ে জিএসসির মোড় ধরে শহরের পথে নেমে আসে।
সেখান থেকে নিউ মার্কেট এলাকা পার হয়ে বন্দর টোল রোড ধরে সোজা এগোলেই এয়ারপোর্ট রোডে উঠে যায়।
এয়ারপোর্ট রোড ধরে সোজাসুজি পতেঙ্গা সৈকতে। পতেঙ্গা সৈকত থেকে সোজা এয়ারপোর্ট রোড ধরে এগোতে হবে।
কিছুদূর গেলে ডান পাশে নেভাল এরিয়া (BN Naval Base) পরে।
কর্ণফুলী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনা চট্টগ্রামে নেভাল নামে পরিচিত | পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের পূর্বে হযরত শাহ আমানত(রা:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে এই স্পটটি চট্টগ্রামবাসীদের কাছে অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয় | একটু সময় পেলেই সবাই বন্ধু-বান্ধব বা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে চলে যায় নেভাল | শহরের যান্ত্রিকতামুক্ত নির্মল পরিবেশে নদীর পাড়ে বসে মুক্ত শীতল হাওয়া যেন দুর করে দেয় বহুদিনের জমানো ক্লান্তি |
নেভালে পৌঁছাতেই সবাই যার যার মত করে ভাগ হয়ে ঘুরতে লাগল। ইতি, আলো মাহরীনের হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। মেঘালয় এবং কাব্য এখনো আসেনি বিধায় তারা তিনজন অপেক্ষা করছিল।
পাঁচমিনিটের মধ্যে মেঘালয় এবং কাব্য চলে আসে। মেঘালয় হেলমেটে খুলে চুলগুলো পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে বাইে থেকে নেমে সোজা এগিয়ে যায় আলো এবং তার মায়ের দিকে। মাহরীন মেঘালয়কে দেখেই বলল,
— কতবছর পর এলাম রে! আগের থেকে বেশ উন্নত হয়েছে।
মাহরীনের চোখেমুখে মুগ্ধতা ছেয়ে যায়। মেঘালয় মাহরীনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আলোর দিকে তাকালো। আলো অস্তমিত সূর্যটার দিকে তাকিয়ে ছিল। হুট করে তার মনে হলো মেঘালয় তার দিকে তাকিয়ে আছে। আলো তাকালো মেঘালয়ের দিকে, মেঘালয় মুচকি হেসে ফেলল। মেঘালয়ের হাসি দেখে আলো বোকার মত তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। “কেন যে হাসল মানুষটা? কে জানে?”
সবাই মিলে সূর্যডোবার দৃশ্য দেখল। ধীরে ধীরে লোকজনের আনাগোনা বাড়তে শুরু করল। এবার সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলো সি-ফুড খাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। সবাই মিলে একসঙ্গে সি-ফুড খেলো। আনন্দ, হৈ হুল্লোড়ে তারপর সবাই নষ্টালজিয়া। ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভেবে মন কেমন করে উঠল সবার!
সৈকতের এপারে জাহাজ আর ওপারের শিল্প-কারকাখানার আলোতে সন্ধ্যায় আরো মায়াবী হয়ে উঠে নেভাল | মেঘালয় একা দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছিল। আলো সবার আড্ডা থেকে উঠে দাঁড়ালো। তারপর, এগিয়ে যায় মেঘালয়ের কাছে। আলো মেঘালয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে নিঃশব্দে। মেঘালয় আলোর উপস্থিতি টের পায়। কিন্তু, ভান করে যেন আলো একসময় তাকে ডাক দেয় নিজ থেকে! কিন্তু, আলো!! সে যেন মেঘালয়ের সামনে এলে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে না। মানুষটার সঙ্গে সহজ হবার অনেক চেষ্টা সে নিজ থেকেই করছে। কিন্তু পারছে না। অথচ, মেঘালয়ের আচরণ দেখলে মনে হয়, সে আলোর কতজনমের পরিচিত!
আলোর নীরবতা দেখে মেঘালয় নিজের মৌনতা ভেঙে বলল,
— কিছু বলবে?
