Golpo romantic golpo নির্লজ্জ ভালোবাসা

নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৫


নির্লজ্জভালোবাসা লেখিকাসুমি_চোধুরী

পর্ব ২৫ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)

সুইজারল্যান্ডে রাত শেষে সকাল নেমেছে। রুমের কাঁচের জানালা ভেদ করে হিমশীতল, কিন্তু স্নিগ্ধ বাতাস ভেতরে প্রবেশ করছে। বাইরের পরিবেশ এখন গভীর নীরবতা ভেঙে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।

দিগন্তে আল্পস পর্বতমালার চূড়াগুলো ভোরের কোমল সোনালী আলোয় ঝলমল করছে। চূড়ার বরফেরা সেই আলোয় যেন হীরা খচিত। পর্বতের ঢাল বেয়ে ঘন সবুজ পাইন বন নেমে এসেছে, যা দেখতে গাঢ় মখমলের মতো। নিচে উপত্যকায় কুয়াশার সাদা চাদর এখনো আলতোভাবে ছড়িয়ে আছে, যেন এক শান্ত সমুদ্র।

সূর্যের প্রথম রশ্মিগুলো বাগানের ভেজা ঘাস আর রৌদ্রোজ্জ্বল সুইমিংপুলের নীল জলে প্রতিফলিত হচ্ছে। বাতাসে শীতলতা থাকলেও, সেই শীতলতার মাঝে দূরের ঘণ্টা ধ্বনি ভেসে আসছে, যা মনে এক অনাবিল শান্তি এনে দেয়।এই সকাল যেন কোনো তাড়াহুড়ো জানে না। এটি পরিষ্কার, শান্ত এবং মন মুগ্ধকর। এই পরিবেশেই যেন নতুন আশা নিয়ে দিন শুরু হয়।

ভোরের সোনালী নরম রোদ, হালকা কাঠের সুগন্ধ আর তাজা ফুলের মিশেলে এক মিষ্টি বাতাস কাঁচের জানালা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করছিল। সেই স্নিগ্ধ স্পর্শে তুরার শান্ত ঘুম ভেঙে গেল। তুরা বেড থেকে উঠে আলস্য ঝেড়ে লম্বা হাই তুলে কোমরে হাত রেখে শরীরটা হালকা স্ট্রেচ করে নিল। তখনই তার চোখ গেল রুমে রাখা বিলাসবহুল সোফায় শুয়ে থাকা রৌদ্রের দিকে।

রৌদ্র কত শান্ত, কত শিশুর মতো করে ঘুমাচ্ছে! তার শক্ত, রুক্ষ মুখোশটি যেন ঘুমের আবরণে ভেঙে পড়েছে। ঘুমন্ত অবস্থায় রৌদ্রকে দেখলে মনে হয়, সে যেন এই পৃথিবীর কেউ নয় কোথাও লুকিয়ে থাকা এক অপেক্ষিত রাজপুত্র। হালকা বাতাসে রৌদ্রের সেই কালো, সিল্কি চুলগুলো আলতোভাবে নড়ছে, কপালের ওপর এসে পড়ছে। রৌদ্রকে দেখে তুরার মুখে নিষ্কলুষ, মধুর হাসি ফুটল।

তুরা নিজের অজান্তেই রৌদ্রের ঘুমন্ত মায়াময় মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার কণ্ঠস্বর নেমে এল গভীর, ভালোবাসার ফিসফিসানিতে।

“আমি জানি রৌদ্র, আপনি অসাধারণভাবে পাল্টে গেছেন। আপনার ভিতরের মানুষটা এখন অনেক নরম। সত্যি বলতে, আমি নিজেও জানি না, কখন সেই ঘৃণার প্রাচীর ভেঙে এত গোপনে, এত গভীরে আপনাকে ভালোবেসে ফেললাম।”