— আপনার কাছে শুধু কিছু বলতে আসি? কোনো কারণ ছাড়াও তো আসতে পারি?
আলোর কথা শুনে মেঘালয় হেসে ফেলল। আলোর বামহাত ধরে বেশ কাছাকাছি দাঁড় করিয়ে, আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— কারণে অকারণে আমার পাশে এসে দাঁড়ানোর ইচ্ছা, অনুভূতি তোমার মাঝে এখনও তৈরি হয়নি। যেদিন তৈরি হবে সেদিন নিজেই টের পাবে।
মেঘালয়ের কথা শুনে বোকা আলো, বোকার মত তাকিয়ে রইল। মনের কৌতুহল মেটাতে মেঘালয়কে প্রশ্ন করে বসল।
— কারণ অকারণে একজনের কাছে একজন কেন যাবে, ডাক্তার সাহেব?
— কারণ, তার উপস্থিতি ভালো লাগবে। তার পাশে বসে থাকলে নিজেকে সুখী লাগবে। তার সকল কথা শুনতে ভালো লাগবে। তার সুখে সুখ আবার তার দুঃখে দুঃখী মনে হবে নিজেকে।
মেঘালয় অদূরে ভেসে থাকা ভাসামান জাহাজের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলল। আলো মেঘালয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল বেশ কিছুক্ষণ। ইদানিং তারও তো এমন লাগে! মেঘালয়ের আশেপাশে ঘুরতে। মেঘালয়ের কথা শুনতে। মেঘালয় যখন তার মায়ের জন্য কষ্ট পায়, তখন তারও কষ্ট লাগে। যখন মেঘালয় হাসে তখনও তারও হাসতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কেন, এমন অনভুব হয়?
আলো মেঘালয়ের দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকিয়ে থাকে সেই জাহাজের দিকে। মেঘালয় রেলিংয়ের ওপরে রাখা আলোর হাতের ওপর নিজের হাত রেখে বলল,
—এই অনুভবের নাম কি জানো?
আলো জানে এই অনুভবের নাম। বুকের ভেতরে হুট করে কি যেন লাফালাফি করছে! আলোর অস্থির লাগছে। মেঘালয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর, শুকনো গলায় বলল,
— ভালো লাগা! এই অনুভবের নাম ভালো লাগা।
আলোর কাছ থেকে উত্তর শুনে মেঘালয় হেসে বলল,
— গুড। সবই জানো দেখছি।
আলো মাথা নীচু করে ফেলল। আলোর চোখ দুটো তখন মেঘালয় আর তার হাতের ওপর। ল্যাম্পপোস্টের আলোতে দেখা যাচ্ছে মেঘালয়ের ফর্সা হাতের নীচে চাপা পরে থাকা তার কৃষ্ণবর্ণের হাতখানা। মেঘালয় কত যত্নে করে ধরে রেখেছে!
— কখনো কারো প্রেমে পরেছো, মিসেস মেঘালয়?
আলো মাথা উঁচু করে তাকালো মেঘালয়ের প্রশ্ন শুনে। দেখল মেঘালয় তার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ দুই জোড়া চোখের শুভদৃষ্টি হলো। আলোর কৃষ্ণকালো চোখের দিকে রইল মেঘালয়। আর আলো মেঘালয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজে চলেছে!
— মেঘালয়? এই তাড়াতাড়ি আয়।
মাশফির ডাকে দু’জন চট করে দূরে সরে গেল। ভীষণ লজ্জা পেলো তারা ।
মেঘালয় “চলো” বলেই আলোকে সঙ্গে নিয়ে পা বাড়ালো, যেখানে সবাই একসঙ্গে জড়ো হয়েছে। সবাই বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। এবার কাব্য ঠিক করল মেঘালয় এবং আলো কাব্যের বাইকে করে যাবে। বাকিরা আগের মতই। কাব্যের কথা শুনে সবাই মুখ টিপে হাসছে। আলো মাথা নীচু করে রাখে। মাঝে মাঝে কাব্যকে সে চিনতেই পারে না। মেলাতে পারে না কোচিংয়ে দেখে আসা সেই রাগী কাব্য স্যারকে। মানুষটা পরিবারের সামনে অন্য এক মানুষ। ফ্রেন্ডলি টাইপ।
একে একে তিনটা কার আগে রওনা হলো। তারপর, শিশিরের বাইকে করে কাব্য এবং ইতি। সবশেষে, কাব্যের বাইকে মেঘালয় এবং আলো। এইবারই প্রথম দু’জনের বাইক রাইড। মেঘালয় বাইকে বসে আলোকে ইশারা করল বাইকে এসে বসার জন্য। আলো বাইকের সামনে এসে মেঘালয়কে বলল,।।
— এর আগে কখনো বাইকে উঠিনি। আমি পারব না। আমার তো মনে হচ্ছে, বাইক চলার সময় যেকোনো সময় আমি ছিটকে পরে যাব।
— এত কথা কেন বলো, তুমি?
কথাটি বলে মেঘালয় আলোর হাত ধরে কাছে টেনে এনে দাঁড় করালো।
— কিছু হবে না। আমাকে শক্ত করে ধরে বসো৷
আলো ভয়ে ভয়ে বাইকে উঠে বসল। মেঘালয়ের কাঁধে হাত রাখল। মেঘালয় তার কাঁধ থেকে হাতটা সরিয়ে এনে তার পেটের কাছে রেখে বলল,
— জড়িয়ে ধরো। পরে যাওয়ার চান্স ৯৯℅ কমে যাবে।
আলো ভরসা পেলো। মেঘালয়কে একহাত দিয়ে একপাশে জড়িয়ে ধরতেই বাইক সাঁই করে ছুটতে শুরু করল।
আলো মেঘালয়ের পিঠের ওপর মাথা রাখল৷ মেঘালয় আয়নায় দেখল সেই দৃশ্যটুকু। হুট করে মন চাইল নিজেকে ঘুরিয়ে, আলোকে বুকের মাঝে শক্ত করে চেপে ধরতে।
মাশফি এবং তানিয়ার আগামীকাল ফিরে যাওয়ার দিন। মাশফি তানিয়াকে বারবার বলছে, ছুটি বাড়ানোর কথা। কিন্তু, তানিয়া নাছোড়বান্দা। সে বলছে, ছুটি বাড়ানো সম্ভব নয়। ফিরে যেতে হবে। এদিকে মাশফির ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে না। মায়ের জীবন নিয়ে যেখানে নিশ্চিয়তা নেই। সেখানে সে ছেলে হয় কিভাবে মা’কে এমন অবস্থায় রেখে ভীনদেশে যাবে।
অবশেষে বহু চিন্তাভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে মাশফি। তানিয়া একাই ফিরে যাবে। মাশফি আরও কয়েকটা দিন থেকে তারপর ফিরে যাবে। জীবনে যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন ঝুটঝামেলা, ব্যস্ততা থাকবে। কিন্তু, মা চলে গেলে, মা’কে কোথায় খুঁজে পাবে?