তুরা কথাটা শেষ করে বেড থেকে নেমে একদম রৌদ্রের কাছে এসে দাঁড়াল। সে এক ধ্যানে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে রইল যেন পৃথিবীর সমস্ত আকর্ষণ এই মুখেই জমা। কেন জানি চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করছে না। রৌদ্রের সেই হালকা উড়ন্ত চুলগুলো তুরার একটু ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করল।

তুরা নিজেকে আর দমাতে না পেরে, অতি সন্তর্পণে রৌদ্রের চুলের ভিতর নিজের আঙুল প্রবেশ করিয়ে দিল। রৌদ্র হালকা নড়েচড়ে উঠল। তুরা ভয়ে চমকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল। কিছুক্ষণ পর আঙুল ফাঁক করে দেখে রৌদ্র এখনো শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে, ওঠেনি।

তুরা মুখ থেকে হাত সরাল। সাহস সঞ্চয় করে, রৌদ্রের গালে ‘টুস’ করে নিজের অজান্তেই এক গভীর চুমু খেল। এরপর ভালোবাসা ভরা ফিসফিসানিতে কানে কানে বলল।

“ভালোবাসি আপনাকে, বুঝেছেন? তাই আপনার ভালোবাসার টানেই চলে এসেছি এতদূর।”

কথাটা বলেই তুরা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে তাড়াতাড়ি উঠে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল এবং দরজা বন্ধ করে দিল।তুরা ওয়াশরুমে চলে যেতেই, রৌদ্র ফট করে চোখ খুলে ফেলল। সে মোটেও ঘুমায়নি!জেগেই ছিল,আসলে তুরার আগে রৌদ্রের ঘুম ভেঙে গিয়েছিল,রৌদ্র এমনি চোখ বন্ধ করে ছিল। এতক্ষণ তুরার কাণ্ড আর তার ভালোবাসার স্বীকারোক্তি শোনার পরই রৌদ্র দ্রুত সোফায় উঠে বসল।

সে নিজের কানে আঙুল দিয়ে দুই-তিনবার পরিষ্কার করল। চোখ দুই-তিনবার হাত দিয়ে কচলে দেখল। অর্থাৎ, তুরা যা বলল, সে ঠিক শুনছে তো? ভুল শোনেনি তো? সে কি সত্যি দেখছে, নাকি স্বপ্ন? রৌদ্র হাতে জোরে চিমটি কাটল। তীব্র ব্যথা পেল! তার মানে এইটা স্বপ্ন নয়, সত্যি!

সে যা শুনেছে সব সত্যি! আর তুরা তাকে ভালোবাসে, তার জন্যই এতদূর এসেছে! কথাটা মনে হতেই রৌদ্রের মুখে অজান্তেই এক বিজয়ীর হাসি ফুটল। সোফায় থাকা বালিশটা হাতে নিয়ে চেপে ধরে, সে উত্তেজিত কণ্ঠে হাসতে হাসতে বলল।

“তো ম্যাডাম? এই জন্য আসা? আমার পাগলা ভালোবাসার টানে চলে এসেছেন? কোনো সমস্যা নেই! এখন আপনাকেই সামলাতে হবে এই পাগলটাকে! খেলা তো হবে এখন! পেয়েছি আপনাকে! আপনার ওই মুখ দিয়ে যেহেতু একবার বলেছেন ‘ভালোবাসি’সেই মুহূর্ত থেকেই আপনি পুরোপুরি আমার হয়ে গেছেন! এখন আপনি চাইলেও আমি আপনাকে ছাড়ব না!”

রৌদ্রের চোখে-মুখে এখন প্রেমের তীব্র অধিকার আর খেলার আনন্দ ঝরে পড়ছে। রৌদ্র বালিশটা বুকে চেপে ধরে, বিজয়ী হাসি বজায় রেখে দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ স্বরে কথাগুলো শেষ করল।

“তবে, আপনি যতোদিন না নিজের মুখ থেকে পুরোপুরি আমার সামনে ‘ভালোবাসি’ কথাটা না বলছেন, ততোদিন আপনাকে আমার পাগলামি সহ্য করতে হবে না আপনি আমাকে একদম স্বাভাবিক পাবেন! অর্থাৎ, স্বীকার করার পর তখন দেখবেন ভালোবাসার পাগল কাকে।বলে মিস তুরা খান!”

রৌদ্রের চোখ দুটো গভীর অঙ্গীকারে চকচক করে উঠল। তার গলার শেষ অংশটুকু ছিল একাধারে ঘোষণা এবং অধিকারবোধে প্রকাশ।রৌদ্র গভীর ভাবনায় মগ্ন। তার চোখে এখন তুরার স্বীকারোক্তি মিশ্রণ। ঠিক তখনই রৌদ্রের ফোন বেজে উঠল। রৌদ্র চিন্তা থেকে বেরিয়ে ফোনটি হাতে নিয়ে দেখল অফিস থেকে কল এসেছে। রৌদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে বলল।

“Ja, Herr Müller?”

বাংলা অনুবাদ_ “হ্যাঁ, হের মুলার?”

“Herr Khan, die Besprechung für heute Vormittag um zehn ist vorbereitet. Alle warten auf Sie.”

বাংলা অনুবাদ_”খান সাহেব, আজ সকাল দশটার মিটিং প্রস্তুত। সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।”

” Ich muss leider absagen. Sagen Sie allen, dass ich heute nicht teilnehmen kann.”

বাংলা অনুবাদ_আমাকে দুঃখের সাথে বাতিল করতে হচ্ছে। সবাইকে বলুন, আমি আজ অংশগ্রহণ করতে পারছি না।”

“Aber Herr Khan, es ist eine sehr wichtige Besprechung mit den Investoren. Was soll ich ihnen sagen?”

বাংলা অনুবাদ_”কিন্তু খান সাহেব, এটা বিনিয়োগকারীদের সাথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। আমি তাদের কী বলব?”

“Sagen Sie, ich habe wichtigere familiäre Angelegenheitenzu erledigen. Verschieben Sie alles auf morgen. Das ist mein Befehl।”

বাংলা অনুবাদ_”বলুন, আমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক কাজ আছে। সব কালকের জন্য পিছিয়ে দিন। এটা আমার নির্দেশ।”

“Verstanden, Herr Khan. Es wird erledigt.”

বাংলা অনুবাদ_ “বুঝেছি, খান সাহেব। ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

রৌদ্র ফোনটা রেখে দিল। এখন তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো তুরা কে ওয়াশরুম থেকে বের করা। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর যখন তুরা ওয়াশরুম থেকে বের হচ্ছিল না তখন রৌদ্র ধৈর্য হারিয়ে ওয়াশরুমের দরজার কাছে এগিয়ে এল। সে ‘টক টক’ শব্দ করে কড়া নেড়ে বলল।

“তুরা! তুই কি শুনতে পাচ্ছিস? বের হ! এতক্ষণ ধরে ওয়াশরুমে কী করছিস?”

এদিকে ভেতরে তুরার অবস্থা খুবই খারাপ। বিদেশি জিনিস কোনোটাই সে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছে না। সে ভুল করে আবারো শাওয়ার ক্লিকে চাপ দিয়েছে, আর সারা শরীর ভিজে লেপটে গেছে। লজ্জায় ভেতর থেকে বের হতেও পারছে না। হঠাৎ রৌদ্রের ডাকে তুরা চমকে উঠে ভয়ে ভয়ে অসহায় স্বরে বলল।

“রৌদ্র ভাইয়া! আমি আবার ভিজে গেছি! কোনো কাপড় নেই আমার!”

রৌদ্র তুরার কথায় তাড়াতাড়ি কাপড়ের কথা মনে পড়ল। সাথে সাথে রৌদ্র ফোন হাতে নিয়ে কাউকে ফোন দিয়ে কঠোর ও দ্রুত কণ্ঠে বলল।

“Ich brauche innerhalb von zehn Minuten sofort mehrere der längsten Damenroben long gowns hier in der Schweiz! Und zwar die größten! Kleider, die keinen Teil des Körpers sichtbar machen! Nur zehn Minuten!”