কাব্য-ইতির আজ পোল্যান্ডের ফ্লাইট। এবার ফিরে যেতেই হবে। সকাল থেকেই মাহরীন কান্নাকাটি করছে। কাব্যকে তিনি কোনোভাবে ছাড়তে চাইছেন না। জীবনের অন্তিম সময়টুকুতে তিনি সবাইকে কাছে পেতে চাইছেন। কিন্তু, প্রকাশ করে কাউকে এই কথা বলতে পারছেন না। কাব্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাবে। এই ভেবেই মাহরীন নিজের বুকের ওপর পাথর চাপা দেয়। কিন্তু, চোখকে তো আর বুঝাতে পারছেন না।
দুপুরের খাবার আজ কেউই খেতে পারল না। কেমন গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাড়িতে৷ বিদায় বেলায় মাহরীনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল কাব্য৷ কাব্যের কান্না দেখে সবার চোখে অশ্রু টলটল করে। মাহরীন কাব্যের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বোঝাচ্ছেন,
— একদম কান্না করবি না। তুই ফিরে এসে দেখবি, আমি সুস্থ হয়ে গেছি। মেঘালয় আমাকে ইন্ডিয়ায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছে। এবার ভালো কিছু হবে, ইনশাআল্লাহ।
মাহরীনের কথায় কারো মনে শান্তি লাগছে না। কারণ, মাহরীনের পরিণতি সম্পর্কে সবার ধারণা আছে।
ইতি মাহরীনের হাত ধরে বিদায় নিলো। একে একে সবার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে অবশেষে বাড়ি থেকে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্য বের হয়ে যায় কাব্য এবং ইতি।
মাহরীন আজ গেটের সামনে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। যতক্ষণ না অব্দি কাব্যের গাড়ি অস্পষ্ট হচ্ছিল।
মেঘালয় এসে মাহরীনকে ধরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। পেছনে পেছনে মাশফি, তানিয়া এবং আলো আসে। মাহরীনকে নিজের ঘরে দিয়ে এসে নিজের ঘরে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে মেঘালয়। আলো মেঘালয়ের কাছে না গিয়ে মাহরীনের ঘরে গিয়ে বসে রইল। মাহরীনের নীরব কান্না আলোর ভালো লাগছিল না দেখতে। তবুও, বসে রইল।
পরদিন সকালে তানিয়াকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে, বাড়িতে ফিরে আসে মাশফি।
এরইমাঝে নতুন করে মাহরীনকে ডাক্তার দেখানো হলো। ডাক্তার আশা-ভরসা কিছুই দিলেন না। তবে, আগের থেকে কিছুটা সুস্থবোধ করছেন তিনি।
দেখতে দেখতে আলোর এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষা চলে এসেছে। পুতুল আলোকে কল দিয়ে জানালো পরীক্ষার ব্যাপারে। আলোর তো মাথায় হাত। কারণ, বই খাতা সবই তার বাবার বাড়িতে। আলো মাহরীনের সঙ্গে কথা বলে বাবার বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি নিলো। মাহরীন অনুমতি দিলো। মাহরীন আফসার সাহবকে কল করে আসতে বললেন। আফসার সাহেব ভরদুপুরে এলেন। মাহরীন বেশ আপ্যায়ন করল আফসার সাহেবকে।
আলোকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হলেন আফসার সাহেব। এতকিছুর মাঝে আলোর একবারও মনে পরল না মেঘালয়ের এই ব্যাপারে কিছু জানানো উচিত।
বাড়িতে গিয়ে আলো বেমালুম ভুলে গেল মেঘালয়ের কথা । পুরোদমে বইয়ের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখল।
রাত বারোটার দিকে আলোর মোবাইলে কল এলো। আলো মোবাইল হাতে নিতেই দেখতে পেলো মেঘালয়ের নাম। এবার মাথা হাত দিয়ে নিজেকেই মনে মনে গালমন্দ করছে।
“না জানি মানুষটা তাকে কি ভাবছে”
আকাশকুসুম ভাবতে ভাবতেই কল রিসিভ করল আলো। কল রিসিভ করতই ওপাশ থেকে ভেসে বিষাদমাখা কন্ঠস্বর,
— চলে গেলে! অথচ, আমাকে একটিবার জানানোর প্রয়োজনবোধ মনে করলে না,মিথ্যাবতী! আমার ঘরটা যে আজ তুমিহীন শূন্যতায় পূর্ণ।
মেঘালয়ের মুখ থেকে এমন কথা শুনে আলো কলটা কেটে দিলো। তারপর, মোবাইলটা বুকের মাঝে চেপে ধরল। আনমনা হয়ে নিজেই নিজেকে বলছে,
“হায়! হায়! এমন কথা, কেউ এভাবে বলে? মানুষটা কি তাকে কথার যাদুতে আঁটকে ফেলছে!
চলবে…
Share On:
TAGS: তাহমিনা আক্তার, মেঘের ওপারে আলো
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৪
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৩১
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৯
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৩০
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২৩
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৭
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২৯
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২৭
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৮
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১