বাংলা অনুবাদ_ “আমার দশ মিনিটের মধ্যে এখনই সুইজারল্যান্ডে থাকা অনেকগুলো সব থেকে লম্বা মেয়েদের গাউন চাই! এবং সবচেয়ে বড় মাপেরগুলি! পোশাক, যা শরীরের কোনো অংশ দৃশ্যমান করবে না! মাত্র দশ মিনিট!”

কথাটা বলেই রৌদ ফোন কেটে দিল।রৌদ্রের সেই কঠোর আদেশ শুনেছিল যারা, তাদের তৎপরতায় দশ মিনিটও সময় লাগল না! মাত্র আট মিনিটের মধ্যে বিভিন্ন রকমের লং গাউন পার্সেল আকারে রুমের সামনে হাজির। রৌদ্র সবকিছু দেখল।সব গাউন থেকে রৌদ্র সবচেয়ে লম্বা এবং নিজের পছন্দমতো একটি সাদা রঙের গাউন বেছে নিল। সাথে ওড়না ও গাউনের সাথে জিন্স প্যান্ট (অন্তর্বাস বা পায়জামা অর্থে) সব কিছু হাতে নিল।রৌদ্র নম্রতা ভুলে, কর্তৃত্বের স্বরে হাতে নেওয়া পোশাকগুলো নিয়ে ওয়াশরুমে ‘নক’ করে তুরার উদ্দেশে বলল।

“দরজাটা একটু ফাঁক করে কাপড় গুলো নে।”

তুরা রৌদ্রের ডাকে আস্তে করে ওয়াশরুমের দরজা খুলে হালকা ফাঁক করল। সে চুপিসারে রৌদ্রের হাত থেকে কাপড়গুলো দ্রুত নিয়ে নিল।
রৌদ্র একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় বসে পড়ল। সে উত্তেজনা আর অপেক্ষা নিয়ে তুরার বের হওয়ার সময় গুনতে লাগল।

খানিকক্ষণ পর ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে রৌদ্র দ্রুত দরজার দিকে তাকাল। আর তাকিয়েই রৌদ্রের চোখদুটো যেন আটকে গেল!

সাদা শুভ্র গাউনে তুরাকে ‘মাশাল্লাহ’যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না! গাউনটি লম্বা হওয়ায় তুরার শরীরের কোনো অংশই দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু এই শালীনতাতেই তার রূপ যেন দ্বিগুণ হয়েছে। তার লম্বা, ভেজা চুল পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে, যা থেকে টপ টপ করে হালকা পানি পড়ছে। ভিজে যাওয়ার পর তুরার মুখটা আরও স্নিগ্ধ লাগছে, যেন সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল। তার ঠোঁটের কোণে থাকা সেই প্রিয় তিলটি যেন এই মুহূর্তে আরও বেশি ফোটে উঠেছে। রৌদ্র ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তুরার দিকে তাকিয়ে রইল এই চাওয়ার যেন শেষ নেই।

রৌদ্রকে এতক্ষণ ধরে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে তুরা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। তার বুকের ভিতরটা ধড়ফড় করে শব্দ করছে যেন বাইরের কেউও সেই শব্দ শুনতে পাবে!

রৌদ্র মুগ্ধতা কাটিয়ে সোফা থেকে উঠে একদম তুরার কাছে এসে দাঁড়াল। তুরা মাথা নিচু করে আছে, লজ্জায় কিছু বলতে পারছে না। রৌদ্র এক ধ্যানে তুরার দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ রৌদ্রের চোখ গেল তুরার ভেজা চুলে, যা থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে।

রৌদ্র কী মনে করে যেন দ্রুত তোয়ালে এনে তুরাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তার ভেজা চুলগুলো মুছতে লাগল। রৌদ্রের এমন অপ্রত্যাশিত যত্নে তুরা কেঁপে উঠল। সে কথা বলতে পারল না চোখ বন্ধ করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

রৌদ্র তুরার চুল মুছতে ব্যস্ত, এমন সময় রৌদ্রের চোখ গেল তুরার পিঠের দিকে। সে দেখল পেছনের জামার চেইন খোলা! তার মানে তুরা চেইন লাগায়নি। রৌদ্র গভীর লম্বা শ্বাস নিল। সে খুব ধীরে ধীরে, তুরার পিঠ থেকে আলতোভাবে চুলগুলো সরিয়ে তুরার ঘাড়ে রাখল।

রৌদ্রের স্পর্শে তুরার ঠোঁট কেঁপে উঠল, চোখের পাপড়িগুলো কাঁপছে। রৌদ্র তুরার জামার চেইনটি এক টানে দ্রুত লাগিয়ে দিল। তুরা ভয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠল।

তুরাকে চোখ বন্ধ করে এইভাবে ভয়ে কাঁপতে দেখে রৌদ্রের মুখে আস্তে করে হাসি ফুটে উঠল। সে ধীরে ধীরে মুখটা তুরার কানের কাছে নিয়ে এল। তার কণ্ঠস্বর ছিল মধুময়, নেশাতুর এবং গভীর আবেগে পরিপূর্ণ।

“নদীর জল শুকিয়ে খরা হয়ে যাক, তবু তোর এই শাহজাদি পরীর মুখ দেখা যেন না ফুরায়। আমি মরে যাব, তবু যেন আমার আত্মা তোকেই চায়। আমি পাগল হব, তবু সেই পাগলের মুখে তোর নামটাই যেন প্রতিধ্বনিত হয়। পুরো শহর, পুরো পৃথিবী জানুক সেই পাগলের মুখ থেকে বলা প্রতিধব্বনিত শব্দ টা।”

এই মধুময়, নেশাতুর কণ্ঠস্বর শুনে তুরা বিদ্যুৎ-স্পৃষ্টের মতো চমকে উঠল। তুরা ধড়ফড়িয়ে চোখ খুলল। সে উন্মাদিনীর মতো আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই! রৌদ্রও নেই। ওয়াশরুম থেকে শব্দ আসছে, তার মানে রৌদ্র ভেতরে গেছে।

কিন্তু যেই অভাবনীয় কথাগুলো সে শুনল, সেগুলো কে বলল? নাকি সবটাই তুরার মনের ভুল? তার হৃদয় সেই গভীর ভালোবাসার শব্দের ধাক্কা সামলে উঠতে পারছে না।

পরক্ষণেই তুরা ব্যাপারটা নিজের মনের ভুল ভেবে উড়িয়ে দিল। সে নিজেকে শান্ত করে আয়নার সামনে দাঁড়াল। দামী, বিদেশী সাদা গাউনে নিজেকে দেখে তুরা অবাক। সত্যিই অপূর্ব সুন্দর লাগছে যা তুরা নিজেকে নিজে দেখেই মুগ্ধ হলো।

তার মানে রৌদ্র তখন মুগ্ধ হয়ে ঐইভাবে তাকিয়ে ছিল। এই গভীর প্রশংসা তার প্রাপ্য। কথাটা ভাবতেই তুরার মুখে লজ্জার এক মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। সেই হাসি তার স্নিগ্ধ মুখশ্রীকে আরও আলোকিত করল।

কিছুক্ষণের মধ্যেই রৌদ্র ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। তুরা তখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এক ধ্যানে নিজের দিকে তাকিয়ে আছে যেন নিজের রূপ থেকে চোখ ফেরাতে পারছে না।

রৌদ্র তুরাকে এইভাবে আয়নায় মগ্ন থাকতে দেখে ধীরে ধীরে তুরার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। আয়নাতে তুরার প্রতিচ্ছবিতে তুরার ঠিক পাশে রৌদ্রের প্রতিচ্ছবিও ফুটে উঠল। তুরার চোখ নিজের চেহারার প্রতিচ্ছবি থেকে সরে গিয়ে রৌদ্রের প্রতিচ্ছবির দিকে গেল, আর সে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। রৌদ্র তুরার চোখের দৃষ্টি লক্ষ্য করে কৌতুকপূর্ণ স্বরে বলল।

“কী দেখছিস?”

তুরা নিজের অজান্তেই, ঘোরের মধ্যে উত্তর দিল।

“আপনাকে।”

“তাই! আমাকে দেখে লাভ কী?”

“লাভ আছে! অনেক।”

রৌদ্র মুখ টিপে হেসে মুখে আগ্রহের ভাব নিয়ে বলল।

“তাই! তো শুনি কী কী লাভ?”

তুরা ঘোরের মধ্যে থেকেই বলতে লাগল।

“আমি আপনাকে ভালোবা…”।

বাকিটুকু শেষ করতে পারল না! তুরার হুঁশ আসলো! সে আয়নাতে তাকিয়ে দেখল রৌদ্র সত্যিই তার পাশে! তুরা তো এতক্ষণ কল্পনা ভেবে কথা বলছিল, কিন্তু এইটা কল্পনা ছিল না এইটা বাস্তব! কথাটা মনে পড়তেই তুরার মুখ একদম লাল টকটকে টমেটোর মতো লজ্জায় লাল হতে লাগল।তুরা মাথা নিচু করে, কথা কাটানোর জন্য রৌদ্রের উদ্দেশ্যে তোতলানো স্বরে বলল।

“ওই, ওই, ওই, আর কি! আমি বাইরে যাচ্ছি ভাইয়া। আপনি আপনি থাকেন!”

কথাটা বলেই তুরা লজ্জায় লাল হয়ে দৌড় দিয়ে বাহিরের উদ্দেশে বের হতে নিল। ঠিক সেই মুহূর্তে রৌদ্র দ্রুত তুরার হাত ধরে টান মারল। তুরা তাল সামলাতে না পেরে সজোরে রৌদ্রের বুকে আছড়ে পড়ল।

রৌদ্রের এমন কাজে তুরা থরথর করে কাঁপতে লাগল। তার বুকের ভেতরের সেই শয়তান হার্টবিটটা আবার জোরে ধুকপুক শুরু করল। হঠাৎ তুরা অন্য একটি ধুকপুকানির শব্দ শুনতে পেল। রৌদ্রের বুক থেকেও কেমন যেন ধুকপুকানির শব্দ আসছে যেন রৌদ্রের হৃদয়ের স্পন্দনও কাঁপছে।

তুরা কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে রৌদ্রের দিকে তাকাল। দেখল রৌদ্রও পলকহীনভাবে তারই দিকে তাকিয়ে আছে। তুরাও এক ধ্যানে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে রইল। সেই মুহূর্তে যেন এই বিলাসবহুল রুমের মধ্যে শুধু দুজন মানুষই বর্তমান। তারা মুখে একটি শব্দও উচ্চারণ না করে, চোখের গভীর দৃষ্টি দিয়েই যেন নিজেদের ভালোবাসা ও আবেগের তোলপাড় প্রকাশ করছে।

আসসালামু আলাইকুম আমি লেখিকা সুমি চোধুরী আপনারা অনেকে ফেইক পেইজে গল্প পড়ছেন। দয়া করে যারা ফেক পেইজে গল্প পড়ছেন তারা তাড়াতাড়ি আমার পেইজ সুমি চোধুরী তে চলে আসেন আমি এখানে ঠিক টাইমে গল্প দেই।

বাংলাদেশ,,,

পুরো বাড়ি খুঁজে খুঁজেও একটা মানুষও খুঁজে পাচ্ছে না শিহাব। সবাই মেহমান আপ্যায়ন আর অন্যান্য কাজে ব্যস্ততা দেখাচ্ছে। শিহাব বুঝতে পারছে না, এখন আরশিকে কে শাড়ি পরিয়ে দেবে? সবাই তো অতিথি আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত।

শিহাব মুখে হতাশা আর রাগ নিয়ে রুমে ফিরে এলো। আর রুমে ঢুকেই শিহাবের মুখের রাগ মুহূর্তে হাসি হয়ে ফুটে উঠল। শিহাব হো হো করে জোরে হেসে দিল।সামনে আরশি কোনো রকম শাড়ি পরেছে। কিন্তু কুঁচিগুলো দিয়েছে অস্বাভাবিকভাবে লম্বা। তাকে দেখতে একদম কারেন্টের দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা খুঁটির মতো লাগছে যা দেখে শিহাব নিজের হাসি আর ধরে রাখতে পারল না!

কারও হাসির স্বর শুনে আরশি ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখে শিহাব! আর তারই দিকে তাকিয়ে হাসছে! শিহাবকে এইভাবে তাকিয়ে হাসতে দেখে আরশি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল।

“কী ব্যাপার! এইভাবে হাসছেন কেন?”

কিন্তু শিহাব কোনো উত্তর দিল না সে শুধু হাসতেই লাগল। আরশি এইভাবে হাসতে দেখে বিরক্ত হয়ে বলল।

“আজব তো! আপনি এইভাবে হাসছেন কেন।”

তবুও শিহাব কোনো উত্তর দিল না।আরশি এবার রাগে কাঁপতে কাঁপতে আশেপাশে কিছু খুঁজতে লাগল। সে আয়নার সামনে রাখা তোয়ালেটা নিয়ে রাগে ছুঁড়ে মারল শিহাবের মুখে! আর একদম লক্ষ্য মতো শিহাবের মুখে গিয়ে তোয়ালেটা পড়ল।শিহাবের সঙ্গে সঙ্গে হুঁশ আসলো। সে মুহূর্তে তোয়ালেটা মুখ থেকে সরিয়ে আরশির উদ্দেশ্যে রাগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলল।

“আমার ওপর রাগ না দেখিয়ে একবার নিজেকে দেখো! কীভাবে শাড়ি পরেছো? হাঁটতে গেলেই তোমার শাড়ির কুঁচি খুলে পড়ে যাবে!”

আরশি বেজায় রাগ হলো শিহাবের কথা শুনে। সে সাহায্য চেয়েও কোনো সাহায্য পেল না, উল্টো সে এত কষ্ট করে শাড়ি পরেছে, আর শিহাব বলছে’হাঁটতে গেলে শাড়ির কুঁচি খুলে পড়ে যাবে!’ কথাটা মনে হতেই আরশি উত্তেজিত রাগ নিয়ে বলল।

“কচু! আমি শাড়ির কুঁচি ভালো করেই দিয়েছি! খুলবে না! আপনার চোখই অন্ধ!”

কথাটা বলেই আরশি জেদের বশে হাঁটতে লাগল। মাত্র কয়েক কদম পা দিতেই সত্যি সত্যি কুঁচিতে পা লেগে কুঁচিগুলো ফরফর করে খুলে গেল!

শিহাব আরশির অবস্থা দেখে হাসতে নিবে, কিন্তু সেই মুহূর্তে আরশি খুলে যাওয়া শাড়িতে পা লাগায় আরশিও একদম পড়ে যেতে নিল! শিহাব আর হাসির সুযোগ না নিয়ে, দ্রুত এগিয়ে এসে আরশির কোমর চেপে ধরে ফেলল। আরশি ভয়ে চোখ বন্ধ করে শিহাবের টি শার্ট খামচে ধরল।

আরশির অসহায়, বন্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে শিহাবের অদ্ভুত এক ঘোর লেগে গেল। শিহাব এক দৃষ্টিতে আরশির বন্ধ, নিষ্পাপ চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখ এখন আরশির ভেজা চুল বা খুলে যাওয়া শাড়ির দিকে নয়, বরং সেই গভীর, অব্যক্ত ভয়ের দিকে, যা আরশির অধরের কম্পনে ধরা পড়ছে।

রানিং…!

ভুলক্রটি হলে ক্ষমা প্রার্থী…!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply